একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের অকুর টাকুর পাড়ায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত নাহিদ চৌধুরীকে উদ্ধার ও ৮ অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার(২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে অপহরণকারীদের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. আবু ছালাম মিয়া প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন- কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ আল নোমান(২৮), গাজীপুর জেলার মৌচাক চা বাগান গ্রামের(বর্তমানে টাঙ্গাইল শহরের পারদিঘুলিয়ায় বসবাসরত) মো. শহীনের ছেলে রাকিব(১৯), টাঙ্গাইল শহরের দক্ষিণ কলেজপাড়ার রমজান মন্ডলের ছেলে মহম্মদ মন্ডল(৪০), সঞ্জু মন্ডলের ছেলে নাউম মন্ডল(২০), আনোয়ার হোসেনের ছেলে রনি(১৯), আরজু মিয়ার ছেলে আলম মিয়া(১৯), জমের মোল্লার ছেলে কাশেম মোল্লা(১৯) ও পারদিঘুলিয়ার মৃত মজিবর মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া(৪০)।
জানা যায়, কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের আ. কাইয়ুম রুবেল চৌধুরীর ছেলে মো. নাহিদ চৌধুরীকে(২৫) একই গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ আল নোমান ১২-১৩ জন মিলে কুমিল্লা জেলা সদরের কোতওয়ারী থানা এলাকা থেকে কৌশলে অপহরণ করে। পরে তাকে টাঙ্গাইল শহরের আকুর টাকুর মুসলিমপাড়া একটি বাসায় আটকে রেখে তার মা মোছা. নাছিমা আক্তার শিমার কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে।
এক পর্যায়ে নাহিদ চৌধুরীর মা মোছা. নাছিমা আক্তার শিমা বিকাশের মাধ্যমে ৪ হাজার টাকা অপহরণকারীদের কাছে পাঠায়। এতে অপহরণকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে নাহিদ চৌধুরীর উপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। পরে মোছা. নাছিমা আক্তার শিমা কুমিল্লা কোতওয়ালী থানায় বিষয়টি অবগত করলে তারা টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানায়।
টাঙ্গাইল থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে অপহরণকারীদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে শহরের আকুর টাকুর মুসলিমপাড়ার একটি বাসায় অভিযান চালায়। অভিযানে অপহৃত নাহিদ চৌধুরীকে উদ্ধার ও উল্লেখিত ৮ অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. আবু ছালাম মিয়া জানান, অপহৃত নাহিদ চৌধুরীর মা নাছিমা আক্তার শিমা বাদি হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অপহৃতকে উদ্ধার করে গ্রেপ্তারকৃত ৮ অপহরণকারীর ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা সদরের আদালত চত্বর এলাকায় ভুয়া কাজির ছড়াছড়ি হওয়ায় অবাধে চলছে বাল্যবিবাহ। অধিক লাভের আশায় এসব ভুয়া কাজিদের পরোক্ষ মদদ দিচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র। তাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে প্রকাশ্যে বাল্য বিয়ে পড়াতে সমর্থ হচ্ছে এসব কাজিরা।
টাঙ্গাইল জেলা রেজিষ্ট্রার মো. মাহফুজুর রহমান খান জানান, এ বিষয়ে লিখিতসহ একাধিক মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মহাদয়ের পরামর্শক্রমে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এই এলাকার জন্য নির্ধারিত নিবন্ধন প্রাপ্ত কাজির ডিআর বই ব্যবহার না করে অন্য এলাকার কাজির ডিআর বই নিয়ে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের বিয়ে পড়ানো হচ্ছে হরহামেশাই। তাদের দৌরাত্ব্যে বঞ্চিত হচ্ছে অত্র এলাকার জন্য নিবন্ধন প্রাপ্ত কাজি।
এ বিষয়ে তদারকির জন্য জেলা রেজিস্ট্রারের উপর দায়িত্ব থাকলেও অজ্ঞাত কারণে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যকরী পদক্ষেপ নেয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সখিপুর উপজেলার নলুয়া বাছেদ খান উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর এক ছাত্রীর বিয়ে পড়াচ্ছেন মো. শাহীন মিয়া নামের এক কাজি। তিনি দীর্ঘ পনের বছর যাবত কোন রকম বৈধ কাজির সনদ ও কাগজপত্র ছাড়াই কোর্ট চত্বরে বিয়ে পড়িয়ে আসছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালা ইউনিয়নের আব্দুল হাই কাজির ডি আর বইসহ মধুপুর, মির্জাপুর ও সখিপুরের ডিআর বই ব্যবহার করে অধিক টাকার বিনিময়ে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের বিবাহ পড়াচ্ছেন। এসব বাল্যবিয়ে পড়িয়ে টাঙ্গাইল শহরের একটি ক্লিনিকের অংশীদারসহ কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন তিনি।
তার ছত্রছায়ায় একাধিক কাজি কোর্ট চত্বরে দেদারছে চালাচ্ছে বিবাহ রেজিস্ট্রি ও তালাক নিবন্ধন। অধিক মুনাফার আশায় আদালত চত্বরে কর্মরত বেশ কিছু আইনজীবী তাদের সেরেস্তা ব্যবহার করতে দিচ্ছেন এই সব ভুয়া কাজিদের। ফলে আইনজীবীদের সেরেস্তা ব্যবহার করেই এসব বাল্যবিবাহ পড়ানো হচ্ছে।
কোর্ট চত্বর এলাকা ব্যবহার করে অবাধে চলছে ভুয়া জন্মসনদ, নকল কাবিননামা আর জাল সিল-স্বাক্ষরে বিয়ে ও তালাক রেজিস্ট্রি।
জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ প্রত্যান্ত অঞ্চল থেকে আসা অপ্রাপ্ত বয়স্কদের নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেফিট করে প্রাপ্তবয়স্ক বানিয়ে বিয়ে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করা হচ্ছে।
গ্রাম অঞ্চলে এক শ্রেনীর দালালদের মাধ্যমে গুঞ্জণ আছে কোর্ট চত্বরে গেলে অভিভাক ছাড়াই বিয়ে পড়ানো যায়। এর সুযোগ নিচ্ছে অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোর-কিশোরী ও ঘর পালানো প্রেমিক-প্রেমিকারা।
এসব কাজি তাদের প্রয়োজনে নকল কাবিননামা, তালাকনামা ও বয়স প্রমানের এফিডেফিটের ঘোষণাও দিচ্ছেন। এতে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেমন আতঙ্কে রয়েছেন তেমনি পরকীয়ার বলি হচ্ছে রেমিটেন্স যোদ্ধা (প্রবাসীদের) সংসার।
অভিযোগ প্রসঙ্গে মো. শাহিন মিয়া জানান, তার কোন বৈধ কাজির কিম্বা বিবাহ পড়ানোর অনুমোদন নেই। তিনি সাব-কাজি হিসেবে কাজ করেন। অপ্রাপ্ত বয়স্কদের বিবাহ পড়ান তিনি,তবে বয়স প্রমানের কাগজপত্র জমা না দিলে কাবিনের সার্টিফাইড কপি দেন না তিনি।

তিনি আরো জানান, আমি ছাড়াও আরো অনেকেই কোর্ট চত্বরে বিয়ে পড়াচ্ছে, তারা হচ্ছে-মো. জয়নাল আবেদিন, মো. হামিদুল ইসলাম,আকরাম হোসেন ও কায়সার আহম্মেদ সহ আরো অনেকেই।
টাঙ্গাইল জেলা সদরের ১নং ওয়ার্ড ও কোর্ট চত্বর এলাকার ভারপ্রাপ্ত কাজি আব্দুল সামাদ জানান, এ বিষয়ে জেলা রেজিষ্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। তিনি আশা করেন, জেলা রেজিষ্ট্রার যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করিবেন।
টাঙ্গাইল জেলা রেজিষ্ট্রার মো. মাহফুজুর রহমান খান জানান, এ বিষয়ে লিখিতসহ একাধিক মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মহাদয়ের পরামর্শক্রমে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
“একতার কণ্ঠ-এক্সক্লুসিভ”
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মাহবুব আলম মল্লিক ঋণ খেলাপির দায়ে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান।
জানা যায়, গত ২৫ জানুয়ারি মাহবুব আলম মল্লিক চেয়ারম্যান হওয়ার অযোগ্য ও তিনি অপসারণযোগ্য মর্মে স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহাকারী সচিব জেসমীন প্রধান স্বাক্ষরিত এক স্বারকে ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব কেন চুড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হবেনা তার জবাব দেয়া প্রসঙ্গ পত্র ইস্যু করা হয় এবং উক্ত পত্র প্রাপ্তির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগকে লিখিত জবাব নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়।
গত বছরের ৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মাহবুব আলম মল্লিক। তবে ওই নির্বাচনে ঋণ খেলাপির অভিযোগে তার মনোনয়ন পত্র বাতিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করে নিজের মনোনয়ন পত্র বৈধ করতে সক্ষম হন তিনি। নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হন।
তবে গত বছরের ৩ এপ্রিল সেই রিট পিটিশনের শুনানীতে চেয়ারম্যান প্রার্থীতার পক্ষে ইস্যুকৃত রুল খারিজ করে দেন বিজ্ঞ আদালত। ফলে স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ আইন, ২০০৯ এর ২৬ (২) (জ) ধারা অনুযায়ী চেয়ারম্যান হিসেবে মাহবুব আলম মল্লিক অযোগ্য বিবেচিত হন।
উয়ার্শী ইউনিয়ন পরিষদের সাময়িক বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান মাহবুব আলম মল্লিক জানান, সাময়িক বরখাস্তের একটি চিঠি পেয়েছি। আমি আইনী সহায়তা গ্রহণ করবো।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সোসাইটি ফর হিউম্যান ইউনিটি অ্যান্ড রিসোর্সেস ইউটিলাইজেশন (শুরু) নামে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন গ্রাহকেরা। তাদের অভিযোগ, প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন এনজিওটির নির্বাহী পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে টাকা ফেরত পেতে সদর উপজেলার গালা গ্রামে ওই এনজিও কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন গ্রাহকেরা। মানববন্ধন চলাচলে বক্তব্য দেন ওই এনজিও-র ভুক্তভোগী সদস্য তারেক হাসান, আলী আহম্মদ, জয়নু বেগম, অঞ্জনা বেগমসহ অনেকেরা।
তাদের দাবি, গ্রাহকেরা কেউ বাড়ি বিক্রির টাকা, আবার কেউ প্রবাসী মৃত সন্তানের টাকা, দিন মজুরদের জমানো টাকাসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ একটু লাভের আশায় এ এনজিওতে টাকা রেখেছিলেন। কয়েক বছর লাভ পেলেও বছর দুয়েক আগে থেকে সেই লাভ দেওয়া বন্ধ করে দেয় এনজিও কর্তৃপক্ষ।
এমনকি গত ছয় মাস ধরে গ্রাহকদের প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন নির্বাহী পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টরা।
গ্রাহকেরা জানান, ১২ বছর আগে গালা গ্রামের মাজেদুর রহমান, আবু সাইদ, আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন মিলে শুরু নামের এনজিওটি প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে গ্রামের মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে নিরীহ কৃষক ও দিন মজুররাও টাকা রাখেন। এমনকি অনেক প্রবাসীরাও টাকা রেখেছেন। তিন শতাধিক গ্রাহকের প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা নিয়ে এনজিও নির্বাহী পরিচালক মাজেদুর রহমান উধাও হয়েছেন।
ফলে প্রতারণার স্বীকার হয়ে কষ্টে অর্জিত টাকা ফেরত পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন গ্রাহকেরা।
প্রতারণার শিকার বৃদ্ধ আলী আহম্মদ বলেন, আমার চার মেয়ে ও এক ছেলে। ১০ বছর আগে সৌদি আরবে থাকা অবস্থায় আমার ছেলে মারা যায়। সেখান থেকে পাওয়া দুই লাখ টাকা শুরু এনজিওতে রেখেছিলাম। সেই দুই লাখ টাকা নিয়ে মালিক পালিয়েছে। আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করি।
শারিরীক প্রতিবন্ধী শাহজাহান মিয়া বলেন, আমি স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারি না। তাই বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভিক্ষা করে জীবন যাপন করি। সেই টাকা থেকে জমিয়ে এক লাখ টাকা ১২ বছর আগে জমা করেছিলাম। সেখান থেকে আমি কোনো লাভ নেই নি। সেই টাকা নিয়েও মালিক পালিয়েছে।
৬০ বছরের বৃদ্ধা জয়নু বেগম বলেন, আমার বাড়ি বিক্রি করা চার লাখ টাকা এ এনজিওতে রেখেছিলাম। আমার টাকা নিয়ে মালিক পালিয়ে যাওয়ায় আমি এখন নিঃস্ব।
প্রতারণার অভিযোগে শুরু এনজিও’র নির্বাহী পরিচালক মাজেদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, একটি প্রতারক চক্র মিলে এনজিওটি করেছিল। আমরা তাদের কোনো অনুমতি দেই নি। তবে আমরা ওই কমিটি বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করব।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বাবা আউয়ালকে ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আসাদুজ্জামান মিয়াকে (৫০) আটক করেছে টাঙ্গাইল র্যাব-১৪, সিপিসি-০৩ এর সদস্যরা।
বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানাধীন মোগরাপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে।
২০১৩ সালে বাবা আউয়ালকে ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে তার ছেলে আসাদুজ্জামান হত্যা করিয়েছিল। সাক্ষী-প্রমাণ শেষে ২০২০ সালে আসামিকে মৃত্যু দণ্ডাদেশ দেন বিচারক।
টাঙ্গাইল র্যাব-১৪ এর কোম্পানি কমান্ডার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, ২০১৩ সালের টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার চাঞ্চল্যকর আউয়াল হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানাধীন মোগরাপাড়া এলাকায় আত্মগোপনে আছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকালে অভিযান পরিচালনা করে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামি নিজের বাবাকে হত্যার উদ্দেশে চারজন ভাড়াটিয়া খুনির সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে চুক্তি করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ৩০ জুন রাত ১টার দিকে আসামির বসতবাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব পাশের বারান্দা চৌকির ওপর তার বাবা আউয়ালকে গলা কেটে হত্যা করে। এ ঘটনায় পরদিন মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শ্যামল কুমার দত্ত বাদী হয়ে ১টি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরো জানান, হত্যা মামলায় বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, ২য় আদালত, টাঙ্গাইল বিচার শেষে গত ২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আসামিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। মামলার বিচারকাল থেকে আসামি পলাতক ছিলেন।
র্যাব-১৪ এর কোম্পানি কমান্ডার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের জানান, ‘আসামিকে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করে মির্জাপুর থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার পৌলীতে নির্মাণাধীন রাস্তায় বালুবাহী ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবীতে মানববন্ধন করেছে পৌলী ও স্বরূপপুর গ্রামের জনসাধারণ।
বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে পৌলী (উত্তর) ঘোষপাড়া এলাকায় স্থানীয়রা এ মানবনন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে পৌলী-স্বরূপপুর-বড় বাশালিয়া গ্রামের ৩ শতাধিক জনসাধারণ অংশ নেয়।
মানবন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন- এলেঙ্গা পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও পৌলী মন্দির কমিটির সভাপতি সুকুমার ঘোষ, মন্দির কমিটির উপদেষ্টা রবীন্দ্র সূত্রধর, ক্ষিতিশ ঘোষ, সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল ঘোষ, পৌলী মসজিদ কমিটির দাতা সদস্য জামাল মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক আ: বাছেদ, বড় বাশালিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক, পৌলী গ্রামের শফিক, নাজিম প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এলেঙ্গা পৌরসভার পৌলী-স্বরূপপুর রাস্তাটি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবী। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। একটি প্রভাবশালী মহল নির্মাণাধীন রাস্তার উপর দিয়ে ট্রাকে বালু ভর্তি করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছে। এতে নির্মাণাধীন রাস্তাটি বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে এলাকাবাসী রাস্তার নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বালুবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধের দাবী জানান।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স হালিম ট্রেডার্সের সত্বাধিকারী আব্দুল হালিম সরকার বলেন, রাস্তায় সবেমাত্র সাববেইস কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এ রাস্তার উপর দিয়ে কোনভাবেই বালুবাহী ট্রাক বা ভারী যানবাহন চললে চলমান কাজের ক্ষতি হবে।
এলেঙ্গা পৌরসভার মেয়র নূর-এ-আলম সিদ্দিকী জানান, নির্মাণাধীন রাস্তায় বালুবাহী ট্রাক ও ভারী যানবাহন চলাচল করলে রাস্তার ক্ষতি হবে। ফলে পৌরসভার পক্ষ থেকে নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বালুবাহী ট্রাক ও ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধ দেওয়া হয়েছে।
কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাজমুল হুসেইন জানান, নির্মাণাধীন রাস্তার উপর দিয়ে বালুবাহী ট্রাক চলাচলে রাস্তার ক্ষতি হলে নিলামকৃত বালু বিকল্প রাস্তা দিয়ে অপসারণ করতে হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে কর্মরত র্যাব সদস্যরা মো. হাফিজুর রহমান (৪৫) নামে মানবপাচারকারী চক্রের এক সদস্যকে আটক করেছে।
মঙ্গলবার(১৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ঢাকা মহানগরের নয়াপল্টন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
আটককৃত হাফিজুর রহমান টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পোড়াবাড়ি(নাগবাড়ি) গ্রামের আ. ছাত্তারের ছেলে। মঙ্গলবার দুপুরে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে র্যাব-১৪ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
র্যাব-১৪ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল ক্যাম্পের অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়েরের নেতৃত্বে একদল র্যাব সদস্য মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা মহানগরের নয়াপল্টন এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযানে ৮টি পাসপোর্ট, দুইটি চেক বই, একটি ডেবিট কার্ড ও নগদ ১০ হাজার ১৬০ টাকা সহ লিবিয়ায় মানবপাচার চক্রের সদস্য মো. হাফিজুর রহমানকে আটক করে।
র্যাব আরও জানায়, মো. হাফিজুর রহমান তার গ্রামের লিটন নামে এক যুবককে ভালো বেতন ও থাকা-খাওয়ার সুবিধার নিশ্চয়তায় লিবিয়ায় পাঠায়। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর অজ্ঞাত কয়েক ব্যক্তি লিটনকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে তার বাবার কাছে তিন লাখ ২৫ হাজার টাকা দাবি করে। লিটনের বাবা আ. ছাত্তার ছেলের কথা ভেবে মো. হাফিজুর রহমানকে তিন লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি আ. ছাত্তারের ইমু নম্বরে লিটনকে মারপিটের ভিডিও পাঠায় এবং আরও ১৩ লাখ টাকা দিতে বলেন। অন্যথায় লিটনকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় লিটনের বাবা আ. ছাত্তার ঘাটাইল থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
পরে টাঙ্গাইলে কর্মরত র্যাব সদস্যরা অত্যধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অবস্থা শনাক্ত করে ঢাকা মহানগরের নয়াপল্টন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. হাফিজুর রহমানকে আটক করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বেড়ি বাইদ ইউনিয়নের শালবন থেকে অজ্ঞাত এক নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার শালবনের বড় বাইদ এতিমখানার পাশের উত্তর জাঙ্গালিয়া এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে মধুপুর থানা পুলিশ।
স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পূর্ব পাশের এলাকায় স্থানীয় লোকজন কাজে গেলে মরদেহটি দেখতে পায়। পরে পুলিশকে খবর দেয়।
অরুণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে অন্যস্থান থেকে এনে মরদেহটি এখানে ফেলে রেখে গেছে। উদ্ধারকৃত নারীর মুখ বিকৃত হয়ে গেছে। মরদেহে পচন ধরেছে। টাঙ্গাইল থেকে সিআইডি টিম এসে তদন্ত করবে।
তিনি আরো জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে যদি পরিচয় পাওয়া যায়, তাহলে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে এক প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ( ১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলা সদরের ঘিওরকোল গ্রামে ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। প্রবাসীর স্ত্রীর মৃত্য নিয়ে এলাকায় চলছে নানা গুঞ্জন।
নিহতের নাম হালিমা আক্তার (২৬)। তিনি উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের কোনড়া গ্রামের প্রবাসী মামুন মিয়ার স্ত্রী।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে উপজেলা সদরের ঘিওরকোল গ্রামের নজরুল ইসলামের বাসায় স্ত্রী নিয়ে প্রবাসী মামুন ভাড়া থাকেন। সোমবার দুপুরে স্ত্রীকে বাসায় রেখে চলে যান ওই প্রবাসী। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে হালিমা রুমের দরজা আটকে দেন। পাশে রুমেই কাজ করছিলেন হালিমার মা ও মেয়ে। দরজা আটকানো দেখে হালিমার মা তার খালাতো ভাই শরিফুলকে মুঠোফোনে ফোন করে ডেকে আনেন। পরে শরিফুল আসলে রুমের দরজা ভেঙ্গে তাকে উদ্ধার করে রাত ৯টার দিকে সিএনজি যোগে গ্রামের বাড়ি কোনড়া নিয়ে যান। পুলিশ খবর পেয়ে ওই রাতেই প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত হালিমার কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, তারা দরজা ভাঙ্গার শব্দ শুনে হালিমার বাড়ির গেটের সামনে আসলে মেয়ের মা ও তার খালাতো ভাই শরিফুল বাসার ভিতর ঢুকতে দেয়নি তাদের। পাশের আরেক ভাড়াটিয়াও জানেন না কি হয়েছে সোমবার বিকেলে। শুধু তারা তাদের বললো সে হার্ট এ্যাটাক করছে।
প্রবাসী মামুন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি কল কেটে দেন।
নিহত হালিমার মা কমলা বেগম জানান, তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তিনি আর কিছু বলতে পারবেন না।
নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, খবর পেয়ে সোমবার রাতেই লাশ উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) এ র্যাগিং এ জড়িত থাকার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ১৩ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পর্ষদ রিজেন্ট বোর্ডের ২৩ জানুয়ারির ২২৯তম সভায় কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০১৯- ২০২০ শিক্ষাবর্ষের নাফিসুজ্জামানকে (শিক্ষার্থী আইডি -সিই ২০০৩৮) পরবর্তী ৪ সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
এছাড়া মিসাইল হোসেন আসিফকে (শিক্ষার্থী আইডি সিই- ২০০৩৯) ২ সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। মো. ফাহিম আল হাসানকে (শিক্ষার্থী আইডি সিই -২০০৩০) ১ সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার, রাফিয়া জামান মুক্তিকে (আইডি সিই ২০০১৭) ১ সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার, মাহবুবা আক্তারকে (শিক্ষার্থী আইডি সিই ২০০১১) ১ সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার, রূপা রানীকে (শিক্ষার্থী আইডি-সিই ২০০২৫) ১ সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
উপরোক্ত ছয়জনের বাইরেও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের আরো সাত শিক্ষার্থীকে মুচলেকা দিতে বলা হয়েছে। তারা হলেন, আশিকুর রহমান আকিব (সিই-২০০০৯), হুসনে বানু বৃষ্টি (সিই- ২০০১৪), সৈয়দ মাহিদ ফয়সাল (সিই-২০০০৫), সিফাইত সারোয়ার (সিই-২০০৪২), নাইমুর রহমান (সিই-২০০০৬), ওয়াসিফ বিন জহির (সিই ২০০২২) ও মনির হোসাইন (সিই-২০০০২)।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পর্ষদ রিজেন্ট বোর্ড থেকে উপরোক্ত সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মোহা. তৌহিদুল ইসলাম।
প্রসঙ্গত, শাস্তিপ্রাপ্ত ১৩ জন শিক্ষার্থীই বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০১৯- ২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিম খানায় এক শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার(৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নের বেতুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ওই শিক্ষার্থী আল আমিন (২০) উপজেলার বেতুয়া মধ্যপাড়া গ্রামের শামছুল আলম ছেলে।
এ ঘটনায় ওই হাফেজিয়া মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অবহেলার অভিযোগে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
হাফেজিয়া মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মত আল-আমিন সবার সাথে রাতে খাবার খেয়ে শুয়ে পড়ে। সকালে সবাই ঘুম থেকে জেগে উঠলেও আল- আমিন ওঠেনি। ওই মাদ্রাসায় কর্মরত হাফেজ শিক্ষক খোঁজ নিয়ে দেখেন আল আমিন অসুস্থ। পরে অভিভাবকে মোবাইল ফোনে জানান। অভিভাবকেরা এসে ওই শিক্ষার্থীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
কালিয়ান হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার সভাপতি মো.আনোয়ার হোসেন জানান,আল আমিনের মৃগী রোগ ছিলো, ভোর রাতে আল আমিন অবস্থা গুরুতর জেনে ওর মাকে ডেকে এনে মাদরাসার তিনজন ছাত্রসহ সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেই। এমন গুরুতর অবস্থায় আল আমিনকে হাসাপাতালে পাঠানোর সময় শিক্ষক বা সচেতন কাউকে সাথে না পাঠানোর কারণ জানতে চাইলে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি।
নিহতের বড় ভাই মিনহাজ উদ্দিন জানান, আমার ভাই কোন অসুস্থ ছিলো না। হাফেজিয়া মাদ্রাসার সভাপতি মিথ্যা বলেছে। আমার ভাই সুস্থ ছিলো।মৃত্যুর পর আমার ভাইয়ের নাকের দুই ছিদ্রে রক্ত লেগে ছিলো।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বহেড়াতৈল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. উজ্জ্বল মিয়া জানান, পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের জন্য সম্মতি দিয়েছি।
এ ব্যাপারে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রেজাউল করিম জানান, এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুরের হাতকুড়া জামে মসজিদের ইমাম মুফতি সাইফুল ইসলামকে মারধরের ঘটনায় দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার হরতকীতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন-উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের হাতকুড়া গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের দুই ছেলে আসাদুজ্জামান আসাদ (৩৫) ও আশরাফুল ইসলাম কদম আলী (৩০)।
জানা গেছে, হাতকুড়া জামে মসজিদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কমিটির সঙ্গে বিরোধের জেরে ১৮ জানুয়ারি ওই দুই ভাই মসজিদের ইমাম মুফতি সাইফুল ইসলামের ওপর চড়াও হয়। স্থানীয় লোকজন এর প্রতিবাদ করলে তাদের ওপরও ক্ষিপ্ত হয় তারা। একপর্যায় ইমাম বাড়ি চলে যান। আসাদ ও কদম আলী গালিগালাজ করতে করতে ইমামের বাড়ি গিয়ে তাকে মারপিট করে এবং দাড়ি টেনে ছিঁড়ে ফেলে। এরপর ২০ জানুয়ারি মির্জাপুর থানায় মামলা করেন ভোক্তভুগি মুফতি সাইফুল ইসলাম।
এদিকে মামলা হওয়ার ১৫ দিনেও আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় কওমি ওলামা পরিষদ টাঙ্গাইল ও মির্জাপুর শাখার উদ্যোগে শনিবার (৪ জানুয়ারি) উপজেলার কুরনী জালাল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাবেশ করেন। সমাবেশে দুই ভাইকে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।
মির্জাপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এস এম মনসুর মুসা জানান, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে রোববার দিনগত রাতে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার হরতকীতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।