আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বকেয়া টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত ও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের নলিনবাজার এলাকায় এরশাদ নামে এক দোকানদারের কাছে গুলিপেচা গ্রামের টগর নামের এক ব্যক্তি বকেয়া টাকা চাইতে গেলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে রূপ নেয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর গুলিপেচা গ্রামের কয়েকজন এসে দোকানদারকে মারধর করলে ঘটনাটি বড় ধরনের সংঘর্ষে গড়ায়।
পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে অর্জুনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় স্কুলশিক্ষক নিয়ামত আলী মাস্টার এবং হেমনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খানের ওপরও হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে এলাকায় উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে।
গুরুতর আহত অবস্থায় নিয়ামত আলী মাস্টারকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করা হয়। পরে উত্তেজিত জনতা গুলিপেচা গ্রামে হামলা চালায়। স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টুর বাড়ির আশপাশের অন্তত অর্ধশতাধিক বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। কয়েকটি বাড়িতে লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি )আনোয়ার হোসেন বলেন, “ঘটনার পরপরই দুই পক্ষের স্থানীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।”
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) জিল্লুর রহমান বলেন, “প্রাথমিকভাবে ৫০ থেকে ৬০টি ঘরবাড়ি ভাঙচুরের তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। লুটপাটের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”