একতার কণ্ঠঃ: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) টাঙ্গাইল অফিসের এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান পরিচালনার সময় বনবিভাগের ২ প্রহরী ও এক শ্রমিককে হাতেনাতে আটক করেছে। কাঠ বোঝাই ট্রাক থেকে ঘুষ নেয়ার সময় ওই কর্মচারীরা আটক হন।
সোমবার (৫ ডিসেম্বর) বিকালে দুদক উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরিফ সাদেক জানান, টাঙ্গাইল জেলা বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চেকপোস্ট পার হওয়া বাবদ ঘুষ দাবির অভিযোগ পাওয়া যায়। সেই ভিত্তিতে দুদকে টাঙ্গাইল অফিসের একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে।
তিনি তিনি আরো জানান, অভিযান পরিচালনার সময় ছদ্মবেশে থাকা দুদক এনফোর্সমেন্ট টিম টাঙ্গাইল বনবিভাগের ২ জন প্রহরী ও ১ শ্রমিককে কাঠ বোঝাই ট্রাক থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে আটক করে। পরবর্তীতে তাদের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার জিম্মায় দিয়ে আইনি ব্যবস্থার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, অভিযান পরিচালনাকালে এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযোগকারী, কাঠ ব্যবসায়ী ও ট্রাক চালকদের উপস্থিত বক্তব্য নেয়। যার ভিত্তিতে দুদক টিম জানতে পারে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তারা কাঠ বোঝাই ট্রাক নিয়ে ঢাকা অভিমুখে নিয়মিত চলাচলকালে বন বিভাগ থেকে টিপি বা ট্রানজিট পাস নিতে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা ঘুষ লেনদেন হয়।
আবার সেই টিপি বা ট্রানজিট পাস নিয়ে টাঙ্গাইলের করটিয়া চেকপোস্টে দেখালে কাঠের ট্রাক পরীক্ষান্তে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়। যার জন্য কাঠের মান ভেদে ১৭০০ থেকে ৩২০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ প্রদান না করলে ছাড়পত্র দেয়া হয় না।
এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশনে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে বলেও সূত্রে থেকে জানা যায়।
টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদুজ্জামান জানান, অভিযুক্ত ২ বন প্রহরীকে ইতিমধ্যে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এ ছাড়াও জড়িত অন্য কর্মকর্তাদের মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এর সদস্যরা।
দুই বছর পলাতক থাকার পর সোমবার (৫ ডিসেম্বর) ভোরে তাদের নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিকেলে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থানায় হস্তান্তর করে র্যাব।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাবা ও ছেলে হলেন মো. মজনু (৬১) ও ছেলে জহুরুল ইসলাম (৩১)। তাদের বাড়ি ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা গ্রামে।
বাবা ও ছেলেকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে দুপুরে র্যাব ১৪ এর ৩নং কোম্পানির অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, ২০১৬ সালের ২৩ নভেম্বর গ্রেপ্তারকৃত জহুরুল ইসলাম তার স্ত্রী তাছলিমা আক্তারকে (২৭) যমুনা নদীতে চুবিয়ে হত্যা করে। পরে তার লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। গৃহবধূকে হত্যা ও লাশ গুমে তাকে তার বাবা মজনু সহায়তা করে।
ঘটনার পর তাছলিমার বাবা বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ মজনু ও জহুরুলকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর তারা দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তারা যৌতুক না দেওয়ায় তাছলিমাকে হত্যা করে লাশ গুম করার কথা স্বীকার করেছিলেন। সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট তাদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। মামলা চলাকালে জামিনপ্রাপ্ত হয়ে তারা পলাতক হন।
র্যাব আরো জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছেন সাজা এড়াতে তারা উভয়ই নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার গোয়ালদি খান বাজার এলাকায় গরুর খামারে চাকরি নেন। সেখানে তারা পরিচয় গোপন করে থাকতেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে র্যাব সোমবার ভোরে তাদের সেখান থেকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দুজনের নামে ভূঞাপুর থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। বিকেলে তাদের ভূঞাপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ১০ বছর বয়সের ৪র্থ শ্রেণীর এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের ঘটনা গ্রাম্য শালিসি বৈঠকের মাধ্যমে জুতা পেটায় মিমাংসা দেয়া হয়েছে। শনিবার ( ৩ ডিসেম্বর ) বিকালে শালিসটি অনুষ্ঠিত হয়।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ মো. ওয়ালিউল্লাহ্ বলাৎকারের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
বলাৎকারের ঘটনাটি ঘটেছে দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের বেতরাইল গ্রামের নূরে মদিনা নুরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সামাজিক শালিসের মাধ্যমে এ মিমাংসা দেয়া হয়। উপজেলার দেওলী ইউনিয়নের বেতরাইল গ্রামে গ্রামবাসীর পরিচালনায় প্রতিষ্ঠিত বেতরাইল নূরে মদিনা নুরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মো. ওয়ালিউল্লাহ’র বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ তুলে ওই মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী।
বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও গ্রামবাসী একাধিক শালিসি বৈঠক করেন। সর্বশেষ শনিবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে পুনরায় বৈঠক বসে। ওই বৈঠকের নেতৃত্ব দেন দেওলী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. দুলাল মিয়া।
বেতরাইল গ্রামের মাতব্বর মো. আলাল মিয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকের কার্যক্রম শুরু হয়। বৈঠকে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. খায়রুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠান প্রধান হাফেজ মো. রাকিব ও গ্রাম্য মাতব্বরগণ উপস্থিত ছিলেন।
শালিসি বৈঠকে শিক্ষক হাফেজ মো. ওয়ালিউল্লাকে দোষি সাব্যস্ত করে ২৫ঘা জুতাপেটা শাস্তির সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক অভিযুক্ত শিক্ষকের অভিভাবকের মাধ্যমে উক্তরূপ শাস্তি দিয়ে শালিসের সমাপ্ত ঘোষনা করেন সভাপতি।
অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ মো. ওয়ালিউল্লাহ্ জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ সাজানো। সোমবার ও বৃহস্পতিবার সকালে শ্রেণীকক্ষে পড়াশোনায় অমনযোগী থাকায় চতুর্থ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে শারিরীক শাস্তি দেয়া হয়। পরে আমি জানতে পারি আমার বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইউপি সদস্য মো. দুলাল মিয়া জানান, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে বলাৎকারের বিষয়টি সামাজিক ভাবে মিমাংসা করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের অভিভাবকদের মাধ্যমে তাকে শাস্তি দিয়ে তাদের নিকট সোপর্দ করা হয়ছে।
মাদ্রাসা প্রধান হাফেজ মো. রাকিব জানান, যেহেতু একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে গেছে। ঘটনার সত্য মিথ্যা যাই হোক অভিযুক্তকে শাস্তি দিয়ে মাদ্রাসা থেকে বেড় করে দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে দেওলী ইউপি চেয়াম্যান দেওয়ান তাহমিনা হক জানান, ঘটনাটি আমাকে জানানো হয়নি, পরে লোকমুখে জানতে পেরেছি। এ ধরনের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
দেলদুয়ার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছির উদ্দিন মৃধা জানান, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি, অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে উপজেরার বয়ড়া গ্রামের মো. হাসেম মিয়াকে আসামি করে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুলালে মামলা করেন। আর এর পর থেকেই আসামি পক্ষের লোকজন তাকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিতে শুরু করেছে।
এদিকে মামলার পরপরই বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) রাতে অভিযুক্ত হাসেমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূকে হাসেম মিয়া বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতেন। বিষয়টি গৃহবধূ তার স্বামীকে জানান। আর এ ঘটনায় হাসেম আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। গত ১৬ আগস্ট ভুক্তভোগীর স্বামী বাড়ি থেকে বাইরে যাওয়ার পরপরই হাসেম ঘরে প্রবেশ করে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এসময় চিৎকারে করলে হাসেম গৃহবধূর মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যান। পরে প্রতিবেশিরা আহত অবস্থায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। গত ২২ সেপ্টেম্বর গৃহবধূ বাদী হয়ে হাসেম মিয়াকে আসামি করে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তার স্বামী বলেন, মামলা করে চরম বিপাকে পড়েছি। আমরা গরিব ও অসহায় হওয়ায় আসামির স্বজনরা আমাদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য। সাক্ষীদেরকেও নানা ভয় দেখানো হচ্ছে। মামলাটি ভিন্নখাতে নিতে আমাদের এবং সাক্ষীদের নামে আদালতে মিথ্যা অভিযোগও দায়ের করেছেন অভিযুক্তের স্বজনরা।
তারা আরও জানান, আসামি প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য চেষ্টা করি। ব্যর্থ হয়ে বাসাইল থানায় মামলা করতে যাই। কিন্তু থানা মামলা নেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করেছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রউফ মিয়া বলেন, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও আসামি পক্ষ পরবর্তীতে আমাদের কাছে আর আসেনি।
থানায় মামলা না নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার থানায় মামলা করতে কেউ আসেননি। পরে আদালত থেকে একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আসে। এরপর আমরা আসামি হাসেমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়ে দেই।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায় বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) বিকালে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ আলী (৪৩) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ (দক্ষিণ)।
এ সময় তার কাছ থেকে ৪০০ পিস ইয়াবা ও ৪ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মোহাম্মদ আলী কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার উত্তর চৌধুরীবাড়ি গ্রামের মৃত ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে।
শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
এ প্রসঙ্গে, টাঙ্গাইল ডিবি (দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হেলাল উদ্দিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মোহাম্মদ আলী নামে এক মাদক ব্যবসায়িকে গ্রেপ্তার করেছে।
তিনি আরো জানান, এসময় তার কাছ থেকে ৪০০ পিস ইয়াবা ও ৪ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। তার বিরুদ্ধে কালিহাতী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নাশকতার অভিযোগে বিএনপি’র পাঁচ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার ও ৬ টি ককটেল উদ্ধার করেছে গোপালপুর থানা পুলিশ।
বুধবার (৩০ নভেম্বর) রাতে গোপালপুর পৌরশহরের আভঙ্গি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশারফ হোসেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মোহাম্মদ রহমান, তোফাজ্জল হোসেন, ইসমাইল হোসেন, আব্দুল লতিফ ডান্ডু এবং মোহাম্মদ লতিফ। এরা সবাই ধোপাকান্দি ও ঝাওয়াইল ইউনিয়ন বিএনপি’র সদস্য ও ওয়ার্ড কমিটির নেতা।
গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, এরা সবাই নাশকতার উদ্দেশ্যে পৌরশহরের আভঙ্গি এলাকায় সমবেত হলে পুলিশ ৬টি ককটেলসহ এদের গ্রেপ্তার করে।
তিনি আরো জানান, বিএনপির ২০ নেতাকর্মীসহ শতাধিক অজ্ঞাতনামাকে আসামী করে থানায় নাশকতা ও দাঙ্গা-মারামারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
অপরদিকে উপজেলা বিএনপি এক বিবৃতিতে জানান, এটা গায়েবী মামলা। আভঙ্গী এলাকায় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা বুধবার রাতে কোন ধরনের ঘটনা ঘটায়নি। ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশেকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার দায়ের করা চেক ডিজঅনার মামলায় আ’লীগ নেতাকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
দণ্ডিত মিজানুর রহমান লিটন টাঙ্গাইল আ’লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক।
বুধবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ওয়ায়েজ আল করুনী সাক্ষী-প্রমাণ ও শুনানি শেষে এ রায় দেন।
মিজানুরের বিরুদ্ধে সরকারি সা’দত কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মিলন মাহমুদ বাদি হয়ে গত ২৪ মার্চ আদালতে মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
আদালত পাঁচ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও নয় লাখ টাকা অর্থদন্ড করেছেন। রায় ঘোষনার সময় মিজানুর আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শহীদুল ইসলাম তালুকদার জানান, মিজানুর রহমান ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মাওলানা ভাসানী আদর্শ কলেজের ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক মিলন মাহমুদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ১৪ লাখ টাকা ধার নেন। তিনি দুই দফায় নয় লাখ টাকা পরিশোধের জন্য পৃথক দুটি চেক মিলন মাহমুদকে দেন। পরে টাকা পরিশোধে টালবাহানা করতে থাকেন। মিলন মাহমুদ ব্যাংকে চেকটি জমা দেওয়ার পর দেখা যায় সেখানে টাকা জমা নেই। চেকটি ব্যাংক কর্তৃক প্রত্যাখান হয়। পরে মিলন মাহমুদ আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলার বাদি মিলন মাহমুদ বলেন, মিজানুর টাকা ধার নিয়ে ফেরত দেয়নি। উল্টো আমাকে বিভিন্ন হামলা-মামলার হুমকি দিয়ে টাকা পরিশোধ না করে নানান টালবাহানা করেছেন।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র ও শহর আ’লীগের সভাপতি এসএম সিরাজুল হক আলমগীর জানান, মিজানুর রহমান লিটন শহর আ’লীগের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। এধরনের অপরাধমূলক কাজের সাথে জড়িত থাকলে তার জন্য আমরা ভবিষ্যতে পদপদবির জন্য সুপারিশ করবো না।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চোরাই মোটরসাইকেলসহ খন্দকার আমজাদ ওরফে হযরত (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৮ নভেম্বর) রাতে উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলের জয়েরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরাই মোটরসাইকেলসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত হযরত মির্জাপুর পৌর এলাকার পাহাড়পুর গ্রামের খন্দকার আজিজের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির খবর পেয়ে মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল মিয়া ও এসআই জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সোমবার রাতে উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের জয়েরপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়।
এসময় খন্দকার আমজাদ ওরফে হযরতকে গ্রেপ্তার করা হয় । পরে তার কাছে থাকা লাল-কালো রংয়ের একটি পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার অন্যান্য সঙ্গীরা পালিয়ে যায়।
পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম খান জানান, খন্দকার আমজাদ ওরফে হযরতকে মোটরসাইকেল চুরি সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে তিনি জেনেছেন।
মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল মিয়া জানান, চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির কথা জানতে পেরে অভিযান চালিয়ে হযরতকে গ্রেপ্তার এবং একটি পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদক বিক্রি, মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল চুরির একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে পাহাড়পুর গ্রামের লোকজন অভিযোগ করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ: এসএসসি পরীক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে মারুফ (১৭) নামে এক স্কুলছাত্র আত্মহত্যা করেছে।
সোমবার (২৮ নভেম্বর) দিনগত রাতে উপজেলার লোকেরপাড়া ইউনিয়নের বলমআটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মারুফ একই গ্রামের মো. ইবরাহীমের ছেলে। সে পাশের গোপালপুর উপজেলার বড়শিলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশ হলে মারুফ ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। এতে সে হতাশায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে । পরে রাতে না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। মঙ্গলবার সকালে তার মা মারুফকে ভাত খাওয়ার জন্য ডাকলে সাড়াশব্দ না পেয়ে মারুফকে ঘরের ধরণায় ঝুলতে দেখে। পরে মারুফকে নামিয়ে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘাটাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আত্মহত্যার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল করা হয়। পরিবার ও প্রতিবেশিদের মাধ্যমে জানা গেছে সে এসএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি এক বিষয়ের ওপর অকৃতকার্য হওয়ায় আত্মহত্যা করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মারুফের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এলেঙ্গা পৌরসভার কুড়িঘড়িয়া এলাকায় নিউ ধলেশ্বরী নদীর ডান তীরে ভেকু বসিয়ে অবৈধভাবে মাটি বিক্রি করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। ফলে বর্ষা মৌসুমে আশপাশের বসতবাড়ী ও ফসলী জমি ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, কুড়িঘড়িয়া গ্রামের হাজী ছানোয়ার হোসেন ভূইয়া, তার ভাই শহীদুল ইসলাম ও ছেলে স্বাধীন ভূইয়াসহ একটি প্রভাবশালী মহল প্রায় ১৫ দিন ধরে নদীর তীর কেটে ভেকু বসিয়ে অবৈধভাবে ফসলী জমির মাটি কেটে অবাধে বিক্রয় করছে। দিনরাত মাটি ভর্তি ট্রাক চলাচলের ফলে রাস্তার দু’পাশে বসবাসরত জনসাধারণ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। তাদের আশবাবপত্র বিছানাসহ খাবারেও মাটির প্রভাব পড়ে। এতে এসব এলাকায় সর্দি, জ্বর, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। এছাড়াও ক্রমাগত নদী তীর কেটে মাটি বিক্রি করলে বর্ষা মৌসুমে এলাকার বসতভিটা সহ ফসলী জমি ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী প্রশাসনকে অবহিত করলেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
সরেজমিনে দেখা যায়, নিউ ধলেশ্বরী নদীর ডান তীর কেটে ভেকু বসিয়ে প্রায় ৪০ ফুট করে গভীর গর্ত করে মাটি বিক্রি করছে স্থানীয় প্রভাবশালী ওই মহল। তারা জানান, প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলের সাথে সমঝোতা করেই ব্যবসা করছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসাইন জানান, নদীর তীর কেটে মাটি বিক্রয়ের বিষয়টি তিনি জানেন না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে আজগর আলী (২২) নামে এক যুবকের পুরুষাঙ্গ কেটে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার রাত ৩ টার দিকে উপজেলার আটাবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আজগর আলী আটাবাড়ি গ্রামের মৃত শরীফ উদ্দিনের ছেলে।
তাকে রাতেই টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার সকালে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আজগর আলীর চাচী মর্জিনা বেগম জানান, রোববার রাত ৩ টার দিকে আজগর তার নিজ ঘর থেকে বের হয়ে বাহিরে চেঁচামেচি শুরু করে।
এ সময় তার শরীর ও ঘরের বিছানায় রক্তে ভিজে যায়।
তিনি আরো জানান,কে বা কাহারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি )মোল্লা আজিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাতে কে বা কাহারা এঘটনা ঘটেছে জানা যায়নি। পুলিশ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
একতার কণ্ঠঃ জমি বিরোধের জেরে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে চাচাতো ভাইদের এলোপাথারি হামলা থেকে আরেক চাচাতো ভাই আব্দুর রাজ্জাককে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বড় ভাই আব্দুল হামিদ (৪৫)।
শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের খড়ক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হামিদ একই গ্রামের মৃত আক্তার হোসেনের ছেলে।
এ ঘটনায় শনিবার (২৬ নভেম্বর) রাতে নিহতের স্ত্রী শাহিনা বেগম ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে ভূঞাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর ওই রাতেই প্রধান আসামি সাঈদের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪০), আজিজুল (৩৫), সোনা মিয়া (৫০) এবং আলেয়া খাতুনকে (২৮) গ্রেফতার করে পুলিশ। রবিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে ভূঞাপুর থানা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সাঈদ-আজিজুলদের সাথে জমি নিয়ে নিহত হামিদের চাচাতো ভাই আব্দুল রাজ্জাকের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হয়। তারা সালিশ না মানলে একপর্যায়ে টাঙ্গাইল বিজ্ঞ আদালতে ১০৭ ধারা আইনে মামলা করেন নিহতের ভাই আব্দুর রাজ্জাক। আদালতের নোটিশ পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার সকালে রাজ্জাকের উপর হামলা চালায়। এসময় রাজ্জাকের বড় ভাই হামিদ ও তার স্ত্রী এগিয়ে আসলে তাদের উপরও হামলা চালায়। এতে তারাও আহত হয়।
এরপর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তৃব্যরত চিকিৎসক টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে। তারমধ্যে রাজ্জাকের ভাই হামিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। পরে সেখানকার চিকিৎসক হামিদকে বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে মৃত ঘোষণা করে।
এ ঘটনায় ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম জানান, এজাহারের পর অভিযান চালিয়ে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ।
তিনি আরো জানান, তাদের মধ্যে তিনজনকে শনিবার সকালে ও অপর আরেকজনকে রবিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি আাসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত আছে।