একতার কণ্ঠঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে প্রায় ৯ ঘণ্টা পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। ফলে যাত্রী ও চালকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পরিবহনগুলো সড়কে নির্বিঘ্নে মহাসড়কে যাতায়াত করছে।
মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) ভোর ৫টা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব টোলপ্লাজা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থেমে থেমে যানজট সৃষ্টি হয়। পরে তা বেড়ে ১৭ কিলোমিটারে দাঁড়ায়।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার ভোরে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে কয়েকটি যানবাহন বিকল এবং একটি বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এরপর থেকে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে দুপুর ২টার পর থেকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এরআগে যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েন ঘরমুখো মানুষ। যানজটের ফলে উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা পরিবহনগুলো বঙ্গবন্ধু সেতু
পূর্ব-ভূঞাপুর-এলেঙ্গা আঞ্চলিক মহাসড়ক ব্যবহার করে।
টাঙ্গাইল ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) রফিকুল ইসলাম সরকার জানান, মহাসড়কে গাড়ি বিকল ও একটি সড়ক দুর্ঘটনার কারণে থেমে থেমে যানজট সৃষ্টি হয়। যানজট নিরসনে বঙ্গবন্ধু সেতু উত্তরবঙ্গমুখী ওয়ানওয়ে করে দেওয়া হয়। পরে দুপুরের পর যান চলাচল স্বাভাবিক হতে থাকে। বতর্মানে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ৪৩০ বস্তা অবৈধ ভারতীয় চিনি ভর্তি দুটি ট্রাকসহ ৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাংড়া ইউনিয়নের শোলাকুড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করে কালিহাতী থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত ৭ জনের তাৎক্ষণিকভাবে নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কালিহাতী থানার এসআই মিন্টু ঘোষ জানান, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থেকে ৪৩০ বস্তা ভারতীয় চিনিসহ দুটি ট্রাক কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাংড়া ইউনিয়নের শোলাকুড়া এলাকা থেকে ট্রাকসহ ৭ জনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে জিম্মি নাবিক টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের ডাঙা গ্রামের সাব্বিরের বাড়িতে নেই ঈদের প্রস্তুতি। অপহৃত হওয়ার পর থেকেই ছেলের মুক্তির সংবাদের অপেক্ষায় সময় পার করছেন সাব্বিরের বৃদ্ধ মা-বাবা।
বাড়িতে বসে নামাজ আদায় করে তাদের সন্তানকে ফিরে পেতে আল্লাহর নিকট দোয়া করে সময় পার করছেন তারা। আর মাঝে মধ্যেই ছেলের ছবি এবং মোবাইলে কোনো সংবাদ এলো কিনা তা দেখছেন। অপেক্ষার প্রহর যেন তাদের শেষ হচ্ছেই না। তারা চান ঈদের আগেই যেন তাদের সন্তানের মুক্তি মেলে।
গতবছরও পরিবারের সাথে ঈদ পালন করেছেন সাব্বির। কিন্তু এ বছর জাহাজ ছিনতাই হওয়ার পর সাব্বিরের ভাগ্যে কী ঘটছে সেই শঙ্কায় ঈদের আনন্দ নেই তার পরিবারের মাঝে। সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে ভারত মহাসাগর থেকে জিম্মি হন বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর ২৩ জন নাবিক। এদের মধ্যে অন্যতম টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের ডাঙা ধলাপাড়া গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে সাব্বির। জাহাজটি অপহরণের পর থেকে বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা ছেলের অপেক্ষায় পথের দিকে তাকিয়ে আছেন। ঈদের আগেই সরকার বা জাহাজ মালিকদের পক্ষ থেকে সু-সংবাদের অপেক্ষায় বন্দি নাবিক সাব্বিরের বাবা-মা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাব্বির জেলার নাগরপুরের সহবতপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে এসএসসি পাস করে। পরে টাঙ্গাইল শহরের কাগমারির সরকারি এম এম আলী কলেজ থেকে ২০১৬ সালে এইচএসএসসি পাস করে ভর্তি হন চট্রগ্রাম মেরিন একাডেমিতে। সেখান থেকে কৃতিত্বের সাথে পাস করে সর্বশেষ গত বছরের ২০২২ সালের জুন মাসে এমভি আব্দুল্লাহ নামক পণ্য বহনকারী একটি জাহাজে মার্চেন্ট কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন তিনি।
সাব্বিরের পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর ছেলেই ঈদের কেনাকাটা করলেও এবার কিছুই হয়নি তাদের। ছেলের সুস্থতা আর নিরাপদে ফিরে আসার অপেক্ষা করছে তার বাবা-মা। জলদস্যুরা কথায় কথায় মাথায় বন্দুক ধরে, জাহাজে খাবার সংকট, পানি সংকটসহ এমন নানা দুশ্চিন্তায় আরও ভেঙে পড়েছেন তারা। সন্তানের ভালো সংবাদের অপেক্ষা আর শেষ হচ্ছে না তাদের।
সাব্বিরের বাবা হারুন অর রশিদ বলেন, জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়ার পর একদিন ছেলের সাথে কথা বলেছিল। তারপর আর কথা হয়নি। আমি ও আমার স্ত্রী ফোন হাতে নিয়ে বসে থাকি কখন সাব্বির কল দিয়ে বলবে ভালো আছি চিন্তা করো না তোমরা। আমার ছেলের সাথে গতবছর এক সাথে ঈদ করেছি। এবারও আশায় আছি, জানি না করতে পারবো কি না। সরকারের কাছে দাবি অতি দ্রুত আমার ছেলেসহ সবাই বাবা-মায়ের কোলে ফিরে আসুক।
সাব্বিরের মা সালেহা বেগম বলেন, গতবার আমার ছেলে আমাদের সাথে ঈদ করেছিল। এবার আমার ছেলে ঈদ করতে পারবে কি না আমাদের সাথে জানি না। এ বলেই কান্না করতে করতে বলেন, আমরা কোন কিছু চাই না আমার ছেলেকে চাই। আমরা ছেলের সাথে ঈদ করতে চাই। ছেলে বাড়ি না আসলে আমাদের আর ঈদ করা হবে না। সরকারের কাছে আবেদন ঈদের আগেই যেন আমার ছেলেসহ সবাইকে ছাড়িয়ে আনে।
সাব্বিরের বোন মিতু আক্তার বলেন, যখন তারা দস্যুদের কবলে আটক হয় তখন বলেছিল ২০ থেকে ২২ দিনের খাবার আছে। তারপর আর কথা হয়নি আমার ভাইয়ের সাথে। কেমন আছে তাও বলতে পারবো না। সারাক্ষণ চিন্তায় থাকি আমরা। সরকারের কাছে দাবি আমার ভাইকে ঈদের আগে ফিরিয়ে আনার হোক।
নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান বলেন, সাব্বিরের পরিবারের সাথে খোঁজ খবর রাখছি। ঈদ উপলক্ষে তাদের বাড়িতে ঈদ উপহার পাঠানো হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়া ও মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের ফলে জনজীবনে নাভিম্বাস ওঠেছে। গ্রাম কিংবা শহরে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসায় প্রচন্ড দাবদাহে সাধারণ মানুষ হাসফাঁস করছেন।
শিল্প-কারখানায় ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। চাষের জমিতে পানি দিতে না পারায় চিন্তিত কৃষক। ব্যবসায়ীরা বেশি বিপাকে পড়েছেন। ঈদ ও বৈশাখের আগে প্রচন্ড গরম ও দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিকিকিনিতে ধস নেমে এসেছে।
বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলায় আবাসিক ও শিল্পকারখানাসহ প্রায় ১১ লাখ গ্রাহক রয়েছে। এসব গ্রাহকের বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ২২০ থেকে ২৫০ মেগাওয়াট। চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১৩০ থেকে ১৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলার মধ্যে টাঙ্গাইল জোনে ৭টি উপজেলা ও ময়মনসিংহ জোনে ৫টি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
টাঙ্গাইল জোনের জোনাল অফিসের আওতাধীন ৬ লাখের বেশি বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। এবং ময়মনসিংহ জোনাল অফিসের আওতায় ৪ লাখ ২০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। জেলার ছোট বড় ৮ শতাধিক শিল্পকারখানায়ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে পল্লী বিদ্যুত সমিতি। এসব শিল্পকারখায় পাঁচ লাখের বেশি শ্রমিক কাজ করে থাকেন।
এদিকে আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, টাঙ্গাইল জেলায় গত কয়েকদিন যাবত ৩৭ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। জেলায় ব্যাপক দাবদাহ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগীরা জানায়, প্রচন্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে মানুষের ভোগান্তি চরমে। তীব্র দাবদাহে প্রাণিকূলের অবস্থাও ওষ্ঠাগত। জমিন শীতল হওয়ার আশায় প্রকৃতির দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকছে প্রাণিকূল। ঈদকে সামনে রেখে রোজার শেষ সময়ে সেহরি ও ইফতারের সময়ও লোডশেডিং হচ্ছে যথেচ্ছ। ইফতারের সময় এরমাত্রা কিছুটা কম হলেও সেহরির সময় প্রায় নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে।
তারা জানায়, প্রতিদিন সকাল ৭টার পর থেকে সূর্যের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। দুপুরে তীব্রতা আরও বেশি। রোজাদারের জন্য কষ্ট বেড়েছে কয়েকগুণ। এরমধ্যে শহর এলাকায় দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পালা করে এলাকা ভিত্তিক দফায় দফায় বিদ্যুতের লোডশেডিং দেওয়া হয়। গ্রামের অবস্থা আরও ভয়াবহ। গ্রাম এলাকায় কখন বিদ্যুৎ আসে সেই হিসাব রাখেন ভুক্তভোগীরা। সেখানে প্রায় সময়ই বিদ্যুৎ থাকেনা- যদিওবা আসে কয়েক মিনিট পরেই চলে যায়। চলতি বোরো মৌসুমে চাষের জমিতে পানি সেচ দিতে না পারায় ফলন নিয়ে চিন্তিত হয়ে পরেছেন কৃষকরা। দাবদাহে খেটে খাওয়া মানুষগুলো সবচেয়ে বিপদে রয়েছেন।
অনেকেই জানায়, রোদে তাকালেই চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। টানা গরম আর অনাবৃষ্টিতে মানুষের প্রাণ প্রায় ওষ্ঠাগত। গরম বাতাস আগুনের হলকা হয়ে শরীরে লাগছে। ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই। প্রকৃতির এমন বৈরী আচরণের মধ্যে ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’ হিসেবে আবির্ভাব হয়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং।
জেলা শহরের রেজিস্ট্রি পাড়ার ইমাম হোসেন, আকুর টাকুর পাড়ার শহিদুল ইসলাম রুমি, বটতলার আনিছুর রহমান, তালতলার মঞ্জুরুল ইসলাম, আদি টাঙ্গাইলের গৃহবধূ রহিমা রহমান, থানাপাড়ার জোবায়ের হোসেন, আদালত পাড়ার শিবলী সহ অনেকেই জানান, প্রচন্ড দাবদাহে বাসায় থাকা যায় না। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ। শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সর্দি-কাশি, জ্বর ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।
শহরের হিরা মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী মোসলেম উদ্দিন, শাহালম মিয়া, সিদ্দিকুর রহমান, জয়নাল আবেদীন সহ অনেকেই জানান, ক্রেতার চাপ থাকলেও প্রচন্ড গরমে দোকানে বসে থাকা যাচ্ছে না। এরই মধ্যে লোডশেডিং চলছে। লোডশেডিং হলে এক থেকে দেড় ঘণ্টার আগে বিদ্যুৎ আসেনা। ফলে আইপিএস লাগিয়েও সমাধান পাওয়া যায়না। বিদ্যুৎ না থাকায় আইপিএসও চার্জ হয়না।
টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র জামিলুর রহমান মিরন জানান, টাঙ্গাইল শহর এলাকায়ও প্রতিদিন ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। প্রতিবার এক থেকে দেড় ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ থাকছে না।
টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, সম্প্রতি তিনি টাঙ্গাইল জোনে যোগদান করেছেন। টাঙ্গাইল জোনে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ৬ লাখের বেশি। এ এলাকায় ছোট বড় মিলে ৪৫০টি শিল্পকারখানাসহ ও আবাসিক গ্রাহকের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১৬০ থেকে ১৬৫ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ১০০ থেকে ১০৫ মেগাওয়াট। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিং বেড়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ময়মনসিংহ জোনের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. শহীদ উদ্দিন জানান, প্রচন্ড দাবদাহে সারাদেশে লোড বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন সর্বোচ্চ লোডশেডিং চলছে। এ জোনের আওতায় ৪ লাখ ২০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। বিদ্যুতের চাহিদা ৫৫ মেগাওয়াট। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০ থেকে ২৫ মেগাওয়াট।
বিউবো টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ) খন্দকার কামরুজ্জামান জানান, টাঙ্গাইল পৌরসভায় ৪৭ হাজারের বেশি গ্রাহক রয়েছে। বিদ্যুতের চাহিদা ২০ মেগাওয়াট। গত সপ্তাহ পর্যন্ত গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক ছিল। ৪-৫ দিন ধরে তারা ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছেন। ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থাকছে। এই ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন কম পাওয়া যাচ্ছে তা তিনি জানেন না। ফলে এলাকা ভিত্তিক লোডশেডিং দিয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের আয়োজনে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল জেলা সদরে অবস্থিত শিশু একাডেমী মিলনায়তনে এই ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিট আয়োজিত এই ইফতার ও দোয়া মাহফিল পূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট জাফর আহমেদ।
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের সভাপতি মাসুদুর রহমান মিলনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তাইজুল ইসলাম টুটুলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা খন্দকার নিপুণ হোসাইন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের কার্যকরী কমিটির সদস্য মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল, সদস্য আশিকুর রহমান পলাশ, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. আরমান কবীর সৈকত, কালিহাতী প্রেসক্লাবের সভাপতি রঞ্জন কৃষ্ণ পণ্ডিত, সাবেক সভাপতি শাহ্ আলম, সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মুশফিকুর রহমান মিল্টন, ক্লিন টাঙ্গাইলের সভাপতি শাহীন চাকলাদার, সেন্টার ফর রুরাল ডিজেবল ডেভলপমেন্ট (সিআরডিডি) টাঙ্গাইলের সভাপতি এইচ.কে ইউসুফ জাই প্রমূখ।
আলোচনা সভা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণে বিশেষ মোনাজাত করেন হাফেজ মাওলানা মো. ফজলুল হক।
এই ইফতার ও দোয়া মাহফিলে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের সকল সদস্য ও ১২টি উপজেলার সভাপতি-সম্পাদকসহ বিপুল সংখ্যক জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ ইংরেজি জাতীয় দৈনিক দি ডেইলি পোস্টের টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি রবিন তালুকদার ২০১৯ সাল থেকে মরণ ব্যাধি থাইরয়েড ক্যানসার আক্রান্ত। বর্তমানে তিনি বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন। তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা। এই টাকা যোগান দেওয়ার সামর্থ্য নেই রবিন ও তার পরিবারের। এক কন্যা সন্তানের জনক রবিন বাঁচার জন্য সকলের সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেছেন। আপনার একটু সহযোগিতা বাঁচাতে পারে রবিন ও তার পরিবারকে।
রবিন তালুকদারকে বিকাশ ও নগদে সহায়তা পাঠানো যাবে, নম্বর – ০১৭৫২-৩০৭৭৯৫ (বিকাশ পার্সনাল) এবং ০১৭৫২-৩০৭৭৯৫ (নগদ পার্সনাল)।
রবিনের পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, মরন ব্যাধি থাইরয়েড ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে রবিন ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্লক সি-এর নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিভাগের ৭ম তলার ৭৩৫নং কক্ষের পেয়িং বেড-১ এ ভর্তি হয়েছিলেন।
পরবর্তীতে একই সালের ৫ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) তার অপারেশন সম্পন্ন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিভাগের সার্জন প্রফেসর আবুল হাসনাথ জোয়ার্দার।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এ রোগ নির্ণয়ের টেস্ট বাবদ ইতোমধ্যে খরচ হয়েছে তার প্রায় ৪০ হাজার টাকা এবং অপারেশন বাবদ খরচ হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। এছাড়াও অপারেশন পরবর্তী সময়ে তার আরো বেশ কিছু টাকা ব্যয় হয়। আনুমানিক ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা চিকিৎসা বাবদ ইতিমধ্যে খরচ হয়েছে।
মরণ ব্যাধি ক্যান্সার আক্রান্ত সাংবাদিক রবিন তালুকদার বলেন, তৎকালীন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম আমার ক্যানসার আক্রান্তের কথা যেনে আমাকে ২০হাজার টাকা দিয়ে আর্থিক সহযোগীতা করেছিলেন। পাশাপাশি তৎকালীন পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় ২০হাজার টাকা দিয়েছিলেন। তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
চিকিৎসার জন্য সবার সহযোগিতা চেয়ে রবিন বলেন, আমার এক কন্যা সন্তান রয়েছে। নিজের জমানো টাকা ও স্বজনদের সহয়তায় এখন চিকিৎসা চলছে। দুটি রেডিও থেরাপি ইমপালস ক্যানসার হাসপাতালে দেওয়া হয়েছে। আরও পাঁচটি থেকে ছায়টি রেডিও থেরাপি লাগবে। এখন চিকিৎসার টাকা সংগ্রহ হলে আবার হাসপাতালে গিয়ে রেডিও থেরাপি নেওয়া যাবে।
রবিন তালুকদার আরও বলেন, ক্যানসারের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা। কিন্তু এত টাকা ব্যয় করার সামর্থ্য নেই আমার বা পরিবারের। তাই সবার কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। রোগমুক্তি কামনায় সকলের দোয়া কামনা করেছেন তিনি।
রবিন তালুকদারকে বিকাশ ও নগদে সহায়তা পাঠানো যাবে, নম্বর – ০১৭৫২-৩০৭৭৯৫ (বিকাশ পার্সনাল) এবং ০১৭৫২-৩০৭৭৯৫ (নগদ পার্সনাল)।
উল্লেখ্য, সাংবাদিক রবিন তালুকদার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের উত্তর তারটিয়া গ্রামের মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম তালুকদারের ছেলে। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তার বড় ভাই ঢাকায় একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। মা, স্ত্রী, এক কন্যা সন্তান ও ছোট দুই ভাই নিয়েই তাদের সংসার।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাইভেটকার চালক মিল্টন মিয়া (৩৮) নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) সকালে সখীপুর-সাগরদীঘি আঞ্চলিক সড়কের কালিয়া বাজারে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মিল্টন মির্জাপুর উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের গাজেশ্বরী গ্রামের মোতাহার মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার কালিয়া বাজারে ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাইভেটকার চালক মিল্টন গুরুত্বর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের চাচাতো ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন মিল্টন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ প্রসঙ্গে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান জানান, কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ মরণ ব্যাধি থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত ইংরেজি দৈনিক দ্যা ডেইলি পোস্ট পত্রিকার টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি রবিন তালুকদারের চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে টাঙ্গাইল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ।
বুধবার (৩ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইল শহরের ভিক্টোরিয়া রোডে অবস্থিত সংগঠনের কার্যালয়ে অসুস্থ রবিন তালুকদারের চিকিৎসার্থে তার হাতে সহায়তার অর্থ তুলে দেন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের সভাপতি হাজী মুহা. সাজ্জাদুর রহমান খোশনবীশ, সাধারণ সম্পাদক কণ্ঠশিল্পী জিয়াদ সিদ্দিক, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ্ জনি, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফেরদৌস আরা ডায়না, কাজী নুসরাত ইয়াসমিন, শিউলি খান সনি প্রমুখ ।
অসুস্থ সাংবাদিক রবিন জানান, নিজের জমানো টাকা ও স্বজনদের সহয়তায় এখন চিকিৎসা চলছে। দুটি রেডিও থেরাপি ইমপালস ক্যান্সার হাসপাতালে দেওয়া হয়েছে। আরও পাঁচ থেকে ছায়টি রেডিও থেরাপি লাগবে।
তিনি আরও জানান, এত টাকা ব্যয় করার সামর্থ তার বা পরিবারের নেই। তাই তিনি সবার কাছে সহযোগিতা কামনা করছেন। রবিন তালুকদারকে বিকাশ ও নগদে সহায়তা পাঠানোর নম্বর-০১৭৫২-৩০৭৭৯৫ (বিকাশ পার্সোনাল) এবং ০১৭৫২-৩০৭৭৯৫ (নগদ পার্সোনাল)।
প্রকাশ, বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তান সাংবাদিক রবিন তালুকদার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের উত্তর তারটিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবুল কালাম তালুকদারের ছেলে। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি বর্তমানে বাসায় অবস্থান করে নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন। তার চিকিৎসার জন্য পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা প্রয়োজন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ইয়াবাসহ মা-ছেলেকে আটক করেছে সখিপুর থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) রাতে উপজেলার বেলতলী এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। বুধবার (৩ এপ্রিল) সকালে তাঁদের দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন, আতিক হাসান (২৩) ও তাঁর মা আরজিনা আক্তার (৩৯)।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বেলতলী গ্রামের সেন্টু মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেন্টু মিয়ার স্ত্রী আরজিনা ও ছেলে আতিক হাসানের কাছ থেকে ২০৫টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে মা-ছেলের নামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ইয়াবাসহ আটক মা-ছেলেকে বুধবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ দৈনিক সমাচার পত্রিকার কালিহাতী প্রতিনিধি, কালিহাতী প্রেসক্লাবের সদস্য ও উওর টাঙ্গাইল সাংবাদিক ফোরামের দপ্তর-সম্পাদক হারুনুর রশীদ আর নেই।
মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনিস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন ।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩৫ বছর। সে কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার কুড়িঘুরিয়া এলাকার আব্দুল লতিফের ছেলে।
মৃত্যুকালে তিনি ৬ বছরের ১ ছেলে, তিন বছরের ১ মেয়ে, স্ত্রী, বাবা-মা, বোনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
হারুনের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মার্চ রাতে রমজানের সেহরি ও ফজরের নামাজ আদায় করার পর হারুন হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করে। পরে তার বুকের ব্যথা আরো প্রচন্ড হলে দ্রুত তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর জেনারেল হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করে। পরে সেখানে কিছুটা সুস্থ্য হওয়ার পর তাকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। বাড়িতে আসার পর হারুন আবার অসুস্থ্য হয়ে পড়লে রবিবার (৩১ মার্চ) তাকে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনিস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে তারাবির নামাজের পর তার গ্রামের বাড়ি কালিহাতীর এলেঙ্গা পৌরসভার কুড়িঘুরিয়ার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
সাংবাদিক হারুনের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ ও সাধারন সম্পাদক নাসির উদ্দিন, উত্তর টাঙ্গাইল সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুকদার, সাধারন সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মোল্লা, এলেঙ্গা পৌরসভার মেয়র নুরে আলম সিদ্দিকী, টাঙ্গাইলের লোকাল অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রতিদিনের টাঙ্গাইল২৪.কমের সম্পাদক সন্তোষ কুমার দত্ত, কালিহাতী প্রেসক্লাবের সভাপতি রঞ্জন কৃষ্ণ পন্ডিত ও সাধারন সম্পাদক মোল্লা মুশফিকুর মিল্টন প্রমূখ।
একতার কণ্ঠঃ ঈদযাত্রায় বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মহাসড়ক পরিদর্শন করে গণশুনানী ও মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী বলেছেন, মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে সেতুর টোলপ্লাজা পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটারের মধ্যে মাত্র সাত কিলোমিটার এলাকায় চারলেনের কাজ চলছে।
আসন্ন ঈদযাত্রায় ওই সাত কিলোমিটার এলাকা সিঙ্গেল সড়কে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। ওই সাত কিলোমিটারে কোনো গাড়ি থামানো যাবেনা।
ওখানের প্রতি কিমিতে ১০জন করে দায়িত্বশীল ব্যক্তি সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকলে এ সমস্যা এড়ানো সম্ভব হবে। এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় প্রশাসন, পরিবহণ মালিক-শ্রমিক সমিতি সহ অংশিজনদের সহযোগিতা কামনা করেন।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রবিবার (৩১ মার্চ) দুপুরে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল-২০২৩-২৪ এর আওতায় ঈদযাত্রা ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে গণশুনানী ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী।
সভায় বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপ্রান্তের টোলপ্লাজায় টোলবুথ বাড়ানো, মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা দুইটি টোলবুথ স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওই সভায় জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বাসেক) বঙ্গবন্ধু সেতু অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল, টাঙ্গাইল সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী সিনথিয়া আজমিরী খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরফুদ্দিন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ, চার লেন প্রকল্পের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাইট ম্যানেজার মো. রবিউল আউয়াল, টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. বালা মিয়া প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার মহেলা এলাকার পুংলি নদী পাড়ের বালু মাটি কেটে অবৈধভাবে বিক্রি করছে স্থানীয় প্রভাবশালী মো. শাহ্আলম।
এই নদী পাড়ের বালু কেটে বিক্রি করায় একদিকে যেমন শহর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে, অন্যদিকে হুমকিতে রয়েছে রেলসেতু। এছাড়াও ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে স্থানীয় প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার।
মাঝেমধ্যে প্রশাসন লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করলেও কোন ভাবেই বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ এ বালু বিক্রি। ফলে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে বিপুল পরিমান রাজম্ব থেকে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, মহেলা গ্রামের পুংলি নদীতে ৬টি স্থানে ভেকু মেশিন বসানো হয়েছে। এই ভেকু মেশিন গুলোর সাহায্যে প্রায় ৫০টির অধিক ড্রাম ট্রাক দিয়ে দিনরাত উত্তোলনকৃত বালু বিক্রি করে আসছে ওই প্রভাবশালী শাহ্আলম।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পুংলি নদীর মহেলা অংশের প্রথম ঘাট চালায় এলেঙ্গা পৌরসভার স্থানীয় কাউন্সিলর মো. নুর আলমসহ শাহ্আলম, কাদের, জলিল, একাব্বর, মনির, আফজাল মোল্লা, মাজেদুল ও আফজাল প্রামানিক।
দ্বিতীয় ঘাট চালায় স্থানীয় মামুনসহ সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল বারেক, মো. জহুরুল ও শরীফ ।
এছাড়া তৃতীয় ঘাট চালায় ব্যাংকার মহসিনসহ শহিদউজ্জামান, আয়নাল ও তোফাজ্জল হোসেন।
স্থানীয়রা আরও জানায়, দিনরাত বালুভর্তি ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারণে টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধ ও ওই এলাকার একমাত্র যাতায়াতের রাস্তাটির চরম বেহাল দশা হয়েছে। সামনেই বর্ষা মৌসুম। এলাকাবাসীর ধারণা এভাবে দিনরাত বালুভর্তি ড্রাম ট্রাক চলাচল করলে এই বর্ষা মৌসুমেই ভেঙে পড়তে পারে রেল সেতু ও সড়ক সেতুসহ টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধ।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানায়, মো. শাহ্আলম স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় দাপটের সহিত চলাফেরা তার। এছাড়াও রয়েছে তার বিশাল বাহিনী। সে সবসময় বাহিনী নিয়ে চলাফেরা করে। তার ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না। প্রতিবাদ করলে তার উপর হামলা চালায়। ইতোপুর্বে তার বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছে এলাকার অনেকেই।
তারা আরও জানায়, প্রশাসনের সাথে সখ্যেতা রয়েছে শাহ্আলমের। প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই পুংলি নদী থেকে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে সে। মাঝেমধ্যে প্রশাসন দায় এড়ানোর জন্য আসে। আসার আগেই খবর পেয়ে যায় তারা। প্রশাসন ঘুরে চলে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার শুরু হয় অবৈধ বালু উত্তোলন।
বালুভর্তি ট্রাক রেল সেতুর নিচ দিয়ে চলাচল করায় ইতোপুর্বেও রেল সেতুটির গার্ডার ধসে পড়েছিলো। পড়ে টনক নড়ে প্রশাসনের। কিছুদিন পূর্বে রেল সেতুর নিচ দিয়ে যেন কোন ধরনের যানবাহন চলাচল করতে না পারে সেজন্য কর্তৃপক্ষ পিলার দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। সম্প্রতি ওই বালু ব্যবসায়ীরা ওই পিলার তুলে ট্রাক চলাচলের রাস্তা বানিয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে মো. শাহ্আলম মুঠোফোনে বলেন, তিনি নদী থেকে বালু মাটি কাটেননা। তিনি তার বাবার পৈত্রিক সম্পত্তির বালু মাটি কেটে বিক্রি করছে।
এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহাদাৎ হুসেইন বলেন, তিনি উপজেলা সহকারী কর্মকর্তা (ভুমি) এসিলেন্ডকে বলে দিয়েছে, তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।