/ হোম / অপরাধ
টাঙ্গাইলে ভাতিজা বউয়ের শ্লীলতাহানির চেষ্টা ; জনতার হাতে মেম্বার আটক - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ভাতিজা বউয়ের শ্লীলতাহানির চেষ্টা ; জনতার হাতে মেম্বার আটক

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ভাতিজার বউয়ের সাথে অনৈতিক কাজ করতে গিয়ে সোমবার (৩০ জানুয়ারী) রাতে জনতার হাতে আটক সদর উপজেলার পোড়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাদের জোয়ারদার। পরে তাকে ঘরের খুঁটির সাথে বেঁধে রাখে জনতা। স্থানীয় ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ ছানোয়ার হোসেন জিম্বা হয়ে গভীর রাতে তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইতিপূর্বে অস্ত্রসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার নামে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। সোমবার রাত ১১টায় মদ্যপ অবস্থায় তার ২নং ওয়ার্ড থেকে ৯নং ওয়ার্ডে ভাতিজা বউয়ের শ্লীলতাহানি করতে যায়। এসময় ভাতিজা বউ বাধাঁ দিলে বল প্রয়োগ করে ও বাজে ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। উপায়ন্তর না দেখে নিজের সন্মান বাচাতে তাকে স্থানীয় এলাকাবাসির সহায়তায় বসত ঘরের বারান্দার খুঁটির সাথে বেঁধে রাখে। পরে ভোর হওয়ার আগেই ঐ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ ছানোয়ার হোসেন তার জিম্মায় শালিশী বৈঠকের কথা বলে তাকে ছাড়িয়ে নেন।

এদিকে ভাতিজা বউ রাতেই বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করলে কয়েক ঘন্টার মধ্যেই কাদেরকে গ্রেপ্তার করে টাঙ্গাইল সদর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শরিফ।

মামলার বাদী ভাতিজা বউ জানান, সে আমার সম্পর্কে চাচা শশুর। দির্ঘদিন ধরে সে আমাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলো মদ খেয়ে বাড়ীর সামনে এসে মাতলামী করতো। কেউ কিছু বলতে গেলে তাকে মারতে যেতো ভয়ে কেউ কাছে যেত না। ঘটনার দিন নিজের ইজ্জত বাচাঁতে তাকে স্থানীদের সহায়তায় জাপটে ধরে বসত ঘরের খুঁটির সাথে বেঁধে রাখি। পরে ছানোয়ার মেম্বার এসে রাত ৩টার দিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায় তাকে।

তিনি আরো জানান, পরে থানায় মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

পোড়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাদত হোসেন জানান, “পাপে ছারেনা বাপেরে” তাকে এর আগে অনেকবার শাসন করা হয়েছে। সে আসলে ভাল হবার নয়। এখন মামলা হয়েছে, পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে এখন আইনি প্রক্রিয়া যা হবার তাই হবে। তবে সুষ্ঠ বিচার হোক এটাই আমার কাম্য।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ছালাম মিয়া পি.পি এম জানান, বাদি নিজে এসে সশরীরে থানায় উপস্থিত হয়ে মামলা করলে আমরা বিষয়টি আমলে নিয়ে কয়েক ঘন্টার মধ্যেই অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০১. ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ০১:৩৪:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ভারতেশ্বরী হোমসের এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ভারতেশ্বরী হোমসের এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ভারতেশ্বরী হোমসের এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে মির্জাপুর থানা পুলিশ।

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে কুমুদিনী হাসপাতালের ইনসেন্টিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) থেকে শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেনে মির্জাপুর থানার উপ পরিদর্শক মো. মজিবর রহমান।

নিহত ওই শিক্ষার্থীর নাম মেহজাবিন সায়মা। তিনি ভারতেশ্বরী হোমসের দ্বাদশ শ্রেণী ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি নড়াইল জেলার নরাগাথি থানার কালিয়া উপজেলার জোগানিয়া গ্রামের কিয়ামত আলী সিকাদারের মেয়ে বলে জানা গেছে।

নিহত ওই ছাত্রীর বাবা মো. কিয়ামত সিকদার জানান, সোমবার দুপুর ২টার দিকে হোমস থেকে তাকে যত দ্রুত সম্ভব তাকে আসতে বলা হয়। হোমস কর্তৃপক্ষ জানায় তার মেয়ে বাথরুমের ঝর্ণার সাথে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তিনি মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় ভারতেশ্বরী হোমস কর্তৃপক্ষের অবহেলা রয়েছে বলে দাবি করেন।

তবে এ ব্যাপারে সরাসরি ও মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও হোমস কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি সোমবার দুপুরের পর থেকে ভারতেশ্বরী হোমসে প্রবেশাধিকারেও ছিলো কড়াকড়ি অবস্থান।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, সংবাদ পাওয়ার পর আমরা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ০১. ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ০১:৪৬:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, শাশুড়ি রিমান্ডে - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, শাশুড়ি রিমান্ডে

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে খাদিজা আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে হালিমন বেগম নামে এক শাশুড়িকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের রুপন কুমার দাস এ রায় দেন। হালিমন বেগম কালিহাতী উপজেলার কোকডহরা ইউনিয়নের কুটুরিয়া গ্রামের আমির আলীর স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাড়ে চার বছর আগে হালিমন বেগমের ছেলে সৌদি প্রবাসী আবু হানিফের সাথে পার্শ্ববর্তী বলদী গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে খাদিজার বিয়ে হয়। তাদের ঘরে আড়াই বছরের এক ছেলে সন্তানও রয়েছে। খাদিজাকে তার শাশুড়ি বিভিন্নভাবে অত্যাচার করতেন। হত্যার দুই দিন আগে শাশুড়ির খাদিজার স্বর্ণের চেন হারানো নিয়ে নিয়ে ঝগড়া হয়। গত বছরের ২৯ মে সকালে খাদিজা আক্তার রোববার সকালে স্ট্রোক করেছে বলে খাদিজাকে হাসপাতালে নিয়ে যান তার শাশুড়ি। বিষয়টি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হলে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। পরে ওই দিন কালিহাতী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়।

গত বছরের ২৫ নভেম্বর ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার পর নিহত খাদিজা আক্তারের ভাই শফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে কালিহাতী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় শাশুড়ি বাছিরন বেগমকে প্রধান আসামি করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালিহাতী থানার এসআই আলামিন বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে শাশুড়ি পলাতক ছিলেন। রোববার সন্ধ্যায় বিশেষ গাড়ি করে রাজশাহী থেকে কুমিল্লা যাওয়ার পথে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাশ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার দুপুরে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠালে বিচারক দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তিনি আরও বলেন, এ মামলায় খাদিজার ননদ কমলা বেগম ও প্রতিবেশি মনা বেগম গ্রেপ্তারের পর জামিনে মুক্ত রয়েছেন। এছাড়াও শ্বশুর আমির আলী ও প্রতিবেশি রফিকুল ইসলাম পলাতক রয়েছে। অপর আসামি প্রতিবেশি মোন্নাব কারাগারে রয়েছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩১. জানুয়ারী ২০২৩ ০৬:০৭:পিএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে কথিত জ্বীনের বাদশাসহ গ্রেপ্তার ৫ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে কথিত জ্বীনের বাদশাসহ গ্রেপ্তার ৫

একতার কণ্ঠঃ বন রক্ষীদের কাছ থেকে কাঠ বোঝাই গাড়ি ও গুলি ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিন বনদস্যুকে আটক করেছে র‌্যাব। একইসঙ্গে কথিত জ্বীনের বাদশাসহ দুই প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব-১৪ সিপিসি-৩ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের জানান, গত ২৫ জানুয়ারি গভীর রাতে টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলের অরণখোলা এলাকায় গজারী গাছ কেটে তা পাচার করছে বলে গোপন সংবাদ পান বন কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম। এরপর বন রক্ষীদের নিয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পৌছে বাঁধা দিলে ২৫/৩০ জন বনদস্যু তাদের বেদম মারপিট করে। এ সময় বনকর্মকর্তার কাছে থাকা রাইফেলের চার রাউন্ড গুলি ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওইদিন মধুপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

পাঁচদিন পর র‌্যাব সদস্যরা টাঙ্গাইল ও গাজিপুরের বিভিন্ন স্থান থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তবে ছিনতাই হওয়া গুলি এখনও উদ্ধার করা যায়নি।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার ভুটিয়া গ্রামের কুরবান আলীর ছেলে শাহাদত আলী (৩৫), একই এলাকার ছোরহাব ভূইয়ার ছেলে মালেক (৪২) ও একই এলাকার আব্দুল কদ্দুসের ছেলে মো: সাইদুল ইসলাম (৩০)।

একই দিনে কথিত জ্বীনের বাদশাসহ দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভুতিকে কাজে লাগিয়ে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। র‌্যাব-১৪ এবং র‌্যাব-৮ এর যৌথ অভিযানে কথিত জ্বীনের বাদশা ও তার সহযোগীকে ভোলা জেলার বোরহান উদ্দিন থানার চকঢোষ গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, একই জেলার চকঢোষ গ্রামের আবুল কাশেম মাতাব্বরের ছেলে মো. আকবর আলী ও জলির মাতব্বরের ছেলে মো. মিরাজ হোসেন।

র‌্যাব -১৪ এর ৩নং সিপিসি কমান্ডার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের সংবাদ সম্মেলনে আরও জানান, টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার ছিলিমপুর গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে কথিত জ্বিনের বাদশা আকবর আলী। ধর্মীয় নানা প্রভোলন দেখিয়ে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে সাত লাখ টাকার বেশী হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ওই প্রবাসীর স্ত্রী বাদি হয়ে কাালিহাতী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে র‌্যাব সদস্যরা প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩১. জানুয়ারী ২০২৩ ০২:৩১:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে পাহাড়ি টিলা কাটার অপরাধে গ্রেপ্তার ৮ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে পাহাড়ি টিলা কাটার অপরাধে গ্রেপ্তার ৮

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই-সখিপুর সড়কের পাঁচগাও গ্রামের হোসেন মার্কেট এলাকায় রাতের আধারে ভেকু মেশিন(মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে অবৈধভাবে পাহাড়ি টিলার মাটিকাটার অপরাধে আট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এসময় মাটি বোঝাই পাঁচটি ড্রাম ট্রাকও জব্ধ করা হয়। শনিবার(২৭ জানুয়ারি) রাতে টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি দল থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক বিপ্লব কুমার সূত্রধর বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন- মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই গন্ধব্যপাড়া গ্রামের বিপ্লব সরকার(২৫), আজগানা গ্রামের নাহিদ সিকদার(১৫), গোড়াই সৈয়দপুর গ্রামের জালাল মিয়া(৪৫), বেলতৈল গ্রামের ফারুক মোল্লা(২৪), একই গ্রামের খাইরুল ইসলাম(২১), আলামিন(২৪), গাজীপুর জেলার টঙ্গি থানার পলাসোনা গ্রামের মামুন মিয়া(২৮) ও গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি থানার তালুক ঘোড়াবান্ধা গ্রামের মো. মাজু শেখ(২৭)।

গ্রেপ্তারকৃতরা উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের গায়রাবেতিল ও তরফপুর ইউনিয়নের টাকিয়া কদমা নয়াপড়া সাকিন্থ জনৈক শবদের মেম্বারের বাড়ির দক্ষিণ পাশের পাহাড়ি টিলা থেকে ভেকু মেশিন(মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে মাটি কেটে ড্রাম ট্রাকের মাধ্যমে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করছিল।

টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক বিপ্লব কুমার সূত্রধর জানান, রাতের আধারে ভেকু মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে পাহাড়ি টিলার মাটিকেটে তারা পরিবেশ ধবংস করছিল। তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ৬ (খ) এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এর ৫ (১) ধারা লঙ্ঘন করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মির্জাপুর থানার পরিদর্শক(তদন্ত) মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, গ্রেপ্তারকৃত আটজনকে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে।

 

সর্বশেষ আপডেটঃ ৩০. জানুয়ারী ২০২৩ ০৫:০৭:পিএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে স্কুলছাত্রী’র আত্মহত্যা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে স্কুলছাত্রী’র আত্মহত্যা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে হিয়া আক্তার (১২) নামে এক স্কুলছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে মির্জাপুর পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ডের কাঁচাবাজার সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম।

হিয়া আক্তার উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের হিলরা গ্রামের ইতালী প্রবাসী মো. হাশেম মিযার মেয়ে। সে মির্জাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল বলে জানা গেছে।

হিয়া তার মায়ের সঙ্গে মির্জাপুর কাঁচাবাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতো।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানা যায়, শুক্রবার সকালে হিয়ার মা সেলিনা আক্তার তাকে বাসয় রেখে বাজারে কেনাকাটা করতে যান। বাজার থেকে ফিরে বাসার প্রধান দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখে অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে পাশের বাসার লোকজনের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে দেখা যায় হিয়া তার নিজের কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় উড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে।

মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন , স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যার কোনো কারণ জানা যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. জানুয়ারী ২০২৩ ০২:০১:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ট্রাক্টরের চাপায় কৃষকের মৃত্যু - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ট্রাক্টরের চাপায় কৃষকের মৃত্যু

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ট্যাফে ট্রাক্টরের চাপায় আব্দুল হালিম (৮০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের চকদই চাকলাদারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত হালিম মিয়া হুগড়া ইউনিয়নের কৃষ্টনগর গ্রামের মৃত মানিক উল্লাহর ছেলে।

জানা যায়, আব্দুল হালিম সকালে তোরাপগঞ্জ বাজারে শীতকালীন সবজি কপি বিক্রি করে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি চকদই চাকলাদারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছলে একটি ট্যাফে ট্রাক্টর পেছন থেকে তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা অবৈধ বালু উত্তোলন ও ট্যাফে ট্রাক্টর বন্ধ এবং চালক ও হেলপারের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে।

কাতুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন জানান, ‘আমার ইউনিয়নে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব বালু অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি অবৈধ ট্যাফে ট্রাক্টরের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। এসব ট্রাক্টরের চালকদেরও লাইসেন্স নেই। গত বছরও অবৈধ ট্যাফে ট্রাক্টরের নিচে চাপা পড়ে একজন মারা গেছেন। এসব বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

কাগমারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শেখ শাহিনুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৮. জানুয়ারী ২০২৩ ০১:২৮:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বন রক্ষীদের কাছ থেকে কাঠ বোঝাই গাড়ি ও গুলি ছিনতাই - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বন রক্ষীদের কাছ থেকে কাঠ বোঝাই গাড়ি ও গুলি ছিনতাই

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে গজারী কাঠ বোঝাই গাড়ী ও বিট কর্মকর্তাদের ৪ রাউন্ড গুলি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৫ জানুয়ারি) গভীর রাতে উপজেলার অরণখোলা বিট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে দশ জনের নাম উল্লেখ করে ও ১৩ জন অজ্ঞাত নামা ব্যক্তিদের নামে মধুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন দোখলা বিট কর্মকর্তা মো. হামিদুল ইসলাম।

অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার ভুটিয়া গ্রামের নুর আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম(৩৫), একই গ্রামের সাহাদ আলী(৩২) ও স্বপন (৩০), ছোরহাব মিয়ার ছেলে মালেক (৪২), আব্দুস ছালামের ছেলে কালাম(৩৫), কুদ্দুসের ছেলে সাইদুল ইসলাম(৩০), ফরিদ মিয়ার ছেলে আল আমিন, বাদশা তালুকদারের ছেলে রুবেল (২৮),অরণখোলা গ্রামের আলী মন্ডলের ছেলে আবুল কালাম(৪৫), পিরোজপুর গ্রামের আব্দুল ছালাম(৪৫) , হাসিস, জব্বার মিয়া।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, বুধবার (২৫ জানুয়ারি) গভীর রাতে বনদস্যুরা উপজেলার অরণখোলা বিটের গজারী গাছ কেটে গাড়ী যোগে পাচার করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিত্বে ফরেস্টগার্ড নিয়ে বিট কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম ভুটিয়া চৌরাস্তার পাশে অবস্থান নেন। গজারী কাঠ বোঝাই গাড়ীটিকে আটক করলে পিছন থেকে বনদস্যুরা ওই বন কর্মকর্তাদের আক্রমন করে গাড়ীটি ছিনতাই করেন। এ সময় ফরেষ্টগার্ডদের কাছে থাকা চায়না রাইফেলের বাট ভেঙ্গে ৪ রাউন্ড গুলি ছিনিয়ে নেয়।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদুজ্জামান জানান, ইতিমধ্যে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আশাকরি, খুব দ্রুতই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবে।

মধুপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মুরাদ হোসেন জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. জানুয়ারী ২০২৩ ০৩:৪৬:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে মাদক সেবন করে মাতলামি করার অভিযোগে মোস্তফা কামাল (২৬) নামে এক যুবককে এক বছরের সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আলম আদালত বসিয়ে এ সাজা দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মোস্তফা কামাল উপজেলার গড়গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মোস্তফা কামাল এলাকায় একজন চিহ্নিত মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত। সে মাঝেমধ্যেই মাদক সেবন করে তার ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ ছাড়াও মাতাল অবস্থায় স্থানীয় লোকদের মারধর ও বকাবকি করে। বুধবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে মাদক সেবন করে মোস্তফা কামাল তার মাকে মারধর করে। স্থানীয়রা তাকে ধরে এনে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করেন। পরে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত মোস্তফা কামালকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও ফারজানা আলম জানান, মাদক সেবন করে মাতলামি করার দায়ে তাকে এক বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।

সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাউদ্দিন
জানান, বুধবার দুপুরের দিকে মোস্তফা কামালকে টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৬. জানুয়ারী ২০২৩ ০২:১২:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের হামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের দুই সদস্য আহত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের হামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের দুই সদস্য আহত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত শামছুল হক সেতুর আশপাশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দেলদুয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র দুই সহযোগী নিরাপত্তা কর্মী রাজু আহম্মেদ ও এলাসিন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) শাহাদত হোসেন।

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার উদ্যোগ নিলে এ হামলা চালান অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা।

দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করে দিচ্ছে একটি প্রভাবশালী একটি চক্র। এ ব্যাপারে একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রশাসন। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই মাটি উত্তোলনকারীরা টের পেয়ে তাদের সরঞ্জাম নিয়ে চলে যায়। ফলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার দুপুরে মাটি কাটা বন্ধ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) সূচি রানী সাহা তার টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে রওনা দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই শামছুল হক সেতুর টোল প্লাজার উত্তর পাশের সড়কে মাটি উত্তোলনকারীরা লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) সূচি রানি সাহা অক্ষত থাকলেও তার দুই সহযোগী নিরাপত্তা কর্মী রাজু আহম্মেদ ও এলাসিন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) শাহাদত হোসেন গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা কাঠের চলা ও লাঠি দিয়ে তাদের বেধড়ক পেটায়। এক পর্যায়ে তারা অজ্ঞান হয়ে পড়লে হামলাকারীরা চলে যায়। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা আলী বলেন, ঘটনা জানার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি বহনের কাজে নিয়োজিত ২টি ট্রাক আটক করা হয়েছে। এ সময় ট্রাকের চালকরা পালিয়ে যাওয়ায় থানা পুলিশের সহায়তায় রেকারের মাধ্যমে ট্রাক ২টিকে প্রশাসনের হেফাজতে নেয়া হয়েছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৫. জানুয়ারী ২০২৩ ০৩:৩৮:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে মেয়ের খুনি বাবা, জানা গেল ৭ বছর পর - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মেয়ের খুনি বাবা, জানা গেল ৭ বছর পর

একতার কণ্ঠঃ নিজের পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করেছিলেন টাঙ্গাইলের কালিহাতীর পারুল আক্তার। তাঁর বাবা সেই বিয়ে মেনে নেননি। ঢাকা জেলার আশুলিয়া এলাকায় এসে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি শুরু করেন পারুল ও তাঁর স্বামী নাছির উদ্দিন ওরফে বাবু। দুজন যা বেতন পেতেন, তা দিয়ে তাঁদের সংসার খুব ভালোভাবে চলত না। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝেমধ্যেই ঝগড়া হতো। বিয়ের তিন বছর পর ঝগড়া করে স্ত্রীকে বাসায় রেখে বেরিয়ে যান নাছির। পারুল তাঁর বাবাকে ফোন করে পারিবারিক অশান্তির কথা বলেন।

মেয়ের প্রতি ক্ষুব্ধ বাবা মেয়েকে বাড়ি ফিরতে বলেন। বাবার কথায় স্বামীর সংসার ছেড়ে গ্রামে চলে যান পারুল। এবার ক্ষুব্ধ বাবা নিজের ও পরিবারের অসম্মান করায় মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পারুলের বাবা আ. কুদ্দুস খাঁ মেয়েকে ভালো ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে টাঙ্গাইল থেকে জয়পুরহাটে নিয়ে যান। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুদ্দুসের সঙ্গে তাঁর বন্ধু মোকাদ্দেছ ওরফে মোকা মণ্ডলও যান।

সেখানে যাওয়ার পর জয়পুরহাটের পাঁচবিবি এলাকায় একটি নদীর পাশে নির্জন জায়গায় রাতের অন্ধকারে পারুলকে তাঁর বাবা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। পরে মোকাদ্দেছের সহযোগিতায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেন।

২০ জানুয়ারি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মেয়ে হত্যার এমন লোমহর্ষক, বর্বরোচিত বিবরণ তুলে ধরেন আ. কুদ্দুছ খাঁ। তিনি এখন কারাগারে। তাঁর দেওয়া জবানবন্দি আজ রোববার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। এ সংবাদ সম্মেলন হয় ধানমন্ডিতে পিবিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে।

পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার বলেন, পারুল সব ভাইবোনের মধ্যে মেধাবী ছিলেন। স্কুলে তাঁর রোল নম্বর ছিল ২। দেখতেও ছিলেন সুন্দরী। বাবা কুদ্দুসের স্বপ্ন ছিল মেয়েকে শিক্ষিত করবেন। কিন্তু নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় পালিয়ে বিয়ে করায় বাবা ক্ষুব্ধ হন।

বনজ মজুমদার বলেন, তখন থেকেই কুদ্দুসের পরিকল্পনা ছিল মেয়ে তাঁকে যে অসম্মান করেছে, তাতে তার বেঁচে থাকার অধিকার নেই। মেয়ের বিয়ের তিন বছর পর সেই সুযোগ পেয়ে তিনি তাঁর বন্ধুর সহযোগিতায় মেয়েকে হত্যা করেন। কুদ্দুসের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোকাদ্দেছকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে বনজ কুমার মজুমদার বলেন, মেয়েকে হত্যার পর কুদ্দুসের মধ্যে আরেকটা বিষয় কাজ করছিল যে তাঁর মেয়ের এই পরিণতির জন্য নাছির দায়ী। তাঁকেও শাস্তি দিতে হবে। তাই মেয়ের জামাইকে ফাঁসাতে একের পর এক মামলা করেছেন তিনি। রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারায় থানা–পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআই পুলিশ প্রতিবেদন দেন। মেয়ের বাবাও বারবার নারাজি দেন।

পিবিআই জানায়, পারুলের বাবা শুরুতে অপহরণ ও গুমের মামলা করলেও সর্বশেষ তিনি আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। সেই মামলার তদন্ত আবার পিবিআইকে দেওয়া হয়। তদন্তে নেমে ২০১২ সালে মেয়ের বাবার করা সাধারণ ডায়রিতে দেওয়া একটি ফোন নম্বরের সূত্র ধরে এ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়।

পিবিআই জানায়, মেয়েকে হত্যার পর নাছিরকে শাস্তি দিতে দীর্ঘ সাত বছর ধরে তিনি মামলা চালিয়েছেন। এর জন্য তিনি নিজের জমিও বিক্রি করেছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. জানুয়ারী ২০২৩ ০২:৪৪:এএম ৩ বছর আগে
টাঙ্গাইলে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী গ্রেপ্তার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী গ্রেপ্তার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী জহিরুল ইসলাম (৬৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

সোমবার(২৩ জানুয়ারি) ভোর রাতে ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রায় ঘোষণার পর থেকে তিনি ২ বছর ধরে পলাতক ছিলেন।

জহিরুল ইসলাম নাগরপুর উপজেলার মীর কুটিয়া গ্রামের মৃত জলিল মিয়ার ছেলে।

এ প্রসঙ্গে র‌্যাব-১৪ সিপিসি-৩ এর কোম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের জানান, ২০১৩ সালের টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকায় আউয়াল নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। ওই বছরের ১ আগস্ট মির্জাপুর থানার এসআই শ্যামল কুমার দত্ত বাদি হয়ে হত্যা মামলায় জহিরুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে চার জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক জহিরুল ইসলামকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করেন। মামলা চলাকালে জহিরুল ইসলাম পালিয়ে যান।

তিনি আরো জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া এলাকা থেকে জহিরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোমবার সকালে জহিরুলকে মির্জাপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. জানুয়ারী ২০২৩ ০১:২৬:এএম ৩ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।