/ হোম / একতার কণ্ঠ
করটিয়া হাটে ৫৮৫ টাকার ভিটি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ টাকায় - Ekotar Kantho

করটিয়া হাটে ৫৮৫ টাকার ভিটি বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ টাকায়

একতার কণ্ঠঃ  টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহি করটিয়া হাটে ভিটি বরাদ্দের মাধ্যমে প্রতিবছর হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এতে করে চরম ক্ষতির মূখে পড়ছেন প্রকৃত ব্যবসায়ী ও  সাধারণ ক্রেতারাও।

সরকারের পক্ষ থেকে স্বচ্ছভাবে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সরাসরি ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হয় না। এ কারণে সরকারি ইজারা মূল্য (ভিটি প্রতি) ৫৮৫ টাকার পরিবর্তে কয়েক হাত ঘুরে একটি ভিটির দাম পড়ে কয়েক লাখ টাকা।

এমনটা হওয়ার কারণে ব্যবসার আনুসাঙ্গিক খরচ বেড়ে গিয়ে সরাসরি প্রভাব পড়ে ক্রেতাদের ওপরে, বেড়ে যায় পণ্যের দাম।  সরকারিভাবে ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হলে হাটে দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারাও কম মূল্যে তাদের চাহিদামত পণ্য ক্রয় করতে পারতেন।

ফলে হাটের সিন্ডিকেটের সদস্যদের কারণে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ ক্রেতারাও ক্ষতির সন্মুখিন হচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে এ ঐহিত্যবাহী করটিয়া হাট থেকে অনেক সাধারণ মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেবেন বলে মনে করছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, হাটে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী তাদের ভিটি ভাড়া বা অন্য কারো কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কিনে ব্যবসা পরিচালনা করেন। কিন্তু যারা প্রকৃত ভিটির মালিক তাদের মধ্যে অনেকেই হাটে কোনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। তারা সবাই রাজনৈতিক নেতা, নইলে জনপ্রতিনিধি অথবা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্বজন। তাদের এ সিন্ডিকেটের কারণে ভিটিগুলো বিক্রি হয় দেড়, দুই এমনকি পাঁচ লাখ টাকাতেও। অথচ এসব ভিটির বাৎসরিক সরকারি ইজারা মূল্য (ভিটি প্রতি) ৫৮৫ টাকা।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) করটিয়া হাটে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই হাটে সাধারণ ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতারা পণ্য কেনা-বেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বগুড়া থেকে আসা সোলায়মান মিয়া নামের এক কাপড় ব্যবসায়ী জানান, গত বছরের তুলনায় এবার কাপড়ের দাম অনেক বেশি। তারপরেও ব্যবসা ও ক্রেতার চাহিদার কারণে বেশি দাম দিয়েই কাপড় কিনতে হচ্ছে।

করটিয়া এলাকার শাকের আলী জানান, দীর্ঘদিন ধরে হাটের কিছু জায়গা দখল করে ব্যবসা করেন তিনি। কিন্তু এবার বৈধভাবে জায়গা বরাদ্দ পেয়েছেন। তবে নিজের নামে না দেওয়ায় তার মেয়ে ও ভাই এবং ভাতিজার নামে ভিটি বরাদ্দ নিয়ে ব্যবসা করছেন। এগুলোর একটি তিনি নিজেই পরিচালনা করেন এবং বাকি তিনটি ভাড়া দিয়েছেন।

শুধু প্রভাবশালী নয়, এ হাটে ভিটি আছে সরকারি চাকরিজিবীদেরও। তবে এসব জমি তারা নিজের নামে না করে নিয়েছেন পরিবারের সদস্যদের নামে।

এমনই একজন হচ্ছেন করটিয়া এলাকার কালিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আরিফ। এ হাটে তার তিন বোন, মা, মামা, মামাতো ভাইয়ের নামে নিয়েছেন আটটি ভিটি। পরে ওই ভিটিগুলো আবার একই এলাকার চাচাতো ভাই মো. ইসমাইল হোসেনের কাছে এক বছরের জন্য ভাড়াও দিয়ে দিয়েছেন।

ইসমাইল হোসেন জানান, আরিফের কাছ থেকে আটটি ভিটি লিজ নিয়ে তিনিও সেগুলো ভাড়া দিয়েছেন। সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ায় আরিফ এগুলো তার বোন, মা, মামা ও মামাতো ভাইয়ের নামে বরাদ্দ নিয়েছেন।

জানা গেছে, হাটে ভিটি বরাদ্দের প্রক্রিয়া করে জেলা প্রশাসন। এ কারণে প্রকৃত ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ভিটি বরাদ্দ পাওয়ার জন্য আবেদন করেন। পরে তাদের জানানো হয় হাটে নতুন করে কোনো ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হবে না। যারা ইতোমধ্যেই হাটের জায়গা দখল করে ব্যবসা করছেন, তাদের মধ্যেই ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, প্রভাবশালী এক জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় এলাকার প্রল্লাদ দাস, হেলাল উদ্দিন, ছানোয়ার হোসেন ছানু ও আনিসুর রহমান বিরু দীর্ঘদিন ধরেই করটিয়া হাট নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। আর তাদের মাধ্যমেই পুরো হাটে ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তাদের প্রত্যেকের নামে একটিসহ বিভিন্ন স্বজনদের নামে একাধিক ভিটি নেওয়া হয়েছে। পরে সেগুলো ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবছর ৪০-৫০ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া হচ্ছে ভিটিগুলো।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী জানান, তিনি গত ১০-১২ বছর ধরে এ হাটে ব্যবসা করছেন। ৪-৫ বার তিনি ভিটি বরাদ্দ পাওয়ার জন্য আবেদন করেও পাননি। তাই বাধ্য হয়ে ভিটি ভাড়া নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে ক্রেতাদের কাছে কিছুটা বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। আর যদি প্রকৃতভাবে সরকারি মূল্য অনুযায়ী ভিটি বরাদ্দ পেতেন তাহলে সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি মূল্য নিতেন না।

শুধু তিনি নন, এরকম প্রায় সব ব্যবসায়ীরাই প্রতিবছরে মোটা অংকের ভাড়ার টাকা আদায়ের জন্য ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি মূল্য রেখে থাকেন।

করটিয়া হাটের হোটেল ব্যবসায়ী প্রল্লাদ দাস জানান, তিনি ভিটি বরাদ্দের বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে তিনি গত ৩-৪ বছর আগে আনিসুর রহমান বিরুর কাছ থেকে একটি ভিটি কিনে হোটেল ব্যবসা করছেন।

আনিসুর রহমান বিরু জানান, বর্তমানে তার কাছে কোনো ভিটি খালি নেই। তবে যেগুলো ছিল, সেগুলো সব ভাড়া দিয়েছেন। ভিটি বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী ও প্রল্লাদ দাস দেখেন। তারাই ঠিক করেন, কার ভাগে কয়টি ভিটি পড়বে বলেও জানান তিনি।

ছানোয়ার হোসেন ছানু জানান, এবার যাদের ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তারা আগে থেকেই সেখানে দখলে ছিলেন। আর একজন ব্যবসায়ী একটি মাত্র ভিটি পাবেন। তবে তার পরিবার বড় হওয়ায় তিনি ও তার স্বজনরা মিলে ১০-১২টি ভিটি বরাদ্দ পেয়েছেন।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী জানান, করটিয়া হাটে আগে থেকেই যারা ভিটি দখল করে ছিলেন তাদের মাঝেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নতুন ভাবে কাউকে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এর বেশি কিছু তিনি জানেন না।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৯. জুন ২০২২ ০২:৪৫:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বেতনের দাবিতে মহাসড়কে শ্রমিক অবরোধ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বেতনের দাবিতে মহাসড়কে শ্রমিক অবরোধ

একতার কণ্ঠঃ বেতন-বোনাসের দাবিতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াইয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক অবরোধ করেছে নাহিদ কটনমিলের শ্রমিকরা।

বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে অবরোধ শুরু হয়। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সড়কের দুইপাশে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

শ্রমিকরা জানান, শ্রমিকদের ঈদের বোনাস না দিয়ে শুধু অর্ধেক বেতন দিতে চায় কারখানার মালিক। এ কারণে শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে ভাংচুর শুরু করে। একপর্যায়ে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা মহাসড়কের অবস্থান নেয়। তবে পরে পুলিশের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেয়।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলম চাঁদ জানান, শ্রমিকরা তাদের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। পরে তাদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেয়া হয়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৯. এপ্রিল ২০২২ ০৩:৪৭:এএম ৪ বছর আগে
মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা: টাঙ্গাইলের সাবেক মেয়র মুক্তির জামিন - Ekotar Kantho

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা: টাঙ্গাইলের সাবেক মেয়র মুক্তির জামিন

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার(২৭ এপ্রিল) বিকেলে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আরো পড়ুনঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের চাপ

আদালতে মুক্তির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আমিনুল ইসলাম।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ মাসুদ পারভেজ মুক্তিকে জামিন দেন। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি তার অন্তবর্তী জামিন বাতিল হয়। এরপর হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন মুক্তি।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি নিহত হন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদ। তার গুলিবিদ্ধ লাশ কলেজপাড়ার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার হয়। এ ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে গোয়েন্দা পুলিশ আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

আদালতে এই দুই আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যার সঙ্গে জড়িত সাবেক সাংসদ আমানুর রহমান খান রানা। তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন এবং ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে।

পরে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান ও তার অপর তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। আমানুর রহমান খান রানা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মসমর্পণ করেন। প্রায় তিন বছর হাজতবাসের পর তিনি জামিন পেয়ে মুক্ত আছেন। তাদের অপর দুই ভাই আত্মগোপনে রয়েছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৮. এপ্রিল ২০২২ ১২:২৬:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে পিকআপ চাপায় শিশু নিহত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে পিকআপ চাপায় শিশু নিহত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রাস্তা পার হতে গিয়ে মায়ের কোলে যাওয়ার সময় পিকআপের চাপায় তোয়া মনি (৫) নামে এক শিশু নিহতহ হয়েছে।

রবিবার (২৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পুংলী-বালিয়াটা আঞ্চলিক সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

তোয়া মনি উপজেলার সহেদেবপুর ইউনিয়নের বানিয়াফৈর গ্রামের খালপাড় এলাকার শহিদুল ইসলাম মেয়ে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাস্তার পাশেই শিশুটির বাড়ি। শিশুটি মা রাস্তার ওপারে কাজ করছিল। পথিমধ্যে শিশুটি দৌঁড়ে রাস্তার উপর দিয়ে তার মায়ের কোলে যাচ্ছিল।

এসময় শিশুটি যখন তার মায়ের কাছে পৌঁছবে তখনি হঠাৎ বেপরোয়া দ্রুত গতির একটি পিকআপের নিচে চাপায় পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়।

এ বিষয়টি কালিহাতী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার আলী নিশ্চিত করে জানান, নিহতের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৫. এপ্রিল ২০২২ ০২:০০:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে মুড়ির কারিগরদের দম ফেলার ফুসরৎ নেই - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে মুড়ির কারিগরদের দম ফেলার ফুসরৎ নেই

একতার কণ্ঠঃ পবিত্র রমজান মাসের ইফতারির রকমারি উপাদানের মধ্যে মুড়ি অত্যাবশকীয়। মুড়ির চাহিদা সারাবছর ব্যাপী থাকলেও রোজার সময় উৎপাদন এবং বিক্রি বহুগুণে বেড়ে যায়। তাই মুড়ি ব্যবসায়ীরা বছর জুড়ে অপেক্ষায় থাকেন রমজান মাসের জন্য। আবার অনেকে সিজনাল ব্যবসা হিসেবে এই মাসে মুড়ি উৎপাদন এবং বিক্রি করে থাকেন। এখন মুড়ি তৈরির কারিগর ও ব্যবসায়ীদের দম ফেলার ফুসরত নেই।

টাঙ্গাইলসহ দেশের কমপক্ষে ৫ জেলায় মুড়ি সরবরাহ হয় জেলার কালিহাতীর নারান্দিয়া থেকে। এখানকার উৎপাদিত মুড়ির সুনাম বিভিন্নস্থানে। মুড়ি উৎপাদনের সাথে নারান্দিয়ার মানুষ অনেক পূর্বে থেকেই জড়িত। এখানে দুইভাবে মুড়ি উৎপাদিত হয়, হাতে ভেজে ও মেশিনের সাহায্যে। মুড়ি উৎপাদনকারি এলাকাগুলোর মধ্যে টাঙ্গাইল জেলায় নারান্দিয়া শীর্ষে।

আরো পড়ুনঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধুসেতু মহাসড়কে এবার যানজট হওয়ার আশঙ্কা নেই’

মেশিনের সাহায্যে বিপুল পরিমান মুড়ি প্রতিনিয়ত উৎপাদিত হলেও হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। একশ্রেণির মানুষ সর্বদাই হাতেভাজা মুড়ি খেয়ে থাকেন। হাতে ভেজে মুড়ি তৈরি এবং বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন বহু পরিবার। বিশেষ করে মোদক সম্প্রদায়।

কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া, মাইস্তা, নগরবাড়ী, দৌলতপুর, লুহুরিয়া ও সিংহটিয়াসহ প্রায় পনেরটি গ্রামের কয়েক’শ পরিবার হাতে ভেজে মুড়ি তৈরি করে থাকে। মোদকরা বংশ পরম্পরায় মুড়ি ভাজার কাজ করেন। একজন ব্যক্তি ১ দিনে এক থেকে দেড় মণ চালের মুড়ি ভাজতে পারেন। প্রতি মণ চালে ২২ থেকে ২৩ কেজি মুড়ি হয়। প্রতি কেজি মুড়ি পাইকারি ৭৫/৮০ টাকা এবং খুচরা ৮৫ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। মূলত গ্রামের মহিলারাই হাতে ভেজে গুণগত মানসম্মত মুড়ি তৈরি করেন।

দৌলতপুর গ্রামের কনিকা বর্মন বলেন খড়ি ২০০ টাকা মণ, ধান ১২০০ টাকা মণ। ধান সিদ্ধ করে রোদে শুকানোর পর মেশিনে মাড়াই করে মুড়ি ভাজার জন্যে চাল তৈরি করা হয়। সেই চাল দিয়ে লবণ জলের মিশ্রণে আগুনে তাপ সহ্য করে বিশুদ্ধ মুড়ি ভাজতে অনেক পরিশ্রম হয়। কিন্তু লাভ টিকে না।

হাসি বেগম বলেন আমাদের পরিশ্রমের দাম উঠে না। গরিব মানুষ এই কাজ কইরা অনেক দিন ধরে খাই। সরকারের কাছে আমরা সাহায্য চাই।

মিনতি রানী মোদক ও সুশীল মোদকসহ অনেকে বলেন আমরা বংশ পরম্পরায় এই মুড়ি ভাজা ও ব্যবসার সাথে জড়িত। সব কিছুর দাম বেশি। মুড়ির দাম বাড়ে নাই। দিন শেষে লাভ থাকে না বললেই চলে। সরকার থেকে যদি আমাদের সুদমুক্ত ঋণ দিতো তাহলে আমরা টিকে থাকতে পারতাম।

তারা আরো বলেন লাভ বেশির ভাগই চলে যায় মধ্যসত্বভোগীদের পকেটে। রমজান মাসে দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা পিকআপ, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনে বস্তা ভর্তি মুড়ি কিনে টাঙ্গাইলের প্রত্যন্ত এলাকায় বিক্রি করেন। যাতায়াত ব্যবস্থা ভাল থাকায় পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও গাজীপুরে নারান্দিয়ার মুড়ি সরবারহ হয়।

এদিকে নারান্দিয়া ইউনিয়নের নগরবাড়ীতে ২টি, দৌলতপুরে ২টি মোট ৪টি মিলে ৫টি মেশিনের সাহায্যে মুড়ি ভাজা হয়। সততা মুড়ির মিলের স্বত্বাধিকারী শংকর চন্দ্র মোদক কালের কণ্ঠকে বলেন, ৫০ কেজি চালের বস্তায় ৪২/৪৩ কেজি মুড়ি হয়। প্রতি কেজি মুড়ি আমরা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি করি। পাইকাররা আবার সেই মুড়ি প্রতি কেজি কমপক্ষে ৬৫-৭৫ টাকা দরে খুচরা বিক্রি করেন। রমজান মাসে প্রতিদিন ৫টি মিলে ১৫০ বস্তারও বেশি চালের মুড়ি উৎপাদিত হচ্ছে। প্রায় ৪ লাখ টাকার মেশিনে ভাজা মুড়ি প্রতিদিন কেনাবেচা হয় এই এলাকায়। কিন্তু খরচ বাদে লাভ বেশি টিকে না।

রমজানে প্রায় ৪ লক্ষ টাকার মুড়ি প্রতিদিন মেশিনে ও হাতে ভেজে তৈরি হলেও বছরের অন্য সময়ে অর্ধেকে নেমে আসে। শতাধিক শ্রমিক এবং কয়েক শ পরিবার প্রত্যক্ষভাবে ও বিপুল সংখ্যক মানুষ পরোক্ষভাবে মুড়ি ব্যবসার সাথে জড়িত থেকে তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন। ফলে রমজানে কাজের চাপে দম ফেলার সময়টুকু পায়না মুড়ি উৎপাদনকারীরা।

হাতে ভাজা মুড়ি উৎপাদনকারীরা দিনদিন এই কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় ধাবিত হচ্ছেন এবং অনেকেই চলে গেছেন। এই পেশাকেই টিকিয়ে রাখতে উৎপাদনকারী এবং ব্যবসায়ীরা সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

কালিহাতীর বাসিন্দা এফবিসিসিআই এর পরিচালক আবু নাসের বলেন, টাঙ্গাইল তথা বাংলাদেশের মধ্যে মুড়ি উৎপাদনের অন্যতম স্থান কালিহাতীর নারান্দিয়া। এখানকার উৎপাদিত লাখ লাখ টাকার মুড়ি সারাদেশে সরবরাহ হচ্ছে। এটি এক প্রকার কুটিরশিল্প। মানুষের চাহিদা পূরণে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের যথাযথ উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে হাতেভাজা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে।

প্রান্তিক পর্যায়ের মুড়ির কারিগররা এ মুড়ি কেনাবেচার একটি নির্দিষ্ট বাজার স্থাপন এবং সরকার থেকে হাতে ভাজা মুড়ি উৎপাদনকারী ব্যক্তি এবং পরিবারগুলোকে বিশেষ ঋণ সুবিধা দেওয়ার দাবি করেছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৪. এপ্রিল ২০২২ ১২:১১:এএম ৪ বছর আগে
‘ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধুসেতু মহাসড়কে এবার যানজট হওয়ার আশঙ্কা নেই’ - Ekotar Kantho

‘ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধুসেতু মহাসড়কে এবার যানজট হওয়ার আশঙ্কা নেই’

একতার কণ্ঠঃ রাস্তার কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধুসেতু মহাসড়কে যানজট না হওয়ার কথা জানালেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম। শনিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গোড়াইয়ে নির্মিত ফ্লাইওভার পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম আরো বলেন, ঈদের আগেই ২৫ এপ্রিল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের গোড়াই ফ্লাইওভার ও সিরাজগঞ্জের নকল ব্রিজ যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। যাতে করে ঈদযাত্রায় মহাসড়কে যানজট সহনীয় পর্যায়ে থাকে। যদিও এসব কাজের মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। বিশেষ বিবেচনায় ঈদের আগেই খুলে দেয়া হচ্ছে। এর ফলে এসব অংশে যানজট হওয়ার সম্ভবনা নেই। বিকল্প রাস্তাগুলোতে যদি গাড়িগুলো ডাইভার্ট করে দেয়া যায় তাহলে মহাসড়কে ট্রাফিক চাপ কমবে।

তিনি বলেন, মন্ত্রাণালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের একটি সেন্টাল কন্টোল রুম থাকবে। বিভিন্ন পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা থাকবে। এছাড়াও মহাসড়কে পুলিশের পক্ষ থেকেও বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশের সাথেও আমরা কিছু কিছু বিষয় সমন্বয় করছি। ২ বছর করোনার পরিস্থিতির পরে এবার ঘরমুখো মানুষের চাপ বৃদ্ধি পাবে। এ বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা প্রস্তত রয়েছি।

এ সময় সড়ক বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী একেএস মনির হোসেন পাঠান, সাসেকের প্রকল্প পরিচালক মো. ইসাক, সাসেক-১ এর অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক নূরে আলম, টাঙ্গাইল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলামসহ সড়ক বিভাগেরর অন্যন্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ঈদ যাত্রায় বিগত সময়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল- মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পার পর্যন্ত দুই লেন হওয়ায় এই ১৩ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজট হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পরেন যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের। ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে উত্তরবঙ্গসহ ২৪ জেলার যানবাহন চলাচল করে। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন ১২/১৩ হাজার যানবাহন সেতু পারাপার হয়। ঈদের আগে ৩৫/৪০ হাজার যানবাহন পারাপার হয়। কোন কোন সময় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার গাড়িও পারাপার হয়। স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক যানবাহন পারাপার হওয়ায় দুই লেনের সড়কে যানজট লেগে যায়।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২৩. এপ্রিল ২০২২ ১১:২৩:পিএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে সেচপাম্পের ঘরে শ্রমিকের লাশ, হত্যার পর গুমের অভিযোগ - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে সেচপাম্পের ঘরে শ্রমিকের লাশ, হত্যার পর গুমের অভিযোগ

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে সেচপাম্পের ঘর থেকে লাল মিয়া (৪৫) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) রাতে উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের সেহরাইল মাটির খাদ এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের দাবি, সেহরাইলে মাটির খাদে ট্যাফেট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হওয়ার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ওই সেচপাম্পের ঘরে রাখা হয়।

নিহত লাল মিয়া উপজেলার কাউলজানীর মহেষখালী গ্রামের গটু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের সেহরাইল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ট্যাফেট্রাক্টরের মাধ্যমে একটি চক্র বিক্রি করে আসছে। ওই খাদে লাল মিয়া শ্রমিকের কাজে নিয়োজিত ছিল। সকাল থেকে খাদের পাশে সড়কে লাল মিয়া পানি দিচ্ছিল।

পরে দুপুর থেকে লাল মিয়া নিখোঁজ হয়। এর পর খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। সন্ধ্যায় সেচপাম্পের শ্রমিক ঘরে গিয়ে তার লাশটি দেখতে পান। এর পর পুলিশ গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

নিহতের ছোট ভাই আব্দুল খালেক বলেন, আমার ভাই দীর্ঘদিন ধরে সেহরাইলে মাটির খাদে শ্রমিকের কাজ করছিলেন। দুপুরে সেখানে কলিয়া গ্রামের মজিবর রহমান নামে এক ব্যক্তির ট্রাফেট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে আমার ভাই মারা যান। পরে লাশটি গুমের উদ্দেশ্যে তারা সেচপাম্পের ঘরে রেখে দেয়। রাত হলে হয়তো লাশটি অনত্র ফেলে দিত।

তিনি আরও বলেন, দুপুরে আমার ভাতিজা খাদে গিয়ে তাকে দেখতে পায়নি। পরে ভাতিজা সেখান থেকে বাড়িতে চলে আসে। সন্ধ্যায় সেচপাম্পের ঘরে তার লাশ পাওয়া যায়। দুপুরে এ ঘটনার পর পরই মাটির খাদটি বন্ধ করে তারা সেখান থেকে চলে যায়। এখনও ওই ট্রাফেট্রাক্টরটি সড়কের পাশে পড়ে আছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমার ভাই হত্যার বিচার চাই। এ ঘটনায় মামলা করা হবে।

বাসাইল থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিহতের লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২০ এপ্রিল) সকালে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুৎস্পর্শ হয়ে লোকটি মারা যেতে পারে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ২১. এপ্রিল ২০২২ ০২:২৪:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে কোচ জাতির মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে কোচ জাতির মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কোচ জাতির ঐতিহাসিক মহাসমাবেশ, র‌্যালী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারি হিসেবে পরিচিত শাকিল ইয়াবাসহ গ্রেফতার

শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে বাংলাদেশ কোচ আদিবাসী সংগঠনের আয়োজনে মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম।

বাংলাদেশ কোচ আদিবাসী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সন্ন্যাসী রমেশ কুমার কোচের সভাপতিত্বে মহাসমাবেশে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত,ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রশিক্ষক বিভাগের পরিচালক ড. মো. আবুল কালাম আজাদ, মনিন্দ্র কুমার কোচ, বাংলাদেশ কোচ আদিবাসী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কোচ রুবেল মন্ডল, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রমোদ চন্দ্র কোচ, কোচ গৌরাঙ্গ ঠাকুর, লিটন সরকার সুশান্ত, গোপাল চন্দ্র কোচ,আল্পনা রাণী কোচসহ কোচ আদিবাসী নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে সাগরদিঘী বাজার প্রদক্ষিন করে।সমাবেশ থেকে কোচ আদিবাসীদের উন্নয়নে ১২ দফা দাবী তুলে ধরা হয়। দাবীগুলো হলো, সম্ভ্রমহীনা নারীদের পুর্ণবাসনসহ সার্বিক দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে । জন্ম থেকে প্রাপ্ত বয়স পর্যস্ত আদিবাসী ছেলে-মেয়েদের সকল দায় দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে ।

ডিজিটাল কোচ কালচার একাডেমী প্রতিষ্ঠান গঠন করতে হবে । কোচ জাতীর ছাত্র – ছাত্রীদের সরকারী খরচে বিদেশে উচ্চ শিক্ষা লাভের সুযোগ দান করতে হবে। আদিবাসীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আদিবাসী এলাকা গুলোতে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করতে হবে । আদিবাসীদের আদিবাসী নামে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে ।
সংখ্যালঘু আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটে আর্ন্তভূক্ত ও স্বীকৃতি দিতে হবে । আদিবাসীদের সুরক্ষায় আদিবাসী আধিকার আইন প্রণয়ন করতে হবে । ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাজেটে আদিবাসীদের জন্য সকল মন্ত্রনালয়ে সম বরাদ্ধ দিতে হবে ।

সমতল আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি মন্ত্রনালয় ও ভূমি কমিশনসহ ভূমি থেকে জোড় পূর্বক উচ্ছেদ বন্ধ করতে হবে । রাজবংশীসহ বাদ পড়া আদিবাসীদের গেজেটে অর্ন্তভূক্ত করতে হবে । জাতীয় সংসদে আদিবাসীদের সংরক্ষিত আসন দিতে হবে । মধুপুরে আদিবাসী এলাকায় লেক খনন বন্ধ করতে হবে ।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৬. এপ্রিল ২০২২ ০৪:৩৪:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারি হিসেবে পরিচিত শাকিল ইয়াবাসহ গ্রেফতার - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারি হিসেবে পরিচিত শাকিল ইয়াবাসহ গ্রেফতার

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে অভিযান চালিয়ে শাকিল খান (১৮) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসময় তার কাছ থেকে ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।বুধবার (১৩ এপ্রিল) রাতে উপজেলার অর্জুনা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে থেকে তাকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে গৃহবধূর আত্মহত্যা

শাকিল উপজেলার অর্জুনা এলাকার অটোরিকশা চালক দুলাল খানের ছেলে। তিনি অর্জুনা ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল আলমের ব্যক্তিগত সহকারি হিসেবে এলাকায় পরিচিত।

বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে ভূঞাপুর থানা অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন

স্থানীয়রা জানান, চেয়ারম্যানের সাথে থেকে শাকিল দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা করছিল। সম্প্রতি অর্জূনা উচ্চ বিদ্যালয়ে মাস্টার রোলে শাকিলের দপ্তরি চাকরি হয়। কিন্তু বিদ্যালয়ের বই বিক্রি ও সিমেন্ট চুরির দায়ে তাকে বহিস্কার করা হয়েছে। এছাড়া সে অর্জুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল আলম খান মাহবুবের ব্যক্তিগত সহকারী ছিল।

অর্জুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল আলম খান মাহবুব জানান, ফারুক নামের এক ইয়াবা ব্যবসায়ী তাকে দুই হাজার টাকার বিনিময়ে ইয়াবাগুলো অন্য একজনকে দিতে বলেছিল বলে জানতে পেরেছি। পরে ইয়াবাসহ শাকিলকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তবে সে আমার ব্যক্তিগত কোন সহকারি নয়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মনির বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইয়াবাসহ শাকিলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শাকিল অর্জুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের লোক বলে এলাকায় বিভিন্ন ধরণের অপকর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিল।

তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) সকালে তাকে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৬. এপ্রিল ২০২২ ০৪:৩৬:এএম ৪ বছর আগে
সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের শিকার কৃষক ও মুদি দোকানদার মেছের আলী - Ekotar Kantho

সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের শিকার কৃষক ও মুদি দোকানদার মেছের আলী

একতার কণ্ঠঃ সাম্প্রদায়িক আধিপত্য ও উগ্র সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী কর্তৃক সংগঠিত ধারাবাহিক অপরাধ ষড়যন্ত্র, অবৈধ সমাবেশ, হুমকি, দোকান ভাংচুর ও বন্ধকরণ, একঘরে করণ, ঈদের নামাজ ও কুরবানী নিষিদ্ধকরণ, চুরি, ডাকাতি, চাদাদাবী, হামলা, মিথ্যাচার, অপপ্রচার, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, সংবাদপত্রে প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদ এর প্রতিবাদে গত ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০২১ ও ১২ ই মার্চ ২০২২ ইং তারিখে ভূক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মৃত্তিকা বিজ্ঞানী ও কৃষিবিদ মো. দুলাল মিয়া টাংগাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। উক্ত সংবাদ সম্মেলনের বিবৃতি ও বাস্তবসম্মত সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে প্রকাশিত, প্রচারিত হয়।

সন্ত্রাসীদের অপকর্ম ও আইন বিরোধী আচরণের সংবাদ ইতোপূর্বে ১১, ২০ ও ২২ ডিসেম্বর, ২০২১ ইং তারিখে পাঁচটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা মিথ্যা তথ্য প্রচার করতে থাকে।

নিরুপায় ও অসহায় হয়ে এসবের প্রতিকার চেয়ে গত ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০২১ ইং তারিখে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ ও মহাপরিচালক, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ বরাবর মেছের আলী আবেদন করেন।

দুলাল মিয়া বলেন, মেছের আলীর মামলায় সদ্য জামিনে মুক্ত আসামীরা তাদের অপকর্ম ধামাচাপা দিয়ে ভয়ংকর অপরাধ সংগঠনের উদ্দেশ্যে এবং সমগ্র দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র পূর্বক, গত ২২ ই ডিসেম্বর, ২০২১ ইং তারিখে সকাল ১১ টায় সিংজুরী নাট মন্দিরের সামনে প্রকাশ্য জনসম্মুখে অবৈধ সমাবেশের মাধ্যমে উগ্র সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করে সাংবাদিকদের শতভাগ মিথ্যা তথ্য দিয়ে পাঁচটি পত্রিকায় শতভাগ মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করায়। মানববন্ধন ইস্যুতে উক্ত অবৈধ সমাবেশে দুলাল মিয়া, মেছের আলী ও তাদের পরিবার সম্পর্কে মিথ্যা, বানোয়াট, মানহানিকর বিবৃতি প্রদান করে সন্ত্রাসীরা এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক পরিচয়ে সন্ত্রাসীরা তাদের অপকর্মের সমর্থন চেয়ে সাংবাদিক ও দেশবাসীকে উদ্ধাত্তভাবে আহবান করে। সন্ত্রাসীদের উগ্রতা, মিথ্যাচারের ভিডিও, পত্রিকায় প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদ ফেসবুকে পোস্টিং, লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ারিং এর মাধ্যমে সমগ্র দেশে প্রচার করার চেষ্টা করে সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসী কর্তৃক সংগঠিত ধারাবাহিক অপরাধ ও সৃষ্ট উগ্র সাম্প্রদায়িকতার কারণে মেছের আলীসহ প্রায় ২০০ (দুইশত) টি পরিবারের ২০০০(দুই হাজার) জন ব্যক্তি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

লিখিত বক্তব্যে দুলাল মিয়া বলেন, টাংগাইলের মির্জাপুর উপজেলার সিংজুরী গ্রামের আশুতোষ সরকার, গৌড় সরকার, নুরুল ইসলাম এর নেতৃত্ত্বে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম ও মেম্বার নাজিম উদ্দিন সহ স্থানীয় ৩০-৩৫ জন একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র গড়ে তুলেছে যা সাংগঠনিকভাবে দেশব্যাপী বিরাজমান।

তিনি আরও বলেন, এই সকল সন্ত্রাসীরা নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী একজন অপরজনের সহিত আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ। এদের অনেকে আত্মীয়তার সূত্রে অন্যত্র হতে এসে অত্র গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। নৈতিকতা বিরোধী অপরাধের জন্য এদের অনেকের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে একাধিক গ্রাম্য সালিস হয়েছে। চক্রটির অনেকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা সহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। চক্রটির অনেকে অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায় জড়িত। শান্তি, সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠাপূর্বক স্বাধীন, স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবন যাপন নিশ্চিতকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ আবশ্যক মর্মে তিনি বিবৃতি প্রদান করেন।

লিখিত বক্তব্যে দুলাল মিয়া আরও বলেন, সন্ত্রাসী চক্রটি সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নৈকট্য লাভ করে এলাকায় বিশেষ আধিপত্য বিরাজ করে আসছে। অপরদিকে, সংখ্যা লঘু আইনের প্রচার এবং অপকৌশল ব্যবহার করে মন্দিরে নিয়মিত সমাবেশ করে ধারাবাহিক অপরাধ করছে। হিন্দু ইজম, হিন্দু আধিপত্য, ভীতি সৃষ্টি, অবৈধ চুক্তি এবং অবৈধ তদবীরের মাধ্যমে তারা পারিপার্শ্বিক সব নিয়ন্ত্রণ করছে। সাংবাদিক প্রশ্নের জবাবে দুলাল মিয়া বলেন, সন্ত্রাসীদের সকল অপকর্মের প্রতিবাদ করায় মেছের আলীর একমাত্র আশ্রয় আমাকে নির্ণয় করে আমাকে হয়রানী করছে সাংগঠনিকভাবে। আমার উপর দোষ চাপানোর ষড়যন্ত্র চলছে, আমি অন্যয়ের প্রতিবাদ করছি, সত্য এবং ন্যায়ের পক্ষে আছি, থাকবো, আমার প্রতিবাদ ন্যায় সঙ্গত, বিধি সম্মত। তিনি আরও বলেন, সমস্যার শুরুতেই আমরা জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করেছি, সবাই জানে সমস্যাটা কোথায়, তাই হয়তো কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলেন না, কিন্তু বাস্তবতা সবাই বুঝেন। শান্তি সমাধানের জন্য সন্ত্রাসীদের সাথেও যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি কিন্তু তারা আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের কৌশল হলো, বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিকে তাদের সাথে সম্পৃক্ত করা এবং আমাদের প্রতিপক্ষ করা, যাতে কেউ আমাদের নৈতিক সমর্থন না করে। সবাইকে প্রতিপক্ষ হিসেবে চাই না, এটা সম্ভব না, যদিও ইউনিয়ন পরিষদ কে আমাদের প্রতিপক্ষ করেছে।

তিনি আরও বলেন, মেছের আলীর ক্রয়সূত্রে রেজিস্ট্রি দলিলমূলে ২৭ বছরের স্বত্ব দখলীয় ভূমি বেআইনীভাবে একই গ্রামের রতন বিশ্বাস কে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য সাংগঠনিক এজেন্ডায় ইস্যু তৈরী করে। পারিপার্শ্বিক সকল কিছু সন্ত্রাসীরা নিয়ন্ত্রণপূর্বক, মেছের আলীর একমাত্র আশ্রয় আমাকে নির্ণয় করে আমাকে এবং মেছের আলী কে হয়রানী করে আসছে সাংগঠনিকভাবে।

লিখিত বক্তব্যে দুলাল মিয়া বলেন, ২০২১ সালের ৪ মার্চ ও ৩১ মার্চ মেছের আলী ভূমি বিষয়ে ১৪৪ ধারা ও ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক দখলাবস্থা বজায় রাখার আদেশ হয়। উক্ত আদেশের প্রেক্ষিতে ২৪ এপ্রিল/২১ মির্জাপুর থানা কর্তৃক শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার নোটিশ জারী করা হয়। গত ২৪ শে মার্চ/২১ রতন বিশ্বাস বাদী হয়ে হুমকির মিথ্যা একটা মামলা দায়ের করে। গত ৯ মে/২১ মেছের আলী বাদী হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে চুরি, চাদাদাবীর মামলা দায়ের করেন। পাঁচবারের সকল তদন্তে মেছের আলীর দাবী এবং অভিযোগের সত্যতা মিলে, নামজারী ও তদন্ত প্রতিবেদনসহ ভূমি বিষয়ক কর্মকর্তার চারটি প্রতিবেদন মেছের আলীর পক্ষে, বিজ্ঞ আদালতের চারটি মামলার সকল আদেশ মেছের আলীর পক্ষে। রতন বিশ্বাস কর্তৃক দায়েরকৃত হয়রানীমূলক হুমকির মামলায় গত ১৪ ই ফেব্রুয়ারী/২২ মেছের আলীসহ চারজন অব্যাহতি পেয়েছে। মির্জাপুর থানার দুটি তদন্তে সন্ত্রাসীরা অপকর্মের স্বীকারোক্তি দিয়ে আপোষ মীমাংসার অজুহাতে বিজ্ঞ আদালতের আদেশ ও মির্জাপুর থানার নোটিশ অমান্য করে সন্ত্রাসীরা ধারাবাহিকভাবে অপরাধ করেছে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মির্জাপুর থানায় একাধিক জিডি, অভিযোগ, আবেদন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভূমি বিষয়ে মেছের আলীর দায়েরকৃত তিনটি মামলা, থানায় দায়েরকৃত জিডি, অভিযোগ যৌক্তিক, প্রাসঙ্গিক, আবশ্যকীয়। রতন বিশ্বাসের দায়েরকৃত হয়রানীমূলক হুমকির মামলার আর্জির বিবৃতি শিষ্টাচার বহির্ভূত, প্রত্যেকটি বক্তব্য মিথ্যা, ধারাবাহিক অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত। চক্রটি কর্তৃক অদূর ভবিষ্যতে খুন, জখম, অপহরণের ইঙ্গিত বহন করে। বিজ্ঞ আদালতে রতন বিশ্বাস গং যে জবাব দাখিল করেছে, তাতে প্রত্যকটি বিবৃতি মিথ্যা। সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের শতভাগ মিথ্যা তথ্য দিয়ে যেসকল পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে, তার প্রত্যেকটি বক্তব্য মিথ্যা। সকল মিথ্যাচার, অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র, অপকর্ম কে প্রতিরোধ করে সত্য স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তিনি বিবৃতি প্রদান করেন।

দুলাল মিয়া বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বরের সংবাদ সম্মেলনের খবর প্রকাশিত হলে, সন্ত্রাসীরা হুমকি দেয় দে, তারা মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে পরবর্তী উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করবে, প্রয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবে। গত বছরের ২ মে থেকে বন্ধ মুদি দোকানের ডিসেম্বর/২১ পর্যন্ত ভাড়া পরিশোধ করেও নিরুপায় হয়ে সিংজুরী নতুন ব্রিজ সংলগ্ন ভূমিতে মেছের আলী দোকান চালু করেন। গত ০৩ জানুয়ারী, ২০২২ রাতে সন্ত্রাসীরা উক্ত দোকানের সামগ্রী ভাংচুর করে। গত ৫ ই ডিসেম্বর র‌্যাব, মহাপরিচালক বরাবর মেছের আলী আবেদন করেন। মেছের আলীর জমিতে কোনো কৃষি শ্রমিক, ট্রাক্টর যাতে যেতে না পারে সেমর্মে আসামীরা এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি করেছে। আমিসহ মেছের আলী ও তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন কে হয়রানী করার জন্য আসামীরা নিয়মিত ষড়যন্ত্র করছে, হুমকি প্রদান করছে, ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। অদ্যাবধি সন্ত্রাসীদের মোট আট টি লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করলেও সন্ত্রাসীরা কোনো জবাব দেয় নাই, সংশোধন হয় নাই, সতর্ক হয় নাই, ধারাবাহিকভাবে বহুমুখী অপরাধ করে যাচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে দুলাল মিয়া বলেন, হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, নাটকীয়তা, হঠকারীতা, মিথ্যাচার, উৎপাত, উগ্র সাম্প্রদায়িকতা, প্রতারণা, অপপ্রচার, মিথ্যা স্বাক্ষ্য প্রদান, কুপরামর্শ, পরোচনা, অপ্রাসঙ্গিকতা, বিশিষ্ট ব্যক্তির রেফারেন্স ব্যবহার ও বিভ্রান্তিকর প্রচারনা, দায়িত্বশীল ব্যক্তির ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তারসহ বহুমুখী কৌশল ব্যবহার করে সন্ত্রাসীরা অপরাধ করে আসছে। খুন, জখম, গুম, ছিনতাই, অপহরণ, চাকরিচ্যুতি, সাসপেন্ড, ডিমোশন, পোস্ট ব্লক ইত্যাদির হুমকি দিয়ে আসছে। এসিড নিক্ষেপ, অগ্নি সংযোগ, গণধর্ষণ, মন্দির ভাঙ্গার কেস, সংখ্যা লঘু নির্যাতন সহ বিভিন্ন রকম হয়রানী মামলা দায়ের করবে মর্মে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে সন্ত্রাসীরা। এছাড়াও সন্ত্রাসীরা আরও কিছু নোংরা কৌশল ব্যবহার করে সংখ্যাধিক্য ও অনৈতিক সমর্থন নেয়ার কাজ করছে যা প্রকাশ করা যাবে না। সন্ত্রাসীদের কৌশল কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে। মির্জাপুর থানায় আপোস মীমাংসার মাধ্যমে রতন বিশ্বাস কে জমির দখল বুঝিয়ে না দিলে, হয়রানীমূলক মামলা দেওয়া হবে মর্মে সন্ত্রাসীদের পক্ষ হতে হুমকি দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ইতোপূর্বে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে রতন বিশ্বাস কে দখল বুঝিয়ে দিতে বাধ্য করার জন্য রতন বিশ্বাস কে বাদী করিয়ে সন্ত্রাসীরা হয়রানীমূলক হুমকির মামলা দায়ের করায়। ১৮ জন বাদী হয়ে ১৮ টি হুমকির মামলা দায়ের করে একতরফা ডিক্রি নিবে মর্মে সন্ত্রাসীরা হুমকি দেয়। সন্ত্রাসীদের অপকর্মের বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য প্রদান বাধাগ্রস্থ করার জন্য একঘরে করে, নিজ সমাজ সহ আশেপাশের যেকোনো মসজিদে মেছের আলীর ঈদের নামাজ ও কুরবানী নিষিদ্ধ করে, অতঃপর তা বাস্তবায়ন করে। অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করার জন্য মেছের আলীর মুদি দোকান সন্ত্রাসীরা বন্ধ করে দেয়। দুলাল মিয়া আরও বলেন, মেছের আলীর দলিল নাই মর্মে সন্ত্রাসীরা অপপ্রচার করেছে, প্রকৃতপক্ষে রতন বিশ্বাসের কোনো দলিল নাই। গত তদন্তে প্রথমবারের মতো রতন বিশ্বাস একটা দলিল প্রদর্শন করেছে যা প্রতারণামূলক প্রমাণ করার জন্য বিজ্ঞ আদালতের শরনাপন্ন হওয়া আবশ্যক। সিএস রেকর্ডীয় মালিক হতে বিগত আশিবছরে মালিকানা ও দখল হস্তান্তরের মাধ্যমে চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে বিগত ২৮ বছর যাবত মেছের আলী ভোগদখল করছে যা অদ্যাবধি চলমান, বিরাজমান, দৃশ্যমান, সর্বজন জ্ঞাত, সন্ত্রাসীরা অবগত। প্রকৃতপক্ষে, মেছের আলী জবরদখলকারী নন। মিথ্যা স্বাক্ষী ও বিবৃতির মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা সত্যকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। রতন বিশ্বাস সিএস মালিকের ওয়ারিশ না হয়েও আশিবছর পরে এসে নিজেকে সিএস রেকর্ডীয় মালিকের ওয়ারিশ দাবী করছে। রেকর্ডসূত্রে রতন বিশ্বাস জমি দাবী করলেও রেকর্ড সংশোধনের ঘোষণামূলক মামলায় মেছের আলী স্থিতিবস্থা আদেশ পেয়েছে যা এক প্রকার অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা। সন্ত্রাসীরা অপপ্রচার করছে এই মর্মে যে, মেছের আলী নিষেধাজ্ঞা পায় নাই, কোর্ট থেকে রতন বিশ্বাস দখল পেয়েছে। বেআইনী দখলের উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসীরা অবৈধ সমাবেশের ষড়যন্ত্র করছে। সকল দ্বিধা, দ্বন্দ, বিভ্রান্তি স্থায়ীভাবে নির্মূল আবশ্যক মর্মে দুলাল মিয়া বিবৃতি প্রদান করেন।

দুলাল মিয়া আরও বলেন, সন্ত্রাসীরা একাধিক ধারাবাহিক অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও কর্মজীবনে মেছের আলীসহ আমাকে হয়রানী, হেয় ও ক্ষতিগ্রস্থ করার জন্য সাংগঠনিকভাবে দীর্ঘবছর যাবত ষড়যন্ত্র করে আসছে। অনৈতিক কাজের কোনো ইতিহাস আমার নাই। আমার পরিবার সম্পর্কে যারা মিথ্যা, বানোয়াট, অগ্রহণযোগ্য, মানহানিকর বক্তব্য প্রদান করেছে, মহান মুক্তিযুদ্ধ হতে শুরু করে এযাবতকাল তারাও আমার পরিবারের কাছে নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছে। স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় তারা বিপদগামী হয়েছে। সাংবাদিক প্রশ্নের জবাবে দুলাল মিয়া বলেন, ভূমি বিরোধ এখানে মূল বিষয় নয়, এটা শুধুমাত্র একটা ইস্যু, মূল কারণ উগ্র সাম্প্রদায়িকতা। বিজ্ঞ আদালতের সকল মামলায় সন্ত্রাসীরা নিয়মিত সময়ের আবেদন করে থাকে, অপরদিকে বিজ্ঞ আদালতের আদেশ এবং থানার নোটিশ অমান্য করে সন্ত্রাসীরা প্রতিনিয়ত ধারাবাহিকভাবে বহুমুখী অপরাধ করছে, যা পূর্বপরিকল্পিত। তাদের সব অপরাধ মামলায় আনা সম্ভব না, জনসচেতনতা দরকার। শুধুমাত্র জরুরী এবং আবশ্যিক বিষয়েই মামলা করা হচ্ছে।

সাংবাদিক প্রশ্নের জবাবে দুলাল মিয়া আরও বলেন, আমরা অতিরজ্ঞিত কিছুই করি নাই। সাম্প্রদায়িক ইস্যুটা সন্ত্রাসীরাই সামনে এনেছে। এখানে অনেকগুলো ইস্যু আছে যা সেনসিটিভ, আমাদের এখন ভাবার সময় এসেছে। আমরা শুধু বাচার জন্য ডিফেন্স করছি। নিরীহ সংখ্যালঘু গৃহবধু শব্দগুলো তারাই ব্যবহার করেছে বিশেষ অপকৌশল হিসেবে। রতন বিশ্বাস মামলার আর্জি ও জবাবে পরিচয় ও পেশা হিসেবে নিরীহ সংখ্যালঘু ব্যবহার করেছে। ২য় পক্ষগণ এলাকার হিন্দুদের জায়গা জমি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করে মর্মে রতন বিশ্বাস আর্জিতে বিবৃতি দিয়েছে। আমরাও নোটিশে প্রতিবাদ করেছি, বিজ্ঞ আদালতে জবাব দিয়েছি। সাম্প্রদায়িক ইস্যু এখানে লুকোচুরি নয়, অপেন সিক্রেট বিষয়। বিজ্ঞ আদালত পর্যন্ত চলে গেছে। সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিচ্ছে যে, তারা খুন করলেও তাদের বিচার হবে না। দেশের কালচার অনুযায়ী, এসকল অপরাধ সংগঠিত করতে বিপুল পরিমান অর্থের প্রয়োজন হয়। সন্ত্রাসীরা নিজেরাও বলছে, টাকায় সব হয়। সন্ত্রাসীদের এই অর্থের উৎস্য কোথায় ? তাদের এই শক্তির উৎস্য কোথায়? তিনি আরও বলেন, মেছের আলীর আইনগত উদ্যোগ এবং আমার প্রতিবাদের সহিত কোনো সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা নাই, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবে নিজস্ব অর্থায়নে স্বতন্ত্র ও একক আইনী লড়াই। কোনো নিষিদ্ধ ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, সংগঠনের সহিত আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নাই। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আমরা নৈতিক ও যথার্থ জীবনযাপন করি। যেকোনো প্রকার শান্তি সম্প্রীতি শৃংখলা ভংগের বিন্দুমাত্র মনোভাব আমাদের কখনও ছিল না, এখনো নাই। আমরা অধিকারের জন্য লড়ছি, অন্যায়ের প্রতিবাদ করছি, একই সঙ্গে সমাজ, দেশ ও জনস্বার্থ বিবেচনা করেই সত্যটা প্রকাশ করে চূড়ান্ত ঝুঁকি বহন করার মানসিকতা নিয়ে জীবনযাপন করছি।

লিখিত বক্তব্যে দুলাল মিয়া বলেন, নিরুপায় ও অসহায় হয়ে এসবের প্রতিকার চেয়ে গত ২৮ শে ফেব্রুয়ারী মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ, মহাপরিচালক জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর এবং সরকারের দায়িত্বশীল একাধিক ব্যক্তি ও সংস্থা প্রধান বরাবর মেছের আলী দ্বিতীয় বারের মত একাধিক আবেদন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, দেশ ব্যাপী তৃণমূল হতে পাবলিক সার্ভিস, জনপ্রতিনিধি সর্বত্র সক্রিয় সদস্য বিদ্যমান। এই সন্ত্রাসী চক্রটির পরিচয় হলো তারা দেশবিরোধী মনোভাব সম্পন্ন কিছু সংখ্যক ব্যক্তি, যারা নীতি নৈতিকতা বিবর্জিত, মারাত্মক হিংসাপরায়ণ, সুযোগ সন্ধানী, স্বার্থান্বেষী, বহুজাতীয় কিন্তু দুষ্টু প্রকৃতির সমচরিত্রের বটে। চক্রটির পরিবারের নারী ও শিশু সদস্য সন্ত্রাসী কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে থাকে। তাদের অপকর্ম প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বিস্তার করছে। বিভিন্ন শ্রেণী, পেশা, বয়স ও ধর্মের কিছু সংখ্যক ব্যক্তি সমন্বয়ে হিন্দু আধিপত্য উগ্র সাম্প্রদায়িক চক্রটি গঠিত হয়েছে। বিষয়টি দেশ ও জনগুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

সন্ত্রাসী কর্তৃক সংগঠিত অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধকরণ, ভবিষ্যতে সংগঠিতব্য অপরাধ রোধকরণ, সুশাসনের অন্তরায় চিহ্নিতকরণ ও স্থায়ী নিমূল, মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টিকরণ এবং পরিচ্ছন্ন আগামী প্রজন্ম গঠনে জনসাধারণ, সুশীল সমাজ, বিজ্ঞানী, গবেষক, সাংবাদিক, কলামিস্ট, সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, দেশ ও জনস্বার্থে তিনি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেছেন বলে জানান।

স্থানীয়রা জানান, কৃষিবিদ দুলাল মিয়ার জন্যই সন্ত্রাসীরা আগাতে পারে নাই। সন্ত্রাসীরা অপকর্ম ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন মহলে তদবির চালিয়ে যাচ্ছে। মেছের বহুকাল ধরেই জমি ভোগ দখল করছে। রতন আর বলরামের বংশ আলাদা, রতন ওয়ারিশ হয় কিভাবে? হঠাৎ করেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাকে তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং ভবিষ্যতেও প্রত্যাখ্যান করবেন। এইরকম ঘটনা এলাকার ইতিহাসে কখনও ঘটে নাই। এলাকায় ভাল লোকের সংখ্যা বেশি। গুটি কয়েক দুষ্ট লোক এলাকায় সিন্ডিকেট করে ত্রাস আর সন্ত্রাসের রাজত্ব করেছে। সন্ত্রাসীদের শক্তি আসে টেলিফোনে আর ফান্ডের টাকায়। শান্তিভঙ্গ করলে পুরস্কার হিসেবে টাকা পায়, ভাগাভাগি করে, এটা এদের পেশা। রতন ইস্যু শেষ হলে আরেকটা ইস্যুতে জড়িয়ে পড়বে। এলাকাবাসী অতি দ্রুত এলাকায় শান্তি শৃংখলা দেখতে চান। এজাতীয় সামাজিক অপরাধ যাতে আর না ঘটে, সে মর্মে তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৬. এপ্রিল ২০২২ ০২:৩৯:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লাঠিবারি খেলা ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌরউদ্যান থেকে একটি মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয় ।

আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে গৃহবধূর আত্মহত্যা

শোভাযাত্রাটি শহরের গুরত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। পরে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনির সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক, পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্মসাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশরাফউজ্জামান স্মৃতি, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ প্রমুখ।

এই সকল কর্মসূচিতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ সর্বস্তরের নারী পুরুষ অংশগ্রহণ করে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. এপ্রিল ২০২২ ০৩:৪৮:এএম ৪ বছর আগে
টাঙ্গাইলে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে গৃহবধূর আত্মহত্যা - Ekotar Kantho

টাঙ্গাইলে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে গৃহবধূর আত্মহত্যা

একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে অভিমানে বীথি আক্তার (২৮) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার শোলা প্রতিমা গ্রামের বাবার বাড়িতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।

আরো পড়ুনঃ টাঙ্গাইলে ‘প্রেমিকের হাতে’ প্রবাসীর স্ত্রী খুনের অভিযোগ

নিহত বীথি আক্তার উপজেলার শোলা প্রতিমা গ্রামের তুলা মিয়ার মেয়ে এবং কৈয়ামধু গ্রামের সৌদি প্রবাসী আসরব আলীর স্ত্রী। তাঁদের ৮ বছরের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে।

পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত বেশ কয়েক দিন ধরে মোবাইল ফোনে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে গৃহবধূ বীথির কথা-কাটাকাটি চলছিল। বৃহস্পতিবার ভোরে গৃহবধূর মা ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় বীথি আক্তারকে দেখতে পান। তৎক্ষণাৎ তাঁকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সখীপুর থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন  বলেন, ‘সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পুলিশ ওই গৃহবধূর মরদেহটি উদ্ধার করে। পরিবারের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১৫. এপ্রিল ২০২২ ০২:০৫:এএম ৪ বছর আগে
কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।