একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে অবরোধ কর্মসূচি থেকে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের ৬ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৫ নভেম্বর) সকালে সদর উপজেলার করটিয়া বাইপাস এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তারা হলেন, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব ও মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নাতি মাহমুদুল হক সানু, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মাহবুবুল আলম শাতিল, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব এম এ বাতেন, যুগ্ম আহ্বায়ক রাইসুল ইসলাম রুবেল, জেলা মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব মোস্তফা কামাল ও বিএনপি নেতা মো. সাদন।
এছাড়া শহর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহীন আকন্দকে টাঙ্গাইল পৌর শহরের পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়া এলাকার নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবু সালাম মিয়া জানান, গত ২৯ অক্টোবর টাঙ্গাইল সদর থানায় দায়েরকৃত একটি নাশকতার মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আদালতের মাধ্যমে তাদের টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, শনিবার (৪ নভেম্বর) রাত থেকে এ পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা বিএনপি’র নেতাকর্মী কিনা বিষয়টি তার জানা নেই।
প্রসঙ্গত, মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নাতি মাহমুদুল হক সানু গত ২ বারের টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়া তিনি মাওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে সোনালী ব্যাংক গোবিন্দাসী শাখায় গ্রাহকের সঞ্চয়পত্রের ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে ম্যানেজার শহিদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
আত্মসাতের এসব টাকা সোনালী ব্যাংক গোবিন্দাসী শাখায় তার ভাই, বন্ধুর শাশুড়ি সহ একাধিক একাউন্টের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছে বলে ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। এই ঘটনায় সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও টাঙ্গাইল প্রিন্সিপাল কার্যালয় হতে আলাদা আলাদাভাবে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানাগেছে, শহিদুল ইসলাম ম্যানেজার হিসেবে সোনালী ব্যাংক গোবিন্দাসী শাখায় ২০২০ সালে যোগদান করে। এরপর দীর্ঘ ৩ বছর ২ মাস কাজ করেন সেখানে। এই দীর্ঘ সময়ে তথ্য প্রযুক্তিতে মেধাসম্পন্ন শহিদুল ইসলাম কৌশলে ব্যাংকের ১৩০ জনের সঞ্চয়পত্রের টাকা লুজ চেকের (জরুরী উত্তোলনের জন্য একক পাতা) মাধ্যমে অন্য একাউন্টে ৫ কোটি ১১ লাখ টাকা সরিয়েছেন। এছাড়া উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের হত দরিদ্রদের ভাতার ৬ লাখ ৮১ টাকাও গায়েব করা হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম তার বড় ভাই ঘাটাইল উপজেলার লোকেরপাড়া গ্রামের মহির উদ্দিন তালুকদারের এগ্রো ফার্ম ও কালিহাতি উপজেলার আদাবাড়ি গ্রামের খালেদা বেগম নামে পলাশ এগ্রো ফার্মেও একাউন্টসহ তার বন্ধু বান্ধবদের একাউন্টের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করেন।
খালেদা বেগমের মেয়ের জামাই পটুয়াখালী জেলায় দুদকের উপ-পরিচালক মামুন চৌধুরীর সাথে শহিদুল ইসলামের বন্ধুত্বের কারণে ওই হিসাব নম্বর ব্যবহার করে টাকা সরানোর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় সোনালী ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে গোবিন্দাসী শাখা হতে ঋণের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন শহিদুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী গ্রাহক উপজেলার কয়েরা গ্রামের মর্জিনা জানান, মেয়েদের বিয়ে দেয়ার জন্য জমিজমা বিক্রি ও অন্যান্য মিলিয়ে ২১ লাখ টাকা ব্যাংকে সঞ্চয়পত্রে রেখেছিলাম। কিন্তু পরে লভ্যাংশ তুলতে গিয়ে দেখি সঞ্চয়পত্রে টাকাই জমা হয়নি। ব্যাংক ম্যানেজার কৌশলে অনেক গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করেছে।
রুহুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শেফালী বেগম জানান, রক্ষক যদি ভক্ষক হয় তাহলে কি করবো আমরা। কয়েক মাস লাভের টাকা তুলেছিলাম। ম্যানেজার শহিদুলকে বদলি করার পর ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারি আমার সঞ্চয়পত্রই খোলা হয়নি। প্রতিকার চেয়ে ইউএনওর কাছে অভিযোগ দিয়েছি।
তালুকদার এগ্রো ফার্মেও স্বত্বাধিকারী মহির উদ্দিন বলেন, ব্যাংকে একাউন্ট করার পর ৭ লাখ টাকা ঋণ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই ঋণের টাকাসহ জমি বন্ধক রেখে ভাইকে (শহিদুল) আরও দুই লাখ টাকা দিয়েছি। একাউন্টে কয় টাকা আছে বা নেই আমি কিছুই জানিনা। চেকের পাতাগুলোতে স্বাক্ষর নিয়ে রেখেছিল সে।
পলাশ এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী খালেদা বেগম বলেন, একাউন্টের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কত টাকা আছে বা নাই। মেয়ের জামাই মামুন চৌধুরীই একাউন্টে লেনদেন করতো তার লোকজন দিয়ে। ব্যাংক ম্যানেজার শহিদুল তার বন্ধু ছিল। তাই গোবিন্দাসী শাখায় একাউন্ট খোলা হয়েছিল। ঝামেলার কারণে দেড় মাস আগে একাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছি।
পটুয়াখালী জেলার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক মামুন চৌধুরী বলেন, শহিদুলের সাথে ঢাকায় পড়াশুনার সুযোগে পরিচয় হয় তাঁর। পরিচিত হওয়ায় তার ব্যাংকে একাউন্ট খোলা হয়েছে শাশুড়ির নামে।
বিভিন্ন সময় ব্যাংকে লেনদেন করা হয়েছে। শাশুড়ির একাউন্টেতো নগদ টাকা জমা দেয়া হয়েছে কিন্তু সেখানে যদি ম্যানেজার অন্য একাউন্ট থেকে টাকা তার একাউন্টে জমা দিয়ে উত্তোলন করে তাহলে কিছু করার নেই।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম বলেন, ম্যানেজারের আইডি হ্যাক করে ব্যাংকের লোকজন টাকাগুলো আত্মসাৎ করে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমাকে বদলি করার পর আমার আইডি ব্যবহার করে টাকা সরানো হয়েছে। সঞ্চয়পত্রের কাগজপত্রগুলো ব্যাংকের পিয়ন লাভলুর বাড়িতে পোড়ানো হয়েছে। এছাড়া এখনও গ্রাহকদের সঞ্চয়পত্রের টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
সোনালী ব্যাংক গোবিন্দাসী শাখার ম্যানেজার ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, যেহেতু তদন্ত হচ্ছে সেহেতু এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করা যাবে না। প্রতিদিনই ভুক্তভোগী গ্রাহকরা ব্যাংকে ভিড় করছেন টাকা ফেরতের জন্য।
সোনালী ব্যাংক প্রিন্সিপাল অফিস ঘাটাইলের ডিজিএম আব্দুল্লাহ ফয়সাল বলেন, গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম দোষ স্বীকার করায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রধান কার্যালয় তদন্ত করছে। অন্যদিকে দুদকে একটি মামলা হয়েছে। গ্রাহকদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা টাকা ফেরত পাবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে । শনিবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে বঙ্গবন্ধু রেল সংযোগ সড়কের মির্জাপুর উপজেলার ধেরুয়া রেল ক্রসিং এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নাজমা বেগম (৩২) গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার রায় গ্রামের হামিদুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি গোড়াই উত্তর নাজিরপাড়া এলাকার আব্দুর রহিমের বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করতেন। সে গোড়াই শিল্পাঞ্চলে নাহিদ কটন মিলে কর্মরত ছিলেন।
গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ড সদস্য মো. আদিল খান জানান, নাজমা বেগম ওই এলাকায় শাক তুলতে গেলে ট্রেন লাইন পারাপারের সময় ঢাকাগামী স্পেশাল-৭ ট্রেনে কাটা পড়েন। তিনি ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। খবর পেয়ে গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে থানার এএসআই শাহ আলম এসে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মির্জাপুর ট্রেন স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার রকিবুল হাসান জানান, ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবার থেকে কোনো বাদী না থাকায় লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে রেলওয়ে থানায় একটি ইউডি মামলা করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হলে বোনের (প্রধানমন্ত্রী) কাছে সুপারিশ করার আশ্বাস দিয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম)।
শনিবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে পাইলট গভর্নমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এমন কথা বলেন।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘ইংল্যান্ডে অবস্থান করছেন আমাদের তারেক রহমান। আমি সেদিনও বলেছি—আরে বাবা, তোমার মা বৃদ্ধ, যেকোনো সময় মারা যেতে পারেন। দেশে এসে তাঁকে সেবা করো। তোমাকে যদি গ্রেপ্তার করে, তাহলে বোনকে (প্রধানমন্ত্রী) আমি সুপারিশ করব, তাঁর মাকে সেবা করার জন্য যেতে দেন। সাহস আছে?’
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি (তারেক) ইংল্যান্ডে বসে বসে ষড়যন্ত্র করছেন। বাঙালি ষড়যন্ত্র হজম করতে জানে। ইনশাআল্লাহ আমরা এই ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করব।’
বিএনপি’র উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে বীর উত্তম কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘বিএনপিতে কি মুসলমান নেই? ইসরায়েল ফিলিস্তিনের মুসলমান শিশু মারছে, বৃদ্ধ মারছে আর আমেরিকা বলছে—তারা যতক্ষণ পর্যন্ত গাজা উড়িয়ে দিতে না পারবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ইসরায়েলের পক্ষে থাকবে। সেই পক্ষে বিএনপি?’
কাদের সিদ্দিকী আবারও প্রশ্ন করেন, ‘বিএনপিতে কি দুই-একজনও মুসলমান নেই? আমি তো মনে করি মুসলমান নেই।’
কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা ৩০০ আসনে নির্বাচন করব। বোনকে (প্রধানমন্ত্রী) বলি—জনগণ যাতে ভোট দিতে পারে, সেই ব্যবস্থা করেন। নির্বাচনে বিএনপি আসলো কি আসলো না, এটা আমাদের দরকার নাই। আমেরিকার ভোট আমাদের দরকার নাই।’
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘সেদিন দেখলাম নির্বাচন কমিশন চিঠি দিয়েছে, আপনারা দুজনে আমাদের সঙ্গে দেখা করেন।’ এ সময় ধমকের সুরে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন কমিশনার, রাজনৈতিক দল কি আপনার কাছে চাকরবাকর? রাজনৈতিক দল হচ্ছে আপনার কাছে মুনিব। দেশে সঠিক রাজনৈতিক দল না থাকলে, আপনার নির্বাচন কমিশন থাকবে না। যখন ইচ্ছা হলো ডেকে পাঠাবেন? তারা কি আপনার বেতনভোগী কর্মচারী? ডাকলে সম্মানের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডাকতে হবে।’
সম্মেলনে কাদের সিদ্দিকীর বড় ভাই সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘বিরোধী দলের যারা আজকে ফুসফুস করছে, তারা কারা, কী তাদের পরিচয়, আমরা কি ভুলে গেছি? আমেরিকা ছাড়া তাদের গন্তব্য নেই। ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েল ইতিমধ্যে প্রায় ১০ হাজার শিশু-নারী হত্যা করেছে, আর বাইডেন বলছে—হামাসকে যতক্ষণ নির্মূল করা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি হবে না। সেই আমেরিকার প্রতি যাদের আনুগত্য, তারা কারা?’
লতিফ সিদ্দিকী আরও বলেন, ‘তাদের বাপ-দাদারাও ওই আমেরিকার প্রতিই অনুগত ছিল। একাত্তরেও তারা আমাদের কাছে পরাজিত হয়েছে, আজও তারা পরাজিত হবে, তাতে কোনো সন্দেহ করি না।’
সম্মেলনে উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আব্দুস সবুর খানের সভাপতিত্বে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কায়সার চৌধুরী, বেগম নাসরিন কাদের সিদ্দিকী, দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার খোকা (বীর প্রতীক), সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, কাদের সিদ্দিকীর সহোদর শামীম আল মনসুর আজাদ সিদ্দিকী, সংগীতশিল্পী নকুল কুমার বিশ্বাস, সখীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন সজীব, যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুন্নবী সোহেল প্রমুখ বক্তব্য দেন।
একতার কণ্ঠঃ গৃহবধূ শরিফা আক্তার শিল্পী অসুস্থতার ভান করে রোগী সেজে তাঁরা ৫জন বাড়ি যাওয়ার জন্য অটোরিক্সা ভাড়া করে। তাঁরা অটোরিক্সা নিয়ে সখিপুর উপজেলার কালমেঘা নামকস্থানে পৌঁছে চালক আমিনুল ইসলামকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে।
পরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের বেলতলী বনের ভেতর রেখে অটোরিক্সা ছিনতাই করে নিয়ে যায় আসামিরা। শুক্রবার (৩ নভেম্বর) সকালে জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার টাঙ্গাইলের চাঞ্চল্যকর অটোরিক্সা চালক আমিনুল ইসলাম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ৪ আসামির বরাত দিয়ে জানান, গ্রেপ্তারকৃত ৪ জনই আন্ত:জেলা অটোরিক্সা ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। তাদের নেটওয়ার্ক দেশজুরে বিস্তৃত। তাদের অপর এক সদস্য এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ৪ জনের নামে বিভিন্ন থানায় ৮-১০টি করে মামলা রয়েছে। তারা সকলেই ভিন্ন ভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। ইতোপূর্বে জেল-খানায় তাদের মধ্যে আলাপ-পরিচয় এবং জেলখানার বাইরে পুনরায় একত্রিত হয়ে অটোরিক্সা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা হয়। অন্যান্য জেলায় তাদের আরও সদস্য রয়েছে। শুধুমাত্র অটোরিক্সাটি ছিনতাইয়ের জন্যই চালক আমিনুল ইসলামকে হত্যা করা হয়।

পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার আরও জানান, ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর বিধায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকষ টিম তদন্তে নামে। টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইমস অ্যান্ড অপস) মো. শরফুদ্দীনের নেতৃত্বাধীন টিম গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) দিনগত রাতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৪ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন- লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জের মনিরুল ইসলামের স্ত্রী শরিফা আক্তার শিল্পী (৩৬), পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার মৃত এনামুল হকের ছেলে বাহার হোসেন কাজল মোল্লা ওরফে হুমায়ুন কবির হেলাল (৫৭), টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ঘেঁচুয়া গ্রামের আ. রহমান মিয়ার ছেলে খোকন মিয়া (৩৬) ও নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার দত্তেরগাঁও ভিটিপাড়া গ্রামের মৃত ছালাম খানের ছেলে মোখলেছুর রহমান মুকুল (৫৪)।
পুলিশ সুপার জানান, চৌকষ টিমটি প্রথমে শরিফা আক্তার শিল্পীকে গাজীপুরের কাশিমপুর ঢালাইসিটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক অন্য ৩ জনকে ভিন্ন ভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের অপর সঙ্গী মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের ৭ দিন করে রিমান্ড আবেদন সহ আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
প্রকাশ, গত ২৮ অক্টোবর টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালমেঘা এলাকার একটি আকাশমনি বাগানে অটোরিক্সা চালক আমিনুল ইসলামকে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য বেলতলী বনের ভেতর ফেলে রেখে যায়। পরে ২৯ অক্টোবর সখীপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, আজকে দেশে একটি রাজনৈতিক দল উন্মাদনা এবং আগুন সন্ত্রাস করছে৷ নির্বাচন করতে দিবে না, সংবিধান অনুযায়ী দেশ চলবে না৷ আমি মনে করি, তারা দেশের মঙ্গল ও কল্যাণ চায় না৷ তারা বিগত সময়ে যেভাবে আগুন দিয়েছিল তা বর্বরোচিত। আমরা দেখেছি ১৪ থেকে ১৫ সালে তারা গাড়ি পুড়িয়েছে, রেল লাইন তুলেছে, বিদ্যুতের লাইন কেটেছে এবং জীবন্ত মানুষকে গাড়িতে পুড়িয়েছে৷ ২৮ আগস্ট একই কায়দায় বর্বরোচিতভাবে পুলিশকে হত্যা করেছে৷
শুক্রবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার মুসুদ্দি উত্তর পাড়া গ্রামে খামারি মোবাইল অ্যাপের কার্যকারিতা যাচাই ও উচ্চ ফলনশীল আমন ধানের ফসল কর্তন ও কৃষক সমাবেশে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন৷
তিনি আরও বলেনে, আমরা যদি দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রাখতে চাই, তাহলে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার৷ দেশে শান্তি দরকার এবং সুন্দর ও সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দরকার। সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে সরকার জাতির কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বিএনপি আগুন সন্ত্রাস সহিংসতা পথ ছেড়ে, তারা আবার নির্বাচনে আসবে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিএনপিকে ধরপাকড় করা হচ্ছে না। তাদের কর্মীদেরকে প্ররোচিত করা হচ্ছে আগুন সন্ত্রাস করার জন্য। সেটি কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়৷ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব মানুষের জানমাল নিরাপত্তা দেওয়া। তাদের গাড়িগুলোর নিরাপত্তা দেওয়া। দোকানপাট খুলে ব্যবসা বাণিজ্যকে অব্যহত রাখা। দোকান বন্ধ থাকলে কর্মচারীরা না খেয়ে মারা যাবে। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে । শান্তিপ্রিয় কোন বিএনপি নেতা-কমীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ঘনবসতির দেশ। জমি কমে যাচ্ছে। ৭ কোটির মানুষ এখন ১৭ থেকে ১৮ কোটি৷ এই মানুষকে খাওয়াতে হলে আরও উন্নত জাতের ফলনশীল উৎপাদন করতে হবে৷ সে লক্ষ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দুটি কাজ করছেন৷
কৃষি মন্ত্রালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ সাজ্জাদ, কৃষি মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব রহুল আমিন তালুকদার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মাসুদ করিম, বাংলাদেশ মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক জালাল উদ্দীন, বাংলাদেশের পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক আবদুল আউয়াল প্রমুখ৷
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে ধানক্ষেত থেকে এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১ নভেম্বর) রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের হলুদিয়া গ্রাম থেকে আলোকদিয়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা লাশটি উদ্ধার করে।
নিহত ওমর আলী হলুদিয়া গ্রামের মৃত আইন উদ্দিন ওরফে আনু সুতারের ছেলে। তিনি পেশায় আনারস ব্যবসায়ী ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আলোকদিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আজহার।
জানা যায়, এর আগে মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) রাতে ঢাকা থেকে মধুপুর থানায় ফোনে জানানো হয়, ওমর আলী নামের এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করবেন জানিয়ে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেছেন। পরে মধুপুর থানা নিকটস্থ আলোকদিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে বিষয়টি জানায়।
এ বিষয়ে ওমর আলীর স্ত্রী বুলবুলি বেগম বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে আমার স্বামী মসজিদে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন বলে বেড়িয়ে যান। কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে তার সন্ধান করেন। কিছুক্ষণের মধ্যে তার ফোন বন্ধ পেয়ে আমি, আমার সন্তান এবং প্রতিবেশীরা অনেক খোঁজাখুঁজি করি। পরে বুধবার (১ নভেম্বর) বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ধানক্ষেতে তার মৃতদেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা।
ওমর আলীর সঙ্গে কোনো মনোমালিন্য হয়েছিল কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুলবুলি বেগম বলেন, মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। তখন ওমর আলীর আচরণ স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু কি কারণে এমন করলো তা জানি না।
আলোকদিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আজহার বলেন, মঙ্গলবার রাত তিনটার দিকে ঢাকা থেকে মধুপুর থানায় জানানো হয় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ওমর আলী নামের এক ব্যক্তি ফোন করে জানান বিষপানে তিনি আত্মহত্যা করবেন। ওই সংবাদ পেয়েই আমরা ওমর আলীর বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীর নম্বর থেকে ওমর আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেন। কয়েক মিনিট পর থেকেই তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ভোর পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মো. আজহার আলী আরও বলেন, বুধবার রাতে হলুদিয়া গ্রামের এক ধানক্ষেতে ওমর আলীর লাশ পাওয়া যায়। তার মুখ থেকে বিষের গন্ধ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে গত কয়েক দিন ধরে বেড়েই চলেছে আলু, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম। বাড়তি দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। জেলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে বাজার মনিটরিং কমিটি থাকলেও তাদের কোন দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই। বাজারে নেই জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা শাখার তৎপরতা।
তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, সর্বশেষ বৃষ্টিতে সবজি খেত নষ্ট এবং হরতাল-অবরোধের কারণে আমদানি কমে যাওয়ায় আলু, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন সবজির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ীরা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে সবজি কিনে আনেন। সেখানে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এখানেও পাইকারি ও খুচরা বাজারে সবজির দাম বেশি। দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ীদের কোনো হাত নেই।
ব্যবসায়ীরা জানান, টাঙ্গাইলের প্রধান পাইকারি কাঁচা বাজার পার্কবাজারে প্রতিদিন মধ্যে রাত থেকে পাইকারি দরে আলু-পেঁয়াজসহ বিভিন্ন সবজি বিক্রি করা হয়। শহরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং কালিয়াকৈর, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন হাট বাজারের ব্যবসায়ীরা এখান থেকে পাইকারি দরে আলু-পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি কিনে নিয়ে যান। এই বাজারে খুচরা মূল্যে বগুড়া, রাজশাহী, নাটোর দিনাজপুরসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আলু-পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। কেনার দামে নির্ভর করে বিক্রির দাম নির্ধারণ করেন পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা। পণ্যে গুলোর দাম বাড়ায় বিক্রি কমে গেছে বলেও জানালেন তারা।

পাইকারি ব্যবসায়ী আলী আকবর ও হাফিজ মিয়া বলেন, বর্তমানে টাঙ্গাইলের বাজারে নিজস্ব কোনো আলু নেই। সব আলু উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আমদানি করতে হয়। পাইকারি দরে প্রতি কেজি আলু ৬৫ টাকা ও পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। আমাদের যেমন কেনা, তেমন বিক্রি করছি। আমাদের কেউ দাম বাড়ায় না।
খুচরা বিক্রেতা নাজমুল মিয়া বলেন, আলু ৭৫ টাকা, পেঁয়াজ ১৩৫ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, ফুল কপি ৫০ টাকা, শসা দেশী ৮০ টাকা, কচুর মুখি ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে।
বুধবার (১ নভেম্বর) সকালে পার্ক বাজারে কথা হয় অটোরিক্সা চালক মজিবুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, আধা কেজি পেঁয়াজ ৭০ টাকা ও আধা কেজি আলু ৪০ টাকা দিয়ে কিনলাম । নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণে আমাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সবজিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের নজরদারি বাড়ানোর জোর দাবি করছি।

বাজারে সবজি কিনতে আসা সহকারী অধ্যাপক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, আমরা বেসরকারি চাকরি করি। সব কিছুর দাম দিনের পর দিন বেড়েই চলছে। আগে যে বাজার করতে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা লাগতো, এখন সেই বাজার করতে চার হাজার টাকার বেশি লাগে। এই অতিরিক্ত টাকার যোগান দেওয়া আমার জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
পার্কবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুর বারেক মিয়া বলেন, এই বাজারে প্রতিদিন প্রায় ১০০টন করে আলু-পেঁয়াজ বিক্রি হয়। এখানে কয়েক জন ব্যবসায়ী ভারত থেকে এলসি করেও পেঁয়াজ আনেন। হরতাল ও অবরোধের প্রভাব পড়েছে এই সব পণ্যের উপর।কয়েক দিন ধরে হরতাল অবরোধের কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ীদের কোনো হাত নেই।
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু জোবায়ের উজ্জ্বল একতার কণ্ঠকে জানান, গত বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) আমাদের সংগঠনের উদ্যোগে জেলা ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক সিকদার শাহিনুর আলম ও জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা খানের সঙ্গে কৃষি পণ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তারা বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।

টাঙ্গাইল জেলা ভোক্ত অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সিকদার শাহিনুর আলম একতার কণ্ঠকে জানান, কৃষি পণ্য আলু ও পিঁয়াজের দাম বৃদ্ধি মনিটরিংয়ের দায়িত্ব কৃষি বিপণন ও সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের । এই অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগন বিষয়টি দেখাশোনা করে থাকেন।
জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা খান একতার কণ্ঠকে জানান, জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে নিয়মিত বাজার মনিটারিং করা হয়। তবে আলু ও পিঁয়াজের ক্ষেত্রে এই কৃষি পণ্য দুটি জেলার মোট চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় উত্তরবঙ্গ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে টাঙ্গাইলে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের এই পণ্য দুটির দাম বেশি হয়ে যায়।
একতার কণ্ঠঃ:টাঙ্গাইলের গোপালপুরে সরকারের উন্নয়ন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর)বিকালে গোপালপুরের সূতি ভি.এম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
একই সাথে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় স্থানীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর প্রমুখ।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মোমিনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান আনিস, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রউফ চান মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম তালুকদার সুরুজ, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহানসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময় এতোটা উন্নয়ন হয়েছে যে সাধারণ মানুষ এখন আবার শেখ হাসিনা সরকারকে ক্ষমতায় চায় হরতাল অবরোধের নামে বিএনপি ও জামায়াত দেশ জুড়ে অগ্নিসন্ত্রাস, জ্বালাও পোড়াও, নৈরাজ্য এবং খুনখারাপি শুরু করেছে। সরকার গণতন্ত্র তথা নির্বাচন কার্যক্রমকে যেমন এগিয়ে নিয়ে যাবে তেমনি এ সব অপশক্তিকে শক্ত হাতে দমন করবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহনমূলক নির্বাচন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আবার সরকার গঠন করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বিএনপি’র ডাকা ৭২ ঘণ্টার অবরোধের প্রথমদিনে মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) আওয়ামী লীগের অবরোধ বিরোধী মিছিলে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ৩ জন আহত হয়েছেন। আহতরা বর্তমানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে জেলা পরিষদ রোডস্থ জেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সংলগ্ন ইয়াকুবের মোটরগ্যারেজের সামনে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, টাঙ্গাইলে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হেলাল ফকির (৫৫) ও তার ছেলে ইব্রাহিম ফকির (২৩) এবং ওই ওয়ার্ডের সভাপতি হুমায়ুন রশিদ আকন্দ সোনার মামাতো ভাই মো. আব্দুল্লাহ আকন্দ (৩২)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার সকালে বিএনপি’র ডাকা ৭২ ঘণ্টার অবরোধ বিরোধী মিছিল করতে ৩নং ওয়ার্ডের সভাপতি মো. হুমায়ুন আকন্দ সোনা এবং সাধারণ সম্পাদক মো. হেলাল ফকির তাদের অনুসারীদের নিয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কে অবরোধ বিরোধী মিছিল শেষে ফেরার পথে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সাধারণ সম্পাদক হেলাল ফকিরের অনুসারীরা সভাপতি হুমায়ুন রশিদ আকন্দ সোনার মোটরসাইকেল বহরের কর্মীদের সঙ্গে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। এতে দুই পক্ষের কয়েকটি মোটরসাইকেল রাস্তায় পড়ে কয়েকজন কর্মী সামান্য আহত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর উভয় পক্ষের মধ্যে বিষয়টি সমঝোতা করে দেন।
মঙ্গলবার দুপুরে ওই ঘটনার জের ধরে আদালত প্রাঙ্গণে ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক হেলাল ফকিরের কথিত সেরেস্তার সামনে সভাপতি হুমায়ুন রশিদ আকন্দের (সোনা) মামাতো ভাই মো. আব্দুল্লাহ আকন্দকে আটকে রেখে মারপিট করে।
খবর পেয়ে সভাপতির অনুসারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হেলাল ফকিরের অনুসারীদের উপর হামলা করে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় সাধারণ সম্পাদক হেলাল ফকির ও তার ছেলে ইব্রাহিম ফকির এবং সভাপতির মামাতো ভাই মো. আব্দুল্লাহ আকন্দ আহত হয়।
এ প্রসঙ্গে আহত টাঙ্গাইলে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হেলাল ফকিরের মুঠোফোনে বার বার ফোন করা হলেও কেউ রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে ওয়ার্ড সভাপতি হুমায়ুন রশিদ আকন্দ সোনা জানান, অবরোধ বিরোধী দলীয় মিছিলে তিনি শতাধিক মোটরসাইকেলসহ অনুসারীদের নিয়ে অংশগ্রহন করেন। প্রথম ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে পৌর মেয়র সমাধান করে দেন। তিনি বাড়িতে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষরা তার উপর হামলা করে। পরে তাকে রক্ষা করার জন্য তার অনুসারীরা পাল্টা হামলা করে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উল্লেখ্য, স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন রশীদ আকন্দ সোনা ও সাধারণ সম্পাদক হেলাল ফকিরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ইতোপূর্বে সাধারণ সম্পাদকের ছেলে ইব্রাহিম ফকির একই ওয়ার্ডের সভাপতির ভাতিজাকে কুপিয়ে আহত করে। ওই ঘটনা থেকে উভয়ের মধ্যকার বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।
একতার কণ্ঠঃ বিএনপির ডাকা ৭২ ঘণ্টা অবরোধের প্রথম দিন (মঙ্গলবার) সকাল থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক ছিল গণপরিবহন শূন্য। তবে পণ্যবাহী ট্রাক ও সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলাচল করলেও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম।
এদিকে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ঘারিন্দা রেল স্টেশনেও নেই যাত্রীদের চাপ। কর্তৃপক্ষ বলছে, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঢাকায় যাচ্ছেন না।
তাই স্টেশনেও যাত্রীর সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম।
স্টেশনে কথা হয় রাইসুল মিয়া নামে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে।
তিনি জানান, ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে যাবেন। নতুন বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখেন কোনো বাস ঢাকা যাবে না।
তাই তিনি ঘারিন্দা রেল স্টেশনে এসেছেন ট্রেনে ঢাকা যাবেন। জরুরি প্রয়োজন না হলে তিনি ঢাকা যেতেন না। ওই হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বাধ্য হয়ে ঢাকা যেতে হচ্ছে তাকে।
মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ও রেল স্টেশনগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। কেউ যাতে কোনো প্রকার নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের পাশাপাশি মহাসড়কটিতে র্যাব সদস্যরাও টহল দিচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বিএনপির ৯৮ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদেরকে নাশকতা ও পূর্বের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত চারদিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল আদালতের পরিদর্শক তানবীর আহমেদ জানান, জেলার ১২টি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে গত চারদিনে ৯৮ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষ। টাঙ্গাইল সদরে ১২ জন, বাসাইলে ৬ জন, সখীপুরে ৪ জন, মির্জাপুরে ৮ জন, দেলদুয়ারে ৯ জন, নাগরপুরে ১৫ জন, কালিহাতীতে ৮ জন, ঘাটাইলে ৬ জন, ভূঞাপুরে ১০ জন, গোপালপুরে ৫ জন, ধনবাড়ীতে ৪ জন, মধুপুরে ১১ জনকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে বিএনপির কয়েকজন নেতা অভিযোগ করে বলেন, গত শনিবার ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশে যোগদানে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে এ গণগ্রেফতার করা হয়। হরতাল ও অবরোধে আমাদের নেতাকর্মীরা অংশ নিতে না পারে সেজন্য এমন গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে পুলিশ। এটা একটি দেশের গণতন্ত্রের জন্য বাধা ও অন্যায় বলে দাবি করেন তারা।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। আমাদের কোন নেতাকর্মী বাড়িতে থাকতে পারছে না। সকলের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি ও ভয় দেখানোর জন্য গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। মঙ্গলবার থেকে তিনদিনের অবরোধ শুরু হবে। এসব কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা যেন রাজপথে থাকতে না পারে এজন্য পুলিশ গ্রেপ্তার করছে।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন, সরকার বিরোধী আন্দোলন বন্ধ করতে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর অন্যায় ও অত্যাচার করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমাদের চলমান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শরফুদ্দীন বলেন, টাঙ্গাইল জেলায় নাশকতা ও পূর্বের দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটা আমাদের নিয়মিত রুটিন ওয়ার্ক। আমরা সারাবছরই বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে থাকি। জেলায় বর্তমানে পুলিশি টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। কেউ যেন জানমালের ক্ষয়ক্ষতি না করতে পারে এজন্য টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সজাগ রয়েছে।