একতার কণ্ঠঃ অবশেষে বয়স্ক ভাতার কার্ড পেলেন টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের মিরিকপুর গ্রামের মৃত মুছিরাম রাজবংশীর স্ত্রী মরনী রাজবংশী (৯৪)।
বৃহস্পতিবার (১৮ মে) বিকেলে মরনী রাজবংশীর নিজ বাড়ি মিরিকপুর গিয়ে বয়স্ক ভাতার কার্ড তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পাপিয়া আক্তার।
এসময় উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নূরে-ই-লায়লা, সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহেল, সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গৌরাঙ্গ সূত্রধর, সাধারণ সম্পাদক জুলহাস উদ্দিন, সদর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শুভঙ্কর সূত্রধর প্রমুখ।
বয়স্ক ভাতার কার্ড পেয়ে মরনী রাজবংশী বলেন, এই বয়সে এসে ভাতার কার্ড পাবো কল্পনাও করতে পারি নাই। আমি ভাতার কার্ড পেয়ে অনেক খুশি হয়েছি। ভাতার কার্ডের টাকা দিয়ে আমি ঠিক মতো ঔষধ খেতে পারব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া আক্তার জানান, বয়স্ক মরনী রাজবংশীর বিষয়টি অনলাইন ও পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরে দ্রুত উপজেলা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে তার বয়স্ক ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করেছি।
তিনি আরোও জানান, শেষ তিন বছর ধরে কোনো বয়স্ক ভাতার কার্ড আসতেছে না। কেউ যদি মারা যায় তাহলে আমরা প্রতিস্থাপন করতে পারি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কার্যক্রম অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে। তিন বছর অতিবাহিত হলেও বর্তমানে প্রস্তাবিত এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। এছাড়াও প্রস্তাবিত ওই এলাকাকে উপজেলার মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করতে যমুনা নদীর উপর বাঁধ তৈরির কাজেরও চলছে সম্ভাব্যতা যাচাই। ফলে ভূঞাপুরের এই চরাঞ্চল বাসীর মধ্যে এক ধরনের হতাশা বিরাজ করছে ।
তবে স্থানীয় সংসদ সদস্যে তানভীর হাসান ছোট মনিরের দাবি , বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজের কিছুটা ধীরগতি হলেও বর্তমানে পূর্ণদমে কাজ চলছে।
জানা যায়, উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের পলসিয়া , নলসিয়া , কোনাবাড়ি, দোভায়া, পাটিতা পাড়া এবং গোবিন্দাসী ইউনিয়নের গোবিন্দাসী , কষ্টা পাড়া, ভালকুটিয়া চরাঞ্চলের ৫০২.০২ একর খাস জমিতে প্রস্তাবিত এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের জায়গা ২০১৯ সালের ২৮ জুন (শুক্রবার) দুপুরে পরিদর্শন করেন তৎকালীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) পবন চৌধুরী।
এসময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, তৎকালীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের মহাব্যবস্থাপক ও যুগ্ম সচিব (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. মনিরুজ্জামান, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।এরপর দীর্ঘ তিন বছর অতিবাহিত হলেও এই প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রমে তেমন কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।

ভূঞাপুরের যমুনা নদীতে জেগে উঠা চরের ৫০২.০২ একর জমির এই প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের সাথে দেশের বিভিন্ন স্থানের সড়ক, নদী ও রেলপথে সরাসরি যোগাযোগ সুবিধা রয়েছে। বাংলাদেশে শুধুমাত্র প্রস্তাবিত ভূঞাপুরের এই অর্থনৈতিক অঞ্চলেই এই সুবিধা বিদ্যমান। ফলে এখানে উৎপাদিত পণ্য সারাদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কম সময়ে ও কম খরচে পৌঁছানো সম্ভব।
এ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হলে উপজেলার পিছিয়ে পড়া চরাঞ্চলের লোকসহ জেলার হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। প্রসার ঘটবে ব্যবসা বানিজ্যের। এতে যমুনার ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে পূর্বপাড়ের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকার ফসলিজমি ও বসতভিটা। সুযোগ সৃষ্টি হবে পর্যটন শিল্পেরও।
ভূঞাপুর ইবরাহিম খাঁ সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মোহাম্মদ ইমন পারামানিক বলেন, আমরা যত দ্রুত সম্ভব এই এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জোর দাবি জানাচ্ছি । এছাড়া এই অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন হলে সেখানে কর্মসংস্থানের একটি বড় অংশ যেন এই অঞ্চলের জন্য সংরক্ষিত থাকে তারও জোর দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় নজরুল ইসলাম , মোহাম্মদ সেলিম সিকদার, মোঃ শামসুল হক, মোঃ জুলহাস শেখ, মমতা বেগম, মোছাঃ আমেলা বেগম বলেন, দীর্ঘ তিন বছর চলে গেলেও এই চরাঞ্চলে এখনো ইপিজেড স্থাপনের কোন কার্যক্রম শুরু হয়নি । এছাড়া তৎকালীন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বেশ কিছু ব্যক্তিগত জমিকে খাস জমি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ফলে বেশ কিছু জমির মালিকের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আমরা চাই জমির প্রকৃত মালিককে ক্ষতিপূরণ দিয়ে এই এলাকায় ইপিজেড স্থাপন করা হোক। ইপিজেড স্থাপন হলে এই এলাকার মানুষের ভাগ্য আমূল পরিবর্তন হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই এলাকায় দ্রুত ইপিজেড স্থাপনের জোর দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল হোসেন চকদার জানান, ভূঞাপুরের অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য যে ৫০২.০২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তার সব খাস জমি নয় । এর মধ্যে কিছু জমি নিয়ে জটিলতা রয়েছে। তারপরও আমরা চাই ভূঞাপুরে দ্রুত অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হোক। অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হলে এই এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার আমূল পরিবর্তন সাধিত হবে।
ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ বেলাল হোসেন জানান, উপজেলার নিকরাইল ও গোবিন্দাসী ইউনিয়নের চরাঞ্চলে প্রায় ৫০২.০২ একর জমিতে সেনাবাহিনীর একটি দল অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এছাড়া ওই চরের সাথে মূল ভূখণ্ডকে যুক্ত করতে যমুনা নদীতে একটি বাঁধ তৈরির সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চালাচ্ছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি টিম।
তিনি আরো জানান , আশা করি খুব দ্রুতই ভূঞাপুরের প্রস্তাবিত অর্থনীতি অঞ্চলের কার্যক্রম শুরু করা যাবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির জানান, ভূঞাপুরের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক জোনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে এই কার্যক্রম কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও বর্তমানে এই কার্যক্রম পূর্ণদমে চলছে । বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দল বর্তমানে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই করছে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড যমুনার ওই অংশে বাঁধ তৈরির সম্ভাব্যতা যাচাই করছে।
তিনি আরো জানান, আশা করি খুব দ্রুতই ভূঞাপুর তথা টাঙ্গাইলবাসীর স্বপ্নের অর্থনৈতিক অঞ্চল তার কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা (২৪) এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১৭ মে) রাত ২টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকার সাভার এনাম মেডিকেল হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান তিনি।
বুধবার রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সহপাঠীর মোটরসাইকেলে শহর থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে তার মাথা ফেটে প্রচুর রক্তপাত হয়।
নিহত শারমিন সুলতানা রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। সে ২০১৪ সালে রংপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১৬ সালে রংপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে।
প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, বুধবার রাতে টাঙ্গাইল শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফেরার পথে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কাগমারী-চারাবাড়ী সড়কের আরিফ নগর এলাকায় মোটরসাইকেলের সামনে কুকুর দেখে চালক ব্রেক চাপলে শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে যায়। এতে তার মাথা ফেটে যায়। তখন আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মস্তিষ্কের প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করে। ঢাকা নেয়ার পথে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ বাড়তে থাকায় রাত ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। রাত ১২ টার দিকে ঢাকা নেয়ার পথে অবস্থার আরো অবনতি হলে তাকে সাভার এনাম মেডিকেলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এনাম মেডিকেলে নেয়ার পথে গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় আহত শিক্ষার্থীকে বহনকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সটি নষ্ট হয়ে যায়। পরে প্রায় আধা ঘণ্টা পর এনাম মেডিকেল কলেজে হাসপাতাল থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। এনাম মেডিকেলে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মীর মো. মোজাম্মেল হকের সঙ্গে কথা হলে তিনি এ বিষয়ে শোক প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, শারমিনের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। ক্যাম্পাসের বাইরে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কিছু বলার নেই। কারিগরি ত্রুটি হতেই পারে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মধুপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলম খান আবুকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ মে) সন্ধ্যায় মধুপুর পৌর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে মধুপুর পৌর আওয়ামী লীগ আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনা সভায় তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।
স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মধুপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মধুুপুর পৌরসভার মেয়র মো. সিদ্দিক হোসেন খান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও শোলাকুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ও কুড়াগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক সরকার, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শরীফ আহমেদ নাসির, কুড়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, আলোকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ খান সিদ্দিক, মহিষমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহি উদ্দিন মহির, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ সজীবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সন্ধ্যায় সভাপতির বক্তব্য দেন মধুপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান। তিনি মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলম খান আবুর দেওয়া টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপিকে জড়িয়ে অসম্মানজনক কথা বলার তীব্র সমালোচনা করেন।
সিদ্দিক হোসেন খান বলেন, মধুপুর-ধনবাড়ীর এমপি ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক একজন বড় মাপের মানুষ। তিনি শান্তশিষ্ট মানুষ। ভদ্র মানুষ। তিনি কখনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করেন নাই। মধুপুরের বিএনপি জামাতও বলতে পারবেনা তিনি সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করেন তিনি (ছরোয়ার আলম খান আবু) আর দোষ চাপাতে চান অন্য জনের কাধে।
সিদ্দিক হোসেন খান আরোও বলেন, ছরোয়ার আলম খান টেলিভিশন সাক্ষাতকারে বলেছেন, তিনি (ড. রাজ্জাক) বারবার নির্বাচিত হয়ে মধুপুর ও ধনবাড়ীকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছে। এই জন্য নাকি মধুপুরের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে তার পিছন থেকে সরে গিয়েছে। তার এমন মিথ্যা বানোয়াট এই কথাগুলো বলার প্রেক্ষিতে এবং দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে আজকের এই সভা থেকে তাকে (ছরোয়ার আলম খান আবু) মধুপুরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলাম। এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুরোধ করবো তাকে দল থেকে বহিষ্কার করার জন্য। আজ থেকে তার আর দল করার এখতিয়ার নেই।
সভা শেষে মধুপুর-ধনবাড়ীর এমপি কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকের পক্ষে একটি বিশাল মটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে আলোকদিয়া ইউনিয়ন, মহিষমারা ইউনিয়ন, কুড়ালিয়া ইউনিয়ন ও আউশনারা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করেন এবং পৃথক পৃথক সমাবেশ করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ে এস.এস.সি পরীক্ষা শেষে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার হয়েছে আলিফ লাম (১৭) নামে এক পরীক্ষার্থী।
বুধবার (১৭ মে) দুপুরে টাঙ্গাইলের সন্তোষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় গেটের সামনে হামলার শিকার হয় আলিফ।
পরে স্থানীয়রা আহত ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে রক্তাত্ব অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। সে বর্তমানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হামলার শিকার আলিফ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা শিবরাম গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। সে এ বছর দাইন্যা বিন্যাফৈর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে (মানবিক বিভাগ) এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে।
এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থী আলিফ নিজে বাদী হয়ে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ডের সাকরাইল বটতলা পাশ্ববর্তী এলাকার বেলাল হোসেনের ছেলে আমিনুর রহমান (১৬) সহ অজ্ঞাত ১২ থেকে ১৩ জনের নামে কাগমারী পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করে।
হামলা প্রসঙ্গে, বিন্যাফৈর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আক্তারুজ্জামান জানান, হামলাকারী আমিনুর রহমান ইতোপূর্বেও আমার স্কুলের সামনে এসে দলবল নিয়ে গ্যাদারিং করত। স্কুলের সামনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সামনে এসে বিড়ি-সিগারেট খেয়ে স্কুলের পরিবেশ নষ্ট করত ও ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করত। পরে আমরা স্কুলের শিক্ষকরা মিলে ঐ কিশোর গ্যাংকে পুলিশে সোপর্দ করি।
তিনি আরোও জানান, বুধবার এস.এস.সি পরীক্ষা শেষে আমার এক শিক্ষার্থীকে ঐ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মারধর করেছে। এ অবস্থায় আমার ওই শিক্ষার্থীর পরবর্তী পরীক্ষাগুলো দেয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
কাগমারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শেখ শাহীনুর রহমান জানান, আলিফ নামে এক এস.এস.সি পরীক্ষার্থী অভিযোগ দায়ের করেছে। আসামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ইসমাইল হোসেন মোল্লাকে হত্যার ঘটনায় বুধবার(১৭ মে) দুই ভাইকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন(র্যাব-১৪)।
বুধবার (১৭ মে) দুপুরে র্যাব-১৪ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আটককৃতরা হচ্ছেন- সখীপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কালোমেঘা মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত জালাল মোল্লার ছেলে জাকারিয়া মোল্লা(৩২) ও এনামুল মোল্লা(৩০)।
তাদেরকে ঢাকা মহানগরের খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জ এলাকা থেকে আটক করা হয়।
র্যাব-১৪ জানায়, গোপনে খবর পেয়ে সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়েরের নেতৃত্বে একদল র্যাব সদস্য ঢাকা মহানগরের নিকুঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের দুই ভাইকে আটক করে। র্যাব সদস্যরা ইতোপূর্বে ওই হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরেক আসামি মো. আজিজুল হক মোল্লাকে আটক করে।
প্রকাশ, সখীপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কালমেঘা সিন্দুরিয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেন মোল্লার সঙ্গে মো. আজিজুল হক মোল্লা ও তোফাজ্জল হোসেন মোল্লার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল।
গত ১৪ মে(রোববার) জমিটি প্রতিপক্ষরা দখলের চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে ইসমাইল হোসেন মোল্লার উপর হামলা করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। ওই ঘটনায় ইসমাইল হোসেন মোল্লার ছেলে মো. মামুন মোল্লা বাদি হয়ে সখিপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে লিচু পাড়তে গিয়ে করিম খান (৫৫) নামে এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। মঙ্গলবার(১৬ মে) সকালে উপজেলার সাগরদিঘি ইউনিয়নের কামালপুর এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ওয়াজেদ আলী।
নিহতের ভাতিজা মাহফুজ খান ও স্থানীয়রা জানান, করিম খানের বাড়ি ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি ইউনিয়নের কামালপুর মোথাজুরি গ্রামে। করিম খানের বাড়ির পাশে একটি বড় লিচু গাছ রয়েছে। গাছের পাকা লিচু পেড়ে বাজারে নিয়ে বিক্রি করবেন এই উদ্দেশ্যে তিনি মঙ্গলবার সকালে ওই লিচু গাছে ওঠেন। লিচু পাড়ার সময় পা ফোঁসকে গাছ থেকে মাটিতে পড়ে যান তিনি। এতে তার হাত-পা ভেঙে যায় এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ওয়াজেদ আলী জানান, লিচু পাড়তে গিয়ে করিম খান নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনাটি সত্য। পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তার লাশ পারিবারিক ভাবে দাফন করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে প্রেমিক যুগলের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৭ মে) ভোরে উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের ট্রেনলাইনের জোড়বাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের গড়াশিন মধ্যপাড়া গ্রামের আবুল মিয়ার ছেলে হাবিল মিয়া (১৭) ও একই উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের মৈশানন্দনাল গ্রামের মনজুরুল ইসলামের মেয়ে রিতা আক্তার (১৫)।
তারা দুজনেই ভাতকুড়া এলাকায় আলাউদ্দিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডে শ্রমিকের কাজ করতো।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাবিল ও রিতা আলাউদ্দিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডে একত্রে শ্রমিকের কাজ করার সুবাদে তাদের মধ্য প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হয়। পারিবারিকভাবে তাদের প্রেমের সম্পর্কটি মেনে না নেওয়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে তারা দুজনে কর্মস্থল থেকে পালিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়। তাদের প্রেমের সম্পর্কটি মেনে না নেওয়ায় অভিমান করে তারা বাসাইল জোড়বাড়ী এলাকায় গিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেয়। পরে সকালে স্থানীয়রা তাদের লাশ দেখতে পেয়ে রেলওয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে তাদের লাশ উদ্ধার করে। এসময় প্রেমিক হাবিলের পরিবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
জোড়বাড়ী লেভেলক্রসিংয়ে গেট কিপার সুলতান মাহমুদ বলেন, ভোর ৪টার দিকে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়। পরে রেলওয়ে পুলিশ এসে নিহতদের লাশ নিয়ে গেছে।
ঘারিন্দা রেলওয়ে পুলিশের এএসআই ফজলুল হক বলেন, ধারণা করা হচ্ছে প্রেমঘঠিত কারণে তারা আত্মহত্যা করেছে। নিহতদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সন্তোষে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৭তম ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৬ মে) সকালে ভাসানী পরিষদ, পীর শাহজামান বাজার কমিটি ও ন্যাপ ভাসানীর পক্ষ থেকে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে মাজারে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এ সময় ন্যাপ ভাসানী ও খোদা-ই-খেদমতগারের সভাপতি ও পীর শাহজামান বাজার কমিটির আহবায়ক হাসরত খান ভাসানী, ভাসানী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য-সচিব আজাদ খান ভাসানী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিক হোসেন বিএসসি, বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স ফেডারেশনের সভাপতি ও মাভাবিপ্রবি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম মজনু, মাভাবিপ্রবি ভাসানী পরিষদের সভাপতি মুহাম্মদ ইপিয়ার হোসেন ও কার্যকরী সভাপতি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান খানসহ অন্যান্য নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ফারাক্কা বাঁধের ফলে পদ্মা নদীর নাব্যতা হারানোর আশঙ্কায় ও পানির নায্য হিসসার দাবিতে ১৯৭৬ সালের এই দিনে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়।
রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দান থেকে ফারাক্কা বাঁধ অভিমুখে লাখো জনতার সেই লংমার্চ রওনা হয় ফারাক্কা বাঁধ অভিমুখে। লংমার্চ শেষে কানসাট হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত বিশাল সমাবেশে বক্তব্য দেন মজলুম জননেতা। সেই থেকে ১৬ মে ফারাক্কা দিবস নামে পরিচিতি লাভ করে।
একতার কণ্ঠঃ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিলে ভূঞাপুর ও গোপালপুরে আগুন জ্বলবে বলে প্রতিপক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর- গোপালপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির।
তিনি বলেন, ঢাকা ক্লাবে বসে বসে আপনারা আসবেন আর ষড়যন্ত্র করবেন। শেখ হাসিনা আমাকে এ আসনে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। এমপি হওয়ার পর এলাকায় অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। সুতরাং এ আসনে মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে আমি কোনো চিন্তাই করি না। যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন তাদেরকেও প্রতিযোগী হিসেবে সমকক্ষ মনে করি না।
সোমবার (১৫ মে) রাত ৯টায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজ মাঠে সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। পরে তার ওই বক্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিভক্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এবং ফেসবুক ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন মন্তব্য করছেন।
ছোট মনির বলেন, আজকে তারা নোংরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এ ষড়যন্ত্রের জবাব তারা পাবে। আমরাও বসে থাকব না। আমি একটা পরিবর্তনের ডাক নিয়ে এসেছি। সেখানে কোনো মারামারি, কাটাকাটি হবে না। একটা পরিবর্তন করতে এসেছি, কারও মাথায় বাড়ি দিয়ে জমি নেয়ার জন্য নয়। কারও ক্ষতি করার জন্য নয়। তারা ভেবেছে আমরা কানা হয়ে গেছি।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আপনারা সাবধান হয়ে যান। মানুষকে সম্মান করলে মানুষ সম্মান করবে। যারা দল করে না, দলের আদর্শ বিশ্বাস করে না তারাই এসব কার্যকলাপ করে।
এদিকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় কোন্দল শুরু হয়েছে। এতে প্রকাশ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে নেতাকর্মীরা। এছাড়া এমপি ছোট মনিরের বড় ভাই টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরের বিরুদ্ধে কিশোরীকে ধর্ষণ মামলায় ভূঞাপুরে পক্ষে-বিপক্ষে মিছিল ও সমাবেশ হচ্ছে।
এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ছাড়াও ঢাকা ক্লাবের সভাপতি ও সাবেক এমপি খন্দকার আসাদুজ্জামানের ছেলে খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল, ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদ, গোপালপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউনুছ ইসলাম তালুকদার ঠান্ডুসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে।
প্রতিদিনই এসব মনোনয়ন প্রত্যাশীরা গণসংযোগ করছেন নিজেদের সমর্থন আদায়ে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি সাকিব মিয়ার (২৪) বিরুদ্ধে ঘরে ঢুকে এক নববধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৬ মে) দুপুরে ওই গৃহবধূ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে সাকিব ও তার আরও দুই সহযোগির বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আসামি সাবিক মিয়া উপজেলার বাসাইল দক্ষিণপাড়া গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে। মামলায় অন্য দুই আসামী হচ্ছেন, বাসাইল দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত হাকিম মিয়ার ছেলে সাইদুল মিয়া (৩০) ও একই গ্রামের জুয়েল মিয়ার ছেলে মো. শাহেদ (২৫)।
মামলা ও ভিকটিম সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১৪ মে) দিবাগত রাতের খাবার খেয়ে ওই গৃহবধূ ও তার স্বামী ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাসাইল পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি সাকিব ও তার দুইজন বন্ধু ওই গৃহবধূর স্বামীকে ডাক দেন। এসময় সাকিব জানায় তার এক স্বজন অসুস্থ তাকে দেখতে যেতে হবে। এজন্য সাকিব ওই গৃহবধূর স্বামীর মোটরসাইকেলটি চেয়ে নেন। পার্শ্ববর্তী বাড়ি হওয়ায় সরল বিশ্বাসে গৃহবধূর স্বামী ঘর থেকে মোটরসাইকেলটি বের করে দেন। পরে মোটরসাইকেলটি কিছুদূর নিয়ে যাওয়ার পর পুনরায় তার স্বামীকে ডাকতে থাকেন এবং মোটরসাইকেলটি স্টার্ট করে দিতে বলেন। এসময় তার স্বামী মোটরসাইকেলটি স্টার্ট দিতে গেলে কৌশলে সাকিব ঘরে ঢুকে তার স্ত্রীকে ওড়না দিয়ে মুখ বেধে ধর্ষণ করতে থাকে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মুখের বাধন খুলে গেলে তিনি চিৎকার শুরু করেন। এসময় তার স্বামী ও আশপাশের লোকজন এসে সাকিবকে হাতেনাতে আটক করে। খবর পেয়ে তার অন্য সহযোগিরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সাকিবকে ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়। এ বিষয়ে কাউকে জানালে বা মামলা করলে হত্যারও হুমকি দেওয়া তাদের।
এদিকে, এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ বাসাইল থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি বলেও আদালতে দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, ওই মেয়ের মাত্র তিন মাস আগে বিয়ে হয়েছে। এই সময়ে বখাটে সাকিব এরকম ঘটনা ঘটিয়েছে। সাকিব উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মতিয়ার রহমান গাউসের ভাতিজা হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পাচ্ছে না। এঘটনায় ভিকটিমের পরিবার চরম আতঙ্কে রয়েছেন।
উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক কামরান খান বিপুল বলেন, ঘটনায় ছাত্রলীগের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা নের্তৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মতিয়ার রহমান গাউস জানান, এই ধর্ষণের ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো নাটক। পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ ওই গৃহবধূকে দিয়ে এই ধর্ষণ মামলাটি করিয়েছে।
এঘটনায় অভিযুক্ত সাকিব মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ভূক্তভোগি নববধূর মামলা না নেওয়ার বিষয়ে বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কেউ ধর্ষণের ঘটনায় মামলা করতে থানায় আসেনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরকে কারাগার থেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে অসুস্থতা জনিত কারণে জেলা কারাগার থেকে তাকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বর্তমানে গোলাম কিবরিয়া বড় মনির টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৩য় তলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে এক কিশোরীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক মাহমুদুল মহসীন জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গোলাম কিবরিয়া বড় মনির টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের বড় ভাই এবং জেলা বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. মকলেছুর রহমানের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। কিছুক্ষণ পর আবার যোগাযোগ করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাদিকুর রহমান জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা বড় মনিরকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তার শরীরের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। কোন সমস্যার কারণে তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে পরে বিস্তারিত জানা যাবে।
প্রসঙ্গত, গত ৫ এপ্রিল রাতে টাঙ্গাইল সদর থানায় শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরের বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মামলায় ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী নিগার আফতাবকেও আসামি করা হয়েছে। এদিকে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা বলে প্রমাণ পেয়েছে মেডিকেল বোর্ড। এছাড়াও ওই কিশোরী গত ৬ এপ্রিল দুপুরে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।