/ হোম / আমাদের টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন।

রোববার (২২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের দেউলাবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের মুখ্য গাঙ্গাইর গ্রামের মো. আবুর ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. রনি (১৮) এবং ঘাটাইল উপজেলার কদমতলী এলাকার মেছের আলীর ছেলে শহিদুর রহমান (৩৫)।

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন জানান, বিকেলে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই মোটরসাইকেল চালক গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৩. অক্টোবর ২০২৩ ০৪:৩৬:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ছাত্রদল নেতার আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ছাত্রদল নেতার আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাকের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এটি এখন টক অফ দ্যা টাউনে পরিনত হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীর সঙ্গে তাঁকে অশোভন আচরণ করে ভিডিও কলে কথা বলতে। এ নিয়ে টাঙ্গাইল ছাত্রদলে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।

সদস্য সচিব রাজ্জাক (২৭) সদর উপজেলার ছিলিমপুর ইউনিয়নের বরুহা গ্রামের সিরাজুল হক সিরুর ছেলে।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে অনেকে মন্তব্য করেন যে, দল যেখানে বিভিন্ন আন্দোলন নিয়ে ব্যস্ত, সেখানে থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীদের সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও কলে ব্যস্ত।

ভাইরাল হওয়া ছাত্রদল নেতা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এটি একটি চক্র। প্রথমে আমার সাথে বন্ধুত্ব করে, তারপর উলঙ্গ হয়ে আমার সাথে ভিডিও কলে কথা বলেছে। সেগুলো স্ক্রিন রেকর্ড করে আমার কাছে টাকা চেয়েছে। সাথে এটাও বলেছে আমি যদি টাকা না দেই তারা আমার ভিডিও ভাইরাল করে দিবে। আমি টাকা দেইনি দেখেই এখন তারা সেই ভিডিও ভাইরাল করছে।

এবিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবদুল বাতেন বলেন, ভিডিওটি আমি দেখেছি। সে যেটা করেছে সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এবিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতাদের সাথে কথা বলতে চেয়েছি। কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই সরকার বিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনের কারনে কেন্দ্রের সবার সাথে কথা বলতে পারিনি। তবে খুব অচিরেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি ও সম্পাদকের সাথে কথা বলে তারা যে সিদ্ধান্ত দেয়, সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৩. অক্টোবর ২০২৩ ০৩:২২:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বেপরোয়া মোটরসাইকেলের গতি কেড়ে নিচ্ছে শিক্ষার্থীদের প্রাণ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বেপরোয়া মোটরসাইকেলের গতি কেড়ে নিচ্ছে শিক্ষার্থীদের প্রাণ

একতার কণ্ঠঃ কলেজ পড়ুয়া ছেলের কথা রাখতে বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেল কিনে দেন বাবা। এরপর ছয় মাসও যায়নি। শখের সেই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাতেই প্রাণ হারান সাব্বির আলম ও তার বন্ধু হামিদ।

গত ৪ জুন (রোববার) টাঙ্গাইলের মধুপুরের মহিষমারা ইউনিয়নের হাজিবাড়ি মোড়ে পৌঁছালে তাদের মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই সাব্বির ও হামিদ নিহত হয়। অপর বন্ধু সাদিক আহত হয়। সাব্বির পাশ্ববর্তী ঘাটাইল উপজেলার টেপিকুশারিয়া গ্রামের মো. সুরুজ্জামানের ছেলে। সে ঘাটাইল জিবিজি সরকারি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

সাব্বিরের বন্ধু হামিদ পার্শ্ববর্তী মানিকপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। সে ঘাটাইলের ছনখোলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

শুধু সাব্বির আলম নয়, তার মতো টাঙ্গাইলের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অনেক শিক্ষার্থী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিশোর ও উঠতি বয়সের ছেলেদের হাতে মোটরসাইকেল দেয়ার ফলে প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকেই। বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালানোর কারনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘটে চলছে দুর্ঘটনা। তবে গত এক বছরে কত জন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে তার কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি জেলা পুলিশ ও জেলা নিরাপদ সড়ক চাইসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে।

সাব্বিরের বাবা মো. সুরুজ্জামান বলেন, প্রথমে মোটরসাইকেল কিনে দিতে রাজি ছিলাম না। তারপরও ছেলের কথা রাখতে বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছিলাম। ছেলেরে শখ পূরণ করতে গিয়ে আজীবনের জন্য ছেলেকে হারালাম।

নিহত সাব্বিরের চাচা নুরুল ইসলাম বলেন, সাব্বির ছিল মা বাবার বড় সন্তান। নিহত হামিদের ছোট এক বোন ও এক ভাই রয়েছে। ছোট ভাইটি মানসিক প্রতিবন্ধী। ঘটনায় এখনও শোক কাটেনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, ওই সময় উভয়ের বাড়িতে স্বজনদের কান্নার রোল পড়ে। উভয়ের বাড়িতে করুণ দৃশ্যের অবতারণা হয়। ওই শোকটি এখন গ্রামের মানুষ কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

স্থানীয়রা বলছে, টাঙ্গাইল সদর, ঘাটাইল, বাসাইল সখিপুর, মধুপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় কিশোর মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। সড়কে বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে তারা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এসব নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ঘাটাইল থানা সূত্র জানায়, সাব্বির, হামিদ ছাড়াও গত ২১ মাসে ঘাটাইলে অন্তত ১৩ জন কিশোর-যুবক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। তারা সবাই বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের ঘাটাইল উপজেলার গুণগ্রামে দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের সঙ্গে অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কা লাগে। এতে ওই মোটরসাইকেল আরোহী সোনা মিয়া (২০), শামীম (২২) ও আলমগীর (৩০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তারা ঘাটাইলের একটি ওয়ার্কশপের শ্রমিক ছিলেন।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর একই সড়কের ঘাটাইলের বানিয়াপাড়া এলাকায় দ্রুতগামী মোটরসাইকেলের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কা লাগে। এতে মোটরসাইকেলের আরোহী সাকিম হাসান (১৭) ও সুমন (১৬) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তাঁরা দুজনেই ঘাটাইল গণ উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।

২০২১ সালের ৮ নভেম্বর ঘাটাইলের ধলাপাড়া চেয়ারম্যানবাড়ির মোড়ে দ্রুতগামী মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে তিনজন স্কুলছাত্র ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তারা হচ্ছে শরীফ (১৬) আবু বক্কর (১৭) ও সাইম (১৬)।

এ ছাড়া জেলায় প্রতিনিয়ত ঘটছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। যেসব দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে না, তার রেকর্ড থানা পর্যন্ত আসে না বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।

রোববার (২২ অক্টোবর) বিকেলে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কের ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলর মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহতের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের মুখ্য গাঙ্গাইর গ্রামের মো. আবু’র ছেলে মো. রনি (১৮) । নিহত রনি ঘাটাইল জিবিজি কলেজের ছাত্র ছিল। নিহত অপরজন হলেন, একই উপজেলার কদমতলী এলাকার মেছের আলীর ছেলে শহিদুর রহমান (৩৫)।

গত ১৭ মে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা (২৪) ক্যাম্পাসে ফেরার পথে কাগমারী এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়।

গত বছরের ২৫ নভেম্বর টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. রাসেল নিহত হয়।

জেলা পুলিশ জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৬৩ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯২ টি মামলা হয়েছে। এতে ১৩৪ জন নিহত ও ১০৭ জন আহত হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ঘাটাইলে অন্যান্য উপজেলার তুলনায় বেশি মোটরসাইকেল চললেও এখানে ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্টের পদে কোনো কর্মকর্তা নেই। ট্রাফিক বিভাগ একজন শহর উপপরিদর্শক (টিএসআই) ও তিন জন ট্রাফিক কনস্টেবল দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের কার্যক্রম উপজেলা সদরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

টাঙ্গাইলের সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদা বলেন, অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। স্কুল কলেজ পড়ুয়া সন্তানদের মোটরসাইকেল ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।

জেলা নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ঝান্ডা চাকলাদার বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় যারা মারা যায়, তাদের বেশির ভাগই কিশোর ও যুবক। রেজিষ্ট্রেশন ও লাইনেন্সবিহীন বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারনে দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অনেক বাবা মার বুক খালি হচ্ছে। তবে জেলায় এক বছরে কত গুলো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ও কত জন প্রাণ হারিয়েছে তার কোন তথ্য নেই।

তিনি আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনারোধে অভিভাবক, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৩. অক্টোবর ২০২৩ ০২:৪৩:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে সংকুচিত হয়ে আসছে খেলার মাঠ, শিশু-কিশোররা ঝুঁকছে অনৈতিক কাজে - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে সংকুচিত হয়ে আসছে খেলার মাঠ, শিশু-কিশোররা ঝুঁকছে অনৈতিক কাজে

একতার কণ্ঠঃ ১৩৬ বছরের প্রাচীন ২৯.৪৩ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে খেলার মাঠ। বিগত ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যেই পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে হারিয়ে গেছে ১৬টি খেলার মাঠ। আরও বেশ কয়েকটি খেলার মাঠ হারাতে বসেছে। বর্তমানে বিভিন্ন ওয়ার্ডের শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য সচেতন পৌর বাসিন্দাদের খেলাধুলা ও শরীর চর্চা করার মাঠগুলোতে গড়ে উঠেছে বড় বড় আকাশচুম্বী অট্টালিকা। কোন কোন মাঠে কাঁচা বাজার বসানো হয়েছে। আবার অনেক মাঠের জায়গার মালিকেরা প্লট আকারে বিক্রি করে দিয়েছেন তাঁদের ব্যক্তিগত জায়গা।

আবার কোন মাঠে বছর জুড়ে বানিজ্য মেলাসহ রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানেই ব্যস্ত থাকে। যে কারণে উঠতি বয়সী ছেলে মেয়েরা খেলাধুলার সুযোগ পাচ্ছে না। এতে অভিভাবকরা যেমন আতঙ্কিত তেমনি সুশীল সমাজের নাগরিকেরাও শংকিত। আর এসবের জন্য বিশেষজ্ঞরা দায়ী করছেন বর্তমান সমাজ ব্যবস্থাকে।

এছাড়া পৌর শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে যে কয়টি খেলার মাঠ এখনো রয়েছে সেগুলোও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) তাঁদের গবেষণায় বলছে, শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রতিদিন ন্যূনতম ১ ঘন্টা করে খেলাধুলা ও শারীরিক সক্রিয় কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত থাকা প্রয়োজন।

টেকসই নগরায়ন-সংক্রান্ত জাতিসংঘের সংস্থা ইউএন-হ্যাবিটেটের মতে, হাঁটার দূরত্বে খেলার মাঠ থাকা উচিত। অতিঘন নগর এলাকায় প্রতি অর্ধবর্গ কিলোমিটারে জনসংখ্যা বিবেচনায় ন্যূনতম একটি করে খেলার মাঠ থাকা প্রয়োজন।

পর্যাপ্ত মাঠ না থাকায় টাঙ্গাইল পৌর শহরের উঠতি বয়সের শিশু-কিশোর ও যুবকেরা খেলাধুলার সুযোগ না পেয়ে ধীরে ধীরে ঝুঁকে পড়ছে মোবাইল গেমসহ বিভিন্ন ধরনের অনলাইন জুয়ায়। এলাকাভিত্তিক রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তৈরি হচ্ছে কিশোরগ্যাং। বাড়ছে পৌর এলাকায় অপরাধমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড।

জেলা প্রশাসন, পৌর পিতাসহ টাঙ্গাইলের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের এ বিষয়ে নেই কোন মাথাব্যথা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ১৩নং ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি খেলার মাঠের জায়গায় বসতভিটা গড়ে উঠেছে। এই ওয়ার্ডের থানাপাড়া এলাকার রেঞ্জার মাঠ, সবুজ সেনা মাঠ, থানাপাড়া ইস্টার্ন ক্লাব মাঠের (বাবুর্চির মাঠ) জায়গায় ইতিমধ্যে বসতি গড়ে উঠেছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন এইসব মাঠগুলোর এখন আর অস্তিত্ব নেই। ঘনবসতিপূর্ণ এই ওয়ার্ডে ৩টি খেলাধুলার ক্লাব থাকলেও তাদের কোন খেলার মাঠ নেই।

২নং ওয়ার্ডের ঠাকুর বাড়ির মাঠটি মালিকানা দ্বন্দ্বে এলাকার শিশু-কিশোরদের ওই মাঠে খেলাধুলা প্রায় বন্ধ। স্থানীয়দের আন্দোলনের মুখে, বর্তমানে শিশু-কিশোররা ওই মাঠে খেলাধুলার সুযোগ পাচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে ওই মাঠের জায়গা প্লট আকারে বিক্রির আলোচনা চলছে।

৩নং ওয়ার্ডের মির্জা মাঠ ও হাউজিং মাঠে নিকট অতীতে ওই এলাকার শিশু-কিশোররা খেলাধুলা করতো। এছাড়া সকাল ও বিকালে স্বাস্থ্য সচেতন লোকজন শরীরচর্চা করতো এই মাঠ দুটিতে। বর্তমানে মাঠ গুলোতে বসতি গড়ে উঠেছে।

৬নং ওয়ার্ডের কলেজ পাড়ার বালুর মাঠে গড়ে উঠেছে বিশাল বিশাল ইমারত। একই এলাকার পানির ট্যাংকের মাঠে এখন আর শিশু-কিশোরদের প্রবেশ অধিকার নেই। দক্ষিণ কলেজ পাড়ার বড় বড় চক গুলোতে এক সময় ওই এলাকার শিশু-কিশোররা খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকতো। বর্তমানে সেখানে গড়ে উঠেছে বসতি।

১১নং ওয়ার্ডের খালপাড় মাঠে এখন গড়ে উঠেছে বসতি। ফলে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত মাঠ নেই এই ওয়ার্ডে।

টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ১৬নং ওয়ার্ডের ছোট কালিবাড়ী খেলার মাঠ ও কেওছার মাঠের এখন আর অস্তিত্ব নেই। এছাড়া নজরুল সেনা মাঠের জায়গায় গড়ে উঠেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান। এই ওয়ার্ডের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ মাঠে এক সময় টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন এলাকার শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি খেলাধুলা ও শরীরচর্চায় ব্যস্ত থাকতো। বর্তমানে এই মাঠের অধিকাংশ জায়গা জুড়ে বসেছে ট্রাকস্ট্যান্ড। ফলে শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের লোকজন শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই মাঠটি খেলাধুলা ও শরীরচর্চার জন্য এখন আর ব্যবহার করতে পারছে না। এই ওয়ার্ডের আউটার স্টেডিয়ামে ৮টি কংক্রিটের ক্রিকেট পিচ রয়েছে। কিন্তু বছরের প্রায় সময়ই এই জায়গায় বাণিজ্য মেলাসহ বিভিন্ন ধরনের মেলার আয়োজন করা হয়। ফলে বছরের অধিকাংশ সময় জেলা টিমের ক্রিকেটারসহ বিভিন্ন বয়সের ক্রিকেটারগণ অনুশীলনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকেন।

১৭নং ওয়ার্ডের শিমুলতলী এলাকার বালুর মাঠে এখন গড়ে উঠেছে বসতি ও বিভিন্ন ধরনের ফল ও গাছের বাগান।

১৮নং ওয়ার্ডের কোদালিয়া মাঠটি এখন শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একাডেমিক ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া একই ওয়ার্ডের সাবালিয়া এলাকার ফুলকুঁড়ি মাঠটি অনেক আগেই তার অস্তিত্ব হারিয়েছে।

শহরের নামকরা একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্র জিসান আহমেদের (ছদ্মনাম) সাথে এই প্রতিবেদকের কথা হয় শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে। জিসান জানান, বিকেল থেকে অনেক রাত পর্যন্ত বন্ধুদের সাথে পৌর উদ্যানে আড্ডা দেন তিনি। এক সময় তার ওয়ার্ডে ৩টি খেলার মাঠ থাকলেও বর্তমানে কোন খেলার মাঠ নেই। ফলে খেলাধুলার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেকটা বাধ্য হয়েই পৌর উদ্যানে এসে আড্ডা দেন তিনি।

শহরের আরেকটি স্বনামধন্য বেসরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র রাতিন খানের (ছদ্মনাম) সাথে এই প্রতিবেদকের কথা হয় টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ মাঠে অবস্থিত বাঁশ বাজারে । রাতিন বলেন, তিনি একাদশ শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। তার এলাকায় মাঠ না থাকায় কোন ধরনের খেলাধুলার সুযোগ পাননি তিনি। মাদকাসক্তির পাশাপাশি তিনি অনলাইন জুয়ায় (ক্রিকেট বেটিং) আসক্ত হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তিনি অনেক টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে হতাশায় ভুগছেন। তিনি আফসোস করে বলেন, তার এলাকায় খেলাধুলার মাঠ অথবা খেলাধুলার কোন ক্লাব থাকলে তিনি হয়তো এসবের মধ্যে নিজেকে জড়াতেন না।

সরকারি সৈয়দ মহাব্বত আলী কলেজর সহকারী অধ্যাপক মো. শাহজাহান মিয়া একতার কণ্ঠকে বলেন, পৌর শহরে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ না থাকার ফলে শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা ধীরে ধীরে ঝুঁকে পড়ছে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন গেম ও জুয়াতে।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া একশ্রেণীর উঠতি বয়সী শিশু-কিশোর মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। এদের এসবের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য পৌর এলাকায় শিশু-পার্ক ও খেলার মাঠের কোন বিকল্প নেই। পৌর শহরে যে কয়টি খেলার মাঠ এখনো অবশিষ্ট আছে সেগুলো রক্ষা করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস,এম সিরাজুল হক আলমগীর একতার কণ্ঠকে বলেন, ব্যক্তি মালিকানাধীন মাঠগুলোর ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষের করণীয় কিছু নেই। তবে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্, জেলা পরিষদ মাঠ ও শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজের জন্য কিছু জিনিসপত্র রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী ১ মাসের মধ্যেই মাঠগুলো পরিষ্কার করে আবার খেলাধুলার উপযোগী করা হবে। এছাড়া ৩নং ওয়ার্ডের হাউজিং স্টেটে শিশু-কিশোরদের জন্য একটি খেলার মাঠ তৈরি করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে।

টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেন একতার কণ্ঠকে বলেন, পৌরসভার নিয়ন্ত্রণাধীন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ মাঠ, জেলা পরিষদ মাঠ, কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ মাঠ ও জেলখানার পাশে যে মাঠটি রয়েছে আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা হচ্ছে মাঠগুলোতে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার উপযুক্ত করে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা। বিশেষ করে শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ মাঠটি শুধুমাত্র শিশু-কিশোরাই খেলাধুলা করে না। এখানে স্বাস্থ্য সচেতন বিভিন্ন বয়সের লোকজন সকাল বিকাল শরীর চর্চা করে থাকেন। ঈদগাহ্ মাঠকে যত দ্রুত সম্ভব খেলাধুলার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। ইতিমধ্যে আমি এ বিষয়ে পৌর মেয়রের সাথে আলোচনা করেছি।

তিনি আরও বলেন, শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও মানসিক বিকাশের জন্য টাঙ্গাইল পৌর শহরের অদূরে দাইন্যা ইউনিয়নের বাসাখানপুরে নির্মিত হচ্ছে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন বলেই দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম তৈরীর প্রকল্প হাতে নিয়েছেন তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২২. অক্টোবর ২০২৩ ০২:২৭:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে তৌহিদী জনতার বিক্ষোভ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে তৌহিদী জনতার বিক্ষোভ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে তৌহিদী জনতা শুক্রবার (২০ অক্টোবর) বাদ জুমা ইসরাইলী আগ্রাসনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের উপরে অবৈধ দখলদার ইসরায়েলের নৃশংস হত্যাযজ্ঞ ও অমানবিক নির্যাতন বন্ধের দাবিতে ওই বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।

ভূঞাপুরে উপজেলা ইমাম ও কওমী উলামা পরিষদের ব্যানারে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। ফিলিস্তিনে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতন বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন, প্লে-কার্ড ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু’র প্রতিকৃতিতে জুতার মালা ঝুলিয়ে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

মিছিল পরবর্তী সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- ভূঞাপুর উপজেলা ইমাম পরিষদের সভাপতি মুফতি শহিদুল ইসলাম ভূঞাপুরী, সাধারণ সম্পাদক আন্দীপুরী, ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলনা সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. অক্টোবর ২০২৩ ০৩:৫৬:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে স্ত্রী ফিরে না আসায় স্বামীর আত্মহত্যা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে স্ত্রী ফিরে না আসায় স্বামীর আত্মহত্যা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে হাকিম মিয়া (৩৫) নামের এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। স্ত্রী বাবার বাড়ি গিয়ে আর ফিরে না আসায় তিনি এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (১৮ অক্টোবর) রাতে পৌর এলাকার বাওয়ার কুমারজানি মহিলা কলেজ পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত হাকিম মিয়া উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের আড়াইপাড়া গ্রামের ফটু মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি অটোরিকশার চালক ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ জানায়, হাকিম মিয়া স্ত্রীকে নিয়ে মহিলা কলেজ পাড়ার একটি বাসার দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। এক সপ্তাহ আগে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে স্ত্রী বাপের বাড়ি গাইবান্ধায় চলে যান।

অটোরিকশা বিক্রি করে দুই দিন আগে হাকিম স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে শ্বশুরবাড়িতে যান। কিন্তু স্ত্রী ফিরে না আসায় বুধবার রাতে তিনি আত্মহত্যা করেন। এর আগে মা-বাবাকে তিনি মোবাইলে আত্মহত্যা করার কথা জানান। খবর পেয়ে পুলিশ রাত আড়াইটার দিকে ওই বাসার ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় হাকিমের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

মির্জাপুর থানা পরিদর্শক (তদন্ত) মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২০. অক্টোবর ২০২৩ ০৩:২৮:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইল থেকে সমাবেশে যাওয়ার পথে আটক বিএনপি’র ২৫ নেতা-কর্মী কারাগারে - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল থেকে সমাবেশে যাওয়ার পথে আটক বিএনপি’র ২৫ নেতা-কর্মী কারাগারে

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ২৫ জন নেতা-কর্মীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা ঢাকায় বিএনপি’র মহাসমাবেশে যাওয়ার পথে বুধবার (১৮ অক্টোবর) সকালে আশুলিয়ায় আটক করা হয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে ঘাটাইল থানার একটি পুরোনো নাশকতার মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে টাঙ্গাইল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠিয়ে দেন। ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার ওই ২৫ জনের সবাই ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ও দেওপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মী বলে স্থানীয় বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন। তাদের বহনকরা বাস সকাল ৭টার দিকে আশুলিয়া এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ থামিয়ে তল্লাশি করে। পরে পুলিশ বাসসহ সবাইকে আশুলিয়া থানায় নিয়ে যায়।

ঘাটাইল পৌর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন জানান, ঢাকায় মহাসমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য আটটি মিনিবাস নিয়ে বুধবার ভোরে তাঁরা ঘাটাইল থেকে রওনা হন। তাঁদের সাতটি বাস ঢাকায় চলে যায়। একটি বাস সকাল ৭টার দিকে আশুলিয়ায় পৌঁছালে পুলিশ থামিয়ে তল্লাশি করে। গাড়িতে থাকা নেতা-কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে নিশ্চিত হন, তাঁরা মহাসমাবেশে যাচ্ছেন। পরে পুলিশ বাসসহ সবাইকে আশুলিয়া থানায় নিয়ে যায়। বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে তাঁদের ঘাটাইল থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিএনপি’র নেতারা জানান, গত বছরের ২২ নভেম্বর ঘাটাইল থানার উপপরিদর্শক মো. বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে নাশকতার চেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনে বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছিলেন। মামলায় ৩৫ জন বিএনপি নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। এর মধ্যে সাত নেতা-কর্মীকে ওই দিনই গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় অভিযোগ আনা হয়, আসামিরা ঘাটাইলের কাশতলা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নাশকতার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গেলে তাঁরা পুলিশের দিকে ককটেল নিক্ষেপ করেন।

বিএনপি’র নেতারা আরও জানান, ওই দিন এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের ‘গায়েবি’ মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২০. অক্টোবর ২০২৩ ০৩:২১:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে খলিল মন্ডল (৪০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার আলমনগর ইউনিয়নের কুমুল্লী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

খলিল মন্ডল একই গ্রামের আব্দুল খালেক মন্ডলের ছেলে।

স্থানীয় ও স্বজনরা জানায়, খলিল কৃষিকাজ করতে গিয়ে দুপুরের দিকে ক্লান্ত হয়ে পড়লে মাঠের একটি সেচপাম্প ঘরের একপাশে ছায়ায় গিয়ে বসে। তার কিছুক্ষণ পর ওই ঘরের টিনের বেড়ার সাথে গা লাগিয়ে হেলান দেওয়ার সাথে সাথে তার শরীর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। বিষয়টি স্থানীয়রা দেখে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জিয়াউল মোর্শেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে ওই ব্যক্তির মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. অক্টোবর ২০২৩ ০২:৪৭:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হাসানের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে ছাত্রলীগের একাংশ। এরআগে সোমবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধায় শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হাসানের উপর হামলার ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) সকালে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের গুরত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্থানীয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়।

সভায় শহর ছাত্রলীগের সভাপতি মীর ওয়াছেদুল হক তানজীল, সখীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রাসেল আলম মামুন, যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম হৃদয়, সখীপুর শহর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান, এলেঙ্গা পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. মিজান, ঘাটাইল পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তপু চন্দ্র ঘোষ, টাঙ্গাইল টেক্সাইল ইন্সটিটিউটের সভাপতি আকাশ আহমেদ সূর্য, সাধারণ সম্পাদক মীর আজিজ, টাঙ্গাইল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের সাধারণ সম্পাদক মুক্তার দুর্জয়, ভূঞাপুর ইব্রাহিম খাঁ সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হায়দার আলী, ভূঞাপুর শহর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান চকদার প্রমুখ অংশ নেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হাসান অভিযোগ করে বলেন, টাঙ্গাইল শহর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনি কারাগারে যাওয়ার আগে তাকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গেলে বড় মনির ৪ থেকে ৫ জন অনুসারী তার উপর হামলা করে। জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল শহর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনি জানান, একটি সাজানো যৌন নিগ্রহের মামলায় তিনি সবেমাত্র জামিনে মুক্ত হয়ে অসুস্থাবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। এরই মধ্যে অপর একটি ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের উপর হামলার বিষয়টি তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে ঘটে থাকতে পারে। এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। অহেতুক তাকে দোষারোপ করে একটি মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৮. অক্টোবর ২০২৩ ০৩:৫৫:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে বৃদ্ধের মৃত্যু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে বৃদ্ধের মৃত্যু

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে বংশাই নদীতে ডুবে শাজাহান আলী (৬০) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। ১৭ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বংশাই নদীর বিএডিসি এলাকার গোঁজা খালে ঘটনাটি ঘটেছে ।

নিহত শাজাহান আলী আউশনারা ইউনিয়নের বেলচুঙ্গি গ্রামের মৃত মসলিম উদ্দিন মসলতের ছেলে।

মৃতের স্বজনরা জানান, সারা বছরই মাছ ধরার নেশা ছিলো শাজাহান আলীর। মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে ছেলে হাফিজুরকে সাথে নিয়ে বংশাই নদীতে মাছ ধরতে যায়। জাল টানার জন্য নদীতে নেমে জালের বাঁশ সরিয়ে নেয়ার সময় পানিতে ডুব দেয় শাহজাহান আলী। পরে ডুব দিয়ে না উঠায় তার ছেলে নদীতে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে স্থানীয়দের খবর দিলে তারাও খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলের একটু অদূরে তার মরদেহ ভেসে উঠে এবং উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে যায়।

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা মো. আজিজুর রহমান শাহজাহান আলীর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে জানান, নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৮. অক্টোবর ২০২৩ ০২:৪৩:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ডেঙ্গু জ্বরে গৃহবধূর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৪২ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ডেঙ্গু জ্বরে গৃহবধূর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৪২

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) ডেঙ্গুজ্বরে মাকসুদা(৪৩) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তিনি নাগরপুর উপজেলার বাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা।

এ নিয়ে এ মৌসুমে টাঙ্গাইলে ১৩ জন ডেঙ্গুজ্বরে মৃত্যুবরণ করেছে। টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪২ জন রোগী ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা চার হাজার ১৯২ জন। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৯ জন ডেঙ্গু রোগী।

এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন চার হাজার ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী। এ পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী মারা গেছেন।

তিনি আরও জানান, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ১৭ জন, নাগরপুরে ৩ জন, মির্জাপুরে ১২ জন, মধুপুরে ৪ জন ও ধনবাড়ী উপজেলায় ৬ জন রয়েছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৮. অক্টোবর ২০২৩ ০১:৫১:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে দৈনিক কালবেলা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে দৈনিক কালবেলা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক কালবেলার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার (১৬ অক্টোবর) আলোচনা সভা ও কেক কাটার আয়োজন করা হয়।

টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) আইরিন আক্তার।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. শরফুদ্দীন, র‌্যাব-১৪ টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসাদুল আখতার শামীম, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া।

অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদের সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, দৈনিক কালবেলার জেলা প্রতিনিধি মো. আবু জুবায়ের উজ্জল।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দৈনিক কালবেলা পত্রিকা নবযাত্রার প্রথম বছর অতিক্রম করে দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ করেছে। পত্রিকাটি এই অল্প সময়ে মানুষের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৭. অক্টোবর ২০২৩ ০২:১৮:এএম ৩ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।