একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাঁশ রাখার অভিযোগে বৈশাখ মেলা উদযাপন কমিটির পরিচালক ও ডেকোরেটরের মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত।
সোমবার (১ মে) সকালে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বৈশাখ মেলা উদযাপন কমিটির পরিচালক রওশন আরা রিতা ও ডেকোরেটরের মালিক ফেরদৌসকে ভ্রাম্যমান আদালতে এ জরিমানা করা হয়।
জানা যায়, উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা মাঠে ঈদুল ফিতরের দিন থেকেই বৈশাখী মেলা চলছিলো। এসএসসি পরীক্ষার কারণে মেলাটি বন্ধ করে দেন উপজেলা প্রশাসন। মেলা বন্ধ হওয়ায় স্টলের ব্যবহৃত বাঁশ শহীদ বেদিতে রাখা হয়।
সোমবার মহান মে দিবস উপলক্ষে উপজেলা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ শহীদ মিনারে ফুল দিতে গেলে বিষয়টি সবার নজরে আসে। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে বৈশাখী মেলা উদযাপন কমিটির পরিচালক উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রওশন আরা রিতা ও ডেকোরেটরের মালিক ফেরদৌসকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকৌশলী ফারজানা আলম জানান, শহীদ মিনারে মেলায় ব্যবহৃত বাঁশ রাখার অভিযোগে মেলা উদযাপন কমিটির পরিচালক রওশন আরা রিতা ও ডেকোরেটরের মালিক ফেরদৌসকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকৌশলী ফারজানা আলম জানান, শহীদ মিনারে মেলায় ব্যবহৃত বাঁশ রাখার অভিযোগে মেলা উদযাপন কমিটির পরিচালক রওশন আরা রিতা ও ডেকোরেটরের মালিক ফেরদৌসকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ ধর্ষণ মামলায় টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনির ও তার স্ত্রী নিগার আফতাবকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। একইসঙ্গে তাদের আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে টাঙ্গাইলের আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।
তাদের জামিন স্থগিতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে রোববার (৩০ এপ্রিল) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী। আসামিদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন।
এর আগে গত ১৭ এপ্রিল ধর্ষণ মামলায় টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনির ও তার স্ত্রী নিগার আফতাবকে হাইকোর্টের চার সপ্তাহের জামিন দেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি ইকবাল কবির ও বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
পরে এই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
উল্লেখ্য, গত ৫ এপ্রিল রাতে টাঙ্গাইল সদর থানায় শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরের বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে (১৭) ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়। মামলায় ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী নিগার আফতাবকেও আসামি করা হয়েছে। মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা বলে প্রমাণ পেয়েছে মেডিকেল বোর্ড। মামলা হওয়ার পরদিন ওই কিশোরী আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকার (১১৫০ গ্রাম) হেরোইনসহ মানিক চান সওদাগর (২৮) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র্যাব।
রবিবার (২৩ (এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার হামিদপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
আটককৃত ব্যক্তি রাজশাহী জেলার দূর্গাপুর উপজেলার গৌরীহারা গ্রামের স মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে।
র্যাব-১৪, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের কোম্পানী অধিনায়ক রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের রবিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
র্যাব জানায়, রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হামিদপুর বাজার এলাকা হতে ১১৫০ গ্রাম হেরোইনসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মানিক চান সওদাগরকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত হেরোইনের আনুমানিক বাজার মূল্য ১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা। আটককৃত ব্যক্তি রাজশাহী জেলা হতে মাদকদ্রব্য হেরোইন সংগ্রহ করে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি নিয়ে এসেছিল। সে আন্ত:জেলা মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সদস্য।
র্যাব আরো জানায়,সে দীর্ঘদিন যাবত অভিনব কায়দায় মাদকদ্রব্য টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কালিহাতী থানায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি পণ্য তৈরি, মেয়াদউত্তীর্ণ তারিখ না থাকা, ক্ষতিকারক রঙ ও পোড়া তেল ব্যবহার করে চিপস তৈরির অপরাধে দুই কারখানা মালিককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে কালিহাতী উপজেলার হাতিয়া ও সল্লা বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জরিমানাপ্রাপ্ত দুই কারখানা হলো- সাদেক বেকারী ও মেসার্স মম ফুড প্রোডাক্টস।
অভিযান পরিচালনা করেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম জানান, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি পণ্য তৈরি ও পোড়া তেল ব্যবহার করে চিপস তৈরি করায় সাদেক বেকারীকে ৫ হাজার টাকা এবং মেসার্স মম ফুড প্রোডাক্টকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ ধর্ষণ মামলায় টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনি এবং তাঁর স্ত্রী নিগার আফতাব হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি ইকবাল কবির ও এ কে এম রবিউল হোসেনের আদালত তাঁদের চার সপ্তাহের আগাম জামিন মঞ্জুর করেন।
গোলাম কিবরিয়া টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনির ভাই ও জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব।
গোলাম কিবরিয়ার আইনজীবী মো. এহসান হাবিব জানান, গোলাম কিবরিয়া ও তাঁর স্ত্রী নিগার আফতাবকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন আদালত। চার সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই তাঁদের টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
শুনানিতে গোলাম কিবরিয়ার পক্ষে অংশ নেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন ফকির, সাবেক সহসভাপতি শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন আইনজীবী।
প্রসঙ্গত, ৫ এপ্রিল রাতে এক কিশোরী বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় গোলাম কিবরিয়া ওরফে বড় মনির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। মামলায় গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী নিগার আফতাবকেও আসামি করা হয়। মামলায় ওই কিশোরী (১৭) অভিযোগ করেন, গোলাম কিবরিয়া তার পূর্বপরিচিত। গত ১৭ ডিসেম্বর তাকে শহরের আদালত পাড়ায় নিজের বাড়ির পাশের একটি ভবনে গোলাম কিবরিয়া ডেকে নেন। সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন ও আপত্তিকর ছবি তুলে রাখেন। পরে আপত্তিকর ওই ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে ওই কিশোরী মামলায় অভিযোগ করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, একপর্যায়ে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি গোলাম কিবরিয়া জানার পর সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। তবে কিশোরী রাজি না হওয়ায় গত ২৯ মার্চ তাকে শহরের আদালত পাড়ায় গোলাম কিবরিয়ার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে ওই কিশোরীকে গোলাম কিবরিয়া আবার ধর্ষণ করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অনুমোদনহীনভাবে ‘কাপ দই’সহ বিভিন্ন ধরণের বেকারি পণ্য সামগ্রী তৈরির অপরাধে মেসার্স মনচুরি সুইটস এন্ড বেভারেজকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়।
রবিবার (৯ এপ্রিল) উপজেলার হরিপুর এলাকায় দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত ভেজাল বিরোধী তদারকিমূলক এই অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম।
এ বিষয়ে শিকদার শাহীনুর আলম জানান, অনুমোদনহীনভাবে বেকারী সামগ্রী তৈরি, মোড়কে উৎপাদন তারিখ, মেয়াদ ও মূল্য না দেওয়ার অপরাধে মেসার্স মনচুরি সুইটস এন্ড বেভারেজকে ৪০ হাজার টাকা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন- ২০০৯ অনুসারে ভোক্তা অধিকার বিরোধী কার্যাবলী হতে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়াও ব্যবসায়ীদের ক্রয়-বিক্রয় রশিদ সংরক্ষণ, মূল্য তালিকা প্রদর্শণ করতে মাইকিং করে প্রচারণা, লিফলেট ও প্যামপ্লেট বিতরণ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে অটো ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা ঈমান আলী (৩৮) নামে এক অটোচালককে গলা কেটে হত্যা করেছে।
শুক্রবার(৭ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে উপজেলার পোড়াবাড়ি আঞ্চলিক সড়কে খাগড়াটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নিহত ঈমান আলী উপজেলার দড়িচৈথট্র গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে। সে পেশায় একজন অটোচালক (ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা)।
সে শুক্রবার রাতে উপজেলার গারোবাজার থেকে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। ফেরার পথে রাত অনুমান ১০টার সময় অটোরিকশা নিয়ে পোড়াবাড়ি-গারোবাজার সড়কের খাগড়াটা এলাকায় পৌঁছলে ছিনতাইকারীরা সড়ক অবরোধ করে তার অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় অটোচালক ঈমান আলী বাধা দেয়। তখন ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইমান আলীর গলায় আঘাত করলে তার শ্বাসনালি কেটে যায়। সে আহত অবস্থায়ই অটোরিকশা চালিয়ে লোকালয়ে চলে আসে ও চিৎকার দেয়। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে গেলে ছিনতাইকারীদল পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঈমান আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)আজহারুল ইসলাম সরকার জানান, লাশের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল কারাগারে লাল মিয়া (৩৮) নামে এক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৭ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। টাঙ্গাইলের জেল সুপার মকলেছুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
লাল মিয়া বাসাইল উপজেলার খাটোরা গ্রামের মৃত নাসিম উদ্দিনের ছেলে।
জেল সুপার জানান, লাল মিয়া অ্যাজমাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ৭ টায় তার মৃত্যু হয়। আইনী পক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ জুন বাসাইল উপজেলার কাউলজানী গ্রামের বাসিন্দা মনিরুজ্জামান নামে এক ব্যবসায়ীকে হত্যার দায়ে তার ভায়রাকে আমৃত্যু কারাদন্ড এবং শ্যালিকাসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মাসুদ পারভেজ। যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে কারাদন্ডের কথা রায়ে বলা হয়েছে।
এরআগে ২০১০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বাসাইলের কাউলজানী গ্রামের আবু বক্কর ভূঁইয়ার ছেলে মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া নিখোঁজ হন। তিনদিন পর পাশের মহেশখালী গ্রামের জমির আইল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর নিহতের বাবা আবু বক্কর ভূঁইয়া বাদি হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে বাসাইল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে এ হত্যার সঙ্গে মনিরুজ্জামানের ভায়রা রেজাউল ইসলাম, শ্যালিকা আলো বেগমসহ আরো কয়েকজনের জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে। ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে ৮ জুন এই রায় দেন বিচারক।
দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল গ্রামের মো. শামছু মিয়ার ছেলে রেজাউল ইসলাম রেজাকে আমৃত্যু দন্ড এবং রেজাউলের স্ত্রী আলো বেগম, বাসাইল উপজেলার খাটোরা গ্রামের মৃত নাসিম উদ্দিনের ছেলে লাল মিয়া, যশিহাটি গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রেজভী ও দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল গ্রামের ফজল মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেনকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় অবৈধভাবে বালু-মাটি উত্তোলনের দায়ে পৃথক পৃথক স্থানে টাঙ্গাইল জেলা ও কালিহাতী উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে ৫টি ভেকু, ১টি ড্রেজার মেশিন ও ১ হাজার ফুট পাইপ লাইন বিনষ্টসহ দুইজনকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার পৌলী নদীতে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দীপ ভৌমিক ও সিনথিয়া হোসেনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এসময় ভ্রাম্যমান আদালত পৌলী নদীর পশ্চিম পাশে অবৈধভাবে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত ৩টি ভেকু বিনষ্ট করে। পরে দুইজনকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জরিমানা প্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন- টাঙ্গাইল পৌর এলাকার বিশ্বাস বেতকার সিদ্দিকুর রহমান রানাকে ১ লাখ ও কালিহাতী উপজেলার পৌলী গ্রামের মোঃ শফিকুল ইসলামকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অপরদিকে একই সময়ে কালিহাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার চরভাবলা হাকিমপুর এলাকায় একটি ভেকু ও বাঁশি এলাকায় একটি ভেকু এবং একটি ড্রেজার মেশিনসহ এক হাজার ফুট পাইপ লাইন বিনষ্ট করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কালিহাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাহিদ হোসেন জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মাটি কাটা বন্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও সাভারের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার তাঁর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার দলপুর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মো. রতন (২১), মাইজবাড়ী গ্রামের জহু মিয়ার ছেলে আরিফ হোসেন (২৬), ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৫) ও রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার খেরুয়া আলম গ্রামের আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে সুজন মিয়া (২২)।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান,ডাকাতি ঘটনার পর ওই বাসের যাত্রী আরিফুর রহমান বাদী হয়ে মধুপুর থানায় একটি মামলা করেন।ঘটনার পর থেকে মধুপুর থানা এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) সমন্বয়ে একটি দল তদন্তে নামে। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়। বুধবার সকাল সাতটার দিকে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মোনতলা গ্রাম থেকে প্রথমে রতনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে চোরাই মুঠোফোন ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।
পরে রতনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুজন মিয়া ও আরিফ হোসেনকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর উড়ালসড়ক এলাকা থেকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সর্বশেষ বেলা একটার দিকে আশুলিয়ার ফ্যান্টাসি কিংডমের সামনে থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরো জানান,, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই চারজন ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ওই দিন তাঁরা আটজন ডাকাতিতে অংশ নেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। ওই বাস থেকে তাঁরা ১৩টি মুঠোফোন, একটি স্বর্ণের চেইনসহ প্রায় তিন লাখ টাকার মালামাল লুট করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে নিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাত ১০টার দিকে ঢাকার মহাখালী থেকে ইমন পরিবহনের একটি বাস ৩০ জন যাত্রী নিয়ে জামালপুরের মাদারগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেয়। পথে বাইপাইল কাউন্টার থেকে আরও কয়েকজন ওই বাসে ওঠেন। ওই যাত্রীদের মধ্যে সাত–আটজন ডাকাত দলের সদস্য ছিলেন। বাসটি ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ী এলাকায় পৌঁছালে ডাকাত দলের সদস্যরা চালককে মারধর করে দেশি অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেন। পরে তাঁরা চলন্ত বাসে যাত্রীর কাছ থেকে মুঠোফোন, স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট করেন। এ সময় কয়েক যাত্রী বাধা দিতে গেলে ডাকাত দলের সদস্যরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের আঘাত করেন। পরে মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া পেট্রলপাম্পের কাছে বাস থামিয়ে ডাকাত দল পালিয়ে যায়।
একতার কণ্ঠঃ সারা দেশে যখন সবাই ব্যাটারিচালিত রিক্সা-ভ্যান বন্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাসহ এই ধরনের যান বন্ধে সোচ্চার তখন এ ধরণের অবৈধ যানকে লাইসেন্স দিচ্ছে টাঙ্গাইল পৌরসভা। এতে শহরে যেমন বেড়েছে যানজট তেমনি দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ সংকট।ফলে দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠেছে শহরবাসীর জীবন।
টাঙ্গাইল অ্যাডভোকেট বার সমিতির সভাপতি মোঃ মাঈদুল ইসলাম শিশির বলেন, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা সত্ত্বেও টাঙ্গাইল পৌরসভা কর্তৃপক্ষের অটোরিক্সা ও ব্যাটারি চালিত রিক্সার লাইসেন্স প্রদান করা, হাইকোর্টের নির্দেশ অবমাননার সামিল। টাঙ্গাইলে যে কোন সচেতন নাগরিক সংক্ষুব্ধ হয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে , মহামান্য হাইকোর্ট এই বিষয়ে সুয়োমোটো রুল জারি করবেন।
২৯.৪৩ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের প্রথম শ্রেণীর টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডের মোট সড়ক রয়েছে ৫৯০টি। ইতিমধ্যে টাঙ্গাইল পৌরসভা এই ৫৯০টি সড়কে চলাচলের জন্য লাইসেন্স দিয়েছে কয়েক সহস্রাধিক ব্যাটারিচালিত রিক্সাকে।
টাঙ্গাইল পৌরসভার লাইসেন্স বিভাগের তথ্য মতে, টাঙ্গাইল পৌরসভার লাইসেন্সপ্রাপ্ত অটোরিক্সার সংখ্যা ৪৫০০ আর রিক্সা রয়েছে ৫০০০। অটোরিক্সা লাইসেন্স ফি-১০,৫০০ আর পায়ে চালিত রিক্সার লাইসেন্স ফি-১০০০ টাকা।

মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যানিং অফিসার ও নগর পরিকল্পনাবিদ জহিরুল ইসলামের মতে যেকোন নগরীকে সচল রাখতে তার ধারন ক্ষমতা অনুযায়ী যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া উচিৎ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্যাটারী চালিত ওই মেট্রোরিক্সা গুলোর পিছনে বা চালকের বসার সিটের নিচে সাটানো হয়েছে টাঙ্গাইল পৌরসভার লাইসেন্স। টাঙ্গাইল পৌরসভার বর্তমান মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর স্বাক্ষরিত এক বছর মেয়াদী ওই লাইসেন্স গুলো ২০২১ সালে প্রথম দফায় অনুমোদন হয়েছে। যার ফলে কিছু রিক্সার লাইসেন্সের মেয়াদ দেখা গেছে ২০২১ থেকে ৩০ জুন ২০২২। ওই রিক্সা গুলোর লাইসেন্সের মেয়াদ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় স্বাক্ষরিত রিক্সার লাইসেন্সের মেয়াদ হয়েছে ২০২২ সাল থেকে ৩০ জুন ২০২৩ পর্যন্ত।
এছাড়াও নিয়ম বর্হিভুতভাবে এর আগেও তৎকালীন টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র দেন ৪০০০ হাজার ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সার (ইজি বাইক) লাইসেন্স। শহর জুড়ে এ সময় লাগামহীন যানজট লেগে থাকায় ওই ৪০০০ অটোরিক্সা চলাচলে দুই সিফট পদ্ধতি চালু করা হয়।

এরপর থেকে প্রতি সিফটে ২০০০ করে অটোরিক্সা চলাচল শুরু করে। এর ফাঁকে সড়কে নামতে শুরু করে ব্যাটারী চালিত মেট্রোরিক্সা। বর্তমানে শহর জুড়ে ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সার (ইজি বাইক) পাশাপাশি চলাচল করছে প্রায় ৭০০০ ব্যাটারী চালিত মেট্রোরিক্সা।
এছাড়াও রয়েছে লাইসেন্স প্রাপ্ত ৫০০০ পায়ে চালিত রিক্সা। বর্তমানে অটোরিক্সা (ইজি বাইক) দুই সিফট পদ্ধতিতে চলাচল করলেও সাত সহস্রাধিকের উপর মেট্রোরিক্সা চলছে দিনব্যাপি।
এছাড়াও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট বড় ১২৮টি পরিবহনসহ সরকারি বেসরকারি অফিস, ব্যাংক, বীমা, আদালতের যানবাহন, চিকিৎসক ও ব্যক্তি মালিকাধীন গাড়ীসহ গড়ে প্রতিদিন তিন সহস্রাধিক মোটর সাইকেল চলাচল করছে এই শহরে। যার ফলে শহরের প্রধান প্রধান সড়কের বেবীস্ট্যান্ড, শান্তিমুঞ্জ মোড়, মেইন রোড, নিরালা মোড়, পার্কবাজার মোড়, ক্যাপ্সুল মার্কেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, সুপারী বাগান মোড়, কলেজ গেইট আর নতুন বাস টার্মিনাল এলাকায় রীতিমত বেধে থাকছে যানজট।
যানজট নিরসনে মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এতে চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোগী, শিশু, বৃদ্ধ, মহিলাসহ নানা বয়সী যাত্রী আর সাধারণ মানুষ।
চালক ও যাত্রীদের অভিযোগ, ইতোপূর্বে পৌরসভা নির্ধারিত ১০,৫০০ টাকা ফি এর ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সার (ইজি বাইক) লাইসেন্স এক থেকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমান পৌর প্রশাসন দায়িত্ব নেয়ার পর এক বছর মেয়াদী পায়ে চালিত রিক্সার ১০০০ হাজার টাকার লাইসেন্স বিক্রি করেছেন ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায়। মেট্রোরিক্সার লাইসেন্সের কথা বলে অতিরিক্ত ওই টাকা গুলো নেয়া হয়েছে।
শহরের পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়ার মেট্রোরিক্সা চালক মো. জসীম জানান, তিন বছর যাবৎ রিক্সা চালাচ্ছেন তিনি। রিক্সা ও গদি আটকে রেখে তাদের লাইসেন্স নিতে বাধ্য করা হয়েছে । লাইসেন্স ছাড়া চালানো যাচ্ছিল না বলেই তিনি লাইসেন্সটি নিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, ২০/২৫ হাজার টাকায় পৌরসভা থেকে লাইসেন্স বিক্রি করা হলেও দেড় মাস আগে মুসলিমপাড়ার একজন গ্যারেজ মিস্ত্রির মাধ্যমে ১২ হাজার টাকায় লাইসেন্সটি নিয়েছেন তিনি। সুদের টাকায় রিক্সা আর লাইসেন্সটি কিনেছেন বলেও জানান তিনি।
বাসা খানপুর এলাকার আরেক মেট্রোরিক্সা চালক মো. হযরত বলেন, ২০ হাজার টাকায় তিনি লাইসেন্সটি পেয়েছেন। তার লাইসেন্স নম্বর ৮২৫। টাকা গুলো নিয়েছেন পৌরসভার লোকজন।
পায়ে চালিত রিক্সা লাইসেন্স কেন এত টাকা দিয়ে নিলেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, লাইসেন্স বইয়ের মধ্যে ইজি বাইক লেখা আছে বলেই তিনি লাইসেন্সটি নিয়েছেন।
মেট্রোরিক্সা চালক রবিউল ইসলাম বলেন, পৌরসভা থেকে মেট্রোরিক্সার লাইসেন্স আর নম্বর প্লেট বিক্রি করার সুযোগে তারা এই ব্যাটারী চালিত রিক্সা চালাচ্ছেন। পৌরসভার লোকজন লাইসেন্স ও প্লেট বিক্রি করেছেন। এ কারণে এই রিক্সা বন্ধ হচ্ছেনা। এরপরও যদি সরকারিভাবে এই রিক্সা চলাচল বন্ধ করে, তাহলে অন্য কাজ করে খাবেন বলে জানান তিনি।
পৌরসভার কাজিপুর এলাকার ৪৯৯৫ নং লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যাটারি রিক্সা চালক রফিক বলেন, ৪৩ হাজার টাকায় পুরাতন এই রিক্সাটি কিনেছি। মাসে ১২০০টাকা ভাড়ায় লাইসেন্সটি নিয়েছি। লাইসেন্সটি পৌরসভা থেকে কিনেছেন আদিটাঙ্গাইল এলাকার রিক্সার গ্যারেজ ব্যবসায়ি
আকবর।
রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সবুর বলেন, টাঙ্গাইল পৌরসভা থেকে চলাচলের জন্য ব্যাটারী চালিত মেট্রোরিক্সা (ইজি বাইক) গুলোকে পায়ে চালিত রিক্সার লাইসেন্স দিয়েছে। লাইসেন্স দেয়ার দায়িত্ব তাদের না। পৌরসভার মেয়র সাহেব পায়ে চালিত রিক্সার লাইসেন্স দিয়েছেন মেট্রোরিক্সায়। ব্যাটারী চালিত রিক্সা (ইজি বাইক) আমাদের সংগঠণের অন্তভুক্ত। এছাড়াও এই লাইসেন্স দেয়া নিয়ে আমাদের সাথে কোন মিটিং করেননি পৌর কর্তৃপক্ষ। ইজিবাইক বন্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্যের বিষয়টি মেয়র সাহেবের বলে জানান তিনি।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন ও যুবদের জন্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুঈদ হাসান তড়িৎ বলেন, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পায়ে চালিত রিক্সা লাইসেন্স দিয়ে অবৈধ মেট্রোরিক্সার বৈধতা দেয়ার ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। দ্রুত অবৈধ ব্যাটারী চালিত রিক্সা গুলো বন্ধে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যানিং অফিসার ও নগর পরিকল্পনাবিদ জহিরুল ইসলাম জানান, আমার জানা মতে টাংগাইল পৌর এলাকায় কি পরিমান যানবাহন চলাচল করতে পারবে সেই বিষয়ে কোনো ধরনের ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়নি। তাই এটা সঠিক ভাবে বলা যাবে না টাঙ্গাইল পৌরসভায় ঠিক কি পরিমান সিএনজি,অটোরিক্সা, ও ব্যাটারীতে চালিত রিক্সা চলাচল করার অনুমতি দেওয়া যাবে। যেকোন নগরীকে সচল রাখতে তার ধারন ক্ষমতা অনুযায়ী যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া উচিৎ বলে তিনি মনে করেন।
টাঙ্গাইল অ্যাডভোকেট বার সমিতির সভাপতি মোঃ মাঈদুল ইসলাম শিশির বলেন, হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা সত্ত্বেও টাঙ্গাইল পৌরসভা কর্তৃপক্ষের অটোরিক্সা ও ব্যাটারি চালিত রিক্সার লাইসেন্স প্রদান করা, হাইকোর্টের নির্দেশ অবমাননার সামিল। টাঙ্গাইলে যে কোন সচেতন নাগরিক সংক্ষুব্ধ হয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে , মহামান্য হাইকোর্ট এই বিষয়ে সুয়োমোটো রুল জারি করবেন।

বক্তব্য নিতে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস.এম.সিরাজুল হক আলমগীর এর মুঠোফোনে ফোন দিলে সেটি রিসিভ করে পিএস সাজ্জাদ বলেন, এ ব্যাপারে সাক্ষাতে কথা বলা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের (২০ জুন) সড়ক পরিবহনবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের সভায় সড়ক দুর্ঘটনারোধে সারা দেশে ব্যাটারিচালিত রিক্সা-ভ্যান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরবর্তীতে একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর সারা দেশে চলা অবৈধ ব্যাটারিচালিত ৪০ লাখ ইজিবাইক বন্ধের নির্দেশসহ আমদানি ও ক্রয়-বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা আর অবৈধ ইজিবাইক আমদানি থেকে বিরত থাকতে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, এই মর্মে রুল জারি করেন বিচারপতি মামনুন রহমানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ।
একতার কণ্ঠঃ অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে একসময় নানাজনের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহ করেন রুবেল সিকদার। বিভিন্নজন থেকে সংগ্রহ করা কোটি টাকার সেই বিশাল অংকের মূলধন দিয়ে রুবেল খুলে বসেন হরেক রকমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
জমি বেচা-কেনা, বিভিন্ন পন্যের শো-রুম, গাড়ি কিনে শুরু করেন রেন্ট এ কারের ব্যবসা। পরিবর্তন আসে চলা ফেরায়। রুবেলের এমন ‘হঠাৎ’ কোটিপতি বনে যাওয়া নিয়ে এলাকায় চলতো নানা কানাঘোষা। এরপর ‘হঠাৎ’ কোটিপতি রুবেল উধাও হয়ে যান হঠাৎ করেই। ভুক্তভোগীরা মামলা করেন কোর্টে। ভুক্তভোগীদের করা ৮টি মামলায় ৬৬ মাসের সাজা হয় তার। ওয়ারেন্ট বের হয় অন্য আরো দুটি মামলার। কিন্তু রুবেল থেকে যায় অধরা।
অবশেষে বুধবার (২২ মার্চ) বাহ্মনবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থানা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন অভিযান পরিচালনাকারী মির্জাপুর থানার পরিদর্শক মো. গিয়াসউদ্দিন পিপিএম। তিনি বলেন, অনেক চেষ্টার পর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রুবেলকে আশুগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রুবেল সেখানে তার এক আত্মীয়কে সাথে নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন বলে তিনি জানান।
কোর্টে মামলা করা কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, ভাল মুনাফার কথা বলে রুবেল তাদের কাছ থেকে টাকা নেন। কয়েক মাস ঠিকঠাক মতো ব্যবসায়ের হিসাব ও লভাংশ দিলেও হঠাৎ আত্মগোপনে চলে যায় রুবেল। এরপর টাঙ্গাইল আদালতে চেক ডিজঅনারের মামলা করেন তারা।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, গ্রেপ্তারকৃত রুবেল দীর্ঘদিন যাবৎ জালিয়াতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের প্রতারণা করছিলো। তার বিরুদ্ধে ১০টি মামলার ওয়ারেন্ট ছিলো যেগুলোর ৮টিতে তিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন।