একতার কণ্ঠঃ কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের প্রয়োজনীয় খাদ্য নিশ্চিত করেছেন। দেশে এখন আর কেউ না খেয়ে থাকে না।
এখন প্রধানমন্ত্রী মানুষের বাসস্থান ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে কাজ করছেন। ঘরহীনকে ঘর দিচ্ছেন, যাতে করে কেউ ঘরহীন, গৃহহীন না থাকে। এ দেশে কেউ ঘরহীন থাকবে না।
শনিবার (৫ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলের মধুপুরে শোলাকুড়িতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিতরণ ও শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। মধুপুর উপজলা প্রশাসন ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মধুপুরের আদিবাসী গারোদের উদ্দেশে মন্ত্রী আরও বলেন, বাঙালি, গারো, হাজং, চাকমা, মারমাসহ অবাঙালি ও সকল ধর্মের বর্ণের সবাই মিলে আমরা একটা পরিবার। বর্তমান সরকার আদিবাসী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু কিছু এনজিও আদিবাসীদের উন্নয়নের নামে বিদেশি সাহায্য এনে নিজেদের ব্যক্তিগত উন্নয়নে ও বাড়ি-গাড়ি কেনায় তা ব্যয় করছে। এ ব্যাপারে আদিবাসীদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, গারোদের ওপর বন বিভাগের অযৌক্তিক মামলা প্রত্যাহারে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। কোনো গারোকে তার বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হবে না এবং কেউ বন বিভাগের অযৌক্তিক মামলার মাধ্যমে হয়রানির শিকার হবেন না।
অনুষ্ঠানে উপজেলা চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলম খান আবু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা ইয়াসমিন, পৌরসভার মেয়র মো. সিদ্দিক হোসেন খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াকুব আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শরীফ আহম্মেদ নাসির, শোলাকুড়ি ইউপির চেয়ারম্যান আখতার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বালুমহাল দখল নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছে । শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল ওহাব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানান, গত ৩ জানুয়ারি ভূঞাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বাদি হয়ে ৫৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৮শ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। এদিকে মামলা দায়েরের পর থেকেই এলাকায় গ্রেপ্তার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ কারণে অনেক পুরুষ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের বাগানবাড়ি এলাকায় বালু মহাল দখল করতে যায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল মতিন সরকার ও তার লোকজন। খবর পেয়ে বাধা দেয় বর্তমান নিকরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বহিস্কৃত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হক মাসুদের সমর্থকরা। এসময় পুলিশের উপস্থিতিতেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করতে ৪ রাউন্ড গুলিও করা হয়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হন।
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওহাব জানান, সংঘর্ষের সময় গুলি করার কোন ঘটনা ঘটেছে কিনা সেটা তদন্ত হচ্ছে। সংঘর্ষের সময়ের ভিডিও দেখে আসামি শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় বালু ঘাট ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডের ভোটারদের শতভাগ করোনার টিকার আওতায় আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এস.এম সিরাজুল হক আলমগীর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন।
পৌরসভার মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে মেয়র জানান, পৌরসভার ১৮ টি ওয়ার্ডে ১ লাখ ২৪ হাজার ১৭০ জন ভোটার রয়েছে। সেখানে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৩০০ মানুষকে করোনার টিকা প্রদান হয়েছে। টাঙ্গাইল পৌরসভার আওতায় ৪৪ হাজার ৩০০ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৫০০ জনকে সিনোফার্মের প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ, ২৭ হাজার ৮০০ জনকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১ম ডোজ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালের মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার শতভাগ ভোটারকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, অন্যদিকে ১২ থেকে ১৮ বছরের শিক্ষার্থীদেরও করোনার টিকা দেওয়া হচ্ছে।
পৌর এলাকায় শতভাগ টিকা কার্যক্রমের বিষয়টি সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খানও নিশ্চিত করেছেন।
মেয়র আরো জানান, করোনা প্রতিরোধে ১৮ টি ওয়ার্ডে জনসচেতনামূলক মাইকিং, লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও পৌর এলাকায় দুই লাখ মাস্ক, দুই হাজার অ্যান্টিসেপটিক সাবান, এক হাজার হ্যান্ড ওয়াশ, ১৫ হাজার হ্যান্ডস্যানিটাইজার ও শহরের গুরত্বপূর্ণ স্থানে হাসধোয়ার জন্য বেসিন স্থাপন করা হয়েছে। অপর দিকে প্রতিটি ওয়ার্ডে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জীবাণুনাশক ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। করোনায় কর্মহীন গরীব, দুস্থ, অসহায়, কর্মহীন প্রায় দুই লাখ মানুষের মাঝে খাবার প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। চলতি শীত মৌসুমে পৌর এলাকায় ১৮ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা, প্যানেল মেয়র তানভীর ফেরদৌস নোমান, পৌরসভার সচিব শাহনেওয়াজ পারভীন, নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহমেদ আজমী প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ ‘উদ্দীপ্ত ৯’ স্লোগান নিয়ে সাম্প্রতিক দেশকাল পত্রিকার নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে কেক কাটা, সংক্ষিপ্ত আলোচনা, আনন্দ-আড্ডায় ঘরোয়া পরিসরে উদযাপিত হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা, নিউ এইজ পত্রিকার টাঙ্গাইল প্রতিনিধি হাবিব খান, এটিএন বাংলা ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি নাসির উদ্দিন, সিনিয়র সাংবাদিক মাসুম ফেরদৌস প্রমুখ।
এছাড়াও ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রতিনিধি মামুনুর রহমান, জাগো নিউজের প্রতিনিধি আরিফ উর রহমান টগর, বাংলাদেশ পোস্ট প্রতিনিধি তানজিনুল হক খান রুমন,আজকের নতুন খবর এর স্টাফ রিপোর্টার আফজাল হোসেন, সাপ্তাহিক কালের স্বর পত্রিকার শামছুজ্জামান জামান, সাংবাদিক আশিকুর রহমান পলাশ, সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিনিধি তোফায়েল আহমেদ রনি, বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিনিধি এনায়েত করিম বিজয়, ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল নোমান,রাইজিং বিডির প্রতিনিধি আবু কাওসার আহমেদ কলকাতা টিভির প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান মনির, সাংবাদিক আসিফ খানসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাম্প্রতিক দেশকালের টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি নওশাদ রানা সানভী।
একতার কণ্ঠঃ বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপদেষ্টা সদস্য, সংবিধান প্রণেতা কমিটির সদস্য, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সম্পাদক, মির্জা তোফাজ্জল হোসেন মুকুলকে ভাষা আন্দোলনে বিশেষ অবদান রাখায় এ বছর (২০২২) মরণোত্তর একুশে পদকের জন্য মনোনিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব বাবুল মিয়া স্বাক্ষরিত অনুষ্ঠান শাখার সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই তথ্য জানানো হয়।
জানা যায়, মির্জা তোফাজ্জল হোসেন মুকুল ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন প্রাক্তন রাজনীতিবিদ ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি ৬ দফা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণসহ তৎকালীন সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। বিগত ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের সংগঠক ছিলেন। তিনি ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণেতা কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৭৩ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে টাঙ্গাইল-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। মির্জা তোফাজ্জল হোসেন মুকুল জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে ১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও টাঙ্গাইল জেলা আইনজীবী সমিতির টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন। মির্জা তোফাজ্জল হোসেন মুকুল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মির্জা তোফাজ্জল হোসেন মুকুল (৮৭) বছর বয়সে ২০১৬ সালের (৫ এপ্রিল) সোমবার রাত পৌনে ১০টায় ঢাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্তেকাল করেন। তার পরিবারে ৩ ছেলে, ২ মেয়ে রয়েছে। মৃত্যুর পর তার প্রথম জানাজা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এবং পরে তার দ্বিতীয় জানাজা নিজ গ্রাম টাঙ্গাইলের দিঘুলিয়াতে অনুষ্ঠিত হয়। প্রবীণ এই রাজনীতিকের কোমরের হাড় ভেঙ্গে যাওয়ায় মৃত্যুর দুই মাস আগে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন। এ সময় তিনি হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর মির্জা তোফাজ্জল হোসেন মুকুল দীর্ঘ ৪০ বছর টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তৎকালীন পাকিস্তানে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আইনজীবী হিসেবে টাঙ্গাইল বারের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। ফরিদপুর-১ আসনের দুই বারের সাবেক এমপি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান তার বড় জামাতা।
এ ছাড়া এ বছর আরো পুরস্কার পেয়েছেন ভাষা আন্দোলনে মোস্তফা এম এ মতিন (মরণোত্তর), মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য চারজন—বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ অধ্যক্ষ মো. মতিউর রহমান, সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী (মরনোত্তর), কিউ.এ. বি. এম রহমান, আমজাদ আলী খন্দকার, শিল্পকলা’য় জিনাত বরকতউল্লাহ (নৃত্য), নজরুল ইসলাম বাবু (মরণোত্তর) (সংগীত), ইকবাল আহমেদ (সংগীত), মাহমুদুর রহমান বেণু (সংগীত), খালেদ মাহমুদ খান (খালেদ খান) (মরণোত্তর) (অভিনয়), আফজাল হোসেন (অভিনয়), মাসুম আজিজ (অভিনয়)। সাংবাদিকতায় এম এ মালেক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মো. আনোয়ার হোসেন, শিক্ষায় অধ্যাপক ড. গৌতম বুদ্ধ দাশগুপ্ত, সমাজ সেবায় এস. এম আব্রাহাম লিংকন ও সংঘরাজ জ্ঞানশ্রী মহাথের, ভাষা ও সাহিত্যে কবি কামাল চৌধুরী ও ঝর্ণা পুরকায়স্থ, গবেষণায় ড. মো. আব্দুস সাত্তার মণ্ডল, ড. মো. এনামুল হক (দলগত, দলনেতা), ড. সাহাজ সুলতানা (দলগত), ড. জান্নাতুল ফেরদৌস (দলগত)।
নীতিমালা অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রত্যেককে এককালীন নগদ চার লাখ টাকাসহ ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেয়া হয়। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে চালু করা একুশে পদক সরকার প্রতিবছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দিয়ে থাকে।
বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাহিত্যিক, শিল্পী, শিক্ষাবিদ, ভাষাসৈনিক, ভাষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক, অর্থনীতিবিদ, দারিদ্র্যবিমোচনে অবদানকারী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পর্যায়ে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৬ সাল থেকে একুশে পদক দেওয়া হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড(বিসিবি) আয়োজিত শেখ কামাল অনুর্ধ্ব-১৮ জোনাল ক্রিকেটের সেন্টাল জোনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টাঙ্গাইল জেলা দল।
বৃহস্পতিবার(৩ ফেব্রয়ারি) টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় ঢাকা জেলা দলকে ৫০ রানে হারিয়ে পর পর দুই বার চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করে টাঙ্গাইল জেলা অনুর্ধ্ব-১৮ ক্রিকেট দল।
ইতিপূর্বে এ বছরের ৯ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা অনুর্ধ্ব-১৪ ক্রিকেট দল ময়মনসিংহ জেলা দলকে ২৮ রানে হারিয়ে হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরর অর্জন করে।
বৃহস্পতিবার(৩ ফেব্রয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় প্রথমে টসে জিতে টাঙ্গাইল জেলা দল ব্যাটিং করে ৪৯ ওভার ৪ বল খেলে সব কটি উইকেট হারিয়ে ২০৩ রান করে। টাঙ্গাইল জেলা দলের পক্ষে অল-রাউন্ডার রিফাত-আল-জাবির সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন। এছাড়া অলরাউন্ডার ফেরদৌস হাসান লিমন ৩৫, মাইন হোসেন সরকার ২৭ ও রিজান হোসেন ২১ রান করে। ঢাকা জেলা ক্রিকেট দলের পক্ষে বোলার তুষার ও সোহাগ যথাক্রমে ৩৪ ও ৪১ রান দিয়ে ২টি করে উইকেট দখল করে।
জবাবে ২০৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ঢাকা জেলা ৪১ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১১৩ রান করার পর বৃষ্টি শুরু হলে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। পরে বৃষ্টি আইনে টাঙ্গাইল জেলা দলকে ৫০ রানে বিজয়ী ঘোষনা করা হয়। ঢাকা জেলা দলের পক্ষে ব্যাটসম্যান লৌকিক সর্বোচ্চ ৩৩ ও আদিল বক্স ২৭ রান করে। টাঙ্গাইল জেলা দলের পক্ষে অলরাউন্ডার রিজান হোসেন ২২ রানে ২টি উইকেট দখল করে।
টাঙ্গাইল জেলা দলের ফেরদৌস হাসান লিমন ম্যান অব দ্যা ফাইনাল নির্বাচিত হয়।
টাঙ্গাইল জেলা অনুর্ধ্ব-১৮ ক্রিকেট দলের খেলোয়ারগণ হলেনঃ- ইমতিয়াজ আহমেদ(অধিনায়ক) গাজী আল-দিন-হাসান মুগ্ধ(উইকেট রক্ষক) রিজান হোসেন(সহ-অধিনায়ক) ফেরদৌস হাসান লিমন, মাইন হোসেন সরকার, রিফাত আল জাবির, আলি ওমর আবির, রওনক হরিজন, জিহাদ আদনান সানি,কাউয়ূম খান, তারেক মিঞা এ ছাড়া দ্বাদশ খেলোয়ার হিসেবে ছিলেন রাসেল মিঞা।
চ্যাম্পিয়ন টাঙ্গাইল জেলা দলের কোচ হিসেবে ছিলেন রাসেল খান ও ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ভ্রমর চন্দ ঘোষ ঝোটন। খেলায় আম্পায়ার ছিলেন রবিন সরকার ও আসিফুর রহমান এবং স্কোরার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে অরিন্দম পাল লিটন।
খেলা শেষে বিজয়ী ও বিজিত দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ ছানোয়ার হোসেন,এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মোঃ আমিনুল ইসলাম, ঢাকা জেলা ক্রীড়া সংস্থার অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক জাকির আহমেদ, টাঙ্গাইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি এ হাসান ফিরোজ। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মির্জা মঈনুল হোসেন লিন্টুর সভাপতিত্বে পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন টাঙ্গাইল জেলা ক্রিকেট কোচ আরাফাত রহমান।
উল্লেখ্য, শেখ কামাল অনুর্ধ্ব-১৮ জোনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ঢাকা বিভাগের ১৭টি জেলা ৪টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অংশগ্রহন করে। চারটি গ্রুপ থেকে টাঙ্গাইল, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর জেলা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে অংশগ্রহন করে। সেমিফাইনালে টাঙ্গাইল জেলা ফরিদপুর জেলাকে ১০ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিলো।
একতার কণ্ঠঃ ২০১৮ সাল থেকে দেশে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস পালিত হয়ে আসছে। এবারের নিরাপদ খাদ্য দিবসের মূল প্রতিপাদ্য – ‘সুস্বাস্থ্যের মূলনীতি, নিরাপদ খাদ্য ও স্বাস্থ্যবিধি’। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন কর্তৃক টাঙ্গাইলেও নিরাপদ খাদ্য দিবস পালিত হচ্ছে।
জনতা ব্যাংক লিমিটেডের একজন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম চাকরির পাশাপাশি অবসর সময়ে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন। ইভটিজিং এর বিরুদ্ধে মানববন্ধন, লৌহজং নদী দখল ও দূষণমুক্ত আন্দোলন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত ঢাকা-টাঙ্গাইল ট্রেন আন্দোলন, অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকান্ড পরিচালনার লক্ষে তিনি এবছর গঠন করেছেন “জাহাঙ্গীর আলম লিটল থিঙ্কিংস” নামক একটি ছোট্ট সংগঠন।
এবারের জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবসে খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে “জাহাঙ্গীর আলম লিটল থিঙ্কিংস” নামক প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে লিফলেট বিতরণ করা হয়। জাহাঙ্গীর আলম ও তার বন্ধু আরেক সমাজসেবক সাইদুল ইসলাম মিন্টু লিফলেট বিতরণে নেতৃত্বে দান করেন। এধরণের কর্মকান্ডে সাধারণ মানুষের ব্যপক সাড়া পরিলক্ষিত হয়।
আগামীদিনে টাঙ্গাইলবাসীর নানান সমস্যা ও সম্ভাবনা সামনে রেখে জনসচেতনতায় কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান জেলার করোনা পরিস্থিতি সর্ম্পকে বলতে গিয়ে বলেন, আগামী ১ মাসে টাঙ্গাইল জেলায় করোনা পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে সেটা বোঝা যাবে। টাঙ্গাইল জেলায় গত জানুয়ারি থেকে সংক্রমনের হার ধীরে ধীরে বাড়ছে। বর্তমানে টাঙ্গাইল জেলায় করোনা আক্রান্তের গড় হার শতকরা ৩৫ ভাগ।
গত এক মাসে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে রোগী ভর্তি হয়েছে মাত্র ৫ জন। এর মধ্যে গত ২৯ জানুয়ারি ১ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বাকি ৪ জন রোগীর অবস্থা ভালোর দিকে। ধারনা করা হচ্ছে, এরা সবাই ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত। টাঙ্গাইল জেলায় এখনো ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের লক্ষন সর্ম্পন্ন কোন রোগী পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।
তিনি আরো বলেন,গত বছর জুন মাসে ২১ দিনে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিল ২৬ জন। আর করোনা ইউনিটে ভর্তি ছিল ১৮৩ জন। গড় আক্রান্তের হার ছিল শতকরা ৩৩.৯৯ ভাগ। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে আক্রান্তের হার কমতে শুরু করে যা ডিসেম্বর মাসে শূণ্যের কোঠায় নেমে যায়। আবার এ বছরের জানুয়ারি মাস থেকে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বুধবার(২ ফেব্রয়ারি) গড় আক্রান্তের হার ছিল শতকরা ২৫.৭৭ ভাগ।
আগামী ১ মাসের মধ্যেই বোঝা যাবে টাঙ্গাইল জেলায় করোনা পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে।
তিনি আরো বলেন, টাঙ্গাইল জেলায় বুধবার(২ ফেব্রয়ারি) পর্যন্ত গণটিকার( সিনোভ্যাক,অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও ফাইজার) প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে ২৩ লক্ষ ৯৭ হাজার ৭ জনকে। যা জেলার মোট জনগোষ্ঠির ৫৬ ভাগ। আর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে ১৫ লাখ ১০ হাজার ৯৫৩ জনকে। যা জেলার মোট জনগোষ্ঠির ৩৪ ভাগ। আর বুষ্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে ২৬ হাজার ১২৭ জনকে। এ ছাড়া জেলায় এই পর্যন্ত ৩ লাখ ৩২ হাজার ১ শত ১৫ জন ছাত্র-ছাত্রীকে করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, জেলায় স্বাস্থ্য বিধি মানতে ও করোনা প্রতিরোধে গণপ্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া গণপরিবহন, হোটেল রেস্তোরায় টিকার কার্ড দেখে খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ছাড়া জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পথচারীরা যেন মাস্ক পরিধান করে চলাচল করে সেদিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। করোনা প্রতিরোধে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় নতুন করে ৯২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ৩৫৭ জনের নমুনা পরীক্ষার রির্পোটে ৯২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার শতকরা ২৫ দশমিক ৭৭ ভাগ।
এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ১৭ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মোট সুস্থ্য হয়েছে ১৬ হাজার ৮৮৭জন। সর্বমোট মারা গেছে ২৬১ জন। এ দিন করোনা আক্রান্ত হয়ে কেউ মৃত্যুবরণ করেনি।
আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ৬২ জন, দেলদুয়ারে ৪ জন, সখীপুরে ৫ জন, মির্জাপুরে ৮ জন, বাসাইলে ৪ জন, কালিহাতীতে ২জন , ঘাটাইলে ২ জন, ভূঞাপুরে ৩ জন, গোপালপুরে ১ জন ও ধনবাড়ীতে ১ জন নিয়ে মোট ৯২ জন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫ টি ইট ভাটায় অভিযান চালিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। অভিযানে ৩ টি ইটভাটার মালিককে ১৩ লাখ টাকা জরিমানা এবং ২ টি ইটভাটার বিভিন্ন অবকাঠামো ভেঙ্গে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত ইট ভাটায় অভিযান পরিচালনা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়জুন্নেছা আক্তার।
অভিযানে উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নে এস কে এস ব্রিকসকে ৩ লাখ, সহবতপুর ইউনিয়নের আমিন ব্রিকসকে ৫ লাখ আর মেসার্স প্যাসিফিক ব্রিকসকে ৫ লাখ টাকাসহ মোট ১৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়াও গয়হাটা ইউনিয়নের মেসার্স তাজ ব্রিকস আর সহবতপুর ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রিকস ইটভাটার বিভিন্ন অবকাঠামো ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়জুন্নেছা আক্তার বলেন, ইটভাটায় যে মাটি ব্যবহার করা হবে সেটার জন্য জেলা প্রশাসকের অনুমিত নিতে হয়। এছাড়াও ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী ইটভাটার মালিকদের জরিমানা করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে প্রসিকিউটির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক বিপ্লব কুমার সূত্রধর। এ সময় জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তাপস চন্দ্র পালসহ পুলিশ ও নাগরপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের পুংলী নদীর অংশে দিন-রাত অবাধে চলছে বালু উত্তোলন।জেলা প্রশাসনের কোন প্রকার বৈধ অনুমোদন না থাকলেও প্রকাশ্যে একটি ভেকু ও ১৪টি ড্রাম ট্রাকের সাহায্য দিন-রাত চলছে ওই অবৈধ বালু উত্তোলন। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধ, স্থানীয় বসতভিটা ,ফসলি জমিসহ সরকারি রাস্তা।অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাগণ কোন ধরনের প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের পৌলি দক্ষিন পাড়ার পুংলী নদীর অংশ থেকে একটি ভেকুর মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলনকৃত বালু ১৪টি ড্রাম ট্রাকের মাধ্যমে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন জায়গায় রশীদের মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে। অতিরিক্ত বোঝাইকৃত বালু ভর্তি ড্রাম ট্রাক চলাচলের ফলে পৌলি দক্ষিন পাড়া থেকে বঙ্গবন্ধুসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে যাওয়ার ওই এলাকাবাসীর যাতায়াতের একমাত্র কাঁচা রাস্তাটি বিভিন্ন জায়গায় দেবে গেছে।এ ছাড়া ট্রাক চলাচলের সময় উড়া ধুলা-বালিতে স্থানীয়দের বাড়ী-ঘর ধুলায় ঢেকে গেছে। এই রাস্তাটি টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধের অংশ হওয়ায়, হুমকির মুখে পড়েছে ওই বাঁধ।
স্থানীয়বাসিন্দা জহের আলী, আলেয়া বেগম, শহিদুল্যা সহ বেশ কয়েকজন বলেন, নদী থেকে দিন-রাত বালু উত্তোলনের ফলে তাদের বসতভিটা নদী ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়েছে। এ ছাড়া বালু বোঝাই ট্রাক চলাচলের ফলে এলাকাটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
এলেঙ্গা পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুকুমার ঘোষ প্রথমে বালু উত্তোলনের বৈধতার কথা বুঝানোর চেষ্টা করলেও পরে আইনগত দিক সর্ম্পকে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি যতদুর জানি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদার মো. নজরুল ইসলামের প্রয়োজনে টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধে বালু ফেলার জন্য ওই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, স্থানীয় কিছু বাসিন্দা বাঁধে সরবরাহ করার জন্য ওই বালু নদী থেকে তুলছে। বালু উত্তোলনের কোন বৈধ কাগজ পত্র আছে কিনা তা তিনি জানেন না।
এ বিষয়ে,কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোবাশ্বের আলী জানান, কালিহাতীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত চলমান রয়েছে। পুংলি নদীর ওই অংশ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বিবেকানন্দ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সংবাদের নিন্দা প্রকাশ করেছেন বিবেকানন্দ স্কুল এন্ড কলেজের ৩০ জন স্বাক্ষরকারী। তারা এক বিবৃতিতে বলেন, টাঙ্গাইল জেলা সদরে অবস্থিত প্রায় শতবর্ষীয়ান শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে অনন্য ঐতিহ্যবাহী বিবেকানন্দ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আনন্দ মোহন দের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক ও মানহানিকর সংবাদ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে ও ফেইজবুকে প্রকাশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদন জানাই। এ বিষয়ে স্বাক্ষরকারীরা টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে একটি পত্র দেন।
গত ২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর টাঙ্গাইল শহরের আকুর টাকুর পাড়ায় অবস্থিত শ্রী শ্রী ছোট কালিবাড়ী মন্দির কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণীর অসাধু ও হীন মানসিকতার কয়েকজন ব্যক্তি রীমা রায় নামের একজন মেয়েকে দিয়ে নানা প্রকার মানহানিকর বক্তব্য ও সাজানো অভিযোগ দায়ের করার চেষ্টা করছেন। গত ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর ষড়যন্ত্রকারীরা আকুর টাকুর পাড়াতে নানা প্রকার মানহানীকর কথা বার্তা প্রচার করে-বলিয়া জানা যায়। অতপর শ্রী শ্রী ছোট কালীবাড়ীর সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট অনুপম দে বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট টাঙ্গাইল সদর থানা আমলী আদালতে মানহানীর একখানা ১৪৪০/২২ নং মোকদ্দমা দায়ের করেন। উক্ত মোকদ্দমায় বিবাদীগনের বিরুদ্ধে সমনের আদেশ হয়েছে।
এতএব বিবেকানন্দ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আনন্দ মোহন দে একজন সম্মানী ব্যক্তিকে অসম্মান করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এজন্য আমরা নিন্দা জানাই ও মিথ্যা গুজব প্রকাশের বিরুদ্ধে বিবেকানন্দ স্কুল এন্ড কলেজের পক্ষ থেকে সকল পর্যায়ের শিক্ষকবৃন্দ জোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
প্রতিবাদপত্রে স্বাক্ষরকারীরা হলেন- আবু দাউদ প্রভাষক, প্রভাষক রুনা লায়লা, সিনিয়র শিক্ষক মনিরুল হক, বজলুর রহমান, আবু ইউছুব ছিদ্দিকী, রেজাতী হায়দার, কাকলী মজুমদার, মৃদুল কান্তি ভৌমিক, মজিবর রহমান, লক্ষী ঘোষ, সিরাজুল মনির, সুমী আক্তার, মনোয়ারা খান, শাহনাজ আক্তার, এম,এম, রাশিদা, অসীমা দাশ, স্মৃতি প্রামানিক, শফিকুল ইসলাম, আলী হায়াত, গোলাম মোস্তফা, ফয়সাল আহমেদ, মাজহারুল ইসলাম, হাবিব উল্লাহ সরকার, বাসুদেব দে, ফারুক হোসেন, শামীমা নুশরাত, ফারজানা রিমু, নাজমুল হক খান, সুজিত কর্মকার, মোঃ রবিন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি
একতার কণ্ঠঃ ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরেই মৃত্যু হয়েছে শতবর্ষ পেরোনো সখিনা বেওয়ার। যদিও জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বয়স ৮৫ বছর ।এই বয়সে নাতনীর সহযোগিতায় জীবনের শেষ ভোট দিতে কেন্দ্রে গিয়েছিলেন তিনি। সখিনা বেওয়ার ভাগ্নে জুলহাস মিয়া ওই তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে সোমবার (৩১ জানুয়ারি) ৬ষ্ঠ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার আলমনগর ইউনিয়নের আলমনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে মহিলা বুথে সখিনা বেওয়া তার জীবনের শেষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তিনি আলমনগর গ্রামের মৃত বছির উদ্দিনের স্ত্রী।
ভোট কেন্দ্রের সামনে সখিনা বেওয়ার ছেলে মজিবর রহমান তখন বলেন, আম্মার বয়স ১০০ বছর ছাড়িয়েছে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ আম্মা সম্ভবত তার শেষ ভোট দিলেন। একা চলতে পারেন না, তাই নাতনির সহযোগিতায় বাড়ি থেকে ভ্যানগাড়িতে তাকে কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল।