একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে গজারী কাঠ বোঝাই গাড়ী ও বিট কর্মকর্তাদের ৪ রাউন্ড গুলি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৫ জানুয়ারি) গভীর রাতে উপজেলার অরণখোলা বিট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে দশ জনের নাম উল্লেখ করে ও ১৩ জন অজ্ঞাত নামা ব্যক্তিদের নামে মধুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন দোখলা বিট কর্মকর্তা মো. হামিদুল ইসলাম।
অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার ভুটিয়া গ্রামের নুর আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম(৩৫), একই গ্রামের সাহাদ আলী(৩২) ও স্বপন (৩০), ছোরহাব মিয়ার ছেলে মালেক (৪২), আব্দুস ছালামের ছেলে কালাম(৩৫), কুদ্দুসের ছেলে সাইদুল ইসলাম(৩০), ফরিদ মিয়ার ছেলে আল আমিন, বাদশা তালুকদারের ছেলে রুবেল (২৮),অরণখোলা গ্রামের আলী মন্ডলের ছেলে আবুল কালাম(৪৫), পিরোজপুর গ্রামের আব্দুল ছালাম(৪৫) , হাসিস, জব্বার মিয়া।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, বুধবার (২৫ জানুয়ারি) গভীর রাতে বনদস্যুরা উপজেলার অরণখোলা বিটের গজারী গাছ কেটে গাড়ী যোগে পাচার করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিত্বে ফরেস্টগার্ড নিয়ে বিট কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম ভুটিয়া চৌরাস্তার পাশে অবস্থান নেন। গজারী কাঠ বোঝাই গাড়ীটিকে আটক করলে পিছন থেকে বনদস্যুরা ওই বন কর্মকর্তাদের আক্রমন করে গাড়ীটি ছিনতাই করেন। এ সময় ফরেষ্টগার্ডদের কাছে থাকা চায়না রাইফেলের বাট ভেঙ্গে ৪ রাউন্ড গুলি ছিনিয়ে নেয়।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদুজ্জামান জানান, ইতিমধ্যে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আশাকরি, খুব দ্রুতই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবে।
মধুপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মুরাদ হোসেন জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে মাদক সেবন করে মাতলামি করার অভিযোগে মোস্তফা কামাল (২৬) নামে এক যুবককে এক বছরের সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আলম আদালত বসিয়ে এ সাজা দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মোস্তফা কামাল উপজেলার গড়গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মোস্তফা কামাল এলাকায় একজন চিহ্নিত মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত। সে মাঝেমধ্যেই মাদক সেবন করে তার ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ ছাড়াও মাতাল অবস্থায় স্থানীয় লোকদের মারধর ও বকাবকি করে। বুধবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে মাদক সেবন করে মোস্তফা কামাল তার মাকে মারধর করে। স্থানীয়রা তাকে ধরে এনে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করেন। পরে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত মোস্তফা কামালকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও ফারজানা আলম জানান, মাদক সেবন করে মাতলামি করার দায়ে তাকে এক বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।
সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাউদ্দিন
জানান, বুধবার দুপুরের দিকে মোস্তফা কামালকে টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ দুই বছরেও শেষ হয়নি টাঙ্গাইল আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের ব্রীজ নির্মাণের কাজ। এতে চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় জনসাধারণসহ ব্রীজ ব্যবহারকারীরা। চরম ভোগান্তি সত্ত্বেও প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা ও ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহসও পাচ্ছেননা স্থানীয়রা।
অন্যদিকে ব্রীজ নির্মাণ কাজের সময় শেষ হলেও তিন বছর সময় নির্ধারণ রয়েছে বলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগও রয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
দীর্ঘ এ জনদূর্ভোগ সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে নীরব ব্রীজ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট এলজিইডি কর্তৃপক্ষ।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের বেগুনটাল খালে নির্মাণাধীন ওই ব্রীজের কাজটি করছেন মো. তোফাজ্জল হোসেন খান তোফা। তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের টানা দুই বারের সাধারণ সম্পাদক ও হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের দুই বারের সাবেক চেয়ারম্যান।
জানা যায়, বাসাখানপুর বাজার হুগড়া ইউপি ভায়া বেগুনটাল বাজারের খালের উপর বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান এর নামকরণে ও ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ টাকা ব্যায়ে ৫০ মিটার গার্ডার ব্রীজ নির্মাণ কাজের টেন্ডার দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) টাঙ্গাইল।

ব্রীজ নির্মাণের কাজটি পান মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
২০২০ সালের ৫ জুলাই নির্মাণ কাজ শুরু আর ২০২১ সালে ৪ এপ্রিল সমাপ্তির সময়সীমাও বেঁধে দেয় এলজিইডি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেগুনটাল ব্রীজটি নির্মাণে দীর্ঘ সময় লাগায় চরম সমস্যায় রয়েছেন তারা। এই ব্রীজ হয়ে যমুনা নদী পথে সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর, টাঙ্গাইলের কাকুয়া ও কাতুলী ইউনিয়নের তোরাবগঞ্জসহ এ ইউনিয়নের পূর্ব হুগড়া, চক গোপাল, সাতানি হুগড়া, ধুলবাড়ী, কচুয়া, বারবয়লা, মহেশপুর, গইরাগাছা, মালতিপাড়া, আনাহলা, চিনাখালী, গন্ধবপুর, বইরাপাড়া, ভাঙ্গাবাড়ী, নরসিংহপুর, গোপাল কেউটিসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। ব্রীজ না থাকায় প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন এ পথে যাত্রীরা।
সরেজমিন দেখা গেছে, ব্রীজটি নির্মিত না হওয়ায় রীতিমত বন্ধ রয়েছে ট্রাক,বাসসহ বিভিন্ন ধরণের বড় যানবাহন পারাপার। চলাচলে সুবিধায় ব্রীজের নিচে বিকল্প পথ হিসেবে করা হয়েছে ডাইভারশন। ওই ডাইভারশন দিয়ে সিএনজি, ব্যাটারী চালিক অটোরিক্সা, ভ্যান, মোটর সাইকেল, বাই সাইকেল আর পায়ে হেটে মানুষ চলাচল করতে পারছেন। তবে ডাইভারশনটি মূল সড়ক থেকে অনেকটা নিচু হওয়ায় বর্ষাকালে পানিতে ডুবে যাওয়াসহ সুষ্ক মৌসুমে পারাপারে চরম সমস্যা পোহাতে হচ্ছে চলাচলকারীদের। ওই ডাইভারশন দিয়ে পারাপারে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন নারী, শিশু, বৃদ্ধ পথচারীসহ পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা। এ সময় ডাইভারশনে মাল বোঝাই ভ্যান নিয়ে আটকে পরা চালককে পথচারীদের সহযোগিতা করতেও দেখা গেছে।
ভুক্তভোগি ও স্থানীয় ব্যবসায়ি সাদ্দাম হোসেন জানান, এই ইউনিয়নের পশ্চিম অংশের যমুনা নদীর তীরবর্তী গ্রাম, কাকুয়া ও কাতুলীর তোরাবগঞ্জসহ ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম এই ব্রীজ। ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন তোফা এর নির্মাণ কাজ করছেন। এরপরও দুই বছরে শেষ হয়নি ব্রীজটির নির্মাণ কাজ। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে ব্রীজটি এখনও চলাচলের উপযোগি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় ভুক্তভোগি শাহ জামাল হোসেন জানান, দুই বছরের বেশি সময় গেলেও ব্রীজটি নির্মাণ হয়নি। এর ফলে চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন তারা। ব্রীজের ঠিকাদার ও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গত নির্বাচনে হেরে যাওয়াসহ গ্রামে না আশায় ব্রীজটির কাজ হচ্ছেনা বলে ধারণা করছেন তিনি।
তিনি আরো জানান, বর্তমান চেয়ারম্যান এলাকাবাসির আস্থাভাজন এবং তিনি যে কোন প্রক্রিয়ায় ব্রীজটির কাজ শেষ করবেন এমন বিশ্বাসেই তারা কোন দফতরে অভিযোগ বা যোগাযোগ করেননি।
ভ্যান চালক মহর আলী জানান, হুগড়া নবনির্মাণাধীন মসজিদের কাজের জন্য দশ বস্তা সিমেন্ট নিয়ে যাচ্ছি। ডাইভারশন দিয়ে অনেক কষ্ট করেও রাস্তায় উঠতে পারছিলাম না। স্থানীয় কয়েকজন যুবক আমাকে সাহায্য করে উপরে উঠিয়ে দিছে। এভাবে দুই বছর যাবৎ মালামাল আনা নেয়া করছেন তারা।
তিনি জানান, কার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবো, ব্রীজের ঠিকাদার হচ্ছেন আমাদের সাবেক চেয়ারম্যান। উনাকে কাজ শেষের জন্য তাগাদা দিলে বলেন তারাতারি শেষ হয়ে যাবে। এরপর শেষ হয়না। এছাড়াও ঠিকাদাররা জানায়, ব্রীজের কাজে তিন বছর সময় নেয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, শুরুতে কিছু কাজ হলেও বন্যার আগে থেকে ব্রীজের কাজ একবারে বন্ধ রইছে। এ সময় ব্রীজের অনেক মালামাল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন ঠিকাদারের লোকজন। তবে বর্তমান চেয়ারম্যান ব্রীজের কাজ শেষ করে মালামাল নিতে বলে বাঁধা দেন। তবে এখনও কাজ শুরু করেননি ঠিকাদার।
ব্রীজের রড মিস্ত্রির সহযোগি হৃদয় সরকার জানান, সেন্টারিংয়ের কাঠ আর রড না থাকায় ব্রীজের কাজ বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদার রড পাঠাবো পাঠাবো বললেও রড আসছেনা বলে জানায় সে।
ব্রীজ নির্মাণের সময়সীমা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিষয়টি জানিয়েছেন হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ড ও বেগুনটাল গ্রামের ইউপি সদস্য সানোয়ার হোসেন। তিনি জানান, ব্রীজটি নির্মাণের জন্য পাঁচ বছর সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়েছে।
মূল ঠিকাদার না হলেও কাজটির পার্টনার টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের দুই বারের সাবেক চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন খান তোফা বলেও জানান তিনি।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা এলজিইডি’র উপ-সহকারি প্রকৌশলী তোরাব আলী জানান, ব্রীজের মূল কাজের মধ্যে দুটি স্লাব বাদ রয়েছে। তবে এরই মধ্যে ব্রীজের পিলার, পাইল ও একটি স্লাবের কাজ শেষ হয়েছে। এখন থেকে কাজ শুরু এবং একটানা কাজ করলে বর্ষার আগে বা এপ্রিল মাসের মধ্যে কাজটি শেষ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরো জানান, কাগজ কলমে কাজটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ হলেও ব্রীজের কাজ করছেন হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন খান তোফা, বাপ্পি ও মাহাবুব নামের কয়েকজন ঠিকাদার।
সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন খান তোফা জানান, আমরা কয়েকজন মিলে বেগুনটাল ব্রীজ নির্মাণের কাজটি করছি। ব্যক্তিগত কারণে আর সময় ঠিক মত না দিতে পারায় ব্রীজের কাজটি সঠিক সময়ে শেষ করা যায়নি। ব্রীজের তিনটি স্লাবের মধ্যে একটি স্লাবের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি দুটি স্লাব দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে বলে জানান তিনি।
ব্রীজটি নির্মাণ না হওয়ায় এলাকাবাসির চরম ভোগান্তির কথা স্বীকার করেছেন হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যন মো. নূরে আলম তুহিন।
তিনি জানান, ব্রীজের কাজ শেষ না করাসহ বিকল্প ডাইভারশনের ব্যবস্থা না করায় চলাচলরত মানুষের ভোগান্তি চরম হয়ে উঠায় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তিনি দুই দফায় কাঠের ব্রীজ নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও সুষ্ক মৌসুমে ব্রীজের নিচ দিয়ে মাটি ফেলে বিকল্প ডাইভারশনটিও করেছেন তিনি।
তিনি আরো জানান, জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে। তিনি আগামী বর্ষার আগেই ব্রীজটির কাজ শেষ করার জন্য এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দিবেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এই প্রজেক্টের ফান্ড সংকট থাকায় ব্রীজ নির্মাণের কাজ সময় মত শেষ করা যায়নি। পুনরায় সময়সীমা বৃদ্ধি করাসহ ফান্ড দেয়া হয়েছে। আশা করছি, আগামী দুই মাসের মধ্যেই কাজটি শেষ হবে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেন জানান, রড, সিমেন্টসহ কাজের প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধিসহ প্রজেক্টে ফান্ড না থাকার অজুহাত দেখাচ্ছেন ঠিকাদাররা। এ কারণে আমি চলতি অর্থ বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার তাগিদ দেয়াসহ ঠিকাদারদের কাজ শেষ করতে না পারলে অফিসকে কাজ বুঝিয়ে দিয়ে স্যালেন্ডার করতে বলে দিয়েছি। স্যালেন্ডারকারী ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে সরকার নিয়ম অনুসারে ব্যবস্থা নিবেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত শামছুল হক সেতুর আশপাশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দেলদুয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র দুই সহযোগী নিরাপত্তা কর্মী রাজু আহম্মেদ ও এলাসিন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) শাহাদত হোসেন।
মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার উদ্যোগ নিলে এ হামলা চালান অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা।
দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করে দিচ্ছে একটি প্রভাবশালী একটি চক্র। এ ব্যাপারে একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রশাসন। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই মাটি উত্তোলনকারীরা টের পেয়ে তাদের সরঞ্জাম নিয়ে চলে যায়। ফলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার দুপুরে মাটি কাটা বন্ধ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) সূচি রানী সাহা তার টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে রওনা দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই শামছুল হক সেতুর টোল প্লাজার উত্তর পাশের সড়কে মাটি উত্তোলনকারীরা লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) সূচি রানি সাহা অক্ষত থাকলেও তার দুই সহযোগী নিরাপত্তা কর্মী রাজু আহম্মেদ ও এলাসিন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) শাহাদত হোসেন গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা কাঠের চলা ও লাঠি দিয়ে তাদের বেধড়ক পেটায়। এক পর্যায়ে তারা অজ্ঞান হয়ে পড়লে হামলাকারীরা চলে যায়। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা আলী বলেন, ঘটনা জানার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি বহনের কাজে নিয়োজিত ২টি ট্রাক আটক করা হয়েছে। এ সময় ট্রাকের চালকরা পালিয়ে যাওয়ায় থানা পুলিশের সহায়তায় রেকারের মাধ্যমে ট্রাক ২টিকে প্রশাসনের হেফাজতে নেয়া হয়েছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটিতে পাগলা মহিষের আক্রমণে নারীসহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজন হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহতরা হলেন, লাউহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসমত আলী খান, লাউহাটি ইউনিয়নের তারুটিয়া গ্রামের আজগর আলীর স্ত্রী হাজেরা বেগম, এলাসিন ইউনিয়নের বারপাখিয়া গ্রামের কিতাব আলী।
দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসির উদ্দিন মৃধা জানান, রবিবার সকালে একটি পাগলা মহিষ লাউহাটি ইউনিয়নের তারুটিয়া গ্রামে জনসাধারণের ওপর আক্রমণ করে। এ সময় মহিষটির আক্রমণের শিকার হয়ে অন্তত ২৫ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে মির্জাপুর কমুদিনী ও টাঙ্গাইল জেনালে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেলে ৩টার দিকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হাজেরা বেগম। খবর পেয়ে জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা সেখানে যান। তার আগেই স্থানীয়রা মহিষটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।
এদিকে হাসমত আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রবিবার রাতেই সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ার কারণে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সোমবার রাত ৯টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। অপর আহত কিতাব আলী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে সোমবার বিকেলে মৃত্যুবরণ করেন।
টাঙ্গাইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রানা মিয়া জানান, অতি উৎসাহী লোকজন পিছু নেওয়ায় মহিষটি আরও উত্তেজিত হয়ে উঠে। লোকজন মহিষটিকে ধাওয়া না করলে হয়তো হতাহতের সংখ্যা আরো কম হত । খবর পেয়ে ঢাকা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে জানিয়েছিলাম।
তিনি আরো জানান,রবিবার বিকেলে ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে প্রাণি ফ্রাংকুলাইজেশ (অচেতন) দল ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই স্থানীয় লোকজন মহিষটিকে মেরে ফেলে।
একতার কণ্ঠঃ নিজের পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করেছিলেন টাঙ্গাইলের কালিহাতীর পারুল আক্তার। তাঁর বাবা সেই বিয়ে মেনে নেননি। ঢাকা জেলার আশুলিয়া এলাকায় এসে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি শুরু করেন পারুল ও তাঁর স্বামী নাছির উদ্দিন ওরফে বাবু। দুজন যা বেতন পেতেন, তা দিয়ে তাঁদের সংসার খুব ভালোভাবে চলত না। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝেমধ্যেই ঝগড়া হতো। বিয়ের তিন বছর পর ঝগড়া করে স্ত্রীকে বাসায় রেখে বেরিয়ে যান নাছির। পারুল তাঁর বাবাকে ফোন করে পারিবারিক অশান্তির কথা বলেন।
মেয়ের প্রতি ক্ষুব্ধ বাবা মেয়েকে বাড়ি ফিরতে বলেন। বাবার কথায় স্বামীর সংসার ছেড়ে গ্রামে চলে যান পারুল। এবার ক্ষুব্ধ বাবা নিজের ও পরিবারের অসম্মান করায় মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পারুলের বাবা আ. কুদ্দুস খাঁ মেয়েকে ভালো ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে টাঙ্গাইল থেকে জয়পুরহাটে নিয়ে যান। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুদ্দুসের সঙ্গে তাঁর বন্ধু মোকাদ্দেছ ওরফে মোকা মণ্ডলও যান।
সেখানে যাওয়ার পর জয়পুরহাটের পাঁচবিবি এলাকায় একটি নদীর পাশে নির্জন জায়গায় রাতের অন্ধকারে পারুলকে তাঁর বাবা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। পরে মোকাদ্দেছের সহযোগিতায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেন।
২০ জানুয়ারি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মেয়ে হত্যার এমন লোমহর্ষক, বর্বরোচিত বিবরণ তুলে ধরেন আ. কুদ্দুছ খাঁ। তিনি এখন কারাগারে। তাঁর দেওয়া জবানবন্দি আজ রোববার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। এ সংবাদ সম্মেলন হয় ধানমন্ডিতে পিবিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে।
পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার বলেন, পারুল সব ভাইবোনের মধ্যে মেধাবী ছিলেন। স্কুলে তাঁর রোল নম্বর ছিল ২। দেখতেও ছিলেন সুন্দরী। বাবা কুদ্দুসের স্বপ্ন ছিল মেয়েকে শিক্ষিত করবেন। কিন্তু নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় পালিয়ে বিয়ে করায় বাবা ক্ষুব্ধ হন।
বনজ মজুমদার বলেন, তখন থেকেই কুদ্দুসের পরিকল্পনা ছিল মেয়ে তাঁকে যে অসম্মান করেছে, তাতে তার বেঁচে থাকার অধিকার নেই। মেয়ের বিয়ের তিন বছর পর সেই সুযোগ পেয়ে তিনি তাঁর বন্ধুর সহযোগিতায় মেয়েকে হত্যা করেন। কুদ্দুসের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোকাদ্দেছকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে বনজ কুমার মজুমদার বলেন, মেয়েকে হত্যার পর কুদ্দুসের মধ্যে আরেকটা বিষয় কাজ করছিল যে তাঁর মেয়ের এই পরিণতির জন্য নাছির দায়ী। তাঁকেও শাস্তি দিতে হবে। তাই মেয়ের জামাইকে ফাঁসাতে একের পর এক মামলা করেছেন তিনি। রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারায় থানা–পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআই পুলিশ প্রতিবেদন দেন। মেয়ের বাবাও বারবার নারাজি দেন।
পিবিআই জানায়, পারুলের বাবা শুরুতে অপহরণ ও গুমের মামলা করলেও সর্বশেষ তিনি আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। সেই মামলার তদন্ত আবার পিবিআইকে দেওয়া হয়। তদন্তে নেমে ২০১২ সালে মেয়ের বাবার করা সাধারণ ডায়রিতে দেওয়া একটি ফোন নম্বরের সূত্র ধরে এ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়।
পিবিআই জানায়, মেয়েকে হত্যার পর নাছিরকে শাস্তি দিতে দীর্ঘ সাত বছর ধরে তিনি মামলা চালিয়েছেন। এর জন্য তিনি নিজের জমিও বিক্রি করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী জহিরুল ইসলাম (৬৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
সোমবার(২৩ জানুয়ারি) ভোর রাতে ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রায় ঘোষণার পর থেকে তিনি ২ বছর ধরে পলাতক ছিলেন।
জহিরুল ইসলাম নাগরপুর উপজেলার মীর কুটিয়া গ্রামের মৃত জলিল মিয়ার ছেলে।
এ প্রসঙ্গে র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ এর কোম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের জানান, ২০১৩ সালের টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকায় আউয়াল নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। ওই বছরের ১ আগস্ট মির্জাপুর থানার এসআই শ্যামল কুমার দত্ত বাদি হয়ে হত্যা মামলায় জহিরুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে চার জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক জহিরুল ইসলামকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করেন। মামলা চলাকালে জহিরুল ইসলাম পালিয়ে যান।
তিনি আরো জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া এলাকা থেকে জহিরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোমবার সকালে জহিরুলকে মির্জাপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় পাগলা মহিষের তান্ডবে হাজেরা বেগম(৫০) নামের এক নারী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো ২৪ জন।
রবিবার (২২ জানুয়ারী) সকালে ঘন্টাব্যাপী তান্ডব চালায় এ পাগলা মহিষটি।
নিহত ওই নারী উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামের আজগর আলীর স্ত্রী। আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, পুলিশ প্রসাশন ও স্থানীদের সহযোগীতায় মহিষটিকে মেরে ফেলা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) নাসির উদ্দিন মৃধা।
তিনি জানান, রবিবার সকাল থেকেই উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নে তারটিয়া গ্রামে ঘন্টাব্যাপী তান্ডব চালায় পাগলা মহিষটি। এতে স্থানীয় ২৫ জন আহত হয়। এদের মধ্যে গুরতর আহত হাজেরা বেগম নামের এক নারী মির্জাপুর কুমুদিনি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারধীন অবস্থায় বিকাল ৩ টায় মৃত্যু বরণ করেন। বাকি ২৪ জনকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরন করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, স্থানীয়দের সহযোগীতায় জেলা প্রণি সম্পদ অধিদপ্তর ও পুলিশ ঘন্টাব্যাপী প্রচেষ্টার ফলে মহিষটিকে মারতে সক্ষম হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বালুর ঘাটে কাজ করার সময় বালুর স্তুপের নিচে চাপা পড়ে রাশেদুল ইসলাম (২৫) নামে এক ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) মালিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও তিনজন।
শনিবার (২২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে নিকরাইল ইউনিয়নের সারপলশিয়া এলাকার ভাবীর ঘাট নামে পরিচিত বালুর ঘাটে ঘটনাটি ঘটে। এই ঘাটের ইজারাদার হাশেম প্রামানিক।
নিহত রাশেদুল উপজেলার পলশিয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে। গুরুতর আহত জুয়েল (২৪) সিরাজকান্দি গ্রামের অহসান প্রামানিকের ছেলে।
এ ঘটনায় আহত তিনজনের মধ্যে দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হলেও গুরুতর আহত একজনকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বালু চাপায় রাশেদুল ইসলাম (২৫) নামের ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) এর মালিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিকরাইল ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড সারপলশিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য নুহু।
নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল হক মাসুদ জানান, বালুর স্তুপ ছিল অনেক উঁচু। এতে তিন চারজন সেই বালুর স্তুপে উঠে সেখানে থাকা পাইপ খুলতে গিয়েছিল। এ সময় বালুর স্তুপ ভেঙে তাদের উপর পড়ে ঘটনাস্থলে একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুইজন। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম (পিপিএম) জানান, বালুর স্তুপের নিচে চাপা পড়ে ভেকুর মালিক রাশেদুলের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত জুয়েল নামের একজনকে প্রথমে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলেও পরে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় হলুদ ফুলকপি চাষে আরশেদ আলী নামে এক কৃষক সফলতা পেয়েছেন। ভূঞাপুর পৌরসভার ছাব্বিশা এলাকায় প্রথমবারের মতো পরীক্ষা মূলকভাবে রঙিন ফুলকপি চাষ করে সফল হয়েছেন তিনি।
বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক সাড়াও ফেলেছে।
এ ব্যাপারে আরশেদ আলী বলেন, নিজ বাড়ির আঙিনার ৩৩ শতক জমিতে প্রতি বছর নানা ধরনের সবজি চাষাবাদ করে থাকি। এবার সেই জমির অর্ধেকাংশে পরীক্ষামূলক রঙিন ফুলকপি চাষ করেছি। আমার এ জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করে শুধু জৈব সার প্রয়োগে রঙিন ফুলকপি চাষ করে দ্বিগুণ লাভবান হয়েছি। আমার এমন সফলতা দেখে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সবজি চাষিরা। এছাড়া আমার এই রঙিন ফুলকপির সৌন্দর্য উপভোগ করতে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অনেকেই আসেন বাড়িতে। কেউ কেউ কিনে নিয়ে যান। আবার অনেকেই আগ্রহ থেকে পরামর্শ নেন। কেউ রঙিন ফুলকপির সঙ্গে ছবি তোলাসহ ভিডিও ধারণও করেন। আমার রঙিন ফুলকপির সাফল্যে খুশি স্থানীয় কৃষি বিভাগও।
আরশেদ আরও বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে ও কৃষি অফিস থেকে নতুন জাতের রঙিন ফুলকপির ৪০০ চারা, জৈব সার, পোকা দমন কীটনাশকসহ সব ধরনের সহযোগিতায় পরীক্ষামূলকভাবে বাড়ির পাশে মাত্র ১৫ শতক জমিতে রঙিন ফুলকপির চাষ করেছি। এতে ৪ রঙের ফুলকপি রয়েছে। চারা রোপণের ৭৫-৮০ দিনের মধ্যে জমিতে পূর্ণাঙ্গভাবে ফসলতা পেয়েছি। এই কপি বাজারে নেওয়া মাত্রই বিক্রি হয়ে যায়। দামও পাচ্ছি ভালো ।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চীনে এ জাতের ফুলকপি সালাদ হিসেবে খাওয়া হয়। সাদা ফুলকপির চেয়ে রঙিন ফুলকপিতে পুষ্টিগুণ বেশি। দেখতেও খুব সুন্দর। অন্যান্য ফুলকপির চাষের যে পদ্ধতি ওই একই পদ্ধতিতে রঙিনটিও চাষ করা হয়। খরচ ও সময় একই। পাশাপাশি শুধু জৈব সার ব্যবহার করেই এই ফুলকপি চাষ করা যায়। স্থানীয় হাট-বাজার রয়েছে এর অনেক চাহিদা।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ড. হুমায়ূন কবীর বলেন, উপজেলায় এই প্রথম রঙিন ফুলকপি পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন কেউ আগ্রহী ছিল না। পরে আরশেদ আলী নামে এক কৃষক আগ্রহ প্রকাশ করলে তাকে কৃষি অফিস থেকে ৪০০ ফুলকপির চারা, জৈব সার, পোকারোধক কীটনাশক ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে ৪ রঙের ফুলকপি চাষ করা হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আহসানুল বাসার বলেন, বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণের লক্ষ্যে জেলার ১২ উপজেলাতে পরীক্ষামূলক রঙিন ফুলকপি চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার মধ্যে সবার আগে ভূঞাপুর উপজেলায় সফলতা পাওয়া গেছে। এ জাতের ফুলকপিতে পুষ্টিগুণ বেশি। ক্যান্সার রোধেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে এ ফুলকপি। চলতি মৌসুমে পরীক্ষামূলক চাষে সফলতা পাওয়ায় অনেক কৃষক আগামী বছরে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ডাচ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকে রামদা নিয়ে ডাকাতি প্রস্তুতিকালে স্থানীয় জনতা এক যুবককে উত্তম মধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। এসময় তার কাছ থেকে একটি রামদা, হাতুড় উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকে এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃত যুবকের নাম মেহেদি হাসান। সে সখিপুর উপজেলার গোহাইলবাড়ী গ্রামের মৃত নাজমুল হাসানের ছেলে।
ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকের এলেঙ্গা শাখার দায়িত্বে থাকা মনিরুল ইসলাম রনি জানান, আমি ক্যাশে বসে দায়িত্ব পালন করছিলাম। হুট করে দেখি মুখোশ পড়া এক যুবক প্রবেশ করে বড় রামদা নিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন। তখন আমি ক্যাশের ড্রয়ার বের করে আত্মরক্ষার চেষ্টা করি এবং ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করলে আশে পাশের লোকজন এগিয়ে আসলে সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে জনতা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সহকারী পুলিশ সুপার (কালিহাতী সার্কেল) শরীফুল হক জানান, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংক ডাকাতি প্রস্তুতিকারী যুবককে আটক করে পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়েছে । আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ ভালোবেসে বিয়ে করেও ঘর বাঁধতে পারছেন না নুরজাহান আক্তার (২০) নামের এক তরুণী। স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে পাঁচ দিন ধরে স্বামীর বাড়িতে অনশন করছেন তিনি।
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ভাতগড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
দেড় মাস আগে ওই গ্রামের রমজান খানের ছেলে নীরবের হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। নুরজাহান ফুলবাড়িয়া উপজেলার ফুলতলা গ্রামের দরিদ্র সুরুজ মিয়ার মেয়ে।
নুরজাহান জানান, গত ১ বছর আগে নীরবের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর সূত্র ধরে দেড় মাস আগে পরিবারের অজান্তে তারা পালিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের পর একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন তারা। কিছুদিন আগে তাকে ফেলে নীরব বাসা ছেড়ে দেন এবং মোবাইল বন্ধ করে আত্মগোপন করেন। কোনো উপায় না পেয়ে তিনি গত মঙ্গলবার নীরবের বাড়িতে আসেন এবং স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবিতে অনশন শুরু করেন। এ সময় নীরবের মা ও খালাতো বোন নুরজাহানকে ঘরে ঢুকতে বাধা প্রদান করেন। ফলে চাচার বাড়িতে নুরজাহান একাকী অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল হোসেন বলেন, বিষয়টি জেনেছি। দুই পক্ষের অভিভাবকদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম বলেন, ঘটনাটা আমার জানা নেই। তবে মেয়েটি যদি আইনের সাহায্য চায়, তাহলে তাকে আইনগত সহায়তা দেওয়া হবে।