টাঙ্গাইলে গণভোটের প্রচারণায় স্থবিরতা, জেলা তথ্য অফিসের বিস্ময়কর নীরবতা! 


০৬:১৪ পিএম, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
টাঙ্গাইলে গণভোটের প্রচারণায় স্থবিরতা, জেলা তথ্য অফিসের বিস্ময়কর নীরবতা!  - Ekotar Kantho
প্রতিকী ছবি 

আরমান কবীরঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি চললেও টাঙ্গাইল জেলা তথ্য অফিসের কোনো প্রচার-প্রচারণা চোখে পড়ছে না। গণভোটকে কেন্দ্র করে বিস্ময়কর নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে জেলা তথ্য অফিস জুড়ে।

জেলার সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে গণভোটের হ্যাঁ ও না ভোটের আমেজ নির্বাচনী মাঠে উজ্জীবিত করা হোক।

ভোটগ্রহণের সময় ঘনিয়ে এলেও সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে মাইকিং, ডিজিটাল ডিসপ্লে,পোস্টারিং বা উঠান বৈঠকের মতো ন্যূনতম কার্যক্রমও শুরু করেনি সংস্থাটি। ফলে রাষ্ট্র সংস্কার তথা পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ এ প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় জনমনে এক ধরনের অস্পষ্টতা ও অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে।


সরেজমিনে জেলা সদর ও জেলার ১২টি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘুরে দেখা গেছে, গণভোটের সমর্থনে বা তথ্য সম্বলিত কোনো ডিজিটাল ডিসপ্লে বা ব্যানার টাঙ্গাইল তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে স্থাপন করা হয়নি।

অথচ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটারদের সচেতন করতে তৃণমূল পর্যায়ে এ দপ্তরের প্রচারণা চালানোর কথা। প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক ভোটার এখনও জানেন না গণভোটের ভোটদানের নিয়মাবলী। শুধুমাত্র ২-১টি স্থানে নির্বাচন কমিশনের বড় বড় ব্যানার টানানো হয়েছে।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ধরেরবাড়ি গ্রামের আজমত আলী, সবদের মিয়া, মজনু প্রামাণিক, কোনাবাড়ি গ্রামের আমজাদ আলী সরকার ও নাছির উদ্দিন; কালিহাতী উপজেলার দুর্গাপুরের আজাহার তালুকদার, ময়ছের আলী, নাগবাড়ীর আকবর সওদাগর, রতনগঞ্জের লাবু মিয়া, হোসেন আলী, বল্লা গ্রামের মিন্টু মিয়া ও আব্দুস সামাদ; নাগরপুর উপজেলার ছলিমাবাদের আব্দুল হাকিম ও নওশের তালুকদার; মির্জাপুর উপজেলার ফতেহপুরের আরশেদ আলী ও জমির উদ্দিন; সখীপুর উপজেলার মাইধারচালা গ্রামের নসীব উদ্দিন ও কালোমেঘার জমির আলী; ধনবাড়ী উপজেলার মুসুদ্দীর আবুল কাশেম ও নাজমুল হোসেনসহ বিভিন্ন উপজেলার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গণভোট সম্পর্কে তথ্য অফিসের কোনো প্রচারণা তাদের চোখে পড়েনি।

প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে তা-ই জানেন না। তাদের কাছে হ্যাঁ ভোট বা না ভোট দিলে কী হবে সে প্রশ্ন তো অবান্তর। অনেকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে অবগত হলেও গণভোট সম্পর্কে কোনো ধারণা রাখেন না।

স্ব স্ব স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, তথ্য অফিসের এই রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তার কারণে সাধারণ ভোটাররা গণভোট বিমুখ হতে পারেন যা মোট ভোটদানের হারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে প্রচারণার অভাব প্রকট। রাজনৈতিক দলগুলো ও তাদের প্রার্থীরা স্ব স্ব প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালালেও গণভোটের বিষয়ে কোনো প্রচারণা নেই। ফলে রাষ্ট্র সংস্কারের ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে নেতিবাচকতা দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা তথ্য অফিসের জনৈক কর্মচারী জানান, তারা মাঠ পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে শুধুমাত্র দুই দিন সদর উপজেলার দুই স্থানে মাইকিং করার বাইরে কোনো প্রচারণার তথ্য তিনি দিতে পারেন নাই। তারা মাঠ পর্যায়ের প্রচারণার চেয়ে দাপ্তরিক কাজেই বেশি ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।

 

টাঙ্গাইল জেলা তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা তাহলিমা জান্নাত জানান, বিভিন্ন দপ্তর থেকে আসা নির্দেশনা অনুযায়ী তারা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছেন আলাদাভাবে, তারা কোনো বিশেষ প্রচারণা চালান না। তারা গণভোটের প্রচার-প্রচারণা তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত করেছেন। তবে দু’টি স্থানে মাইকিং ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে প্রচারণার তথ্য তিনি দিতে পারেননি।

সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকেই গণভোটের প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তারা ৩৬০টি বড় বড় ব্যানার ও এক লাখ ৮০ হাজার লিফলেট বরাদ্দ পেয়েছেন। ব্যানারগুলো প্রতিটি উপজেলা ও জেলা সদরে টানানো হয়েছে। লিফলেটগুলোও দ্রুতই জনসাধারণের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।


খবরটি শেয়ার করুন

কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।