একতার কণ্ঠঃ টিআর ও কাবিটা প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লায়ন এম শিবলী সাদিকের নাম দুর্নীতি মামলার অনুসন্ধান থেকে বাদ দেওয়া কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, শিবলী সাদিকসহ সংশ্লিষ্ট ৬ জনকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত এক আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার (৪ অক্টোবর) হাইকোর্টের বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি জাহিদ সারওয়ার কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল জারির আদেশ দেন। আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম আশরাফ। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হোসেন।
ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম আশরাফ সাংবাদিকদের জানান, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম শিবলী সাদিকের বিরুদ্ধে টেস্ট রিলিফ (টিআর) ও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পের ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে বিগত ২০১৭ সালে টাঙ্গাইলের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল টিনিউজবিডি ডটকমসহ অন্যান্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে দুদক। দুদকের অনুসন্ধান শেষে বিগত ২০১৮ সালের (২৫ জানুয়ারি) শিবলী সাদিকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান প্রমাণিত না হওয়ায় তার নাম বাদ দিয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
টিআর ও কাবিটা প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে বিগত ২০১৮ সালের (২৫ জানুয়ারি) দুদকের উপপরিচালক (অনুসন্ধান ও তদন্ত) শেখ ফাইয়াজ আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, এম শিবলী সাদিকের বিরুদ্ধে উল্লেখিত বিষয়ে অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রমাণিত না হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক অনুসন্ধান পরিসমাপ্ত করা হয়েছে। এরপর এ বিষয়টি জানতে পেরে রোববার (৩ অক্টোবর) দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রম থেকে শিবলী সাদিকের নাম বাদ দেওয়াকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন দেলদুয়ারের স্থানীয় বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. আশরাফুল ইসলাম।
আদালতের শুনানিতে আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দুদকের মামলায় পাঁচ বছর সাজা হয়। এরপর হাইকোর্টে সেই সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়েছে। অথচ আওয়ামী লীগের এ নেতার নাম দুদকের অনুসন্ধান থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যেখানে পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। সরকারি এই টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে সরিয়েছেন তিনি।
রিটকারী আইনজীবী এম আশরাফুল ইসলাম আরও বলেন, সাবেক টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের বরাদ্দকৃত টিআর-এর ২৭ লাখ টাকা দেলদুয়ার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম শিবলী সাদিক ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। দুস্থ, অসহায় পরিবার ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে টিআর বরাদ্দ দেওয়ার বিধান থাকলেও দেলদুয়ারে চলছে হরিলুট। বিষয়টি নিয়ে দুদক অনুসন্ধানে নামে। অনুসন্ধান করে দুদক তার নামসহ অভিযোগটিও বাতিল করে দেয়। এ কারণে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে আমি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হই। সোমবার আদালত আমার আবেদনের শুনানি নিয়ে রুল জারি করেছেন।
একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ‘পরিচালনা পর্ষদ’ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে হ্যাটট্রিক জয় পেয়েছেন নাজমুল হাসান পাপন।
বুধবার (৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ক্যাটাগরি-২ অর্থাৎ ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে পরিচালক হিসেবে এবারও নির্বাচিত হয়েছেন গত দুই মেয়াদের সভাপতি পাপন।
৫৭ ভোটের মধ্যে বর্তমান বিসিবি প্রধান পেয়েছেন ৫৩ ভোট। পাপনের সমান সংখ্যক ভোট পেয়েছেন আরও দুইজন- গাজী গোলাম মুর্তজা ও এনায়েত হোসেন সিরাজ।
নির্বাচনে কাট্যাগরি-১ এ জিতেছেন নাঈমুর রহমান দুর্জয় ও তানভীর টিটু। তবে রাজশাহী বিভাগে হেরে গেছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট। রাজশাহী বিভাগে মাসুদকে ৭-২ ভোটে হারান সাইফুল আলম স্বপন। পাবনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর হিসেবে তিনি তৃতীয়বারের মতো বিসিবি পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন।
ক্যাটাগরি-২ থেকে জয় পেয়েছেন ১২ ক্লাব পরিচালক- নাজমুল হাসান পাপন, ওবেদ নিজাম, গাজী গোলাম মর্তুজা, নজিব আহমেদ, মাহবুব আনাম, সালাউদ্দিন চৌধুরী, ইফতেখার রহমান, ইসমাইল হায়দার মল্লিক, মঞ্জুর কাদের, মঞ্জুর আলম, এনায়েত হোসেন, মঞ্জুর আলম ও ফাহিম সিনহা।
ক্যাটাগরি -৩ এ খালেদ মাহমুদ সুজন ৩৭-৩ ভোটে হারিয়েছেন নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে।
কাউন্সিলররা ভোটের মাধ্যমে মোট ২৩ জন পরিচালক নির্বাচন করেছেন, আর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে মনোনয়ন পেয়ে বোর্ড পরিচালক হয়েছেন আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি ও জালাল ইউনুস।
বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিতদের তালিকা:
ক্যাটাগরি-১
আকরাম খান (চট্টগ্রাম)
আ জ ম নাসির (চট্টগ্রাম)
নাঈমুর রহমান দুর্জয় (মানিকগঞ্জ)
তানভীর আহমেদ টিটু (নারায়ণগঞ্জ)
শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল (সিলেট)
শেখ সোহেল (খুলনা)
কাজী ইনাম আহমেদ (খুলনা)
আলমগির খান (বরিশাল)
আনোয়ারুল ইসলাম (রংপুর)
সাইফুল আলম স্বপন (রাজশাহী)
ক্যাটাগরি-২
নাজমুল হাসান পাপন (আবাহনী)
নজিব আহমেদ (শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব)
ইসমাইল হায়দার চৌধুরী মল্লিক (শেখ জামাল)
গাজী গোলাম মুর্তজা (গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স)
মাহবুব উল আনাম (মোহামেডান)
ওবেদ রশীদ নিজাম (শাইনপুকুর)
সালাহউদ্দিন চৌধুরী (কাকরাইল বয়েজ ক্লাব)
এনায়েত হোসেন (আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব)
ফাহিম সিনহা (সূর্য তরুণ ক্লাব)
ইফতেখার রহমান মিঠু (ফেয়ার ফাইটার্স স্পোর্টিং ক্লাব)
মনজুর কাদের (ঢাকা এসেটস)
মনজুর আলম মনজু (আসিফ শিফা ক্রিকেট একাডেমী)
ক্যাটাগরি-৩
খালেদ মাহমুদ সুজন (সাবেক অধিনায়ক)
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ক্যাটাগরি
আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি
জালাল ইউনুস
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল, দেলদুয়ার, নাগরপুর, ধামরাই ও সাটুরিয়া উপজেলার সঙ্গে মানিকগঞ্জ ও ঢাকার মধ্যে স্বল্পতম সময়ে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। আর তাই প্রায় ১৪শ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার ।মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত চলতি অর্থ বছরের ৫ম একনেক সভায় টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া-কাওয়ালিয়া-কালামপুর সড়কটিকে আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত করতে ১ হাজার ৪৩৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
একনেক চেয়ারপার্সন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত চলতি অর্থ বছরের ৫ম একনেক সভায় এই প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি সভায় যোগ দেন। নগরীর শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রিবর্গ, প্রতিমন্ত্রীগণ, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যবর্গ ও সচিবগণ সভায় যোগ দেন।
সড়ক পরিবহন এবং মহাসড়ক বিভাগের অধীন সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্প কাজ সম্পন্ন হলে,টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া-কাওয়ালিয়া-কালামপুর সড়কে যান চলাচল নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন হবে এবং এতে সময়ও কম লাগবে।সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উদ্যোগে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।
পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, আজকের সভায় ৬ হাজার ৫৫১ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট নয়টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।অনুমোদিত ৯টি প্রকল্পের মধ্যে চারটি প্রকল্প নতুন এবং ৫টি প্রকল্প সংশোধিত।
মোট প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে ৩ হাজার ৭৪২ কোটি ২৯ লাখ টাকা সরকারের পক্ষ থেকে, ২৬ কোটি ২২ লাখ টাকা সংস্থাগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বাকি ২ হাজার ৭৮২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা প্রকল্প সহায়তা হিসাবে পাওয়া যাবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রী আরও বলেন, সড়ক পরিবহন এবং মহাসড়ক বিভাগের অধীন সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্প কাজ সম্পন্ন হলে,টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার-লোহাটি-সাটুরিয়া-কাওয়ালিয়া-কালামপুর সড়কে যান চলাচল নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন হবে এবং এতে সময়ও কম লাগবে।সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উদ্যোগে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।
বাকি প্রকল্পগুলো হচ্ছে- ৭৩.৪৪ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ৫টি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ, পেভমেন্ট প্রশস্তকরণ ও জোরদারকরণ, এক গ্রেড পৃথক ইন্টারসেকশন এবং একটি ইউলুপ অথবা আন্ডারপাস নির্মাণ, ৩১টি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ, ১৩.২৬ লাখ কিউবিক মিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও ড্রেন নির্মাণ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে প্রতারণার অভিযোগ এনে টাকা ফেরত ও প্রতারকের শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের অডিটরিয়ামে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ভুক্তভোগি বাবুল আহমেদ ও সিরাজুল ইসলাম।
ভুক্তভোগি বাবুল আহমেদ জেলার বাসাইল উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের আলাউদ্দিন তালুকদারের ছেলে ও সিরাজুল ইসলাম একই গ্রামের শাহজাহানে ছেলে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা একই গ্রামের বছির মিয়ার ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ও তার ভাগ্নে মির্জাপুর উপজেলার ছাওয়ালী মহেড়া এলাকার কাইয়ুম মিয়ার ছেলে মাসুদ মিয়া।
লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগি বাবুল আহমেদ বলেন, ‘আমি ও আমার প্রতিবেশি সিরাজুল ইসলাম বাড়িতে বেকারত্বে দিন কাটাচ্ছিলাম। এমতাবস্থায় গ্রামের বছির মিয়ার ছেলে আব্দুর রাজ্জাক তার ভাগ্নে মির্জাপুর উপজেলার ছাওয়ালী মহেড়া এলাকার মাসুদ মিয়ার মাধ্যমে আমাকে এবং সিরাজুলকে ব্রুনাই পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দেন। তার কথায় রাজি হয়ে ঋণ করে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে আব্দুর রাজ্জাককে আমি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিই। এছাড়াও সিরাজুল আব্দুর রাজ্জাককে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেয়। প্রায় ৩ বছর পার হলেও তিনি আমাদের বিদেশে পাঠাতে পারেননি। এমতাবস্থায় আমাদের ঋণের বোঝা আরও ভারি হতে থাকে। তিনি বিদেশ পাঠাতে ব্যর্থ হলে আমরা টাকাগুলো ফেরত চাই। কিন্তু তিনি টাকা ফেরত দিতে বারবার সময়ক্ষেপণ করেন।
পরে আমরা ফুলকি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিই। ইউপি চেয়ারম্যান দুই পক্ষকে নিয়েই সালিশি বৈঠক করেন। ওই সালিশে আব্দুর রাজ্জাক টাকা ফেরত দিতে সময় চান। সালিশ থেকে তাকে টাকা ফেরত দিতে এক মাসের সময় দেন। নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত না দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে একাধিকবার সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে আব্দুর রাজ্জাক হাজির হলেও তার ভাগ্নে মাসুদ কোনও সালিশেই হাজির হয়নি।
এই দীর্ঘদিনেও টাকা ফেরত না দেওয়ায় আমরা নিরুপায় হয়ে চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বাসাইল আমলী আদালতে আব্দুর রাজ্জাক ও তার ভাগ্নে মাসুদ মিয়ার বিরুদ্ধে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করি। সেই মামলা আদালতের বিচারক টাঙ্গাইলের কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের কর্মকর্তাকে তদন্ত করার দায়িত্ব দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ও প্রতিবেশি সিরাজুল নিরীহ মানুষ। কোন রকমভাবে আমাদের সংসার চলে। আমাদের ঋণ করা টাকার সুদ দিন দিন বেড়েই চলছে। এই অসহায়ত্বের সময়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আর আমাদের টাকাগুলো ফেরত ও দালাল আব্দুর রাজ্জাক ও মাসুদের শাস্তি দাবি করছি।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগি বাবুল আহমেদ ও সিরাজুল ইসলাম ছাড়াও তাদের কয়েকজন স্বজন উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি(বিআরটিএ) টাঙ্গাইল সার্কেলের আয়োজনে পেশাজীবী গাড়ি চালকদের পেশাগত দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিশু একাডেমি মিলনায়তনে মঙ্গলবার(৫ অক্টোবর) দিনব্যাপী ওই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহমুদ হাসান। টাঙ্গাইল সার্কেলের সহকারী পরিচালক মো. আলতাব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিআরটিএ টাঙ্গাইল সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক বশির উদ্দিন আহমেদ, ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (টিআই-প্রশাসন) মো. জানে আলম ভূইয়া, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার আব্দুল আজিজ প্রমুখ।
প্রশিক্ষণে বাস, ট্রাক ও মাইক্রোবাস সহ বিভিন্ন যানবাহনের ১৫০ জন চালক অংশ নেন। চালকদের ট্রাফিক আইন, দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক চিকিৎসা সহ দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে করণীয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় মহিলা চোর চক্রের চার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) বিকালে তাদের বাসাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন, আনজু বেগম (২৯), অনিতা (২০), আকলিমা (১৮), মনিকা (১৮)।আটককৃত সকলেই জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার হারগীললা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানাযায়, বাসাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েকজন মহিলার স্বর্ণালংকার, টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন খোয়া যায়। অপরিচিত চার-পাঁচ জন মহিলার চলাফেরা স্থানীয়দের কাছে সন্দেহজনক মনে হলে তাদেরকে আটক করে তারা। এ সময় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে চুরির সাথে সম্পৃত্তের কথা স্বীকার করে আটককৃত মহিলারা। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে ।
এ প্রসঙ্গে বাসাইল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত প্রত্যেকেই পেশাদার চোর। তারা একটি চোর চক্রের সাথে জড়িত। এই চক্রটি হাসপাতাল, বাজার, বাসস্ট্যান্ড এবং জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে চুরি করে থাকে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্ততি চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় বনের ভেতর গড়ে উঠেছে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরির কারখানা। উপজেলার লক্ষ্মণেরবাধা বা ভূঁইয়া বাড়ির মোড় এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে এ কারখানা। কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার পরিবেশ ও বনভূমি।
কারখানার চারপাশে বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের গাছসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক গাছপালায় ঘেরা ঘন জঙ্গল। আশপাশে রয়েছে মানুষের বসতি। স্থানটি নিরাপদ ভেবে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে সিসা।
কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মালিকপক্ষ ব্যাটারি সংগ্রহ করে এখানে নিয়ে আসে। অন্য কোথাও গলানোর জায়গা না পেয়ে বনের ভেতর কাজ শুরু করেন তারা। এ কাজ চলছে বছরখানেক ধরে। প্রতিদিন ব্যাটারি পোড়ানো হয় প্রায় ৬ টন। প্রতিটি পুরোনো ব্যাটারি ক্রয় করা হয় প্রায় পাঁচ হাজার টাকায়। কারখানার মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে মুখ খুলতে পারে না এলাকাবাসী।
ব্যাটারি পোড়ানোর সময় তাদের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। শ্বাসকষ্টসহ এলাকার মানুষের দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের রোগ। ক্ষতি হচ্ছে বনের। ভারসাম্য হারাচ্ছে পরিবেশ।
আশপাশের তিন ইউপি সদস্য লিয়াকত হোসেন, ওয়াজেদ আলী ও সফিউল ইসলাম স্বীকার করেননি যে কারখানা স্থাপনের ওই এলাকা তাদের নির্বাচনী এলাকার মধ্যে। তবে তিনজনই এ বিষয়ে পাশ কাটিয়ে যান।
বনের ভেতর কারখানা স্থাপনের কথা স্বীকার করে কারখানা মালিক তানভীর বলেন, শুধু যে এই কারখানার কারণে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, তা তো নয়, দেশে তো পরিবেশের এর চেয়েও বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।
বন বিভাগের ঘাটাইল ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, বন বিভাগের জায়গায় কোনো অবৈধ কারখানা গড়ে উঠেনি। তবে বনের ক্ষতি হয় এমন কারখানা কোথাও গড়ে উঠলে পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকদের সঙ্গে নিয়ে তা উচ্ছেদ করা হবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বিভাগীয় সমন্বয়কারী গৌতম চন্দ্র চন্দ বলেন, এ ধরনের কারখানার কারণে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে এবং ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। কারখানাটি পরিদর্শন করে পরিবেশ অধিদপ্তরকে অবগত করা হবে। তারা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বেলা এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, উন্মুক্ত স্থানে সিসা তৈরি মানবদেহসহ প্রাণীকুলের জন্য মারাত্মক ক্ষতি করবে। এটি বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহাগ হোসেন বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের পাহাড়িয়া অঞ্চল মধুপুর ও ঘাটাইলের বাগান মালিকরা স্বপ্নের আগরগাছের বাগান করে এখন দুঃস্বপ্ন দেখছে। চারা লাগানোর ১০ বছরে বড় হয়ে পরিপক্ক হয়ে সুগন্ধি কষ বেড়োনোর কথা। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পাড় হওয়ায় পরও তার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছেনা।
গাছগুলো পরিপক্ক হতেই আরও ৫-৬ বছর সময় লাগবে বলে বন বিভাগ সাফ বলে দিয়েছে। ফলে স্বপ্নের আগর বাগান তাদের কাছে এক দুঃস্বপ্নের গাছে পরিণত হয়েছে।
জানাগেছে, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বনবিভাগ আগর বনায়নের প্রকল্প হাতে নেয়। আগর মূলত একটি গাছের নাম। আগর শব্দের আভিধানিক অর্থ উৎকৃষ্ট বা সুগন্ধবিশিষ্ট কাঠ। ওই সময় মধুপুর ও ঘাটাইলের পাহাড়ি অঞ্চলের লালমাটির বেশ কিছু এলাকায় আগরের বাগান করা হয়।
এক প্রকার জোর করেই তাদের দিয়ে আগরের বনায়ন করানো হয়েছিল। মূল্যবান আগরগাছের বাগান করলে তাড়াতাড়ি ধনী হওয়া যাবে। ১১ বছরের মধ্যে গাছগুলোতে নম্বর দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১৩-১৪ বছরেও গাছে নম্বর ফেলানো হচ্ছে না। এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে বনবিভাগকে বার বার অনুরোধ করা হয়েছে।
ওই সময় বন বিভাগ থেকে বলা হয়েছিল, আগর চাষ দারুণ লাভজনক। এর কাঠ বিশেষ কায়দায় খ-বিখ- করে প্রসেসিংয়ের পর এর নির্যাস বাস্পীভবন ও শীতলীকরণের মাধ্যমে দামি সুগন্ধি আতর, ওষুধ, সাবান, শ্যাম্পু, পারফিউম এবং অবশিষ্ট অংশ আগরবাতি বানানোর কাজে ব্যবহৃত হবে।
এভাবে আগর চাষে বাগান মালিকদের ভাগ্য বদল হবে। সে সময় ভাগ্য বদলের স্বপ্নে অনেকেই আগর চাষ করেছিল। বর্তমানে গাছের বয়স ১৩-১৪ বছর হলেও আগরগাছগুলো এখনও পরিপক্ক বা কষ বেড় হওয়ার উপযুক্ত হয়নি। বনবিভাগ বাগানের আগরগাছ থেকে কষ বের করার জন্য পেরেক মারার কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি।
আগর গাছের কোন নাম্বারিংও করেনি। এছাড়া টাঙ্গাইল জেলায় আগরগাছ প্রসেসিংয়ের কোনো কারখানা নেই। মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ায় কারখানা থাকলেও ফরেস্ট ট্রানজিট রুলসের কারণে সেখানে গাছ সরবরাহ করা কষ্টসাধ্য।
সরেজমিনে জানা যায়, মধুপুর ও ঘাটাইল উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায় সারি সারি আগরগাছ দাঁড়িয়ে আকাশ ছোঁয়ার চেষ্টা করছে। তবে গাছগুলো এখনও পরিপক্ক বা প্রসেসিং করার উপযোগী হয়নি।
রোপণের সময় বন বিভাগ জানিয়েছিল, আগর চারা লাগানোর ১০ বছরের মধ্যে তা প্রসেসিংয়ের পর কষ থেকে সুগন্ধি তৈরি করা হবে- যার দাম লাখ লাখ টাকা, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।
ঘাটাইলের সাঘরদিঘী রেঞ্জের কামালপুর গ্রামের বাগান মালিক কামরুল হাসান জানান, তিনি দেড় একর পৈত্রিক সম্পত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় খাস হওয়ার ভয়ে এক রকম বাধ্য হয়েই আগরগাছের বাগান করেন। যদিও বাগান করতে তখন তাকে লাখ লাখ টাকা লাভের স্বপ্ন দেখানো হয়।
কিন্তু লাভ তো দূরের কথা দীর্ঘ ১৩-১৪ বছরেও আগরগাছ পরিপক্কই হয়নি। দেড় একর জায়গায় আগরগাছ লাগিয়ে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এটা থেকে কোনো আয় হবে কি না সন্দেহ রয়েছে। শুধু তিনি নন এলাকার অনেকেই আগরগাছ লাগিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তিনি জানান, আগরগাছ সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা ছিল না। বনবিভাগ জানিয়েছিল, এই গাছ থেকে এক ধরণের সুগন্ধি বের হবে- যা অনেক মূল্যবান।
কামরুল হাসান জানান, এক প্রকার জোর করেই তাদের দিয়ে আগরের বনায়ন করানো হয়েছিল। মূল্যবান আগরগাছের বাগান করলে তাড়াতাড়ি ধনী হওয়া যাবে। ১১ বছরের মধ্যে গাছগুলোতে নম্বর দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১৩-১৪ বছরেও গাছে নম্বর ফেলানো হচ্ছে না। এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে বনবিভাগকে বার বার অনুরোধ করা হয়েছে।
সাঘরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. ওয়াজেদ আলী ও ভুক্তভোগী অপর বাগান মালিক আব্দুল খালেক জানান, আগর গছের জন্য যে সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল তা তিন বছর আগেই পাড় হয়েছে। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে আগরগাছের বাগান করা হয়েছিল।
বনবিভাগ বলেছিল এগুলো থেকে বহু টাকা আয় হবে। তখন বনবিভাগের সঙ্গে বাগান মালিকদের দলিলের মাধ্যমে চুক্তিনামা হয়েছিল। সেখানে গাছের ১০ বছরের মেয়াদ ছিল। কিন্তু এখন ১৩-১৪ বছর পাড় হলেও গাছের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। প্রথম দিকে বনবিভাগ খোঁজ-খবর নিলেও গত কয়েক বছরে তারা কোনো খোঁজই নেয়নি।
তারা জানান, ওই ভূমিতে অন্যান্য গাছ, বিভিন্ন সবজি বা ফল জাতীয় গাছ লাগালে ১৩ বছরে অনেক লাভবান হতে পারতেন। আগরগাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কষ বের হতে তারা দেখেন নাই। এ বিষয়ে বনবিভাগ কোন উদ্যোগও নেয়নি।
মধুপুর উপজেলার কুড়াগাছা ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল হক জানান, বনবিভাগের প্রভাবে দীর্ঘ একযুগ আগে তিনি দেড় বিঘায় আগরগাছ লাগিয়েছেন। আগর গাছে না কি সোনা ফলে- সোনার দামে তো দূরের কথা, সস্তা জ্বালানি কাঠ হিসেবেও ওই গাছ বিক্রি করা যাচ্ছে না।
টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক জানান, মধুপুর ও ঘাটাইলের পাহাড়িয়া অঞ্চলে সরকারি আগর প্রকল্পের গাছ এখনও পরিপক্ক হয়নি। তাদের আরও কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে। এখনও আগর প্রডাশনের অবস্থায় আসেনি।আগর সত্যিই অতি মূল্যবান গাছ। যখন আগর প্রডাকশন হবে তখন তাদের ভুল ভেঙে যাবে। তারা লাভবান হবেন।তিনি আরও জানান, আগর গাছগুলো তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। গাছগুলো এখনও যথেষ্ট চিকন এবং অপরিপক্ক। পরিপক্ক হতে আরও সময় দিতে হবে।
আগামি ৫-৬ বছরের আগে গাছ পরিপক্ক হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। জেলায় প্রসেসিংয়ের ব্যবস্থা করা হলে তা থেকে খুব একটা লাভবান হওয়া যাবে না। গাছগুলো থেকে পুরোপুরি লাভবান হতে হলে মৌলভীবাজারে পাঠাতে হবে।
একতার কণ্ঠঃ বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার আনালিয়াবাড়ী নামকস্থানে মঙ্গলবার(৫ অক্টোবর) ভোরে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক ট্রাকের চালক লাল চাঁন(৩৮) নিহত হয়েছেন।
এ সময় চাল বোঝাই একটি ট্রাকের উপরে আনা ২৫টি ছাগলও মারা যায়। নিহত ট্রাক চালক লাল চাঁন নওগা সদর উপজেলার চকরাম চন্দ গ্রামের মৃত জসিম উদ্দিনের ছেলে।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, চাল বোঝাই একটি ট্রাকের(ঢাকা মেট্রো-চ-১৮-৬৫০৯) উপরে ২৫টি ছাগল উঠিয়ে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল।
ট্রাকটি আনালিয়াবাড়ী নামকস্থানে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি খালি ড্রাম ট্রাকের(ঢাকা- মেট্রো-ট-২৪-০৬৬৫) সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে চাল বোঝাই ট্রাকের চালক গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, সংঘর্ষে চাল বোঝাই ট্রাকের উপরে আনা ২৫ টি ছাগল ঘটনাস্থলেই মারা যায়। নিহতের মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ দুইটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে গোলযোগ সৃষ্টির অভিযোগ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান গাউসকে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।সেই সঙ্গে দলের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মতিয়ার রহমানকে অব্যাহতির কথা জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার স্বাক্ষরিত এই চিঠি মতিয়ার রহমানের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে মতিয়ার রহমান বুধবার দুপুরে জানিয়েছেন তিনি এখনো চিঠি হাতে পাননি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিঠির কপি দেখেছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান এবং সাধারণ সম্পাদক সাংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ২১ সেপ্টেম্বর মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামছুল আলম জেলা নেতাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। সেখানে মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে দুইটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে গোলযোগ সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়। এ বিষয়ে গত রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। এ নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনার পর ‘নেতাদের নীতিগত সিদ্ধান্তে’ মতিয়ার রহমান গাউসকে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করার সিদ্ধান্ত হয়।
মতিয়ার রহমান জানান, তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া সম্পূর্ণ অগঠনতান্ত্রিক। তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের বিষয়টি লিখিতভাবে জানাবেন বলেও জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মতিয়ার রহমান গাউস চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কাজী অলিদ ইসলাম বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। কাজী অলিদকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে শামছুল আলকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে চেক ডিজঅনার মামলায় আবু সাঈদ তালুকদারের (৪২) পাঁচ বছরের সাজা হয়। কিন্তু তিনি আদালতে হাজির না হয়ে পালিয়ে থাকেন ১৪ বছর। অবশেষে সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) পাবনার ভাঙ্গুড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে সাইদুল হক ভুঁইয়া গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাঈদ উপজেলার গড়গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত কদ্দুস তালুকদারের ছেলে। গ্রেফতারের ভয়ে তিনি ১৪ বছর পলাতক অবস্থায় ভাঙ্গুড়ার বিভিন্ন সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন বলে জানিয়েছে সখীপুর থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পৌরশহরের কচুয়া সড়কে গাউজ ভাণ্ডারি কাগজ বিতান নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে প্রবাসীদের ব্যাংক ড্রাফটের ব্যবসা করতেন আবু সাঈদ। ওই সময় তিনি সখীপুর বাজার বণিক সমিতির বিভিন্ন সদস্যদের কাছ থেকে মাসিক হারে লভ্যাংশ দেওয়ার কথা বলে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেন। পরে এলাকা থেকে পালিয়ে যান। ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ওই বাজারের বণিক সমিতির সদস্য মামুন মিয়া টাঙ্গাইল আদালতে তার বিরুদ্ধে সাড়ে ১৩ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের মামলা করেন। সে বছর আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় ২০০৮ সালে সাঈদ তালুকদারের পাঁচ বছরের সাজা হয়।
সখীপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. সানিউল আলম জানান, গ্রেফতারের ভয়ে ২০০৭ সালে পালিয়ে পাবনার ভাঙ্গুড়া চলে যান সাঈদ। সেখানে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই থাকতেন। ১৪ বছর ধরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরে খবর পেয়ে তাকে পাবনার ভাঙ্গুড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে সাইদুল হক ভুঁইয়া জানান, সাজাপ্রাপ্ত আবু সাঈদের বিরুদ্ধে থানায় দুটি মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তার সাজা হয়েছে। তিনি থানার তালিকায় পুরাতন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। তাকে গ্রেফতার করতে তার মায়ের ফোন নম্বর সংগ্রহ করা হয়। এরপর তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে আবু সাঈদের ঠিকানা শনাক্ত করা হয়। আবু সাঈদকে ধরতে থানার পুলিশ সদস্যরা ছদ্মবেশে ভাঙ্গুড়ার শরৎনগর এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া করেন। পরে সোমবার ভোরে সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরো বলেন, গ্রেপ্তার অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া এএসআই সানিউল আলম ও এএসআই এনামুলকে পুরস্কার দেওয়ার জন্য পুলিশ সদর দফতরে আবেদন করা হবে বলেও জানান ওসি।
একতার কণ্ঠঃ বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটানোর দায়ে টাঙ্গাইলে এক বাসচালকের চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ( ২৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে টাঙ্গাইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাউদ হাসান এই রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তির নাম রাশেদুল ইসলাম। সে জামালপুর সদর উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদিনের ছেলে। একই অপরাধে তাঁকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৯ মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সরকারি কৌসুঁলি (পিপি) এস আকবর খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১ আগস্ট বিকেলে রাশেদুল তাঁর বাস চালিয়ে জামালপুরের তারাকান্দি থেকে ঢাকা যাচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাসাইল উপজেলার গুল্লা এলাকায় একটি যাত্রীবাহি মাইক্রোবাসের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে একজন ও হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।
পরে বাসাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুস সাত্তার বাদী হয়ে রাশেদুলের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। তদন্ত শেষে আবদুস সাত্তার ২০০৯ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে চালকের বিরুদ্ধে বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটানো এবং গুরুতর জখম ও গাড়ির ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়।
পিপি এস আকবর খান জানান, মৃত্যু ঘটানোর দায়ে আদালত বাসচালককে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। এ ছাড়া গাড়ির ক্ষতিসাধনের অভিযোগে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। এই রায়ের সাজা পর্যায়ক্রমে কার্যকর করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, রায় ঘোষণার সময় বাসচালক রাশেদুল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাঁকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।