একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা সমবায় ব্যাংকের সভাপতি কুদরত ই এলাহি খানের বিরুদ্ধে ব্যাংকটির ১১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী তিন মাসের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনকে বিষয়টি অনুসন্ধান করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জুন) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব, ব্যারিস্টার অনীক আর হক, অ্যাডভোকেট রাফসান আলভী, ব্যারিস্টার শেখ মো. সামিউল ইসলাম জুয়েল। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হোসেন।
শুনানিতে আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, কুদরত ই এলাহী খান একজন টাউট, রাজনৈতিক প্রভাব ও পেশিশক্তি ব্যবহার করে অন্যের সম্পত্তি বেআইনিভাবে দখলদার। তাছাড়া তিনি আইনজীবী না হয়েও মামলার দালাল হিসেবে পরিচিত। চুক্তির মাধ্যমে আদালতের আদেশ পাওয়ার ঘোষণা দিয়ে থাকেন। পিটিশনার ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলামকে এর আগে তিনি হুমকিও দিয়েছেন। তিনি গর্ব করে বলে থাকেন, অনেক ব্যারিস্টার, আইনজীবী এমনকি বিচারকদের পকেটে রাখেন। এর আগে তার এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগে টাঙ্গাইলের বাসিন্দা ব্যারিস্টার মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম, রাহেলা জাকির টাঙ্গাইল জেলা সমবায় ব্যাংকের সভাপতি কুদরত ই এলাহি খানের বিরুদ্ধে ব্যাংকটির ১১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে এ রিট দায়ের করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, টাঙ্গাইল জেলা সমবায় ব্যাংকের সভাপতি কুদরত ই এলাহি খানের বিরুদ্ধে ব্যাংকটির ১১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠলেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না সমবায় অধিদপ্তর। স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি দুর্নীতির বিষয়টি আমলে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তাগিদ দিয়েছে। অডিট রিপোর্টে ১১ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তারপরও লুটপাটকৃত অর্থ আদায়ের কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বহুতল ব্যাংক মার্কেট নির্মাণ এবং বিক্রি বন্ধের আদেশ তুলে দিয়ে নতুন করে দুর্নীতির আরও সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, টাঙ্গাইল সমবায় ব্যাংকের সভাপতি পদে ২০১৫ সালে মেয়াদ শেষ হয়েছে কুদরতের। কমিটির মেয়াদ শেষে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে নির্বাচনও দেওয়া হয়। মনোনয়ন বিক্রি নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে গোলযোগ সৃষ্টি হলে নির্বাচন স্থগিত এবং অ্যাডহক কমিটির বৈধতা নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা করেন কুদরত। সেই মামলায় নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন উচ্চ আদালত। মামলার রায়ের সুযোগ নিয়ে ১০ বছর ধরে সভাপতি পদে বহাল তবিয়তে আছেন কুদরত।
টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের নিজস্ব শূন্য দশমিক ৮১ একর জায়গার ওপর একটি দ্বিতল মার্কেট ভবনে ১৫৫ জন ব্যবসায়ীকে দোকান বরাদ্দ দেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ওই ১৫৫ জন ব্যবসায়ী বরাদ্দকৃত দোকানে ব্যবসা-বাণিজ্য করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। অভিযোগ আছে, টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের সভাপতি কুদরতের সঙ্গে সখ্য করে পারস্পরিক যোগসাজশে সমবায় ব্যাংকের তহবিল তছরুপ করাসহ মার্কেট ভবন নির্মাণের নামে ১১ কোটি টাকা আত্মসাতের সুযোগ করে দেন সমবায় অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা।
অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, কুদরতকে ব্যবহার করে অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা নানা সুবিধা নিয়েছেন, নতুন করে আরও সুবিধা নিতে মার্কেটের ৪, ৫ ও ৬ তলার দোকান বিক্রির আদেশ দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কুদরত ই এলাহি তার পরিষদকে পাশ কাটিয়ে চাচাতো বোনজামাই দিদারুল ইসলামকে দিয়ে সমবায় ব্যাংকের একটি ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করছেন।
সূত্র আরও জানায়, গত ৫ মাসে এ হিসাব থেকে কুদরত প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। আইন লঙ্ঘন করে দিদারকে সই করার ক্ষমতা দেওয়ায় লেনদেন করতে জবাবদিহি করতে হয় না সভাপতিকে। বিষয়টি স্বীকারও করেন হিসাবরক্ষক দিদার। তিনি বলেন, আমাকে সই করার ক্ষমতা দিয়েছেন চেয়ারম্যান, এ বিষয়ে আপনি তার কাছ থেকে জেনে নিলে ভালো হয়।
এছাড়া সর্বশেষ অডিট রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কুদরত সভাপতি হিসেবে সমবায় ব্যাংকের তহবিল থেকে ঠিকাদারকে ধার দিয়েছেন ৬ কোটি ৮৫ হাজার ৬৩৪ টাকা। অথচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সমবায় ব্যাংকের কাছে ৫ বছর আগের পাওনা এখনো বুঝে পায়নি।
এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বলেন, কুদরত সাহেব আমার ৫ বছর আগের পাওনাই দিচ্ছেন না, হাওলাত দেবেন কেন? আমার কাজের টাকা আদায়ের জন্য আমি বারবার তাগাদা দিলেও নানা টালবাহানা করছেন চেয়ারম্যান।
অডিট রিপোর্ট সূত্রে আরও জানা যায়, বিভিন্নভাবে মামলা পরিচালনার জন্য কুদরত ই এলাহি আইনজীবীর খরচ হিসাবে ৩ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। এ অবিশ্বাস্য লেনদেন নিয়ে সমবায় কর্মকর্তারাও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না স্থানীয় অফিসের কর্মকর্তারা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে মাদক মামলায় এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই মামলায় একজনকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অপর এক যুবককে মামলায় নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া বেকসুর খালাম দেন অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোস্তফা শাহারিয়ার খান।
মঙ্গলবার (২০ জুন) বিকেলে তিনি এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় যাবজ্জীবন দণ্ডিত আসামি মো. মিজানুর রহমান (২২) আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এসময় অপর এক আসামি রাসেল মিয়া আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মিজানুর রহমান জেলার সখীপুর উপজেলার নলুয়া গ্রামের আড়ালিয়াপাড়া গ্রামের ফজলুল করিমের ছেলে।
দুইবছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত একই গ্রামের মৃত আবুল মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া (২৫)। এবং মামলায় খালাস পাওয়া একই উপজেলার যাদবপুর গ্রামের আব্দুর করিমের ছেলে মো. পাভেল মিয়া (২৫)।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পিপি খোরশেদ আলম জানান, টাঙ্গাইলের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ২০১৯ সালের ২ জুন গোপন খবরের ভিত্তিতে সখীপুরের নলুয়া আড়ালিয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দণ্ডিত মিজানুর রহমানের কাছ থেকে এক হাজার ২পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১৫০ গ্রাম হিরোইন জব্দ করে। এছাড়া রাসেলের কাছ থেকে একশ পিচ ইয়াবা ও ১০ গ্রাম হিরোইন জব্দ করে।
এ ঘটনায় জেলা ডিবির (উত্তর) উপ-পরিদর্শক নুরুজ্জামান বাদী হয়ে ৫ জনের নামে মামলা দায়ের করে।
পরে সখীপুর থানার এসআই ছবেদ আলী তদন্ত শেষে ২০১৯ সালে ৩১ জুলাই আসামি মিজানুর রহমান, রাসেল মিয়া ও পাভেল মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি মিজানুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে রায় ঘোষণা পর্যন্ত জেলা কারাগারে রয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় নাছির মিয়া (১৮) নামে এক যুবককে হাতুড়ি পেটা করে গুরুতর আহত করা হয়েছে। বর্তমানে আহত ওই যুবক উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি আছে।
রোববার(১৮ জুন) দুপুরে উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের আটিয়া চালা গ্রামের কুমের পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার নাছির উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের আটিয়া গ্রামের কালু মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় দেলদুয়ার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
আহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রায় তিন মাস পুর্বে আটিয়া শাহনশাহী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের দিন বিদ্যালয়ের গেটে দাঁড়িয়ে কয়েকজন যুবক ছাত্রীদের ইভটিজিং করছিলো। বিদ্যালয়টি নাছিরের বাড়ির পার্শ্ববর্তী হওয়ায় নাছির ওই যুবকদের চলে যেতে বলে। তারা চলে যেতে না চাইলে একপর্যায়ে যুবকদের তার সাথে বাকবিতন্ডা হয়।
এরই জের ধরে রোববার দুপুরে নাছির মিয়া ওই যুবকদের এলাকায় রাজমিস্ত্রীর সহযোগিতা হিসেবে কাজে গেলে তারা অতর্কিতভাবে হাতুড়ি ,ক্রিকেটস্ট্যাম্প ও লাঠিশোঠা নিয়ে নাছিরের উপর হামলা চালায়। তারা হাতুড়ি দিয়ে নাছিরের পায়ের নখ থেতলে দেয়। এছাড়া নাছিরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। হাতুড়ির আঘাতে নাছিরের ডান হাত ভেঙে গেছে। এ সময় নাছিরের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দেলদুয়ার স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
নাছিরের পিতা কালু মিয়া জানান, নাছির রাজ মিস্ত্রির সহযোগী হিসেবে কাজ করে। রোববার সকালে নাছির ওই এলাকায় কাজ করতে যায়। দুপুরে লোক মারফত জানতে পারি আটিয়া চালা গ্রামের সাজেদুল ইসলাম (২০), আসিফ(১৭), শিপন মিয়া(১৮) ও হিঙ্গানগর গ্রামের শিহাব(১৮) মিলে আমার ছেলেকে পুর্বের ঘটনার জের ধরে হাতুড়ি ও ক্রিকেটস্ট্যাম্প দিয়ে বেধড়ক পিটিয়েছে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।
তিনি আরও বলেন, ওই যুবকেরা ইভটিজিং ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমুলক কর্মকান্ডে জড়িত। হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করছি।
আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাত হোসেন জানান, বিষয়টি আমি জেনেছি। ঘটনাটি মীমাংসার জন্য স্থানীয় দুই মেম্বারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যতদ্রুত সম্ভব বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হবে।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাছির উদ্দিন মৃধা জানান, আহত নাছির মিয়ার পিতা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ভিকটিমকে আমি দেখেছি। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য উপ-পরিদর্শক মনোয়ার হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রির্পোট পাওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আরমান কবীরঃ জামালপুরে বাংলা নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম হত্যার প্রতিবাদে ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জুন) সকাল বেলা পৌনে ১২ টায় টাঙ্গাইল জেলা প্রেসক্লাবের আয়োজনে প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলানিউজের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি সুমন কুমার রায়ের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এড.জাফর আহমেদ, একুশে টেলিভিশনের প্রতিনিধি কাজী তাজউদ্দিন রিপন, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রতিনিধি মামুনুর রহমান মিয়া, নয়াদিগন্তের প্রতিনিধি মালেক আদনান প্রমূখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের ঘটনার বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা এমন নির্মম ঘটনা ঘটাতে সাহস পেয়েছে। বক্তারা নাদিম হত্যার সুষ্ঠ বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
মানববন্ধনে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিল।
আরমান কবীরঃ সরকারের সাম্প্রতিক নির্বাচন ব্যবস্থা অনেকটা ভালো উল্লেখ করে কৃষক শ্রমিক জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম বলেছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইস্যুতে বিদ্যমান আইনে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ত্যাগ করার কোন সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইচ্ছে করলে সব মন্ত্রী বাদ দিয়ে আরও ১০০ জনকে মন্ত্রী বানাতে পারেন। একজন পাগলকেও মন্ত্রী বানাতে পারেন। কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগ করার কোন সুযোগ নেই। নির্বাচনকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র রুটিন ওয়ার্ক করবেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবেন। সরকারের সকল কর্মকর্তারা ইসির অধীনে থাকবে।
আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আগামি জাতীয় সংবদ নির্বাচনে কোনো জোটে যাবো কি না জানি না। তবে বিএনপির সাথে কোনো নির্বাচনী জোটে যাবেন না।
তিনি বলেন, আমি সব সময় গণমানুষের পক্ষে বা ন্যায় সংগত কারণের পক্ষে কথা বলে থাকি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বলে পৃথিবীর কোথাও কোনো সরকার নেই। কিন্তু বাংলাদেশে হয়েছিল। এখন সংবিধানে নাই। এরশাদকে বাধ্য করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার করা হয়েছিল। রাজনীতিতে আন্দোলনের মাধ্যমে বাধ্য করতে পারলে সেখানে সবই আইন আর না পারলে সবটাই বেআইনি বলেও মন্তব্য করেন। এখন দেখতে হবে বিএনপি যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার আনতে পারে তাহলে দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আবার হতে পারে। আর না হলে আমার বোনের (প্রধানমন্ত্রী) অধীনেই নির্বাচন হবে- এর কোন বিকল্প আপাতত নেই।
মহান মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত কিংবদন্তী বঙ্গবীর বলেন, একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীকে তাচ্ছিল্য করে কথা সমিচীন নয়- এটা কোনো সভ্যতা নয়। আবার একজন বয়স্ক নেতাকে তাচ্ছিল্য করে কথা বলাও ভালো না। আমাদের স্বাভাবিক হওয়া উচিত। কিন্তু যতদিন যাচ্ছে আমরা অস্বাভাবিক হচ্ছি এবং আমাদের মান মর্যাদা নিজেরাই ক্ষুন্ন করছি। সোমবার (১২ জুন) দুপুরে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম তার টাঙ্গাইলের বাসভবন ‘সোনার বাংলা’য় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
বঙ্গবীর বলেন, আমেরিকার কোন মতেই এই ভিসা নীতি এই মুহূর্তে করার কোনো মানে হয় নাই। কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দরকার পড়লে যাবো না সাত সাগরের ওপার। অনেকে এ কথার সমালোচনা করেছেন। যে কোন সরকার তার ইচ্ছেমত ভিসা দেয়। আমাদের প্রতিবেশি ভারত দুইজনে দরখাস্ত করলে রোগীকে ভিসা দেয় আর তার সঙ্গে যে থাকেন তাকে দেয় না। এটা তাদের ইচ্ছেমত এবং পৃথিবীর সব দেশই নিজেদের ইচ্ছেমতই ভিসা দেয়। বাইরের লোকেরা যে আমাদের দেশে আসে, আমাদের অ্যাম্বেসীগুলোও ওই একই কাজই করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এই ভিসানীতি নিয়ে কোন কথা থাকতো না। ভিসা নিয়ে কথা আসছে রাজনীতির কারণে। আমি মনে করি এই ভিসার যে কড়াকড়ি বা জাতীয় নির্বাচনে কেউ বাধা দিলে ভিসা দেওয়া হবে না, তার উপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। এটা আমাদের অপমান করা ছাড়া আর কিছুই না।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান খোকা বীর প্রতীক, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ এবং জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিণ্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক।
আরমান কবীরঃ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, শ্রীলঙ্কাকে ফলো করেন, দেখবেন তাদের রিজার্ভ সংকট ছিলো। তারা তেল আনতে পারেনি, কয়লা আনতে পারেনি। যার কারনে তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। এক সঙ্গে তারা বিভিন্ন পন্য ইমপোর্ট করতে পারেননি। সাধারনভাবে মানুষের মধ্যে বিরাট মূল্যস্ফীতি হয়েছিলো। সাধারণ মানুষ চাকরি হারাচ্ছিলো। সাধারণ মানুষ আয় ইনকাম হারাচ্ছিলো, সঙ্গে সঙ্গে দ্রব্য মূল্যের উর্ধগতি হচ্ছিলো।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন সেই পরিস্থিতি চলছে। শ্রীলঙ্কা অনেক পন্য বাংলাদেশের চেয়ে কম দামে পাচ্ছে। আমাদের মূল্যস্ফীতি হয়েছে, আমাদের মানুষের আয় ইনকাম কমেছে, বেকারত্ব বেড়েছে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের রিজার্ভ কমেছে, আমাদের ইমপোর্ট কমেছে। সব কিছু মিলে আমরা শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি চলে গেছি।
সোমবার (১২ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইলে জেলা জাতীয় পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রধান অতিথি বক্তব্যে এ সব কথা বলেন তিনি।
জিএম কাদের বলেন, শ্রীলঙ্কার সাথে আমাদের একটি পার্থক্য আছে। শ্রীলঙ্কার মানুষ রাস্তায় নেমেছিলো, সে দেশের সরকার যেভাবে ট্যাকেল দিয়েছে, তাতে প্রমাণ হয়েছে, পুলিশ যে তাদের বন্ধু, সেটাই তারা দেখিয়েছে। সেখানে বড় কোন বিরোধী দল ছিলো না। মানুষই স্বতঃস্ফুর্তভাবে নেমেছে। আমাদের দেশের মানুষ এখনও নামেনি, এটাই পার্থক্য।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান শাসন প্রদ্ধতিতে শতকরা ১০০ ভাগ শক্তি প্রধানমন্ত্রীর হাতে। সেখানে নির্বাচনকালীন মন্ত্রী বা সংসদে কে কতটা আসন পেলো সেটি ম্যাটার নয়। প্রধানমন্ত্রী যদি থাকেন তাহলে নির্বাচনকালীন সরকার, সব সরকার একই ধরনের হবে।
শহরের রাইফেল ক্লাবে আয়োজিত সম্মেলনে ভিসানীতির বিষয়ে গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, আমরা ভিসানীতিকে সমর্থন করি। ভিসানীতিতে যা বলা হয়েছে তা জনগনের পক্ষে বলা হয়েছে, বিপক্ষে নয়। অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচন যারা বাধাগ্রস্ত করবে, তাদের সে দেশে ঢুকতে দেয়া হবে না। সেখানে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা থাকবে। এখানে অখুশি হওয়ার মতো কিছু দেখি না, সরকারও এখানে অখুশি হননি। অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচন কেউ চায় না এ কথা প্রকাশ্যে কেউ বলছেন না। মনে মনে কেউ বলতে পারেন।
জিএম কাদের আরও বলেন, মুক্তিযদ্ধের সময় আমরা একটা পোস্টার দিতাম, সোনার বাংলা শ্মশান কেন ? এখন মনে হয় সোনার বাংলা মরুভূমি কেন ? পানি নেই, বিদ্যুৎ নেই খাবার নেই। মরুভূমি না এটি।
তিনি বলেন, আমরা অনেক কিছুইতেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এবার হয়েছি মাদক দ্রব্য সংক্রান্ত অর্থ সরবরাহ কাজে এশিয়ায় প্রথম আর বিশ্বে পঞ্চম হয়েছি। বিদেশী একটি সংস্থার জরিপে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তথ্যে জানানো হয়েছে এ সংক্রান্ত কাজে পাঁচ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ হয়েছে।
জেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক আব্দুস ছালাম চাকলাদারের সভাপতিত্বে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল কাশেম, রেজাউল ইসলাম ভূইয়া, জহিরুল ইসলাম জহির, মোস্তফা আল মাহমুদ, ঢাকা বিভাগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা প্রমুখ।
এসময় জাতীয় পার্টির জেলা ও উপজেলা নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আবির হোসেন (১৪) নামে ট্রাক চালকের সহকারী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (১১ জুন) ভোরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপজেলার দেওহাটা বেঙ্গল কারখানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত কিশোর আবির হোসেন নাটোরের বাসমারা এলাকার খোকন মিয়ার ছেলে।
সে বাবার সঙ্গে ট্রাকে সহকারী হিসেবে কাজ করতো। বাবা খোকন মিয়া ট্রাকচালক।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, শনিবার রাতে বাবার সঙ্গে মালভর্তি ট্রাক নিয়ে ঢাকা থেকে নাটোরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে আবির হোসেন। রোববার ভোররাতে মহাসড়কের দেওহাটা বেঙ্গল কারখানার সামনে পৌঁছালে সামনে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় একটি যানের পেছনে ট্রাকটি ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকে বাবার পাশে থাকা আবির ঘটনাস্থলেই মারা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ ও ট্রাকটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বাবা খোকন মিয়া সুস্থ আছেন।
গোড়াই হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
আরমান কবীরঃ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে স্মার্ট কর্নারের উদ্বোধন করা হয়েছে।
রবিবার (১১ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইল পৌর শহরের মেইন রোডস্থ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে স্মার্ট কর্নারের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান কবির বিন আনোয়ার।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মামুনুর রশীদ মামুন, জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহ-সভাপতি খন্দাকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুভাস চন্দ্র সাহা, তারেক মাহমুদ পুলু,সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরন, দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট খোরশেদ আলম, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সোলায়মান হাসান প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যারে নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিল।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারি চালিত অটোভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ভ্যান চালক নিহত হয়েছে।
শনিবার (১০ জুন) রাতে উপজেলার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের রক্তিপাড়া তারা ফিলিং স্টেশনের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত ভ্যান চালকের নাম আ. সোবহান (৭০)। তিনি উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের রক্তিপাড়া গ্রামের মৃত কাইঞ্চা শেখের ছেলে।
এই ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক ও অপর মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হয়েছে।
গুরুতর আহতরা হলেন, মোটরসাইকেল চালক উপজেলার কাকরাইদ গ্রামের মোঃ আশরাফুল ইসলামের ছেলে মোঃ বিপ্লব(২২) ও মোটরসাইকেল আরোহী ঘাটাইল উপজেলার টিলা বাজার গ্রামের মোছাঃ আনজুম (২০)
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার রাত ৯ টার দিকে ভ্যানচালক সোবাহান ভ্যান নিয়ে রক্তিপাড়া নিজ বাড়ির দিকে যাচ্ছিল। এসময় অপরদিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ভ্যানটির মুখোমুখি সংর্ঘষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ভ্যানচালক সোবাহান নিহত হয়।
এসময় স্থানীয়রা মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে কত্যর্বরত চিকিৎসক আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মুরাদ হোসেন জানান, রাত ৯টার দিকে রক্তিপাড়া এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ভ্যান চালক মারা যায়। এ ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আনা হয়। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে তাৎক্ষনিকভাবে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
একতার কণ্ঠঃ জনগনের বিপুল ভোটে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হওয়া টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহম্মেদ রাতদিন পরিশ্রম করছেন তার নির্বাচনী প্রতিশ্রতি বাস্তবায়নের জন্য।
ইউনিয়নে ২২টি গ্রামে অবাধ যাতায়াত তার। বাংলাদেশের অন্যতম কনিষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যানকে কাছে পেয়ে খুশি তার ইউনিয়নের জনগন। তার পিতা মরহুম রুহুল আমীন খান খোকন ছিলেন ইউনিয়নের দুই বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। ফলে তোফায়েল আহম্মেদকে এক প্রকার ঘরের ছেলে মনে করেই তার প্রতিটা কর্মসুচিতে ইউনিয়নের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে স্বর্তস্ফুতভাবে অংশ গ্রহন করছে।
২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর দ্বিতীয়বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েই ইউনিয়নের অসমাপ্ত ৪৬টি গ্রামীণ রাস্তা উন্নয়নের কাজ করেছেন তিনি। এদের মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হচ্ছে, সুরুজ পুর্বপাড়া থেকে হাজী বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার ইটের সোলিং ও আরসিসি ঢালাই। আউলটিয়া থেকে কলেজ গেইট পর্যন্ত রাস্তা পাঁকাকরণ। দরুণ জামাই পাড়া থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত নতুন রাস্তা তৈরী। নিয়োগী জোয়াইর পাকা রাস্তা থেকে পুরাতন মসজিদ পর্যন্ত রাস্তার উন্নয়ন। সুরুজ কবরস্থানের রাস্তার উন্নয়নসহ এ পর্যন্ত ৪৬টি রাস্তার উন্নয়নের কাজ করেছেন তিনি।
এছাড়া ইউনিয়নের ৫টি মসজিদ,৩ টি গোরস্থান ও ৩টি মন্দিরের সংস্কারের কাজ করেছেন তিনি। দায়িত্ব নেয়ার পর ইউনিয়নে বয়স্কভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা,বিধবা ভাতার কার্ড প্রদান করেছেন প্রায় ১ হাজার জনকে। ইতোমধ্যে ইউনিয়নের ৩’শ মা পেয়েছেন মাতৃকালীন ভাতা। এর বাইরেও প্রতিমাসে ১৩জনকে নতুন করে দেওয়া হচ্ছে মাতৃকালীন ভাতা।

দরুণ গ্রামের জব্বার আলী,জোয়াইর গ্রামের আবু বক্কর, পাকের আলী, ঘারিন্দা গ্রামের রুবেল মিঞা, বীর নাহালী গ্রামের ওসমান মিঞা, রানাগাছা গ্রামের সোনাভানু, অনিতা রাণী জানান, আমাদের ইউনিয়নে এর আগেও অনেক চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। কিন্তু কেও আমাগো তোফায়েল চেয়ারম্যানের মতো এত্ত কাজ ও জনগনের খোঁজখবর রাখেনাই। তার কাছে প্রয়োজনে দিনেরাতে যেকোন সময় যাওয়া যায়।
তারা আরও জানান, ইউনিয়নবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিলো আমাদের ওই রাস্তাগুলোর সংস্কার ও নতুন রাস্তা তৈরী করার জন্য। সামান্য বৃষ্টি হলেই যাতায়াত বন্ধ হয়ে যেত গ্রামবাসীর, জনদূর্ভোগ পৌঁছাতো চরমে। রাস্তাগুলো তৈরী হওয়াতে এখন আমাদের চলাচলের আর কোন সমস্যা হয়না। এছাড়া বৃষ্টির দিনে সুরুজ কবরস্থানে যাতায়াত খুব কষ্টকর ছিলো। রাস্তাটি করে দেওয়ার ফলে বৃষ্টির দিনেও মৃতদের দাফনে কোন প্রকার সমস্যা হবেনা। দরুণ গ্রামটি টাঙ্গাইল পৌর এলাকার একদম লাগোয়া হলেও বিশ্বরোড কিম্বা শহরে যাতায়াতের কোন রাস্তা ছিলো না। বর্ষাকালে আমাদের নৌকায় যাতায়াত করতে হতো। বর্তমানে রাস্তাটি হওয়ায় আমরা শহরে নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারছি।
ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, ইউনিয়নটি টাঙ্গাইল শহরের লাগোয়া হওয়ায় ইউনিয়নের অনেক লোক শহরে গিয়ে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে শহরের গিয়ে তাদের কাজ করা খুবই কঠিন হয়ে পরতো। আমি দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরে ইউনিয়নের ২২টি গ্রামের কাঁচাপাকা ৪৬টি গ্রামীন সড়ক নির্মাণ, পুনঃনির্মাণ ও সংস্কার করেছি। বিশেষ করে দরুণ গ্রামের যাতায়াতের জন্য কোন রাস্তাই ছিলোনা। বর্তমানে বিশ্বরোড থেকে দরুণ জামাইপাড়া পর্যন্ত রাস্তাটি তৈরী করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ ছানোয়ার হোসেনের সার্বিক সহযোগীতায় ইউনিয়নের ব্যাপক উন্নয়নমুলক কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নমুলক কাজের চিত্র প্রায় প্রতি দিনই বিভিন্ন গ্রামে, চা স্টলে ও শুক্রবার জুম্মা নামাজের পুর্বে বিভিন্ন মসজিদে ইউনিয়নের জনগনের মাঝে তুলে ধরা হচ্ছে। এতে জনগনের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার ইউনিয়ন থেকে নৌকা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে পথসভা করেছে আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী বীর মুক্তিযোদ্ধা মাদুসুল হক মাসুদ।
শনিবার (১০ জুন) বিকেলে উপজেলার আলমনগর ইউনিয়নের দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রচার উপলক্ষে এই পথসভার আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-২ (ভূঁঞাপুর-গোপালপুর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বীরমুক্তিযোদ্ধা মাসুদুল হক মাসুদ।
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, গোপালপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মীর রেজাউল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক লুৎফুর রহমান, ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সরন দত্ত, যুগ্ম সম্পাদক সাহিনুল ইসলাম তরফদার বাদল, ভূঞাপুর পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল বাছেদ মিঞা, অজুর্না ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী মোল্ল্যা, গোবিন্দাসী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইকরাম উদ্দিন তারা মৃধা, সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম আমিন, গোপালপুর উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান আজাদ প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে উপজেলার আলমনগর, মির্জাপুর ইউনিয়ন ও গোপালপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
পরে সাধারণ মানুষজনের মাঝে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড নিয়ে তৈরি করা লিফলেট বিতরণ করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ আগামী ২১ জুন টাঙ্গাইলের বাসাইল পৌরসভা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র আব্দুর রহিম আহমেদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এনামুল করিম অটল ও কৃষক শ্রমিক জনতালীগের উপজেলা শাখার সভাপতি রাহাত হাসান টিপু মেয়র পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এছাড়াও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৭ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পৌরসভার ১০টি কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ হাজার ৪৩৭। এর মধ্যে নারী ভোটার ৯ হাজার ৫৩০ জন এবং পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ৯০৭জন।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকট হয়ে উঠছে। আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ তারা গোপনে আব্দুর রহিম আহমেদের বিরোধীতা করছে। আব্দুর রহিম আহমেদ স্থানীয় সংসদ সংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহেরের অনুসারী। তাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়ার ব্যাপারে এমপি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। একারণে এমপি বিরোধী গ্রুপ চায়না এমপির অনুসারী মেয়র পদে জয়লাভ করুক। তারা প্রকাশ্যে বিরোধীতা না করলেও গোপনে বিরোধীতা করছেন এবং নির্বাচন থেকে দূরে রয়েছেন বলে জানান আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী।
এছাড়াও মেয়র হয়েও গত পাঁচ বছরে তিনি পৌরসভার তেমন কোন কাজ করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। রাস্তা ঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ গত পাঁচ বছরে পৌরসভার কোন উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ বিরোধীদের।
তবে এসব বিষয় উড়িয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রহিম আহমেদ বলেন, গত পাঁচ বছর মেয়র হয়ে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। দলের ভেতরে কোন দ্বন্দ নেই। শুধু আওয়ামী লীগই নয় দল মত নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাকে ভোট দিয়ে জয়জুক্ত করবে। আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মী ও পৌরসভার জনগণ একত্রিত হয়েছে। গত পৌরসভার নির্বাচনের ন্যায় এবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নৌকা উপহার দিবে।
এদিকে বাসাইল উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা অত্যন্ত দূর্বল। দলের ভেতরেও রয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। আওয়ামী লীগ সরকারের অধিনে বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করলেও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল করিম অটল এবারও মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি গত মঙ্গলবার জেলা বিএনপির সভাপতির কাছে পদত্যাগ পত্র পাঠিয়েছেন। তাঁর পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করেছেনও বলে জানান জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন ।
তবে এনামুল করিম অটল বলেন, উপজেলা বিএনপির সকল নেতাকর্মী আমার সাথে রয়েছে। জীবন যৌবন শেষ করেছি এ দলের জন্য। বাসাইল কলেজের ভিপি ছিলাম। বিএনপির দুইবার উপজেলার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে বাসাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি।
তিনি আরও বলেন, গত পৌরসভা নির্বাচনে আমি মাত্র ১৯ ভোটে হেরে গেছি। বর্তমান সরকার আমাকে নীলনক্সা করে হারিয়েছে। এবার ৭০ ভাগ ভোটার আমার পক্ষে। জনগণ ভোট দিতে পারলে আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো। এ অবস্থায় মাঠ ছেড়ে দিলে জনগণ আমাকে ক্ষমা করবে না। জনগণ আমার সাথে আছে। আমি শতভাগ আশাবাদী জয়ের ব্যাপারে ।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন বলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল করিম অটল দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। সে এখন দলের কেউ নন। বিএনপির কোন নেতাকর্মী তাঁর নির্বাচনে অংশ নিলে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম তার মনেনাীত প্রার্থী উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সভাপতি রাহাত হাসান টিপুকে জয়ী করার জন্য ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। সভা সমাবেশ করছেন।
কৃষক শ্রমিক জনতালীগের মেয়র প্রার্থী রাহাত হাসান টিপু বলেন, গত নির্বাচনে সামান্য ভোটে হেরেছিলাম। ১০ বছর ধরে মাঠে রয়েছি। বাসাইলের জনগণ আমাকে চায়। জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আমার বিজয় সুনিশ্চিত।
তবে সাধারণ ভোটাররা সন্ত্রাস, মাদক মুক্ত ও উন্নয়নশীল ও আধুনিক পৌরসভা গড়তে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়জুক্ত করবেন বলে জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বাসাইল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মনি শংকর রায় বলেন, নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি রয়েছে। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনার জন্য ব্যাপক সংখ্যক আইনশৃংখলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।