আরমান কবীর:টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়কে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি মহল। একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে বিরোধের ঘটনা এবং আসন্ন ভূঞাপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাকে নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তার সমর্থকরা।
তাদের দাবি, এসব অপপ্রচারের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ভূঞাপুরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে কনের বান্ধবীর ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, বরপক্ষের এক বন্ধু ওই তরুণীর ছবি বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে আপত্তিকরভাবে সম্পাদনা করেন। বিষয়টি উপস্থিত ব্যক্তিদের নজরে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা স্থগিত রাখা হয়। পরে পরদিন উভয় পক্ষের আলোচনা ও মধ্যস্থতায় বিয়ের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম হৃদয় জানান, “বিয়ের দিন রাতে বর পক্ষের এক আত্মীয়ের অনুরোধে আমি কনের বাড়িতে যাই। সেখানে কনের বাবার শর্ত অনুযায়ী দেনমোহর নির্ধারণ এবং বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে কাজীকে খবর দিই।”
তিনি আরও বলেন, “কাজী কাবিননামার কার্যক্রম পরিচালনার সময় বরপক্ষের এক বন্ধু কনের এক বান্ধবীর ছবি আপত্তিকরভাবে তুলেন। বিষয়টি উপস্থিত এক যুবক দেখতে পেয়ে ওই ব্যক্তির মোবাইল ফোন নিয়ে ছবিগুলো অন্যদের দেখান। এ নিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বরপক্ষের সঙ্গে আসা ছয় বন্ধুর মধ্যে তিনজন সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় বিয়ের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়।”
জাহাঙ্গীর আলম হৃদয় জানান, পরদিন পাত্রপক্ষের অভিভাবকদের অনুরোধে তিনি আবারও উদ্যোগ নেন এবং বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা খন্দকার রফিক, আমিনুল, মো. হাফিজুর রহমান, জয়নাল আবেদীন, মহসিন ও আব্দুল খালেকসহ কয়েকজন জানান, জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতি ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তাদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে ছড়ানো অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা উচিত।
তারা আরও জানান, ওই ঘটনায় তিনি বিরোধ বাড়ানোর পরিবর্তে সমাধানে ভূমিকা রেখেছেন। অথচ ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তাকে জড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, আগামী ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ভূঞাপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই এমন প্রচার বাড়ছে।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, স্কুলজীবন থেকেই জাহাঙ্গীর আলম হৃদয় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯৭-৯৮ মেয়াদে ইব্রাহীম খাঁ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল থেকে এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। পরে ২০১৪ সালে ভূঞাপুর পৌর শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে দাবি করেন তার সমর্থকরা।
সূত্র আরও জানায়, ১৯৯৪ সালে ‘ভ্যান, রিকশা, শ্রমিক সমিতি ভূঞাপুর বাজার’ নামে একটি অরাজনৈতিক ও কল্যাণমুখী সংগঠন প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়। ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
বর্তমানে তিনি টাঙ্গাইল জেলা অটোরিকশা-ভ্যান শ্রমিক সমিতির ভূঞাপুর শাখার সভাপতি, বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের ভূঞাপুর উপজেলা শাখার সভাপতি এবং ভূঞাপুর উপজেলা পরিবেশক মালিক সমিতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।