/ হোম / আমাদের টাঙ্গাইল
এলাকায় আমি রাজনীতি করি না, কোনও দলমত নেই : কাদের সিদ্দিকী - Ekotar Kantho

এলাকায় আমি রাজনীতি করি না, কোনও দলমত নেই : কাদের সিদ্দিকী

আরমান কবীরঃ কৃষক-শ্রমিক জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেছেন, এত ছোট্ট দেশে কীসের দলমত। আমি বাসাইল-সখীপুরের রাজনীতিও করি না। জন্ম আমার এখানে, বড় হয়েছি এখানে। এ অঞ্চলের মানুষের বিপদে-আপদে সব সময় পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। যতক্ষণ বেঁচে থাকবো ততক্ষণ আমি সবার। এখানে আমার কোনও দলমত কিছুই নেই।

রবিবার (১৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কেন্দ্রীয় শ্মশান মন্দিরে অষ্টকালীন লীলা কীর্তন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমি এখানে কোনও রাজনীতির কথা বলতে আসিনি। যাদের দল করা দরকার তারা করুক। আমি আছি মানুষের পেছনে। সেখানে আমার কাছে হিন্দু-মুসলমান নেই, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানও নেই। আমি ছেলে বেলায় লেখাপড়া করতাম না। কিন্তু এখন আমি লেখাপড়া করি। আমি লেখাপড়া করে দেখেছি স্রষ্টা একজন। তার সৃষ্টি আমরা সবাই। আল্লাহ এক, ভগবানও এক। আমি সেই আল্লাহ’র সৃষ্টি কাউকে অবহেলা করতে পারি না।

তিনি আরও বলেন, যারা ক্ষমতা দেখায়, তারা প্রকৃত মানুষ না। প্রকৃত মানুষ হতে আল্লাহ’র প্রতি শ্রদ্ধা রাখতে হবে, মানুষকে ভালোবাসতে হবে। এই পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে শুধু ভালোবাসার কারণে। আপনারা একে অপরকে ভালোবাসবেন, সবাইকে সম্মান করবেন, অন্যের পাশে দাঁড়াবেন। জন্মের পর মৃত্যু অবধারিত। যত ক্ষমতা, যত ধন-দৌলত একদিন এর কোনও মূল্য থাকে না। যারা শ্রদ্ধা নিয়ে ভালোবাসা নিয়ে ও ভক্তি নিয়ে স্রষ্টার নাম নিতে পারে তারাই শুধু সসম্মানে সারাজীবন কাটাতে পারে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সভাপতি ও বাসাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র রাহাত হাসান টিপু, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান খান, জেলা যুব আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক ইবনে হাসান টিটু, বাসাইল পৌর যুব আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সমির নাগ প্রমুখ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. জানুয়ারী ২০২৫ ০৩:৪৮:এএম ১ বছর আগে
টাঙ্গাইলে পর্নোগ্রাফি মামলায় স্কুল ছাত্রী আটক - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে পর্নোগ্রাফি মামলায় স্কুল ছাত্রী আটক

আরমান কবীরঃ: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে শিক্ষিকা ও ছাত্রীসহ বিভিন্নজনের ছবি ব্যবহার করে পর্নো ভিডিও বানিয়ে বিভিন্ন ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে পোষ্ট করে টাকা দাবীর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক স্কুল ছাত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) সকালে আটক ওই স্কুল শিক্ষার্থীকে আদালতে প্রেরণ করেছে থানা পুলিশ।

এরআগে রবিবার(১৯ জানুয়ারি )রাতে উপজেলার পূর্ব ভূঞাপুর বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। তার বাড়ি উপজেলার ফলদা ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামে । সে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী।

এদিকে ওই স্কুল ছাত্রীকে আটকের খবরে থানায় হাজির হয় কয়েকজন ভুক্তভোগী। এসময় তারা ওই ছাত্রীসহ তার অভিভাবকদেরও শাস্তি দাবী করেন।

পুলিশ জানায়, উপজেলার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষিকা, ছাত্রী ও ব্যক্তিদের ছবি ব্যবহার করে পর্নো ভিডিও তৈরি করে একাধিক ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ বানিয়ে সেখানে পোষ্ট করা হয়। পরে পোষ্ট করা ভিডিওর সাথে মোবাইল নম্বর দিয়ে লাখ লাখ টাকা চাওয়া হয়। ‘দিলরুবা’ ও ‘রাকিবুল ইসলাম’ নামের আইডি থেকে এলাকার অনেকের আইডি যুক্ত করে ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ তৈরি করে। পরে সেই গ্রুপে পর্নো ভিডিও পোষ্ট করা হয়। পরে ফেসবুক, গুগল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে আইডিগুলোর মালিক বা ব্যবহারকারী সনাক্ত করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ভূঞাপুর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীর ফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে জব্দ করা ফোনে এসব পোষ্ট ও ভিডিও’র ছড়ানোর সত্যতা পাওয়া যায়।

পর্নো আইনে বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে অন্য কোন ব্যক্তির সামাজিক বা ব্যক্তি মর্যাদা হানি করিলে বা ভয়ভীতির মাধ্যমে অর্থ আদায় বা অন্য কোন সুবিধা আদায় বা কোন ব্যক্তির জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে ধারণকৃত কোন পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে উক্ত ব্যক্তিকে মানসিক নির্যাতন করিলে তিনি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য তিনি সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

আটক ঐ স্কুল ছাত্রী জানায়, আমার ছবি ব্যবহার করে পর্নো ভিডিও বানানো হয়েছে। সেই ভিডিও দিয়ে আমার পরিবারের কাছে টাকা চাওয়া হয়েছে। ঘটনার জড়িত মির্জাপুরের সিমান্ত ও গোপালপুরের সিফাতকে পুলিশ ডেকে এনেছিল। তারা স্বীকারও করেছে কিন্তু তারপরও তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এধরনের সাথে কাজের সাথে আমি জড়িত না সেটার প্রমাণ আমার কাছে আছে।

আটক ঐ স্কুল ছাত্রীর বাবা বলেন, আমার মেয়ের ছবি দিয়ে নগ্ন ভিডিও বানিয়ে টাকা দাবী করা হয়েছিল। যে নম্বরগুলোতে টাকা চাওয়া হয়েছিল তাদের পুলিশ ধরেছিল। তারা স্বীকারও করেছে এই ঘটনা। সে সময় মেয়ের মোবাইল চেক করে কোন কিছু পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফেরত দিলেও রবিবার রাতে মেয়েকে থানায় নিয়ে যায়। পরে সোমবার পর্নোগ্রাফি মামলায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এটার সাথে মেয়ে জড়িত না।

ভূঞাপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, জি-মেইল দিয়ে একাধিক ফেসবুক আইডি খোলা হয়েছে ওই ছাত্রীর মোবাইল দিয়ে। লোকলজ্জার ভয়ে অনেকেই কিছু বলতে চান না। এই ঘটনায় ভুক্তভোগি একজন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়। এতে গুগল, ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হয়। পরে তদন্তে আইডি’র ব্যবহারকারীর পরিচয় সনাক্ত হওয়ার পরই ওই ছাত্রীকে আটক করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. জানুয়ারী ২০২৫ ০২:১২:এএম ১ বছর আগে
টাঙ্গাইলে শীতার্তদের মাঝে ফরহাদ ইকবালের শীতবস্ত্র বিতরণ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে শীতার্তদের মাঝে ফরহাদ ইকবালের শীতবস্ত্র বিতরণ

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল‌ সদর উপজেলার মগড়া‌ ইউনিয়নের সুবিধা বঞ্চিত শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন জেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল।

রবিবার (১৯ জানুয়ারী ) দুপুরে মগড়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্তরে এ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।এসময় ইউনিয়নের ৪ শতাধিক শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হাদিউজ্জামান সোহেল, মামুন সরকার, তাতীদল সাধারন সম্পাদক হাবিবুর রহমান, মহিলাদল নেত্রী এডভোকেট রক্সি মেহেদী, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদা আক্তার স্বপ্না, বিএনপি নেতা রুহুল আমিন, বাবু, ছাত্রদল নেতা আরেফিন রানা, হেলাল প্রমূখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মগড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক এসএম আনিছুর রহমান।

অনুষ্ঠানে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২০. জানুয়ারী ২০২৫ ০৩:২১:এএম ১ বছর আগে
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চোর সন্দেহে ছানোয়ার হোসেন (৩৭) নামে একজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ১ যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে শহরের কোদালিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতের যুবককে নাম সাইফুল্লাহ সিরাজ(২৭)ওরফে সোহাগ। সে টাঙ্গাইল পৌরসভার কোদালিয়া এলাকার সিরাজুল হকের ছেলে। সাইফুল্লাহ সিরাজের গ্রামের বাড়ি জেলার নাগরপুর উপজেলায়। সিরাজ কোদালিয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ।

এর পুর্বে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিহত ছানোয়ার হোসেনের পিতা হাসমত আলী বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দিনে-দুপুরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মতো জায়গায় চুরির অভিযোগে একজন যুবকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় শহরের ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান, নিহতের পিতা হাসমত আলী বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে অজ্ঞাত ৮/ ১০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে সাইফুল্লাহ সিরাজ(২৭)ওরফে সোহাগকে সনাক্তকরণের পর শনিবার রাতে শহরের কোদালিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরো জানান, রবিবার(১৯ জানুয়ারি )সকালে সাইফুল্লাহ সিরাজের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে টাঙ্গাইল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য,বৃহস্পতিবার(১৬ জানুয়ারি) বিকালে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার মেডিসিন ওয়ার্ড (মহিলা) থেকে ৮/ ১০ জন যুবক নিহত ছানোয়ার হোসেনকে জোর করে ধরে এনে চোর বলে বেধড়ক পেটাতে থাকে। এ সময় ছানোয়ার হোসেন জীবন বাঁচাতে যুবকদের হাতে পায়ে ধরে রক্ষা পায়নি। এমনকি ছানোয়ার হোসেনকে বাঁচাতে হাসপাতালের কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে ছানোয়ার হোসেন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লে যুবকরা পালিয়ে যায়।নিহত ছানোয়ার হোসেন জেলার মধুপুর উপজেলার গোলাবাড়ী ইউনিয়নের ভট্টবাড়ী গ্রামের হাসমত আলীর ছেলে‌ । সে শহরের আকুর-টাকুর পাড়ায় জনৈক পায়েলের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতো।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২০. জানুয়ারী ২০২৫ ১২:৩১:এএম ১ বছর আগে
নাগরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

নাগরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. কুদরত আলীকে (৫৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার(১৮ জানুয়ারি) বিকালে নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কুদরত আলী একই উপজেলার বাবনাপাড়া গ্রামের আব্দুল বারেক মিয়ার ছেলে এবং সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান।

নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জুলাই সকালে নাগরপুর বাজারে শান্তিপূর্ণভাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি পালনকালে একটি সন্ত্রাসী দল ছাত্রদের ওপর হামলা চালায়। ওই হামলার ঘটনায় দপ্তিয়র ইউনিয়নের ছাত্র মো. তাইজুল ইসলাম নাগরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। নাগরপুর থানার মামলা নম্বর ২।

নাগরপুর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের দায়েরকৃত মামলায় নাগরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. কুদরত আলীকে মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. জানুয়ারী ২০২৫ ০৩:৪৬:এএম ১ বছর আগে
টাঙ্গাইলের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে অবাধে তামাক চাষ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে অবাধে তামাক চাষ

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে তামাক চাষে সয়লাব হয়ে গেছে। তামাক ও তামাকজাত পণ্য চাষের ক্ষেত্রে সরকারি অনুমোদন নেওয়ার আইনগত বিধান থাকলেও তার তোয়াক্কা না করেই অধিক লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছর নতুন নতুন ফসলি জমি তামাক চাষে যুক্ত হচ্ছে। এই সব কৃষকরা দীর্ঘ মেয়াদে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে বেশি লাভ ও বহুজাতিক কোম্পানির অর্থায়ন ও প্রলোভনে প্রতিবছর যুক্ত হচ্ছে তামাক চাষে ।তামাক চাষে ‘কারগিল’ নামক সার প্রয়োগের ফলে চাষি ও তার পরিবারের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে, ফসলি জমির উর্বরা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে। এ ছাড়া জেলায় কমছে ফসলি জমির পরিমাণ।

এদিকে তামাক চাষ নিয়ে উদাসীন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তাঁদের কাছে জেলার তামাক চাষের কোন ধরনের তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আশেক পারভেজ।

জানা গেছে,টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী, জগৎপুরা, বামনহাটা, চর নিকলা, নিকরাইল, পালিমা, আমুলা, কালিহাতী উপজেলার সল্লা, দেউপুর, চর হামজানী, কদিম হামজানী, পটল, বেরী পটল, জোকারচর, গোহালিয়াবাড়ী, কুর্শাবেনু, গোবিন্দপুর, ধলাটেঙ্গর,টাঙ্গাইল সদরের কাকুয়া, হুগড়া, কাতুলী, মামুদ নগর, চর পৌলী, দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিন, দেউলী, লাউহাটি, নাগরপুরের পাকুটিয়া, ভাদ্রা, বেকরা, আটাপাড়া, সলিমাবাদ, ধুবুরিয়া, মোকনা, বনগ্রাম, শাহজানী প্রভৃতি অঞ্চলে দিগন্তজুড়ে তামাক চাষ হচ্ছে।
এরমধ্যে ভূঞাপুর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর ও নাগরপুর উপজেলায় তামাক চাষের পরিমান সবচেয়ে বেশি।
বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেড, জাপান টোব্যাকো কোম্পানী লিমিটেড, আবুল খায়ের টোব্যাকো কোম্পানীসহ বিভিন্ন বিড়ি, সিগারেট ও জর্দা তৈরির প্রতিষ্ঠান সহ আরো কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব প্রতিনিধির মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করছে। সরকারি কোনরূপ তৎপরতা না থাকার ফলে কৃষকদের চাষে উৎসাহ জোগাচ্ছে টোব্যাকো কোম্পানীগুলো।

সরেজমিনে কালিহাতী উপজেলার চরাঞ্চল দুর্গাপুর ইউনিয়নের চরহামজানী, কদিমহামজানী গ্রামে গিয়ে দেখা যায় অধিকাংশ কৃষকই তামাক চাষ করেন।
তামাক চাষি আমির আলী, হারেছ মিয়া, শুকুর মামুদসহ অনেকেই জানান, কোম্পানি (তামাক ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান) থেকে তাদের বীজ, সার, কীটনাশক, ত্রিপল ও কাগজসহ উৎপাদনের যাবতীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হয়ে থাকে। আবার তারাই তামাক পাতা কিনে নেয়। টাঙ্গাইল জেলায় মূলত ব্রিটিশ-অ্যামেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি ও জাপান টোব্যাকো কোম্পানি তামাক চাষে কৃষকদের সহযোগিতা দিয়ে থাকে বলে জানান তারা।
তামাক চাষি জব্বার মিয়া জানান, তিনি দীর্ঘ ৮ বছর ধরে তামাক চাষ করছেন। তামাক চাষে অন্য ফসলের তুলনায় দ্বিগুণ লাভ হয়। তার মতে, এতে শরীরের ও পরিবেশের ক্ষতি হলেও লাভের অংক অনেক বেশি। তাই তামাক চাষ করেন। পাতার আকার ও সংরক্ষণের প্রকারভেদে কোম্পানি দাম কমবেশি নির্ধারণ করে। কোম্পানির লোক ছাড়া বাইরের কেউ তামাক কিনে না- বিক্রি করারও সুযোগ নেই।

টাঙ্গাইল জেলায় তামাক চাষে লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ-অ্যামেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি ও জাপান টোব্যাকো কোম্পানির স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে তারা কোম্পানির দেওয়া দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে থাকেন বলে জানান।

টাঙ্গাইলের পরিবেশ উন্নয়ন কর্মী সোমনাথ লাহিড়ী জানান, তামাক চাষে জড়িত চাষী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তামাক মারাত্মক নিউরো-টক্সিক ইফেক্ট তৈরি করে। শরীরের দীর্ঘদিন এর প্রভাব থাকে। এ ছাড়া তামাক চাষ পরিবেশ ও প্রতিবেশের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। তামাক চাষে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের সার ও কীটনাশক জমির উর্বরতা হ্রাস করে। বাংলাদেশ তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী তামাক চাষের পূর্বে অনুমতি নিতে হয়, আমি যতদূর জানি, টাঙ্গাইলে তামাক চাষের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়া হয় না।

তিনি আরো জানান,ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান দাদন দিয়ে কৃষকদের তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করে। গ্রামের অসহায় কৃষক না বুঝে তাদের জমি ও জীবনের চরম ক্ষতি করছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে গণসচেতনতা এবং তামাকজাত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করা দরকার।

তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ডাঃ জিল্লুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন তামাক চাষে যুক্ত থাকলে ক্যানসার, পেটের পীড়া, ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমা, চর্ম, বুক ও ঘাড়ে ব্যথাসহ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এছাড়া তামাক চাষিদের সন্তানদের ‘গ্রিন টোবাকো সিন্ড্রম’ নামে এক জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তিনি আরো বলেন,তামাকজাত দ্রব্য এড়াতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর আইন প্রয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আশেক পারভেজ জানান, তামাক চাষের বিষয়ে সরকারিভাবে তাদের কোনো নির্দেশনা নেই। তাই এ ক্ষেত্রে তারা কোনো মতামত ও তামাক চাষে হস্তক্ষেপ করেন না। তবে তামাক চাষ রোধে গণসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি সরকারেরও ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. জানুয়ারী ২০২৫ ০১:১৭:এএম ১ বছর আগে
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চোর সন্দেহে যুবককে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চোর সন্দেহে যুবককে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ছানোয়ার হোসেন(৩৭) নামে এক যুবককে চোর সন্দেহে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। পরে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।

নিহত ছানোয়ার হোসেন জেলার মধুপুর উপজেলার গোলাবাড়ী ইউনিয়নের ভট্টবাড়ী গ্রামের হাসমত আলীর ছেলে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার বিকালে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার মেডিসিন ওয়ার্ড (মহিলা) থেকে ৪/ ৫ জন যুবক নিহত ছানোয়ার হোসেনকে জোর করে ধরে এনে চোর বলে বেধড়ক পেটাতে থাকে। এ সময় ছানোয়ার হোসেন জীবন বাঁচাতে যুবকদের হাতে পায়ে ধরে রক্ষা পায়নি। এমনকি ছানোয়ার হোসেনকে বাঁচাতে হাসপাতালের কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে ছানোয়ার হোসেন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লে যুবকরা পালিয়ে যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন জানায়, এ ভাবে দিনে-দুপুরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মতো জায়গায় চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছি না। অবিলম্বে হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান, জেনারেল হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় এক যুবককে চোর সন্দেহে কয়েকজন দুর্বৃত্ত পিটিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান,পুলিশ সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৭. জানুয়ারী ২০২৫ ০৬:৩৯:এএম ১ বছর আগে
টাঙ্গাইলে সমন্বিত বন্যা সহনশীল কর্মসূচি পর্যায়-৩ এর উদ্বোধন - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে সমন্বিত বন্যা সহনশীল কর্মসূচি পর্যায়-৩ এর উদ্বোধন

আরমান কবীরঃ বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের উদ্যোগে সমন্বিত বন্যা সহনশীল কর্মসূচি (আইএফআরসি) পর্যায়-৩ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি)দুপুরে আইএফআরসি’র কারিগরি সহায়তায় মিনিস্ট্রি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্সের কোরিয়া গভারমেন্টের অর্থায়নে এনজিও ফোরাম টাঙ্গাইলের হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সঞ্জয় কুমার মহন্ত।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন জেলা শিক্ষা কমকর্তা (মাধ্যমিক) রেবেকা সুলতানা, জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আকতারুজ্জামান, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির উপ-পরিচালক ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন, আইএফআরসি’র ম্যানেজার বিপ্লব ক্রান্তি মন্ডল, ইউনিট লেভেল কর্মকর্তা মঈনুদ্দিন, আইএফআরসি বিডিআরসিএস’র পিএমইআর অফিসার মো. মোমিনুল হক, একাউন্টস এন্ড এডমিন মো. হুমায়ন কবির, আইএফআরসি পর্যায় -৩ এর প্রোগ্রাম অফিসার মো. মতলেবুর রহমান, যুব প্রধান আল আমিন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলার কৃষি, প্রানী সম্পদ ও শিক্ষাসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, উপকারভোগী ও বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিবৃন্দ, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং যুব সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৬. জানুয়ারী ২০২৫ ১১:১৩:পিএম ১ বছর আগে
টাঙ্গাইলে লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসব শুরু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসব শুরু

আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে শুরু হয়েছে লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসব।বুধবার(১৫ জানুয়ারি )সকাল ১১টায় শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে কালচারাল রিফরমেশন ফোরাম, টাঙ্গাইলের আয়োজনে তিন দিন ব্যাপী লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল রানা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব হাসান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসব কমিটির আহবায়ক আবুল কালাম মোস্তফা লাবু।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন
বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব গোলাম আম্বিয়া নুরী, জেলা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হামিদুল হক মোহন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে দর্শকের উপস্থিতিতে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ লাঠিখেলা,ও মেয়েদের হাডুডু খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

এ পিঠা মেলায় ৪২ টি স্টলে স্থান পেয়েছে দুধের পিঠা, ভাপা, নকশি, চিতই, পাঠিসাপটা, জামাই বরণ পিঠা, ডাল ও তালের পিঠা সহ বিভিন্ন রকমের পিঠার সমারাহ।

মেলায় দর্শনার্থীরা জানায়, কুয়াশার সকালে কিংবা সন্ধ্যায় হিমেল বাতাসে মুখরোচক পিঠার স্বাদ নেওয়া ভোজন বিলাসী বাঙালির ঐতিহ্যের অংশ।

চলচ্চিত্র পরিচালক ও মেলায় অংশগ্রহণকারী বাইস্কোপ পিঠাঘরের স্বত্বাধিকারী রিয়াজুল রিজু জানান, নবীন ও প্রবীণের সমন্বয় এই পিঠার উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে এজন্য আমি আনন্দিত।
নতুন প্রজন্মের সঙ্গে দেশীয় পিঠার পরিচয় করিয়ে দিতে আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ জানান তিনি। প্রতি বছর যেন এ রকম লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয় এমনটা প্রত্যাশা তার।

মেলায় ঘুরতে আসা টাঙ্গাইল সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক প্রকৌশলী জাহিদ রানা জানান, দীর্ঘদিন পর টাঙ্গাইলে একটি ব্যতিক্রমধর্মী লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসবের আয়োজনে আসতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আমি প্রতিটি পিঠার স্টল ঘুরে দেখেছি। স্টলে বিভিন্ন রকমের পিঠার ডালি সাজিয়ে রেখেছে দোকানিরা। খুব ভালো লাগলো। নতুন নতুন অনেক পিঠার সাথে পরিচিত হলাম। সেগুলোর স্বাদ নিলাম। পিঠাগুলো খুব মজার ছিল।

লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসব কমিটির সদস্য সচিব অনীক রহমান বুলবুল জানান, ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসবে থাকবে, লাঠি খেলা, ছেলেদের ও মেয়েদের হাডুডু খেলা, সং যাত্রা, যাদু প্রদর্শন, যাত্রাপালা,পুথি পাঠ, লোকজ গান, গোল্লাছুট, ওপেন টু বাইস্কোপ, বাইস্কোপ, কুতকুত, খেলা সহ, হামদ, নাথে রাসুল, কীর্তন, শ্যামা সংগীত সহ দেশোজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই পিঠা উৎসবের মূল আকর্ষণ হল মেলায় ঢেঁকিতে প্রকাশ্যে চিড়াকোটা ও মুড়ি ভাজা হবে। পিঠা কিভাবে তৈরি হয় সেটা দর্শক ও শিশুদের দেখানো হবে।

লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসব কমিটির আহবায়ক আবুল কালাম মোস্তফা লাবু জানান, দীর্ঘ সময় ধরে এই বাংলাদেশে লোকজ সংস্কৃতি বিলুপ্তি প্রায়। যান্ত্রিক যুগে মোবাইলের কারণে শিশুরা লোকজ ও সাংস্কৃতিক থেকে একেবারে দূরে সরে গেছে। লোকজ সংস্কৃতি কি, শিশুরা তা জানে না। সম্প্রতি অভিভাবকের কাছে জানতে পারলাম, শিশু তার বাবাকে প্রশ্ন করেছে মুড়ি কোন গাছে হয়। মুড়ি যে গাছে ধরে হয় না,শিশুর এমন প্রশ্ন দোষের না। কারণ শিশুরা মাঠে-ঘাটে খেলাধুলার বাস্তবতা থেকে অনেকটাই দূরে। সেই অনুভব থেকে আমরা এ রকম লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসবের আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ লোকজ ও সাংস্কৃতি আগত ও বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

তিনি আরো জানান, মেলায় বাঙালি কৃষ্টি ও লোকজ ঐতিহ্যের স্মারক বাহারি পিঠা প্রদর্শন, ক্রয়, বিক্রয় ও ভোজনুৎসবের পাশাপাশি উন্মুক্ত মঞ্চে প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকবে লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. জানুয়ারী ২০২৫ ১০:১১:পিএম ১ বছর আগে
সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত - Ekotar Kantho

সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার( ১৪ জানুয়ারি )দিনব্যাপি কলেজ ক্যাম্পাসে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের শীতকালীন পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

স্বাগত বক্তব্য ও বেলুন উড়িয়ে এই উৎসবের উদ্বোধন করেন-কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম. আসাদুজ্জামান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর খন্দকার আরিফ মাহমুদ, শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক প্রফেসর মো. শফিকুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মো. আলী আশরাফ খান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় করেন, দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ নূর-এ আলম সুমন ও হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. শফিকুল ইসলাম।

কলেজের ১৫টি অনার্স বিভাগসহ রোভার স্কাউট, বিএনসিসি ও রেড ক্রিসেন্টসহ ১৮টি স্টলে জামাই পিঠা,রস পাকন,মুলাসুন্দরী পিঠা, লবঙ্গ লতিকা, ভাপা পুলিসহ নানা নাম ও রংবেরংয়ের পিঠা প্রদর্শন করা হয়।

উদ্বোধন শেষে পিঠা উৎসবের স্টল পরিদর্শন করেন কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম. আসাদুজ্জামানসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা।

এই পিঠা উৎসবকে ঘিরে কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মিলন মেলায় পরিনত হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. জানুয়ারী ২০২৫ ০২:৩৬:এএম ১ বছর আগে
টাঙ্গাইলে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে ছাড়াতে জামায়াত নেতাদের থানায় তদবির - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে ছাড়াতে জামায়াত নেতাদের থানায় তদবির

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে শহর যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সক্রিয় সদস্য মানিক বাবু ও ছাত্রলীগ নেতা ইসমাইলকে ছাড়ানোর তদবির চালাচ্ছেন জামায়াত নেতাকর্মীরা বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার(১৩ জানুয়ারি )রাতে তাদের পৌর শহরের বৈল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আটককৃতরা হলেন,টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মানিক বাবু ও শহর ছাত্রলীগের কর্মী ইসমাইল।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে দেখা গেছে, টাঙ্গাইল মডেল থানায় জামায়াতের জেলা ও শহর শাখার নেতাকর্মীরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার রুমে বসে আছেন। তারা জানান, তাদের দুইজন কর্মীকে ছাড়াতে এসেছেন। অতীতে তারা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন বলে স্বীকার করেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,বিগত সময়ে মানিক বাবু ও ইসমাইল দু’জনে টাঙ্গাইল সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সভাপতি ছানোয়ার হোসেন,টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম সিরাজুল হক আলমগীর, শহর আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান ইমুর ঘনিষ্ঠ ছিলেন মানিক বাবু ও ইসমাইল।

এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে বিভিন্ন সময়ের ছবিও রয়েছে এই দু্ইজনের। পাশাপাশি ২০১৯ সালের টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী যুবলীগের অনুমোদিত আহ্বায়ক কমিটির তালিকায় ২০ নং সদস্য রয়েছেন মানিক বাবু।

টাঙ্গাইল পৌরসভার আমীর মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন,একজনে এক দল করতেই পারে কিন্তু ২০১৯ সালে আটককৃতরা আমাদের দলের সহযোগী কর্মী হয়। অন্য দল হলে আমরা ছাড়াতে আসবো কেন ?

টাঙ্গাইল জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম বলেন,যে দুজন আটক হয়েছে তারা আমাদের কর্মী, তারা এক সময় আওয়ামীলীগের রাজনীতি করতো। তবে তারা এখন আমাদের কর্মী।

টাঙ্গাইল জামায়াতের আমীর আহসান হাবীব মাসুদ বলেন,দীর্ঘদিন আগে আটককৃতরা আওয়ামীলীগের কর্মী ছিলো। এরপর থেকে তারা আমাদের দলের হয়ে কাজ করছে ও দলের সক্রিয় সদস্য ।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি) তানবীর আহাম্মেদ জানান,জামায়াতের লোকজন দাবী করছে তাদের কর্মী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তারা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলো। এছাড়াও মানিক বাবু নিজেকে ছাত্র সমন্বয়ক হিসেবে দাবী করছে। যাছাই বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. জানুয়ারী ২০২৫ ০১:৩০:এএম ১ বছর আগে
নিহত সেনা কর্মকর্তা তানজিমের বাবা-মায়ের কাছে ফ্ল্যাটের চাবি হস্তান্তর - Ekotar Kantho

নিহত সেনা কর্মকর্তা তানজিমের বাবা-মায়ের কাছে ফ্ল্যাটের চাবি হস্তান্তর

একতার কণ্ঠঃ দুর্বৃত্তদের আঘাতে নিহত টাঙ্গাইলের কৃতি সন্তান লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জনের বাবা-মায়ের কাছে পূর্বাচলে অবস্থিত জলসিড়ি আবাসনের একটি ফ্ল্যাটের চাবি হস্তান্তর করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে সেনাসদরে ফ্ল্যাটের চাবি হস্তান্তর করা হয় বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের চকরিয়ায় যৌথবাহিনীর ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযান পরিচালনাকালে দুর্বৃত্তদের আঘাতে নিহত হন লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার (২৩)। তার নিহতের ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তি দেয় আইএসপিআর।

গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার সময় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চকরিয়া উপজেলার অন্তর্গত ডুলহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামে ডাকাতির খবর পেয়ে চকরিয়া আর্মি ক্যাম্প থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল দ্রুত সেখানে যায়।

ভোর রাত ৪টার দিকে মাইজপাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করার সময় ৭/৮ সদস্যের একটি ডাকাত দল সেনা টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যত্র পালিয়ে যাওয়ার সময় লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন ডাকাত দলের কয়েকজনকে তাড়া করেন। এসময় ডাকাত দলের সদস্যরা লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জনের ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করলে গুরুতর আহত হন এবং এতে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নির্জনকে উদ্ধার করে মালুমঘাট মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে তিন ডাকাতকে আটকসহ একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক, ৬ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও, ডাকাত সন্দেহে আরও তিন জনকে আটক করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশমাতৃকার সেবায় এ তরুণ সেনা কর্মকর্তার আত্মত্যাগ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে এবং সেই সাথে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সব সদস্যের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।

লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের করের বেতকা এলাকার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সারোয়ার জাহান ও মাতা নাযমা বেগমের দুই সন্তানের মধ্যে নির্জন একমাত্র ছেলে।

নির্জন পাবনা ক্যাডেট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন এবং ২০২২ সালের ৮ জুন বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে আর্মি সার্ভিস কোর শাখায় কমিশন লাভ করেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৪. জানুয়ারী ২০২৫ ১১:১৫:পিএম ১ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।