সিন্ডিকেট মুক্ত করটিয়া হাট; এক লাফেই ইজারা মূল্য দ্বিগুণ


০৮:০৫ পিএম, ৪ মার্চ ২০২৩
সিন্ডিকেট মুক্ত করটিয়া হাট; এক লাফেই ইজারা মূল্য দ্বিগুণ - Ekotar Kantho
করটিয়া কাপড়ের হাট

একতার কণ্ঠঃ জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখা দেশের বৃহত্তম হাটগুলোর মধ্যে টাঙ্গাইলের করটিয়া কাপড়ের হাট অন্যতম ঐতিহ্যবাহী হাট। বেশ কয়েকবছর যাবত হাটকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় সরকার বঞ্চিত হয়েছে বিপুল পরিমান রাজস্ব আয় থেকে। সিন্ডিকেটের কারণে বছরে এই হাটের ইজারা মূল্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ৬% হারে বাড়েনি। এ বছর সেই সিন্ডিকেট ভেঙ্গে মাইসা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ২ কোটি ২৩ লাখ টাকায় হাটটি ডেকে নিয়েছে। যা গত বছর ছিলো ১ কোটি ১৪ লাখ ৩৮ হাজার ১০৭ টাকা।

জানা গেছে, টাঙ্গাইলের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা করটিয়া হাটকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। এতে যুক্তকরা হয় স্থানীয় করটিয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাদের। ফলে বিগত বছরগুলোতে প্রকৃত ইজারাদারগণ হাট ডেকে নিতে কিম্বা দরপত্র দাখিল করতে পারেনি। এতে করে বছরের পর বছর বিপুল পরিমান রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার।

এ বছর স্থানীয় প্রভাবশালী এক নেতা বছরের শুরু থেকেই এ সিন্ডিকেট ভাঙ্গার জোর তৎপরতা চালায়। টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মককর্তার কার্যালয় থেকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী করটিয়া হাটসহ ১৮ হাট বাজারের দরপত্র আহবান করা হয়। সিন্ডিকেট ভাঙ্গার ফলে এবছর করটিয়া হাট ইজারা নেওয়ার জন্য দশটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি দরপত্র খোলার শেষ দিন ছিল। একই দিনে বিকেল চারটায় দরপত্র খোলা হয়। এতে দেখা যায় মাইশা এন্টারপ্রাইজ নামের এক প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে দরপত্র দাখিল করেছে। দুই কোটি ২৩ লাখ টাকায় দরপত্র দাখিল করে ওই ইজারাদার। যা গত বছর করটিয়া হাটের ইজারা মূল্যর চেয়ে প্রায় ১ কোটি টাকা বেশি ও বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশী।

সিন্ডিকেট ভাঙ্গার ফলে এ বছর করটিয়া হাটের ইজারা মূল্য হয়েছে দুই কোটি ২৩ লাখ টাকার বেশি ছাড়িয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এ বছর এই হাট থেকে সরকারের কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হবে। বিষয়টি খুবই ইতিবাচক হিসেবে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন।

মাইসা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জানান, এবছর উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দশটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেন। সর্বোচ্চ দর দিয়ে আমার প্রতিষ্ঠান করটিয়া হাটের একবছরের জন্য ইজারা পায়। আশাকরি, হাটে আসা সকল ধরনের ব্যবসায়ীদের সমন্বয় করে হাটটি সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে পারবো। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের প্রশাসনসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মোছা. রানুয়ারা খাতুন জানান, বিষয়টি খুবই ইতিবাচক। কারণ সরকার এবছর এই হাট থেকে প্রায় এক কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পাবে। করটিয়া হাটের ইজারা পেতে ১০ জন ইজারাদার অংশ নিয়েছিলেন।

তিনি আরো জানান, প্রতি বছর ৬% হারে দর বৃদ্ধি পায়। সে ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নিয়মেই দর বৃদ্ধি পাচ্ছে। দরদাতাদের প্রতিযোগিতার কারণে হাট বাজারের ইজারা দর আরো বেড়ে যায়। তবে সমস্যা হচ্ছে অনেক সময় ইজারদাররা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে টাকা জমা না দেওয়ায় দ্বিতীয় দরদাতাকে ইজারা দিতে হয়।


পাঠকের মতামত

-মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নিউজটি শেয়ার করুন

কপিরাইট © ২০২২ একতার কণ্ঠ এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি ।