একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় ঘুরতে বের হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেল আরোহী দুই বন্ধু নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরেক বন্ধু।
রবিবার (০৪ জুন) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের গারোবাজার-কাকরাইদ আঞ্চলিক সড়কের হাজীবাড়ী মোড় নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই বন্ধু হলেন: ঘাটাইল উপজেলার টেপি কুশারিয়া গ্রামের মো. সুরুজ আলীর ছেলে সাব্বির আলম (১৮) এবং রমজান আলীর ছেলে মো. হাবিব (১৭)। এ সময় সাদিক নামে তাদের আরেক বন্ধু আহত হয়েছেন। তাকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, তিন বন্ধু মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হয়। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই সাব্বির ও হাবিব নিহত হয়। গুরুতর আহত হয় সাদিক নামে আরেকজন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
তিনি বলেন, সাদিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মারা যাওয়া দুই বন্ধুর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আনা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সহ জনবলের অভাবে পুরোপুরিভাবে স্বাস্থ্য সেবা চালু হচ্ছেনা। চাহিদা অনুযায়ী জনবল চেয়ে মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও ফলপ্রসূ হয়নি।
ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিশালকায় ভবন এক প্রকার পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। টাঙ্গাইলের ৪০ লাখ মানুষ কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের পাশে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ১৫তলা ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করে গণপূর্ত বিভাগ। ২০১৮ সালের শেষ দিকে ভবন নির্মাণ শেষ হয়। ২০২২ সালের ২২ মার্চ হাসপাতাল ভবন কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেয় গণপুর্ত বিভাগ।
সূত্রমতে, শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অন্তঃবিভাগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে মেডিসিন বিভাগ চালু করা হয়। এছাড়া শিশু, ডায়রিয়া, কার্ডিওলজি, অবস(গাইনী), চক্ষু, নাক, কান, গলা, পোস্ট অপারেটিভ, আইসিইউ, সিসিইউ, সার্জারী, অনক্লোনজি ও অর্থপেডিক ওয়ার্ড চালুর প্রক্রিয়া চলছে।
সূত্র জানায়, গত বছরের ২১ জুন থেকে হাসপাতালের বহিঃবিভাগে মেডিসিন, শিশু, গাইনী, সার্জারী, চক্ষু, ডেন্টাল, বক্ষব্যাধি, নিউরোলজি, ইউরোলজি, মানসিক, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, ফিজিক্যাল মেডিসিন, চর্ম ও যৌন, কার্ডিওলজি, নেফরোলজি, অর্থপেডিক, অনক্লোনজি(ক্যান্সার) সেবা চালু রয়েছে। গত বছরের শুরু থেকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ইসিজি, সিটিস্ক্যান, এক্সরে সহ বিভিন্ন পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ১০টি আইসিইউ বেড, সিসিইউ ও ১৫টি অপারেশন থিয়েটার চালু করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, জনবল সঙ্কটে হাসপাতালে পুরোপুরি স্বাস্থ্য সেবা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে ৬৫ জন ডাক্তার প্রয়োজন। সেখানে রয়েছে ৬১ জন। তারা নিয়মিত কর্মস্থলে থাকেন না। অনেকে ঢাকা থেকে এসে অফিস করেন।
১৬৫ জন নার্সের মধ্যে মাত্র ৩৯ জন নার্স রয়েছে। তাদের মধ্যে চার জন প্রশিক্ষণে ও দুই জন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে এবং দুই জন ইনচার্জে দায়িত্ব পালন করছেন। ৩৭৭ জন আউটসোর্সিং জনবলের মধ্যে ৯০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আয়া, সুইপার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর অভাবে হাসপাতালের ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ওয়ার্ডের ময়লা-আবর্জনা রোগীদের পাশেই রাখা হচ্ছে। দুর্গন্ধে শৌচাগারে প্রবেশ করা যায় না।
স্থানীয়রা জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নামে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও পুরোপুরি চিকিৎসা দেওয়া শুরু না হওয়ায় টাঙ্গাইলের ৪০ লাখ মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। রোগীদের ঢাকাসহ আশপাশের বিভাগীয় শহর থেকে কাঙ্খিত সেবা নিতে হচ্ছে। ফলে আশঙ্কাজনক রোগী ও স্বজনরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পুরোপুরি মানসম্মত চিকিৎসা সেবা চালু করার দাবি জানায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতাল ভবনের নিচতলায় বহিঃবিভাগের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। সেখানে রোগীদের ব্যাপক চাপ দেখা যায়। তাদের মধ্যে কালিহাতী উপজেলার পাইকরা গ্রামের কামরুল হাসান জানান, টাঙ্গাইলের গণমানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে টাঙ্গাইলে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। শুধুমাত্র জনবল সঙ্কটের কারণে তারা কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না। ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় গিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় সহ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি হাসপাতালে দ্রুত পুর্নাঙ্গ চিকিৎসা সেবা চালুর দাবি জানান।
ভবনের লিফট ও আশপাশের দেওয়ালে পানের পিক ফেলে পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। ধুলাবালির কারণে ভবনের বিভিন্ন গ্রিলে মরিচা ধরতে শুরু করেছে। ভবনের ১০ম তলায় মেডিসিন বিভাগে নারী ও পুরুষ রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। ওয়ার্র্ডে ৮৪টি নির্ধারিত বিছানা বরাদ্ধ থাকলেও অতিরিক্ত মিলে প্রায় আড়াইশ’ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীদের বিছানার পাশে ও শৌচাগারসহ বিভিন্ন কক্ষের সামনে ময়লা-আবর্জনা পড়ে রয়েছে। উৎকট দুর্গন্ধে শৌচাগার ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
নারী ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত বিছানার পাশাপাশি মেঝেতে বিছানা পেতে নারী রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সেখানেও ময়লা-আবর্জনার একইচিত্র বিদ্যমান। হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষের সামনের দেওয়ালের টাইলস খসে পড়ছে। তার সামনের কক্ষের দরজার হাতল ভাঙা। এছাড়া দরজায় কাঠের জোড়ার অংশ ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় হাসপাতাল পরিচালকের কক্ষসহ বিভিন্ন দেওয়ালের টাইলস খসে পড়ছে।
টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম জানান, শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। সেখানে হাসপাতাল ভবনসহ ২৭টি ভবনের নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ২৮৪ কোটি টাকা। ১০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। বাকি ১০৮ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আলী খান জানান, হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা পুরোপুরি চালু করতে পর্যাপ্ত জনবলের প্রয়োজন। জনবলের জন্য মন্ত্রণালয়ে বার বার চিঠি দেওয়া হয়েছে। জনবল পেলেই পুরোপুরি স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিচালনা পরিষদের সহ-সভাপতি মো. ছানোয়ার হোসেন এমপি জানান, হাসপাতালে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি সবই আছে। কিন্তু জনবলের অভাবে পুরোপুরি স্বাস্থ্য সেবা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
হাসপাতালের সভাপতি কৃষিমন্ত্রী ডক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি’র সভাপতিত্বে একটি সভা করার পর আর কোন সভা এখনও হয়নি। দায়িত্বে যারা ছিলেন, তারা কেউ দায়িত্ব পালন করেননি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ফ্রিল্যান্সিংয়ের নামে নিষিদ্ধ অনলাইন স্ক্যামিং ব্যবসার ভয়াল থাবা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে জেলার মধুপুর উপজেলা এখন স্ক্যামারদের স্বর্গরাজ্য।
এসব সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।
অনলাইন ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে দেশে যেমন রেমিট্যান্স আসে, তেমনি লাখো যুবকের কর্মসংস্থান হয়। তাই সরকার এ বৈধ পেশাকে নানাভাবে উৎসাহিত করে চলেছে। কিন্তু স্ক্যামিং অনলাইনে একটি প্রতারণামূলক অবৈধ ব্যবসা। টিনএজার পর্নো, অ্যাডাল্ট সাইট এবং ডেটিং সাইট নিয়ে স্ক্যামাররা কাজ করে থাকে। এটি এক ধরনের অন্ধকার জগতের ব্যবসা। আর এ পেশায় যৌনতা নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানায়, মধুপুর উপজেলায় প্রায় পাঁচ হাজার কিশোর ও তরুণ নিষিদ্ধ অনলাইন স্ক্যামিংয়ে জড়িত। সাইবার অপরাধের মাধ্যমে ডলার আয়ের ধান্ধায় এখন স্কুল-কলেজের ছাত্রীরা এমনকি গৃহবধূরাও এতে যুক্ত হচ্ছেন। এই স্ক্যামিং যেমন নব্য ধনকুবের তৈরি করছে, তেমনি মাদক, জুয়াসহ নানা সামাজিক ব্যাধি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।
এ বিষয়ে আইটি বিশেষজ্ঞ তৌফিক-ই- হাসেম শরীফ জানান, স্ক্যামাররা সাধারণত আমেরিকান মডেল, পর্নোস্টার বা এসকর্টদের নগ্ন ছবি, ভিডিও বা নানা তথ্য ওয়েবসাইট থেকে কৌশলে হাতিয়ে নিয়ে অ্যাডাল্ট ডেটিং সাইটে আইপি হাইড করে পোস্ট দেয়। এরপর টেক্সট নাউ নামের ভার্চুয়াল নাম্বার সার্ভিসের মাধ্যমে স্ক্যামাররা এসকর্ট সেজে হাজির হয়। যাদের এসকর্ট সার্ভিস দরকার সেই গ্রাহকরা নক করলে এসকর্ট সাজা স্ক্যামাররা ব্যক্তিগত সময় কাটানোর জন্য গ্রাহকের সঙ্গে ডলার নিয়ে দর কষাকষি শুরু করে। নগ্ন ছবি ও ভিডিও শেয়ারের পরেও অনেক গ্রাহক ভিডিও বা ভয়েস কলে রিয়েল পার্সন ভেরিফাই করতে চায়। রোবট সফটওয়্যার দিয়ে ভয়েস বা ভিডিও কল ভেরিফিকেশনেও গ্রাহকরা সন্তুষ্ট না হলে ভাড়াটে নারীদের হাজির করে স্ক্যামাররা। এসব নারীরা স্বল্প আলোতে ন্যুড হয়ে গ্রাহকদের প্রলুব্ধ করে। এরপর গ্রাহকের কাছ থেকে কিছু ডলার অ্যাডভান্স নিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। স্ক্যামাররা এসব ডলার রিসিভ করে বিভিন্ন ক্যাশ অ্যাপ, কার্ড বা বিট কয়েনের মাধ্যমে। এরপর বিশেষ কায়দায় ডিজিটাল পেমেন্ট সার্ভিসের অ্যাকাউন্ট খুলে ডলার বিট কয়েনে কনভার্ট করে বাংলাদেশি টাকায় রুপান্তর করে।
মধুপুরের একজন স্ক্যামার জানান, অভিজ্ঞ স্ক্যামাররা গ্রাহকদের সঙ্গে চ্যাট করে ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, এসএসএস উইথ সেলফি সংগ্রহের পর বিশেষ কায়দায় গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ডের সমুদয় ডলার হাতিয়ে নেয়।

স্ক্যামার রনি সরকার জানান, ডেটিং স্ক্যাম ছাড়াও স্ক্যামাররা আমেরিকায় সম্পত্তি কেনা-বেচা, বাড়ি ভাড়া বা রিয়েল এস্টেট সাইটে গিয়ে ক্রেগলিস্ট অর্গানাইজেশনের আইপি হাইড করে লোভনীয় তথ্যে পোস্ট দেয়। আর একই কায়দায় অ্যাডভান্স ডলার নিয়ে কেটে পড়ে তারা। আমেরিকার জনপ্রিয় ক্লাসিফায়েড সাইট ব্যাকপেইজ ডটকমের আদলে মধুপুরের স্ক্যামাররা ক্লাসিফায়েড ডেটিং সাইট তৈরি করে প্রতারণামূলকভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, টু ব্যাকপেইজ ডটকম, ব্যাকলিস্ট টোয়েন্টিফোর ডটকম এবং স্কিপ দ্য গেইমস ডটকম নামের সাইটগুলোর মালিক মধুপুরের কয়েকজন স্ক্যামার। এরা এখন শত শত কোটি টাকার মালিক।
সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন মধুপুর পৌরশহরের নয়াপাড়া ও মাস্টারপাড়া মহল্লায় অভিযান চালিয়ে পর্নো ও ডেটিং সাইট ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে একজন স্ক্যামারকে ১২ লাখ টাকা আয় করার প্রমাণ পান।
মধুপুর ছাড়াও ঘাটাইল, গোপালপুর, ধনবাড়ী, কালিহাতী ও ভূঞাপুরেও ছড়িয়ে পড়েছে এই স্ক্যামিং ব্যবসা। মধুপুরের একটি বেসরকারি আর্কিটেক্ট কনসালটেন্টের তথ্যে দেখা যায়, দেড় বছরে মধুপুর উপজেলায় তিন শতাধিক বহুতল ভবন নির্মিত হয়েছে, যার প্রায় সবগুলোই স্ক্যামিং পার্টির।
স্থানীয়ভাবে স্ক্যামারদের বলা হয় নেট ব্যবসায়ী। দুই বছর আগে যারা রিকশা চালাতেন, ইটভাটায় কাজ করতেন, তার এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা এখন নিজেদের বহুতল ভবনে বসবাস করেন। দামি গাড়িতে চড়েন। অনেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শোরুম ও কারখানাও গড়ে তুলেছেন।
বি জেড এম গ্রাফিক্সের কর্ণধার প্রযুক্তিবিদ আপেল মাহমুদ জানান, স্ক্যামারদের এখনি থামাতে না পারলে ফ্রিল্যান্সিং পেশার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। আস্থার সংকটে পড়ে এ শিল্প ধ্বংস হবে। ফরেনাররা তখন কাজ দেবে না।
মধুপুরের ফ্রিল্যান্সার ও ওয়েব ডেভেলপার সবুজ মিয়া জানান, তার প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে যারা ফাইভার থেকে ভালো আয় করছিলেন, তারাও কু-মতলবে স্ক্যামিংয়ে চলে যাওয়ায় তার প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়।
মধুপুরের নকরেক আইটির কর্ণধার সুবীর নকরেক জানান, যেখানে বৈধ ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে প্রচুর আয় করা যায়, সেখানে স্ক্যামিংয়ের মতো প্রতারণামূলক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হওয়ার কোনো যুক্তি নেই। এতে দেশের ইমেজ ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এর একটি নেগেটিভ রেজাল্ট আসবে শিগগিরই।
শোলাকুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী জানান, অনলাইন স্ক্যামিংয়ের টাকা এখন হাওয়ায় উড়ছে। এক শ্রেণির কিশোর ও যুবকের হাতে অঢেল অর্থ আসায় মাদক, জুয়াসহ নানা অসামাজিক কাজ বেড়ে গেছে। এর ফলে সমাজে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে।
মধুপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মুরাদ হোসেন জানান, এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে পুলিশ কাজ করেছে।
মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শামীমা ইয়াসমিন পরিস্থিতির সত্যতা স্বীকার করে জানান, অবৈধ স্ক্যামিং ব্যবসার কাঁচা টাকা ভয়াবহ মাদকের প্রসার ঘটাচ্ছে। ছেলেমেয়েরা স্কুলে না গিয়ে প্রতারণা ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ৬ জন স্ক্যামারকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। কিছু ভবন সিলগালা এবং স্ক্যামারদের যেন বাড়ি ভাড়া না দেওয়া হয়, সেজন্য অনেক ভবন মালিককে সতর্ক করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ “গাছ লাগিয়ে যত্ন করি সুস্থ প্রজন্মের দেশ গড়ি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির আয়োজন করে আলোকিত কালিহাতি ও স্নোটেক্স গ্রুপ।
কালিহাতি উপজেলার বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসায় বিভিন্ন ধরনের ফল, ঔষধি ও কাঠ জাতীয় গাছের চারা রোপন ও বিতরণ করা হয়।
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে এই পৃথিবীকে রক্ষার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে প্রতি বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গাছের চারা উপহার দিয়ে আসছে দেশের অন্যতম পোশাক রপ্তানি কারক প্রতিষ্ঠান স্নোটেক্স গ্রুপ।
এবছর সারাদেশে ১ লক্ষ গাছ লাগানোর লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করেছে স্নোটেক্স গ্রুপ। সেই লক্ষমাত্রার অংশ হিসেবে টাংগাইলের কালিহাতিতে “আলোকিত কালিহাতি” নামক সেচ্ছাসেবামমুলক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এই বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি পালিত হয়।
এই বৃক্ষ রোপন কর্মসূচিতে টাংগাইলের সর্বাধিক পঠিত দৈনিক যুগধারা ও বাংলাদেশের পোশাক শিল্পখাতের অন্যতম অনলাইন মিডিয়া দি আরএমজি টাইমস মিডিয়া পার্টনার হিসেবে কাজ করেছে।
আন্তর্জাতিক পরিবেশ দিবসকে সামনে রেখে শনিবার (৩ জুন) সকাল ১০ টায় এলেংগা পৌরসভার ফটিকজানি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছের চারা রোপনের মাধ্যমে কর্মসূচির সুচনা করেন আলোকিত কালিহাতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুল আলিম, স্নোটেক্স গ্রুপের এজিএম আব্দুস সালাম, দৈনিক যুগধারা সম্পাদক সরকার হাবিব ,কৃষক লীগ নেতা জমির উদ্দিন আমেরী, তালেমন হযরত আলী মৎস্য ইনিস্টিউটের প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন তুহিন প্রমূখ।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আলোকিত কালিহাতি’র নেতৃবৃন্দ, কালিহাতি প্রেসক্লাবের সাংবাদিক বৃন্দ, স্নোটেক্স গ্রুপ, আরএমজি ও সাস্টেইনেবল মেনেজমেন্ট সিস্টেম বাংলাদেশের কর্মকর্তাবৃন্দ।
আলিফ স্টীল মিলস লিঃ এর পক্ষ থেকে এই বৃক্ষরোপন কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করেন এলেঙ্গা পৌরসভার মেয়র নূর এ আলম সিদ্দিকী।
এছাড়াও মহেলা উচ্চ বিদ্যালয়, কুরুয়া কবরস্থান ও মাদরাসা, তালেমন হযরত আলী মৎস্য প্রযুক্তি ইনিস্টিউটে বৃক্ষ রোপন করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ ভারতের নতুন সংসদ ভবনের মানচিত্র যদি কু-মতলবে করা হয়ে থাকে তাহলে ভারতকে এ জন্য খেসারত দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী (বীরউত্তম)।
শনিবার (৩ জুন) বিকেলে সখীপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘মুক্তিযুদ্ধে কাদেরিয়া বাহিনীর ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। কাদেরিয়া বাহিনী’ ৭১ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ‘ভারতের নতুন সংসদ ভবনের মানচিত্র কু-মতলবে করে থাকলে, ভারতকে এর খেসারত দিতে হবে। এটা যদি অবুঝের মতো করে থাকে তাহলে এক রকম কথা, আর যদি শতবর্ষ আগের মহাভারতের মহান ভারতের ইতিহাস তুলে ধরার জন্য করে থাকে, তবে তা ভিন্ন কথা।’
শঙ্কা প্রকাশ করে বীরউত্তম কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘কত বছর পরে কি হবে জানি না, সম্প্রতি ভারতে একটি নতুন সংসদ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তা দেখতে অনেকটাই খ্রিষ্টানদের লাশ বহন করে নিয়ে যাওয়ার বাক্সের মতো। সেখানেও একটি ভারতের মানচিত্র দেওয়া হয়েছে। সেই মানচিত্রের মধ্যে নেপাল, ভুটান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশও আছে। তাহলে ওটা কি মহাভারতের মানচিত্র? নাকি আজকের ভারতের মানচিত্র?’
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। তিলাওয়াত শেষে মাওলানা ‘জয় বাংলা’ বলে মাইক্রোফোন রাখেন। বক্তৃতায় এ প্রসঙ্গ তুলে বীরউত্তম কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘জয় বাংলার সঙ্গে কোরআন তিলাওয়াতের কোনো সম্পর্ক নেই। আমি জয় বাংলার পাগল, জয় বাংলা আমাদের দ্বারাই সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এই স্লোগানটি তৈরি করেছিলেন বিপ্লবী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। আমরা সেখান থেকেই নিয়েছিলাম। জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে আমরা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি, এখন পশ্চিমবঙ্গরা সব সময় জয়বাংলা বলে।’
বঙ্গবীর বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় পতাকার মধ্যে আমরা দেশের মানচিত্র দিয়েছিলাম। আমরা ওই মানচিত্র না দিলে ভারত আমাদের এত সমর্থন দিত কি না জানি না। মানচিত্র না দিলে ভারত হয়তো ভাবতে পারত, তাদের সীমানা নিয়েও বাংলাদেশ টানাটানি করতে পারে। তাই ওই সময় পতাকায় মানচিত্র দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল।’
সম্প্রতি আমেরিকার ভিসা ইস্যু নিয়ে বঙ্গবীর বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বলছে, বিএনপিকে জাত করার জন্য পাসপোর্টের এই হুমকি। অন্যদিকে বিএনপি বলছে, আওয়ামী লীগকে সোজা করার জন্যই এই হুমকি। কিন্তু আমি মনে করি পাসপোর্টের এই হুমকি দেওয়া বাংলাদেশের জন্য লজ্জাকর এবং অপমানের।’
কাদেরিয়া বাহিনীর স্বাস্থ্য বিভাগীয় প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম আমজাদ হোসেনের রচিত গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস সিকদার সভাপতিত্ব করেন। এ সময় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার খোকা বীরপ্রতীক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম আমজাদ হোসেন বিএসসি, পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হানিফ আজাদ, কাদের সিদ্দিকীর সহোদর শামীম আল মুনসুর আজাদ সিদ্দিকী, দলটির টাঙ্গাইল জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হালিম সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা এমও গণি, প্রফেসর আলীম মাহমুদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।
একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, এই বছরের বাজেটে কৃষিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। বিনামূল্যে না হলেও অনেক সহযোগিতা দিয়ে কৃষির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কম্বাইন হারভেস্টার আমরা দিচ্ছি। গ্রামীণ ও পল্লী বাংলাদেশের মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন করার জন্য এই বাজেটকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২ জুন)দুপুরে টাঙ্গাইলের মধুপুর রাণী ভবানী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাজেট বিষয়ে বিএনপির নেতা কর্মীরা গত ১৪ বছর যাবতই বলেন এটা উচ্চ বিলাসী বাজেট, অবাস্তব বাজেট, কল্পনা ভিত্তিক বাজেট। কল্পনা ভিত্তিক বাজেট হলে পাঁচ লাখেরও কম চার লাখ ৮৪ হাজার কোটি টাকা জাতীয় আয় ৪৪ লাখ হতো না। এটাই প্রমাণ প্রতি বছরই আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ ও আধুনিক বাংলাদেশ করার লক্ষ্য নিয়ে বাজেট দিয়েছি। সেই লক্ষ্যে অদম্য গতিতে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বিদেশি বিভিন্ন পত্র পত্রিকা বলে অদম্য বাংলাদেশ। সেই অদম্য বাংলাদেশে অপ্রতিরোধ্য গতি। আমরা উন্নয়নের মহাসড়কে। এই গতিকে আমরা আরও বেগবান করবো। এই বাজেটের মাধ্যমে উন্নয়নকে আর গতিময় করবো।
বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিরোধী দল বলে উচ্চ বিলাসী, শেখ হাসিনা উচ্চ বিলাসী। বাংলাদেশের মানুষকে আরও উন্নত করতে চায়। আমরা বলছি, এই বাজেট বাস্তব সম্মত। অতিতেও আমরা সফল হয়েছি। আগামী দিনেও এই বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সফল হবো। আগে বাংলাদেশ চার লাখ ৮৪ কোটি টাকা ছিলো মোট আয়। সেটা বেড়ে হয়েছে ৪৪ লাখ। আগামী বছর আরও বেশি হবে। বাংলাদেশের আয় আমরা নয় গুণ বৃদ্ধি করেছি। এই বাজেট প্রণয়ন হলে এটি আরও বৃদ্ধি হবে।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, আওয়ামী লীগ মোটেই বিচলিত নয়, কোন স্যাংশন দিয়ে এ উন্নয়ন ব্যাহত করতে পারেব না। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ব্যাহত করতে পারবে না। আপনারা যত ধরনের স্যাংশনই দেন তা মোকাবেলা করার মতো যোগ্যতা বাংলাদেশের আছে।
মধুপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন পৌর মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার শফি উদ্দিন মনি, সাবেক পৌর মেয়র মাসুদ পারভেজ প্রমুখ।
ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পে ১০০ জন ডাক্তার দিন ব্যাপী প্রায় ১০ সহস্রাধিক রোগীদেরকে সেবা প্রদান করবেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নিজ ঘর থেকে রিয়া মনি মীম (১৬) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জুন) রাতে উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের নলিন তালুকদারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মীম ওই এলাকার গোলাম কিবরিয়া রিপন তালুকদারের মেয়ে। সে স্থানীয় নলিন আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এবছর এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। এ ঘটনায় তার মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিহত মীমের মা সালমা বেগম (৪০) মেয়েকে শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে বাড়িতে প্রায়ই মা-মেয়ের সঙ্গে ঝগড়া হত। বৃহস্পতিবার ঝগড়ার পর বিকেলে মীমের মা তার বাবার বাড়ি ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা গ্রামে চলে যায়। সেখান থেকে তার ছোট বোন শারমিনকে (১৯) সঙ্গে নিয়ে রাতেই বাড়ি ফেরেন। রাত ১২টার দিকে ঘরে মীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের বাবা গোলাম কিবরিয়া রিপন তালুকদার বলেন, গভীর রাতে শ্যালিকা শারমিন আমাকে মোবাইল ফোনে জানায় মীম গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে। রাতেই মীমের ঝুলন্ত মরদেহ নামিয়েছে তার মা ও খালা। পরে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তারা মীমের মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে আসার পর পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
গোপালপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক সুরতহালে মরদেহের গলায় আঘাতের চিহ্ন এবং নাক-মুখ দিয়ে ফেনা ও রক্ত পড়তে দেখা গেছে। লাশের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতের মাকে অসুস্থ অবস্থায় এনে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সুস্থ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী ও মোটরসাইকেল চালকসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন মোটরসাইকেল আরোহী আরও একজন।
শুক্রবার (২ জুন) বিকালে ভূঞাপুর-বঙ্গবন্ধু আঞ্চলিক সড়কের উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের চিতুলিয়াপাড়া কদমতলা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. লিটন মিয়া নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন-কালিহাতী উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের জাবরাজান গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে মোটরসাইকেল চালক শিশির (৩০), ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের রুহুলী গ্রামের মৃত জসীম উদ্দিনের ছেলে পথচারী আন্তাজ আলী মন্ডল (৬৫)।

গুরুতর আহত যুবকের নাম ইয়ামিন (২২)। ইয়ামিন ভুঞাপুর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের গোলাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকালে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের চিতুলিয়াপাড়া কদমতলী নামক স্থানে আন্তাজ আলী মন্ডল রাস্তা পারাপার হচ্ছিল। পথিমধ্যে মাটিকাটা থেকে ছেড়ে আসা বেপরোয়া গতির একটি মোটরসাইকেল গোবিন্দাসী যাওযার পথে আন্তাজ আলীকে ধাক্কা দেয়।
এসময় মোটরসাইকেলের চালক, আরোহী ও পথচারী সড়কে ছিটকে পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে চালক মারা যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় পথচারী ও আরোহীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে হাসপাতালে নিয়ে গেলে আন্তাজ আলীকে কর্তব্যরত চিকিৎসা মৃত ঘোষণা করেন। অপর আরোহী ইয়ামিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. লিটন মিয়া জানান, বিকালে চিতুলিয়া পাড়া নামকস্থানে মাটিকাটা থেকে একটি মোটরসাইকেল চালক আরোহীসহ গোবিন্দাসীর দিকে যাচ্ছিল। সে সময় একজন পথচারী রাস্তা পারাপার হচ্ছিল। সেসময় মোটরসাইকেলটি তাকে ধাক্কা মারে।
তিনি জানান, এতে ঘটনাস্থলে চালক মারা যায়। পরে দুইজন গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে ভূঞাপুর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আন্তাজ আলীকে মৃত ঘোষণা করে। অপরদিকে, মোটরসাইকেল আরোহী ইয়ামিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে মারা যাওয়া মোটরসাইকেল চালক শিশিরের পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে যায় এবং আন্তাজ আলী মন্ডলের মরদেহ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে আইনী প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অপর আরোহীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
একতার কণ্ঠঃ তীব্র প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ মিনিষ্টার আন্তঃ জেলা ভলিবল প্রতিযোগিতার ফাইনালে টাঙ্গাইল জেলা ৩-২ সেটে কিশোরগঞ্জ জেলাকে হারিয়ে আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
বৃহস্পতিবার (১ জুন) বিকেলে টাঙ্গাইল আউটার স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে এই আন্তঃ জেলা ভলিবল প্রতিযোগিতার ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
খেলার শুরুতে টাঙ্গাইল জেলা ভলিবল দল প্রথম সেটে ২৫-১৯ পয়েন্টে জয়লাভ করে।
দ্বিতীয় সেটে কিশোরগঞ্জ জেলা ২৫-২০ সেটে টাঙ্গাইল জেলাকে হারিয়ে খেলায় সমতা আনে।
তৃতীয় সেটে টাঙ্গাইল জেলা ২৫-১৭ সেটে কিশোরগঞ্জ জেলাকে হারিয়ে আবারও এগিয়ে গেলে ৪র্থ সেটে কিশোরগঞ্জ ২৫-২০ সেটে টাঙ্গাইল জেলাকে হারিয়ে ২-২ সেটে সমতা আনে।
শিরোপা নির্ধারনী ৫ম সেটে টাঙ্গাইল জেলা ১৫-১১ পয়েন্টে কিশোরগঞ্জ জেলাকে হারিয়ে ৩-২ সেটে জয়লাভ করে প্রতিযোগিতায় আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
খেলা শেষে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার প্রধান অতিথি হিসেবে খেলোয়াড়দের মাঝে পুরষ্কার বিতরন করেন।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ওলিউজ্জামানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের যুগ্ম-সম্পাদক এড. ফজলে রাব্বী বাবুল, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মির্জা মঈনুল হোসেন লিন্টু ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ হাসান ফিরোজ এবং নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট দীপ ভৌমিক।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার ভলিবল উপ-কমিটির সভাপতি হারুন-অর-রশীদ ও সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল অনুপম।

চ্যাম্পিয়ন টাঙ্গাইল ভলিবল দলের খেলোয়ারগণ হচ্ছেন, সাইদুল ইসলাম খান রিন্টু (অধিনায়ক), রাজিম খান, মেহেদী হাসান, শাহরিয়ার খান রমিম, আরাফাত রায়হান সিয়াম, জাহিদুল ইসলাম, আব্দুস সাত্তার, মো. আঃ রাজ্জাক, আদিল, হাসিব ও পলাশ।
টাঙ্গাইল জেলা দলের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইফতেখারুল অনুপম ও কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিপ্লব দাস।
আঞ্চলিক পর্বের এই প্রতিযোগিতায় কিশোরগঞ্জ জেলা, মানিকগঞ্জ জেলা, ময়মনসিংহ জেলা ও স্বাগতিক টাঙ্গাইল জেলা অংশগ্রহন করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে বাস চাপায় একই পরিবারের তিন জনসহ চার জন নিহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার(১ জুন) বেলা আড়াইটার দিকে টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর উপজেলার গাংগাইরের গোমা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন জেলার ধনবাড়ী উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের পাইটকা গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে মাইন উদ্দিন (৪২)। মাইন উদ্দিনের স্ত্রী ছালেহা বেগম (৩০), ও তাদের সন্তান সিয়াম (৬) এবং ভ্যান চালক একই গ্রামের দরাজ আলীর ছেলে ফরহাদ হোসেন (৪০)।
মধুপুর ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন মাস্টার হেমায়েল কবির জানান, মধুপুর থেকে ঢাকাগামী বিনিময় পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-১৪-৩৬৪১) টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের গাংগাইর গোমা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা ব্যাটারি চালিত অটোভ্যান রিক্সাকে চাপা দিলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
তিনি আরো জানান,এতে ঘটনাস্থলেই অটোভ্যানের চালকসহ তিনজন নিহত হন। আহত এক শিশুকে উদ্ধার করে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিশুটির মৃত্যু হয়।
মধুপুর থানার উপ-পরিদর্শক আপেল মাহমুদ জানান, ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ঘাতক বাসটিকে আটক করা হয়েছে। চালক পলাতক রয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ‘অনির্বাণ বাংলা’ স্লোগানে বেসরকারি টেলিভিশন বিজয় টিভি’র ১১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।
বুধবার (৩১ মে) সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার।
টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, র্যাব-১৪’র সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল কোম্পানীর কমান্ডার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের, জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার তাহলিমা জান্নাত ও টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সম্পদক নাসির উদ্দিন।
বিজয় টিভি’র সখীপুর উপজেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রতিনিধি মো. আবু জুবায়ের উজ্জল।
এসময় জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিণ্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের তরুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটার তামজিদ আহমেদের (১৯ ) বজ্রপাতে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (৩১ মে) দুপুরে গোপালগঞ্জ শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালীন সময়ে বজ্রপাতের শিকার হয় তামজিদ। পরে তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত তামজিদ টাঙ্গাইলের ভুঞাপর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের কদিম নিকলা গ্রামের মোঃ ইমান আলীর ছেলে।
এ প্রসঙ্গে, টাঙ্গাইল জেলা ক্রিকেট কোচ মো. আরাফাত রহমান জানান, বুধবার দুপুরে স্টেডিয়ামটিতে গোপালগঞ্জ আবাহনী ক্রিকেট একাডেমি ও ঢাকার ফ্রেন্ডস স্পোর্টস একাডেমির মধ্যে ৩ ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ চলছিল। ম্যাচটিতে তামজিদ ঢাকার ফ্রেন্ডস স্পোর্টস একাডেমির হয়ে খেলছিল।
তিনি জানান, দুপুর দেড়টার দিকে আকাশে সামান্য মেঘ ছিল। তামজিদ আহমেদ ডিপ স্কোয়ার লেগে ফিল্ডিং করছিলেন। খেলার ৩৫তম ওভারের সময় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাত হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সতীর্থরা দৌড়ে কাছে গিয়ে দেখতে পান, তামজিদের পরিহিত জার্সির অনেকাংশ পুড়ে গেছে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আনসার আহমেদ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, দুই বছর আগে ঢাকা ফ্রেন্ডস স্পোর্টস একাডেমিতে ভর্তি হয়েছিলেন তামজিদ। গোপালগঞ্জ আবহানী ক্রিকেট একাডেমির সঙ্গে সিরিজ খেলতে দলের সঙ্গে গোপালগঞ্জে এসেছিলেন তিনি। তামজিদ টাঙ্গাইল জেলা দলের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৮ জাতীয় ক্রিকেট খেলেছেন। ক্রিকেট প্র্যাকটিসের পাশাপাশি তামজিদ ঢাকায় জীবিকা নির্বাহের জন্য ফুড পান্ডায় ডেলিভারি ম্যানের কাজ করতো।
তামজিদের অকাল মৃত্যুতে টাঙ্গাইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা মঈনুল হোসেন লিন্টু গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।