একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মাদ্রাসার শিক্ষককে মারধর ও লাঞ্ছিতের ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। মঙ্গলবার ( ৭ জুন) সকাল ৯টায় উপজেলার সিরাজকান্দি দাখিল মাদ্রাসার সামনে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাদ্রাসার ছাত্রীদের উত্যক্তে বাধা ও প্রতিবাদ করায় শিক্ষকদের বহিরাগত যেসব বখাটেরা লাঞ্ছিত ও মাধধর করে আহত করেছে তাদের সবাইকে দ্রুত গ্রেফতার করে বিচার ও শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ইভটিজিংকারী বখাটে অভিযুক্ত দুইজন গ্রেফতার হলেও বাকিদের গ্রেফতারে গড়িমসি করছে পুলিশ। তারা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি করছি।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল কদ্দুস, সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলামসহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, বাকি আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত আছে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ মে দুপুরে মাদ্রাসা ছাত্রীদের কমনরুমের কাছে টয়লেটের উপর দিয়ে উঁকি দেয় জাহিদ ও সাগর নামের দুই বখাটে। এ সময় মাদ্রাসার শিক্ষকরা টের পেলে বখাটে দুইজনের মধ্যে সাগর পালিয়ে যায় এবং জাহিদকে ধরে অফিস কক্ষে নিয়ে আসে শিক্ষকরা।পরে জাহিদকে তার এক বড়ভাই ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।
পরের দিন সোমবার দুপুরে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম ও মুন্নাফ নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় পুনর্বাসনের কাছে পৌঁছলে জাহিদ, সাগর, শাহাদত, বাছেদ, স্বপনসহ ৮-১০ জন বখাটে তাদের মারার জন্য পথ আটকায়। একপর্যায়ে বখাটেরা রড ও ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে মাথায় ও হাতে আঘাত করে। পরে স্থানীয় ও শিক্ষকরা তাদের উদ্ধার করে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করেন
ঘটনার একদিন পর আহত শিক্ষক নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ৫ জনের নামোল্লেখ করে ভূঞাপুর থানায় মামলা করলে টাঙ্গাইল র্যা ব-১২ সিপিসি ৩ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে গত বুধবার সাগর ও স্বপনকে গ্রেফতার করে ভূঞাপুর থানায় সোপর্দ করে র্যা ব।পরে বৃহস্পতিবার বিকালে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠায় ভূঞাপুর থানা পুলিশ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে জোরপূর্বক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুই সন্তানের জনক সোহেল খানের (৩০) বিরুদ্ধে।শনিবার (০৪ জুন) সন্ধ্যায় ওই ছাত্রীসহ তার বাবা সোহেল খানের বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ধর্ষণের শিকার ওই স্কুল ছাত্রী বর্তমানে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ধর্ষিতা স্থানীয় একটি স্কুলের অস্টম শ্রেণীর ছাত্রী। অভিযুক্ত সোহেল উপজেলার ফলদা ইউনিয়নের মাদারিয়া গ্রামের গোলাপ খানের ছেলে।
ধর্ষণের ওই ঘটনায় স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির বাড়িতে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সেখানে কোন সমাধান না হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দরিদ্র ধর্ষিতার পরিবার।
ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী জানায়, প্রতিবেশি দুই সন্তানের জনক সোহেল স্কুলে যাওয়া-আসার সময় নানাভাবে উত্ত্যক্ত আর কু-প্রস্তাব দিত। একদিন সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশে এক দোকানে জিনিস (পন্য) কিনে ফেরার পথে একা পেয়ে সোহেল রাস্তা থেকে পাশের এক বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের চিত্র ভিডিও করেন। এরপর ধর্ষণের বিষয়টি কাউকে জানালে ধর্ষণের ওই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় হুমকি দেন। এরপর বিয়ের কথা বলে মাঝে মধ্যেই ধর্ষণ করতো। তার ধর্ষণের ফলে আমি এখন অন্তঃসত্ত্বা। এখন বিয়ের কথা বললেই তিনি আমাকে মারধর করেন। এছাড়াও গর্ভের সন্তান ফেলে না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। তারা এলাকায় প্রভাবশালী।
স্কুল ছাত্রীর বাবা জানান, দিনমজুরের কাজ করে সংসার চলে। ঠিকমতো বাড়িতেও থাকা হয় না জীবিকার তাগিদে। মেয়ের মা কানে কম শুনে। সোহেল বাড়িতে বিভিন্ন সময় আসা-যাওয়া করতো। এনিয়ে তাকে বহুবার নিষেধ করেছি। কিন্তু সে মানেনি। পরে জানতে পারি আমার মেয়ের সাথে তার শারীরিক সর্ম্পকের কথা। এনিয়ে তার পরিবারকে জানালে উল্টো আমার মেয়েকে সোহেল মারধর করতো। এছাড়া সোহেল প্রভাবশালী হওয়ায় হুমকি দিয়ে আসছে নানাভাবে। যার কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
অভিযুক্ত সোহেল খানের মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
উপজেলার ফলদায় ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম তালুকদার দুদু জানান, মেয়ের অভিযোগে সম্প্রতি ভূঞাপুর পৌরসভার কাউন্সিলর আল-আমিন, উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধার ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল জলিল খান, সাবেক ইউনিয়ন কমান্ডার আবুল কাশেম আজাদ, ইউপি সদস্য খাইয়ুল ইসলামসহ এলাকার মাতাব্বরদের নিয়ে গ্রাম্য সালিশে বৈঠক হয়। পরে সালিশে সোহেল ধর্ষণ ও বিয়ের প্রলোভনের কথা অস্বীকার করায় আমরা ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দেই।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, শনিবার (০৪ জুন) সন্ধ্যায় ওই ছাত্রীসহ তার বাবা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। আসামী গ্রেফতার চেষ্টাও শুরু করেছে পুলিশ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের নিকরাইল ইউনিয়নে বালু ঘাটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে। গত এক সপ্তায় সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলা এবং ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়ায় দুই পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষজন আহত হয়েছে।
এসব ঘটনায় উভয়পক্ষই থানা ও আদালতে ১০-১২টি মামলা দায়ের করেছে। ফলে ওই এলাকার আট গ্রামের মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
জানাগেছে, নিকরাইল ইউনিয়নের পুনর্বাসন-১, পুনর্বাসন-২, পুনর্বাসন-৩ ও পুনর্বাসন-৪ এবং পলশিয়া, সারপলশিয়া, সিরাজকান্দি, পাটিতাপাড়া গ্রামের বেশিরভাগ মানুষের মূল ব্যবসা বালু উত্তোলন ও সরবরাহ। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ওই ইউনিয়নের নির্বাচনে ইউনয়ন আ’লীগের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকার নৌকা এবং সাবেক ইউপি সদস্য মাসুদুল হক মাসুদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীকে নির্বাচন করেন। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকে মাসুদুল হক মাসুদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পর পরই বালু ঘাট দখলের চেষ্টায় সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান চেয়ারম্যানের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলা এবং ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

ওই এলাকায় মোট ১৩টি বালুঘাট রয়েছে। বালু ঘাটগুলো হচ্ছে- নাজির মেম্বারের ঘাট, কদ্দুছ সরকারের ঘাট, ভাবীর ঘাট, মাসুদ মেম্বারের ঘাট, নুহু মেম্বারের ঘাট, করিম মেম্বারের ঘাট, বাগানবাড়ী ঘাট, মুক্তিযোদ্ধা ঘাট, মিনহাজ মন্ডলের ঘাট, ছানোয়ারের ঘাট, বাবুর ঘাট, তাঁতি লীগের ঘাট এবং চিতুলিয়াপাড়া ঘাট। এক সময় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের(বাসেক) কাছ থেকে ডাব(পুকুরের পার) ইজারা নিয়ে ও জমির মালিকদের সাথে চুক্তির মাধ্যমে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা এলাকার লোকদের সাথে নিয়ে ওইসব বালুঘাট পরিচালনা করতেন। বাসেক ডাব ইজারা দেওয়া বাতিল করায় জমির মালিকদের সাথে বালু ব্যবসার হিস্যা দেওয়ার চুক্তি কিংবা অংশীদারিত্ব দিয়ে স্থানীয় লোকজন রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
বালু ঘাটগুলোর মধ্যে করিম মেম্বারের ঘাট, বাগানবাড়ী ঘাট, মুক্তিযোদ্ধা ঘাট ও মিনহাজ মন্ডলের ঘাট সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকার স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে পরিচালনা করেন। অন্য বালুঘাটগুলো বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুদুল হক মাসুদ(সাবেক মেম্বার) তার নেতাকর্মীদের নিয়ে পরিচালনা করেন। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকারের নেতাকর্মীদের বালুঘাট চারটি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।
সিরাজকান্দি গ্রামের বাবলু মিয়া, পলান শেখ, পলশিয়া গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক, মোখলেছুর রহমান, অটোভ্যান চালক আলামিন, আব্দুর রহিম, সিরাজকান্দি বাজারের খোদাবক্স সহ আরও অনেকে জানান, বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানের মধ্যকার বিরোধ মূলত: ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে। বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুদুল হক মাসুদ মনে করেন সাবেক চেয়ারম্যানের ইন্দনে তাকে দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকার মনে করেন, ভূঞাপুর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদের ইন্দনে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে মাসুদুল হক মাসুদ বালুঘাট দখলে নিতে হামলা চালাচ্ছে। উভয় পক্ষের এহেন ঘটনায় এলাকার মানুষ বাইরে বের হতে পারছেনা। তারা আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। বাজারে যেতে পারছেনা, কোন রকমে গেলেও দোকানপাট খুলতে পারছেনা। অনেকেই ভিন্ন স্থানে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। তারা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে ভ্যান-অটোরিকশা থামিয়ে মারপিট করা হচ্ছে। তারা এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ২৭ মে(শুক্রবার) দুপুরে পাটিতাপাড়া এলাকায় সাবেক চেয়ারম্যানের নিয়ন্ত্রণাধীন মিনহাজ মন্ডলের ঘাটে বালু তোলা হচ্ছিল। এমতাবস্থায় ঘাট দখলে নিতে বর্তমান চেয়ারম্যানের লোকজন ওই ঘাটে হামলা চালায়। পাশের মোজাফ্ফর প্রামানিক ও ফেরদৌস প্রামানিকের বাড়ি থেকে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে ও লাঠি সরবরাহ করা হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ৩০-৩৫জন আহত হয়।
২৯ মে(রোববার) সাবেক চেয়ারম্যানের নিয়ন্ত্রণাধীন বাগানবাড়ী বালুঘাট বর্তমান চেয়ারম্যানের ভাই রফিক ও নুহু মেম্বার ভূঞাপুর পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদের গাড়ি চালক আ. আলীম ও এপিএস পাভেলের উপস্থিতিতে দখল করতে যায়। এ সময় দুই পক্ষের লোকদের মধ্যে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাশের নেংড়া বাজারে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের ২৫-২৬ জন আহত হয়। ৩০ মে(সোমবার) ওই দখলকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া হয়। ৩১ মে(মঙ্গলবার) বতমান চেয়ারম্যানের সমর্থক জুরান মন্ডল ও নুহু মেম্বারের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন সমর্থক বাগানবাড়ী বালুঘাট দখল করতে যায়। এ সময় সাবেক চেয়ারম্যানের সমর্থকদের পাল্টা হামলায় উভয় পক্ষে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১০-১২ জন আহত হয়। ১ জুন(বুধবার) ভাবীর ঘাট দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া হয়।
উল্লেখিত ঘটনায় গত এক সপ্তায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। তাদেরকে স্থানীয় হাসপাতাল, বেসরকারি ক্লিনিক ও টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই ঘটনায় পাল্টা- পাল্টি অভিযোগ এনে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। ওই ঘটনাগুলোয় ভূঞাপুর থানা ও টাঙ্গাইলের আদালতে ১০-১২টি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ওই ইউনিয়নে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
নিকরাইল ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হক মাসুদ জানান, বালুঘাট কেউ কারোটা দখল করছে না। তবে জমির মালিকরা সাবেক চেয়ারম্যান ও তার লোকজনকে জমি না দেওয়ায় তাদের উপর হামলা করা হচ্ছে। প্রত্যেক ঘটনাই পুলিশকে জানানো হয়েছে। আবার হামলার শিকার যারা হয়েছেন তারাও থানায় অভিযোগ দিয়েছে।
নিকরাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকার জানান, তার নামে কোন বালুর ঘাট নেই। তিনি বালুর ব্যবসাও করেন না। পরিকল্পিতভাবে তাকে নির্বাচনে হারানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত মাসুদ চেয়ারম্যান, নুরুল ইসলাম ওরফে নুহু মেম্বার ও জুরান মন্ডলের নেতৃত্বে প্রতিদিনই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন ও হামলা চালানো হচ্ছে। তারা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন।

তিনি জানান, বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের দিয়ে এই হামলা চালানো হচ্ছে। ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের এক প্রভাবশালী নেতার ইন্দনে বালু ঘাট দখলে নেওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, হামলা- পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষ থেকে দুইটি মামলা দায়ের হয়েছে। দুইটি মামলায় এ পর্যন্ত ১০জনকে আটক করা হয়েছে। নিকরাইল এলাকায় আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকল ধরণের ব্যবস্থাসহ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পৌর মেয়র মাসুদুল হক মাসুদ জানান, নিকরাইল ইউনিয়নে বালুঘাটকে কেন্দ্র করে হামলা- পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা তাকে কেউ জানায়নি। সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকার ঘাট সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের ন্যায্য হিস্যা না দেওয়ায় এসব ঘটনা ঘটছে।
ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. ইশরাত জাহান জানান, সমস্যাটি মূলত রাজনৈতিক। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে দুই পক্ষের সাখে আলোচনা করে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
একতার কন্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে শিক্ষককে পেটানোর ঘটনায় দুই বখাটেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। বুধবার (১ জুন) বিকেলে উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের পুনর্বাসন গ্রাম থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ১নং পুর্নবাসন গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে মো. স্বপন (১৮) ও আ. আলিমের ছেলে মো. সাগর (১৮)।
বুধবার (১ জুন) সন্ধ্যায় প্রেসবিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে টাঙ্গাইল এর কোম্পানী কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রেসবিজ্ঞপ্তি জানানো হয়েছে, রোববার (২৯ মে) দুপুরে মাদরাসার মেয়েদের কমন রুমের কাছে টয়লেটের উপর দিয়ে উঁকি মারছিল জাহিদ ও সাগর নামের দুই বখাটে। ঘটনাটি ওই মাদরাসার শিক্ষকরা টের পেলে বখাটে দু’জনের মধ্যে সাগর পালিয়ে যায় এবং জাহিদকে ধরে অফিস কক্ষে নিয়ে যায় শিক্ষকরা। আটক জাহিদকে কৃতকর্মের জন্য সবার কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন। পরে সোমবার (৩০ মে) দুপুরে ওই মাদরাসার শিক্ষক নজরুল ইসলাম ও মুন্নাফ টিফিনের সময় নামাজ পড়তে পুনর্বাসনের মাঝামাঝি কমিউনিটি ক্লিনিকের কাছে পৌঁছালে জাহিদ, সাগর, শাহাদত, বাছেদ, স্বপনসহ ৮-১০ জন বখাটে শিক্ষক নজরুল ইসলামকে মারার জন্য পথ আটকায়।

একপর্যায়ে বখাটেরা তাকে রড ও ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে মাথায় ও হাতে আঘাত করে আহত করে। পরে এলাকাবাসী ও শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার করে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করেন।
এরপর মঙ্গলবার (৩১ মে) ওই শিক্ষক বাদি হয়ে জড়িতদের আসামী করে ভূঞাপুর থানায় অভিযোগ এবং বুধবার (১ জুন) মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চালিয়ে স্বপন ও সাগর নামে দুই বখাটে কে আটক করে র্যাব।
প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে আরও জানা গেছে, র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে বহুদিন ধরে তারা মাদরাসার ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে আসছিল বলে স্বীকার করেছে। পরে আটককৃতদের ভূঞাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ছাত্রীদের টয়লেটে উঁকি দেওয়ার প্রতিবাদ করায় সিরাজকান্দী দাখিল মাদরাসার সহকারী মৌলভি নজরুল ইসলামকে মারধর করেছে বখাটেরা। সোমবার (৩০ মে) দুপুরে ওই মাদরাসার শিক্ষক নজরুল ইসলাম নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় এ ঘটনা।
জানা যায়, রোববার (২৯ মে) দুপুরে মাদরাসার ছাত্রীদের কমনরুমের কাছে টয়লেটের ওপর দিয়ে উঁকি দিচ্ছিল জাহিদ ও সাগর নামে দুই বখাটে। ঘটনাটি শিক্ষকদের নজরে পড়লে জাহিদকে আটক করে অফিস কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি পুলিশ ও মাদরাসার সভাপতিকে জানানোর কথা শুনে জাহিদ পালানোর চেষ্টা করলে ছাত্ররা তাকে ধরে ফেলে। পরে খবর পেয়ে সুজন নামের একজন এসে জাহিদকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।
এ ঘটনার জের ধরে সোমবার দুপুরে পুনর্বাসন এলাকার কমিউনিটি ক্লিনিকের কাছে জাহিদ, সাগর, শাহাদত, বাছেদ, স্বপনসহ ৮-১০ জন ওই শিক্ষকের ওপর হামলা চালায়। এসময় বখাটেরা রড ও ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে নজরুল ইসলামকে পিটিয়ে আহত করে ফেলে রাখে। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অন্যান্য শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার করে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এছাড়া কোনো মামলা না করার জন্য শিক্ষক নজরুল ইসলামের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের লোকজন জানান, নিকরাইল ইউনিয়নের সাবেক এক জনপ্রতিনিধি তাদের মামলা না করে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দিচ্ছেন।
সিরাজকান্দি দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস জানান, নজরুল ইসলাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
ভুঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠ: সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি করায় ও নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে টাঙ্গাইলে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল করেছে জেলা যুবদল।
এ উপলক্ষে শুক্রবার (২৭ মে) বিকেলে শহরে পথসভা ও আনন্দ মিছিল শেষে দলীয় নেতাকর্মী আর পথচারিদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
এর আগে ভিক্টোরিয়া রোডস্থ জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে পথসভার আয়োজন করা হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু।জেলা যুবদলের সদস্য সচিব কে এম তৌহিদুল ইসলাম বাবুর সঞ্চালনায় এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক জাহিদ হোসেন মালা প্রমুখ।
এ সময় জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মমতাজ করিম, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মনিরুল হক মনির, জেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক এ কে এম আব্দুল্লাহ, সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কবিরুজ্জামান কবির, সদস্য সচিব ইকবাল তালুকদার, শ্রমিক দল সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সুমন, জেলা ছাত্রদলের আহ্বয়ক দূর্জয় হোড় শুভসহ জেলা মহিলা দল, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগি সংগঠণের নেতৃকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুরে (২৭ মে )সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সভাপতি ও মোনায়েম মুন্নাকে সাধারণ সম্পাদক করে আট সদস্যের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি গঠণ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠ: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৭মে) দুপুরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নতুন কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সুলতান সালাউদ্দীন টুকুকে ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে মোনায়েম মুন্নাকে।
অন্যরা হলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি-মামুন হাসান, সহ-সভাপতি-নুরুল ইসলাম নয়ন, ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-শফিকুল ইসলাম মিল্টন, ২নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-গোলাম মওলা শাহীন, সাংগঠনিক সম্পাদক-ইসাহাক সরকার ও দফতর সম্পাদক-কামরুজ্জামান দুলাল (সহ-সভাপতির পদ মর্যাদায়।
একতার কণ্ঠ: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মা ক্লিনিক এন্ড হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতিসহ নবজাতক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর ক্লিনিকের ডাক্তার, নার্স, কতৃপক্ষ সহ সবাই পলাতক রয়েছে।
মৃত লাইলী বেগম (৩০) উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের খানুরবাড়ি গ্রামের আতোয়ার হোসেনের স্ত্রী।
বুধবার (২৫ মে ) রাতে ভুঞাপুর বাজারস্থ অনুমোদনবিহীন মা ক্লিনিক এন্ড হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, লাইলী বেগমের প্রস্রব যন্ত্রণা হলে তার স্বজনরা ভুঞাপুর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসক রোগীকে টাঙ্গাইল রেফার্ড করেন। এতে সেখানে থাকা ক্লিনিকের দালাল শামছুর খপ্পরে। পরে দালালের কথামত মা ক্লিনিক এন্ড হাসপাতালে নিয়ে যায়। ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়। পরে ওই ক্লিনিকে সার্জারি চিকিৎসক ও ভুঞাপুর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার এনামুল হক সোহেল ও অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক ডা. আল মামুন অস্ত্রপ্রচার শুরু করেন। পরে এক পর্যায়ে রোগী অপারেশন টেবিলেই মারা যায়। পরে স্বজনদের না জানিয়ে লাশ অ্যাম্বুলেন্সে উঠিয়ে টাঙ্গাইলে পাঠিয়ে দেয়ার সময় স্বজন ও স্থানীয়রা বাঁধা দেয়।
রোগীর স্বজনরা জানান, প্রস্রব যন্ত্রণা শুরু হলে সরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে দালালের খপ্পরে পরে ক্লিনিকে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দুই ঘন্টা ধরে অপারেশন থিয়েটারে রাখে। পরে রোগী মারা গেলে ক্লিনিকের সামনে রেখে চিকিৎসক, নার্স ও মালিকরা পালিয়ে যায়।
ভুঞাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আল মামুন বলেন, মা ক্লিনিকে আনার পর তার উচ্চ রক্ত চাপ (পেসার ) দেখা দেয়। পরে অপারেশনের আগেই রোগী বমি করার পরই মারা যায়।
ভুঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ক্লিনিকে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে ক্লিনিকের চিকিৎসক, নার্স ও মালিকরা পালিয়ে গেছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতারকণ্ঠ: টাঙ্গাইল পৌর শহরে অটোরিকশা-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে একজন (৩০) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুজন।
শুক্রবার (২০ মে) বিকেলে পৌর শহরের আশেকপুর এলাকার বুলবুল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুল জলিল। তিনি ভূঞাপুর উপজেলার মাটিকাটা গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে।
আহতরা হলেন সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার খাস পুকুরিয়া গ্রামের শাকিল খানের ছেলে হাসান খান (১০) ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নের করিমগঞ্জ গ্রামের মৃত আব্দুল গাফফারের ছেলে আলতাফ (৬০)।
টাঙ্গাইল সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
একতার কণ্ঠ: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে ফারুক নামে এক ব্যক্তি ও তার সহযোগী বিশালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।রোববার (৮ মে) ভোরে সিরাজগঞ্জ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা গেছে, গত ৫ মে (বৃহস্পতিবার) সকালে ওই ছাত্রী দাদাবাড়ি যাওয়ার পথে অপহরণের পর ধর্ষণ করে বখাটেরা। এ ঘটনায় ওই স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ৭ মে (শনিবার) সকালে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ ফারুক ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত ফারুক ভূঞাপুর উপজেলার বানিয়াবাড়ি গ্রামের নাজমুল প্রধানের ছেলে এবং মো. বিশাল সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার হোসেনপুর উত্তরপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে।
মামলা ও স্কুলছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, মেয়েটি স্কুলে যাওয়ার আসার পথে ফারুক বিভিন্ন সময়ে প্রেমের প্রস্তাব ও নানাভাবে উত্যক্ত করত। প্রতিবাদ করলে তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো তাকে। গত ৫ মে (বৃহস্পতিবার) ঈদের তৃতীয় দিন সকালে সকালে স্কুলছাত্রী একা তার দাদার বাড়ি যাচ্ছিল। এ সময় তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় ফারুক। সে প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ফারুক তার দলবল নিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায় মেয়েটিকে। এরপর নৌকাযোগে প্রথমে সিরাজগঞ্জের তার এক বন্ধুর বাসায় নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে ফারুক। তারপর সেখান থেকে ফারুক তার খালার বাসায় নিয়ে ফের ধর্ষণের পর শারীরিক নির্যাতন করে বিয়ের চাপ সৃষ্টি করে। এতকিছুর পরও বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তার এক সহযোগী অপহরণকারীর বাড়িতে সন্ধ্যার দিকে স্কুলছাত্রীকে নিয়ে আসে ফারুক ও তার অন্যান্য সহযোগীরা।
এরপর এ বিষয়টি মেয়েটির বাবা জানতে পেরে ওইদিন রাতেই ফারুকের বন্ধুর বাড়ি থেকে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় মাতব্বরদের সঙ্গে নিয়ে স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করেন। পরে শনিবার সকালে মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে ফারুককে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে এসআই ফাহিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সিরাজগঞ্জ থেকে প্রধান অভিযুক্ত ফারুক ও তার সহযোগী বিশালকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফাহিম ফয়সাল বলেন, অভিযুক্ত প্রধান আসামি ফারুক ও তার সহযোগী বিশালকে সিরাজগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে জোরপূর্বক ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ৪র্থ শ্রেণির এক শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে চাচার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কয়েড়া গ্রামের পশ্চিমপাড়া এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় লম্পট চাচাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অভিযুক্ত চাচার নাম মো. আব্বাস (২৫)। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রী এবং জয়নালের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, শিশুটির মা-বাবাসহ বাড়িতে কেউ ছিল না। প্রকৃতির ডাকে মেয়েটি সাড়া দিতে বাথরুমে গেলে হঠাৎ আব্বাস বাথরুমে প্রবেশ করে জোরপূর্বক ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় শিশুটির ডাক-চিৎকারে লোকজন এগিয়ে গেলে আব্বাস পালিয়ে যায়। পরে মেয়েটির মা বাড়িতে এসে ঘটনা শুনে স্থানীয় ও জনপ্রতিনিধিদের অবগত করে আব্বাসের বিরুদ্ধে মেয়েটির মা ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন । সম্পর্কে আব্বাস মেয়েটির চাচা।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, শিশুটির মা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) বিকালে মামলা দায়ের করার পরেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আব্বাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আব্বাসকে শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইল জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং শিশুটিকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
একতার কণ্ঠঃ ঈদকে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গগামী ঘরমুখো মানুষদের ভোগান্তি কমাতে বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আদায়ের জন্য স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুন লেন বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মোটর সাইকেলের জন্য আলাদা দুই লেন করা হয়েছে।
তারপরও শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) সকাল থেকেই সেতুর পূর্ব প্রান্তের গোলচত্তর থেকে টোলপ্লাজা পর্যন্ত মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন লেগে গেছে। এতে করে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মোটরসাইকেলের যাত্রী ও চালকদের।
টোলপ্লাজা সূত্র জানিয়েছে, স্বাভাবিক অবস্থায় বঙ্গবন্ধু সেতুতে ৩/৪টি লেন চালু রাখা হয় টোল আদায়ের জন্য। কিন্তু ঈদকে সামনে রেখে এই মহাড়কে প্রায় কয়েকগুন যানবাহন চলাচল বেড়ে যায়। তাই যানজট মুক্ত রাখতে সেতুতে বাস-ট্রাক, মাইক্রোবাসসহ অন্যান্য যানবাহনের জন্য সাতটি লেনে টোল আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া মোটর সাইকেলের জন্য বাম দিকের রাস্তা দিয়ে আলাদা দুই লেন করা হয়েছে। তারপরও অতিরিক্ত মোটরসাইকেলের কারণে পুরোপুরি লেন দুটি বন্ধ হয়ে গেছে।
বিকেলের দিকে এই চাপ আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।