একতার কণ্ঠঃ রমজান মাস আসলে সমাজের অনেক অবহেলিত, অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও ছিন্নমূল মানুষগুলোর ইচ্ছে থাকলেও সামর্থ্য না থাকায় উন্নতমানের সামগ্রী দিয়ে ইফতার করতে পারেন না। তাই তাদের ইচ্ছে পূরণে রমজানের পুরো মাসজুড়ে এসব মানুষদের মাঝে বিনামূল্যে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করে আসছেন টাঙ্গাইলের ‘শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন। শুধু তাই নয়, টাঙ্গাইল ছাড়াও দেশের ১১টি জেলায় ইফতার সামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছেন এ সংগঠনটি।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিদিনের ন্যায় শুক্রবার (৩১ মার্চ) বিকাল থেকে ইফতারের আগ পর্যন্ত টাঙ্গাইল পৌর শহরের নিরালা মোড় (কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর), নতুন ও পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, পার্ক বাজার, বেবিস্ট্যান্ড মোড় ও রেজিস্ট্রি পাড়াসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে বিনামূল্যে ইফতার বিতরণ করে সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা। বিনামূল্যে এই ইফতার সামগ্রী বিতরণের বিষয়টি সাধুবাদ জানিয়েছেন সুধিজনরা।

ইফতার সামগ্রী পাওয়া পৌর শহরের বস্তি এলাকার আছিয়া বেগম বলেন, ইফতারের সময় হলেই একদল ছেলে-মেয়ে ইফতারের প্যাকেট নিয়ে ছুটে আসে। তারা প্রথত রোজা থেকেই ইফতার সামগ্রী দিচ্ছে। এমন উন্নতমানের ইফতার সামগ্রী আমাদের পক্ষে কেনা সম্ভব হয় না। তাদের দেয়া ইফতার পেয়ে প্রতিদিন ইফতার করে আসছি।
পৌর শহরের নিরালা মোড় থেকে ইফতার নেয়া কদবানু বেগম বলেন, আমি রাস্তায় ঘুরে ঘুরে টাকা তুলে যা হয় তা দিয়ে কোন রকম দিনাতিপাত চলে। কিন্তু ইফতার কেনার সামর্থ হয় না। প্রতিদিন সন্ধ্যার আগে ওদের দেয়া ইফতার পেয়ে নিশ্চিন্তে সন্তানদের সাথে নিয়ে ইফতার করতে পারি। এরআগেও তারা বিভিন্ন সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন।
স্বেচ্ছাসেবক আহসান খান মিলন ও রিমি আক্তার রিমি জানান, গত ৩ বছর ধরে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে খুব ভালো লাগছে। মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করাও মানবতা। ছিন্নমূল মানুষকে ইফতার করিয়ে নিজেদের ইফতার করার মধ্যে এক আত্মতৃপ্তি থাকে। যে আত্মতৃপ্তি পেয়ে নিজেরা খুবই গর্বিত। আমাদের জন্য দোয়া করেন।
এ বিষয়ে ‘শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন’ ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ মির্জা তৌহিদুল ইসলাম সুলভ জানান, প্রতি বছর রমজানের ন্যায় এবারও আমরা বেশ কয়েকটি মাদ্রাসা ও এতিমখানায়ও ইফতারের আয়োজন করছি। এমন কাজে সামর্থ্য অনুযায়ী সবাইকে এ মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানাই।
শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মুঈদ হাসান তড়িৎ জানান, গত ৯ বছর ধরে টাঙ্গাইল ছাড়াও দেশের আরও ১০ জেলায় প্রায় ৫ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে বিভিন্ন মানবিক কাজে অংশ নিয়ে আসছে এ সংগঠনটি। তারই ধারাবাহিকতায় নিজেরা রান্না করে সমাজের অবহেলিত সুবিধাবঞ্চিত ছিন্নমূল, অসহায় ও দরিদ্রদের খুঁজে খুঁজে ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, টাঙ্গাইল ছাড়াও দেশের ১১টি জেলায় প্রায় ৯ হাজার মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়াও ঈদ উপলক্ষে ছিন্নমূল মানুষ ও শিশুদের মাঝে নতুন জামা ও ঈদের বাজার দেওয়া হবে। এতে থাকবে- পোলাও চাল, মুরগি, দুধ, চিনি ও সেমাই। পাশাপাশি ঈদের দিন রাস্তায় থাকা ভাসমান মানুষ ও মানুষিক রোগীদের দেওয়া হবে পোলাও, রোস্ট, ডিমের কোরমা ও ফিরনি বিতরণ করার হবে।
একতার কণ্ঠঃ ঘাটাইলে মেডিকেল ক্যাম্পে বিনা পয়সায় চিকিৎসা পেলেন সহস্রাধিক মানুষ। শনিবার (১১ মার্চ) দিনব্যাপি উপজেলার দেউপাড়া ইউনিয়নের ভাবনদত্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গণ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের আওয়ামীলীগের এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডাঃ কামরুল হাসান খান।
ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- ভাবনদত্ত গণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোতালেব আকন্দ, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের সাবেক উপ-পরিচালক ও জেনারেল প্র্যাক্টিশনার শিশু আর মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ মো. সদর উদ্দিন, ভাবনদত্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারি শিক্ষক তাহেরুজ্জামান খান তারা, ইঞ্জিনিয়ার ফারুক হোসেন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ টাঙ্গাইল জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক ডাঃ সাইফুল ইসলাম, বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আ.ন.ম বজলুর রহমান বাহাদুর, স্থানীয় মুরুব্বী হাজী আব্দুল গফুর প্রমুখ।
আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা প্রদান করেন-টাঙ্গাইল ২৫০ শষ্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সাবেক উপ-পরিচালক ও জেনারেল প্র্যাক্টিশনার শিশু ও মেডিসিন বিভাগের ডাঃ মো. সদর উদ্দিন, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ মো. সাইফুল ইসলাম, ডাঃ সুব্রত কুমার পাল, মেডিকেল অফিসার ডাঃ নূর-ই-আলম তাহ্মিদ, অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডাঃ আরিফুল ইসলাম, সার্জারী বিশেষজ্ঞ ডাঃ কামরুল ইসলাম কাজল, নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডাঃ নজরুল ইসলাম ও ডাঃ শরিফুল ইসলাম।
আয়োজিত ক্যাম্পে সন্ধানী চক্ষু হাসপাতালে চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ চক্ষু সেবা দেয়ার পাশাপাশি বহিঃবিভাগে ফ্রি ডায়াবেটিক পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ পরামর্শ প্রদান করেন।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডাঃ কামরুল হাসান খান জানান, উপজেলাবাসির দোর গোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌছে দিতে এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। আজ থেকে উপজেলায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম শুরু করা হলো। ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি ইউনিয়নে এ কার্যক্রম চালানো হবে।
একতার কণ্ঠঃ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব আবু নাসার উদ্দিনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার দেবডাঙ্গা গ্রোয়েন বাঁধ এলাকায় ডিসি পল্লী উন্নয়ন সংঘের উদ্যোগে শনিবার (৪ মার্চ) তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান।
সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বগুড়া জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য আনছার আলী মাস্টারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সারিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম মিন্টু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মহন্ত, পৌরসভার মেয়র মতিউর রহমান মতি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক দুলু, অফিসার ইনচার্জ রাজেশ কুমার চক্রবর্তী প্রমূখ। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্ববধানে ছিলেন ডিসি পল্লী উন্নয়ন সংঘের সভাপতি জাঙ্গাহীর আলম নয়ন এবং দেবডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউনুস আলী সাকিদার। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষিকা, স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ এলাকার সকল স্তরের মানুষ অংশ নেন।
সংবর্ধিত অতিথি আবু নাসার উদ্দিন একজন বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তিনি টাঙ্গাইলের কালিহাতী ও রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের ইউএনও এবং গাজীপুরের এডিসি জেনারেলের দায়িত্বপালন করেন। কর্মক্ষেত্রে তার জনবান্ধব এবং ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য একদিকে সাধারণ মানুষের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন। অন্যদিকে পেয়েছেন জেলার শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তার পদক।
আবু নাসার উদ্দিন বলেন, নিজ এলাকায় সংবর্ধনা পাওয়ার অনুভুতি সত্যি অন্যরকম। আমি অতিথি নই, আমি আপনাদেরই সন্তান, আপনাদেরই মাঝে থাকতে চাই। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন। আমি যেনো ন্যায় ও নিষ্ঠার সাথে দেশ-জাতির কল্যাণে সরকারি দায়িত্বপালন করতে পারি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তরকৃত ছয় ডাকাতের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার(২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর থানা আমলী আদালতের বিচারক মনিরা সুলতানা এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কে সদর উপজেলার রাবনা বাইপাস থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ ছয় ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পরিদর্শক তানবীর আহমেদ।
তিনি জানান, টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ছয় ডাকাতকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠায়। আদালত শুনানী শেষে প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা হলেন, সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার ক্ষিদ্র মাটিয়া গ্রামের মোতালেবের ছেলে ইউসুব আলী (৪২), পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার ধানুয়াঘাটা গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে নুরুল ইসলাম(৩৬), টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের কাঠুয়া যুগনী গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে মো. জুয়েল (৩১), একই গ্রামের মো. সাইফুল ইসলামের ছেলে মো. ইদুল মিয়া (২০) ও মো. সুরুত আলীর ছেলে সহিদুল ইসলাম (৩০) এবং একই উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের ধীতপুর গ্রামের মো. জহর আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৩০)।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান, বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের সদর উপজেলার রাবনা বাইপাস এলাকায় একদল লোক ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত ছয় ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপর ৪-৫ ব্যক্তি দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল, একটি সুইস গিয়ার ছুঁরি, একটি শাবল ও গাড়ি থামানোর জন্য রশিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত হলুদ ও নীল রংয়ের একটি মিনিট্রাকও (ঢাকা মেট্রো-ড-১২-৩৩৮৩) জব্দ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও সাধারণ মানুষগুলোর কষ্ট লাগবে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন টাঙ্গাইলের শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন নামে একটি সামাজিক ও সেবামূলক সংগঠন। যেখানে মিলছে ১০ টাকায় বাজার। সেচ্ছাসেবক এই সংগঠনের এমন উদ্যোগটি সাধুবাদ জানিয়েছেন সুধিজনরা।
সোমবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল ১০ টা থেকে দুপুর পর্যন্ত টাঙ্গাইল পৌর শহরের হাজরাঘাট এলাকার একুয়ার বস্তিতে বিন নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এ বাজার বসানো হয়। বাজার থেকে ১০ টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন সবজি, মাছ ও মাংস কিনতে পারছেন অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো।

১০ টাকার বাজারে ১০ টাকার বিনিময়ে মিলছে- ১ কেজি চাল, ২৫০ গ্রাম ডাল, ১ কেজি আলু, ১ কেজি বেগুন, ১ কেজি মূলা, ১ কেজি সিম ও আধা কেজি পেঁয়াজ, ফুল কপি, মিষ্টি লাউ, লাল শাক, পালন শাক, ৩ টি শিং মাছ বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া এ বাজারে কাঁচা মরিচ দেওয়া হয়েছে ফ্রিতে।
শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের আয়োজিত ১০ টাকার বাজারে বাজার করতে আসা গৃহিনী রাশেদা বেগম বলেন, বস্তিবাসীদর অভাব-অনটনের সংসার। বর্তমানে সবজির অনেক দাম বেড়ে গেছে। কিন্তু ১০ টাকার বাজারে এত কম টাকায় জিনিস কিনতে পেরে আমরা বস্তিবাসী খুবই আনন্দিত। আমরা চাই নিয়মিত এমন বাজারের ব্যবস্থা করা হোক।
বস্তি এলাকার সুবিধাবঞ্চিত দিনমুজুর ইয়াকুব আলী জানান, বাজারে নতুন নতুন সবজি উঠেছে। কিন্তু দাম বেশি থাকায় কিনতে পারি না। অনেক দিন পর পরিবারের জন্য মাত্র ১০ টাকায় মুরগি কিনতে পেরেছি এ বাজার থেকে। আমাদের মত গরীর মানুষের জন্য এমন বাজারের আয়োজন করায় আয়োজকদের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা।
১০ টাকার বাজারের সমন্বয়ক মোহাইমিনুল ইসলাম মুনিম জানান, এ বাজারের ক্রেতা হিসেবে আগে থেকেই সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের নির্বাচন করেছি। প্রতিটি পণ্যে ১০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি আমরা দিচ্ছি। এছাড়া লটারি মাধ্যমে মুরগি দেওয়া হয়েছে। এ রকম কাজে সহযোগিতা করতে পেরে আমরা খুবই খুশি। এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখব।
শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও বিন নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক মুঈদ হাসান তড়িৎ জানান, সমাজের স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্যই আমাদের এমন উদ্যোগ। এ বাজারে চাল, ডাল, মুরগি মাছসহ সব জিনিসের দাম ভর্তুকি দিয়ে রাখা হচ্ছে মাত্র ১০ টাকা যেন সুবিধাবঞ্চিত মানুষ টাকার বিনিময়ে জিনিস কিনেছেন এই আত্মতৃপ্তিটা পান।
তিনি আরও জানান, এ ধরণের বাজার থেকে আমরা ধারণা নিলাম কোন কোন পণ্যে মানুষের বেশি চাহিদা। এমন উদ্যোগ আমাদের আগামীতেও থাকবে। এছাড়া বিন নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশন ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতায় এমন বাজারের আয়োজন দেশের বিভিন্ন জেলায় আয়োজন করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। এ জন্য সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।
একতার কণ্ঠঃ বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে শনিবার ( ১০ ডিসেম্বর ) সকালে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন (বিএমবিএফ) টাঙ্গাইল জেলা শাখার উদ্যোগে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাবেক বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া ও মহাসচিব এস এম সাইফুর রেজার আহবানে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন টাঙ্গাইল জেলা শাখার কো-অর্ডিনেটর ব্যারিস্টার হাসনাত জামিল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন এর কর্মী ইকরামুল হোসেন, খাইরুল ইসলাম আকাশ, নূর মোহাম্মদ , রাফি আহমেদ, বেল্লাল হোসেন রিজভান, নূর নবী হাসান ,ডিএম সাব্বির ,হৃদয় খান ,এনামুল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন ,মাসুদুর রহমান সহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
পুরো অনুষ্ঠানটি দুইটি পর্বে বিভক্ত ছিল । অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে কো-অর্ডিনেটর ব্যারিস্টার হাসনাত জামিল সংগঠনের সকল সদস্যদের সাথে নিয়ে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার আকুরটাকুর পাড়া ও বেতকা এলাকায় পরিবেশবান্ধব পাঁচ শতাধিক বৃক্ষরোপণ করেন ।
দ্বিতীয় পর্বে মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন এর গুরুত্ব সম্পর্কে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
একতার কণ্ঠঃ আগামী কাল সোমবার (৭ নভেম্বর)দীর্ঘ ৭ বছর পর টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই সম্মেলনে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
ইতিমধ্য সম্মেলনকে ঘিরে পদ প্রত্যাশিদের ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে টাঙ্গাইল জেলার সড়ক-মহাসড়ক, শহরের অলি-গলি, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সম্মেলন স্থানের আশপাশ। শহরের প্রধান প্রধান সড়কে শোভা পাচ্ছে তোরণ।
নেতা-কর্মীদের উৎসাহ উদ্দীপনায় শহরের মুদি দোকান থেকে চা-স্টল পর্যন্ত সর্বত্রই সম্মেলন ঘিরে আলোচণা-সমালোচনার ঝড় বইছে।
কারা পাচ্ছেন জেলার নতুন নেতৃত্ব- সেই প্রশ্ন সবার মুখে মুখে। কে হচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের জেলা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। ইতোমধ্যে সভাপতি পদে তিনজন ও সাধারণ সম্পাদক পদে চার জনের নাম শোনা যাচ্ছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য অনেকেই উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তদবির করছেন।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলমগীর খান মেনু ও আতাউর রহমান খান এমপির নাম শোনা যাচ্ছে। সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম(ভিপি জোয়াহের) এমপি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি ও নাহার আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরনের নাম আলোচনা হচ্ছে।
তবে সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম(ভিপি জোয়াহের) এমপি পদ ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। তারা দুজনেই উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তদবিরে অন্যদের চাইতে অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন।
সম্মেলনকে ঘিরে জেলায় সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়ক, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক ও টাঙ্গাইল শহরের সব সড়কে শতাধিক তোরণ তৈরির কাজ চলছে। বিভিন্ন স্থানে কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাগত জানিয়ে তোরণ ও বিলবোর্ড লাগানো হচ্ছে। সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীদের সমর্থনে স্থানীয় নেতাদের পোষ্টার, ব্যানার, ফেস্টুন সম্মেলন স্থল পর্যন্ত লাগানো হয়েছে।
নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রথমে সম্মেলনে এক লাখ লোকের আগমন উপলক্ষে ব্যাপক আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সে লক্ষে সকাল ১০টা থেকে দিনব্যাপী সম্মেলনের দুই পর্ব সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়। এরমধ্যে মাথাপিছু ২৭০ টাকা হিসেবে এক লাখ নেতাকর্মীর খাবার ও তিন লাখ টাকা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যয় হিসেবে বাকি টাকা মঞ্চ ও আনুষঙ্গিক খরচ হিসেবে ধরা হয়।
কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতারা সময় দিতে না পারায় সম্মেলন সংক্ষিপ্ত করে দুপুর ২টায় সময় নির্ধারণ করা হয়। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা উস্মা প্রকাশ করতে দেখা যায়।
তারা মনে করেন, ক্ষমতাসীন দলের সম্মেলনে সম্মানিত ডেলিগেট ও কাউন্সিলররা একবেলা খাবার পাবেন না- এটা দলের স্থানীয় নেতাদের দেউলিয়াত্বের পরিচায়ক।
এদিকে, জেলার ১২টি উপজেলা ও ইউনিয়ন-পৌরসভার সম্মেলন শেষ করা হলেও অধিকাংশ ইউনিটেরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। উপজেলা ও ইউনিয়ন-পৌরসভার সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ ৩-৪টি পদের বিপরীতে নেতাদের নাম ঘোষণা দিয়ে সম্মেলন শেষ করা হয়েছে। এজন্য দলের জেলা সম্মেলনে কাউন্সিলরদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। অধিকাংশ উপজেলা সম্মেলনে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না করায় স্থানীয় নেতাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
দলীয় সূত্রে জানাগেছে, সম্মেলনে বিশেষ অতিথি থাকবেন, আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য শাজাহান খান এমপি, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি ও আব্দুর রহমান, যুগ্ম-সম্পাদক মাহবুবউল-আলম-হানিফ এমপি, ডা. দীপু মনি এমপি। প্রধান বক্তা থাকবেন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি।
বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ডক্টর আবদুস সালাম গোলাপ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. সিদ্দিকুর রহমান, শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম, সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম, ইকবাল হোসেন অপু এমপি ও আলহাজ মো. সাঈদ খোকন।
জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ৭ নভেম্বর টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে আওয়ামী সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উপস্থিত সম্মতি দিয়েছেন। সম্মেলন উদ্বোধন করবেন, আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ডক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি।
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে টাঙ্গাইলের ১০টি সাংগঠনিক ইউনিটের অধীনে সব ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা সম্মেলন করা হয়েছে। যদিও ২-১টা উপজেলার সম্মেলন এখনও করা সম্ভব হয়নি- এটা জেলা সম্মেলনে কোন প্রভাব ফেলবেনা। এছাড়া সম্মেলন সফল করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
সম্মেলনে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক সভাপতিত্ব করবেন। সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম(ভিপি জোয়াহের) এমপির সঞ্চালনায় সম্মেলনে জেলা-উপজেলার নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন।
সম্মেলন শেষে জাতীয় ও স্থানীয় শিল্পীদের সমন্বয়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল থেকে প্রকাশিত দৈনিক যুগধারা পত্রিকা’র প্রতিনিধি সম্মেলন ও আইডি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
রবিবার(৬ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের ভিক্টোরিয়া ফুডজোন এন্ড পার্টি সেন্টারে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
যুগধারা পত্রিকা’র সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি,টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরনের সভাপতিত্বে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আলোক হেলথ কেয়ার এন্ড ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ লোকমান হোসেন, এফবিসিসিআই পরিচালক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মোঃ আবু নাসের, আলোকিত কালিহাতী’র সভাপতি ও দৈনিক যুগধারা পত্রিকা’র নির্বাহী সম্পাদক আব্দুল আলিম।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দৈনিক যুগধারা পত্রিকা’র সম্পাদক ও প্রকাশক সরকার হাবিব।
প্রতিনিধি সম্মেলনে সাংবাদিক রশিদ আহাম্মদ আব্বাসী, বার্তা সম্পাদক আরমান কবীর, যুগধারা পত্রিকা’র স্টাফ রিপোর্টার,উপজেলার প্রতিনিধিগণ তাদের নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেন।
দুপুরে প্রতিনিধিদের মধ্যাহ্ন ভোজ শেষে আইডি কার্ড বিতরণ করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি উত্তরের) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে শুক্রবার (২১ অক্টোবর) যোগদান করেছেন মো. মীর মোশারফ হোসেন।
তিনি ২০১৯ সালে ১৮ জুলাই থেকে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে ২০১৭ সালে টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানায় যোগদান করেন।
তিনি কালিহাতী ও টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) থাকাকালীন তার কর্ম এলাকায় সন্ত্রাস, মাদক, জঙ্গী, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
মীর মোশারফ হোসেনকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি উত্তরের) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে পদায়ন করায় টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তিনি পুলিশে যোগদানের পর থেকে মাদক, জঙ্গি, সন্ত্রাস, ইভটিজিংকে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে ও বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, তার কাছে প্রতিটি মানুষই আপন তবে অপরাধীরা পার পাবে না। তার অফিসে একজন ধনী প্রভাবশালী ব্যক্তি আসলে যে সম্মান পাবে, ঠিক তেমনি দিন মজুর রিক্সা চালক আসলেও ঠিক একই সম্মান পাবে। মানুষের সেবা করাই তার মূল লক্ষ্য।
মীর মোশারফ হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার সাবেক স্বাস্থ্যকর্মকর্তা মৃত আব্দুল হক সরকারের ছেলে। বৈবাহিক জীবনে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক।
উল্লেখ্য,মীর মোশারফ হোসেন জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে শিক্ষা জীবন শেষ করে ১৯৯৩ সালে পুলিশ বাহিনীতে এসআই হিসেবে যোগদান করেন। এরপর তিনি টাঙ্গাইল সদর থানা, মির্জাপুর, বাসাইল, কালিহাতী থানায় উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সৃষ্টি স্কুলের আবাসিকের পঞ্চম শ্রেণীর শিশু শিক্ষার্থী শিহাবের হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড় সংলগ্ন টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় সহস্রাধিক ছাত্র-ছাত্রী ওই কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধন শেষে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- জান্নাতুল মাওয়া শ্যামন্তী, ফারহান নিঝুম, মেহেদী হাসান, আসলাম প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা- পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র শিহাব মিয়ার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে, সৃষ্টি একাডেমিক স্কুলের আবাসিকে শিহাবের লাশ উদ্ধারের পর থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থী, সচেতন মহল, ছাত্রলীগ ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে টাঙ্গাইল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে আসছে। তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রবিবার (২৬ জুন) ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রবিবার বিকেলে র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে সৃষ্টি একাডেমিক স্কুলের অধ্যক্ষসহ ৯ শিক্ষককে আটক করা হয়।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, রোববার(২৬ জুন) বিকেল ৪টার দিকে সৃষ্টি স্কুলের আবাসিকের দুই শিক্ষক আবু বকর ও মো. নাসিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব কমান্ডার এএসপি এরশাদুর রহমান জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র্যাব ৭ শিক্ষককে ও সদর থানার পুলিশ দুই শিক্ষককে নিয়ে গেছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২০ জুন সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা সুপারি বাগান এলাকায় সৃষ্টি স্কুলের আবাসিক ভবন থেকে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র শিহাব মিয়ার লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান ভবনে দায়িত্বরত শিক্ষকরা।
মৃত শিহাব মিয়া (১১) জেলার সখিপুর উপজেলার বেরবাড়ি গ্রামের প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের ছেলে।
ওইদিন শিশুটিকে হত্যার অভিযোগ আনে তার পরিবার। পরে লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
এঘটনায় প্রাথমিক পর্যায়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে লৌহজং নদীর উপর নির্মিত সেতু দেবে গেছে।বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) রাতে টাঙ্গাইল-বেড়াডোমা-ওমরপুর সড়কের বেড়াডোমা এলাকার লৌহজং নদীর উপর নির্মিত সেতুটি দেবে যায়। এদিকে সেতু নির্মাণ কাজে গাফিলতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহমেদ আজমী।
স্থানীয়রা দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতু নির্মাণ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় টাঙ্গাইল পৌরসভা সেতুটির নির্মাণ বাস্তবায়ন করছে। আট মিটার প্রস্থ ও ৩০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ ১৮ হাজার টাকা। ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর থেকে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করে ব্রিক্সস অ্যান্ড ব্রিজ লিমিটেড ও দি নির্মিতি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজটি শুরু করে। গত ১১ মে কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। গত সপ্তাহে সেতুটির উপরে অংশে ঢালাই করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে সেতুটির সেন্টারিং সাটারিং সরে গিয়ে মাঝখানে সাড়ে তিন ফুট দেবে যায়।
শুক্রবার (১৮জুন) সকালে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, লৌহজং নদীর মাঝখান থেকে গাছ ও বাঁশের পাইল সরে গিয়েছে। সেতুটি মাঝ খানে দেবে যাওয়ায় স্থানীয় লোকজন ভিড় করেছে। কয়েকজন শ্রমিক সেতু নির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে। দেবে যাওয়া স্থান টাঙ্গাইল পৌরসভা প্রকৌশলী ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন।
বেড়াডোমা এলাকার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান জানান, ইতোপূর্বে এখানে যে বেইলি সেতু ছিলো সেটিও দুবার ভেঙে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে কয়েক বছর। এ সেতু নির্মাণের কারণেও দুর্ভোগ অব্যাহত আছে।
স্থানীয় বাসিন্দা খোরশেদ হোসেন বলেন, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে সেতুটি দেবে গেছো। এতে আমাদের আরও কয়েক বছর দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
পথচারী আজাদ মিয়া জানান, পার্ক বাজার থেকে বাজার করে নিজেই বহন করে আনতে হয়। কোন রিকশা আসে না। দুই বছরের অধিক সময় ধরে আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সোলায়মান হাসান জানান, এই সেতুটির নির্মাণ কাজ অন্যজন পেয়েছিলেন। স্থানীয় এমপি তার কাছ থেকে প্রভাব খাটিয়ে কাজটি হাতিয়ে নেয়। পরে তার কর্মী আমিরুলসহ তার অনুসারীদের কাজটি দিয়েছে।
৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ জানান, দুর্ভোগ লাঘবে কাজটি শেষ করার জন্য বার বার তাগিদ দেয়া হয়েছে। কিন্তু পৌরসভার প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কোন কথাই শুনেন না। সেতুটি দেবে যাওয়ায় লাখ লাখ মানুষের কয়েক বছরের জন্য দুর্ভোগ বেড়ে গেলো।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের আমিরুল ইসলাম জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার। তবে স্থানীয় জামিল সহ কয়েকজন মিলে সেতু নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে। তিনি এই কাজের সাথে যুক্ত নয়।
টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহমেদ আজমী জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অবগত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করে মূল রহস্য উদঘাটন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ভোট দেওয়ার পর কেন্দ্রেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন সুকমল সরকার নামের এক ভোটার। বুধবার(১৫ জুন) সকালে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ফতেপুর পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ঘটেছে এ ঘটনা।
ইউপি নির্বাচনের ৬নং মেম্বার প্রাথী দিলীপ রাজবংশী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সুকমল সরকার উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের থলপাড়া গ্রামের মৃত বিরমনির ছেলে।
দিলীপ রাজবংশী জানান, বুধবার সকালে সুকমল সরকার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট দিতে আসেন। এরপর ভোটাধিকার প্রয়োগ করার পর কেন্দ্রেই ঢলে পড়লে তাৎক্ষণিক তাকে পল্লী চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।