একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ৪ ফেব্রুয়ারি সমাবেশ সফল করার লক্ষে প্রস্তুতি সভা করেছে জেলা বিএনপি। শনিবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের হবিবুর রহমান প্লাজায় অবস্থিত শর্মা হাউজে ১০ দফা দাবিসহ সন্ত্রাস, দলীয় নেতাকর্মীদের দমন-নিপীড়ন ও নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং নিত্যপণ্যের দাম কমানোর দাবিতে দেশব্যাপী সমাবেশ করার কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওই প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন- বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটো, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ওবায়দুল হক নাসির, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল প্রমুখ।
এসময় জাতীয়তাবাদী যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, শ্রমিক দল, তাঁতী দলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ ওরা সমাজের অসহায়, ছিন্নমূল ও সুবিধাবঞ্চিত শিশু। নতুন বছর উপলক্ষে নতুন বই পেয়ে তারা দারুণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। এ সময় বই হাতে পেয়েই কখনো হর্ষধ্বনি দিয়ে উঠে আবার কখনো একসঙ্গে বই উঁচু করে দেখাচ্ছিল শিশু শিক্ষার্থীরা। এ যেন এক অন্য রকম উৎসব। তাদের আনন্দ-উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে অভিভাবকদের মাঝেও।

নতুন বছরে নতুন বই পেয়ে শিশু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের এমন আনন্দ-উল্লাসের দৃশ্যটা চোখে পড়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চৌরাকররা গ্রামের বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের উদ্যোগে শিশুদের মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণের এক অনুষ্ঠানে।
শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে এই বই বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে পাঠাগারটি। এ সময় পাঠাগার কর্তৃপক্ষ শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ২ শতাধিক শিশু শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের ৪ শতাধিক শিশুতোষ বই বিতরণ করা হয়।
নতুন বই পাওয়ার অনুভূতির বিষয়ে জানতে চাইলে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার বলেন, ‘আমার গল্পের বই পড়তে ভালো লাগে, মাঝে মাঝে পাঠাগারে এসে বই পড়ি। আজ স্কুলের জন্য নতুন বই উপহার পেয়ে অনেক ভালো লাগছে।’
বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা মো. কামরুজ্জামান বলেন, বই শিশুর বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধি ও মনের সুপ্ত ভাবনার বিকাশ ঘটাতে সহায়তা করে। শিশু বয়স থেকে শিক্ষামূলক বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এখন বিশেষ প্রয়োজন। এতে করে স্মার্ট ফোন থেকে দূরে থাকবে শিশুরা। সে লক্ষ্যে সমাজের অনেক দরিদ্র, অসহায়, ছিন্নমূল ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বই পড়ার সুযোগ করে দিতে আমরা বিনামূল্যে বই বিতরণ করছি এবং কার্যক্রম চলমান থাকবে।
প্রসঙ্গত, “এসো বই পড়ি, নিজেকে আলোকিত করি” স্লোগানকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চৌরাকররা গ্রামে ২০১০ সালে তরুণ-তরুণী ও যুবকরা মিলে গড়ে তোলে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার। প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাঠাগারটি গ্রামের মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস তৈরি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সেলুন, বাসস্ট্যান্ড ও স্টেশন অণু পাঠাগার স্থাপনসহ শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি আর্ত-মানবতার সেবায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
একতার কণ্ঠঃ দল থেকে অব্যহতি প্রাপ্ত টাঙ্গাইলের তিন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক একজন চেয়ারম্যানকে ক্ষমা ঘোষনা করেছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।
বুধবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে তাদের ক্ষমার বিষয়টি জানানো হয়। ভবিষ্যতে দলের স্বার্থ পরিপন্থি ও শৃংখলা ভঙ্গ না করার শর্তে তারা এ ক্ষমা পেয়েছেন।
ক্ষমাপ্রাপ্তরা হলেন- জেলা আওয়ামী আওয়ামী লীগের সাবেক উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মারুফ, কালিহাতী উপজেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী বিকম, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম এবং বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম।
জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়াম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতা করেন তারা। দুএকজনকে স্থানীয় সংসদ সদস্য সরাসরি মদদ ও সহয়োগিতা করেন। এরমধ্যে অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ছাড়া অপর তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতাপুর্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীকে পরাজিত করে তারা বিজয়ী হন। এঘটনায় দলের মধ্যে তৈরী হয় ব্যাপক গ্রুপিং এবং অন্তদ্বন্দ। বিরোধ ছড়িয়ে পড়ে উপজেলা থেকে ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের মূলস্রোতে ধাক্কা লাগে। ফলে তাদেরকে দল থেকে বহিস্কারের দাবি উঠে। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ফেব্রয়ারীতে জেলা আওয়ামী লীগের সভায় ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দে সিদ্ধান্তক্রমে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শৃংখলা ভঙ্গ করায় ওই চারজনকে দলের সকল পদ ও দলীয় কাযক্রম থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়।
ক্ষমাপ্রাপ্তির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে আওয়ামী লীগের স্বার্থ আদর্শ শৃংখলা, তথা গঠনতন্ত্র ও ঘোষনাপত্র পরিপন্থি সমপৃক্ততার জন্য ইতিপুর্বে ওই চারজনকে দল থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছিল। তারা ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেছন। দোষ স্বীকার করে তারা ভবিষ্যতে এ ধরণের কর্মকান্ডে আর যুক্ত না হওয়ার লিখিত অঙ্গিকার করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত অনুসারে তাদের ক্ষমা করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরণের সংগঠন রিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত হলে তা ক্ষমার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
দেলদুয়ার উপজেলা পরিসদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মারুফ জানান, ছাত্রলীগের মধ্য দিয়ে আমার রাজনৈতিক হাতেখড়ি। প্রাণের সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি থেকে জেলা আওয়ামী লীগে স্থান পেয়েছিলাম। সারাজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাজনীতি করে যেতে চাই। দলের আদর্শ নীতি মেনেই ভবিষ্যতে পথ চলবো। আমাকে ক্ষমা করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
কাজী অলিদ ইসলাম জানান, ক্ষমা চেয়ে দলের কাছে আবেদন করেছিলাম। অব্যাহতি প্রত্যাহার করে ক্ষমা করেছে। আমি কৃতজ্ঞ ও খুশি।
অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম জানান, সারাজীবন দলের জন্য কাজ করেছি। গত উপজেলা নির্বাচনে কর্মীদের অনুরোধ আর আমার আবেগে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমি অনুতপ্ত। শেখ হাসিনা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত ও দলীয় শৃংখলা বজায় রাখতে আর কখনো দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাবো না।
ক্ষমাপ্রাপ্তদের অনুসারিরা বিষয়টিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেছেন। যাতে তারা ভবিষতে আর কোন ধরনের বিশৃংখলা ঘটানোর সাহস না পায়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ট্যাফে ট্রাক্টরের চাপায় আব্দুল হালিম (৮০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের চকদই চাকলাদারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত হালিম মিয়া হুগড়া ইউনিয়নের কৃষ্টনগর গ্রামের মৃত মানিক উল্লাহর ছেলে।
জানা যায়, আব্দুল হালিম সকালে তোরাপগঞ্জ বাজারে শীতকালীন সবজি কপি বিক্রি করে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি চকদই চাকলাদারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছলে একটি ট্যাফে ট্রাক্টর পেছন থেকে তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা অবৈধ বালু উত্তোলন ও ট্যাফে ট্রাক্টর বন্ধ এবং চালক ও হেলপারের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে।
কাতুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন জানান, ‘আমার ইউনিয়নে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব বালু অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি অবৈধ ট্যাফে ট্রাক্টরের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। এসব ট্রাক্টরের চালকদেরও লাইসেন্স নেই। গত বছরও অবৈধ ট্যাফে ট্রাক্টরের নিচে চাপা পড়ে একজন মারা গেছেন। এসব বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
কাগমারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শেখ শাহিনুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে গত এক মাস যাবদ শহরের বিভিন্ন এলাকায় সকালে গ্যাসের সংকট ক্রমশ প্রকট আকার ধারণ করছে। লাইনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় অধিকাংশ বাসাবাড়িতে সকাল বেলা চুলা জ্বলছে না। ফলে রান্না প্রায় এক প্রকার বন্ধ। সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবারের জন্য কর্মজীবী লোকজনকে আশপাশের হোটেলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের আর্থিক সংকট আরো বাড়ছে।
এ ছাড়া আবাসিকের পাশাপাশি গ্যাস সংকটের কারণে বিসিক শিল্পনগরীসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
টাঙ্গাইল তিতাস গ্যাস সূত্রে জানা যায়, সারাদেশে ৩ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। উৎপাদন হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে আড়াই হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। ঘাটতি থেকে যাচ্ছে প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০মিলিয়ন ঘনফুট। যা দেশের বিভিন্ন জেলাগুলোতে সমন্বয় করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ কম থাকে। ভোর থেকে পাইপলাইনে চাপ কমতে শুরু করে। চুলায় যে পরিমাণ চাপ থাকে তাতে রান্না করা যায় না। বেলা ১২টার পর চাপ বাড়তে থাকে। প্রতিদিনই লাইনের গ্যাস নিয়ে সমস্যার কারণে অনেকেই এলপি গ্যাস ব্যবহার শুরু করেছেন। এলপি গ্যাসের চাহিদা বেড়ে গেছে। এতে গ্রাহকদের গ্যাস ব্যবহার নিয়ে বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।
শহরের প্যাড়াডাইস পাড়া এলাকার গৃহিণী ফারজানা লিজা বলেন, সকালে গ্যাসের চাপ কম থাকে। এতে রান্না করতে অনেক সময় লাগে। এদিকে তাঁর ছেলে ও মেয়ের কলেজে যাওয়ার সময়ও হয়ে যায়। ফলে বাধ্য হয়েই না খেয়ে তাদের কলেজে যেতে হচ্ছে।
শহরের বটতলা এলাকার বাসিন্দা বিলকিস জাহান বলেন, সকালে কোনো রকম গ্যাস থাকে না। থাকলেও তখন চুলা জ্বলে মিটমিট করে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় এমন অবস্থা থাকে। ফলে সকালের রান্নাবান্নার কাজ রাতেই শেষ করে রাখতে হয়।
পৌর এলাকার কলেজ পাড়ার বাসিন্দা সরকারি চাকরিজীবী পারুল আক্তার জানান, গ্যাসের সমস্যার কারণে তিনি ঠিকমতো রান্না করতে পারছেন না। বর্তমানে প্রায় সময়ই পরিবারের সদস্যদের জন্য নাস্তা বাইরে থেকে আনতে হচ্ছে। এছাড়া তিনি দুপুরের খাবারও বাসা থেকে তৈরি করে অফিসে নিয়ে যেতে পারছেন না। ফলে সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবারের জন্য অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হচ্ছে।
টাঙ্গাইল বিসিক শিল্প নগরীর রাফা ফুড এন্ড বেভারেজের মালিক আব্দুল মালেক জানান, গ্যাস সংকটের কারণে তাদের চলমান পণ্য উৎপাদন এরই মধ্যে চার ভাগের এক ভাগ কমে গেছে। সময়মত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন স্বাভাবিকভাবেই বিঘ্ন ঘটছে।
টাঙ্গাইল নাভানা সিএনজি যোগাযোগ ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মাসুদুর রহমান বলেন, “গ্যাস সংকটতো রয়েছে। আমরা শতভাগ প্রেসার পাই না। ৭০ থেকে ৮০ ভাগ প্রেসার পাওয়া যায়। এতে করে গাড়িতে গ্যাস দিতে সময় লাগে। গাড়ির লাইন পড়ে যায়।”
টাঙ্গাইল তিতাস গ্যাস টান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম জানান, টাঙ্গাইলে তাদের প্রতিদিন প্রয়োজন ৮০ মিলিয়ন ঘনফুট। তারা পাচ্ছেন চাহিদার অর্ধেক ৪০ মিলিয়ন ঘনফুট। তীব্র শীতের কারণে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ঘাটতি বাড়ছে। শীতের কারণে শহরে বেশিরভাগ বাসাবাড়িতে ২৪ ঘণ্টা চুলা জ্বালিয়ে রাখে। সে কারণে গ্যাসের চাহিদা বেড়ে গেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় তাদের হিমশিম খেতে হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে গজারী কাঠ বোঝাই গাড়ী ও বিট কর্মকর্তাদের ৪ রাউন্ড গুলি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৫ জানুয়ারি) গভীর রাতে উপজেলার অরণখোলা বিট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে দশ জনের নাম উল্লেখ করে ও ১৩ জন অজ্ঞাত নামা ব্যক্তিদের নামে মধুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন দোখলা বিট কর্মকর্তা মো. হামিদুল ইসলাম।
অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার ভুটিয়া গ্রামের নুর আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম(৩৫), একই গ্রামের সাহাদ আলী(৩২) ও স্বপন (৩০), ছোরহাব মিয়ার ছেলে মালেক (৪২), আব্দুস ছালামের ছেলে কালাম(৩৫), কুদ্দুসের ছেলে সাইদুল ইসলাম(৩০), ফরিদ মিয়ার ছেলে আল আমিন, বাদশা তালুকদারের ছেলে রুবেল (২৮),অরণখোলা গ্রামের আলী মন্ডলের ছেলে আবুল কালাম(৪৫), পিরোজপুর গ্রামের আব্দুল ছালাম(৪৫) , হাসিস, জব্বার মিয়া।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, বুধবার (২৫ জানুয়ারি) গভীর রাতে বনদস্যুরা উপজেলার অরণখোলা বিটের গজারী গাছ কেটে গাড়ী যোগে পাচার করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিত্বে ফরেস্টগার্ড নিয়ে বিট কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম ভুটিয়া চৌরাস্তার পাশে অবস্থান নেন। গজারী কাঠ বোঝাই গাড়ীটিকে আটক করলে পিছন থেকে বনদস্যুরা ওই বন কর্মকর্তাদের আক্রমন করে গাড়ীটি ছিনতাই করেন। এ সময় ফরেষ্টগার্ডদের কাছে থাকা চায়না রাইফেলের বাট ভেঙ্গে ৪ রাউন্ড গুলি ছিনিয়ে নেয়।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদুজ্জামান জানান, ইতিমধ্যে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আশাকরি, খুব দ্রুতই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবে।
মধুপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মুরাদ হোসেন জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে মাদক সেবন করে মাতলামি করার অভিযোগে মোস্তফা কামাল (২৬) নামে এক যুবককে এক বছরের সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আলম আদালত বসিয়ে এ সাজা দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মোস্তফা কামাল উপজেলার গড়গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মোস্তফা কামাল এলাকায় একজন চিহ্নিত মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত। সে মাঝেমধ্যেই মাদক সেবন করে তার ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ ছাড়াও মাতাল অবস্থায় স্থানীয় লোকদের মারধর ও বকাবকি করে। বুধবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে মাদক সেবন করে মোস্তফা কামাল তার মাকে মারধর করে। স্থানীয়রা তাকে ধরে এনে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করেন। পরে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত মোস্তফা কামালকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও ফারজানা আলম জানান, মাদক সেবন করে মাতলামি করার দায়ে তাকে এক বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।
সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাউদ্দিন
জানান, বুধবার দুপুরের দিকে মোস্তফা কামালকে টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ দুই বছরেও শেষ হয়নি টাঙ্গাইল আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের ব্রীজ নির্মাণের কাজ। এতে চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় জনসাধারণসহ ব্রীজ ব্যবহারকারীরা। চরম ভোগান্তি সত্ত্বেও প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা ও ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহসও পাচ্ছেননা স্থানীয়রা।
অন্যদিকে ব্রীজ নির্মাণ কাজের সময় শেষ হলেও তিন বছর সময় নির্ধারণ রয়েছে বলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগও রয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
দীর্ঘ এ জনদূর্ভোগ সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে নীরব ব্রীজ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট এলজিইডি কর্তৃপক্ষ।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের বেগুনটাল খালে নির্মাণাধীন ওই ব্রীজের কাজটি করছেন মো. তোফাজ্জল হোসেন খান তোফা। তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের টানা দুই বারের সাধারণ সম্পাদক ও হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের দুই বারের সাবেক চেয়ারম্যান।
জানা যায়, বাসাখানপুর বাজার হুগড়া ইউপি ভায়া বেগুনটাল বাজারের খালের উপর বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান এর নামকরণে ও ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ টাকা ব্যায়ে ৫০ মিটার গার্ডার ব্রীজ নির্মাণ কাজের টেন্ডার দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) টাঙ্গাইল।

ব্রীজ নির্মাণের কাজটি পান মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
২০২০ সালের ৫ জুলাই নির্মাণ কাজ শুরু আর ২০২১ সালে ৪ এপ্রিল সমাপ্তির সময়সীমাও বেঁধে দেয় এলজিইডি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেগুনটাল ব্রীজটি নির্মাণে দীর্ঘ সময় লাগায় চরম সমস্যায় রয়েছেন তারা। এই ব্রীজ হয়ে যমুনা নদী পথে সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর, টাঙ্গাইলের কাকুয়া ও কাতুলী ইউনিয়নের তোরাবগঞ্জসহ এ ইউনিয়নের পূর্ব হুগড়া, চক গোপাল, সাতানি হুগড়া, ধুলবাড়ী, কচুয়া, বারবয়লা, মহেশপুর, গইরাগাছা, মালতিপাড়া, আনাহলা, চিনাখালী, গন্ধবপুর, বইরাপাড়া, ভাঙ্গাবাড়ী, নরসিংহপুর, গোপাল কেউটিসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। ব্রীজ না থাকায় প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন এ পথে যাত্রীরা।
সরেজমিন দেখা গেছে, ব্রীজটি নির্মিত না হওয়ায় রীতিমত বন্ধ রয়েছে ট্রাক,বাসসহ বিভিন্ন ধরণের বড় যানবাহন পারাপার। চলাচলে সুবিধায় ব্রীজের নিচে বিকল্প পথ হিসেবে করা হয়েছে ডাইভারশন। ওই ডাইভারশন দিয়ে সিএনজি, ব্যাটারী চালিক অটোরিক্সা, ভ্যান, মোটর সাইকেল, বাই সাইকেল আর পায়ে হেটে মানুষ চলাচল করতে পারছেন। তবে ডাইভারশনটি মূল সড়ক থেকে অনেকটা নিচু হওয়ায় বর্ষাকালে পানিতে ডুবে যাওয়াসহ সুষ্ক মৌসুমে পারাপারে চরম সমস্যা পোহাতে হচ্ছে চলাচলকারীদের। ওই ডাইভারশন দিয়ে পারাপারে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন নারী, শিশু, বৃদ্ধ পথচারীসহ পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা। এ সময় ডাইভারশনে মাল বোঝাই ভ্যান নিয়ে আটকে পরা চালককে পথচারীদের সহযোগিতা করতেও দেখা গেছে।
ভুক্তভোগি ও স্থানীয় ব্যবসায়ি সাদ্দাম হোসেন জানান, এই ইউনিয়নের পশ্চিম অংশের যমুনা নদীর তীরবর্তী গ্রাম, কাকুয়া ও কাতুলীর তোরাবগঞ্জসহ ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম এই ব্রীজ। ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন তোফা এর নির্মাণ কাজ করছেন। এরপরও দুই বছরে শেষ হয়নি ব্রীজটির নির্মাণ কাজ। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে ব্রীজটি এখনও চলাচলের উপযোগি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় ভুক্তভোগি শাহ জামাল হোসেন জানান, দুই বছরের বেশি সময় গেলেও ব্রীজটি নির্মাণ হয়নি। এর ফলে চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন তারা। ব্রীজের ঠিকাদার ও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গত নির্বাচনে হেরে যাওয়াসহ গ্রামে না আশায় ব্রীজটির কাজ হচ্ছেনা বলে ধারণা করছেন তিনি।
তিনি আরো জানান, বর্তমান চেয়ারম্যান এলাকাবাসির আস্থাভাজন এবং তিনি যে কোন প্রক্রিয়ায় ব্রীজটির কাজ শেষ করবেন এমন বিশ্বাসেই তারা কোন দফতরে অভিযোগ বা যোগাযোগ করেননি।
ভ্যান চালক মহর আলী জানান, হুগড়া নবনির্মাণাধীন মসজিদের কাজের জন্য দশ বস্তা সিমেন্ট নিয়ে যাচ্ছি। ডাইভারশন দিয়ে অনেক কষ্ট করেও রাস্তায় উঠতে পারছিলাম না। স্থানীয় কয়েকজন যুবক আমাকে সাহায্য করে উপরে উঠিয়ে দিছে। এভাবে দুই বছর যাবৎ মালামাল আনা নেয়া করছেন তারা।
তিনি জানান, কার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবো, ব্রীজের ঠিকাদার হচ্ছেন আমাদের সাবেক চেয়ারম্যান। উনাকে কাজ শেষের জন্য তাগাদা দিলে বলেন তারাতারি শেষ হয়ে যাবে। এরপর শেষ হয়না। এছাড়াও ঠিকাদাররা জানায়, ব্রীজের কাজে তিন বছর সময় নেয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, শুরুতে কিছু কাজ হলেও বন্যার আগে থেকে ব্রীজের কাজ একবারে বন্ধ রইছে। এ সময় ব্রীজের অনেক মালামাল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন ঠিকাদারের লোকজন। তবে বর্তমান চেয়ারম্যান ব্রীজের কাজ শেষ করে মালামাল নিতে বলে বাঁধা দেন। তবে এখনও কাজ শুরু করেননি ঠিকাদার।
ব্রীজের রড মিস্ত্রির সহযোগি হৃদয় সরকার জানান, সেন্টারিংয়ের কাঠ আর রড না থাকায় ব্রীজের কাজ বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদার রড পাঠাবো পাঠাবো বললেও রড আসছেনা বলে জানায় সে।
ব্রীজ নির্মাণের সময়সীমা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিষয়টি জানিয়েছেন হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ড ও বেগুনটাল গ্রামের ইউপি সদস্য সানোয়ার হোসেন। তিনি জানান, ব্রীজটি নির্মাণের জন্য পাঁচ বছর সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে ঠিকাদারদের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়েছে।
মূল ঠিকাদার না হলেও কাজটির পার্টনার টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের দুই বারের সাবেক চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন খান তোফা বলেও জানান তিনি।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা এলজিইডি’র উপ-সহকারি প্রকৌশলী তোরাব আলী জানান, ব্রীজের মূল কাজের মধ্যে দুটি স্লাব বাদ রয়েছে। তবে এরই মধ্যে ব্রীজের পিলার, পাইল ও একটি স্লাবের কাজ শেষ হয়েছে। এখন থেকে কাজ শুরু এবং একটানা কাজ করলে বর্ষার আগে বা এপ্রিল মাসের মধ্যে কাজটি শেষ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরো জানান, কাগজ কলমে কাজটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ হলেও ব্রীজের কাজ করছেন হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন খান তোফা, বাপ্পি ও মাহাবুব নামের কয়েকজন ঠিকাদার।
সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন খান তোফা জানান, আমরা কয়েকজন মিলে বেগুনটাল ব্রীজ নির্মাণের কাজটি করছি। ব্যক্তিগত কারণে আর সময় ঠিক মত না দিতে পারায় ব্রীজের কাজটি সঠিক সময়ে শেষ করা যায়নি। ব্রীজের তিনটি স্লাবের মধ্যে একটি স্লাবের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি দুটি স্লাব দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে বলে জানান তিনি।
ব্রীজটি নির্মাণ না হওয়ায় এলাকাবাসির চরম ভোগান্তির কথা স্বীকার করেছেন হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যন মো. নূরে আলম তুহিন।
তিনি জানান, ব্রীজের কাজ শেষ না করাসহ বিকল্প ডাইভারশনের ব্যবস্থা না করায় চলাচলরত মানুষের ভোগান্তি চরম হয়ে উঠায় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তিনি দুই দফায় কাঠের ব্রীজ নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও সুষ্ক মৌসুমে ব্রীজের নিচ দিয়ে মাটি ফেলে বিকল্প ডাইভারশনটিও করেছেন তিনি।
তিনি আরো জানান, জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে। তিনি আগামী বর্ষার আগেই ব্রীজটির কাজ শেষ করার জন্য এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দিবেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এই প্রজেক্টের ফান্ড সংকট থাকায় ব্রীজ নির্মাণের কাজ সময় মত শেষ করা যায়নি। পুনরায় সময়সীমা বৃদ্ধি করাসহ ফান্ড দেয়া হয়েছে। আশা করছি, আগামী দুই মাসের মধ্যেই কাজটি শেষ হবে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. ছানোয়ার হোসেন জানান, রড, সিমেন্টসহ কাজের প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধিসহ প্রজেক্টে ফান্ড না থাকার অজুহাত দেখাচ্ছেন ঠিকাদাররা। এ কারণে আমি চলতি অর্থ বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার তাগিদ দেয়াসহ ঠিকাদারদের কাজ শেষ করতে না পারলে অফিসকে কাজ বুঝিয়ে দিয়ে স্যালেন্ডার করতে বলে দিয়েছি। স্যালেন্ডারকারী ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে সরকার নিয়ম অনুসারে ব্যবস্থা নিবেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত শামছুল হক সেতুর আশপাশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দেলদুয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র দুই সহযোগী নিরাপত্তা কর্মী রাজু আহম্মেদ ও এলাসিন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) শাহাদত হোসেন।
মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার উদ্যোগ নিলে এ হামলা চালান অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা।
দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করে দিচ্ছে একটি প্রভাবশালী একটি চক্র। এ ব্যাপারে একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রশাসন। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই মাটি উত্তোলনকারীরা টের পেয়ে তাদের সরঞ্জাম নিয়ে চলে যায়। ফলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার দুপুরে মাটি কাটা বন্ধ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) সূচি রানী সাহা তার টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে রওনা দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই শামছুল হক সেতুর টোল প্লাজার উত্তর পাশের সড়কে মাটি উত্তোলনকারীরা লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) সূচি রানি সাহা অক্ষত থাকলেও তার দুই সহযোগী নিরাপত্তা কর্মী রাজু আহম্মেদ ও এলাসিন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) শাহাদত হোসেন গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা কাঠের চলা ও লাঠি দিয়ে তাদের বেধড়ক পেটায়। এক পর্যায়ে তারা অজ্ঞান হয়ে পড়লে হামলাকারীরা চলে যায়। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা আলী বলেন, ঘটনা জানার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি বহনের কাজে নিয়োজিত ২টি ট্রাক আটক করা হয়েছে। এ সময় ট্রাকের চালকরা পালিয়ে যাওয়ায় থানা পুলিশের সহায়তায় রেকারের মাধ্যমে ট্রাক ২টিকে প্রশাসনের হেফাজতে নেয়া হয়েছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটিতে পাগলা মহিষের আক্রমণে নারীসহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজন হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহতরা হলেন, লাউহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসমত আলী খান, লাউহাটি ইউনিয়নের তারুটিয়া গ্রামের আজগর আলীর স্ত্রী হাজেরা বেগম, এলাসিন ইউনিয়নের বারপাখিয়া গ্রামের কিতাব আলী।
দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসির উদ্দিন মৃধা জানান, রবিবার সকালে একটি পাগলা মহিষ লাউহাটি ইউনিয়নের তারুটিয়া গ্রামে জনসাধারণের ওপর আক্রমণ করে। এ সময় মহিষটির আক্রমণের শিকার হয়ে অন্তত ২৫ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে মির্জাপুর কমুদিনী ও টাঙ্গাইল জেনালে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেলে ৩টার দিকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হাজেরা বেগম। খবর পেয়ে জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা সেখানে যান। তার আগেই স্থানীয়রা মহিষটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে।
এদিকে হাসমত আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রবিবার রাতেই সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ার কারণে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সোমবার রাত ৯টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। অপর আহত কিতাব আলী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে সোমবার বিকেলে মৃত্যুবরণ করেন।
টাঙ্গাইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রানা মিয়া জানান, অতি উৎসাহী লোকজন পিছু নেওয়ায় মহিষটি আরও উত্তেজিত হয়ে উঠে। লোকজন মহিষটিকে ধাওয়া না করলে হয়তো হতাহতের সংখ্যা আরো কম হত । খবর পেয়ে ঢাকা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে জানিয়েছিলাম।
তিনি আরো জানান,রবিবার বিকেলে ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে প্রাণি ফ্রাংকুলাইজেশ (অচেতন) দল ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই স্থানীয় লোকজন মহিষটিকে মেরে ফেলে।
একতার কণ্ঠঃ নিজের পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করেছিলেন টাঙ্গাইলের কালিহাতীর পারুল আক্তার। তাঁর বাবা সেই বিয়ে মেনে নেননি। ঢাকা জেলার আশুলিয়া এলাকায় এসে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি শুরু করেন পারুল ও তাঁর স্বামী নাছির উদ্দিন ওরফে বাবু। দুজন যা বেতন পেতেন, তা দিয়ে তাঁদের সংসার খুব ভালোভাবে চলত না। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝেমধ্যেই ঝগড়া হতো। বিয়ের তিন বছর পর ঝগড়া করে স্ত্রীকে বাসায় রেখে বেরিয়ে যান নাছির। পারুল তাঁর বাবাকে ফোন করে পারিবারিক অশান্তির কথা বলেন।
মেয়ের প্রতি ক্ষুব্ধ বাবা মেয়েকে বাড়ি ফিরতে বলেন। বাবার কথায় স্বামীর সংসার ছেড়ে গ্রামে চলে যান পারুল। এবার ক্ষুব্ধ বাবা নিজের ও পরিবারের অসম্মান করায় মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পারুলের বাবা আ. কুদ্দুস খাঁ মেয়েকে ভালো ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে টাঙ্গাইল থেকে জয়পুরহাটে নিয়ে যান। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুদ্দুসের সঙ্গে তাঁর বন্ধু মোকাদ্দেছ ওরফে মোকা মণ্ডলও যান।
সেখানে যাওয়ার পর জয়পুরহাটের পাঁচবিবি এলাকায় একটি নদীর পাশে নির্জন জায়গায় রাতের অন্ধকারে পারুলকে তাঁর বাবা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। পরে মোকাদ্দেছের সহযোগিতায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেন।
২০ জানুয়ারি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মেয়ে হত্যার এমন লোমহর্ষক, বর্বরোচিত বিবরণ তুলে ধরেন আ. কুদ্দুছ খাঁ। তিনি এখন কারাগারে। তাঁর দেওয়া জবানবন্দি আজ রোববার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। এ সংবাদ সম্মেলন হয় ধানমন্ডিতে পিবিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে।
পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার বলেন, পারুল সব ভাইবোনের মধ্যে মেধাবী ছিলেন। স্কুলে তাঁর রোল নম্বর ছিল ২। দেখতেও ছিলেন সুন্দরী। বাবা কুদ্দুসের স্বপ্ন ছিল মেয়েকে শিক্ষিত করবেন। কিন্তু নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় পালিয়ে বিয়ে করায় বাবা ক্ষুব্ধ হন।
বনজ মজুমদার বলেন, তখন থেকেই কুদ্দুসের পরিকল্পনা ছিল মেয়ে তাঁকে যে অসম্মান করেছে, তাতে তার বেঁচে থাকার অধিকার নেই। মেয়ের বিয়ের তিন বছর পর সেই সুযোগ পেয়ে তিনি তাঁর বন্ধুর সহযোগিতায় মেয়েকে হত্যা করেন। কুদ্দুসের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোকাদ্দেছকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে বনজ কুমার মজুমদার বলেন, মেয়েকে হত্যার পর কুদ্দুসের মধ্যে আরেকটা বিষয় কাজ করছিল যে তাঁর মেয়ের এই পরিণতির জন্য নাছির দায়ী। তাঁকেও শাস্তি দিতে হবে। তাই মেয়ের জামাইকে ফাঁসাতে একের পর এক মামলা করেছেন তিনি। রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারায় থানা–পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআই পুলিশ প্রতিবেদন দেন। মেয়ের বাবাও বারবার নারাজি দেন।
পিবিআই জানায়, পারুলের বাবা শুরুতে অপহরণ ও গুমের মামলা করলেও সর্বশেষ তিনি আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। সেই মামলার তদন্ত আবার পিবিআইকে দেওয়া হয়। তদন্তে নেমে ২০১২ সালে মেয়ের বাবার করা সাধারণ ডায়রিতে দেওয়া একটি ফোন নম্বরের সূত্র ধরে এ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়।
পিবিআই জানায়, মেয়েকে হত্যার পর নাছিরকে শাস্তি দিতে দীর্ঘ সাত বছর ধরে তিনি মামলা চালিয়েছেন। এর জন্য তিনি নিজের জমিও বিক্রি করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী জহিরুল ইসলাম (৬৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
সোমবার(২৩ জানুয়ারি) ভোর রাতে ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রায় ঘোষণার পর থেকে তিনি ২ বছর ধরে পলাতক ছিলেন।
জহিরুল ইসলাম নাগরপুর উপজেলার মীর কুটিয়া গ্রামের মৃত জলিল মিয়ার ছেলে।
এ প্রসঙ্গে র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ এর কোম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের জানান, ২০১৩ সালের টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকায় আউয়াল নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। ওই বছরের ১ আগস্ট মির্জাপুর থানার এসআই শ্যামল কুমার দত্ত বাদি হয়ে হত্যা মামলায় জহিরুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে চার জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক জহিরুল ইসলামকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করেন। মামলা চলাকালে জহিরুল ইসলাম পালিয়ে যান।
তিনি আরো জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া এলাকা থেকে জহিরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোমবার সকালে জহিরুলকে মির্জাপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।