একতার কণ্ঠঃ ভারতীয় আগ্রাসানের প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলে আন্দোলনকারীরা মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়।
শুক্রবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলটি শহরের গুরত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। এতে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক এবি যুবায়ের ও মোসাদ্দেক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারী কামরুল ইসলাম, আল আমিন, মনিরুল ইসলাম, আল আমিন সিয়াম প্রমুখ।
আন্দোলনকারীরা জানান, সম্প্রতি কোন রকম নোটিশ ছাড়াই ভারত সরকার কর্তৃক গম্বুর ও গজলডোবা বাঁধ খুলে দেওয়ায় বাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। ইতিমধ্যেই নোয়াখালী, ফেনী, সিলেট, চট্টগ্রামসহ ১২ জেলার বিভিন্ন অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ভারতের এমন আগ্রাসন মেনে নেয়ার মতো নয়। ভারত যদি তাদের নীতি থেকে সরে না আসে ভারতীয় পণ্য বয়কটসহ তাদের সেভেন সিস্টার্সকে শান্তিতে থাকতে না দেওয়ার হুশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।
একতার কন্ঠঃ বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী সালাম পিন্টুসহ সকল রাজবন্দিদের মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে টাঙ্গাইলে সমাবেশ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌরউদ্যানে আব্দুস সালাম পিন্টু মুক্তি পরিষদের উদ্যোগে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

বাবু শ্যামল হোড়ের সভাপতিত্বে ও জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি আতাউর রহমান জিন্নাহ, সাদেকুল আলম খোকা, জিয়াউল হক শাহীন, সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক শফিকুল ইসলাম লিটন, দেওয়ান শফিকুল ইসলাম, আব্দুস সালাম পিন্টুর ভাই আলহাজ্ব আজাদ, সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আজগর আলী, শহর বিএনপি’র সভাপতি মেহেদী হাসান আলীম, সাধারণ সম্পাদক এজাজুল হক সবুজ, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সালেহ মোহাম্মদ সাফি ইথেন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ‘সালাম পিন্টু টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি শেখ হাসিনার ষড়যন্ত্রের শিকার। একুশে গ্রেনেড হামলার সঙ্গে পিন্টু জড়িত ছিলেন না। আমরা অতিদ্রুত সালাম পিন্টুর মুক্তি দাবি করছি। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন বক্তারা।’
সমাবেশ শুরু হওয়ার আগে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বড় বড় মিছিল গিয়ে সমাবেশে স্থলে জড়ো হয়। এতে পৌরউদ্যান ভরে গিয়ে পাশের সড়ক গুলোতে নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়। সমাবেশে প্রায় পাঁচ সহস্রাধিক নেতাকর্মী অংশ গ্রহণ করে।
একতার কন্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা লৌহজং নদী দখল ও দূষণরোধে করণীয় শীর্ষক দলীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার(২১ আগষ্ট )দুপুরে শহরের একটি রেস্তোরায় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি’ (বেলা) উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বিশিষ্ট সমাজকর্মী খন্দকার নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন, সমাজকর্মী জালাল আহমেদ উজ্জল, আরপিডিও’র নির্বাহী পরিচালক রওশনারা লিলি।
এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বিভাগীয় সমন্বয়কারী গৌতম চন্দ্র চন্দ। আলোচনা সভায় বক্তারা লৌহজং নদী দখল ও দূষণরোধে করনীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এসময় বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্য ও সমাজ কর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেনকে অনাস্থা এবং দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মেম্বাররা।
বুধবার(২১ আগষ্ট )দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের অডিটরিয়ামে দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বাররা এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোহাম্মদ আবু সাঈদ।
মেম্বার মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে আফজাল হোসেনকে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বেপরোয়া হয়ে উঠে। দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিনত করেছেন। তার এই অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা প্রথম থেকেই প্রতিবাদ করে আসছি। কিন্তু আমাদের কাউকে তোয়াক্কা না করে তিনি তার এইসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের রাজস্ব আয়, কাবিখাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের ঢাকা উত্তোলন পারে আত্মসাৎ করেছেন। আমাদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও নিয়মিত সম্মানী ভাতা দিচ্ছেন না। পরিষদের আর্থিক বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান সাহেব আমাদের সাথে অসৎ আচরণ ও হুমকি দিত। এতে মেম্বারদের মাঝে বৈষম্য ও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এমতাবস্থায় আমরা মেম্বারবৃন্দ সর্বসম্মতিক্রমে চেয়ারম্যান আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে অনস্থা দিয়েছি।
এর আগে সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়।
এ সময় নারী প্যানেল চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত ১,২, ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য অমলা পোদ্দার, সংরক্ষিত ৪,৫, ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুফিয়া বেগম, সংরক্ষিত ৭,৮, ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিলকিছ বেগম, ১ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. শওকত আলী, ২ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. আব্দুল আওয়াল, ৪ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম, ৫ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. লিটন মিয়া, ৬ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. সোহরাব হোসেন ও ৯ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. আবু সাইদসহ এলাকার স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।
সোমবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার শিবনাথ স্কুল থেকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিন করে পৌর উদ্যানে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
এ সময় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক তারিকুল ইসলাম ঝলকের সভাপত্বিতে ও সদস্য সচিব সালেহ মোহাম্মদ ইথেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন ও সাধারণ সম্পাদক এড. ফরহাদ ইকবাল।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জালিম সরকারের পতন হওয়ায় আজকে স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে সাধারণ ছাত্র-জনতাকে শুভেচ্ছা জানাই। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পড়ে এই ফ্যাসিবাদি সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। সমাবেশ শেষে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসুচী পালন করা হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিটি কর্মসূচিতে দলের সকল পর্যাযের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন টাঙ্গাইল দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে শহরের মেইন রোডে অবস্থিত দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার সামনে ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. সোহরাব হোসেন এবং পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি কুদরত-ই-এলাহীর অপসারণের দাবি করা হয়।
মানববন্ধনে নিয়ম বর্হিভুত ভাবে দীর্ঘদিন অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্বপালনসহ নজিরবিহীন দূর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন বক্তারা। দ্রুত তাদের অপসারণসহ শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশের দাবি করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীরা।
এ সময় বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার আরবী বিভাগের সহকারি অধ্যাপক এনামুল্লাহ্ খান, ইংরেজি প্রভাষক তানসিনা আক্তার লিপি প্রমুখ।
মানববন্ধনে মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আনোয়ারুল হাবিব, আরবী বিভাগের সহকারি অধ্যাপক শওকত আলী, পদার্থ বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানসহ প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে কুমুদিনী কলেজ-রামপুর শাখা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল শিকদারের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে সরকারি কুমুদিনী মহিলা কলেজের সামনে ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, কুমুদিনী কলেজ-রামপুর সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. হাসান আলী, কার্যকরী সভাপতি মো. শাহিন মিয়া, সহ-সভাপতি মো. সেলিম মিয়া, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, রাজিব হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাসির আহমেদ প্রমূখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ১৪ আগস্ট বিকালে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল শিকদারকে ঘারিন্দা ইউনিয়নের সুরুজ বাজারে মো. রুহুল কুদ্দুসের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ব্যাপক মারধোর করে। সন্ত্রাসীরা সংগঠনের নেতাকর্মীদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এছাড়া ১৬ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে মামলা দায়ের করা হলেও পুলিশ আসামি ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। অবিলম্বে ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয় মানববন্ধন থেকে।
একতার কণ্ঠঃ যারা সাধারণ ছাত্র ও জনসাধারণকে গুলি করে হত্যা করেছে, তাদের প্রত্যেককেই আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) সকালে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর বিলকুকডি গ্রামে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত সাজিদের জানাজায় অংশ নিতে এসে এসব কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, আজ সাজিদের আত্মত্যাগের কারণে আমরা নতুন স্বাধীনতা পেয়েছি। সাজিদের এই আত্মত্যাগ বাংলাদেশের মানুষ কোনোদিন ভুলবে না। সাজিদ দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। আজ থেকে তার পরিবারের সব দায়িত্ব আমি নিলাম।
প্রকাশ,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইকরামুল হক সাজিদ ৪ আগস্ট ঢাকায় আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিশের গুলিতে আহত হন। পরে ১৪ আগস্ট ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
একতার কণ্ঠঃ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি এবং গণহত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি দুই দিনের অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা করেছে।
টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা বিএনপি’র আয়োজনে বুধবার (১৪ আগস্ট) ও বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) দুই দিনের অবস্থান কর্মসূচি চলবে। এ সময় তারা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে।
অবস্থান কর্মসূচিতে জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামীল শাহিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবালের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সহসভাপতি জিয়াউল হক শাহিন, সাবেক সহসভাপতি অমল ব্যানার্জী, সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলী, প্রচার সম্পাদক এ কে এম মনিরুল হক মনিরসহ অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু জানান, জেলা বিএনপি’র অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা অনুযায়ী সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে। এদিকে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে সকাল থেকেই তৃণমূল বিএনপি’র অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে সমবেত হন ।
সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট. ফরহাদ ইকবাল বলেন, টাঙ্গাইলে এখনো বিভিন্ন মহল্লায় সন্ত্রাসীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনকে জেলা বিএনপি’র পক্ষ থেকে সাত ঘণ্টা সময় দেওয়া হলো।
তিনি আরও বলেন, এই সময়ের মধ্যে টাঙ্গাইল থেকে এসব সন্ত্রাসীদের বিতাড়িত করা না হলে এর জবাব বিএনপি’র নেতাকর্মীরা দেবেন।
একতার কণ্ঠঃ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে টাঙ্গাইলে পুলিশের গুলিতে নিহত মারুফ মিয়ার পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা প্রকাশ করেছে জেলা প্রশাসন।
বুধবার (১৪ আগষ্ট)বেলা ১১টায় পৌর শহরের সাবালিয়া এলাকায় মারুফের পরিবারের লোকজনের সাথে সাক্ষাৎ করেন জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা।
মারুফের পরিবারের পক্ষ থেকে তার হত্যার বিচার দাবি ও শহরের কুমুদিনী কলেজ গেট থেকে ঘারিন্দা রেল স্টেশন সড়কটি মারুফের নামে করার দাবি জানানো হয়।
এসময় জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম সমবেদনা প্রকাশ করে মারুফের মা-বোনকে শান্তনা দেন।
এছাড়াও পরিবারের নিরাপত্তা দেয়াসহ সহযোগিতার আশ্বাস দেন তারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক কায়ছারুল ইসলাম, পুলিশ সুপার গোলাম সবুর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরফুদ্দীন, সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন শাওন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান বিন মুহাম্মাদ আলী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারী আব্দুল নুর তুষার, আল আমিন, ইফফাত রাইসা নূহা, তাওহীদা ইসলাম স্বপ্নীল প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ৫ আগস্ট (সোমবার) বিকেলে শিক্ষার্থীদের মিছিল নিয়ে শহরের প্রধান সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় টাঙ্গাইল সদর থানা এলাকায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের গুলিতে মারুফ নিহত হন।
পরদিন টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ ময়দানে নামাজে জানাজা শেষে মারুফের গ্রামের বাড়ি বাসাইল উপজেলার জশিহাটি গ্রামে দাফন করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌরসভার অচলাবস্থা কাটিয়ে তোলার লক্ষ্যে ৯ সদস্যের আহ্বায়ক পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন মেহেদী হাসান আলিম।
মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে নবগঠিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। মেহেদী হাসান আলী টাঙ্গাইল পৌরসভার ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর।
কমিটির সদস্য সচিব পৌরনির্বাহী কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ পারভীন।
অন্যান্য সদস্যরা হলেন, নির্বাহী প্রকৌশল মো. মিজানুর রহমান, কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদশা, মো. রুবেল মিয়া, খালেদা আক্তার স্বপ্না, রকি হায়দার, আবুল কালাম আজাদ ও সেলিনা আক্তার।
টাঙ্গাইল পৌরসভার প্যানেল মেয়র তানভীর হাসান ফেরদৌস নোমান বলেন, পৌরসভার অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে সর্বসম্মতিক্রমে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি দ্বারা সকল কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
নবগঠিত পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মেহেদী হাসান আলিম জানান, নাগরিক সেবা সচল ও ভঙ্গুর পৌরসভার ভবন পুনঃনির্মাণে কমিটি মঙ্গলবার থেকেই কাজ শুরু করেছে। সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
এর আগে ১০ আগস্ট টাঙ্গাইল পৌর পরিষদের সর্বসম্মতিক্রমে নয় সদস্যের ওই আহ্বায়ক পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়।
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে কয়েক দফা হামলার শিকার হয় টাঙ্গাইল পৌরসভা ভবন। এর ফলে বন্ধ হয়ে যায় পৌরসভার সকল কার্যক্রম।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের আওয়ামীলীগের এমপি, প্রতিমন্ত্রী ও দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরই এলাকা ছাড়তে শুরু করেন। বর্তমানে তাদের সম্পর্কে কেউ কোনো তথ্য দিতে পারছেন না। অনেকেই আত্মরক্ষার্থে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন।
চলমান এই পরিস্থিতিতে জেলায় প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু ও শামছুন্নাহার চাপা, সাবেক সংসদ সদস্য ডক্টর আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনির, সাবেক সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভ, সাবেক সংসদ সদস্য অনুপম শাজাহান জয়, জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত আমানুর রহমান খান রানার বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেনের বাড়ি ভাঙচুর না করা হলেও তিনি সহ আওয়ামীলীগ দলীয় সাবেক এমপি-প্রতিমন্ত্রী সহ বিভিন্ন পৌরসভার মেয়র ও জেলা-উপজেলার নেতাকর্মীরা বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপণে চলে গেছেন।
জানাগেছে, সারাদেশের ন্যায় টাঙ্গাইলেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে ছাত্র-জনতা। গত ৪ আগস্ট টাঙ্গাইল শহরে ওই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা ও গুলিবর্ষণের পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে টাঙ্গাইলের পরিবেশ। এতে গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশত আহত হয়।
এরপরই ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলামের গাড়িতে আগুন ও বাড়িতে ভাঙচুর করে। এরপর আন্দোলনকারীরা টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনিরের টাঙ্গাইল শহরের পূর্ব আদালত পাড়ার বাসায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
পরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে টাঙ্গাইল শহর বাইপাস নগরজলফৈ এর দরুণ এলাকায় সাবেক এমপি তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনিরের মালিকানাধীন দি টাঙ্গাইল ফিলিং স্টেশন ও ধ্রুব ইন রেস্তোরাতেও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করা হয়। ওইদিন টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল ইসলাম আলমগীরের বাসা ও পৌরসভায় ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া হয়।
এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর ও আসবাবপত্রে আগুন দেওয়া হয় এবং সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন তোফার বাসায় ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়।
এসব হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর গত ৪ আগস্ট রাতে সার্কিট হাউসে জেলা আওয়ামী লীগের এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৫ আগস্ট আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম, যুগ্ম-সম্পাদক ও সাবেক এমপি তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনির, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি খান আহম্মেদ শুভ, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক স্বতন্ত্র এমপি মো. ছানোয়ার হোসেন, আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ, পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন তোফা, সাংগঠনিক সম্পাদক জামিনুল রহমান মিরন ও সাইফুজ্জামান সোহেলসহ জেলার নেতারা।
আগের দিন রাতে আলোচনা হলেও পরেরদিন আর তাদের মাঠে দেখা যায়নি। ওইদিন দুপুরে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগের পর এমপি ও নেতাকর্মীরা এলাকা ছাড়া হয়ে যান। এরপর তারা কে কোথায়, কেউ তাদের হদিস জানে না।
আওয়ামীলীগের একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, দলীয় মন্ত্রী-এমপি বা জেলার নেতারা কে কোথায় আছেন তা কেউ জানে না। কারও সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। শুধু জেলার নেতারাই নয়, উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারাও হামলার ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপণে চলে গেছেন। তবে এখনও তাদের মধ্যে অনেকেই বিদেশে যেতে না পেরে দেশেই আত্মগোপণে রয়েছেন। সুবিধামতো সময়ে অনেকে হয়তো বিদেশে পারি জমাতে পারেন।