আরমান কবীরঃ নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. হারুণ অর রশীদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছেন উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা।
গত ২৩ নভেম্বর দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন তাঁরা। অভিযোগটি বর্তমানে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)এর কাছে তদন্তাধীন রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তনের পর ইউপি সদস্য মো. হারুণ অর রশীদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি বেপরোয়া আচরণ শুরু করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ইউপি সদস্যদের অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্পে সুষম বণ্টন না করে নিজের ইচ্ছামতো প্রকল্প বাস্তবায়ন, কাজ না করেই প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, প্রকল্পের টাকা লুটপাট এবং নিজের পছন্দের ইউপি সদস্যদের দিয়ে পরিষদের যাবতীয় কাজ করানোর মতো নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এ ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য বরাদ্দ কাজের অধিকাংশ তার ৬ নং ওয়ার্ডের করেছে বলে অভিযোগ করেছেন অধিকাংশ ইউপি সদস্য। ফলে তাদের এলাকাবাসীকে উন্নয়ন বঞ্চিত করা হয়েছে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও অভিযোগে বলা হয়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার পর তিনি পরিষদের অন্যান্য ইউপি সদস্যদের অবজ্ঞা করতে থাকেন এবং কাউকে তোয়াক্কা না করে একক সিদ্ধান্তে কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এরই মধ্যে তিনি একটি অপহরণ মামলায় জড়িয়ে পড়েন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ওই মামলাটি স্থানীয়ভাবে আপোষ-মীমাংসা করা হয় বলে দাবি করেছেন ইউপি সদস্যরা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. হারুণ অর রশীদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,ইউপি সদস্যরা ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে অপসারণের দাবি তুলেছেন। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন মিয়া বলেন,মগড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. হারুণ অর রশীদের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের দেওয়া অনাস্থার অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।