একতার কণ্ঠঃ বগুড়ার শেরপুরের গাড়ীদহ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে রবিবার (২ জুলাই ) রাতে মো. সাদ্দাম হোসেন নামের এক মুঠোফোন ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর গ্রামের দুলাল হোসেনের ছেলে। সাদ্দামের মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিবারের দাবি, বন্ধুরা সাদ্দামকে হত্যার পর মহাসড়কের পাশে লাশ ফেলে যায়। হত্যার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে তার বন্ধুরা। পুলিশেরও ধারণা সাদ্দামকে হত্যার পর লাশ ফেলে দেওয়া হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাদ্দাম রবিবার বিকালে এলেঙ্গা রাজাবাড়ী এলাকার বন্ধু রাব্বি, অমিত, লিসান, বাপ্পীসহ ছয় বন্ধু ঈদ পরবর্তী ঘুরতে বের হয়। রাতে পরিবারের সদস্যরা খবর পান সাদ্দাম অসুস্থ। তার কিছুক্ষণ পর খবর পান সাদ্দাম সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে।
স্ত্রী রুপা বেগম বলেন, আমি সাদ্দামকে ফোন দেয়ার পর সে আমাকে বলে ‘আমি রাব্বি ও লিসানদের সঙ্গে ঘুরতে আসছি। ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। তুমি আমাকে বাঁচাও।’ তারপর ওরা ফোন নিয়ে নেয়। এরপর বার বার ফোন দিয়েও সাদ্দামের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। ঘটনার পর থেকে রাব্বি, বাপ্পীর ফোন নম্বর বন্ধ।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আব্দুল ওয়াদুদ জানান, গাড়ীদহ বাসস্ট্যান্ডে ফ্লাইওভারের নিচে বিবস্ত্র অবস্থায় যুবকটিকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।
তিনি আরও জানান, তখন তিনি আল্লাহ অল্লাহ করতেছিলেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ওই যুবককে শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে নাকি পরিকল্পিত হত্যা সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাবু কুমার সাহা জানান, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে বাসের চাপায় সিএনজি চালিত অটোরিক্সার দুই আরোহী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে ৪জন।
বুধবার (৫ জুলাই)সকাল ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন, জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার ডুয়াইল গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে ওয়াজেদ আলী (৪০) ও একই এলাকার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে আব্দুল হালিম (৩২)।
ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত )ইদ্রিস আলী জানান, বুধবার সকাল ৭টার দিকে জামালপুর থেকে ঢাকা গামী একটি যাত্রীবাহী বাস ধনাবাড়ী উপজেলার সাত্তারকান্দি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজি চালিত অটোরিক্সাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিক্সার দুই আরোহী নিহত হয়। আহত হয় আরও ৪জন।
তিনি আরও জানান, বাস জব্দ করা হয়েছে কিন্তু বাস চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। এদিকে আহতদের উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হসপিটালে পাঠানো হয়েছে। কোন অভিযোগ না থাকায় লাশ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে দেশের অন্যতম বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। এনটিভির ২০ বছর পূর্তি ও ২১ বছরে পদার্পন উপলক্ষে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।
এসময় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে প্রবীন ও নবীন সাংবাদিকদের এক মিলন মেলায় পরিনত হয়।
এনটিভি দর্শক ফোরাম টাঙ্গাইল শাখার সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম মোস্তফা লাবুর সভাপতিত্বে এনটিভির বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার ও অনুষ্ঠান নিয়ে প্রশংসা করেন জৈষ্ঠ সাংবাদিকরা।
তারা বলেন, এনটিভির পথচলা থেকেই বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে আজ পর্যন্ত অবিচল রয়েছে। এনটিভি আজ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। এনটিভির প্রতিষ্ঠবার্ষিকীর এ অনুষ্ঠান টাঙ্গাইলের জৈষ্ঠ ও নবীন সাংবাদিকের এক মিলন মেলায় পরিনত করেছে। আলোচকরা এনটিভির কলাকৌশলী সাংবাদিক ও অনুষ্ঠান বিভাগের সকলকে জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানান।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পুর্বাকাশ পত্রিকার সম্পাদক এডভোকেট খান মোহাম্মদ খালেদ, প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, সাবেক সভাপতি এডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ, প্রবীন সাংবাদিক বিমান বিহারী দাস, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক শামসাদুল আখতার শামীম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এনটিভির স্টাফ করেসন্ডেন্ট মহব্বত হোসেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের দপ্তর ও লাইব্রেরী সম্পাদক অরন্য ইমতিয়াজ।
পরে টাঙ্গাইলের জৈষ্ঠ সাংবাদিকরা বর্ষপুর্তির কেক কেটে দিবসটি উদযাপন করেন।
অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্টস ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ বিভিন্ন অনলাইন ও নিউজ পোর্টালের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ঘাতক স্বামী রাশেদকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের নরুন্দা পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূর নাম আলিসা বেগম (২৮)। আর তার স্বামী রাশেদ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পয়লা গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে।
দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মোঃ নাসির উদ্দিন মৃধা জানান ,ঈদের আগের দিন আলিসা শ্বশুর বাড়ি থেকে তিন ছেলে মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি দেলদুয়ার উপজেলার নরুন্দা পূর্বপাড়া আসেন। রোববার দুপুরে আলিসার স্বামী রাশেদ এসে ছেলে মেয়েকে নিয়ে যান। সোমবার বিকেলে আলিসা তার বাবার বাড়ি নরুন্দা গ্রামে ঘরের ভেতর শুয়ে ছিলেন। এ সময় তার স্বামী রাশেদ মিয়া শ্বশুর বাড়ি এসে ঘরের ভেতর ঢুকে স্ত্রী আলিসাকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।
তিনি আরো জানান,খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় স্বামী রাশেদকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত রাশেদ ঢাকায় গাড়ির মিস্ত্রির কাজ করেন। এই ব্যাপারে নিহতের পিতা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে এক প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার ( ২ জুলাই ) বিকালে নাগরপুর উপজেলা সদরের কলেজ পাড়া এলাকায় নিজ বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম শাহনাজ আক্তার (৪৫)। তিনি উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের সলিমাবাদ গ্রামের সৌদী প্রবাসী মোশারফ হোসেনের স্ত্রী।
ঘটনার পর থেকে নিহতের কিশোরী কন্যা ফারজানা আক্তার (১৫) নিখোঁজ রয়েছে।
নিহতের পিতা আব্দুল বাতেন জানান, আমার মেয়ের জামাই অনেক বছর ধরে সৌদী প্রবাসী। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। এক ছেলে প্রবাসী, অপর ছেলে ঢাকায় চাকরি করে। মেয়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। মেয়েকে নিয়ে উপজেলা সদরের নিজেদের চারতলা বাড়ির চারতলায় বসবাস করত শাহনাজ । আমার জানা মতে মেয়ে ও নাতীদের সাথে কারো কখনও ঝগড়া বিবাদ ছিল না। কিভাবে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটল কিছুই বুঝতে পারছি না। শনিবার (১ জুলাই) বিকালে মেয়ের সাথে কথা হয়েছে। ফজরের নামাজের পর মেয়েকে ফোন দিয়ে আর পায়নি। দুপুরে তার মৃত্যুর খবর পাই। ঘটনার পর থেকে নাতনিও নিখোঁজ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, তবে কেউ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে নাতনিকে তুলে নিয়ে গেছে বলে সন্দেহ হচ্ছে। আমি পুলিশের কাছে এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও নিখোঁজ নাতনীকে দ্রুত উদ্ধারের জোর দাবি জানাচ্ছি।
ওই বাসার ভারাটিয়া অপু আক্তার বলেন, দুপুরে চারতলায় পানি আনতে গিয়ে দেখতে পাই চার তলার দরজা খোলা। শাহনাজ আপার লাশ খাটের উপর পরে রয়েছে। তাঁর মেয়ে রুমে নেই। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাজ্জাদ হোসেন জানান, খবর পেয়ে দুপুরে নিহতের লাশ উদ্বার করে পুলিশ। নিহতের গলায় ফাঁস লাগানোর চিহৃ রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে থানায় কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে প্রাইভেটকারের সাথে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক কলেজ ছাত্র রাফি নিহত হয়েছে।
রোববার (২ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপজেলার ধোপাজানি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কলেজ ছাত্রের নাম আশরাফুল ইসলাম রাফি (২০)। সে উপজেলার দিঘর ইউনিয়নের দিঘর গ্রামের হাসাজানি গ্রামের জুয়েল হোসেন (বাবলু) এর ছেলে।
রাফি ঢাকার একটি কলেজে একাদশ শ্রেণীতে পড়ালেখা করতো। রাফির বাবা র্যাব এ কর্মরত আছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রোববার দুপুরে রাফি মোটরসাইকেলে যোগে দিঘর থেকে ঘাটাইল শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। দুপুর ১২ টার দিকে মহাসড়কের ধোপাজনি এলাকায় পৌঁছালে টাঙ্গাইলগামী একটি চলন্ত প্রাইভেটকারের সাথে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডান পাশের দরজায় গিয়ে লাগে । এতে মোটরসাইকেলটি দুমরে মুচড়ে যায় ও চালক রাফি মহাসড়কে ছিটকে পড়ে।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
এ প্রসঙ্গে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন জানান ,কোন অভিযোগ না থাকায় ময়না তদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বৈরান নদী সাঁতরে পার হওয়ার সময় পানিতে ডুবে বারেক (৬৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার নগদা-শিমলা ইউনিয়নের মাকুল্যা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বারেক গোপালপুর উপজেলার নগদা-শিমলা ইউনিয়নের সেনের মাকুল্যা গ্রামের মৃত বাহাজ আলীর ছেলে।
প্রতিবেশী আব্দুল মালেক জানায়, বারেক হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। ঘটনার দিন বারেক মাকুল্যা গ্রামের কবরস্থান এলাকা থেকে নদী সাঁতরে অপর প্রান্তে যাওয়ার সময় পানিতে ডুবে যায়। এরপর আর তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, পরে টাঙ্গাইল থেকে ডুবুরির দলের দুইটি ইউনিট এসে নদীর তলদেশ থেকে বারেকের মরদেহ উদ্ধার করে।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে শোনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য পাঠিয়েছিলাম। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ঈদে ঘুরতে বের হয়ে বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই বন্ধুসহ ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার তিন জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে অন্তত ৫ জন।
শুক্রবার(৩০ জুন )বিকেলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হচ্ছেন, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার চালক মো. বাবু মিয়া (৩৫)। তিনি টাঙ্গাইল শহরের দক্ষিণ কলেজপাড়া মহিষখোলা এলাকার শাহজাহান মিয়ার ছেলে। নিহত অপর দুই বন্ধু হচ্ছে, একই এলাকার আতোয়ার মিয়ার ছেলে মো. আওয়াল মিয়া (১৭), আব্দুর রিপনের ছেলে মো. ফকর (১৬)।
নিহত আওয়াল মিয়ার মামা রায়হান মিয়া জানান, ঈদ উপলক্ষে ওরা বন্ধুরা ১১ জন মিলে ঘুরতে বের হয়েছিলো। ওদের অটোরিকশার সাথে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক চালকসহ তিন জনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুত্বর আহত অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঁচ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের লাশ বাড়িতে আনা হয়েছে।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহিদ হাসান জানান, গোপালপুরের দ্রুতগামী পরিবহনের একটি বাস ঢাকা থেকে গোপালপুরের দিকে যাচ্ছিলো। অপর দিকে ব্যাটারি চালিত একটি অটোরিকশার সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে বাস পাওয়া যায়নি। তবে অটো রিকশা পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বন্ধুর নতুন মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয়ে বাস চাপায় আব্দুল্লাহ তালুকদার (১৯) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় রবিন মন্ডল (১৯) নামে তার সাথে থাকা আরও এক মোটরসাইকেল আরোহী আহত হয়েছে। সে বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম ও ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার (২৮ জুন) সন্ধ্যা ৬ টায় উপজেলার বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব-ভূঞাপুর-এলেঙ্গা আঞ্চলিক মহাসড়কের চিতুলিয়াপাড়া নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টাপর নিহত আব্দুল্লাহ তালুকদারের মরদেহ উদ্ধার করে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানা পুলিশ।
আব্দুল্লাহ তালুকদার ঘাটাইল উপজেলার আনোহলা ইউনিয়নের যোগিহাটী গ্রামের আব্দুর রহিম তালুকদারের ছেলে
আহত রবিন মন্ডল একই গ্রামের আব্দুল আজিজ মন্ডলের ছেলে। তারা দুজনেই টাঙ্গাইল সৃষ্টি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিকালে একটি নতুন মোটরসাইকেল নিয়ে আব্দুল্লাহ ও রবিন বাড়ি থেকে বের হয়ে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ঘুরতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে চিতুলিয়াপাড়া নামক স্থানে পৌঁছলে ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের ধাক্কায় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে তারা।
এতে ঘটনাস্থলে আব্দুল্লাহ রক্তক্ষরণে মারা যায় এবং আহত হয় মোটরসাইকেল চালক তার বন্ধু রবিন মন্ডল। পরে আহত রবিনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে পাঠায়।
অপরদিকে, ঘাতক বাস চালক ও শ্যামলী পরিবহন বাসটি ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল বলেন, ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহন নামে বেপরোয়া গতির একটি বাসের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী আব্দুল্লাহ নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয় এবং ও আহত হয় নিহতের বন্ধু রবিন। এ খবর পেয়ে সন্ধ্যার পর ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আহত রবিনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স হাসপাতালে পাঠায়। দুর্ঘটনা কবলিত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ঘাতক চালক ও বাসটি আটক হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করেনি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ রাত পোহালে ঈদ আজহা। নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে ঘরমুখো মানুষ। ঢাকা-টাঙ্গাইল- বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে গাড়ির চাপ বাড়ায় মহাসড়কের ২৫ কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এই ২৫ কিলোমিটারজুড়ে থেমে থেমে গাড়ি চলছে।
বুধবার (২৮ জুন) ভোর রাত ৪ টা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপার থেকে টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার ঘারিন্দা পর্যন্ত এই যানজটের সৃষ্টি হয়।
মহাসড়কে দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মহাসড়কে পরিবহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, সেতুর উপরে পরপর দুর্ঘটনা, গাড়ি বিকল হওয়া, দফায় দফায় টোল আদায় বন্ধ এবং চালকদের বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর কারনে এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
মহাসড়কে যানজটের কারণে বিপাকে পড়েছে ঘরমুখো মানুষ। বিশেষ করে যারা বাস না পেয়ে খোলা ট্রাক ও পিকআপযোগে বাড়ি ফিরছেন বৃষ্টির কারণে তারা বেশি বিপাকে পড়েছেন।
জানা যায়, বুধবার ভোরে বঙ্গবন্ধু সেতুর উপর সংঘর্ষ ও এক পিকআপ গাড়ি বিকল হয়। পিকআপটি সরাতে এক ঘন্টার উপরে সময় লাগে। এতে ভোর রাত ৪ টা ১৫ থেকে ৪ টা ৫৩ পর্যন্ত টোল আদায় বন্ধ রাখে সেতু কর্তৃপক্ষ। এর আগেও কয়েক বার টোল আদায় বন্ধ রাখা হয়। এতে যানজট শুরু হয় মহাসড়কে।
খোলা ট্রাকে পরিবার নিয়ে যাওয়া গন্তব্যে যাওয়া জাহিদ হোসেন জানান, বাস না পেয়ে ট্রাকে উঠেছি কিন্তু বৃষ্টি বিপাকে ফেলেছে। এই বৃষ্টি হচ্ছে এই হচ্ছে না। রাতে গাড়িতে উঠেছি কোনাবাড়ি থেকে এখন সকাল ৭টা বাজে এলেঙ্গাতে আছি।
বাসের চালকরা জানান, ঢাকা থেকে যানজট ঠেলে আসতেছি। মহাসড়কের চারলেন হলেও এলেঙ্গার যানজট মহাসড়কে গিয়ে ঠেকেছে।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ওসি জাহিদ হাসান জানান, সেতুর উপর ও মহাসড়কে দুর্ঘটনার কারণে যানজট শুরু হয়। গাড়ির টান শুরু হয়েছে আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক হবে।
একতার কণ্ঠঃ সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ঈদ-উল-আজহা উদযাপন করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ জুন) সকালে উপজেলার শশীনাড়া গ্রামের ৫০টি পরিবার ঈদ পালন করছেন।
স্থানীয় ঈমান আব্দুর রহমান জানান, সকাল ৮টায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে শতাধিক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। তিনি ঈদের নামাজ পড়ান। নামাজ শেষে কোলাকুলি করেন মুসল্লিরা। বিশ্বের মুসলিম উম্মার জন্য দোয়া করা হয়। সৌদি আরবের সাথে একই দিনে ঈদ উদযাপন করতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন মুসল্লিরা।
লাউহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিন মোহাম্মদ খান জানান, শশীনাড়া একটি ছোট গ্রাম।এই গ্রামে পাঁচ শতাধিক মানুষের বসবাস।এই গ্রামের একটি সমাজের শতাধিক মানুষ সৌদির সাথে মিল রেখে একদিন আগে ঈদ উদযাপন করে।আমি শুনেছি ১০-১২ বছর ধরে এই গ্রামের ৫০-৬০ পরিবার ঈদ উদযাপন করে আসতেছে।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সাল থেকে এ গ্রামের মানুষ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে মিল রেখে ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আজহা পালন করে আসছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এলেঙ্গা- জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লাকড়ি বোঝাই ট্রাকে পিকআপের ধাক্কায় ঘটনাস্থলে একজন সহ দুই গার্মেন্টস কর্মী নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ জুন) রাত ৯ টার দিকে ওই মহাসড়কের কালিহাতী পৌরসভার বাগুটিয়া চাটিপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। এদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
নিহত দুই গার্মেন্টস কর্মী হলেন- জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার মাইজবাড়ীচর গ্রামের আব্দুল হকের স্ত্রী নিশি (২০) ও তার মা নাসিমা বেগম (৪৫)।
নিহত নাসিমার ছেলে বিপ্লব জানান, তাঁরা সবাই আশুলিয়া বেরিবাঁধ এলাকায় একটি গার্মেন্টসে কাজ করত। ঈদের ছুটিতে বাইপাইল থেকে একটি পিকআপ যোগে তিনি সহ তার মা, ভাই, ভাবী, খালা ও খালু মিলে বাড়ি ফিরতেছিল। পথিমধ্যে এলেঙ্গা-জামালপুর মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার চাটিপাড়া এলাকায় পৌঁছলে সড়কের পাশে বাঁকাভাবে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লাকড়ি বোঝাই ট্রাকে ধাক্কা দেয়। এসময় সাথে সাথেই আমার ভাবী নিশি মারা যায়।
তিনি আরও জানান, ওই পিকআপে আমরা প্রায় ২০ জনের মতো যাত্রী ছিলাম। পরে এখানকার লোকজন আহতদের উদ্ধার করে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে আমার মা মারা যায়।
কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. এলিন আরাফাত অনিক জানান, এই সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জন রোগী আহতবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে। এদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় তাদেরকে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে এবং নাসিমা নামের এক নারীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় হাসপাতালে মারা গেছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছুটি দেওয়া হয়েছে।
এবিষয়ে এলেঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ির সাব-ইন্সপেক্টর সাকিব জানান, কালিহাতী উপজেলার বাগুটিয়া চাটিপাড়া এলাকায় মহাসড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি লাকড়ি বোঝাই ট্রাকে ঢাকা বাইপাইল থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী পিকআপ দ্রুত এবং বেপরোয়া গতিতে এসে সজোরে ধাক্কা দেয়। এসময় ঘটনাস্থলেই একজন ও কালিহাতী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন মোট দুইজন পিকআপের যাত্রী নিহত হয়। এ ঘটনায় ট্রাক ও পিকআপ জব্দ করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, লাশ দুটি আইনগত ব্যবস্থা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।