একতার কণ্ঠঃ রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (এফডিসি) দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন পালন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) সকাল ১১টায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের আয়োজনে প্রেসক্লাবের সামনে ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় মানববন্ধনে উপস্থিত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার সাংবাদিকেরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দাসহ দোষীদের দ্রুত আইনের আওতা এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এসময় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট জাফর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাজী তাজ উদ্দিন রিপন, কার্যকরী কমিটির সদস্য শামীম আল মামুন, মামুনুর রহমান প্রমূখ।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন এখন টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি কাওসার আহমেদ, আনন্দ টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি মেহেদী হাসান চৌধুরী, খবরের কাগজের জুয়েল রানা, আজকের বসুন্ধরার রাহিদ রানা, শেয়ার বিজের সোহেল রানা, সাম্প্রতিক দেশকালের নওশাদ রানা সানভীসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদকর্মীগণ।
এসময় বক্তারা বলেন, এফডিসির ভিতরে সাংবাদিকদের দাওয়াত দিয়ে নিয়ে যে অপমান করেছে তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা টাঙ্গাইল থেকেই বলতে চাই যে যদি এই হামলার বিচার না হয় সেক্ষেত্রে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। ২২ সাংবাদিকদের উপর হামলাকারী শিবা শানু, জয় চৌধুরী ও আলেকজেন্ডার বো’র কঠিন বিচার করতে হবে। এছাড়াও হামলাকারীদের এফডিসি থেকে বহিস্কার করতে হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের বটতলা বাজারে পচা মাংস বিক্রির দায়ে নূর নবী নামে এক ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল নাঈম বিনতে আজিজের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ সময় সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হীরা মিয়া, ভেটেরিনারি সার্জন আবু সাইম আল সালাউদ্দিনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল নাঈম বিনতে আজিজ বলেন, বটতলা বাজারের ব্যবসায়ী নূর নবী পচা মাংস বিক্রি করায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় তার কাছে থাকা ৩৫ কেজি মাংস জব্দ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ নানা আয়োজনে টাঙ্গাইলে শিক্ষাবিদ ও দানবীর, জমিদার ওয়াজেদ আলী খান পন্নী চাঁদ মিয়ার ৮৮ তম মৃতবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) দিনব্যপী সদর উপজেলার করটিয়া জমিদার বাড়ি প্রাঙ্গণে সা’দত বাজার ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে এ মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. শাহজাহান আনছারী।
সা’দত বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. ইউসুফ আলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. খোরশেদ আলম, করটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেকুজ্জামান চৌধুরী মজনু, করটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম আনছারী, সরকারী সা’দত কলেজের সাবেক এজিএস সোহেল আনছারী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, সা’দত বাজার ব্যাবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাক সাইমন তালুকদার রাজীব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. শাহজাহান আনছারী বলেন, ব্রিটিশ আমলে মুসলমানরা যখন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ছিলো তখন অত্র অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারে এগিয়ে আসেন করটিয়ার চাঁদ খ্যাত দানবীর ওয়াজেদ আলী খান পন্নী। তার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো হচ্ছে, সরকারি সা’দত কলেজ, এইচএম ইনিষ্টিটিউব স্কুল অ্যান্ড কলেজ,আবেদা খানম স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রোকেয়া ফাজিল মাদ্রাসাসহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সরকারি সা’দত কলেজ বঙ্গের আলীগঢ় হিসেবে খ্যাতি লাভ করে।
দিনব্যপী কর্মসূচীর মধ্যে ছিলো, মরহুমের মাজারে পুস্পস্তবক অর্পণ, মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া, কোরআন তেলাওয়াত, মরহুমের কর্মময় জীবন নিয়ে আলোচনা সভা ও দশ হাজার লোকের মাঝে তোবারক বিতরণ।
একতার কণ্ঠঃ প্রচন্ড তাপপ্রবাহে পুড়ছে দেশ। আকাশে মেঘের দেখা নেই বৃষ্টিহীন চরম অস্বস্তিকর এ পরিস্থিতিতে গরম থেকে মুক্তি ও বৃষ্টির জন্য টাঙ্গাইলে খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টির জন্য সালাতুল ‘ইস্তিসকার’ নামাজ ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ মাঠে এ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
নামাজে ইমামতি করেন শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের খতিব ও জেলা ইমাম মুয়াজ্জিন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন ঈমান।
নামাজে টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর, সাবেক পৌর মেয়র জামিলুর রহমান মিরন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আগত সহস্রাধিক মুসল্লি অংশ নেয়।

নামাজে অংশ নেওয়া কয়েকজন মুসল্লি জানান, টানা কয়েক দিনের প্রচন্ড তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রখর রোদের কারণে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে বাইরে বের হতে পারছে না অনেক মানুষ। এ কারণে বৃষ্টি চেয়ে আল্লাহর দরবারে দুই রাকাত সালাতুল ‘ইস্তিসকার’ আদায় করা হয়।
উল্লেখ্য, মূলত সালাতুল ‘ইস্তিসকার’ সুন্নতি আমল। এ নামাজ ঈদের নামাজের মতো। নামাজ শেষে খুৎবা পাঠ করা হয়। তারপর দোয়ায় অনাবৃষ্টি ও অসহ্য গরম থেকে মুক্তি এবং মহান আল্লাহর রহমত কামনা করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেললাইনে উঠে পড়ে। এতে বাস ও ট্রাকের চালকসহ ৪ থেকে ৫ জন আহত হয়েছেন। তবে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনের হাজারও যাত্রী।
বুধবার (২৪ এপ্রিল) সকালে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার এসআই টিটু চৌধুরী এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী জানান, মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) রাত ২টার দিকে মহাসড়কের হাতিয়া এলাকায় ঢাকাগামী আরপি এক্সপ্রেস নামে একটি বাস ও বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্বগামী একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেললাইনের ওপরে উঠে যায়।
এ সময় মহাসড়কে ঘটনাস্থলে ডিউটিরত ছিলেন বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার এসআই টিটু চৌধুরীসহ আরও বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। তারা জানতে পারেন টাঙ্গাইল থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস নামে একটি ট্রেন বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলস্টেশনের দিকে ছেড়ে আসছে।
একপর্যায়ে দ্রুত সংশ্লিষ্টদের ফোন করে ট্রেনটি থামানোর জন্য অনুরোধ জানান এসআই টিটু। পরে ট্রেনটি ঘটনাস্থলে এসে দাঁড়ালে বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পান ট্রেনের যাত্রীরা। এর পর দ্রুত বাসটি সরানো হলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ট্রেনে থাকা যাত্রী সবুজ আহমেদ ও হৃদয় ইসলামসহ অনেকেই জানান, হঠাৎ করে ট্রেনটি হাতিয়া নামক এলাকায় থেমে যায়। পরে জানতে পারি এখানে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেললাইনে উঠে পড়ে। ঘটনাস্থলে দ্রুত ট্রেনটি দাঁড় না করালে যে কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। আগেই অবগত হওয়ায় প্রাণে রক্ষা পায় ট্রেনের হাজারও যাত্রী।
এ প্রসঙ্গে এসআই টিটু চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় বাসের চারজন যাত্রী ও ট্রাকের চালকসহ ৫ জন গুরুতর আহত হন। পরে তাদের আহতাবস্থায় উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনা কবলিত বাস ও ট্রাকটি সেতুপূর্ব থানায় রাখা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর সাফ বলে দিয়েছেন, একজন সংসদ সদস্য তার নির্বাচনী এলাকায় অবশ্যই যেতে পারবেন। তবে কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না।
তিনি বলেন, ভোটের দিন স্থানীয় সংসদ সদস্যরা কেন্দ্রে গিয়ে অবশ্যই তার ভোট দিতে পারবেন। কিন্তু কোনো প্রার্থীকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রে যেতে পারবেন না।
বুধবার (২৪ এপ্রিল) বিকালে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ধাপে টাঙ্গাইল জেলার তিনটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ইসি বলেন, যে কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে- সেখানে যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে অথবা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ না থাকে, তাহলে সেখানে যে প্রিজাইডিং অফিসার আছেন, তিনিই নির্বাচন বন্ধ করতে পারবেন। তিনি যদি কোনো কারণে বন্ধ করতে না পারেন অথবা কারো সঙ্গে তার আঁতাত হয়ে যায় যে বন্ধ করবেন না- সেক্ষেত্রে আমাদের যারা রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার থাকবেন, তারাই নির্বাচন বন্ধ করতে পারবেন। আর এমন যদি হয়, উপজেলা নির্বাচনের কোনো কেন্দ্রেই নির্বাচন সুষ্ঠু করা যাচ্ছে না- তাহলে পুরো নির্বাচনটাই বন্ধ করে দিতে পারবে নির্বাচন কমিশন।
তিনি বলেন, যদি কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থক অন্য কোনো প্রার্থী বা সমর্থককে আক্রমণ করেন, আগুন জ্বালিয়ে দেন বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেন। যেগুলোকে ফৌজদারি অপরাধ বলে- সে বিষয়ে শাস্তি আরও কঠিন হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচনী আচরণবিধি যথেষ্ট না, আরও নির্বাচনী আইন আছে। সেই আইনের অধীনে ফৌজদারি অপরাধগুলোর ক্ষেত্রে আমাদের অফিসার এবং পুলিশও মামলা করতে পারবেন। আমাদের অনুমতির প্রয়োজন হবে না।
ইসি আলমগীর বলেন, এ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সবাই থাকবে- শুধু সেনাবাহিনী থাকবে না। সেনাবাহিনী শুধু জাতীয় নির্বাচনে রাখা হয়। জাতীয় নির্বাচন সারা দেশে একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। সেক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কম থাকে- সেজন্য সেনা মোতায়েন করা হয়। উপজেলা নির্বাচন কয়েকটি ধাপে হবে। তাই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে এ নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রে বেশি সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরি সদস্য আমরা অনুমোদন দিয়েছি।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম। এসময় টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মতিয়ুর রহমানসহ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী, মধুপুর ও গোপালপুর উপজেলার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দানের বেহাল দশা দেখে এর রক্ষণাবেক্ষণে এগিয়ে এসেছে একদল স্বেচ্ছাসেবী। তারা নিজেরা অর্থ সংগ্রহ করে পাইপ কিনে ঈদগাহ্ মাঠে পানি দিচ্ছে। এই মাঠের মধ্য দিয়ে যেন কোন ধরনের যানবাহন চলাচল করে মাঠটিকে নষ্ট করতে না পারে সেজন্য মাঠের দক্ষিণ দিকের ভেঙে যাওয়া গেটটি বাঁশ দিয়ে অস্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এই গেট দিয়ে এখন শুধুমাত্র পথচারীগণ চলাচল করতে পারে। এছাড়া ঈদগাহ্ মাঠে গাছ লাগানোর পরিকল্পনাও আছে তাদের। সারা বছর মাঠটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন লোক নিজেদের অর্থায়নে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনাও আছে তাদের।
এই স্বেচ্ছাসেবক দলে রয়েছে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের লোক। তাদের দাবি, পৌর কর্তৃপক্ষ ফি-বছর ঈদগাহ্ মাঠের উন্নয়নের বুলি আওড়ালেও কাজের কাজ কিছুই করে না। ফলে এবার ঈদুল ফিতরের নামাজের সময় তোপের মুখে পড়েন টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেন।
বিবেকের তাড়নায় স্বেচ্ছাসেবকগণ নিজ উদ্যোগে স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে এই ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ্ মাঠ রক্ষণাবেক্ষণে এগিয়ে এসেছে।
এদের মধ্যে রয়েছেন, আব্দুর রাজ্জাক, মাহবুব মনি, আব্দুল আলীম, দিনেশ চৌহান, গণেশ চৌহান, আনন্দ চৌহান, মোহাম্মদ হুমায়ুন, মো. মজিবর মিয়া, রঞ্জিত সরকার, শ্যামল চৌহান, সবুজ মোল্লা, শহিদুর রহমান, সিদ্দিক মন্ডল, মো. হৃদয় মিয়া প্রমূখ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শতাব্দি প্রাচীন টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ মাঠের বর্তমানে বেহাল দশা। মাঠটি এখন ঘাস উঠে গিয়ে সম্পূর্ণভাবে ন্যাড়া হয়ে গেছে। এছাড়া মাঠের উওর ও দক্ষিণ দিকের গেটগুলো ভেঙে গেছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মাঠের সীমানা প্রাচীর বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে গেছে। ঈদগাহ্ মাঠের মধ্যে দিয়ে বিভিন্ন ধরনের যান চলাচলের ফলে জায়গায় জায়গায় মাটি উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মাঠের পূর্ব পাশে টাঙ্গাইল পৌর কর্তৃপক্ষ শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে রাবিশ এনে জড়ো করে রেখেছে।
১৯০৫ সালে স্থাপিত এই ঈদগাহ্ মাঠটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব টাঙ্গাইল পৌর কর্তৃপক্ষের হলেও তারা যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করছে না। ফলে ঈদগাহ্ মাঠটি এখন ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কেবলমাত্র বছরে দুই ঈদেই লোক দেখানো রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় এই মাঠের। তার পরে আর পৌর কর্তৃপক্ষ কোন খোঁজ-খবর
রাখে না এই মাঠের।
স্বেচ্ছাসেবকগণ জানান, গত বেশ কয়েকদিন ধরে ঈদগাহ্ মাঠের মধ্যে দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় পুরো মাঠ ধুলোয় অন্ধকার হয়ে যায়। এছাড়া ঝড়ো বাতাস এলেই ঈদগাহ্ মাঠ ও এর আশপাশের এলাকায় মাঠের ধুলোবালি উড়ে গিয়ে আস্তরণ পড়ে যায়। মাঠের উওর ও দক্ষিণ দিকের সব গেট ভাঙ্গা থাকায় ছোট বড় সব ধরনের যানবাহন মাঠের উপর দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে ঈদগাহ্ মাঠের ঘাস উঠে ন্যাড়া হয়ে গেছে। এছাড়া জায়গায় জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবকগণ আরও জানান, কিছুদিন পূর্বেও মাঠের পশ্চিম দিকের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে ডাব গাছ, আম গাছসহ বিভিন্ন ধরনের ফলজ ও বনজ গাছ ছিল। সেগুলো বিভিন্ন সময়ে ঝড়ে ভেঙে গেছে। সেই জায়গাগুলোতে তারা নতুন করে গাছ লাগাতে চাচ্ছে। এছাড়া মাঠের ধুলোবালি উড়া বন্ধ ও নতুন করে ঘাস গজানোর জন্য পাইপ দিয়ে পানি দেওয়া হচ্ছে। এই মাঠের মধ্যে দিয়ে যেন কোন ধরনের যানবাহন চলাচল করতে না পারে সেজন্য মাঠের দক্ষিণ দিকের ভাঙ্গা গেটটি বাঁশ দিয়ে অস্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
তারা আশাবাদী, এই রক্ষণাবেক্ষণের ফলে এই ঈদগাহ্ মাঠ আবারও ব্যবহারের উপযুক্ত হবে।

বিন্দুবাসিনী স্কুল ফ্রেন্ডস নেটওয়ার্কের (এসএফএন) সাধারণ সম্পাদক ও যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মো. শামীম আল মামুন বলেন, তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগহ্ ময়দানের পশ্চিম ও উত্তর পাশের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে ১’শত ছায়া দানকারী গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া একটু স্বাভাবিক হলেই গাছ লাগানো শুরু করা হবে। তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে লাগানো গাছ গুলো বড় না হওয়া পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণও করা হবে।
টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগহ্ মাঠের বেহাল দশা প্রসঙ্গে মো. আবুবক্কর মিয়া, জাহিদুল ইসলাম, মো. বাহারুল ইসলাম বলেন, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে টাঙ্গাইলের এই কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ মাঠটির বর্তমানে বেহাল দশা। পৌর কর্তৃপক্ষের মাঠটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকলেও তারা সে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে না। শতাব্দি প্রাচীন এই ঈদগাহ্ মাঠের উন্নয়নের জোর দাবি জানান তারা।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর একতার কণ্ঠকে জানান, টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ও শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানের উন্নয়নের জন্য প্রস্তাবিত ৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার প্রকল্পটি মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) অনুমোদন হয়েছে। খুব দ্রুতই ঈদগাহ্ উন্নয়নের কাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হবে। এই প্রকল্পে ঈদগাহ্ মাঠের উন্নয়নের মধ্যে রয়েছে, বর্তমান মিম্বরটি ভেঙে বড় করা, মাঠে সবুজ ঘাস লাগানো, চারটি প্রবেশদ্বারে নতুন করে গেট লাগানোসহ মহিলাদের নামাজ আদায়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা ও ওযু খানা তৈরি করা।
তিনি আরও জানান, খুব দ্রুতই ঈদগাহ্ উন্নয়নে
পৌর কর্তৃপক্ষ টেন্ডার আহ্বান করবে। আশা করা যায় ঈদুল আযহার আগেই উন্নয়নের কাজ শুরু করা যাবে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেন একতার কণ্ঠকে বলেন, এবার ঈদুল ফিতরের নামাজের সময় প্রতিশ্রুত ঈদগাহ্ উন্নয়নের কাজের অনুমোদন হয়েছে। আগামী বছরের ঈদুল ফিতরের পূর্বেই টাঙ্গাইলবাসীকে একটি নান্দনিক ঈদগাহ্ উপহার দিতে আমি প্রতিশ্রুতি বদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, এই মাঠের উন্নয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে, মাঠে শুধু মাত্র শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ থাকবে। এই ঈদগাহ্ মাঠকে কেন্দ্র করে এখন যে সমস্ত ব্যবসায়ীক স্থাপনা ও কর্মকাণ্ড রয়েছে তা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে নেশাগ্রস্ত ছেলের ধাক্কায় তপন সাহা (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার হামিদপুর সাহাপাড়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
নিহত তপন সাহা একই গ্রামের মৃত অনুদাস সাহার ছেলে। তার হামিদপুর বাজারে একটি মুদি দোকান ছিল।
স্থানীয়রা জানায়, নিহতের ছেলে তন্ময় সাহা (২৫) একজন মাদকসেবি। মঙ্গলবার দুপুরে তার বাবা দোকান বন্ধ করে বাসায় আসেন খাওয়ার জন্য। এ সময় বাড়িতে টাকার জন্য বাবার সাথে মাতলামি করে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ছেলে বাবাকে ধাক্কা ও কিলঘুসি দিলে বাবা ঘরের মেঝেতেই লুটিয়ে পড়ে সাথে সাথেই মারা যান। তবে পরিবারের দাবি, তিনি আগে থেকেই অসুস্থ ও হার্টের রোগী ছিলেন।
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ করা হয়নি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে ৪৯ কেজি গাঁজাসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
সোমবার (২২ এপ্রিল) রাতে উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের বাসাইল-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক সড়কের নথখোলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল বাছেদ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার কালাচর গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে মো. ডালিম (৩০), একই উপজেলার সেজামুড়া গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে রফিকুল ইসলাম (২৬), একই উপজেলার কালাচর গ্রামের মিয়া চাঁনের ছেলে নাঈম (২৩) ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার রশিদাবাদ গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে প্রাইভেটকার চালক হৃদয় মিয়া (২৪)।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টাঙ্গাইল-বাসাইল আঞ্চলিক সড়কের বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের নথখোলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে থেকে প্রাইভেটকারসহ ওই ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় প্রাইভেটকারে থাকা দুইটি পানির গিজারের ভেতর থেকে ৪৯ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তবর্তী বিভিন্ন স্থান থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতেন বলে স্বীকার করেছেন।
বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল আমিন বলেন, র্যাব ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে তাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। র্যাব বাদী হয়ে মামলাও করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরের রামপুর চতিলা গ্রামের দাখিল পড়ুয়া এক ছাত্রীর বাড়িতে তার প্রেমের টানে ছুটে এসেছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর আলিম পড়ুয়া আরেক ছাত্রী। পরে পুলিশ দুজনকে আটক করে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমদাদুল হক তৈয়ব।
জানা যায়, টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার চতিলা গ্রামের ওই মাদ্রাসা ছাত্রীর সঙ্গে একবছর আগে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর আলিম পড়ুয়া মেয়ের ফেসবুকে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত বছরের আগস্টে টাঙ্গাইলের মেয়ের বাড়িতে আসে কিশোরগঞ্জের মেয়েটি। বান্ধবী পরিচয়ে একসঙ্গে তারা রাত্রিযাপন করে। এর ধারাবাহিকতায় ৩দিন আগে টাঙ্গাইলের মেয়েটির বাড়িতে আবারও চলে আসে কিশোরগঞ্জের মেয়েটি। উভয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় ১ হাজার ৫’শত টাকায় বাসা ভাড়া নেয়। তাদের চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। রবিবার (২১ এপ্রিল) রাতে পুলিশ এসে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করে এবং বিয়ে করার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বাসার মালিক আব্দুল বারী জানান, চাকরিজীবী পরিচয় দিয়ে তারা তিনদিন আগে বাসা ভাড়া নেয়, অসহায় ভেবে আমি তাদের রুম ভাড়া দেই, তাদের অনৈতিক সম্পর্ক আমি কল্পনাও করতে পারিনি।
গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমদাদুল হক তৈয়ব জানান, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে এসব ঘটছে। এজন্য অভিভাবকদের সতর্ক থাকা উচিত। রবিবার রাতে দুজনকে আটক করে সোমবার (২২ এপ্রিল) সকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়ায় এক বালিকা মাদ্রাসায় বোরকা পরে সিয়াম নামের এক যুবক প্রবেশ করায় গণপিটুনির শিকার হয়েছে। পরে স্থানীয়দের গণপিটুনির কবল থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ।
সোমবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে করটিয়ার রওজাতুল মহিলা মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই যুবক টাঙ্গাইল সদর থানার পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
আটককৃত মো. সিয়াম হোসেন সিপু (১৯) টাঙ্গাইল পৌরসভার ধুলেরচর মাদ্রাসা সংলগ্ন বৈল্যা এলাকার মো. ফরহাদ আলীর ছেলে। সিয়াম এবছর বিবেকানন্দ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলো।
করটিয়া রওজাতুল বালিকা মাদ্রাসার পরিচালক মো. সিয়াম জানান, সোমবার সকালে মাহফিলের টাকা আদায়ের রশিদ নিয়ে বোরকা পরিহিত এক মহিলা বালিকা মাদ্রাসায় প্রবেশ করে। পরে তার কন্ঠ শুনে ও আচরণে সন্দেহ হলে তাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। পরে বোরকার উপরের অংশ খুলে চেক করা হলে সে যুবক বলে প্রমানিত হয়। একপর্যায়ে খবরটি ছড়িয়ে পরলে উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসা থেকে বের করে তাকে গণপিটুনি দিতে থাকে। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য তাকে দ্রুত করটিয়া ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও উৎসক জনতা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। সেখান থেকে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়।
করটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেকুজ্জামান চৌধুরী মজনু বলেন, পরিষদের কাজে আমি উপজেলা পরিষদে থাকায় শাহীন মেম্বার ও লতিফ মেম্বারের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদে উৎসুক জনতার ভিড় জমে গেলে দ্রুত পুলিশে খবর দেই। পরে পুলিশ এসে ওই যুবককে আটক করে নিয়ে যায়।
আটককৃত সিয়ামের পিতা মো. ফরহাদ আলী জানান, তার ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন। মাঝেমধ্যেই নানান কান্ড ঘটায়। তাকে বাসায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সোমবার সকালে সিয়াম নানীর বাসায় যাবে বলে বাসা থেকে বের হয়। তারপর পুলিশের কাছে খবর পাই তাকে করটিয়া থেকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, সিয়ামের মানসিক সমস্যার কারণে এ বছর সে বিবেকানন্দ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরিক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও দিতে পারেনি। তাকে নিয়ে প্রায়ই আমরা নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি।
টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ রাব্বানী জানান, খবর পেয়ে করটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিয়াম নামের এক যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তদন্তের পর ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল শহরের ফুসফুস খ্যাত শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানের ৭টি শতবর্ষী রেইনটি গাছ কাটার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২২ এপ্রিল) সকালে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) টাঙ্গাইল শাখা ও সবুজ পৃথিবী নামের দুটি সংগঠনের উদ্যোগে এই ঘন্টা ব্যপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বাপা টাঙ্গাইল শাখার সভাপতি ও মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডঃ এএসএম সাইফুল্লাহ’র সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডঃ মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, ইব্রাহীম খা সরকারী কলেজের সহযোগী অধ্যাপক অনিক রহমান বুলবুল, বীরমুক্তিযোদ্ধা রঘুনাথ বসাক, বাপা টাঙ্গাইল শাখার সহ-সভাপতি মোঃ আজাহারুল ইসলাম খান, যুগ্ম-সম্পাদক মোহাম্মদ মাসুদ রানা, মোঃ এরফানুজ্জামান রুনু, সাংগঠনিক সম্পাদক নুর আলম সিদ্দিকী, আওয়াল মাহমুদ, ডাঃ আজিজুল হক, সবুজ পৃথিবী মির্জাপুর শাখার সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন নবীন, কালিহাতী শাখার সভাপতি মোঃ বুলবুল হোসেন, সবুজ পৃথিবীর পরিচালক সারমিন আলম।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জাতীয় কমিটির সদস্য ও টাঙ্গাইল শাখার সাধারণ সম্পাদক, সবুজ পৃথিবীর প্রতিষ্ঠাতা সহিদ মাহমুদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,
টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানের এইসব শতবর্ষী গাছ রক্ষায় আমাদের আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে আমরা এইসব গাছ পাহারা দিবো। কোন অবস্থাতেই এই ৭টি শতবর্ষী রেইনটি গাছ কাটা চলবে না। এই গাছ গুলো রক্ষার টাঙ্গাইলে ক্রিয়াশীল পরিবেশবাদী সংগঠন ও সচেতন নাগরিক সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য ,শনিবার (২০ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইল পৌরসভা কর্তৃপক্ষ হঠাৎ টাঙ্গাইল শহরের ফুসফুস খ্যাত শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানের ৭টি প্রাচীন রেইন টি গাছ কাটতে শুরু করে। কোন রকম টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই মেয়রের একক সিদ্ধান্তে শুরু হয় প্রাচীন এইসব বৃক্ষ নিধন। মূহুর্তের মধ্যেই সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মী, মানবাধিকার কর্মী, সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিবাদের মুখে গাছ কাটা বন্ধ হয়। খবর পেয়ে টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস এম সিরাজুল হক আলমগীর ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়। এরপর স্থানীয় সরকার টাঙ্গাইলের উপ-পরিচালক মো: শিহাব রায়হান আসেন।
স্থানীয় সরকার টাঙ্গাইলের উপ-পরিচালক মো: শিহাব রায়হান বলেন, আইনতভাবে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কোনো গাছ কাটতে চাইলে প্রথমত স্থানীয় সরকারে আবেদন করতে হবে এবং তারপর সেই আবেদন বন কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করা হলে বন কর্মকর্তা কর্তৃক অনুমোদন হওয়ার পর প্রকাশ্য নিলাম আহ্বান করে গাছ কাটার প্রক্রিয়া করতে হয়। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার বরাবর কোনো আবেদন দেয়া হয়নি, তাই কিছুটা নিয়ম বহির্ভূত হয়েছে, আর এজন্য গাছ কাটা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
ইতিপূর্বে টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস এম সিরাজুল হক আলমগীর জেলা সদর রোড প্রশস্ত করনের সময় টাঙ্গাইল সদর থানা ভূমি অফিসের সামনের শত বছরের প্রাচীন বট গাছ কাটার যৌক্তিকতা তুলে ধরে সেই দেড়শ বছরের প্রাচীন বট গাছ কেটে যাত্রী ছাউনী তৈরি করেন।
তৈরিকৃত সেই যাত্রী ছাউনী বর্তমানে শহরবাসীর কোন কাজেই আসছে না। যাত্রী ছাউনিটি এখন নেশাগ্রস্ত লোক ও ভবঘুরে ও রাতের মোক্ষি রানীদের দখলে।