একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়ায় ফাঁসি নিয়ে দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার(৯ এপ্রিল)দিবাগত রাতের কোন এক সময় করটিয়া শীলপাড়া ভবতোষ মাঝির পরিত্যক্ত ঘরে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।
পরে পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের নাম মল্লিকা বেগম (৩০)। সে সদর উপজেলার গোসাইবাড়ী কুমল্লি গ্রামের মো. মিন্টু মিয়ার মেয়ে।
জানা গেছে, আট বছর পুর্বে মির্জাপুর উপজেলার হাট ফতেপুর এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে বাদল মিয়ার সাথে পারিবারিক ভাবে মল্লিকার বিবাহ হয়। তাদের ঘরে মোস্তাকিন (৬) ও মুজাহিদ (৪) নামের দু’টি পুত্র সন্তান রয়েছে। স্বামী বাদল মিয়া অটোরিক্সা চালক। শুক্রবার রাত থেকে মল্লিকার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
নিহতের বাবা মিন্টু মিয়া জানান, শনিবার সকালে শীলপাড়া এলাকার ভোজন শীল ফোনে তাকে জানায়, শীল পাড়ায় তার মেয়ে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহিনকে ঘটনাটি জানান। পরে শাহীন পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্বার করে।
এ বিষয়ে করটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন,যেহেতু ফাঁসির ঘটনা, ময়না তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না ।
টাঙ্গাইল মডেল থানার সহকারী পরিদর্শক(এস আই) মো. ওয়াজেদ আলী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে যাই । নিহতের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, নিহতের বাম হাতে একাধিক ক্ষত চিহ্নের দাগ পাওয়া গেছে।সম্ভবত ব্লেড দিয়ে কাটার ফলে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতকে কেউ আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়ে থাকতে পারে। তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
প্রকাশ, এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে ভোজন শীলের সাথে নিহত মল্লিকার সর্ম্পক ছিল। মনমালিন্যের কারনে মল্লিকা আতœহত্যার পথ বেছে নিতে পারে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আগামীকাল সোমবার ( ৫ এপ্রিল) থেকে সারাদেশে লকডাউন শুরু হচ্ছে। এক সপ্তাহের লকডাউনের শুরুর দিন থেকেই গণপরিবহন বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
রোববার (৪ এপ্রিল) তার সরকারি বাসভবনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামীকাল সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। তবে পণ্যপরিবহন, জরুরি সেবা, জ্বালানি, ওষুধ, পচনশীল, ত্রাণবাহী পরিবহন, সংবাদপত্র, গার্মেন্টস সামগ্রী এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
কোভিড-১৯ সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
গত কয়েক দিন ধরেই প্রতিদিন ছয় হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। গত শুক্রবার (২ এপ্রিল) একদিনে শনাক্ত সাত হাজারের কাছাকাছি পৌঁছায়।
করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানের পর্যটন কেন্দ্র। বাতিল করা হচ্ছে হোটেল-মোটেলে আগাম নেয়া বুকিং। পাশাপাশি নতুন বুকিংও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া কোথাও সন্ধ্যার পর জনগণের চলাচল সীমিত করা হয়েছে। আবার কোথাও ওষুধ এবং কাঁচামালের দোকান ও বাজার বাদে অন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এসব নির্দেশনার প্রায় সবই স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে এসেছে। বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) থেকে এ নিষেধাজ্ঞা থাকবে মধ্য এপ্রিল পর্যন্ত।
প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অমান্য করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও আছে। এর আগে গত বছর ২৬ মার্চ থেকে দেশের পর্যটন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রথমে লকডাউনের আওতায় ছিল। পরে লকডাউন উঠে গেলেও অনেক প্রতিষ্ঠান প্রায় ৫ মাস বন্ধ ছিল।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জনসাধারণের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি মানা, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত ও মাস্ক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠে নেমেছে জেলা পুলিশ। এ উপলক্ষে রোববার (২১ মার্চ) শহরের নিরালা মোড়ে পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়ের নেতৃত্বে মাস্ক বিতরণ করা হয়। এ ছাড়াও জনসাধারণদের সচেতন করতে মাইকিংও করা হয়।
এ সময় টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী নুসরাত এদীব লুনা, মো. শফিকুল ইসলাম, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মীর মোশারফ হোসেন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মাস্ক বিতরণকালে পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, করোনাভাইরাসের টিকা গ্রহণের পর অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ও মাস্ক ব্যবহার না করেই চলাচল করায় কয়েকদিন যাবত করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আইজিপি’র নির্দেশে পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষদের সচেতন করা হচ্ছে। সারাদেশের ন্যায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। জেলার হাট-বাজার, বাসস্ট্যান্ড, মসজিদসহ প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে গিয়ে জনসাধারণদের সচেতন করা হচ্ছে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ সুনামগঞ্জে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ও মন্দির ভাংচুরের প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে জেলা হিন্দু মহাজোট, যুব ও ছাত্র মহাজোট। শনিবার(২০ মার্চ) সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপি এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল জেলা হিন্দু মহাজোটের সভাপতি বিপ্লব দত্ত পল্টন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল জেলা হিন্দু যুব মহাজোটের সভাপতি পবিত্র সরকার ও চন্দন সুত্রধর, যুব মহাজোটের নির্বাহী সভাপতি গৌতম কর্মকার, জেলা হিন্দু ছাত্র মহাজোটের সভাপতি সুভাষ সরকার, ঘাটাইল উপজেলা হিন্দু যুব মহাজোটের সভাপতি বিভাষ চন্দ্র বিশ্বাস সহ জেলা হিন্দু মহাজোট ও অঙ্গ সংগঠন ছাড়াও উপজেলা হিন্দু মহাজোট ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এসময় বক্তারা অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবী জানান।
প্রসঙ্গত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টের জের ধরে গত মঙ্গলবার রাতে হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক যুবককে আটকের পর বুধবার স্থানীয় হেফাজতে ইসলাম সমর্থকরা সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে হামলা চালানোর অভিযোগ করেন অভিযোগকারীরা। এসময় ৮৮ বাড়িঘর ও ৮ টি মন্দির ভাংচুরের অভিযোগ রয়েছে।