একতার কন্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে প্রাইভেট কারের চাপায় শিউলি বেগম (৭৫) নামে বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল-গোপালপুর সড়কের পোড়াবাড়ি নামক স্থানে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের মেয়ে কমলা বেগম জানান, নিহত শিউলী বেগম ঘাটাইল উপজেলার রৌহা গ্রামের মৃত কালু খানের স্ত্রী। পাঁচ দিন আগে তিনি তার বোনের ছেলে মান্নানের বাড়িতে বেড়াতে যান। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে প্রতিবেশীর বাড়ি যাওয়ার সময় রাস্তা পার হতে গেলে একটি দ্রুতগামী প্রাইভেট কার তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামি সাবেক পৌর মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তির জামিন আবেদন বৃহস্পতিবার( ২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে আবার নামঞ্জুর করেছেন আদালত। এ নিয়ে ১৫ বারের মতো তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করলেন আদালত।
সহিদুর রহমান সাবেক সাংসদ আমানুর রহমান খানের ভাই ও টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ আতাউর রহমান খানের ছেলে। ৯ মাস ধরে তিনি কারাগারে রয়েছেন। গত ১৮ আগস্ট সকালে অসুস্থ হওয়ার পর তাঁকে জেলা কারাগার থেকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এস আকবর খান জানান, টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বৃহস্পতিবার ছিল ফারুক হত্যা মামলার ধার্য তারিখ। রাষ্ট্রপক্ষ মামলার সাক্ষী পুলিশের কনস্টেবল হারুন অর রশিদকে হাজির করে। কিন্তু মামলার অন্যতম আসামি সহিদুর রহমান হাসপাতালে থাকায় তাঁকে হাজির করা হয়নি। তাই সাক্ষ্য গ্রহণও হয়নি।
সহিদুরের আইনজীবীরা তাঁর জামিন আবেদন করেছিলেন। তাঁরা যেকোনো শর্তে সহিদুরের জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মাসুদ পারভেজ আবেদন নামঞ্জুর করেন। আগামী ১১ অক্টোবর এই মামলার সাক্ষী গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুকের ব্যথা নিয়ে সহিদুর হাসপাতালে ভর্তি হন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য সাত সদস্যবিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। তাঁর হৃদ্যন্ত্রে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। তবে থাইরয়েড ও কিডনিতে কিছু সমস্যা পাওয়া যায়। হাসপাতালে থাকতেই তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। তিন দিন আগে তিনি করোনামুক্ত হন। কোমরে ব্যথার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ ছয় বছর পলাতক থেকে গত ২ ডিসেম্বর সহিদুর টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন মুক্তি। আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। তার পর থেকে তিনি টাঙ্গাইল জেলা কারা হেফাজতে রয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে মন্দির সংস্কার ও উন্নয়নের অনুদান এবং দুস্থদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার( ২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল শ্রীশ্রী বড় কালিবাড়ি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুভাষ চন্দ্র সাহা।
মন্দির ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের সহকারি পরিচালক রমেশ চন্দ্র সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রীশ্রী বড় কালিবাড়ির সাধারণ সম্পাদক জীবন কৃষ্ণ চৌধুরী, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার গুন ঝন্টু।
অনুষ্ঠানে ৪৮টি মন্দির কর্তৃপক্ষ ও ৩৪ জন দুস্থ অসহায় মানুষের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার অগ্রগতি ও পর্যালোচনামূলক উন্মুক্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে ডেমক্রেসিওয়াচ ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রানুয়ারা খাতুন, ভাইস-চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা নবীন ও শামীমা আক্তার, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী মোশরাত জাহান। দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লাভলু মিয়ার লাভুর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর মো. জিয়াউল করিম, ডেমক্রেসিওয়াচের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মো. লুৎফর রহমান।
উন্মুক্ত সভায় বিভিন্ন ওয়ার্ডের দুই শতাধিক নারী পুরুষ অংশ নেয়। এ সময় ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরা হয়। এ ছাড়াও ভবিষ্যতে ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশে পাঁচ ধরণের সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।মঙ্গলবার(২১ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর তথ্য দিয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র এবং পরিবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমেছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যারা নতুন করে সঞ্চয়পত্র কিনবেন, শুধু তাদের জন্য পরিবর্তিত এই হার কার্যকর হবে। আগের কেনা সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেটি পুনঃবিনিয়োগ করলে তখন নতুন মুনাফার হার কার্যকর হবে। ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক উভয়ের জন্য নতুন এই মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে।
ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের মধ্যে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক সাধারণ হিসাবের মুনাফার হার অপরিবর্তিত থাকলেও, মেয়াদী হিসাবের মুনাফার হার কমেছে।
পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র:
পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে মেয়াদ শেষে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যায়। নতুন নিয়মে যাদের এই সঞ্চয়পত্রে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ রয়েছে তারা মেয়াদ শেষে মুনাফা পাবেন ১০ দশমিক ৩ শতাংশ হারে। আর ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে মুনাফার হার হবে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ।
তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক:
তিন বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ১১ দশমিক শূন্য চার শতাংশ। সেটি এখন ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কমিয়ে করা হয়েছে ১০ শতাংশ। আর এই সঞ্চয়পত্রে যাদের বিনিয়োগ ৩০ লাখ টাকার বেশি তারা মেয়াদ শেষে মুনাফা পাবেন ৯ শতাংশ হারে।
পেনশনার সঞ্চয়পত্র
অবসরভোগীদের জন্য নির্ধারিত পাঁচ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ শেষে এতদিন ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ হারে মুনাফা পাওয়া যেত। এখন এই সঞ্চয়পত্রে যাদের বিনিয়োগ ১৫ লাখ টাকার বেশি তারা মেয়াদ শেষে মুনাফা পাবেন ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে। আর ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে এই হার হবে ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
পরিবার সঞ্চয়পত্র:
পাঁচ বছর মেয়াদি এই সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। এখন এই সঞ্চয়পত্রে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার কমিয়ে করা হয়েছে সাড়ে ১০ শতাংশ। আর ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই হার সাড়ে ৯ শতাংশ।
ডাকঘর সঞ্চয় পত্রঃ
ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে তিন বছর মেয়াদী হিসাবে বর্তমানে মুনাফার হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। এখন ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার হবে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। আর ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে হবে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ।
ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাবে বর্তমানে মুনাফার সাড়ে ৭ শতাংশ, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যারা নতুন করে সঞ্চয়পত্র কিনবেন, শুধু তাদের জন্য পরিবর্তিত এই হার কার্যকর হবে। আগের কেনা সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেটি পুনঃবিনিয়োগ করলে তখন নতুন মুনাফার হার কার্যকর হবে। ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক উভয়ের জন্য নতুন এই মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে।
সংবাদ সূত্র- বিবিসি বাংলা
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল পৌরসভার কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা আতিকুর রহমান মোর্শেদের বিরুদ্ধে প্রায় পাঁচ বছর আগে স্ত্রী সৈয়দ আমেনা পিংকিকে হত্যা এবং লাশ গুমের অভিযোগে টাঙ্গাইল থানায় মামলা করা হয়েছে।আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে মামলাটি রেকর্ড করা হয়।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন মামলা করার বিষয় নিশ্চিত করে জানান, এ হত্যা মামলায় মোর্শেদকে ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর জন্য বৃহস্পতিবার(২৩ সেপ্টেম্বর) আদালতে আবেদন করা হবে।
মোর্শেদকে পুলিশ গত ১৯ আগস্ট একটি চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার করে। পরে ওই দিনই তার বাড়িতে তল্লাশী চালিয়ে দুইটি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধার করা হয়। তিনি অস্ত্র ও চাঁদাবাজি মামলায় বর্তমানে টাঙ্গাইল কারাগারে রয়েছেন।
মোর্শেদ ছাড়াও হত্যা মামলার অন্য আসামিরা হলেন, মোর্শেদের প্রথম স্ত্রী সোমা ওরফে মনা, মুন্সি তারেক পটন ও তার স্ত্রী লিনা, পারভেজ খান রনি, সোহেল ওরফে বাবু, অনন্ত সুত্রধর, রাফসান ও আয়নাল মিয়া। এরা সবাই শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার বাসিন্দা। মামলায় এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও তিন চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মোর্শেদের দ্বিতীয় স্ত্রী সৈয়দ আমেনা পিংকির বাবা সৈয়দ শরিফ উদ্দিন বাদি হযে গত ২৪ আগস্ট টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ২০১২ সালের জুন মাসে তার মেয়ে সৈয়দ আমেনাকে মোর্শেদ অপহরণ করে বিয়ে করেন। তাদের ছয় বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। দুই স্ত্রী থাকায় মোর্শেদের পরিবারে মাঝে মধ্যে ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে ২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি রাতে ওই এলাকার এক বাসায় দাওয়াতের কথা বলে মোর্শেদ আমেনাকে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে অন্য আসামিদের সহযোগিতায় মোর্শেদ তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করেন। মোর্শেদের ভয়ে তিনি মামলা করতে সাহস পাননি। পরে মোর্শেদ ১৯ আগস্ট গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে মামলা দায়ের করেন।
আদালত এ হত্যার বিষয়ে থানায় কোন মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছিল কিনা তার প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য টাঙ্গাইল সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। কোন মামলা বা জিডি হয়নি বলে টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেন আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে আদালত মামলা করার জন্য টাঙ্গাইল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, এ হত্যা মামলায় মোর্শেদকে গ্রেপ্তার দেখানোর পর তদন্তের প্রয়োজনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হতে পারে। এছাড়া অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, মোর্শেদ টাঙ্গাইল শহর ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। পরে জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে দলীয় পদ না থাকলেও শহর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশ নিতেন। পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোর্শেদের বিরুদ্ধে করা ছাত্রদল নেতা রেজা হত্যা মামলা ২০১৩ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে দুই যুবলীগ নেতা হত্যা, ব্যবসায়ী তুহিন হত্যা মামলাসহ চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী এক ডজন মামলা হয়েছে বিভিন্ন সময়। গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে তিনি টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
একতার কণ্ঠঃ শিশুসাহিত্যে জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে টাঙ্গাইল সাহিত্য সংসদ পুরস্কার-২০২১ এর জন্য মনোনিত হয়েছেন ছড়াকার ও সাংবাদিক কাশীনাথ মজুমদার পিংকু। শিশুসাহিত্যে জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখায় তরুন ক্যাটাগরিতে তাকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনিত করা হয়েছে । মঙ্গলবার(২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল সাহিত্য সংসদের সভাপতি কবি মাহমুদ কামাল ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম বাদল স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞতিতে ওই তথ্য জানানে হয়।
আগামী ৮ অক্টোবর টাঙ্গাইল সাধারণ গ্রন্থাগার মিলনায়তনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক ও জাতিসত্তার কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদার কাছ থেকে তিনি এই পুরস্কার গ্রহন করবেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে থাকার কথা রয়েছে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. ফজলুর রহমান খান ফারুক ও সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে টাঙ্গাইলের জেলাপ্রশাসক ডক্টর. মো. আতাউল গনির।
প্রকাশ, কাশীনাথ মজুমদার পিংকু ১৯৭৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর মধুপুর উপজেলা সদরের স্বনামধন্য চৌধুরী বাড়িতে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। পিংকু’র বাবা গোপীনাথ মজুমদার এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক এবং তার মা এলেঙ্গা জিতেন্দ্রবালা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষিকা। কাশীনাথ মজুমদার পিংকু বর্তমানে এলেঙ্গাস্থ লুৎফর রহমান মতিন মহিলা কলেজে ইংরেজী ভাষা ও সাহিত্যের সহকারী অধ্যাপক হিসেকে কর্মরত আছেন। এ পর্যন্ত তার ৫টি ছড়াগ্রন্থ, ২টি গল্পগ্রন্থ এবং ১টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।
ইতিপূর্বে তিনি ছড়াসাহিত্যে অবদানের জন্য মাটির মা ফাউন্ডেশন প্রদত্ত ‘ কাব্যতীর্থ” সম্মাননা এবং ছোটগল্পে বাংলাদেশ রাইটার্স ইউনিয়ন প্রদত্ত ‘ অমরাবতী পান্ডুলিপি পুরস্কার লাভ করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করে ‘রিং আইডি’। ফেসবুকের মতো এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও বিনামূল্যে ভয়েস ও ভিডিও কল, মেসেজিং ও গোপন চ্যাটিং করা যায়। কানাডায় নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান হলেও এর প্রায় সব কার্যক্রম বাংলাদেশ ঘিরে। আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম বলা হলেও মূলত বাংলাদেশিদের জন্যই তৈরি হয়েছে রিং আইডি। এখানে সোশ্যাল কমার্স (সামাজিক বাণিজ্য) নামে গ্রাহকদের কাছে পণ্য বিক্রি করা যায়। এসব পণ্যের দাম বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে চলতি বছরের মার্চে আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থের বিনিময়ে ব্যাপক পরিসরে গ্রাহক বানানোর কাজ শুরু করলে দেখা দেয় সন্দেহ।
অর্থ আয়ের লোভনীয় অফার দিয়ে তরুণ, ছাত্র ও গৃহিণী, বিশেষ করে বিশাল বেকার জনগোষ্ঠীকে সহজেই আকৃষ্ট করছে কথিত সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মটি। অর্থের বিনিময়ে ‘এজেন্ট’ ও ‘ব্র্যান্ড প্রমোটার’ নামে সদস্য বানিয়ে এরই মধ্যে হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গ্রাহকের এ টাকা লোপাট হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এটিও এক ধরনের পঞ্জি স্কিম। এদের কাজের ধরন বহু স্তর বিপণনের (এমএলএম) সঙ্গে মিলে যায়। রিং আইডি কয়েক মাস আগে একটি ‘সেবা’ চালু করেছে, যার মাধ্যমে শুধু বিজ্ঞাপন দেখেই আয় করা যায়। এ জন্য যারা বিজ্ঞাপন দেখে আয় করতে চান, তাদের একটি আইডি কিনতে হয়। এদের বলা হয় ব্র্যান্ড প্রমোটার। আর এই প্রমোটার সংগ্রহের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয় এজেন্ট। এজেন্টদেরও নিয়োগ পেতে বড় অঙ্কের টাকা দিতে হয়। এজেন্টরা পান বিভিন্ন ধরনের কমিশন।
কানাডাপ্রবাসী বাংলাদেশি শরিফ ইসলাম ও আইরিন ইসলাম দম্পতি রিং আইডির প্রতিষ্ঠাতা। প্রতিষ্ঠানটির একমাত্র অফিস ঢাকার গুলশানে; যেখানে ৫০ জনের মতো কর্মী কাজ করছেন। রিং আইডি কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের প্ল্যাটফর্মে দুই কোটির বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছেন, যাদের ৯৫ ভাগই বাংলাদেশি।
চলতি বছরের ২৮ মার্চ ‘কমিউনিটি জব’ নামে বিশেষ সেবা চালু করে রিং আইডি। এর আওতায় এজেন্ট ও ব্র্যান্ড প্রমোটার নিয়োগ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। এরই মধ্যে কয়েক হাজার এজেন্টের পাশাপাশি পাঁচ লক্ষাধিক ব্র্যান্ড প্রমোটার যুক্ত হয়েছেন প্ল্যাটফর্মটিতে। এজেন্ট ও ব্র্যান্ড প্রমোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এজেন্ট হতে একেকজনকে এক থেকে পাঁচ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে হয়েছে। এজেন্টদের কাজ ব্র্যান্ড প্রমোটার নিয়োগ করা; তার বিনিময়ে কমিশন নেওয়া। ব্র্যান্ড প্রমোটারের দুটি ক্যাটাগরি- গোল্ড ও সিলভার। যথাক্রমে ২২ ও ১২ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ব্র্যান্ড প্রমোটার হতে পারেন গ্রাহকরা।
সংশ্নিষ্টরা বলছেন, এরই মধ্যে গোল্ড ক্যাটাগরিতে চার লাখ ব্র্যান্ড প্রমোটার নিয়োগ দিয়ে ৮৮০ কোটি টাকা তুলেছে রিং আইডি। পাশাপাশি এজেন্টসহ অন্যান্য ক্যাটাগরিতে আরও অন্তত ২০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে।
“আমাদের একটা শ্রেণি বিনা পরিশ্রমে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ আয়ের স্বপ্ন দেখে, কেউ যদি এরকম কোনো অফার দেয়, তারা লুফে নেয়। কিন্তু যাচাই করে না কিংবা বোঝে না, এভাবে বৈধভাবে কেউ দিনের পর দিন অর্থ দিতে পারে না। একটা সময় ওই কোম্পানি উধাও হয়ে যায়। তখন সবাই হায় হায় করতে থাকে”
যা করছে রিং আইডি :তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে রিং আইডি খানিকটা ভিন্ন আঙ্গিকে এমএলএম পদ্ধতির ব্যবসাই করছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে তিন ক্যাটাগরিতে এজেন্ট হওয়া যায়। এর মধ্যে ডায়মন্ড ক্যাটাগরির এজেন্ট হতে পাঁচ লাখ টাকা, গোল্ডেন দুই লাখ টাকা এবং সিলভার ক্যাটাগরির এজেন্ট হতে এক লাখ টাকা দিতে হচ্ছে। এজেন্ট হওয়ার পর তারা রিং আইডির অফিসিয়াল প্রতিনিধি হিসেবে ব্র্যান্ড প্রমোটার নিয়োগ করতে পারেন। ১২ হাজার টাকায় সিলভার এবং ২২ হাজার টাকায় গোল্ড ক্যাটাগরির ব্র্যান্ড প্রমোটার নিয়োগ করেন তারা। এ ছাড়া এক বছরের জন্য ২৫ হাজার টাকায় ভিভিআইপি এবং ১৫ হাজার টাকায় ভিআইপি সদস্যপদ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রবাসী ক্যাটাগরিতে বিনিয়োগ করেও প্রতিদিন এক হাজার টাকা আয়ের লোভনীয় অফার রয়েছে। এ ছাড়া ‘সোশ্যাল কমার্স’ নামে পণ্য বেচাকেনায়ও এসব এজেন্ট ও ব্র্যান্ড প্রমোটারদের জন্য রয়েছে কমিশন। ব্র্যান্ড প্রমোটারদের লেনদেনের অধিকাংশই হচ্ছে বিকাশ ও নগদের মতো ওয়ালেটে।
লোভের ফাঁদে বেকার ও তরুণরা :রিং আইডির অফারে দিনে সর্বোচ্চ ১০০টির মতো বিজ্ঞাপন দেখলেই মিলছে ৫০০ টাকা! প্রতিটি বিজ্ঞাপন দেখার বিনিময়ে পাঁচ টাকা আয় করতে পারছেন ব্র্যান্ড প্রমোটাররা। গোল্ড ক্যাটাগরিতে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০০টি এবং সিলভার ক্যাটাগরিতে প্রতিদিন ৫০টি বিজ্ঞাপন দেখার সুযোগ রয়েছে। এভাবে গোল্ড ব্র্যান্ড প্রমোটাররা দিনে ৫০০ টাকা এবং সিলভাররা ২৫০ টাকা আয় করেন। এজেন্টদের বিনিয়োগ বেশি, আয়ও বেশি।
প্রতি ব্র্যান্ড প্রমোটার নিয়োগে এজেন্টরা পান ৮ শতাংশ কমিশন। এভাবে রেফার সিস্টেমে ব্র্যান্ড প্রমোটারদেরও আয়ের সুযোগ রয়েছে। একজন গোল্ড প্রমোটার নিয়োগ করলে কমিশন বাবদ এজেন্ট পায় এক হাজার ৭৬০ টাকা। ব্র্যান্ড প্রমোটাররা বিজ্ঞাপন দেখে অর্জিত অর্থ এজেন্টের মাধ্যমে তুললে তারা পান ৪ শতাংশ কমিশন। তেমন কোনো পরিশ্রম ছাড়াই অর্থ আয়ের লোভে একেকজন সদস্য ৫-১০টা, এমনকি ৫০টা পর্যন্ত ব্র্যান্ড প্রমোটার আইডি কিনছেন। অনেকেই একাধিক এজেন্ট আইডি কিনছেন।
গোল্ড ক্যাটাগরির ৫০টি আইডি কিনেছেন দিনাজপুরের এক যুবক। তিনি জানান, রিং আইডিতে গত এপ্রিল মাসে তিনি ১১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। ৫০টা আইডিতে তার প্রতিদিন ২৫ হাজার টাকা আয় হওয়ার কথা। শুরুতে মাস দুয়েক ঠিকঠাক টাকা তুলতে পেরেছেন। কিন্তু এখন ঝামেলা হচ্ছে। এজেন্টরা চাহিদা মতো ক্যাশআউট দিচ্ছে না। সরাসরি অফিসিয়াল ক্যাশআউট করতে গেলে রিং আইডির সার্ভার ব্যস্ত দেখাচ্ছে।
টাকা তুলতে এমন নানা ঝামেলার কথা সমকালকে জানিয়েছেন অনেকেই। টাকা ফেরত পাওয়া নিয়েও অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাগুরার এক ডায়মন্ড এজেন্ট জানান, তিনি ১০ লাখ টাকায় দুটি ডায়মন্ড এজেন্ট আইডি নিয়েছেন। তাদের সরাসরি কোনো অর্থ দেয় না রিং আইডি। ব্র্যান্ড প্রমোটার নিয়োগ করে প্রাপ্ত কমিশন থেকে তাদের অর্থ তুলতে হয়।
রিং আইডি প্রতারণা করতে পারে কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, খুব তাড়াতাড়ি এমনটা হবে না। এর মধ্যেই বিনিয়োগ লাভসহ উঠিয়ে আনা যাবে।
শরিফ-আইরিন দম্পতি :ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্ম শরিফ ইসলামের। তার পরিচিতজনরা জানায়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক করা শরিফ ইসলাম ২০০৫ সালে পিআর (পারমানেন্ট রেসিডেন্স) ভিসায় কানাডায় যান। আইরিন ইসলাম কানাডার কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে ব্যাচেলর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ওই সময় বিয়ে করেন তারা। কানাডায় চাকরির পাশাপাশি আইরিন শরিফ ইসলামের সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক নানা উদ্যোগ শুরু করেন।
আইজিডব্লিউ এবং আইসিএক্স প্রতিষ্ঠান খুলে কল জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে কোটি কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে এই দম্পতির বিরুদ্ধে। কল জালিয়াতি, সরকারের বকেয়া পরিশোধ না করা এবং আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠান ভিশনটেল ও আইসিএক্স প্রতিষ্ঠান ক্লাউডটেলের বিরুদ্ধে করা একাধিক মামলায় আইরিন ইসলাম ও শরিফ ইসলাম ২০১৬ সালে জেল খেটেছেন। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) মামলায় ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর এই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠান ভিশনটেল এবং আইসিএক্স প্রতিষ্ঠান ক্লাউডটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফ ইসলাম এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আইরিন ইসলাম। ২০১৫ সালের ১৬ জুন ভিশনটেলের লাইসেন্স বাতিল করে কমিশন।
বিটিআরসি সূত্র সমকালকে নিশ্চিত করেছে, শরিফ-আইরিন দম্পতি ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালত থেকে মামলাটির স্থগিতাদেশ (স্টে অর্ডার) নেয়। বিটিআরসি এরপর স্থগিতাদেশ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করলেও এ মামলায় পরবর্তী শুনানি হয়নি।
বিজ্ঞাপন দেখে আয়ের সুযোগ কতটা :বিজ্ঞাপন দেখে বৈধ পথে আয়ের সুযোগ আছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ফ্রিল্যান্সার ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার আল আমীন কবির সমকালকে বলেন, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান তার পণ্যের প্রচারণার জন্য বিনিয়োগ করতে পারে। অনলাইন বিজ্ঞাপন প্রদর্শনে বিশ্বজুড়ে সিপিএম (কস্ট পার মিল বা প্রতি হাজারে খরচ) স্বীকৃত পদ্ধতি। নির্দিষ্ট পণ্য কিংবা ওয়েবসাইটের ভিজিটর বাড়াতে এ ধরনের পদ্ধতি ব্যবহূত হয়। এটা বৈধ, স্বল্প পরিসরে এটা হয়। তবে একটি প্রতিষ্ঠান হাজার হাজার মানুষকে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে প্রতিদিন ৫০০ কিংবা এক হাজার টাকা আয়ের সুযোগ করে দেবে- এটা বাস্তবতা বিবর্জিত। যখন কোনো প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কর্মকাণ্ড করবে, তখন বুঝতে হবে কোথাও গলদ আছে।
দেশের অন্যতম শীর্ষ ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ আইটির কর্ণধার মনির হোসেন বলেন, দক্ষতা অর্জন ছাড়া বিজ্ঞাপন দেখে আয় করার অফার একমাত্র প্রতারণার উদ্দেশ্যেই দেওয়া যায়। আমরা এক সময় ডুল্যান্সার নামে একটি কোম্পানির এ ধরনের অপতৎপরতা দেখেছি। তারা একটা সময় পর গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা লোপাট করে পালিয়েছে। রিং আইডি এখন যা করছে, তা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়।
রিং আইডি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য :প্রায় দুই মাস ধরে রিং আইডির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফ ইসলাম এবং প্রধান নির্বাহী আইরিন ইসলাম কানাডায় রয়েছেন। রিং আইডির বিষয়ে শরিফ ইসলামের সঙ্গে কয়েক দফায় মেসেঞ্জার কলে কথা হয়। তিনি বলেন, তাদের প্ল্যাটফর্মে দুই কোটিরও বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছেন, যার মধ্যে দুই লাখ ব্র্যান্ড প্রমোটার আর এজেন্ট রয়েছেন ৫০০ থেকে ৬০০ জন। কর্মী আছেন ৫০ জন।
দুই কোটিরও বেশি ব্যবহারকারীর প্ল্যাটফর্ম এত কম সংখ্যক কর্মীতে কীভাবে চলে- এমন প্রশ্নের জবাবে শরিফ বলেন, বিনিয়োগ না পাওয়ায় অর্থ সংকটে আছি। জাপানসহ একাধিক বিদেশি বিনিয়াগকারী গ্রুপের সঙ্গে আলাপ চলছে। অচিরেই নতুন বিনিয়োগ ঢুকবে বলে আশা করছি।
কমিউনিটি জব প্রসঙ্গ তুললে তিনি বলেন, ‘এটা সাময়িক, আমরা নতুন এজেন্ট ও ব্র্যান্ড প্রমোটার নেওয়া দ্রুত বন্ধ করে দেব।’
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন :বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মের আড়ালে কেউ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে কিনা কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করছে কিনা তা সরকারের সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খতিয়ে দেখা উচিত। প্ল্যাটফর্মটি কোনো রকম অবৈধ পন্থা অবলম্বন করলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। আর যদি বৈধভাবে সব কিছু হয়ে থাকে, তবে জবাবদিহি নিশ্চিত করে নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, রিং আইডির বিষয়ে বিস্তারিত জানা নেই। তবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আড়ালে গ্রাহকের অর্থ হাতিয়ে নিলে পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, রিং আইডির বিষয়ে আমাদের কাছে এখনও কোনো অভিযোগ আসেনি। এখানে অবৈধ কিছু ঘটে থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি দেখবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, আমাদের একটা শ্রেণি বিনা পরিশ্রমে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ আয়ের স্বপ্ন দেখে, কেউ যদি এরকম কোনো অফার দেয়, তারা লুফে নেয়। কিন্তু যাচাই করে না কিংবা বোঝে না, এভাবে বৈধভাবে কেউ দিনের পর দিন অর্থ দিতে পারে না। একটা সময় ওই কোম্পানি উধাও হয়ে যায়। তখন সবাই হায় হায় করতে থাকে।
সংবাদ সূত্র- সমকাল অনলাইন
একতার কণ্ঠঃকেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট মামুনুর রশিদ বলেছেন, আন্দোলনের হুমকি দিয়ে বিএনপি লম্ফজম্ফ করছে। তারা ডিসেম্বর থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু করবে। নেত্রী হুকুম দিলে সামনের ডিসেম্বর কেন, কোন ডিসেম্বরেই বিএনপি মাঠে নামতে পারবে না। তাদের জ্বালাও পোড়াও নাশকতা প্রতিরোধে যুবলীগই যথেষ্ট। তারা কোন দিনই রাজপথে বের হতে পারবে না। বুধবার(২২ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি ওই কথা বলেন।
জেলা যুবলীগের সভাপতি রেজাউর রহমান চঞ্চলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা জোয়াহেরুল ইসলাম এমপি। জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন মানিকের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম জোয়ার্দার, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জহির উদ্দিন খসরু, সহসম্পাদক হিমেলুর রহমান হিমেল, কার্যনির্বাহী সদস্য মেহেরুল হাসান সোহেল, সদস্য মাহমুদুল হাসান, মনিরুল ইসলাম কবির ও জহিরুল হক জাকির প্রমুখ
সভায় জেলার যুবলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
যুবলীগের বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক এবং শহরের গুরত্বপূর্ণ সড়কগুলো ব্যানার, ফেসটুন ও বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে। বর্ধিত সভায় নেতাকর্মীতের মাঝে উৎসবের আমেজ দেখা গেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে কালিহাতী উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে ছায়েদ আলী খান (৬০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন।মঙ্গলবার( ২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে ভুঞাপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের যদুরপাড়া এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ছায়েদ আলী খান নওগাঁ জেলার পোরশা উপজেলার কোচপুর গ্রামের মৃত নূর মোহাম্মদের ছেলে।
নিহতের ভাতিজা ও বাসযাত্রী আমিনুল ইসলাম বলেন, চাচাসহ তিনজন ঢাকা যাওয়ার জন্য রাতে নওগাঁ থেকে রওনা দিই। বাসটি বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে মহাসড়ক দিয়ে না গিয়ে ভুঞাপুর হয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। গাড়ি ঠিকভাবে চালাতে চালককে বারবার সতর্ক করা হচ্ছিল। পরে বাসটি সড়কের বাঁক ঘুরতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদের পানিতে পড়ে যায়।
বাসযাত্রীরা জানান, চালক ঘুমন্ত অবস্থায় বাস চালাচ্ছিলেন। বারবার সতর্ক করা হয়। দুর্ঘটনার পর চালক, সুপারভাইজার ও হেলপার পালিয়ে গেছে।
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আলাউদ্দিন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাসটি সড়কের বাঁক ঘুরতেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদের পানিতে পড়ে যায়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী ওই নারী টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন। সোমবার(২০ সেপ্টেম্বর) সকালে ধনবাড়ী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ওই তথ্য জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের নাম ওসমান গণি। তিনি উপজেলার মুশুদ্দি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও ভুক্তভোগী অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য ও মামলার বিবরণে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেতে ইউপি সদস্য ওসমান গণির কাছে ধর্ণা দেন ওই নারী। ঘর পাইয়ে দিতে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন ওসমান। পরে মৌখিক চুক্তির পর ২৭ হাজার টাকা দেন ভুক্তভোগী। কিন্তু দীর্ঘদিন হয়ে গেলে ঘর না পাওয়ায় ইউপি সদস্যকে চাপ দেন ওই নারী। এ সময় ওই ইউপি সদস্য নতুন শর্ত জুড়ে দেন। তিনি ওই নারীকে কুপ্রস্তাব দেন।
কু-প্রস্তাবে রাজি না হয়ে ওই নারী ঘর পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়ে নিজের টাকা ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি ওসমান গণির কাছ থেকে টাকা ফেরত চান। অবশেষে গত ২৭ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে ওসমান টাকা ফেরত নিতে তার বাড়িতে আসতে বলেন। কথা অনুযায়ী সেখানে গেলে ওই নারীকে যৌন নির্যাতন করেন ওসমান গণি। ঘটনাস্থলে তার স্ত্রী ফাহিমা উপস্থিত হয়ে উল্টো ওই নারীর ওপর পড়াও হন। তারা ওই নারীকে বেধড়ক মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য ওসমান গণি। তিনি বলেন, ‘একটি মহল আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে মিথ্যা অভিযোগ ও আদালতে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।’
এ ব্যাপারে মুশুদ্দি ইউনিয়নের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘর প্রদানে টাকা লেদদেনের কথা তিনি শুনেছেন। ইউপি সদস্য ওসমান গণি দুই নারীসহ আরও কয়েকজনের কাছ থেকে ঘর দেওয়ার কথা বলে অর্থ নিয়েছেন বলেও অভিযোগও রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ ওয়ালটন গ্রুপের উদ্যোগে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের কনভেনশন সেন্টারের উন্নয়নে চারটি ( চার টনের) এসি প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলে প্রেস ক্লাবে ওয়ালটনের পক্ষ থেকে এসিগুলো হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এড. জাফর অহমেদ, সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা, ওয়ালটন সিএসআর কমিটির সদস্য সচিব এবং ওয়ালটন সিএসআর এন্ড ওয়েলফেয়ার সেকশন ইনচার্জ মো. সাফায়েত হুদা, পিন্সিপাল অফিসার ফেন্সী ইসলাম, ওয়ালটন টাঙ্গাইল প্লাজার ম্যানেজার অনুপ কুমার সাহাসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ জানান, ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বিভিন্ন সময়ে উন্নয়নের জন্য নানাভাবে সহয়োগিতা করে আসছে। এর আগে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের আয়োজনে ওয়ালটন আন্তঃউপজেলা প্রেসক্লাব ক্রিকেট টুনামেন্টসহ অভ্যন্তরীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সহযোগিতা করে থাকে। ওয়ালটনের এই ধারাবাহিক সহাযোগিতার কারণে ওয়ালটন গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এসএম নূরুল আলম রেজভীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।