/ হোম / ভূঞাপুর
দীর্ঘ ২১ বছর পর ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজার অপারেশন - Ekotar Kantho

দীর্ঘ ২১ বছর পর ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজার অপারেশন

একতার কণ্ঠঃ নানা জটিলতায় প্রায় দুই যুগ ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারসহ সব ধরনের অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। অবশেষে দীর্ঘ ২১ বছর পর সিজার অপরেশন শুরু হয়েছে। এই  উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভূঞাপুরবাসী। রবিবার( ৫ সেপ্টেম্বর) দু’টি সিজারের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রথম দিনে করা দু’টি সিজারের দু’জনেই সুস্থ আছেন। তাঁরা দু’জন হলেন, উপজেলার পূর্ব ভূঞাপুরের আসাদুজ্জামানের স্ত্রী হ্যাপি আক্তার (২৫) এবং পাশের ঘাটাইল উপজেলার যোগিহাটি গ্রামের মোস্তফার স্ত্রী তাহমিনা খাতুন (২০)।

সিজার দুটি সম্পূর্ণ করেন ডা. মোছা. সালমা জাহান। এ সময় তাঁকে সহযোগিতা করেন শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. খন্দকার সাঈদ হোসেন, অ্যানেসথেসিয়া ডা. মো. আজিজুল হক, আরএমও ডা. এনামুল হক ও ডা. নিশাদ সাইদা।

সিজারিয়ান দম্পতি ও তাঁদের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বাইরের অন্যান্য ক্লিনিকের চেয়ে এখানে টাকা কম খরচ হয়েছে ও সিজারের সময়ও কম লেগেছে। মা ও নবজাতক দু’জনেই সুস্থ আছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. এএফএম সাহাবুদ্দিন ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মহীউদ্দিন প্রমুখ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৭. সেপ্টেম্বর ২০২১ ০১:২১:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে অধিকাংশ নদীতে বাড়ছে পানি, প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে অধিকাংশ নদীতে বাড়ছে পানি, প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলার মধ্যে ৭টি উপজেলায় বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ নদীগুলোতে পানি ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে নিম্নাঞ্চলের কাঁচা-পাকা রাস্তা ভেঙে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় অনেকে পাহাড়িয়া এলাকায় আত্মীয়ের বাড়ি ও উঁচু সড়কের পাশে আশ্রয় নিয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। অধিকাংশ এলাকায় পানীয় জল ও শুকনো খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যার্তদের জন্য জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় মাত্র ৪০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দিয়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, জেলার ভূঞাপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন, কালিহাতী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের ৭টি, নাগরপুর উপজেলার ৯টি, বাসাইল পৌরসভা সহ সবকটি(৬টি) ইউনিয়ন, মির্জাপুর ৪টি ও দেলদুয়ার উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে খাল, বিল, নদী ও বাড়ির আঙিনা পানিতে থই থই করছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

বন্যার পানি বাড়ার সাথে সাথে ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধের উত্তর-পূর্বাংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাছ বেথইর এলাকায় বাঁধের ১০০মিটারে ভাঙনের কবলে পড়ে ঝুঁকিতে রয়েছে। ওই এলাকা দিয়ে পানি প্রবেশ করলে টাঙ্গাইল শহরে পানি ঢুকে পড়বে। এছাড়া যমুনায় ভূঞাপুর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর ও নাগরপুর অংশে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।

বন্যার পানিতে টাঙ্গাইল-পটলবাজার, টাঙ্গাইল-কাকুয়া, এলেঙ্গা-মগড়া, ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী বাজার থেকে ভালকুটিয়া পর্যন্ত পাকা সড়ক, বাসাইল পৌরসভার একটি ব্রিজ ও কাঞ্চনপুরের গ্রোথ সেণ্টার-কাজিরাপাড়া সড়কে কালভার্ট প্রবল স্রোতে ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এসব এলাকার কাঁচা-পাকা সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওইসব এলাকায় এখনও লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলায় এবার ৮৯ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ করা হয়। এরমধ্যে ৭৯০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

এদিকে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও ধলেশ্বরী, ঝিনাই সহ অভ্যন্তরীণ সব নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৭ সেণ্টিমিটার, ধলেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৭৮ সেণ্টিমিটার ও ঝিনাই নদীর পানি বিপৎসীমার ৯২ সেণ্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সাহা জানান, জেলার ভূঞাপুর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর ও নাগরপুর এ চারটি উপজেলার বন্যা দুর্গতদের জন্য ৪০ মে.টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনের জন্য প্রতিটি উপজেলায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তালিকা পেলে যথাস্থানে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আহসানুল বাশার জানান, চলতি বন্যার পানি এক সপ্তাহের মধ্যে নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৯০ হেক্টর জমির রোপাআমনের ৫০-৬০ ভাগ ধান রক্ষা পেতে পারে। তিনি জানান, পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে নাভি জাতের আমন রোপনের জন্য তারা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রণোদনার পাশাপাশি আগাম রবিশস্য চাষে সহায়তা দিয়ে তারা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, বন্যায় পানি বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জেলার ৮০ কিলোমিটার নদী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পানি কমে গেলে স্থায়ীভাবে নদী তীর সংরক্ষণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. সেপ্টেম্বর ২০২১ ০২:২৩:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে

একতার কণ্ঠঃ উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে টাঙ্গাইলের নদ-নদীর পানি বাড়ছে। বৃহস্পতিবার(২৬ আগস্ট) সকালে যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৭ সেণ্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া জেলার ধলেশ্বরীতে ৪ সেণ্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ২৩ সেণ্টিমিটার এবং ঝিনাই নদীর পানি ৯ সেণ্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে এ তথ্য জানাগেছে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো) জানায়, গত দুই দিন যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকার পর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণের করণে জেলার অভ্যন্তরীণ নদীগুলোতে পানি বাড়ছে। ফলে জেলার চরাঞ্চল, নিম্নাঞ্চল ও অভ্যন্তরীণ নদী তীরবর্তী এলাকার ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি প্লাবিত হচ্ছে। নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলা, কালিহাতী, বাসাইল, ভূঞাপুর, মির্জাপুর, বাসাইল ও নাগরপুর উপজেলার নিচু এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। কোথাও কোথাও নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে।

টাঙ্গাইল পাউবো ও কৃষি বিভাগ জানায়, জেলার অভ্যন্তরীণ নদীগুলোতে পানি বাড়লেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পানি বৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, যমুনা নদীসহ জেলার সব নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নদীর পানি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৭. অগাস্ট ২০২১ ০২:১৭:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে মোবাইল ফোনের বাক্সের সূত্রে ধর্ষণ ও হত্যা রহস্য উদঘাটন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মোবাইল ফোনের বাক্সের সূত্রে ধর্ষণ ও হত্যা রহস্য উদঘাটন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে মোবাইল ফোনের পরিত্যক্ত একটি বাক্সের সূত্র ধরে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই)। রোববার(৮ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইল পিবিআই কার্যালয়ে জণাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমিন ভূঞাপুরে অজ্ঞাত যুবতীর পরিচয় উদ্ধার ও মামলায় জড়িত চার ব্যক্তির গ্রেপ্তার সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কে বীরভরুয়া নামকস্থান থেকে গত ৩ আগস্ট এক অজ্ঞাত যুবতীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় না পেয়ে মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে স্থানীয় ছাব্বিশা গোরস্থানে দাফন করা হয়। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে টাঙ্গাইলের পিবিআই স্বপ্রণোদিত হয়ে গত ৫ আগস্ট মামলাটির দায়িত্ব নেয়। ওইদিনই পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারীকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

পুলিশ সুপার জানান, পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারীর নেতৃত্ব পিবিআইয়ের একটি চৌকশ টিম গঠন করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেন। বিভিন্ন সোর্স ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ধনবাড়ী উপজেলার বলিভদ্র ইউনিয়নের ইসপিনজারপুর গ্রামে মৃত মজিবর রহমানের ছেলে মো. মিজানুর রহমানের ভাড়া বাড়িতে যোগাযোগ করেন।

তদন্ত টিম মো. মিজানুরকে কৌশলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদকালে তার ঘরে পড়ে থাকা মোবাইল ফোনের পরিত্যক্ত একটি বাক্স কুড়িয়ে পায়। বাক্সটিতে দুটি মোবাইল ফোনের ভাঙা অংশ ছিল। পরে ওই বাক্সের গায়ে লেখা আইএমই নম্বরের সূত্র ধরে অজ্ঞাত যুবতীর বাবা গোপালপুর উপজেলার জয়নগর গ্রামের মো. খোকন মন্ডলের সন্ধান পান। ছবি ও পড়নের কাপড় দেখে মো. খোকন মন্ডল অজ্ঞাত ওই যুবতী তার মেয়ে খোদেজা খাতুন বলে শনাক্ত করেন।

মো. খোকন মন্ডল পুলিশকে জানান, তার মেয়ে খোদেজা খাতুন গত ২ আগস্ট তার নানিবাড়ি একই উপজেলার মনতলা থেকে বাড়ি আসার পথে নিখোঁজ হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমিন জানান, অজ্ঞাত যুবতীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তদন্ত কাজ দ্রুত এগুতে থাকে। পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারীর তদন্ত টিম তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে সোর্সের মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষার্থী খোদেজা খাতুনকে ধর্ষণ ও হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ঘাতক প্রেমিক সহ চার যুবককে গ্রেপ্তার করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন, গোপালপুর উপজেলার ভেঙ্গুলা গ্রামের স্বর্গীয় নগেন চন্দ্র দাসের ছেলে ঘাতক প্রেমিক কৃষ্ণ চন্দ্র দাস ওরফে সানি আহাম্মেদ(২৮), ধনবাড়ী উপজেলার ইসপিনজারপুর গ্রামের মো. মোশারফ হোসেনের ছেলে সৌরভ আহাম্মেদ হৃদয়(২৩), একই উপজেলার কেরামজানী গ্রামের মো. গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মো. মেহেদী হাসান টিটু(২৮) এবং একই উপজেলার ইসপিনজারপুর গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে মো. মিজানুর রহমান(৩৭)। গ্রেপ্তারকৃতদের রোববার দুপুরে ৩ দিনের করে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত কৃষ্ণ চন্দ্র দাস ওরফে সানি আহাম্মেদ পুলিশকে জানায়, পেশায় তিনি একজন নরসুন্দর(নাপিত)। মোবাইল ফোনে মিস কলের মাধ্যমে খোদেজা খাতুনের সাথে তার পরিচয় হয়। তিনি মুসলিম নাম সানি আহাম্মেদ ধারণ করে খোদেজার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন।

পরে দেখা করার কথা বলে ডেকে এনে তার বন্ধু সৌরভের মোটরসাইকেলে ধনবাড়ী উপজেলার ইসপিনজারপুর গ্রামে অপর বন্ধু মো. মিজানুর রহমানের ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে খোদেজা খাতুনকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে কৃষ্ণ চন্দ্র দাস একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

চিৎকার-চেঁচামেচিঁ করায় ঘরে থাকা গামছা গলায় পেঁচিয়ে তারা চার বন্ধু মিলে খোদেজাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে লাশটি বস্তাবন্দি করে একটি ভাড়াকৃত সিএনজি চালিত অটোরিকশায় উঠিয়ে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কে বীরভরুয়া নামকস্থানে ফেলে রাখে। এরআগে তারা খোদেজার ওড়না ও ভ্যানিটিব্যাগ যমুনা নদীতে ফেলে দেয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৯. অগাস্ট ২০২১ ০৬:৫১:পিএম ৫ বছর আগে
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গবেষক শফিউদ্দিন তালুকদার আর নেই - Ekotar Kantho

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গবেষক শফিউদ্দিন তালুকদার আর নেই

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরস্থ শমসের ফকির ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গবেষক শফিউদ্দিন তালুকদার আর নেই। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে বুধবার(৪ আগস্ট) ভোরে মস্তিস্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন(ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। তিনি শিক্ষিকা স্ত্রী কল্পনা পারভীন ও একমাত্র ছেলে র‌্যাইয়ান উৎসব তালুকদার সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

ভূঞাপুরস্থ নিকরাইল শমসের ফকির ডিগ্রি কলেজ মাঠে প্রথম ও বাদ আছর ভূঞাপুর মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ভূঞাপুরের ছব্বিশাস্থ কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে। সদালাপী নিরহঙ্কার তরুণ বুদ্ধিজীবী শফিউদ্দিন তালুকদারের জানাজা নামাজে টাঙ্গাইল-২(গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বাবু, পৌর মেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদ, উপজেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম তোতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী, সংগঠক, শিক্ষক, সাংবাদিক, সমাজসেবী সহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

আপাদমস্তক সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠক শফিউদ্দিন তালুকদার ১৯৬৭ সালে টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলার চরাঞ্চল গাবসারা ইউনিয়নের জুঙ্গীপুরে জন্মগ্রহন করেন। তার বাবা কুদরত আলী তালুকদার ও মাতা সখিনা বেগম। তিনি ১৯৮৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। পরে তিনি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরস্থ নিকরাইল শমসের ফকির ডিগ্রি কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। অধ্যাপনাকালেই তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও সংগ্রহে মনোনিবেশ করেন। তৃণমূল পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি একাধিকবার স্বাধীনতা বিরোধীদের হামলার শিকার হন। বহু ঘাত-প্রতিঘাত ও হায়েনার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে শফিউদ্দিন তালুকদার মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংগ্রহ ও গবেষণা করেছেন।

তার গবেষণামূলক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- মুক্তিযুদ্ধে ভূঞাপুর, বাংলাদেশের আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধা, একাত্তরের গণহত্যা :: যমুনার পূর্ব পশ্চিম, একাত্তরের বয়ান- প্রথম খন্ড, ভূঞাপুরের জনজীবন ও সংস্কৃতি ইত্যাদি। তার প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধের মধ্যে রয়েছে- মুক্তিযুদ্ধে হাজং আদিবাসী, আদিবাসী গারো মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষদর্শীর স্মৃতিচারণ :: আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধে ভূঞাপুরের ঐতিহাসিক ঘটনা, সাটিয়াচড়া-গোড়ান গণহত্যা, আদিবাসী নারী মুক্তিযোদ্ধা সন্ধ্যারাণী সাংমা, সিরাজকান্দি জাহাজমারা যুদ্ধ, ছাব্বিশা গণহত্যা দিবস, ভূঞাপুর ডাকবাংলো মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘর হোক ইত্যাদি। তার কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- স্বজনেরা ঘুমায়, বুকের সরোবরে প্রভৃতি। মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও তিনি ফোকলোর ও আঞ্চলিক ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করেছেন। এ সম্পর্কিত তার কিছু বইও প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি,বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদ, বাংলা একাডেমি ও ইতিহাস একাডেমির সদস্য ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৫. অগাস্ট ২০২১ ০৩:০৪:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে অজ্ঞাত যুবতীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে অজ্ঞাত যুবতীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক সড়কে পাশে অর্জুণা ইউনিয়নের ভরুয়া নামক স্থানে মঙ্গলবার(৩ আগস্ট) সকালে জলাশয় থেকে সাদা প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অজ্ঞাত(২৫) এক যুবতীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এলাকাবাসী জানায়, ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক সড়কে ভরুয়া নামক স্থানে জলাশয় থেকে মঙ্গলবার সকালে প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি ) আব্দুল ওহাব মিয়া জানান, বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া প্রায় ২৫ বছর বয়সী ওই যুবতীর পরিচয় পাওয়া যায়নি।

ধারণা করা হচ্ছে- রাতের কোন এক সময় কেউ তাকে হত্যার পর লাশ সড়কের পাশে ফেলে রেখে গেছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৪. অগাস্ট ২০২১ ০৪:০৩:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বিষের বোতল হাতে তিনদিন ধরে স্বামীর বাড়ির বারান্দায় স্ত্রী - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বিষের বোতল হাতে তিনদিন ধরে স্বামীর বাড়ির বারান্দায় স্ত্রী

একতার কণ্ঠঃ  টাঙ্গাইলের সখীপুরে সুলতানা খাতুন (২৪) নামে এক নারী স্ত্রীর অধিকার আদায়ে বিষের বোতল আর কাবিননামা হাতে নিয়ে গত তিনদিন তিনরাত ধরে স্বামীর বাড়ির বারান্দায় বসে আছেন।

গত শনিবার (৩১ জুলাই) থেকে উপজেলার দাড়িয়াপুর দক্ষিণপাড়া ফাইলা পাগলার মাজার এলাকায় অধিকার আদায়ের জন্য এ অনশন চলছে তার।
স্ত্রীর অধিকার না পেলে তিনি সেখানেই বিষপানে আত্মহত্যা করবেন বলে জানান। তিনি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা সদরের আজগর আলীর মেয়ে। খবর শুনে দলবেঁধে আশপাশের লোকজন ওই নারীকে এক নজর দেখতে ভিড় করছেন।

জানা যায়, সুলতানা খাতুন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা সদরের আজগর আলীর মেয়ে। গাজীপুর চৌরাস্তায় সেবা এনজিও নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবাদে উপজেলার দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের দাড়িয়াপুর ফাইলা পাগলার মাজার এলাকার মৃত মোজাফ্ফর মিয়ার ছেলে আবদুর রহিম মিয়ার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

ওই এনজিওতে সুলতানা ছিলেন মাঠকর্মী আর রহিম ছিলেন সহকারী ম্যানেজার। ২০১৭ সালের ৩ আগস্ট ৭ লাখ টাকা দেনমোহরে তারা বিয়ে করেন। সেই থেকে তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে গাজীপুর চৌরাস্তার ভাওয়াল কলেজ সংলগ্ন আক্কাছ আলীর বাসায় ভাড়া থাকতেন। কিছুদিন আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রহিম বাসা থেকে চলে যান এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের নম্বর পাল্টিয়ে গ্রামের বাড়ি দাড়িয়াপুরে চলে আসেন। পরবর্তীতে ওই নারী রহিমের সঙ্গে নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি তাকে স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে ঠিকানা মোতাবেক ৩১ জুলাই শনিবার স্ত্রীর অধিকার আদায়ে কাবিননামা এবং বিষের বোতল হাতে নিয়ে রহিমের বাড়ি চলে আসেন সুলতানা। তার আসার খবর শুনে রহিম ও তার পরিবারের লোকজন বাড়িঘরে তালা ঝুলিয়ে অন্যত্র চলে যান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবদুর রহিমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ওই নারীকে জোরপূর্বক বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

দাড়িয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনসার আলী আসিফ জানান, বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে বুধবার (৪ আগস্ট) স্বামী রহিমসহ উভয়পক্ষের লোকজনকে ডাকা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০৩. অগাস্ট ২০২১ ০৫:৩২:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে এক রাতে যমুনার গর্ভে শতাধিক বাড়িঘর ও জিওব্যাগ-তাঁত ফ্যাক্টরি - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে এক রাতে যমুনার গর্ভে শতাধিক বাড়িঘর ও জিওব্যাগ-তাঁত ফ্যাক্টরি

একতার কন্ঠঃ প্রমত্ত্বা যমুনা বর্ষার শুরুতেই টাঙ্গাইলের চার উপজেলায় হানা দিয়ে শতাধিক বাড়িঘর, রাস্তা, হাট, তাঁত ফ্যাক্টরি, স’মিল ও ফসলি জমি গিলে ফেলেছে।ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরিভাবে ফেলা জিওব্যাগও যমুনার করাল থাবা থামাতে ব্যর্থ হচ্ছে। যমুনার প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিতে এক রাতেই শতাধিক স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে।

জানাগেছে, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা, কালিহাতী, নাগরপুর ও ভূঞাপুর উপজেলায় বর্ষার শুরুতেই যমুনার ভাঙন শুরু হয়েছে। যমুনায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পর গত এক সপ্তাহ ধরে ভাঙন শুরু হলেও গত বুধবার(৭ জুলাই) থেকে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার(৮ জুলাই) এক রাতে শুধুমাত্র সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের শতাধিক বাড়িঘর, তাঁত ফ্যাক্টরি, স’মিল ও হাট যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।এ সময় তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের সাথে বঙ্গবন্ধুসেতুর যোগাযোগের সংযোগের অসমাপ্ত শেখ হাসিনা সড়কের একাংশ যমুনার পেটে চলে গেছে।মাহমুদ নগর ইউনিয়নের মাকরকোল, কেশবমাইঝাইল, তিতুলিয়া, নয়াপাড়া, কুকুরিয়া, বারবাড়িয়া; কাতুলী ইউনিয়নের দেওরগাছা, রশিদপুর, ইছাপাশা, খোশালিয়া, চানপাশা ও নন্দপাশা; হুগড়া ইউনিয়নের মসপুর, বারবেলা, চকগোপাল ও কচুয়া।

কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের আলীপুর, ভৈরববাড়ী। নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের পাইকশা মাইঝাইল, খাস ঘুণি পাড়া, খাস তেবাড়িয়া,চর সলিমাবাদ, ভূতের মোড়; ভারড়া ইউনিয়নের শাহজানি, ভারড়া, পাঁচতারা, আগদিঘলীয়া। ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ভালকুটিয়া এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেশি।

সরেজমিনে সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের উত্তর চরপৌলী, দশখাদা, হাটখোলা, পানিকোড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চরপৌলী হাটখোলা সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড হাটখোলাটি রক্ষার জন্য জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে ৩০০মিটার এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে।জিওব্যাগগুলোও যমুনার তীব্র ঘূর্ণাবর্ত স্রোতে তলিয়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বার বার জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।

টাঙ্গাইল সদর ও কালিহাতী উপজেলার সীমান্ত এলাকা উত্তর চরপৌলী ও আলীপুর গ্রামের অংশে অসমাপ্ত শেখ হাসিনা সড়ক(নর্দান প্রজেক্ট) রক্ষার জন্য ১০০মিটার এলাকায় ফেলা জিওব্যাগ তলিয়ে গিয়ে ভাঙনে সড়কটির ৫০০-৬০০মিটার নদীগর্ভে চলে গেছে।

কাকুয়া ইউনিয়নের উত্তর চরপৌলীর নুরুল ইসলামের দেড় একর জায়গায় স্থাপিত তাঁত ফ্যাক্টরি, ঠান্ডু মিস্ত্রির স’মিল, একই এলাকার আ. জলিল, আ. বাতেন, আব্দুস সামাদ, মো. ইসমাইল, মোতালেব হোসেন, আব্দুল খালেক প্রামাণিক, আব্দুল আলিম, আব্দুর রহিম,বাবুল মোল্লা, নুর আলম মোল্লা, আব্দুল্লাহ, আবু বকর, আব্দুল মান্নান, লালচান মিয়া, মেকাম্মেল হক, শামসুল আলম, শাহ আলম, নজরুল ইসলাম; দশখাদা ও হাটখোলা এলাকার নুরুন্নাহার বেগম, মিনা আক্তার, সোনা খা, শিবলু তালুকদার, আলেয়া বেগম;পানকোড়া ও কবরস্থানপাড়ার মন্টু শেখ, মো. রোশনাই মিয়া, আব্দুস ছবুর, আনছের মন্ডল, গোলাপ খা, আব্দুল গফুর মন্ডল ও আজিজ মন্ডল সহ শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি ভাঙনের শিকার হয়ে যমুনা গর্ভে চলে গেছে।

উত্তর চরপৌলী গ্রামের নুরুল ইসলাম জানান, দেড় একর জায়গায় তার তাঁত ফ্যাক্টরি ছিল। ফ্যাক্টরিতে ৫০টি পাওয়ারলোম চালু অবস্থায় ছিল।বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) রাতে যমুনার ভাঙনের কবলে পড়ে। তিনি শ্রমিকদের নিয়ে ফ্যাক্টরির তাঁতগুলো কোন রকমে সরিয়ে নিতে পারলেও ঘরটি নদীর পেটে চলে গেছে।

হাটখোলা এলাকার গৃহবধূ মিনা আক্তার জানান, তাদের ৬০ শতাংশের বসতবাড়ি ছিল। সাম্প্রতিক ভাঙনের শিকার হয়ে এখন ১২-১৩ শতাংশ ভূমির উপর মাত্র একটি ঘর টিকে আছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে সেটাও নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।তারা বর্তমানে চরপৌলী খামার পাড়া এলাকায় সরকারি খাস জমিতে বসবাসের জন্য ঘর নির্মাণ করছেন।

কবরস্থান পাড়ার আব্দুল গফুর মন্ডল ও আজিজ মন্ডল জানান, বুধবার(৭ জুলাই) বিকালে হঠাৎ যমুনা বিক্ষুব্ধ হয়ে প্রলয়ঙ্করী তান্ডব চালিয়ে মাত্র ৩০মিনিটের মধ্যে ৬০ শতাংশের বাড়িঘর নদীর পেটে চলে গেছে।তারা পাশের হাটে বাজার সদাই করাবস্থায় চিৎকার-চেচাঁমেচি শুনে দৌঁড়ে এসে দেখেন তাদের বাড়িঘর নেই। মুহুর্তের মধ্যে যমুনা গ্রাস করে নিয়েছে।

কাকুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, ভাঙনের শিকার হয়ে তার ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত ৩-৪দিনের ভাঙনে ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় গ্রাম চরপৌলীর বহু স্থাপনা ও বাড়িঘর যমুনার যমুনা গিলে খেয়েছে।পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙনরোধে জিওব্যাগ ফেললেও তা কোন কাজে আসছে না। তারা সদর উপজেলার মাহমুদ নগর ইউনিয়নের গোলচত্তর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, টাঙ্গাইলের চরাঞ্চলের বিশাল এলাকা প্রতিবছরই যমুনার ভাঙনের শিকার হয়। এ ভাঙনরোধে তিন বছর আগে একটি স্থায়ী বাঁধের প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।দীর্ঘ তিন বছরেও প্রকল্পটি অনুমোদন না হওয়ায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছেনা। জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০. জুলাই ২০২১ ০৩:২৮:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে করোনা পরিস্থিতি উর্দ্ধমূখী, নতুন করে ১৪৫ জন আক্রান্তঃ মৃত্যু ১ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে করোনা পরিস্থিতি উর্দ্ধমূখী, নতুন করে ১৪৫ জন আক্রান্তঃ মৃত্যু ১

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘন্টায় ৩৩৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৪৫ জনের দেহে  করোনা ভাইরাস  সনাক্ত হয়েছে। যা শতকরা ৪৩ দশমিক ২৮শতাংশ । এ ছাড়া করোনা আক্রান্ত হয়ে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দিঘলকান্দি ইউপি চেয়্যারম্যন মৃত্যু বরণ করেছেন ।টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের তথ্য মতে, আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ৮২ জন, কালিহাতীতে ৩৪ জন, মির্জাপুরে ৯ জন, দেলদুয়ারে ৪ জন, ধনবাড়িতে ১৪ জন ও ভূঞাপুরে ২ জন রয়েছেন।

এ নিয়ে  শুক্রবার( ১৮ জুন) সকাল পর্যন্ত জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৫৯৭০ জন। আরোগ্য লাভ করেছেন ৪৩৮৬ জন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪৪৮ জন। মোট কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৫১৬৪ জন।এ পর্যন্ত সর্বমোট মৃত্যু ৯৬ জন।

টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মোঃ শাহাবুদ্দিন জানান, গত একমাসে জেলায় করোনা ভাইরাসের প্রকপ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে গত এক সপ্তাহ যাবৎ ৩০ ভাগের বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে। আমরা কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছি। আগামী রবিবার( ২০ জুন) মিটিং এর মাধ্যমে লকডাউনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এদিকে শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দিঘলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। জানা যায়, ঘাটাইল উপজেলার নাটশালা নিবাসী ৬ নং দিঘলকান্দী ইউনিয়নের দুইবারের সফল বর্তমান চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম  শুক্রবার বেলা আনুমানিক ১১টার সময় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।  তার পরিবারের  বেশ কয়েকজন সদস্যও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. জুন ২০২১ ০১:০১:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে জুয়ার টাকা পরিশোধ করতে না পেরে আত্মহত্যা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে জুয়ার টাকা পরিশোধ করতে না পেরে আত্মহত্যা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের চর বিহারী গ্রামে জুয়ার টাকা পরিশোধ করতে না পেরে শরীফ(৩৫) নামে এক জুয়ারি বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) তার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

এর আগে বুধবার(১৬ জুন) রাতে তিনি বিষপান করায় স্বজনরা তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মৃত শরীফ ওই গ্রামের উখিলা শেখের ছেলে।

ভূঞাপুরের গাবসারা ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির জানান, শরীফ জুয়া খেলায় আসক্ত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে জুয়া খেলায় অংশ নিতেন। জুয়া খেলার কারণে জুয়ারিদের কাছে প্রায় ৭ লাখ টাকা ঋণ গ্রস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

ওই ঋণের টাকা বুধবার রাতেই পাওনাদার জুয়াড়িদেরকে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টাকা সংগ্রহ করতে না পেরে তিনি বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন।

ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. আব্দুল ওহাব মিয়া জানান, এ ঘটনায় কেউ কোন অভিযোগ করেনি। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৮. জুন ২০২১ ০১:১২:এএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুরের দায়ে আ’লীগ নেতা বহিষ্কার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুরের দায়ে আ’লীগ নেতা বহিষ্কার

একতার কণ্ঠঃ  টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. দুলাল হোসেন চকদারকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। স্থায়ীভাবে প্রাথমিক সদস্য পদ বাতিল করাসহ সংগঠনের সব কার্যক্রম থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুরের কারণে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

বুধবার(১৯ মে) বিকালে ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম তোতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওয়াদুল কাদের স্বাক্ষরিত গত ২৮ এপ্রিলের এক নোটিশে দুলাল চকদারকে বহিস্কার করা হয়। ওই নোটিশে বলা হয়েছে- টাঙ্গাইল জেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন চকদার দলীয় নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছেন এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর করেছে। এই মর্মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গণমাধ্যমে দুলাল চকদারের বিরুদ্ধে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হয়েছে- যার অনেক কিছুই প্রমাণিত।

বহিষ্কারের নোটিশে আরও বলা হয়েছে- সংগঠনবিরোধী উল্লেখিত কারণ ও দলীয় গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকায় প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। নোটিশটি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদক বরাবর অনুলিপি প্রেরণ করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম(ভিপি জোয়াহের) এমপি জানান, ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন চকদারকে বহিষ্কারের আদেশের অনুলিপি তারা হাতে পেয়েছেন। তাকে স্থায়ীভাবে সদস্য পদ বাতিল করাসহ সংগঠনের সব কার্যক্রম থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২০. মে ২০২১ ০৭:৫৮:পিএম ৫ বছর আগে
টাঙ্গাইলে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

একতার কণ্ঠঃ  টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় গার্মেন্টস কর্মীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও দুইজন।নিহতরা হলেন, উপজেলার গোবিন্দাসী গ্রামের ছানোয়ার হোসেনের ছেলে জয় (১৫) ও গোপালপুর উপজেলার ফুলবাড়ী গ্রামের মহসীন উদ্দিনের ছেলে রুবেল হোসেন (২৬)।

বুধবার (১২ মে) দুপুরে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহী জয় এবং উপজেলার ফলদা ইউনিয়নের সানক বয়ড়া এলাকায় গার্মেন্টসকর্মী রুবেল নিহত হন।

স্থানীয়রা জানান, নিহত জয় ও তার দুই বন্ধু মোটরসাইকেলে বঙ্গবন্ধু সেতুর দিকে যাওয়ার সময় উপজেলার কষ্টাপাড়া মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী করতোয়া পরিবহনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেল আরোহী জয় নিহত হন। আহত হন তার সঙ্গে থাকা দুই বন্ধু।

এছাড়া একই উপজেলার ফলদা ইউনিয়নের সানক বয়ড়া বাজারে সড়কের পাশে দাঁড়ানো গার্মেন্টস কর্মী রুবেলের উপর মাটি পরিবহন করা একটি হাইড্রোলিক ট্রাক উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যায়। পরে স্থানীয়রা ট্রাকসহ চালককে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করে। এরআগে, রুবেল ঈদ উপলক্ষে  বাড়ী যাওয়ার জন্য রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।

ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুয়েল  জানান, পৃথক দুইটি ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছে। এছাড়া সানববয়ড়া এলাকায় দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ট্রাকসহ চালককে আটক করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৩. মে ২০২১ ০২:৪০:এএম ৫ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।