একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পরকীয়া প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে ৩ দিন ধরে অবস্থান করছেন তিন সন্তানের জননী। শনিবার (১৪ অক্টোবর) থেকে পরকীয়া প্রেমিক যুবক আবুল হোসেনের বাড়িতে অবস্থান করছেন ওই নারী। এ ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত যুবক গা ঢাকা দিয়েছেন।
অভিযুক্ত পরকীয়া প্রেমিক আবুল হোসেন উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার হিজুলী গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে। তিনি ওয়ালটন কোম্পানিতে কর্মরত আছেন।
ভুক্তভোগী নারী জানান, প্রায় ৭ বছর ধরে আবুল হোসেনের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার আমাদের শারীরিক সম্পর্ক হয়। কোনো উপায়ন্তর না দেখে বিয়ের দাবিতে অবস্থান করছি।
স্থানীয় কাউন্সিলর মুক্তার আলী জানান, ছেলের সঙ্গে ওই নারীর ঘটনার বিষয়ে মীমাংসা করে দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত হয়নি। চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুজ্জামান মনির জানান, এ ঘটনায় কেউ এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেল স্টেশন থেকে ভূঞাপুর রেল স্টেশন পর্যন্ত বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে করে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ভূঞাপুর, গোপালপুর ও বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলসহ পাঁচ জেলার মানুষ। এছাড়াও পণ্য পরিবহনেও ভোগান্তি পোঁহাতে হচ্ছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, যমুনা নদীর ওপর নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেল সেতু কাজ চলছে। এরঅংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেল স্টেশনের রেল লাইন আধুনিকতায়ন ও প্রশস্ত করণ কাজে যাতে বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য ভূঞাপুর রেল স্টেশন থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেল স্টেশন পর্যন্ত যোগাযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ রোডে চলাচলরত জামালপুরের রেলযাত্রী আব্দুর রহমান মিয়া, হাসান আলী বলেন, ৬ মাস ধরে ভ‚ঞাপুর রেল স্টেশন থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পর্যন্ত রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। যার কারণে সরাসরি জামালপুর থেকে সেতু পর্যন্ত যেতে পারি না। এতে করে বিকল্প পথে গন্তব্য যেতে অতিরিক্ত খরচ ও সময় ব্যয় হয়।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেল স্টেশনের ইনচার্জ রেজাউল করিম বলেন, সেতু পূর্ব এলাকায় রেললাইন ডিজিটাল করার লক্ষে গত ১৫ এপ্রিল থেকে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলস্টেশন থেকে ভূঞাপুর স্টেশন পর্যন্ত সাময়িক রেল যোগাযোগ বন্ধ রেখেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। কাজ সম্পন্ন শেষে পুনরায় চালু হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের এক সময়ের খরস্রোতা নদী লৌহজং। যা টাঙ্গাইল শহরের পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে গেছে। সময়ের বিবর্তনে নদীটি এখন অবৈধ দখলদারদের দখলে।
প্রতিনিয়ত পড়ছে দূষণের কবলে। ভরা মৌসুমে ঢেকে আছে কচুরিপানায়। নাব্যতা হারিয়ে পরিণত হয়েছে মরা খালে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় নদীটি যেমন জেলার অংশীদার ছিল তেমনি শোভাবর্ধন করেছিল জেলা শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেরও।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের কাশিনগর এলাকায় ধলেশ্বরী নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ লৌহজং নদী জেলা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে জেলার মির্জাপুর উপজেলার বংশাই নদীতে পড়েছে। এক সময় এই নদীকে কেন্দ্র করে শহরের নিরালা মোড় এলাকায় নৌবন্দর ছিল। দেশ-বিদেশ থেকে লঞ্চ, স্টিমার, জাহাজ ও বড় বড় নৌকা বাণিজ্যে আসতো এই নৌবন্দরে। মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ ছিল এখানে। বর্তমানে এসবের কিছুই নেই।
উজানে যমুনা ও এর শাখা ধলেশ্বরীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়ে লৌহজং নদীতেও। ফলে নাব্যতা হারাতে থাকে নদীটি ফলে বন্ধ হয়ে যেতে থাকে বড় নৌকার চলাচল।

পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা কর্ম পরিকল্পনার (ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যান/ ফ্যাপ-২০) অধীনে ১৯৯১ সালে সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের কাঠুয়া যোগিনীতে লৌহজং নদীতে স্লুইস গেট নির্মাণ করায় মরে যেতে শুরু করে নদীটি। শুকিয়ে যাওয়ার ফলে এর তীর দ্রুত দখল হয়ে যেতে শুরু করে। শুরু হয় ঘর নির্মাণ ও ধান ও সবজি চাষ।
পাশাপাশি, পৌর এলাকার বসতবাড়ি থেকে নির্গত ময়লা পানি, আবর্জনা ও বিসিক শিল্প এলাকার কয়েকটি কারখানা ও সদর উপজেলার ক্ষুদিরামপুরে টেক্সটাইল মিল থেকে নির্গত বর্জ্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নদীটিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করতে থাকে। লৌহজংয়ের পানি মানুষ ও গবাদি পশুর ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়ে। নদীর জলজ প্রাণীও বিলুপ্ত হয়ে যায়।
দীর্ঘদিন যাবৎ ড্রেজিং না করায় নদীটি তার নাব্যতা হারিয়েছে। এই সুযোগে দুই পাড়ের সুবিধাবাদী মহল কৌশলে প্রথমে ময়লা আবর্জনা ফেলে দখল করেছে। পরবর্তীতে স্থায়ী ভবন, দেয়াল ও স্থাপনা নির্মাণ করে নদীটি দখল করেছে।
নদীটি দূষণ ও দখলমুক্ত করার জন্য ২০১৬ সালে আন্দোলনে নামে স্থানীয়রা। ওই বছরের ২৯ নভেম্বর নদীটি দূষণ ও দখলমুক্তকরণ শুরু করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন। শহরের পুলিশ লাইনস হাজরাঘাট এলাকা থেকে বেড়াডোমা ব্রিজ পর্যন্ত চার কিলোমিটার দূষণ ও দখলমুক্ত করা হয়। এরপর তিন বছরের মাথায় এ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরই ফাঁকে অবৈধ দখল আর দূষণে ফিরে যাচ্ছে আগের রূপে। কলকারখানার বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে নদীর পানি। নদীর স্বাভাবিক গতি হারিয়ে সরু খালে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে নদীটি কচুরিপানায় ভর্তি। পানি থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এতে নদীর দুই পাড়ের পরিবেশ চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। প্রভাব পড়ছে পুরো জীববৈচিত্র্যে। নদীটি দখল ও দূষণমুক্ত করার দাবি স্থানীয়দের।
২০২০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত সচিব ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিচালক মাহবুব হোসেন।

শহরের প্যারাডাইস পাড়া এলাকার বাসিন্দা আরমান কবীর জানান, ১৫ বছর আগেও যে নদীতে গোসল ও গৃহস্থালি কাজ করতাম, সেই নদীর পানি বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী। নদীতে মাছ তো দূরের কথা, পানিতে বসবাসকারী কোনও পোকাও থাকে না। নদীটি উদ্ধার কার্যক্রম শুরুর পর দখলমুক্ত হলেও কার্যক্রম না থাকায় আবার নদীর পাড়ের বাসিন্দারা কৌশলে দখলের চেষ্টা করছে।
শহরের আকুর টাকুর পাড়া এলাকার সাহান হাসান বলেন, বিভিন্ন কারখানার বর্জ্য ফেলে নদীটি বিভিন্নভাবে দূষণ করা হচ্ছে। পানি থেকে পচা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। নদীটি উদ্ধারে কার্যক্রম শুরু হলেও আবার বন্ধ হয়ে যায়। এটি উদ্ধার হলে টাঙ্গাইল শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়বে। তাই নদীটি উদ্ধারের জোর দাবি জানাচ্ছি।
টাঙ্গাইল নদী, খাল-বিল, জলাশয়, বন ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রতন সিদ্দিকী জানান, লৌহজং নদী উদ্ধারে ২০১৬ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেনের নেতৃত্বে টাঙ্গাইলের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে অভিযান শুরু হয়। এই নদী উদ্ধারে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলাম। ওই সময় তিনি আমাদের নদীটি উদ্ধারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এজন্য আমরা আর আন্দোলনে যাইনি। বর্তমানে নদীটি পুনঃখননের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডে অনুমোদিত হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বিভাগীয় সমন্বয়কারী গৌতম চন্দ্র বলেন, কয়েক বছর যাবৎ লৌহজং নদীর উদ্ধার কার্যক্রম থমকে আছে। বিষয়টি নিয়ে এনজিও সমন্বয় সভায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ পরিবেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। বর্তমানে আইন লঙ্ঘন করে নদী দখল করা হচ্ছে। এ ছাড়াও শহরের বিভিন্ন ড্রেনের লাইন নদীতে দেওয়া আছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারাও ময়লা আবর্জনাসহ বাসায় টয়লেটের লাইন নদীতে দিয়ে দূষণ করছেন। নদী দখল ও দূষণে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জড়িত। নদীটি উদ্ধারে যথাযথ আইন প্রয়োগ করা প্রয়োজন।

টাঙ্গাইল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, লৌহজং নদীটি পুনঃখননের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো আছে। অনুমোদন পেলে নদীটি খনন করা হবে। এ ছাড়াও ধলেশ্বরীসহ সংযুক্ত কয়েকটি নদী পুনঃখননের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো আছে।
জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম জানান, লৌহজং নদী উদ্ধার কার্যক্রম আগামী জানুয়ারি মাস থেকে শুরু করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঘরে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। পরে ফায়ার সার্ভিস এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
রবিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে জেনারেল হাসপাতালের আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঘরের মাঝে এ আগুনের ঘটনা ঘটে।
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার ইদ্রিস আলী জানান ,খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছি। এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলা যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুন লাগতে পারে। যে জায়গায় আগুন লেগেছে সেখানে বড় মাইক্রোওয়েভ মেশিন দিয়ে মেডিকেল বর্জ্য পোড়ানো হয়।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে তদন্ত কমিটি গঠন করে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানানো হবে।
একতার কণ্ঠঃ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণ, সংসদ বিলুপ্ত ও ১দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষে কেন্দ্রিয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলে অনশন কর্মসূচী পালন করেছে জেলা বিএনপি।
শনিবার (১৪ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শহরের বেপাড়ীপাড়া ঈদগাহ্ মাঠ প্রাঙ্গনে এ অনশন কর্মসূচী পালন করা হয়।
এসময় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারন সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল প্রমুখ।
পরে টাঙ্গাইল জেলা বার সমিতির সভাপতি এডভোকেট মাঈদুল ইসলাম শিশির, জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরামের আহ্বায়ক ফায়জুর রহমান ফায়েজ, জেলা বার সমিতির সাবেক সভাপতি এডভেকেট শফিকুল ইসলাম রিপন অনশনরত নেতাকর্মীদের পানি পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান।
অনশনে জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি আতাউর রহমান জিন্নাহ, বিএনপি নেতা আবুল কাশেম, কাজি শফিকুর রহমান লিটন, জেলা শ্রমিকদলের সাধারন সম্পাদক একেএম মনিরুল হক মনির, জেলা যুবদল আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি তারিকুল ইসলাম ঝলক, জেলা মহিলাদলের সভাপতি নিলুফার ইয়াসমিন, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, শহর বিএনপির সভাপতি মেহেদীহাসান আলীম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি দূর্জয় হোড় শুভসহ বিভিন্ন উপজেলার সভাপতি-সম্পাদক ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পর্যন্ত পরিবহনের মাধ্যমে চোরাই মালামাল লোড-আনলোড করে গুদামজাত ও স্থানান্তর করে একটি চক্র চোরাই মালের রমরমা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
জানা গেছে, ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের পূর্বপাড় থেকে এলেঙ্গার ভাবলা, সল্লা, আনালিয়াবাড়ীর বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাক, বাস, লড়িসহ বিভিন্ন পরিবহনে আনা চোরাই মালামাল লোড-আনলোড ও ক্রয়-বিক্রয়ের নিরাপদ পয়েন্ট হিসাবে বেছে নিয়েছেন চোরাকারবারিরা। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত ওই সকল পয়েন্টে প্রকাশ্যে চলে চোরাই মাল লোড আনলোড ও ক্রয় বিক্রয়ের কারবার।
দীর্ঘদিন ধরে চোরাই ব্যবসায়ীরা তাদের মালামাল গুদামজাত করার জন্য চরভাবলা ও বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বপাড়ে রেল স্ট্রেশন এলাকায় বেশ কয়েকটি ঘর ভাড়া নিয়ে গোডাউন হিসাবে ব্যবহার করে নিরাপদে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। এই চক্রটি ট্রাক, বাস, লড়িতে করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রড, স্টীলসীট, কেরোসিন ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, গম, ভুট্টা, আদা রসুন, জিরা, এলাচ, লংসহ মশলা জাতীয় পণ্য, ভারতীয় শাড়ী এমনকি বিভিন্ন নেশা জাতীয় পণ্যে এনে জেলায় নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ ওঠেছে।
এলেঙ্গা পৌরসভার চরভাবলা গ্রামের শহিদুল ইসলাম শান্ত নামের জনৈক সরকারি কর্মচারী জোকারচরের রমজান আলী ও চরভাবলার প্রভাবশালী ৮ থেকে ৯ জন ব্যক্তিকে নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন যাবত নির্বিঘ্নে চোরাই মালের ব্যবসা করে অগাধ বিত্তবৈভবের মালিক বনে গেছেন। প্রতিটি পয়েন্টে তাদের ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক সারারাত পরিবহনে আসা চোরাই মালামাল লোড-আনলোড করে গুদামজাত ও স্থানান্তরের কাজ করে থাকেন। পরিবহন চালক সুপারভাইজার ও হেলপারদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে তারা নির্ধারিত পয়েন্টে ওইসব মালামাল আনলোড করে এবং মূল্য পরিশোধ করে থাকেন।
অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম শান্ত জানান, চোরাই মালামাল লোড-আনলোড ও ক্রয়-বিক্রয়ের কাজে আমি জড়িত নই।
এ বিষয়ে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ মোঃ আমিনুল ইসলাম জানান, এলেঙ্গা থেকে ব্ঙ্গবন্ধু সেত পূর্ব এই এলাকাটি বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার অধিনে বিধায় এ বিষয়ে আমার কোন ধারনা নেই।
বঙ্গব্ধু সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আলমগীর আশরাফ জানান, তিনি এই থানায় নতুন এসেছেন তাই এই চোরা কারবারিদের সম্পর্কে কোন ধারণা নেই তার।
এ প্রসঙ্গে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাত হুসেইন মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন না। তবে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্য্যবস্থা নেয়ার কথা জানান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলামের আয়োজনে সরকারের উন্নয়নমূলক শোভাযাত্রার প্রস্তুতি সভাকে ঘিরে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। শনিবার (১৪ অক্টোবর) বিকালে প্রস্তুতি সভাকে ঘিরে এ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
জানা যায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সরকারের ১৫ বছরের উন্নয়নমূলক শোভাযাত্রার প্রস্তুতি সভা আহবান করেন। এক পর্যায়ে সভা শুরুর পূর্বে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মতিয়ার রহমান গাউস ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা রাজিকের নেতৃত্বে একটি মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এক পর্যায়ে প্রস্তুতি সভার আয়োজনে ব্যবহৃত চেয়ার ভাংচুর করা হয়। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে উন্নয়ন প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় সাবেক এমপি অনুপম শাহজাহান জয় অংশ নেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মতিয়ার রহমান গাউস বলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম বিএনপি-জামায়াতের লোকজন নিয়ে সরকার বিরোধী কর্মকান্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। খবর পেয়ে আমরা তা প্রতিহত করেছি।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কাজী অলিদ ইসলাম বলেন, আমাদের সভা শুরুর দেড় ঘণ্টা পূর্বে সভাপতি মতিয়ার রহমান গাউস ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা রাজিকের নেতৃত্বে বিএনপি নেতা বাদলের লোকজন ১০ থেকে ১৫ টি চেয়ার ভাংচুর করে। এ সময় আমাদের লোকজন উপস্থিত হলে তারা চলে যায়। পরে আমরা যথারীতি প্রস্তুতি সভা করেছি।
বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল আমিন জানান, দু’গ্রুপের উত্তেজনার খবর পেয়ে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনি। এর পূর্বে কয়েকটি চেয়ার ভাংচুর করা হয়েছে বলে শুনেছি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে স্বামীর বিশেষ অঙ্গ কেটে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার দক্ষিণ বিলডগা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগির নাম হায়দার আলী খান। তিনি উপজেলার নগদা শিমলা ইউনিয়নের দক্ষিণ বিলডগা গ্রামের মৃত ইদ্রিস খানের ছেলে।
হায়দার আলীর চাচা হাতেম আলী খান বলেন, প্রতিবন্ধী হায়দার আলী রেলওয়ে চাকরি নিয়ে জয়দেবপুরে কর্মরত ছিলেন। এরআগে বেলুয়ার একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা ও উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বড়শিলার একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। প্রথম স্ত্রী থাকা পরও হায়দার আলী আবার বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী বাবার বাড়িতে থাকতেন। উভয় সংসারে একটি করে ছেলে হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে একটি গরু কিনে বাড়িতে আসলে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর সকালে ঘুম থেকে উঠে পুরো ঘরে রক্ত ছিটিয়ে থাকতে দেখে তিনি চিৎকার শুরু করেন। প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে তাকে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। এদিকে ঘটনার পর রাতেই প্রথম স্ত্রী বাড়ি থেকে পালিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।
গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিম আল রাজি জানান, রক্তক্ষরণের কারণে রোগীর অবস্থা গুরুতর। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। বিশেষ অঙ্গটি সম্পূর্ণ কেটে ফেলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল মোর্শেদ জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তের মা ও ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ ‘শেকড়ের টানে প্রজন্মের মেলবন্ধন’ এ স্লোগানে মুখরিত হয়ে নাচ গান ও মহামিলনের মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুরের পাহাড়ি জনপদে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি সম্প্রদায় উদযাপন করলেন আ’বিমা ফেস্টিভ্যাল -২০২৩।
আ’বিমা’র এ কৃষিররাজ্যে টাঙ্গাইলের মধুপুরের গভীর অরণ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি গারো সম্প্রদায়ের বসবাস।
আ’বিমা হল একটি আচিক বা গারো শব্দ। এর অর্থ মাটির মা। গারোরা ভারতের মেঘালয়সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে জুম চাষ করতো। তাদের পূর্ব পুরুষেরা জুমের ফসল ফলনের দিক বিবেচনা করে মধুপুর অঞ্চলকে আ’বিমা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মাটির উর্বরতার কারণে তারা মধুপুরের মাটিকে আ’বিমা অর্থাৎ মাটির মা বলে থাকে।
মধুপুর পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী গারো জনগোষ্ঠীর ফসল কেটে ঘরে তোলার পর শস্য দেবতা ও ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে সম্মিলিতভাবে বিশেষ প্রার্থনা ও নাচ গানের মধ্য দিয়ে প্রতিবছর আ’বিমা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন। এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গারো জনগোষ্ঠীর আদি সংস্কৃতি ও সভ্যতা সবাইকে স্মরণীয় করিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যেই এ আ’বিবা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গারো নারী পুরুষ ও শিশু-কিশোর তাদের আদি ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে ও সেজেগুজে অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত করে তুলেন। আ’বিমা মেলা হয়ে উঠে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের প্রাণের মেলবন্ধন।
শুক্রবার(১৩ অক্টোবর) দিনব্যাপী উপজেলার মমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
প্রলয় নকরেক এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠান উদ্ভোধন করেন অজয় এ মৃ সভাপতি আ’বিমা কালচারাল ডেভেলপমেন্ট ফোরাম, অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রেমন্ড আরেং, ফুলবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট ইমদাদুল হক সেলিম, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ হারুন, মধুপুর উপজেলার ভাইসচেয়ারম্যান যষ্ঠিনা নকরেক, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, আচিক মিচিক সোসাইটির সভাপতি সুলেখা ম্রং, অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহবায়ক মিঃ নির্জন সিমসাং, সদস্য সচিব পৌল সিমসাং প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন ব্যন্ডদল শিল্পী আচিক ব্লুজ, ব্রিং, দি রাবুগা, ব্লিডিং ফর সারভাইভাল ও স্থানীয় সঙ্গীত শিল্পী বৃন্দ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়েছে।
কর্মসূচির মধ্যে ছিল- জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, পায়রা-বেলুন ও ফেস্টুন উড়ানো, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর মাজারে পুস্পস্তবক অর্পণ, আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, কেক কাটা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল ইত্যাদি।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রশাসনিক ভবনে পতাকা উত্তোলন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ডক্টর মো. ফরহাদ হোসেন রিজেন্ট বোর্ড সদস্য, ডিন ও রেজিস্ট্রারকে নিয়ে পায়রা- বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুর্যাল ও মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজারে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। আনন্দ শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ডক্টর মো. ফরহাদ হোসেন নেতৃত্ব দেন। আনন্দ শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ১২তলা একাডেমিক ভবনের সামনে কেক কাটা অনুষ্ঠানে মিলিত হয়।
এছাড়া বাদ যোহর কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচি পালনকালে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ডক্টর এআরএম সোলাইমান, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ডক্টর মো. সিরাজুল ইসলাম, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রকাশ, ১৯৯৯ সালের ১২ অক্টোবর তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
একতার কণ্ঠঃ উপজেলা আওয়ামীলীগের উপর হামলার অভিযোগে করা মামলায় টাঙ্গাইল বিএনপির ৪০ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামান নূর তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত পরিদর্শক তানবীর আহমেদ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কারাবন্দীরা হলেন, গোপালপুর উপজেলার নগদা শিমলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু হানিফ কিসলু, ইউনিয়র সেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক আলম খান, যুবদলের সদস্য সচিব হারুন, শ্রমিকদলের সদস্য সচিব জাফর মিয়া ও উপজেলা জিয়া মঞ্চের আহ্বায়ক বদিউজ্জামান বাদলসহ বিভিন্ন স্তরের ৪০ নেতাকর্মী।
আদালত পরিদর্শক তানবীর জানান, বৃহস্পতিবার সকালে গোপালপুর উপজেলা বিএনপি’র ৪০ নেতাকর্মী টাঙ্গাইল চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জামিন নিতে আসেন। আদালতের বিচারক তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল জানান, গায়েবী ও মিথ্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলেন ওই নেতাকর্মীরা। উচ্চ আদালতের নির্দেশে অনুসারে বৃহস্পতিবার সকালে গোপালপুর উপজেলার বিএনপি’র ওই ৪০ নেতাকর্মী টাঙ্গাইল চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন নিতে আসেন। আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে তাদের অন্যায়ভাবে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি আরও জানান, নিপীড়ন-নির্যাতনের নীতি অবলম্বন করে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিশ্চিহ্ন করার পায়তারা চলছে। বিএনপির কর্মসূচিগুলোতে বিপুল জনসমাগম দেখে সরকার দিশেহারা বলেই জামিন বাতিলের হিড়িক পড়েছে। গ্রেফতার, জামিন বাতিল ও নির্যাতন করে আন্দোলনকে দমানো যাবে না। অবিলম্বে কারাবন্দী সকল নেতাকর্মীদের মুক্তির জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিক উদযাপন অনুষ্ঠানে গোপলপুর উপজেলা বিএনপি ও আওয়ামীলীগের মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ২ সেপ্টেম্বর ৬১জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত থেকে ২৮ দিনের জামিন পান ওই মামলার আসামীরা।
একতার কণ্ঠঃ কৃষিমন্ত্রী ড.আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে বিএনপি’র সঙ্গে আপস করার কোনো সুযোগ নেই। তবে এখনও আওয়ামী লীগের দরজা খোলা আছে। তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। তারা নির্বাচনে আসবে। আন্দোলন সংগ্রাম করে সরকার পতন ঘটাবে, এটি কোনোভাবেই পারবে না।
বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিতসভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেছেন।
মন্ত্রী বলেন, ৯০ দিন বিএনপি দেশ অচল করার চেষ্টা করেছে, গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ মেরেছে, স্কুল কলেজে আগুন দিয়েছে, রেল লাইন তুলেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের পতন ঘটাতে পারেনি।
সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন ইস্যুতে বিদেশিদের চাপ রয়েছে, এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, কোনো চাপের কাছে আওয়ামী লীগ মাথানত করবে না। জেল জুলুমের ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। প্রয়োজনে আমরা জেলে যাব। তবুও কোনো চাপে আমরা মাথানত করব না। বিএনপি বলছে, তারা তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। সংবিধানে সুস্পষ্ট লেখা আছে যে, সরকার থাকবে তার অধীনেই নির্বাচন হবে। সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহযোগিতা করবে। যেকোনো আন্দোলন রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করা হবে।
এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এমপি, কেন্দ্রীয় সদস্য তারানা হালিম, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট মামুন উর রশিদ, এমপি ছানোয়ার হোসেন, তানভীর হাসান ছোট মনির, হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী, আহসানুল ইসলাম টিটু, আতাউর রহমান আজাদ ও খান আহমেদ শুভ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ বর্ধিতসভা শেষে বৃহস্পতিবার বিকালে মন্ত্রী টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলীতে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় অংশ নেয়।