একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ট্রাকচাপায় রুপম খান (১৮) ও নিশাত খান (১৮) নামের দুই কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন।
রোববার (২০ মার্চ) বিকেলে মির্জাপুর-বালিয়া আঞ্চলিক সড়কের ঘুঘী নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। চালক আজিজুল হককে আটক করে পুলিশ ট্রাকটি জব্দ করেছে।
রুপম খান উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের সাফর্তা গ্রামের রমিনুর রহমান খানের ছেলে ও নিশাত খান একই গ্রামের খোকন খানের ছেলে। তারা মির্জাপুর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।
পুলিশ জানায়, বিকেলে রুপম তার বন্ধু নিশাতকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে মির্জাপুরের দিকে রওনা দেন। পথে মির্জাপুর-বালিয়া আঞ্চলিক সড়কের ওই স্থানে পৌঁছার পর বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুত গতির ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলে রুপম খান নিহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় নিশাত খানকে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করার পর রাত আটটার দিকে তিনি মারা যান।
মির্জাপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. আলম চাঁদ বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রূপা আক্তার (৩০) নামের এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৮ মার্চ) দুপুরে উপজেলার তেজপুর গ্রামে তার স্বামী মিঠুন তালুকদারের বাড়ির উঠান থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর শনিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় লাশ ময়নাতদন্ত শেষে তার বাবা ছানোয়ার হোসেনের বাড়ি জেলার বাসাইল উপজেলার কাউলজানী মধ্যপাড়া এলাকায় তাকে দাফন করা হয়।
আরো পড়ুনঃ প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক মিডিয়ার এই স্বাধীনতা অব্যাহত থাকবে: কৃষিমন্ত্রী
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১০ বছর আগে জেলার বাসাইল উপজেলার কাউলজানী মধ্যপাড়া এলাকার ছানোয়ার হোসেনের মেয়ে রূপা আক্তার ও পাশের উপজেলার কালিহাতীর তেজপুর গ্রামের মোজাম্মেল তালুকদারের ছেলে মিঠুন তালুকদারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের ৩-৪ বছর পর মিঠুন বিদেশে যাওয়ার জন্য রূপার পরিবারের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে নেয়। সৌদিতে প্রায় দুই বছর থাকার পর সেখান থেকে আবার দেশে ফিরেন মিঠুন। দেশে ফিরে তিনি ট্যাফি ট্রাক্টর চালানো শুরু করেন। এরমধ্যে তাদের ঘরে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। এরপর থেকে যৌতুক দাবিতে রূপার পরিবারকে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে মিঠুন। টাকা না দেয়ায় বিভিন্ন সময় রূপাকে মারধর করে আসছিল। মারধরের পাশাপাশি স্বামীর পরকিয়া ও নেশাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ এনে রূপা তার কাছ থেকে বাবার বাড়িতে চলে আসে। প্রায় এক বছর আগে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়। তালাকের ৩-৪ মাস পর রূপাকে ফের বাড়িতে নেওয়ার প্রস্তাব দেয় মিঠুন। সাত বছরের কন্যা সন্তান থাকায় সহজেই রাজি হন রূপা। ফের স্বামীর বাড়িতে গেলে মারধরের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। সব শেষে গত বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায়ও রূপাকে মারধর করা হয়। পরদিন শুক্রবার (১৮ মার্চ) দুপুরের দিকে রূপার মৃত্যুর খবর তার বাবার বাড়িতে জানানো হয়।
রূপার মা রুমা বেগম বলেন, ‘বিদেশে যাওয়ার জন্য মিঠুনকে দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়। এছাড়াও আড়াই ভরি স্বর্ণ দেওয়া হয়। বিদেশ থেকে ফিরে মিঠুন আরও যৌতুক দাবিতে রূপাকে মারধর শুরু করে। একবার এসিড দেওয়ার চেষ্টাও করেছিল। এরপর আমরা রূপাকে মিঠুনের কাছ থেকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু আবার মিঠুন তাকে ফুঁসলিয়ে তার কাছে নেয়। বৃহস্পতিবার রাতেও তাকে মারধর করা হয়। এরপর ওই রাতেই আমার মেয়েকে তার স্বামী ও শ্বশুরসহ কয়েকজনে মিলে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখে। শুক্রবার দুপুরের দিকে আমাদের ফোন করে জানায়- রূপা মারা গেছে। আমরা ওই বাড়িতে গিয়ে দেখি লাশ উঠানে রাখা আছে। আর রূপার ৭ বছরের মেয়েকে নিয়ে তার স্বামী, শ্বশুরসহ বাড়ির সবাই পালিয়ে গেছে। এটা আত্মহত্যা নয়, এটা হত্যা। তারা আমার মেয়েকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে। আমি এই হত্যাকারীদের বিচার চাই।’
রূপার দাদি ভানু বেগম বলেন, ‘মিঠুন মদ-গাঁজা খায়। এছাড়াও অন্য এক মহিলার সাথে তার সম্পর্ক ছিল। আর বিদেশ থেকে ফিরে আরও টাকার জন্য রূপাকে মারধর করে আসছিল। এক পর্যায়ে রূপাকে হত্যা করে লাশ তারা ঝুলিয়ে রাখে। তারা হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে চাচ্ছে।’
রূপার চাচা শুকুর মাহমুদ বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা বাড়িতে গিয়ে দেখি রূপার ৭ বছরের এক মেয়ে নিয়ে তার বাবা মিঠুনসহ বাড়ির সবাই পালিয়ে গেছে। আমরা লাশটি বাড়ির উঠানে পেয়েছি। এঘটনায় পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে তারা মামলা নিবে।’
কাউলজানী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মনিরুজ্জামান বলেন, ‘শুনেছি মেয়েটিকে তার স্বামী মাঝে মধ্যেই মারধর করতো। বিভিন্ন সময় যৌতুক দাবি করে আসছিল। পরে শুনেছি তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে তার স্বামী।’
এব্যাপারে জানতে রূপার স্বামী মিঠুন তালুকদারের মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কালিহাতী থানার এসআই আল আমিন বলেন, ‘আমরা নিহতের লাশটি তার স্বামীর বাড়ির উঠানে শোয়ানো অবস্থায় পেয়েছি। মেয়েটির হাতে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
একতার কণ্ঠঃ কৃষিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, আগামী দুই বছর পর নির্বাচন। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার বিরোধী দল নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা নানা ধরনের মিথ্যাচার করছে।এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য আমাদেরকে রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারির কারনে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু এ নিয়ে দেশে এমন কোন কিছু তৈরি হয়নি যে এটা নিয়ে দেশে হাহাকার, দেশে একটি হৈ-চৈ সৃষ্টি হয়েছে এমন কিছু নয়। বিএনপির পায়ের নিচে মাটি নেই। তারা যদি মনে করে দ্রব্যমূল্যের সামান্য কিছু উর্ধ্বগতির জন্য দেশের একটা অরাজকতা সৃষ্টি করবে, রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করবে। তাহলে তারা সেই পরিস্থিতি তৈরি করতে পারবে না। এই সরকার অত্যন্ত সচেতন। জননেত্রী শেখ হাসিনা মানুষের দুঃখ-কষ্টে সব সময় মানুষের পাশে ছিল। সরকার টিসিবির মাধ্যমে দেশের এক কোটি মানুষকে স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য দিচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরো বলেন, দেশে কোন হাহাকার হবে না, তারা কোন অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারবে না।প্রয়োজনে আরো খাদ্য ও অনান্য সাহায্য নিয়ে আমরা সাধারন মানুষের পাশে দাড়াঁবো।
মন্ত্রী বলেন, এই নির্বাচন কমিশন একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ নির্বাচন করবে। আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নির্বাচনকে সহযোগিতা করা। যারা দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে চায়, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃস্টি করতে চায় তাদের আমরা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করবো।
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক মিডিয়া তারা যেভাবে কাজ করছে তাদের এই স্বাধীনতা অব্যাহত থাকবে। তারা স্বাধীনভাবে তাদের মতামত দিতে পারবে। সুশীল সমাজ তাদের স্বাধীনভাবে মতামত দিতে পারবে।রোববার(২০ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌরউদ্যানে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ টাঙ্গাইল জেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সাবেক সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মিসেস মনোয়ারা বেগমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন একুশে পদক প্রাপ্ত টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম, ছানোয়ার হোসেন, তানভীর হাসান ছোট মনির এমপি সহ জেলার অনান্য নেতাকর্মীরা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল শহীদ সালাহউদ্দিন সেনানিবাসের গলফ ক্লাবে তিনদিন ব্যাপী হ্যাবিট বৈশাখী কাপ গলফ টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছে। টুর্নামেন্টটিতে শতাধিক গলফার অংশ নিয়েছেন।
আরো পড়ুনঃ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব আগামী প্রজন্মের:কৃষিমন্ত্রী
শনিবার (১৯ মার্চ) সকালে গলফ টুর্নামেন্টটির উদ্বোধন করেন ১৯ পদাতিক ডিভিশনের ভারপ্রাপ্ত জিওসি ও ঘাটাইল এরিয়া কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নূর-এ-আলম মোহাম্মদ যোবায়ের সারোয়ার। এ টুর্নামেন্টে শতাধিক গলফার অংশগ্রহণ করেছেন।
এ সময় টুর্নামেন্টের আয়োজক প্রতিষ্ঠান হ্যাবিটের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ঘাটাইল শহীদ সালাহউদ্দিন সেনানিবাসের গলফার ছাড়াও ঢাকা, সাভার, ময়মনসিংহ বঙ্গবন্ধু সেনানিবাসসহ দেশের অন্যান্য গলফ ক্লাবের গলফাররা এ টুর্নামেন্টে অংশ নেন।
গলফ টুর্নামেন্ট প্রতিযোগিতায় প্রথম দিনে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন লে.কর্নেল ইমতিয়াজ মাহমুদ। এ সময় গ্রস ট্রফি অর্জন করেছেন কর্নেল মো. জাহাঙ্গীর আলম। ১৯ পদাতিক ডিভিশনের ভারপ্রাপ্ত জিওসি ও ঘাটাইল এরিয়া কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নূর-এ-আলম মোহাম্মদ যোবায়ের সারোয়ার পুরস্কার বিতরণ করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির উপজেলা ও পৌর শাখার নবগঠিত আহবায়ক কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৯ মার্চ) সকালে পৌরসভার উত্তর পাড়াস্থ সেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো: জাহিদের দ্বিতল বাসভবনের ছাদে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
নবগঠিত কমিটির আহবায়ক সিরাজুল হক সানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, বিএনপির কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য এ্যাড. ওবায়দুল হক নাসির।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শামছুল আলম, উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ওদুদ খান বাদল, নবগঠিত পৌর বিএনপির আহবায়ক আব্দুল বাছেদ করিম, যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল লতিফ, সদস্য সচিব ও সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন হেলাল, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. বেলাল হোসেন, শ্রমিক দলের আহবায়ক সুফি সিদ্দিকী, যুবদলের সদস্য সচিব মাহবুব হাসান সৌরভ, সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো: শাহীনুর রহমান শাহীন প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শুরুতে আহবায়ক কমিটির সদস্যরা প্রধান অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
পৌর শাখার আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব মো: আনোয়ার হোসেন হেলালের উপস্থাপনায় পরিচিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে উপজেলা বিএনপির ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের আগে বিএনপির অন্য গ্রুপের বেশ কয়েকজন কর্মী অনুষ্ঠানে আগত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এ্যাড. ওবায়দুল হক নাসিরের কর্মীদের উপর হামলা চালায়।এতে দুজন আহত হয়।পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
একতার কণ্ঠঃ কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের নয় মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত-আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম একটি মহাকাব্য। আর এ মহাকাব্যের রূপকার ও মহানায়ক হলেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু এ দেশের মানুষের কল্যাণে ও মানবতার জন্য আজীবন কাজ করেছেন, নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে, মানবতাকে ভালবেসে বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম। শনিবার(১৯ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে উপজেলা পরিষদের উন্মুক্ত মঞ্চে ধনবাড়ী উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বীরমুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সমবেত ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে কৃষিমন্ত্রী বলেন, তোমরা বড় হয়ে বঙ্গবন্ধুর জীবনী পড়বে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিজেদের জীবনে ধারণ করবে এবং বাস্তবে রূপ দিবে। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের। ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে না পারলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ হবে না। বঙ্গবন্ধুর এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে তোমরা এগিয়ে আসবে। উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, শান্তির বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব তোমাদের মতো আগামী প্রজন্মের।
বীরমুক্তিযোদ্ধা ড. আব্দুর রাজ্জাক আরো বলেন, বীরমুক্তিযোদ্ধারা এ দেশের এবং সকলের জন্য গর্বের ও অহংকারের। তাঁরা জীবনবাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা এ দেশটি স্বাধীন করেছিলাম, তাতে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। কাজেই, যতদিন পদ্মা, মেঘনা-যমুনা বহমান থাকবে,যতদিন চন্দ্র-সূর্য থাকবে, ততদিন মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে অম্লান হয়ে থাকবে।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আতাউল গণি, পুলিশ সুপার সরকার মো. কায়সার, ধনবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ হীরা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসলাম হোসাইন, পৌরসভার মেয়র মনিরুজ্জামান বকল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর ফারুক আহমাদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. শামছুল হুদা, খন্দকার জেব-উন নাহার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে কৃষিমন্ত্রী ধনবাড়ীতে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এক লক্ষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও নিজেদের যুগপূর্তি উপলক্ষে টাঙ্গাইলের সবুজ পৃথিবী সংগঠনটি এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
পরে বিকালে মন্ত্রী ধনবাড়ী সরকারি কলেজ মাঠে ‘তরুণের হাট’ এর ১৯ বছর পূর্তি উপলক্ষে তারুণ্যের উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।
একতার কণ্ঠঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা নাটকীয় মোড় নিয়েছে। আপন মা তার পরকীয়া প্রেমিককে নিয়ে তাদের হত্যা করে বলে পুলিশ জানায়। মিষ্টির সঙ্গে বিষ খাইয়ে মারা হয় দুই শিশুকে। পরে তাদের নাপা সিরাপ খাওয়ানো হয় ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে।
এ ঘটনায় বুধবার (১৬ মার্চ) রাতে নিহত ২ শিশুর পিতা ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে স্ত্রী, তার পরকীয়া প্রেমিকসহ ৪ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। এরপর মা লিমা বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরকীয়া প্রেমিক সফিউল্লাহসহ ৩ জন পলাতক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত লিমাকে আদালতে প্রেরণ করা হয় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য।
বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন জানান, লিমা আশুগঞ্জের একটি চাল-কলে কাজ করেন। আর তার স্বামী কাজ করেন ইটভাটায়। চাল-কলে কাজ করার সুবাদে আরেক শ্রমিক সফিউল্লার সঙ্গে লিমার পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তারা বিয়ে করারও সিদ্ধান্ত নেয়।
তিনি আরও জানান, পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে মিষ্টির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দুই শিশু ইয়াছিন ও মোরসালিনকে খাইয়ে হত্যা করে মা লিমা বেগম। মৃত্যুর ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য নাপা সিরাপের রিঅ্যাকশন হয়েছে বলে প্রচার করে। কিন্তু লিমার আচরণে প্রথমেই পুলিশের সন্দেহ হয়। অধিকতর জিজ্ঞাসায় সে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় লিমার প্রেমিক সফিউল্লাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে গত ১৩ মার্চ ওই দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দেশের সব পাইকারি ও খুচরা ফার্মেসি পরিদর্শন করে ওই ওষুধ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে পরীক্ষার প্রতিবেদন ন্যাশনাল কন্ট্রোল ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর জন্যও বলা হয়েছে।
সেই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১২ মার্চ দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে জানা যায় যে, দেশের অন্যতম প্রধান ফার্মাসিউটিক্যালস-এর উৎপাদিত নাপা সিরাপ (প্যারাসিটামল ১২০মিগ্রা./৫ মি.লি.) ব্যাচ নং- ৩২১১৩১২১, উৎপাদন তারিখ: ১২/২০২১, মেয়াদ উত্তীর্ণ তারিখ: ১১/২০২৩ নামীয় ওষুধটি সেবন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে একই পরিবারের ২ শিশু মৃত্যুবরণ করেছে।
এমতাবস্থায় ঔষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সব বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তাকে স্ব-স্ব নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অবস্থিত পাইকারি ও খুচরা ফার্মেসি পরিদর্শন করে ওই পদের নমুনা পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন ন্যাশনাল কন্ট্রোল ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হলো। পরবর্তীতে নাপা সিরাপ পরীক্ষা করে তার মধ্যে কোনো ক্ষতিকর উপাদান পায়নি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।
উল্লেখ্য, গত ১০ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের ইসমাঈল হোসেনের দুই ছেলে ইয়াছিন ও মোরসালিন নাপা সিরাপ খেয়ে মারা যায় বলে অভিযোগ তোলেন স্বজনরা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে ব্যতিক্রমী শিশুমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) সকালে শহরের হাতেখড়ি প্রি-প্রাইমারী স্কুল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জানা যায়, শহরের হাতেখড়ি প্রি-প্রাইমারী স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত মেলায় শিশুরাই ক্রেতা ও বিক্রেতার ভূমিকায় ছিল। এই মেলায় একাধিক স্টলে শিশুরা বিভিন্ন খাবার ও খেলনা সামগ্রী নিয়ে বসে। তবে এই খাবার সামগ্রীগুলো বিনামূল্যে অন্যান্য শিশুরা সংগ্রহ করে। মেলা উপলক্ষে শিশুরা মেতে ওঠে আনন্দে-উল্লাসে। দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয় খোলার শুরুতেই এমন আয়োজন দেখে শিশু-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি মুগ্ধ অভিভাবকগণ।
এদিকে, মেলায় জিলাপি, আকরি, চিনি সাঁজ, কদমা, চিতই পিঠা, তেলের পিঠা, কুলি পিঠা, খাজা, পোড়াবাড়ির চমচম, মাটির খেলনা, হাড়ি-পাতিলসহ নানান কিছুর পসরা সাজিয়ে আনন্দে দোকান করে তারা। মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয়। তবে অনুষ্ঠানে ছিলো না কোনও বড় অতিথি অথবা শিল্পী। এদিন সব দাঁয়িত্ব ও অতিথির আসনেও বসেছিল এই শিশুরাই।
অভিভাবক সামিমা সিথি বলেন, ‘বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন আয়োজনকে আমরা সাধুবাদ জানাই। দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয় খুলেছে। শিক্ষার্থীদের মনটাও ভালো ছিল না। তারা গম্ভিরভাবে দীর্ঘদিন বাসায় আটকা ছিল। সম্প্রতি বিদ্যালয় খুলেছে। বিদ্যালয় খুলেই এমন আয়োজন দেখে শিশুরা অনেক খুশি হয়েছে। যান্ত্রিক এবং প্রতিযোগিতার বাজারে বেড়ে ওঠা শিশুদের মানসিক বিকাশে এমন আয়োজন আরও হওয়া উচিত।’

অভিভাবক সুমাইয়া পারভীন শিলা বলেন, ‘সত্যিই এটা একটা ব্যতিক্রমী আয়োজন। আর শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। এদিন শিশুরা অনেক আনন্দে কাটিয়েছে। শিশুমেলায় উৎসবমূখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে শিশুরা।’
হাতেখড়ি প্রি-প্রাইমারী স্কুলের চেয়ারম্যান সাংবাদিক নওশাদ রানা সানভী বলেন, ‘আমরা বরাবরই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকি। এবার একটু ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। করোনাকালে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিশুরা তাদের বাসায় দীর্ঘদিন আটকে ছিল।
তিনি আরো বলেন, অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সাথে মেশার সুযোগ ছিল না। এজন্য আমরা শিশুদের মাঝে তার সহপাঠীর সঙ্গে আরও বন্ধুত্বপূর্ণ ভালোবাসা সৃষ্টির লক্ষে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মদিন ও শিশু দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য আমরা এই শিশুমেলার আয়োজন করেছি। এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ও শিশুদের মাঝে আনন্দ দিতে এবং গ্রামীণ ঐতিহ্য তুলে ধরতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারীর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি সরকারি ৬৬৩ বস্তা চাল, নগদ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার করেছে র্যাব-১২, সিপিসি-৩। বৃহস্পতিবার(১৭ মার্চ) সকালে অভিযান চালিয়ে সদর উপজেলার করটিয়া বাজারস্থ জমিদার বাড়ির পাশে শরৎ চন্দ্র সূত্রধরের গুদাম ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়।বৃহস্পতিবার দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে র্যাব-১২, সিপিসি-৩ ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার ও সহকারী পুলিশ সুপার এরশাদুর রহমান।
এসময় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারি করার অপরাধে শরৎ চন্দ্র সূত্রধরকে আটক করা হয় ।আটককৃত শরৎ চন্দ্র সূত্রধর(৬০) করটিয়া কলেজ পাড়া এলাকার সুবল চন্দ্র সূত্রধরের ছেলে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব-১২, সিপিসি-৩ ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার ও সহকারী পুলিশ সুপার এরশাদুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার করটিয়া বাজারস্থ জমিদার বাড়ির পাশে শরৎ চন্দ্র সূত্রধরের গুদাম ঘরের ভিতরে কালোবাজারী ও মজুদধারী খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৬৬৩ বস্তা চাউল উদ্ধার হয় এবং ওই গুদাম ঘরের মালিক শরৎ চন্দ্র সূত্রধরকে আটক করা হয়।
তিনি আরো জানান, সরকার কর্তৃক ১০ টাকা মূল্যে গরীব দরিদ্রদের জন্যে সরবরাহকৃত চাল বেশী মুনাফা লাভের আশায় অবৈধভাবে সংগ্রহ করে মজুত করে বেশী দামে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন লোকজনের নিকট বিক্রি করে আসছিল। আটককৃতের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন এর ২৫(১)/২৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন মিনারেল বা খনিজ উপাদানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ যেমন- ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ইত্যাদি। এগুলো ছাড়া আরও কতকগুলো উপাদান আছে যেগুলো সামান্য পরিমাণে হলেও সুস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। শরীরের ওজনের মাত্র ০.০১% মাত্রায় বিদ্যমান এই ‘ট্রেস এলিমেন্টগুলো’ শরীরের বিভিন্ন এনজাইম, হরমোন এবং কোষকলার অংশবিশেষ হওয়ায় এগুলোও শরীরের জন্য অপরিহার্য। স্বল্প মাত্রার অথচ পুষ্টিকর এসব উপাদানকেই ‘এসেনশিয়াল ট্রেস এলিমেন্টস’ বলা হয়।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক প্রফেসর ড. জাকিয়া বেগম।
বিভিন্ন কারণে মিনারেল ঘাটতি দেখা দেয়ার কারণ হচ্ছে খাদ্যে অথবা সম্পূরক খাদ্যে প্রয়োজনীয় মাত্রায় এসব উপাদানের অনুপস্থিতি। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস যেমন- বেশি পরিমাণে প্রক্রিয়াজাত বা টিনজাত খাদ্য গ্রহণ, খাদ্য তালিকায় শাক-সবজি বা ফলমূলের পরিমাণ কম থাকা, কম-ক্যালরিযুক্ত বা নিয়ন্ত্রিত খাদ্য গ্রহণ, নিরামিষাশী, খাদ্য হজমজনিত কোনো রোগ, কোনো কারণে সঠিক পর্যায়ে খাদ্য শোষণে ব্যর্থতা, বিভিন্ন খাদ্যে অ্যালার্জি বা দুগ্ধশর্করায় (ল্যাকটোজ) অসহনীয়তা ইত্যাদি কারণেও এ ধরনের রোগ দেখা দিতে পারে।
লোহা : লোহা এরূপ একটি ক্ষুদ্র উপাদান যার পরিমাণ শরীরের ওজনের মাত্র ০.০০৪%। রক্তস্থ হিমোগ্লোবিন শরীরের কোষকলাগুলোতে শক্তি ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে থাকে। শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় কম লোহা থাকলে হিমোগ্লোবিন উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে। শরীরে লোহা অথবা হিমোগ্লোবিনের ঘাটতিকেই রক্তশূন্যতা বলা হয়। লোহার ঘাটতি থেকে শরীরে দুর্বলতা দেখা দেয় এবং শরীর সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এমনকি এ ধরনের রক্তশূন্যতার কারণে হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে মৃত্যু ঘটতে পারে। স্বল্প মাত্রার লোহার ঘাটতি থেকে মস্তিষ্কের বুদ্ধিমত্তার ব্যাঘাতও সৃষ্টি হতে পারে। আমাদের দেশে রক্তশূন্যতা গর্ভকালীন মাতৃ মৃত্যুর প্রধান কারণ। পুরুষ ও বয়স্ক মহিলাদের জন্য প্রতিদিন ৮ মিলিগ্রাম এবং অল্প বয়স্ক মহিলাদের জন্য প্রতিদিন ১৮ মিলিগ্রাম লোহার প্রয়োজন হয়। মাংস, কলিজা, সীমজাতীয় সবজি, বাদাম, সম্পূর্ণ শস্যদানা যেমন; বাদামি চাল, ঝিনুক, কলা, আপেল, গাঢ় সবুজ শাক-সবজি ইত্যাদি খাদ্য থেকে আয়রন পাওয়া যায়।
জিঙ্ক বা দস্তা : এই উপাদানটি শরীরের বিভিন্ন বিপাকীয় পদ্ধতি যেমন আমিষ সংশ্লেষণ, রোগ-প্রতিরোধক কার্যাবলী, ক্ষত থেকে আরোগ্য লাভের প্রক্রিয়া, কোষ বিভাজন ও ডিএনএ সংশ্লেষণ, টেসটোসটেরন জাতীয় পুরুষ হরমোন তৈরি, মেলাটোনিন তৈরি ইত্যাদি প্রক্রিয়াগুলোকে প্রভাবিত করে থাকে। এছাড়া গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের সঠিক বিকাশ ও বৃদ্ধি লাভের ক্ষেত্রে এবং শিশু বয়সে এবং বয়োসন্ধিকালে শরীরের বৃদ্ধি ও পূর্ণতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উপাদানটির অভাবে স্মৃতিশক্তি হ্রাস, রোগ-প্রতিরোধক ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ার কারণে ঘন ঘন ঠাণ্ডা লাগা, ডায়রিয়া, ঘুমের সমস্যা, খাদ্যে অরুচি এবং খাদ্যের স্বাদ ও গন্ধ অনুভবের ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, চুল পড়া, ত্বকের ক্ষতি ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। উপাদানটির অতিমাত্রার ঘাটতি থেকে হতবুদ্ধিতা জাতীয় মানসিক প্রতিবন্ধকতা, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এবং যৌন অক্ষমতা দেখা দেয়ার আশংকাও থাকে।
লাল মাংস, হাঁস-মুরগির মাংস, ঝিনুক ইত্যাদি প্রাণিজাতীয় ও দুগ্ধজাতীয় খাদ্য, ডার্ক চকলেট, বাদাম, শিম জাতীয় উদ্ভিদ ইত্যাদিতে এই উপাদানটি পাওয়া যায়। মিষ্টি কুমড়ার বিচি জিঙ্কের একটি ভালো উৎস।
আয়োডিন : থাইরয়েড থেকে নিঃসৃত এই হরমোনটি থাইরয়েড গ্রন্থির সঠিক পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয়। কোষকলার বিপাকীয় কার্যকলাপ পরিচালনা, খাদ্যকে শক্তিতে রূপান্তরিত করা, অতিরিক্ত চর্বির বিপাকীয় ব্যবহার, ইস্টোজেন জাতীয় হরমোনকে নিয়ন্ত্রণ করা, শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, মানসিক ক্ষিপ্রতা এবং বোধশক্তির উন্নতি সাধন ইত্যাদি ক্ষেত্রে এই হরমোনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সাধারণত ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে মহিলাদের এবং গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে এই হরমোনটির ঘাটতি হতে দেখা যায়। গলগণ্ড রোগটি আয়োডিন ঘাটতির প্রধান লক্ষণ। দীর্ঘদিন ধরে থাইরয়েড গ্রন্থি প্রয়োজনীয় মাত্রায় আয়োডিন উৎপাদনে ব্যর্থ হলে ‘হাইপোথাইরয়েডিজম’ রোগ দেখা দেয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘাটতি থেকে ‘ক্রিটেনিজম নামক’ বিপজ্জনক অবস্থার সৃষ্টি হয় যে, শিশু শারীরিক এবং মানসিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়ে পড়ে। ১-৮ বছরের শিশুর প্রতিদিনের চাহিদা ৯০ মাইক্রোগ্রাম, ৯-১৩ বছর পর্যন্ত ১২০ মাইক্রোগ্রাম এবং ১৪ বছর থেকে আরম্ভ করে বয়স্কদের জন্য তা ১৫০ মাইক্রোগ্রাম। সামুদ্রিক বিভিন্ন উদ্ভিদ, মাছ ও অন্যান্য খাদ্য, ডিম, দুধ এবং আয়োডিনযুক্ত লবণ আয়োডিনের প্রধান উৎস।
সেলেনিয়াম : সেলেনিয়াম শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অপর একটি ‘ট্রেস এলিমেন্ট’। শরীরের প্রায় দু’ডজনেরও বেশি সেলেনোপ্রোটিনের মধ্যস্থ একটি উপাদান হচ্ছে সেলেনিয়াম যে উপাদানটি প্রজনন ক্ষমতা, থাইরয়েড হরমোনের বিপাকীয় কার্যক্রম, ডিএনএ-র সংশ্লেষণজনিত প্রক্রিয়াগুলোকে প্রভাবিত করা ছাড়াও জারণ প্রক্রিয়ায় সংঘটিত কোষকলার ক্ষতি এবং রোগের সংক্রমণ রোধে ভূমিকা রাখে। উপাদানটির অভাবে হৃদপিণ্ডের সমস্যা, মানসিক প্রতিবন্ধতা, মাংসপেশীতে ব্যথা বা মাংসপেশীর দুর্বলতাও দেখা দিতে পারে। প্রতিদিনের চাহিদা ৫৫ মাইক্রো গ্রাম মাত্র। মাছ, গরু-ছাগলের মাংস, হাঁস-মুরগির মাংস এবং ডিম, শস্যদানা, বাদাম এবং বীজজাতীয় খাদ্য থেকেই প্রতিদিনের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রায় সেলেনিয়াম পাওয়া যায়। নখ এবং চুল বিশ্লেষণ করে শরীরে বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদি সেলেনিয়ামের মাত্রা বিশ্লেষণ করা যায়।
তামা : তামা বিভিন্ন প্রকার আমিষ, এনজাইম এবং শ্বাসতন্ত্র সংক্রান্ত কোষকলার মধ্যস্থ এনজাইমগুলোর একটি উপাদান যা শারীরিক বিকাশ এবং বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উপাদানটি রক্তের হিমোগ্লোবিনের লোহা সংযুক্তিতে, ত্বকের স্বাভাবিক রং ধরে রাখতে, স্নায়ুর সংকেত আদান-প্রদানে, পরিপাকতন্ত্র, বিপাকীয় কার্যক্রম এবং রোগ-প্রতিরোধক কার্যক্রম পরিচালনায় অবদান রাখে। অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুরা এবং রক্তশূন্যতায় আক্রান্তদের ক্ষেত্রে তামার স্বল্পতা দেখা যায়। উপাদানটির অভাবে রক্তে শ্বেতকণিকার স্বল্পতা, অনিয়ন্ত্রিত হৃদস্পন্দন, হাড়ের সমস্যা, রোগ-প্রতিরোধক তন্ত্রের সমস্যা এবং চুল ও নখের বৃদ্ধিতে সমস্যা দেখা দেয়। সামুদ্রিক খাদ্য, বাদাম, শিম বা মটরজাতীয় বীজ, শাক-সবজি, ফলমূল, গরু বা খাসির যকৃত ইত্যাদিতে এই উপাদানটি পাওয়া যায়। প্রতিদিনের জন্য প্রয়োজন মাত্র ৯০০ মাইক্রোগ্রাম। গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মায়েদের জন্য মাত্রাটা একটু বেশি হওয়া ভালো।
কোবাল্ট : এটি ভিটামিন বি-১২ এর একটি উপাদান হওয়ায় কোবাল্টের ঘাটতি মানে ভিটামিন বি-১২ এরই ঘাটতি। প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় মাত্রা মাত্র ০.০০০১ মিলিগ্রাম। এটি অস্থিমজ্জার কোষকলাকে উজ্জীবিত করে লোহিত রক্তকনিকা তৈরিতে সাহায্য করে, থাইরয়েড কর্তৃক আয়োডিন শোষণে বাঁধা প্রদান করে এবং বিভিন্ন ধরনের এনজাইমের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে। এটির অভাবে জটিল ধরনের রক্তশূন্যতা, শারীরিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা, কোনো কোনো অঙ্গের বিশেষ করে হাত ও পায়ের দুর্বলতা ও অসাড়তা অনুভব করা, বমিভাব, মাথাব্যথা, মানসিক বিভ্রমতা, পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, ওজন হ্রাস, থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া, হৃদযন্ত্রের সমস্যা, স্নায়বিক সমস্যা ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিনের ঘাটতি থেকে স্নায়বিক সমস্যা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়ার আশংকা থাকে। গরু-ছাগলের যকৃতে, ঝিনুক, মাছ, ডিম, সয়া খাদ্য, সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ ইত্যাদি কোবাল্টের ভালো উৎস। ডালজাতীয় উদ্ভিদ, বাঁধাকপি, লেটুস ইত্যাদিতে অল্প মাত্রায় কোবাল্ট পাওয়া যায়।
ম্যাংগানিজ : সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন এনজাইম তৈরিতে এবং এনজাইম সংক্রান্ত বিভিন্ন বিক্রিয়া ঘটাতে এই উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। শর্করা, ফ্যাটি এসিড এবং আমিষের বিপাকে, রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে, রক্ত জমাট বাঁধার কাজে, হাড় তৈরি, শক্ত ও মজবুত করতে, মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র ও রোগ-প্রতিরোধক তন্ত্রের সঠিক পরিচালনা, মাইটোকনড্রিয়াতে বিদ্যমান সুপার অক্সাইড নামক ফ্রি রেডিকেলকে বিশ্লেষিত করে ক্ষতিকর প্রভাবমুক্ত করা ইত্যাদি কাজে এই উপাদানটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে উপাদানটির স্বল্পতা হাড়কে দুর্বল ও ভঙ্গুর করে তোলে। পূর্ণ শস্যদানা, বাদাম, চা-কফি, পাতাবিশিষ্ট সবুজ শাক-সবজিতে এটি পাওয়া যায়।
ক্রোমিয়াম : শরীরের শর্করা, চর্বি এবং আমিষ জাতীয় পদার্থগুলোর বিপাকীয় কার্যক্রম পরিচালনায় এই উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই এই উপাদানটির সামান্য স্বল্পতা থেকেও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। এটি রক্তে এইচডিএল-এর পরিমাণ বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। ক্রোমিয়ামের অভাবে রক্তবাহী ধমনি সরু হয়ে ওঠা, উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পাওয়া, শরীরের শক্তি কমে যাওয়া, মানসিক অস্থিরতা দেখা দেয়া, শিশুদের শরীরের বৃদ্ধি হ্রাস পাওয়া, সার্জারি থেকে সৃষ্ট ক্ষত বা যে কোনো ধরনের ক্ষত থেকে আরোগ্য লাভ বিলম্বিত হওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। মাশরুম, ডার্ক চকলেট, পনির, বাদাম, পূর্ণ শস্যদানা, পাকা টমেটো, লেটুস, পেঁয়াজ, গোল মরিচ এবং বিভিন্ন মশলা, ডালজাতীয় শস্য ইত্যাদি থেকে এই উপাদানটি পাওয়া যায়।
ফ্লোরিন : ফ্লোরিনও শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় একটি উপাদান যা বিশেষ করে হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উপাদানটির অভাবে দাঁত ও হাড়ের ক্ষয় বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। পানিই ফ্লোরিনের প্রধান উৎস্য তবে সামুদ্রিক মাছ, চা এবং কফিতেও এটি বিদ্যমান। প্রতিদিনের জন্য নিরাপদ মাত্রা ১.৫ মিলিগ্রাম থেকে ৫.০ মিলিগ্রাম।
সংবাদ সূত্র-যুগান্তর অনলাইন
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ইটবোঝাই ট্রাকের চাপায় লুৎফর রহমান (৬০) নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৬ মার্চ) দুপুরে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় মঞ্জু মিয়া (৩৬) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।
নিহত লুৎফর রহমান টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের হাতিলা গ্রামের এলাহী বক্সের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত কাজ শেষ করে লুৎফর রহমান মোটরসাইকেলে করে সখীপুর থেকে টাঙ্গাইল ফিরছিলেন। সখীপুর-গোড়াই আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রতিমা বংকী বাজারে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ইটবোঝাই বেপরোয়া গতির একটি ট্রাক প্রথমে সড়কের পশ্চিমপাশে থাকা একটি মোটরসাইকেলকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ওই মোটরসাইকেলের চালক মঞ্জু মিয়া ছিটকে পাশের খেতে পড়ে যান। পরে ট্রাকটি ডান দিকে সরে গিয়ে সড়কের পূর্বপাশে থাকা লুৎফর রহমানের মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এ সময় লুৎফর রহমানের মাথা থেঁতলে গিয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
অপরদিকে, আহত মঞ্জু মিয়াকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর ট্রাকচালক তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। ট্রাকচালক অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিল বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
নিহত লুৎফর রহমানের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী মুক্তা আক্তার বলেন, টাঙ্গাইলের করটিয়া বাজারে ইলেকট্রনিকসের দোকান করতেন আমার ভাশুর। তাঁর দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে। বুধবার ভোরে পারিবারিক জমি সংক্রান্ত কাজে সখীপুর গিয়েছিলেন তিনি।
সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত দুইটি মোটরসাইকেল ও ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ “ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থায় ন্যায্যতা” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে টাঙ্গাইলে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস পালিত হয়েছে।টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস উপলক্ষে আলোচনা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আমিনুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে আলোচ্য বিষয় উপস্থাপন করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক সৈয়দা তামান্না তাসনিম।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইলের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফারজানা তাহের মুনমুন, টাঙ্গাইল জেলা তথ্য অফিসের সহকারী পরিচালক তাহলিমা জান্নাত, হিউম্যান রাইটস্ রিভিউ সোসাইটি টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি মো. রাশেদ খান মেনন (রাসেল), বিসিক টাঙ্গাইলের সভাপতি, ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক, পার্ক বাজার বণিক সমিতির সভাপতি, সম্পাদক, বটতলা বাজার সমিতির সভাপতি, বৈল্ল্যা বাজার সমিতির সভাপতি, জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা, জেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর, ঘাটাইল উপজেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা’সহ বিভিন্ন পর্যায়ের সুধীজন।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর অধীনে অভিযোগ দায়ের এবং অপরাধ ও দণ্ডের বিধান নিয়ে আলোচনা করা হয়। ভোক্তা ও বিক্রেতাদের জ্ঞাতার্থে, আইনটিতে বর্ণিত অভিযোগ দায়ের, ভোক্তা অধিকার বিরোধী কার্য ও অপরাধ এবং দণ্ডের বিধান নিয়ে আলোচনা করা হয়।