একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী বর্তমানে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
এ ঘটনায় বুধবার (২২ মার্চ) সকালে ওই শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে সখীপুর থানায় মামলা করেন। পরে অভিযুক্ত হাবিবুর রহমানকে (৬৫) গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের বৈলারপুর গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, হাবিবুর রহমান ওই স্কুল ছাত্রীর সম্পর্কে প্রতিবেশী দাদা। এর সুবাদে মেয়েটির বাড়িতে তার যাওয়া আসা ছিল। কয়েকমাস আগে ফুসলিয়ে এবং প্রলোভন দেখিয়ে ওই স্কুলছাত্রীকে প্রথমে ধর্ষণ করে হাবিবুর রহমান। এরপর নানা ভয়-ভীতি ও হুমকি দিয়ে তাকে নিয়মিত ধর্ষণ করে। সম্প্রতি ধর্ষণের শিকার ওই স্কুল ছাত্রীর শারীরিক গঠনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেয়। পরে ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হলে তার গর্ভে ৫ মাসের সন্তানের বিষয়টি ধরা পড়ে।
মামলার বাদি এবং ওই ছাত্রীর বাবা জানান, আমরা গরীব মানুষ। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এলাকার অনেকেই আমাদের ভয় ভীতি দেখাইছে। আমি এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সালাউদ্দিন মিয়া (ওসি তদন্ত) জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ওই স্কুল ছাত্রীকে মেডিকেল করার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে তিন দালালকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদের মধ্যে একজনকে বিনাশ্রম কারাদন্ড ও দুই জনকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।
রবিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারি কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাহিয়ান নুরেনের নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
সাজাপ্রাপ্তরা হচ্ছেন, শহরের পৌর এলাকার সাবালিয়ার বাদশা মিয়ার ছেলে মো. আসলাম (১৯) ও নাজমুল হক বিপুলের ছেলে মো. মিরাজ (২২) ও কালিহাতী উপজেলার তুকা গ্রামের মো. শহীদ আলীর ছেলে মো. শাহেদ (২৬)।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারি কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাহিয়ান নুরেন জানান, জেলারেল হাসপাতালে দালালির মাধ্যমে রোগি ও রোগির স্বজনদের হয়রানির অভিযোগে ১৮৬০ সালের ২৯১ ধারায় মো. আসলামকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং মিরাজ ও শাহেদকে পাঁচ হাজার টাকা করে মোট দশ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভুয়া ক্যাপ্টেন পরিচয়ে প্রতারণা করার অভিযোগে মানিক মনি দাস (২১) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৯ মার্চ) সকালে পৌর শহরের কোনাবাড়ী বাজারের তামাক পট্রি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
সে উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের চর ধোপাকান্দি গ্রামের শ্রী অনিল মনি দাসের ছেলে।
পুলিশ জানায়, পৌর শহরের তামাক পট্রি এলাকায় একটি ব্যাংকের সামনে সেনাবাহিনীর লোগো সম্বলিত টি শার্ট পড়ে মানিক মনি দাস নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পরিচয় দিচ্ছে।
মানুষকে বিশ্বাস করানোর জন্য সে মোবাইলে রাখা সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম পরিহিত ছবি দেখিয়ে প্রতারণার উদ্দেশে কতিপয় লোকজনের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করিতেছে। তার কথা বার্তা ও আচার-আচরণ লোকজনের নিকট সন্দেহ সৃষ্টি হলে তারা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করে।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন জানান, আসামি নিজেকে ভুয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসার (ক্যাপ্টেন) পরিচয়, অসৎ উদ্দেশে সেনাবাহিনীর চিহ্ন বহন ও প্রতারণাপূর্বক অর্থ আত্মসাৎ করে অপরাধ করেছে। এজন্য তাকে আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ঋণের টাকা পরিশোধের পরও এনজিও সংস্থা টিএমএসএস (ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ) -এর মামলায় রুমা নামের এক অসহায় গৃহবধূকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার(১৪ মার্চ) রাত ১০টার দিকে উপজেলার প্রতিমা বংকী দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে সখীপুর থানা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার(১৫ মার্চ) তাঁকে টাঙ্গাইল পাঠানো হয়েছে।
গৃহবধূ রুমা ওই এলাকার আবু আহম্মেদের স্ত্রী। তবে এনজিও সংস্থা টিএমএসএস এর এক কর্মকর্তার দাবি- ওই গৃহবধূ সব টাকা পরিশোধ করেননি।
গৃহবধূ রুমার পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রুমা নামের ওই গৃহবধূ ২০১৯ সালের শুরুর দিকে এনজিও সংস্থা টিএমএসএস (ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ) -এর নলুয়া শাখা থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নেন। এরপর তিনি ওই ঋণের চারটি কিস্তিও পরিশোধ করেন। পরে করোনাকালীন মন্দা পরিস্থিতিতে একসময় ঋণের কিস্তি পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করেন রুমা। ফলে ২০২২ সালের ২০ এপ্রিল টিএমএসএস কর্তৃপক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণ খেলাপি দাবি করে রুমার বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল আদালতে মামলা করে।
পরে ওই মামলাটি তুলে নেওয়ার শর্তে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি অসহায় রুমা ও তাঁর পরিবার ২৫ হাজার টাকা টিএমএসএস নলুয়া শাখার কর্মকর্তা শাহীনের কাছে পরিশোধ করেন। এনজিও কর্মকর্তা শাহীন সাদা একটি কাগজের টুকরোতে সাক্ষর করে ২৫ হাজার টাকা বুঝিয়া পাইলাম মর্মে লিখিত দেন। কিন্তু তাঁদের এই সমঝোতা/লেনদেনের বিষয়টি টিএমএসএস কর্তৃপক্ষ আদালতকে অবহিত না করায় আদালত গত ১২ ফেব্রুয়ারি গৃহবধূ রুমার বিরুদ্ধে একমাস কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেন।
এদিকে সাজা ঘোষণার পরও বিষয়টি গোপন করে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি টিএমএসএস-এর ওই কর্মকর্তা খেলাপি ঋণের আরও সাত হাজার টাকা কিস্তি গ্রহণ করেন।
অন্যদিকে সাজা হওয়ার ভিত্তিতে আদালত রুমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে সখীপুর থানা পুলিশ গৃহবধূ রুমাকে গ্রেপ্তার করে।
থানা কাস্টরিতে গৃহবধূ রুমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, আমার স্বামী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন, কিন্তু করোনার সময় আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। তবুও জেল-জরিমানার ভয়ে ধার-দেনা করে এনজিও’র টাকা পরিশোধ করতেছি। ৬০ হাজার টাকা ঋণের মধ্যে চারটা কিস্তি দিছি, মামলার পর দুই কিস্তিতে ৩২ হাজার টাকা নিছে আর ওই সমিতিতে আমার কিছু সঞ্চয়ের টাকা আছে, সব বাদ দিলে আমার কাছে আর তিন-চার হাজার টাকা পাবে।
এ বিষয়ে জানতে টিএমএসএস —এর কিস্তি গ্রহণকারী ওই কর্মকর্তা শাহীনের মোবাইল ফোনে বারবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে টিএমএসএস -এর নলুয়া শাখার আইন বিভাগের কর্মকর্তা মশিউর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেদের দায় এড়িয়ে বলেন, এক্ষেত্রে টিএমএসএস কর্তৃপক্ষের কোনো ভুল নেই। মূলত গৃহবধূ রুমা তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন নাই। সম্ভবত কোনো হাজিরার তারিখে তিনি আদালতে উপস্থিত হননি। এই কারণে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এছাড়া তিনি ঋণের সব টাকা পরিশোধও করেননি।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম জানান, আদালতের পরোয়ানার ভিত্তিতে রুমা নামের এক গৃহবধূকে গ্রেপ্তার করে বুধবার সকালে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। থানা পুলিশ আদালতের আদেশ পালন করেছে মাত্র।
একতার কণ্ঠঃ বিয়ের আশ্বাসে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় জামিন পেয়েছেন টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঞ্জুর হোসেন।
সোমবার (১৩ মার্চ) দুপুরে জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক শেখ আব্দুল আহাদ শুনানি শেষে জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে বাসাইলের সাবেক ওই ইউএনও উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। সোমবার উচ্চ আদালতের দেয়া জামিনের শেষ দিনে নিম্ন আদালতে জামিন আবেদন করলে বিচারক সেই জামিন আদেশ বহাল রেখেছেন
ইউএনও মঞ্জুর হোসেন রাজবাড়ীর পাংশা থানার চরঝিকড়ী গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ওএসডি হিসেবে সংযুক্ত আছেন তিনি।
সম্প্রতি টাঙ্গালের বাসাইলের সাবেক ইউএনও মঞ্জুর হোসেনের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন জেলার মির্জাপুর উপজেলার এক কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী।
পরে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২৩ জানুয়ারি টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আমলি আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা সুলতানা তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
টাঙ্গাইলের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এস আকবর আলী খান জানান, ইউএনও মঞ্জুর হোসেন উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। সোমবার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। পরে উভয়পক্ষের বিস্তারিত শুনানি শেষে বিচারক ইউএনওর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ৬ মার্চ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন ইউএনও। উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ থাকায় বিচারক সোমবার শুনানির ধার্য করেছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঞ্জুর হোসেন ২০২১ সালে বাসাইলে ইউএনও হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন ফেসবুকের মাধ্যমে মির্জাপুরের এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মনজুর হোসেন বিভিন্ন সময় ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন। তাকে নিয়ে ভারতে ভ্রমণে যান। টাঙ্গাইল শহরে বাসা ভাড়া করে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তারা একত্রে কয়েক মাস বসবাসও করেন। পরে ওই কলেজছাত্রী বিয়ের জন্য চাপ দিলে মনজুর হোসেন তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
এ ঘটনায় ২০২২ সালের ২১ জুন ওই কলেজছাত্রী আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর পিবিআই আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ব্যবসায়ী কহিনূর হত্যা মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুইজনকে আটক করেছে র্যাব-১৪।
আটককৃতরা হলেন, উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রবিন হায়দার চৌধুরি সাদি (৪৩)। তিনি মামলার প্রধান আসামি সামী চৌধুরির বড় ভাই। অপরজন হলেন, বায়েজিদ হোসেন বাজে (৪৫)। বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ)রাতে পৃথক জায়গা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব।
শুক্রবার (১০ মার্চ) দুপুরে তাদের ঘাটাইল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার জানান, টাঙ্গাইল র্যাব-১৪ মামলার অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে গ্রেফতারকৃত ২ আসামিকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের শুক্রবার (১০ মার্চ) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যম জানায়,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে কহিনুর আলী হত্যা মামলার ২ ও ৩ নম্বর আসামীকে গ্রেফতার করে র্যাব । গ্রেফতারকৃতরা হলো, ঘাটাইল উপজেলার উত্তর ধলাপাড়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে বায়োজিত ওরফ বাজ (৪৫) ও একই এলাকার মৃত বজলুল হায়দার চৌধুরীর ছেলে ববিন হায়দার চৌধুরী। বায়োজিত ওরফে বাজকে ঘাটাইল উপজলার মমিনপুর এলাকা এবং ববিন হায়দার চৌধুরীকে টাঙ্গাইল শহরের পলিটেকনিক এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব আরা জানায়, শুক্রবার দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের ঘাটাইল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ফেসবুকে মহানবী হযরত মোহাম্মদকে (সাঃ) নিয়ে কটুক্তি করে কমেন্ট করায় লিমন (২২) নামে এক যুবককে আটক করেছে কালিহাতী থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার(৯ মার্চ) রাতে উপজেলার কোকডহরা ইউনিয়নের উৎরাইলের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।
আটককৃত লিমন ওই ইউনিয়নের উৎরাইল গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার ইসলাম সম্পর্কীত একটি স্ট্যাটাসে Li Mon নামক ফেসবুক আইডি হতে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক মহানবী হযরত মোহাম্মদকে (সাঃ) নিয়ে কটুক্তিকর কমেন্ট করায় স্থানীয়রা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ধ্যায় তাকে আটক করে মারধর করে।
পরে তার বাবা মো. আব্দুল আজিজ শুক্রবার(১০ মার্চ) জুম্মার নামাজের পর সামাজিকভাবে এর বিচার করা হবে বলে তাকে উদ্ধার করে নিজ হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনার খবর পেয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিজে গিয়ে অভিযুক্ত ওই যুবককে রাতেই আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
এ প্রসঙ্গে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে আমি নিজে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নের ভুটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চুরির ঘটনায় ১২ ল্যাপটপ উদ্ধারসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি উত্তর)। সোমবার(৬ মার্চ) বিকেলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতের বিচারক ৩ জনের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়াও চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে। চুরির ঘটনায় গত ২৬ ডিসেম্বর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এপ্রিল পল মৃ বাদি হয়ে মধুপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, মধুপুর উপজেলার ভুটিয়া গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে মো. রেজাউল করিম (২১),শোলাকুড়ি কুড়ালিয়া গ্রামের মনোয়ার হোসেনের ছেলে শরীফ ওরফে শুভ (২০),ধনবাড়ী উপজেলার উখারিয়াবাড়ী গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে মুক্তার হোসেন (২৪),মমিনপুর কাউচিবাজার গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে মো. ইমরান (১৯) একই গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে মো.খায়রুল ইসলাম (১৯) মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে আবু সাইদ (২২), ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর নয়াপাড়া গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে ওমর সানি (২৫)।
মঙ্গলবার (৭ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তরের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, গত ২২ থেকে ২৬ ডিসেম্বরের যে কোন সময় ভুটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চার তলায় শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব থেকে ১৬ টি ল্যাপটপ চুরি হয়। ল্যাপটপ সহ যার আনুসাঙ্গিক মালামালের আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ টাকা। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করা হয়। চুরির ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সারের নির্দেশনায় দ্রুত মামলার রহস্য উদঘাটন ও আসামীদের গ্রেফতার করার জন্য ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টিম এস আই মনির হোসেনের নেতৃত্বে নিরন্তর চেষ্টা চালায়।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে চুরির ঘটনার সাথে জড়িত মো. রেজাউল করিমকে রবিবার ভোর রাতে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত রেজাউলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থানা এলাকার ওমর সানি ও আবু সাইদকে গ্রেফতার করা হয়। আসামীদের দেওয়া তথ্যর ভিত্তিতে মুক্তার হোসেন, মো. ইমরান, মো. খায়রুল ইসলাম ও মো. শরীফ ওরফে শুভকে জেলার মধপুর ও ধনবাড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সোমবার সকালে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরও জানান, রেজাউল করিমের হেফাজতে থাকা ৬টি ,ওমর সানির কাছ থেকে ২ টি ও আবু সাইদ, ইমরান, খায়রুল মুক্তারের নিকট থেকে ১টি করে চুরি যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়। বিজ্ঞ আদালতের বিচারক রেজাউল, ওমর সানি ও আবু সাইদকে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। এছাড়াও বাকি চার জন চোরাইকৃত ল্যাপটপ ক্রেতা ১৬৪ ধারায় নিজেদের দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। চুরি যাওয়া অন্যান্য মালামাল উদ্ধারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ৬ষ্ঠ শ্রেণির স্কুল ছাত্রকে গলাকেটে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
রবিবার (৫ মার্চ) সকাল ১১টায় উপজেলার বলরামপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- বলরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সাইফুল ইসলাম লোটন, প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান, সদস্য মিনহাজ, শিক্ষার্থী আ. মান্নান ও ফাতেমা, এলাকাবাসীর পক্ষে শাহীন মিয়া ও ইউপি সদস্য বিপ্লব প্রমুখ।
এ সময় বক্তরা সাতদিনের মধ্যে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি করেন।এছাড়া শিক্ষার্থীরা ক্লাস কার্যক্রম বর্জন করে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে।
উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ সন্ধ্যার দিকে বাড়তি আয়ের আশায় শারীরিক প্রতিবন্ধী বাবার ব্যাটারি চালিত ভ্যানগাড়ি নিয়ে বের হয় জাহিদ।এর পর আর বাড়ি ফেরেনি সে। এ দিনগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভূঞাপুর-গোপালপুর সড়কের পাশে ঘাটাইল উপজেলার পাঁচটিকড়ী দক্ষিণপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছ থেকে ভূঞাপুর উপজেলার বলরামপুর গ্রামের সুজন তালুকদারের ছেলে জাহিদের (১৪) গলাকাটা মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। তবে ভ্যান গাড়িটি পাওয়া যায়নি। সে ভূঞাপুর উপজেলার বলরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, আমরা হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে অনেকটা অগ্রসর হয়েছি। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবো।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে মাদক সেবন করার সময় এক ছাত্রলীগ ও এক যুবলীগের নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের এক মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন গোপালপুর সরকারি কলেজ শাখার আহ্বায়ক। এছাড়া গ্রেপ্তার খোকন যুবলীগ নেতা।
বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গোপালপুর পৌরসভার একটি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের প্রত্যেককে এক মাসের কারাদণ্ড ও পাঁচশত টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. পারভেজ মল্লিক। পরে গোপালপুর থানা পুলিশ তাদের দুইজনকে ওইদিনই কারাগারে প্রেরণ করে।
জানা গেছে, ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন এর আগেও মাদক মামলায় চার মাস কারাবরণ শেষে ১৫ দিন আগে মুক্তি পান। এরপর আবারও মাদক সেবন করার সময় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করার পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, মাদক সেবনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে এক মাস করে কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড করেন।
তিনি আরো জানান, পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগেও ছাত্রলীগ নেতা মাদকের কারণে হাজত বাস করেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের অকুর টাকুর পাড়ায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত নাহিদ চৌধুরীকে উদ্ধার ও ৮ অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার(২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে অপহরণকারীদের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. আবু ছালাম মিয়া প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন- কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ আল নোমান(২৮), গাজীপুর জেলার মৌচাক চা বাগান গ্রামের(বর্তমানে টাঙ্গাইল শহরের পারদিঘুলিয়ায় বসবাসরত) মো. শহীনের ছেলে রাকিব(১৯), টাঙ্গাইল শহরের দক্ষিণ কলেজপাড়ার রমজান মন্ডলের ছেলে মহম্মদ মন্ডল(৪০), সঞ্জু মন্ডলের ছেলে নাউম মন্ডল(২০), আনোয়ার হোসেনের ছেলে রনি(১৯), আরজু মিয়ার ছেলে আলম মিয়া(১৯), জমের মোল্লার ছেলে কাশেম মোল্লা(১৯) ও পারদিঘুলিয়ার মৃত মজিবর মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া(৪০)।
জানা যায়, কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের আ. কাইয়ুম রুবেল চৌধুরীর ছেলে মো. নাহিদ চৌধুরীকে(২৫) একই গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ আল নোমান ১২-১৩ জন মিলে কুমিল্লা জেলা সদরের কোতওয়ারী থানা এলাকা থেকে কৌশলে অপহরণ করে। পরে তাকে টাঙ্গাইল শহরের আকুর টাকুর মুসলিমপাড়া একটি বাসায় আটকে রেখে তার মা মোছা. নাছিমা আক্তার শিমার কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে।
এক পর্যায়ে নাহিদ চৌধুরীর মা মোছা. নাছিমা আক্তার শিমা বিকাশের মাধ্যমে ৪ হাজার টাকা অপহরণকারীদের কাছে পাঠায়। এতে অপহরণকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে নাহিদ চৌধুরীর উপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। পরে মোছা. নাছিমা আক্তার শিমা কুমিল্লা কোতওয়ালী থানায় বিষয়টি অবগত করলে তারা টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানায়।
টাঙ্গাইল থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে অপহরণকারীদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে শহরের আকুর টাকুর মুসলিমপাড়ার একটি বাসায় অভিযান চালায়। অভিযানে অপহৃত নাহিদ চৌধুরীকে উদ্ধার ও উল্লেখিত ৮ অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. আবু ছালাম মিয়া জানান, অপহৃত নাহিদ চৌধুরীর মা নাছিমা আক্তার শিমা বাদি হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অপহৃতকে উদ্ধার করে গ্রেপ্তারকৃত ৮ অপহরণকারীর ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা সদরের আদালত চত্বর এলাকায় ভুয়া কাজির ছড়াছড়ি হওয়ায় অবাধে চলছে বাল্যবিবাহ। অধিক লাভের আশায় এসব ভুয়া কাজিদের পরোক্ষ মদদ দিচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র। তাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে প্রকাশ্যে বাল্য বিয়ে পড়াতে সমর্থ হচ্ছে এসব কাজিরা।
টাঙ্গাইল জেলা রেজিষ্ট্রার মো. মাহফুজুর রহমান খান জানান, এ বিষয়ে লিখিতসহ একাধিক মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মহাদয়ের পরামর্শক্রমে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এই এলাকার জন্য নির্ধারিত নিবন্ধন প্রাপ্ত কাজির ডিআর বই ব্যবহার না করে অন্য এলাকার কাজির ডিআর বই নিয়ে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের বিয়ে পড়ানো হচ্ছে হরহামেশাই। তাদের দৌরাত্ব্যে বঞ্চিত হচ্ছে অত্র এলাকার জন্য নিবন্ধন প্রাপ্ত কাজি।
এ বিষয়ে তদারকির জন্য জেলা রেজিস্ট্রারের উপর দায়িত্ব থাকলেও অজ্ঞাত কারণে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যকরী পদক্ষেপ নেয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সখিপুর উপজেলার নলুয়া বাছেদ খান উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর এক ছাত্রীর বিয়ে পড়াচ্ছেন মো. শাহীন মিয়া নামের এক কাজি। তিনি দীর্ঘ পনের বছর যাবত কোন রকম বৈধ কাজির সনদ ও কাগজপত্র ছাড়াই কোর্ট চত্বরে বিয়ে পড়িয়ে আসছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের আব্দুল হাই কাজির ডি আর বইসহ মধুপুর, মির্জাপুর ও সখিপুরের ডিআর বই ব্যবহার করে অধিক টাকার বিনিময়ে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের বিবাহ পড়াচ্ছেন। এসব বাল্যবিয়ে পড়িয়ে টাঙ্গাইল শহরের একটি ক্লিনিকের অংশীদারসহ কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন তিনি।
তার ছত্রছায়ায় একাধিক কাজি কোর্ট চত্বরে দেদারছে চালাচ্ছে বিবাহ রেজিস্ট্রি ও তালাক নিবন্ধন। অধিক মুনাফার আশায় আদালত চত্বরে কর্মরত বেশ কিছু আইনজীবী তাদের সেরেস্তা ব্যবহার করতে দিচ্ছেন এই সব ভুয়া কাজিদের। ফলে আইনজীবীদের সেরেস্তা ব্যবহার করেই এসব বাল্যবিবাহ পড়ানো হচ্ছে।
কোর্ট চত্বর এলাকা ব্যবহার করে অবাধে চলছে ভুয়া জন্মসনদ, নকল কাবিননামা আর জাল সিল-স্বাক্ষরে বিয়ে ও তালাক রেজিস্ট্রি।
জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ প্রত্যান্ত অঞ্চল থেকে আসা অপ্রাপ্ত বয়স্কদের নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেফিট করে প্রাপ্তবয়স্ক বানিয়ে বিয়ে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করা হচ্ছে।
গ্রাম অঞ্চলে এক শ্রেনীর দালালদের মাধ্যমে গুঞ্জণ আছে কোর্ট চত্বরে গেলে অভিভাক ছাড়াই বিয়ে পড়ানো যায়। এর সুযোগ নিচ্ছে অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোর-কিশোরী ও ঘর পালানো প্রেমিক-প্রেমিকারা।
এসব কাজি তাদের প্রয়োজনে নকল কাবিননামা, তালাকনামা ও বয়স প্রমানের এফিডেফিটের ঘোষণাও দিচ্ছেন। এতে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেমন আতঙ্কে রয়েছেন তেমনি পরকীয়ার বলি হচ্ছে রেমিটেন্স যোদ্ধা (প্রবাসীদের) সংসার।
অভিযোগ প্রসঙ্গে মো. শাহিন মিয়া জানান, তার কোন বৈধ কাজির কিম্বা বিবাহ পড়ানোর অনুমোদন নেই। তিনি সাব-কাজি হিসেবে কাজ করেন। অপ্রাপ্ত বয়স্কদের বিবাহ পড়ান তিনি,তবে বয়স প্রমানের কাগজপত্র জমা না দিলে কাবিনের সার্টিফাইড কপি দেন না তিনি।

তিনি আরো জানান, আমি ছাড়াও আরো অনেকেই কোর্ট চত্বরে বিয়ে পড়াচ্ছে, তারা হচ্ছে-মো. জয়নাল আবেদিন, মো. হামিদুল ইসলাম,আকরাম হোসেন ও কায়সার আহম্মেদ সহ আরো অনেকেই।
টাঙ্গাইল জেলা সদরের ১নং ওয়ার্ড ও কোর্ট চত্বর এলাকার ভারপ্রাপ্ত কাজি আব্দুল সামাদ জানান, এ বিষয়ে জেলা রেজিষ্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। তিনি আশা করেন, জেলা রেজিষ্ট্রার যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করিবেন।
টাঙ্গাইল জেলা রেজিষ্ট্রার মো. মাহফুজুর রহমান খান জানান, এ বিষয়ে লিখিতসহ একাধিক মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মহাদয়ের পরামর্শক্রমে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
“একতার কণ্ঠ-এক্সক্লুসিভ”