একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দি ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সচিবকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় এক ইউপি সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।লাঞ্চনার সময় আহত হয়েছে আরও দুই মহিলা গ্রাম পুলিশ সদস্য।
বৃহস্পতিবার(২২ ডিসেম্বর) দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে তাঁর উপস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটে।
থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ও ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. তোফাজ্জল হোসেন তুলাকে আটক করেছে ধনবাড়ী পুলিশ। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলাজুড়ে চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে।
শারীরিকভাবে লাঞ্চনার সময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান, একাধিক ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।
ওই ইউপি সচিব জানান, চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাঁর কক্ষে আলোচনা চলছিল। এ সময় একাধিক ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কথা বলার একপর্যায়ে তুলা মেম্বার ক্ষিপ্ত হয়ে অতর্কিতভাবে আমার উপর হামলা করে কিল-ঘুষি মারতে-মারতে বাইরে আনে। তাঁকে বাঁধা দিলে রহিমা খাতুন ও পারুল আক্তার নামের দুই গ্রাম পুলিশ সদস্যদেরও আহত করে সে।
তিনি আরও বলেন, ‘অন্য ইউপি সদস্যরা আমাকে এ সময় উদ্ধার করে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়। তুলা মেম্বার বিভিন্ন সময় আমাকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। রাজি না হওয়ায় আমার উপর ক্ষিপ্ত সে। সঠিক বিচার চাই।
বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য বলেন, ‘সচিব আগে আমাকে থাপ্পর মেরেছে। আমি তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চনা করেনি।
শারীরিকভাবে লাঞ্চনা করার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুশুদ্দি ইউপি চেয়ারম্যান আবু কাউসার।
ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আসলাম হোসাইন বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে ঘটস্থল পরিদর্শন করেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই ইউপি সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত স্বাপেক্ষ আইনি ব্যবস্থা নেয়ো হবে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে থিনার ভর্তি ড্রাম বিস্ফোরণে দগ্ধ আল আমিন (১৮) নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
নিহত আল আমিন পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়িয়া উপজেলার দুলাল মিয়ার ছেলে।
সখীপুর থানার ওসি মো. রেজাউল করিম আহত আল আমিনের মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন।
জানতে চাইলে সখীপুর বাজার বণিক বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম.এ মামুন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিস্ফোরণের দিন একজন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হলো। আমরা সকল ব্যবসায়ীকেই সতর্কতার সাথে কাজ করার পরামর্শ দিচ্ছি।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে আহত আতিকুল ও আল আমিন থিনার ভর্তি ওই ড্রামটি খোলার জন্য এতিমখানা রোডের এস এম ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে যান। ওয়ার্কশপের কর্মচারী ইয়াকুব রাজু ওই ড্রামটি খুলতে গেলে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ইয়াকুব রাজুর মৃত্যু হয়।
আহত হন আলামিন (১৮) আতিকুল (৪০) ও সবুজ (২৬)। আহতদের প্রথমে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।
ড্রামটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হলে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয় এবং আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। বিস্ফোরিত ড্রামটি নিহত রাজুকে আঘাত করে উড়ে ১০০ গজ দূরে গিয়ে পড়ে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় ট্রেনের ধাক্কায় মো. সাগর (৩৫) ও মো. সজিব (৩৩) নামে প্রাইভেটকার আরোহী দুই যুবক নিহত হয়েছেন। প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় পড়লে এরা দুজন রেল লাইনে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় তারা ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারান।
বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) ভোর রাতে কালিহাতী উপজেলার হাতিয়া এলাকায় রেল লাইন দিয়ে হাঁটতে গিয়ে এই দুই যুবক নিহত হন।
নিহত মো. সাগর পাবনার সাথিয়া উপজেলার কাশিনাথপুর গ্রামের চঞ্চল সিকদারের ছেলে। মো. সজিব একই জেলার আমিনপুর উপজেলার আহাম্মেদপুর গ্রামের মো. লিয়াকতের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত ব্যাক্তিরা রাতে প্রাইভেটকার যোগে ঢাকা হতে পাবনা যাচ্ছিলেন। তাদের প্রাইভেটকারটি ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের হাতিয়া এলাকায় এলে অন্য একটি প্রাইভেটকার চাপ দিলে তাদের প্রাইভেটকারটি মহাসড়কের পাশে নেমে যায়। পরবর্তীতে চালক গাড়িটিকে উপরে উঠানোর সময় এই দুই যুবক রেল লাইনের উপর হাঁটাহাঁটি করতে গিয়ে ঢাকাগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারায়।
টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফজলুল হক বলেন, লাশ উদ্ধার করে ফাঁড়িতে আনা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন শুরু করছেন এক স্কুলছাত্রী। বুধবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ভুয়াইদ এলাকার প্রেমিক রাসেলের (২০) বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন তিনি।
ঘটনার পর থেকে প্রেমিক রাসেল বাড়ি থেকে উধাও হয়ে গেছেন।
রাসেল ওই গ্রামের প্রবাসী সাইফুল ইসলামের ছেলে। সে কালিহাতী লাইয়ন ফেরদৌস আলম ফিরোজ কলেজে অধ্যায়নত রয়েছেন।
ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রী উপজেলার হাতীবান্ধা ইউনিয়নের তক্তারচালা জিনিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। সে এ বছর সখীপুর পিএম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেছেন।
ওই ছাত্রী জানান, প্রায় দেড় বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক। প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবং বিয়ের প্রলোভনে প্রেমিক রাসেল তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। সম্প্রতি তার কয়েকটি বিয়েও ভেঙে দেয় রাসেল। পরে বিষয়টি দুই পরিবার জেনে যায়। এরপর থেকেই রাসেলকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন তিনি। রাসেলের পরিবার এই সম্পর্ক মানতে নারাজ। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে তিনি অনশন শুরু করেছেন। প্রেমিক বিয়ে না করলে আত্মঘাতি হবেন বলেও জানান ওই ছাত্রী।
পলাতক থাকায় এ নিয়ে প্রেমিক রাসেলের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে রাসেলের এক স্বজন বলেন, ওই মেয়ের সঙ্গে রাসেলের প্রেমের সম্পর্ক নেই। তবে তাদের মধ্যে পরিচয় থাকতে পারে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মেজবাহ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, এ নিয়ে এখনো থানায় কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এক কিশোরী (১৬) ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সোহেল রানা (২৩) নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা।
পরে কিশোরীর বাবা মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।
বুধবার (২১ ডিসেম্বর) ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, আটককৃত যুবক সোহেলের সঙ্গে ধর্ষণের শিকার কিশোরীর মোবাইলে পরিচয় হয়। সোমবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে ওই কিশোরীর সঙ্গে দেখা করতে যান সোহেল। পরে তাকে নির্জন এলাকায় নিয়ে ধর্ষণ করেন। কিশোরীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে সোহেলকে আটক করে পুলিশে দেয়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার জানান, আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে প্রয়াত বিএনপি নেতা ও দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুকের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভা শেষে ফেরার পথে ১৭ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) দুুপুরে পৌর শহরের রেজিস্ট্রি পাড়ায় অবস্থিত সিলমী কমিউনিটি সেন্টারের সামনের রাস্তা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সদর থানার ওসি(তদন্ত) হাবিবুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- টাঙ্গাইল পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মারুফ সারোয়ার, ২নং ওয়ার্ড বিএনপি’র স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আলমগীর হোসেন , জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক রাকিব হাসানসহ ১৭ নেতাকর্মী।
গ্রেপ্তারের বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল জানান, সরকার পতনের আন্দোলন বন্ধ করতে সরকারের মদদে এই গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। এ কারণে একজন শহীদের শান্তিপূর্ণ মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওই নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটি খুবই নেক্কার জনক ঘটনা আমি এর তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিএনপি’র প্রয়াত নেতা ফারুকের স্মরণসভা থেকে ফেরার পথে ১৭ জন নেতাকর্মী গ্রেপ্তারের বিষয়ে নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই । এ অগণতান্ত্রিক সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি। তিনি অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করেন।
এ বিষয়ে সদর থানার ওসি(তদন্ত) হাবিবুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উর্ধতন কর্মকর্তার সাথে কথা না বলে তথ্য দেওয়া যাবেনা, পরে প্রেস ব্রিফিং করে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ বান্ধবীর মৃত্যুর খবর পেয়ে তাকে দেখতে বাড়ি থেকে বের হয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন হামিদা বেগম (৮০) নামের এক বৃদ্ধা নারী।
মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ঘাটাইল উপজেলার বীরঘাটাইল নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
হামিদার বাড়ি উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের বীরঘাটাইল গ্রামে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে আব্দুল হালিম।
হালিম জানান, ঘাটাইল পৌরসভার তেলেঙ্গাপাড়া গ্রামে তার মায়ের একজন বান্ধবী ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে বান্ধবী মারা যাওয়ার খবর পান তিনি। পরে একাই লাঠিতে ভর করে বাড়ি থেকে বের হয়ে বান্ধবীকে দেখতে যান।
তিনি আরো জানান, ফেরার পথে সড়ক পারাপারের সময় বীরঘাটাইল নামক স্থানে একটি প্রাইভেট কার তাকে চাপা দেয়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে তাকে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পরে সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ছেলের কুড়ালের কোপে আহত বাবা আজহার আলীর (৭০) মৃত্যু হয়েছে। ছেলে আব্দুর রহিমকে (৩২) জমি লিখে না দেওয়ায় গত ৬ ডিসেম্বর বাবা আজহার আলীকে কুড়াল দিয়ে জখম করেন ছেলে। সোমবার (১৯ ডিসেম্বর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের শহর গোপিনপুর চওনাপাড়া গ্রামে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকার।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, আজহার আলীর পাঁচ মেয়ে এক ছেলে। আব্দুর রহিম জমি বিক্রি করে মালেয়েশিয়া ও সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটিয়ে বর্তমানে বাড়িতেই অবস্থান করছেন। আজহার ইতিমধ্যে জমিজমার প্রাপ্য অংশ মেয়েদের বুঝিয়ে দিয়েছেন। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে বিবাদ ছিল। ৬ ডিসেম্বর রাতে বাবা-ছেলের ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে বাবার মাথায় কুড়াল দিয়ে কোপ দেন ছেলে আব্দুর রহিম।
এ সময় তার মা রহিমা বেগম আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে আহত আজহার আলীকে উন্নত চিকিৎসার জান্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দিবাগত রাতে মৃত্যু হয় তার।
গত ১২ ডিসেম্বর নিহতের মেয়ে রোকসানা বেগম বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় মারামারির মামলা দায়ের করেন। মামলায় নিহতের ছেলে আব্দুর রহিম (৩২) ও তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তারকে আসামি করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধলাপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) ফজলুল হক জানান, মারামারির ঘটনার মামলাটি এখন হত্যা মামলায় পরিবর্তিত হবে। মামলার অভিযুক্ত আসামিরা বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে গর্ভবতী এক মা ও তার গর্ভের শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার মা ও শিশু কেয়ার ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত মাজেদা আক্তার(২৫) উপজেলার কচুয়া গ্রামের মো. আরিফুল ইসলামের স্ত্রী।
মৃত মাজেদার পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গর্ভবতী মাজেদার প্রসব বেদনা শুরু হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশ্যে তাকে নিয়ে রওনা হয় তার পরিবার । উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার আগেই মা ও শিশু কেয়ার ক্লিনিকের দালালদের খপ্পরে পড়েন মৃত মাজেদার পরিবার। পরে মা ও শিশু কেয়ার ক্লিনিকে সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ভর্তি করানো হয়। উপযুক্ত সময়ে সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে মঙ্গলবার ভোরে ওই গর্ভবতী নারীর মৃত্যু হয়। ওই ক্লিনিকের একমাত্র চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ শামসুল আলম সকাল সাড়ে সাতটার আগে মৃত মাজেদাকে দেখেননি বলেও অভিযোগ করেছে মাজেদার পরিবার।
মাজেদা আক্তারের স্বামী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, রাতে ভর্তি করানোর পরে ওই ক্লিনিকের কোন চিকিৎসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই শুধু কয়েকটি স্যালাইন ছাড়া। উপযুক্ত চিকিৎসা না পেয়ে আমার স্ত্রী ও তার গর্ভের সন্তান মারা গেছে, আমি এর বিচার চাই।
এ বিষয়ে ওই ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, গর্ভবতী মাজেদা আক্তার রাত তিনটার দিকে আমাদের এখানে ভর্তি হয় । ল্যাব টেকনোলজিস্ট রক্তের গ্রুপ ও পরিমাণ পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। পরীক্ষার ফলাফলে রক্তের পরিমাণ ৮.৬ হওয়ায় রোগীর পরিবারকে রক্তের ব্যবস্থা করতে বলা হয়। পরিবারের লোকজন রক্তের ব্যবস্থা করতে পারেন নাই এবং ডাক্তার সাড়ে সাতটার দিকে এসে রোগীর অবস্থা মুমূর্ষ দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, রোগী মারা যাওয়ার পর হইহুল্লার সৃষ্টি হয় যার ফলে আসলেও গর্ভের বাচ্চাটির অবস্থা নির্ণয় করা হয়নি এটি আসলেও ভুলবশতই হয়েছে।
মা ও শিশু কেয়ার ক্লিনিকের পরিচালক ও চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ সামছুল আলম বলেন, ওই রোগী রাতে ভর্তি হলেও আমি জেনেছি ভোর রাতে। টেস্টে দেখি রক্তশূন্যতা ও শ্বাস কষ্ট রোগ রয়েছে। পরে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে রেফার্ড করি। রেফার্ডের রোগী অন্য হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হওয়ায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
জানতে চাইলে এ বিষয়ে সখীপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.রেজাউল করিম জানান, এ বিষয়ে থানায় এখনো কেউ কোনো অভিযোগ করে নাই।
প্রকাশ, গতকয়েক মাস আগেও ওই ক্লিনিকে চিকিৎসকের অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ফারুকের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপি।
এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে পৌর এলাকার সিলমী পার্টি সেন্টারে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এড.আহমেদ আযম খান ।
সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন,সাধারণ সম্পাদক এড.ফরহাদ ইকবাল, নিহত রফিকুল ইসলাম ফারুকের ছোট ভাই দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম লাবু প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে নিহতের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে গণভোজের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান এড.আহমেদ আযম খান বলেন,একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশকে, শহীদ রাষ্ট্রপ্রতি জিয়াউর রহমানের গড়া গণতান্ত্রিক বাংলাদেশকে এই কর্তৃত্ববাদী শাসক দূর্বিষহ করে তুলেছে। সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম কে পঙ্গু করে ফেলেছে এই সরকার। তিনি হত্যাকারীদের দ্রুত শাস্তি দাবি করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ২০ ডিসেম্বর ভোরে টাঙ্গাইল শহরের বটতলা কাঁচাবাজারে কাছে রফিকুল ইসলাম ফারুককে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে বিনিময় পরিবহন বাসের ধাক্কায় আজিজ (৬০) নামে এক বৃদ্ধ অটোরিকশা চালক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুত্বর আহত হয়েছেন আশরাফ উদ্দিন (৪০) নামে এক অটোরিকশা যাত্রী।
সোমবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বাঘিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আজিজ মধুপুর উপজেলার আড়ালিয়া গ্রামের মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে এবং আহত আশরাফ উদ্দিনের বাড়ি একই উপজেলার গোলাবাড়ী ইউনিয়নের চাকন্ড বীর গ্রামে। তিনি অটোরিকশা যাত্রী ছিলেন। বর্তমানে সে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল হাইসহ স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার দিকে একটি অটোরিকশা একজন যাত্রী নিয়ে ভাইঘাট থেকে বাঘিল চাকন্ড যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ঢাকাগামী বিনিময় পরিবহন নামে একটি বাস পেছন থেকে এসে অটোরিকশাটি ধাক্কায় দূরে নিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে মারা যায় চালক, আহত হয় যাত্রী আশরাফ উদ্দিন।
এ ঘটনায় ধনবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহাগ জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আজিজ নামে এক বৃদ্ধ অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহত অবস্থায় আশরাফ উদ্দিন নামে যাত্রীকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহের সুরতহাল করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিনিময় পরিবহন বাসটি জব্দ করা গেলেও ঘাতক বাস চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে অটোরিকশা চালকের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও সাধারণ মানুষগুলোর কষ্ট লাগবে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন টাঙ্গাইলের শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন নামে একটি সামাজিক ও সেবামূলক সংগঠন। যেখানে মিলছে ১০ টাকায় বাজার। সেচ্ছাসেবক এই সংগঠনের এমন উদ্যোগটি সাধুবাদ জানিয়েছেন সুধিজনরা।
সোমবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল ১০ টা থেকে দুপুর পর্যন্ত টাঙ্গাইল পৌর শহরের হাজরাঘাট এলাকার একুয়ার বস্তিতে বিন নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এ বাজার বসানো হয়। বাজার থেকে ১০ টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন সবজি, মাছ ও মাংস কিনতে পারছেন অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো।

১০ টাকার বাজারে ১০ টাকার বিনিময়ে মিলছে- ১ কেজি চাল, ২৫০ গ্রাম ডাল, ১ কেজি আলু, ১ কেজি বেগুন, ১ কেজি মূলা, ১ কেজি সিম ও আধা কেজি পেঁয়াজ, ফুল কপি, মিষ্টি লাউ, লাল শাক, পালন শাক, ৩ টি শিং মাছ বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া এ বাজারে কাঁচা মরিচ দেওয়া হয়েছে ফ্রিতে।
শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের আয়োজিত ১০ টাকার বাজারে বাজার করতে আসা গৃহিনী রাশেদা বেগম বলেন, বস্তিবাসীদর অভাব-অনটনের সংসার। বর্তমানে সবজির অনেক দাম বেড়ে গেছে। কিন্তু ১০ টাকার বাজারে এত কম টাকায় জিনিস কিনতে পেরে আমরা বস্তিবাসী খুবই আনন্দিত। আমরা চাই নিয়মিত এমন বাজারের ব্যবস্থা করা হোক।
বস্তি এলাকার সুবিধাবঞ্চিত দিনমুজুর ইয়াকুব আলী জানান, বাজারে নতুন নতুন সবজি উঠেছে। কিন্তু দাম বেশি থাকায় কিনতে পারি না। অনেক দিন পর পরিবারের জন্য মাত্র ১০ টাকায় মুরগি কিনতে পেরেছি এ বাজার থেকে। আমাদের মত গরীর মানুষের জন্য এমন বাজারের আয়োজন করায় আয়োজকদের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা।
১০ টাকার বাজারের সমন্বয়ক মোহাইমিনুল ইসলাম মুনিম জানান, এ বাজারের ক্রেতা হিসেবে আগে থেকেই সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের নির্বাচন করেছি। প্রতিটি পণ্যে ১০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি আমরা দিচ্ছি। এছাড়া লটারি মাধ্যমে মুরগি দেওয়া হয়েছে। এ রকম কাজে সহযোগিতা করতে পেরে আমরা খুবই খুশি। এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখব।
শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও বিন নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক মুঈদ হাসান তড়িৎ জানান, সমাজের স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্যই আমাদের এমন উদ্যোগ। এ বাজারে চাল, ডাল, মুরগি মাছসহ সব জিনিসের দাম ভর্তুকি দিয়ে রাখা হচ্ছে মাত্র ১০ টাকা যেন সুবিধাবঞ্চিত মানুষ টাকার বিনিময়ে জিনিস কিনেছেন এই আত্মতৃপ্তিটা পান।
তিনি আরও জানান, এ ধরণের বাজার থেকে আমরা ধারণা নিলাম কোন কোন পণ্যে মানুষের বেশি চাহিদা। এমন উদ্যোগ আমাদের আগামীতেও থাকবে। এছাড়া বিন নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশন ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতায় এমন বাজারের আয়োজন দেশের বিভিন্ন জেলায় আয়োজন করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। এ জন্য সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।