একতার কণ্ঠঃ ২০০৫ সালে রোমে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীদের এক সম্মেলন থেকে আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার চালু করা হয়।নেদারল্যান্ড ভিত্তিক শিশু অধিকার সংগঠন ‘কিডস রাইটস’ এই পুরস্কার প্রদান করে। প্রতিবছর একজন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী পুরস্কারটি হস্তান্তর করেন।
এ বছর ‘শিশুদের নোবেল’খ্যাত এই পুরষ্কারটির জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রাথমিক ভাবে মনোনিত হয়েছেন টাঙ্গাইলের মেধাবী কিশোর ফিরোজ আহম্মেদ সিয়াম।
১৭ বছর বয়সী সিয়াম এ বছর বাংলাদেশ থেকে তার সংগঠন One Step For Tomorrow এর জন্য মনোনিত হয়েছেন।তিনি Education এবং Violence এই দুই ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পেয়েছেন। শিশুদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে তার সংগঠন। One Step For Tomorrow সংগঠনটির সিইও হওয়ায় ‘কিডস রাইটস’ আর্ন্তজার্তিক এই সংগঠনটি সিয়ামের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে মনোনিত করেছেন।
টাঙ্গাইলের কৃতি কিশোর ফিরোজ আহম্মেদ সিয়াম ঢাকা নটর ডেম কলেজ থেকে এ বছর এইচ এস সি পরীক্ষার্থী।তিনি ২০১৯ সালে বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ফাইভ (গোল্ডেন) পেয়ে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাস করেছেন।সিয়াম কিশোর আলো বুক ক্লাব, প্রথম আলো বন্ধুসভা, সেভ দ্যা স্টুডেন্টসহ অনেক সংগঠনের সাথে জড়িত।
দুই ভাইয়ের মধ্যে বড়, সিয়ামের জন্ম কালিহাতী উপজেলার পারখী ইউনিয়নের রৌহা গামে। বাবা মুহাম্মদ রমজান আলী , পারখী মনির উদ্দিন পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। মা ফিরোজা আক্তার কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষিকা। ছোট ভাই ফাহাদ আহম্মেদ শাফি টাঙ্গাইল প্রি ক্যাডেট স্কুলের পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্র। সিয়ামের পরিবার বর্তমানে টাঙ্গাইল শহরের স্টেডিয়াম এলাকায় থাকেন।
এ প্রসঙ্গে ফিরোজ আহম্মেদ সিয়াম বলেন,“ এই অনুভুতি এটা তো ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আলহামদুলিল্লাহ, এরকম বিশ্বমঞ্চে নিজেকে দেখতে পেরে আমি অবশ্যই আনন্দিত। আমার বেড়ে ওঠা অজপাড়া গায়ে তাই স্বভাবতই আমার জানা বাংলাদেশের শিশুরা কত প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে যায়। ছিন্নমূল শিশুরা কিভাবে দিনাতিপাত করছে। নিজের জায়গা থেকে আমার সংগঠন One Step For Tomorrow এর সকল স্টেপারদের সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। শিশু অধিকার রক্ষায় কাজ করে যেতে চাই আজীবন। যদিও পুরষ্কার কিংবা সম্মাননা লক্ষ্য নয় তবুও সাদাত ভাই, গ্রেটা কিংবা মালালা ইউসুফজাইয়ের মতো আইকনদের পরবর্তী প্রজন্ম হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয়। সবাইকে সাথে নিয়ে বাস্তবায়ন করতে চাই স্বপ্নের পৃথিবী। আজীবন বুকে ধারণ করতে চাই স্টেপার মূলমন্ত্র ” Let’s make dreaming world visual together.
উল্লেখ্য, কিডস রাইটস ফাউন্ডেশন হল নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে অবস্থিত একটি শিশুদের সহায়তা এবং অ্যাডভোকেসি সংস্থা।ফাউন্ডেশনটি ২০০৩ সালে মার্ক দুলার্ট এবং ইনেগ ইকিংক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
সংস্থাটি নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ডেসমন্ড টুটুকে উদ্ধৃত করে বলেছে, “কিডস রাইটস পুরোপুরি নির্বাককে কণ্ঠ দেওয়ার চেষ্টা করছে।”সংস্থার লক্ষ্য হ’ল বিশ্বজুড়ে দুর্বল শিশুদের সহায়তা ও ক্ষমতায়ন করা, ছোট-ছোট স্থানীয় প্রকল্পগুলির জন্য তহবিল সংগ্রহ করা এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলির মাধ্যমে শিশুদের অধিকারের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে শরিফুল ইসলাম (২৮) নামে এক সিঙ্গাপুর প্রবাসী আত্মহত্যা করেছেন।শনিবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার সোনালিয়া রেলক্রসিং এলাকায় বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।বাসাইল থানার এসআই মজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত শরিফুল ইসলাম সখীপুর উপজেলার দেউবাড়ী গ্রামের আলাল মিয়ার ছেলে।
নিহতের বাবা আলাল মিয়া জানান, গত ৬ মাস আগে সিঙ্গাপুর থেকে ছুটিতে বাড়িতে আসে শরিফুল। তিন মাস আগে বাসাইল উপজেলার নাইকানবাড়ী গ্রামে বিয়ে করে শফিকুল। শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) সে শ্বশুরবাড়িতে যায়। এরপর এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, বিকেলে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বনলতা একপ্রেস ট্রেনটি রাজশাহী যাওয়ার পথে সোনালিয়া রেলক্রসিং এলাকায় আসলে শরিফুল ইসলাম ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। এ খবর শোনার পর তার স্ত্রী আমেনা বেগম বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন।
এসআই মজিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে মরদেহ রেলওয়ে পুলিশ নিয়ে গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেতে পারেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার গালা গ্রামে এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৩ অক্টোবর) সকালে আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার গালা গ্রামের এক পুকুর থেকে পারুল বেগম (৪০) নামের নারীর অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করে সদর ফাঁড়ি পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েক বছর যাবত এই নারীকে গালা বাজারসহ আশেপাশে ঘুরতে দেখছেন সবাই। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা। পারুলের মৃগী রোগ থাকায় গালা গ্রামের কবর স্থান সংলগ্ন পুকুরে তিনি পড়ে যেতে পারেন বলে স্থানীয়দের ধারনা।
টাঙ্গাইল সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ আরিফ ফয়সাল জানান, সকালে স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য তাকে মোবাইলে জানিয়েছেন, গালা গ্রামে একটি পুকুরে লাশ পড়ে আছে। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পারুল নামের ওই মানসিক রোগীর লাশ পড়ে থাকতে দেখতে পাই।
তিনি আরো জানান,মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পরই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় চানমিয়া চানু (৬০) নামে এক ভ্যানচালক খুন হয়েছেন। তাকে হত্যা করে সেতুর রেলিংয়ে ঝুলিয়ে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা বলে জানান স্থানীয়রা। বুধবার (১৩ অক্টোবর) সকালে পলাইআটা-ধলপুর সেতুতে ঝুলন্ত অবস্থায় নিহতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।কুড়ালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহাম্মদ আলী ওই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহত চান মিয়া কুড়ালিয়া ইউনিয়নের ধলপুর গ্রামের পলাইআটার মৃত জুব্বার মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় ভ্যানচালক ছিলেন।
কুড়ালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহাম্মদ আলী জানান, সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিনের কাছে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গামছায় পা বাঁধা অবস্থায় নেটের প্লাস্টিক রশিতে ঝুলে থাকা চানুর লাশ দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
মধুপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) তারিক কামাল জানান, দুপুর ১২টার দিকে লাশ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
একতার কণ্ঠঃ আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ডক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, আওয়ামী লীগের ভিত্তি ও শক্তি হল এদেশের জনগণ। জনগণের কল্যাণে ও জীবনমান উন্নয়নে আওয়ামী লীগ আন্দোলন, সংগ্রাম ও কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে দীর্ঘ ২১ বছরের শত জুলুম-নির্যাতনের মধ্যেও আওয়ামী লীগের পালানোর ইতিহাস নেই। আওয়ামী লীগ দেশ স্বাধীন করেছে; এই দল, দলের নেতাকর্মী ও দল প্রধান কোনদিন দেশ এবং জনগণকে ছেড়ে পালাবে না।
মির্জা ফখরুলকে মন্ত্রী বলেন, বিএনপি সবসময়ই পলায়নপর দল। দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে ও দু:সময়ে তারা কখনই এগিয়ে আসে নি, বরং পালিয়ে পালিয়ে থেকেছে। দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বন্দুকের নলের মুখে- ক্যাণ্টনমেণ্টে। জনগণের সাথে আপনাদের কোন সম্পর্ক নেই। জনগণের কল্যাণে আপনারা কখনও কোন কাজ করেন নি। ধনী-বণিক ও সুযোগসন্ধানীদের জন্য কাজ করেছেন।
তাই আপনারা সবসময়ই জনবিচ্ছিন্ন ছিলেন- এখনও জনবিচ্ছিন্ন আছেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন। মন্ত্রী বলেন, আপনাদের মুখে পালানোর কথা মানায়না, পালাবেন তো আপনারা। আপনাদের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বিদেশে পালিয়ে থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে দল চালাচ্ছে। আপনারা আর কোনদিন এদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবেন না।
বুধবার(১৩ অক্টোবর) টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় গরীব, অসহায় ও দু:স্থ ব্যক্তির মাঝে ঢেউটিন ও অর্থ সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ হীরা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামিউল হক, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামছুল হুদা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার জেব-উন-নাহার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর ফারুক আহমাদ প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় পরিবহন শ্রমিকদের হামলায় আহত হয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল রনীর নাক ফেটে রক্ত বের হতে থাকে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।
মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই পরিবহন শ্রমিককে ৭ দিনের কারাদণ্ড অনাদায়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, ঘাটাইল উপজেলার আনেহলা ইউনিয়নের যুগিহাটী গ্রামের মৃত মজিদ মণ্ডলের ছেলে হারুনুর রশিদ (৪০) ও উপজেলা কাগমারীপাড়ার ইকেন আলীর ছেলে মানিক।
জানা যায়, ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ড ও উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ের গেটের সামনে এলোপাতাড়িভাবে পার্কিং করে দখল করার বিষয়টি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে উঠানো হয়। উপস্থিত অনেকেই পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পরে মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ সদস্যদের নিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে গেলে শ্রমিকরা ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলা করে। এতে ম্যাজিস্ট্রেটের নাক ফেটে রক্ত বের হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। এর আগে ওই ম্যাজিস্ট্রেট দুই পরিবহন শ্রমিককে জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ড প্রদান করলে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে তার উপর হামলা চালায়।
এ ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও শ্রমিক পরিবহন নেতাদের সাথে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কক্ষে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সকল পক্ষের সাথে আলোচনা করা হয়। পরে শ্রমিক নেতারা ইউএনও ও ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ক্ষমা চেয়ে মুক্তি পান।
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওহাব মিয়া বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় ২ জন শ্রমিককে জেল-জরিমানা করলে পুলিশ সদস্যরা তাদের নিয়ে পুলিশ ভ্যানে বসে। এ সময় উত্তেজিত শ্রমিকরা ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলা চালায়। পরে ইউএনও কক্ষে শ্রমিক নেতারাসহ সবাই বসে বিষয়টি সমাধান করে। এতে পরিবহন শ্রমিকরা ক্ষমা চাওয়ায় দুই শ্রমিককে জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
হামলার শিকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল রনী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
একতার কণ্ঠঃদুপুরে বাড়ি থেকে মাদরাসার উদ্দেশে বের হয় সাবির মাহমুদ। পথে ভ্যানগাড়ির সঙ্গে বেঁধে তার পাঞ্জাবি ছিঁড়ে যায়। ওই ছেঁড়া পাঞ্জাবি পরেই সাবির ৩টার দিকে মাদ্রাসায় পোঁছায়। এই দেখে হাসাহাসি করে সহপাঠিরা। সেখানে আসেন মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক হাফেজ আব্দুল মাজেদ। তিনি এসে ছেঁড়া পাঞ্জাবি পরে আসার অপরাধে সাবিরকে অমানবিক বেত্রাঘাত করেন। এ সময় সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে অন্য শিক্ষার্থীদের কোনো শাস্তি দেননি শিক্ষক আব্দুল মাজেদ।
সোমবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের গন্ধব্যপাড়া তাহফীজুল উম্মাহ ক্যাডেট মাদ্রাসায় ওই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ আব্দুল মাজেদ পলাতক আছেন ঘটনার পর থেকেই। তিনি নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলা সদরের জমশেদ আলীর ছেলে।
আহত শিক্ষার্থী সাবির মাহমুদকে স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সে উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের সলিমনগর ভড়পাড়া গ্রামের শামীম আল মামুন পীর সাহেবের ছেলে।

সাবির মাহমুদের পরিবার জানায়, সাবিরের শরীরে ৩০টি বেত্রাগাতের চিহ্ন ফুটে উঠেছে। সন্ধ্যায় সাবির বাড়িতে গেলে পাঞ্জাবি খোলার পর পরিবারের লোকজন বিষয়টি জানতে পারে। পরে সাবিরের অভিভাকরা মাদ্রাসার পরিচালক মাহবুবুর রহমান সোহেল ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমানকে বিষয়টি অবহিত করেন। একই সঙ্গে ইউএনও’র নির্দেশে সাবিরের বাবা মির্জাপুর থানায় মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন।
এদিকে, মঙ্গলবার(১২ অক্টোবর) সকালে মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওই মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষকদের ডেকে আনেন। সেখানে উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আব্দুল মাজেদকে মাদ্রাসার থেকে অব্যহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তাহফীজুল উম্মাহ ক্যাডেট মাদ্রাসার পরিচালক মাহবুবুর রহমান সোহেল জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গিয়াস উদ্দিনের অফিসে বসা হয়েছিল। তাকে চাকরি থেকে অব্যহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের কান্দিলা বাজারের তিন তারা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেণ্টের সামনে মঙ্গলবার(১২ অক্টোবর) সকালে অভিযান চালিয়ে ২৩০পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন- টাঙ্গাইল শহরের দেওলা এলাকার মো. মনির হোসেনের ছেলে মো. মঞ্জু মিয়া(৩১) ও সাবালিয়া এলাকার মো. ফজল মিয়ার ছেলে ছদরুলর আলম সবুজ ওরফে নাদিম(২৩)।
র্যাব-১২ জানায়, গোপনে খবর পেয়ে সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. গোলাম ফারুকের নেতৃত্বে একদল র্যাব কান্দিলা বাজারে অভিযান চালায়।
অভিযানে ২৩০ পিস ইয়াবা, দুইটি মোবাইল সেট ও সিমকার্ড এবং নগদ ৮ হাজার ১০০ টাকা সহ উল্লেখিত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের নামে টাঙ্গাইল সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় বিজয়ী হতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোছা. নার্গিস বেগম।টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলার মধ্যে এবারই প্রথম কোনো নারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হচ্ছেন।
সোমবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে যাচাই বাছাই শেষে একমাত্র প্রার্থী নার্গিস বেগমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন উপ-নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এ এইচ এম কামরুল হাসান।
শনিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত নার্গিস বেগম ছাড়া আর কেউ মনোনয়নপত্র জমা দেননি।
নার্গিস বেগম ভুঞাপুর উপজেলা পরিষদের প্রয়াত চেয়ারম্যান আব্দুল হালিমের স্ত্রী। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ৩০ জুলাই আব্দুল হালিম মৃত্যুবরণ করেন। পরে নির্বাচন কমিশন চেয়ারম্যান পদ শূন্য ঘোষণা করে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। আগামী ২ নভেম্বর নির্বাচনে ভোট গ্রহণের কথা।
নার্গিস বেগম ভুঞাপুর উপজেলার মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং লোকমান ফকির ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক।
রিটার্নিং কর্মকর্তা এ এইচ এম কামরুল হাসান জানান, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৭ অক্টোবর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। ওই দিন একমাত্র প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে পরদিন তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নামে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রলীগ। সোমবার(১১ অক্টোবর) দুপুরে দাইন্যা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ব্যানারে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে ঘন্টাব্যাপী ওই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এতে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ, সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান বাচ্চু ও এম এ মতিন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদি নয়ন, দাইন্যা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম প্রমুখ।
উল্লেখ্য, দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লাভলু মিয়া লাবু গত ৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন।
একতার কণ্ঠঃ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ঢাকা, সিলেট ও রাজশাহী বিভাগের আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার (১০ অক্টোবর) দলটির দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তালিকা ঘোষণা করা হয়।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা বিভাগের ৮টি জেলা এবং সিলেট বিভাগ এবং রাজশাহী বিভাগের একটি ইউপির প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
টাঙ্গাইলের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনীত প্রার্থীদের নামের তালিকা নিম্নে দেওয়া হলো-
টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারাতে আহাম্মদ আল ফরিদ, বানিয়াজানে রফিকুল ইসলাম তালুকদার, যদুনাথপুরে মীর ফিরোজ আহমেদ, পাইস্কাতে মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান, ধোপাখালীতে আকবর হোসেন, মুশুদ্দিতে আবুল কায়ছার, বলিভদ্রে রফিকুল ইসলাম তালুকদার।
সখীপুর উপজেলার যাদবপুরে এ, কে, এম আতিকুর রহমান, বহরিয়াতে গোলাম কিবরিয়া, বহেরাতৈলতে ওয়াদুদ হোসেন, কাকড়াজানে তারিকুল ইসলাম।
দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়াতে মাসুদুল হাসান তালুকদার, দেউলীতে দে. তাহ্ মিনা, পাথরাইলে রামপ্রসাদ সরকার, লাউহাটিতে হাবিবুর রহমান, দেলদুয়ারে মাসুদ-উজ্জামান খান, ডুবাইলে ইলিয়াছ মিয়া, এলাসিনে বেলায়েত হোসেন, ফাজিলহাটিতে শওকত আলী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ প্রায় ২০ বছর আগে সুইডেন থেকে চড়া দামে ৫০টি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ভলভো বাস কেনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। দৃষ্টিনন্দন বাসগুলো প্রথম সাত-আট বছর সড়কে দাপটের সঙ্গে চলাচল করে। ধীরে ধীরে সেগুলোর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হতে শুরু করে। এসব যন্ত্রাংশ মেরামতে দফায় দফায় প্রকল্প হাতে নেয় বিআরটিসি। কিন্তু যন্ত্রাংশগুলো দেশে দুষ্প্রাপ্য ও ব্যয়বহুল হওয়ায় তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি সংস্থাটি।
ফলে অকেজো বিলাসবহুল বাসগুলো বিআরটিসির জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘদিন পড়ে থাকার পর ৫০টি ভলভো বাসের মধ্যে ৪৯টি বিক্রি করে দিয়েছে বিআরটিসি। রাজধানীর বিভিন্ন ডিপোতে পড়ে থাকা এসব বাস ভাঙারি হিসেবে কেজিদরের মতো বিক্রি করা হয়েছে। সচল আছে কেবল একটি। সেটি রাজধানীর মিরপুর ডিপোর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। বাসটি এখন সুপ্রিম কোর্টের স্টাফদের আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিআরটিসি সূত্র বলছে, ২০০১ সালে সুইডেন থেকে ৭০ কোটি টাকায় বাসগুলো কেনা হয়। সেই হিসাবে প্রতিটি বাসের দাম পড়ে প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ টাকা। সরকারি তহবিল ও সুইডিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (সিডা) যৌথ অর্থায়নে বাসগুলো কেনা হয়। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে, বাসগুলোর সাধারণ মেয়াদ ১২ বছর। তবে ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে চলবে ২০-২৫ বছর, যাকে আর্থিক মেয়াদ বলা হয়।
এ বিষয়ে পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, ‘সরকারি দপ্তরগুলো কেনাকাটা পছন্দ করে। রক্ষণাবেক্ষণ করে তাদের কী লাভ? দরদ দিয়ে কাজ করলে, তার নিজের তো লাভ নেই। কিন্তু প্রকিউরমেন্টে (সরকারি ক্রয়) অনেক লাভ আছে। সেই চিন্তা মাথায় রেখে গাড়িগুলোর যত্নটা তারা সেভাবে নেন না।’
সংশ্লিষ্টদের মতে, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাসগুলো কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারেনি। সড়কে নামানোর সাত-আট বছর পর বাসগুলোর যন্ত্রাংশ নষ্ট হতে শুরু করে। তখন নতুন যন্ত্রাংশ কেনা উচিত ছিল। তা না করে একটি বাসের যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে, আরেকটি বাস থেকে সেই অংশ খুলে লাগানো হতো। যেটি থেকে খুলে নেওয়া হতো, সেটি অকেজো হয়ে পড়ে থাকতো। এভাবে এক-একটি করে বাস অকেজো হতে থাকে।
ফলে নির্ধারিত মেয়াদের আগেই ৪৯টি বাস অকেজো হয়ে পড়ে। দফায় দফায় রক্ষণাবেক্ষণের প্রকল্প হাতে নিলেও সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। অবশেষে বোঝা হয়ে থাকা অকেজো সেই বাসগুলো বেচে দেয় বিআরটিসি।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ভলভো নয়, এ পর্যন্ত যত বাস কেনা হয়েছে; সেগুলোর কোনোটিরই যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। ফলে প্রত্যাশিত সার্ভিসও পাওয়া যায়নি। দেশে একটি বাজে সংস্কৃতি চালু রয়েছে, তা হলো রক্ষণাবেক্ষণের চেয়ে নতুন কেনায় আগ্রহ বেশি। নতুন করে কিনলে লাভ বেশি, রক্ষণাবেক্ষণে তো সেটি নেই।
এ বিষয়ে পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, ‘সরকারি দপ্তরগুলো কেনাকাটা পছন্দ করে। রক্ষণাবেক্ষণ করে তাদের কী লাভ? দরদ দিয়ে কাজ করলে, তার নিজের তো লাভ নেই। কিন্তু প্রকিউরমেন্টে (সরকারি ক্রয়) অনেক লাভ আছে। সেই চিন্তা মাথায় রেখে গাড়িগুলোর যত্নটা তারা সেভাবে নেন না।’
তিনি বলেন, ‘ওই (ভলভো) গাড়িগুলোর যেহেতু মেনটেইনেন্স সেভাবে হতো না। ভলভোর একটা পার্টস (যন্ত্রাংশ) না থাকলে আরেকটা থেকে খুলে নিয়ে এসে সেটি সচল রাখতো। এসব করতে করতে কিছু বাস এমনিতেই অকেজো হয়ে গেছে।’
অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, ‘বড় কথা হলো—এখানে জবাবদিহিতার সিস্টেম নেই। পাশাপাশি বিআরটিসি যেটা করে, প্রাইভেট সেক্টরের মতো তারাও লিজ দেয়। অথচ মেনটেইনেন্সটা নিজেদের ঘাড়ে রাখে। লিজ যারা নেন, তারা তো আসেন বড় লোক (ধনী) হতে। নিজের গাড়ি যেভাবে দরদ দিয়ে চালান, এটাকে তো তা করেন না। বিআরটিসির গাড়ির অপব্যবহার করে তারা ধনী হন। ফলে শুধু ভলভো নয়, কোনো বাসই টেকসই হয়নি, হচ্ছে না। এটার জন্য তাদের কোনো দর্শনও নেই। এবার পারলাম না, পরেরবার যেন পারি, তেমন চিন্তাও নেই।’
এ পরিবহন বিশেষজ্ঞ মনে করেন, পুরো বিষয়টিতে সরকারের বিরাট গাফিলতি আছে। সরকার প্রকিউরমেন্টের আগে প্রশ্ন করে না, যেটা করা উচিত। গাড়িগুলোর কমার্শিয়াল লাইফ কত দিন থাকার কথা ছিল, কত দিন গেলো- এ প্রশ্ন করার কারোই সময় নেই। সবাই কেনাকাটায় ব্যস্ত।
সামছুল হক বলেন, ‘মন্ত্রী বলবেন, আমি এতগুলো বাস কিনে দিয়েছি। অর্থাৎ বাসের সংখ্যা বলায় আগ্রহ যার, তিনি তো জবাবদিহিতার দিকে যাবেন না। মাঝে মাঝে হুঙ্কার হয়তো দেবেন যে, জিরো টলারেন্সে থাকবেন, এভাবেই চলছে।’
‘সার্বিকভাবে আমি বলবো, যে কার্যকর ব্যবস্থা নিলে সম্পদকে টেকসইভাবে ব্যবহার করা যায়, সেটার দর্শনের ধারেকাছেও আমরা নেই। ওই কালচারটা তৈরিই হয়ে ওঠেনি। কালচার তৈরি হয়েছে এমন, যত দ্রুত খারাপ করতে পারবো, প্রকিউরমেন্টের জন্য তাড়াতাড়ি পয়সা পাবো। তাতে তো কোনো অসুবিধা হয় না’—যোগ করেন সামছুল হক।
জানতে চাইলে বিআরটিসি চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম জানান, ‘এগুলো (ভলভো বাস) তো অনেক আগের বাস। আমি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যোগ দিয়েছি। আগে থেকেই এগুলো অকেজো ছিল। অকেজো গাড়ি যত থাকবে, ততই লোকসান। কারণ দিন দিন এগুলোর ক্ষয়ক্ষতি বাড়ে, দামও কমে। এজন্য আমরা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রত্যাশিত দাম পেয়ে বিক্রি করেছি।’
তিনি বলেন, ‘শুধু ৪৯টি ভলভো বাসই নয়, অযোগ্য ঘোষণার জন্য বিইআর (প্রস্তাবিত) ১৭৮টি গাড়ি ছিল। আগেও অকেজো এ বাসগুলো টেন্ডারে দেওয়া হয়েছিল। প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় বিক্রি করা যায়নি। এবার প্রত্যাশিত দাম পেয়েছি, বিক্রি করে দিয়েছি।’
সংবাদ সূত্র- জাগো নিউজ অনলাইন