একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সহ জনবলের অভাবে পুরোপুরিভাবে স্বাস্থ্য সেবা চালু হচ্ছেনা। চাহিদা অনুযায়ী জনবল চেয়ে মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও ফলপ্রসূ হয়নি।
ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিশালকায় ভবন এক প্রকার পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। টাঙ্গাইলের ৪০ লাখ মানুষ কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের পাশে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ১৫তলা ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করে গণপূর্ত বিভাগ। ২০১৮ সালের শেষ দিকে ভবন নির্মাণ শেষ হয়। ২০২২ সালের ২২ মার্চ হাসপাতাল ভবন কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেয় গণপুর্ত বিভাগ।
সূত্রমতে, শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অন্তঃবিভাগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে মেডিসিন বিভাগ চালু করা হয়। এছাড়া শিশু, ডায়রিয়া, কার্ডিওলজি, অবস(গাইনী), চক্ষু, নাক, কান, গলা, পোস্ট অপারেটিভ, আইসিইউ, সিসিইউ, সার্জারী, অনক্লোনজি ও অর্থপেডিক ওয়ার্ড চালুর প্রক্রিয়া চলছে।
সূত্র জানায়, গত বছরের ২১ জুন থেকে হাসপাতালের বহিঃবিভাগে মেডিসিন, শিশু, গাইনী, সার্জারী, চক্ষু, ডেন্টাল, বক্ষব্যাধি, নিউরোলজি, ইউরোলজি, মানসিক, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, ফিজিক্যাল মেডিসিন, চর্ম ও যৌন, কার্ডিওলজি, নেফরোলজি, অর্থপেডিক, অনক্লোনজি(ক্যান্সার) সেবা চালু রয়েছে। গত বছরের শুরু থেকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ইসিজি, সিটিস্ক্যান, এক্সরে সহ বিভিন্ন পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ১০টি আইসিইউ বেড, সিসিইউ ও ১৫টি অপারেশন থিয়েটার চালু করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, জনবল সঙ্কটে হাসপাতালে পুরোপুরি স্বাস্থ্য সেবা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে ৬৫ জন ডাক্তার প্রয়োজন। সেখানে রয়েছে ৬১ জন। তারা নিয়মিত কর্মস্থলে থাকেন না। অনেকে ঢাকা থেকে এসে অফিস করেন।
১৬৫ জন নার্সের মধ্যে মাত্র ৩৯ জন নার্স রয়েছে। তাদের মধ্যে চার জন প্রশিক্ষণে ও দুই জন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে এবং দুই জন ইনচার্জে দায়িত্ব পালন করছেন। ৩৭৭ জন আউটসোর্সিং জনবলের মধ্যে ৯০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আয়া, সুইপার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর অভাবে হাসপাতালের ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ওয়ার্ডের ময়লা-আবর্জনা রোগীদের পাশেই রাখা হচ্ছে। দুর্গন্ধে শৌচাগারে প্রবেশ করা যায় না।
স্থানীয়রা জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নামে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও পুরোপুরি চিকিৎসা দেওয়া শুরু না হওয়ায় টাঙ্গাইলের ৪০ লাখ মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। রোগীদের ঢাকাসহ আশপাশের বিভাগীয় শহর থেকে কাঙ্খিত সেবা নিতে হচ্ছে। ফলে আশঙ্কাজনক রোগী ও স্বজনরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পুরোপুরি মানসম্মত চিকিৎসা সেবা চালু করার দাবি জানায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতাল ভবনের নিচতলায় বহিঃবিভাগের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। সেখানে রোগীদের ব্যাপক চাপ দেখা যায়। তাদের মধ্যে কালিহাতী উপজেলার পাইকরা গ্রামের কামরুল হাসান জানান, টাঙ্গাইলের গণমানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে টাঙ্গাইলে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। শুধুমাত্র জনবল সঙ্কটের কারণে তারা কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না। ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় গিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় সহ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি হাসপাতালে দ্রুত পুর্নাঙ্গ চিকিৎসা সেবা চালুর দাবি জানান।
ভবনের লিফট ও আশপাশের দেওয়ালে পানের পিক ফেলে পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। ধুলাবালির কারণে ভবনের বিভিন্ন গ্রিলে মরিচা ধরতে শুরু করেছে। ভবনের ১০ম তলায় মেডিসিন বিভাগে নারী ও পুরুষ রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। ওয়ার্র্ডে ৮৪টি নির্ধারিত বিছানা বরাদ্ধ থাকলেও অতিরিক্ত মিলে প্রায় আড়াইশ’ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীদের বিছানার পাশে ও শৌচাগারসহ বিভিন্ন কক্ষের সামনে ময়লা-আবর্জনা পড়ে রয়েছে। উৎকট দুর্গন্ধে শৌচাগার ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
নারী ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত বিছানার পাশাপাশি মেঝেতে বিছানা পেতে নারী রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সেখানেও ময়লা-আবর্জনার একইচিত্র বিদ্যমান। হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষের সামনের দেওয়ালের টাইলস খসে পড়ছে। তার সামনের কক্ষের দরজার হাতল ভাঙা। এছাড়া দরজায় কাঠের জোড়ার অংশ ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় হাসপাতাল পরিচালকের কক্ষসহ বিভিন্ন দেওয়ালের টাইলস খসে পড়ছে।
টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম জানান, শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। সেখানে হাসপাতাল ভবনসহ ২৭টি ভবনের নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ২৮৪ কোটি টাকা। ১০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। বাকি ১০৮ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আলী খান জানান, হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা পুরোপুরি চালু করতে পর্যাপ্ত জনবলের প্রয়োজন। জনবলের জন্য মন্ত্রণালয়ে বার বার চিঠি দেওয়া হয়েছে। জনবল পেলেই পুরোপুরি স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিচালনা পরিষদের সহ-সভাপতি মো. ছানোয়ার হোসেন এমপি জানান, হাসপাতালে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি সবই আছে। কিন্তু জনবলের অভাবে পুরোপুরি স্বাস্থ্য সেবা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
হাসপাতালের সভাপতি কৃষিমন্ত্রী ডক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি’র সভাপতিত্বে একটি সভা করার পর আর কোন সভা এখনও হয়নি। দায়িত্বে যারা ছিলেন, তারা কেউ দায়িত্ব পালন করেননি।
একতার কণ্ঠঃ তীব্র প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ মিনিষ্টার আন্তঃ জেলা ভলিবল প্রতিযোগিতার ফাইনালে টাঙ্গাইল জেলা ৩-২ সেটে কিশোরগঞ্জ জেলাকে হারিয়ে আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
বৃহস্পতিবার (১ জুন) বিকেলে টাঙ্গাইল আউটার স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে এই আন্তঃ জেলা ভলিবল প্রতিযোগিতার ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
খেলার শুরুতে টাঙ্গাইল জেলা ভলিবল দল প্রথম সেটে ২৫-১৯ পয়েন্টে জয়লাভ করে।
দ্বিতীয় সেটে কিশোরগঞ্জ জেলা ২৫-২০ সেটে টাঙ্গাইল জেলাকে হারিয়ে খেলায় সমতা আনে।
তৃতীয় সেটে টাঙ্গাইল জেলা ২৫-১৭ সেটে কিশোরগঞ্জ জেলাকে হারিয়ে আবারও এগিয়ে গেলে ৪র্থ সেটে কিশোরগঞ্জ ২৫-২০ সেটে টাঙ্গাইল জেলাকে হারিয়ে ২-২ সেটে সমতা আনে।
শিরোপা নির্ধারনী ৫ম সেটে টাঙ্গাইল জেলা ১৫-১১ পয়েন্টে কিশোরগঞ্জ জেলাকে হারিয়ে ৩-২ সেটে জয়লাভ করে প্রতিযোগিতায় আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
খেলা শেষে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার প্রধান অতিথি হিসেবে খেলোয়াড়দের মাঝে পুরষ্কার বিতরন করেন।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ওলিউজ্জামানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের যুগ্ম-সম্পাদক এড. ফজলে রাব্বী বাবুল, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মির্জা মঈনুল হোসেন লিন্টু ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ হাসান ফিরোজ এবং নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট দীপ ভৌমিক।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার ভলিবল উপ-কমিটির সভাপতি হারুন-অর-রশীদ ও সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল অনুপম।

চ্যাম্পিয়ন টাঙ্গাইল ভলিবল দলের খেলোয়ারগণ হচ্ছেন, সাইদুল ইসলাম খান রিন্টু (অধিনায়ক), রাজিম খান, মেহেদী হাসান, শাহরিয়ার খান রমিম, আরাফাত রায়হান সিয়াম, জাহিদুল ইসলাম, আব্দুস সাত্তার, মো. আঃ রাজ্জাক, আদিল, হাসিব ও পলাশ।
টাঙ্গাইল জেলা দলের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইফতেখারুল অনুপম ও কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিপ্লব দাস।
আঞ্চলিক পর্বের এই প্রতিযোগিতায় কিশোরগঞ্জ জেলা, মানিকগঞ্জ জেলা, ময়মনসিংহ জেলা ও স্বাগতিক টাঙ্গাইল জেলা অংশগ্রহন করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ‘অনির্বাণ বাংলা’ স্লোগানে বেসরকারি টেলিভিশন বিজয় টিভি’র ১১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।
বুধবার (৩১ মে) সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার।
টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, র্যাব-১৪’র সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল কোম্পানীর কমান্ডার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের, জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার তাহলিমা জান্নাত ও টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সম্পদক নাসির উদ্দিন।
বিজয় টিভি’র সখীপুর উপজেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রতিনিধি মো. আবু জুবায়ের উজ্জল।
এসময় জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিণ্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ আগামী তিন বছরের জন্য টাঙ্গাইল জেলা যুবলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
মো. মাসুদ পারভেজকে সভাপতি এবং আবু সাইম তালুকদার বিপ্লবকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি ঘোষণা করেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল।
বুধবার(৩১ মে) যুবলীগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কমিটিতে মো. মনিরুজ্জামান খান মিন্টুকে সহসভাপতি, নুর মোহাম্মদ সিকদার মানিককে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও মো. মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টাঙ্গাইল জেলা যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের মাধ্যমে কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্র বরাবর জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৭ মে) টাঙ্গাইল জেলা যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলতে নেমে হিটস্ট্রোকে মাঠেই রিয়া আক্তার (১০) নামের এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার(২৯ মে) দুপুরে উপজেলার সহদেবপুর ইউনিয়নের দ্বীমুখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।এদিকে মঙ্গলবারের (৩০ মে) খেলায় সদর উপজেলার এক ছাত্রী মাঠে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
রিয়া আক্তার কালিহাতীর ছুনুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী এবং একই গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে।
ছুনুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, আমাদের বিদ্যালয়ের সঙ্গে দ্বীমুখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলা ছিল। রিয়া মাঠে খেলতে নেমে হঠাৎ মাটিতে পড়ে যায়। পরে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোঘণা করেন।
প্রধান শিক্ষক আরো বলেন, মরদেহ সোমবারই দাফন করা হয়েছে।আমরা রিয়ার বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা প্রকাশ করছি।
টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রচণ্ড গরমে খেলতে গিয়ে মেয়েটি মারা গেছে। মঙ্গলবারের খেলায় সদর উপজেলার একটি মেয়ে মাঠে বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বঙ্গমাতা টুর্নামেন্টটি আগামী ১২ জুনের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে।
প্রচণ্ড রোদে ছাত্রীদের খেলতে অসুবিধার বিষয়টি আমরা ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাকে অবগত করেছি।
রিয়া আক্তারকে খেলতে নামতে বাধ্য করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি অস্বীকার করেছেন।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সুজা উদ্দিন তালুকদার বলেন, এখনকার বাচ্চারা রোদের মধ্যে এ ধরনের খেলায় অভ্যস্ত নয়। প্রচণ্ড রোদে হঠাৎ করে মাঠে খেলতে নামলে তাদের জীবন ঝুঁকি থাকে। রোদের তাপে অতিরিক্ত ঘাম, ডিহাইড্রেশন এমনকি হিটস্ট্রোকে তাৎক্ষণিক মৃত্যু হতে পারে।
তাই রোদের মধ্যে এভাবে বাচ্চাদের দিয়ে খেলানো উচিত নয়। বিষয়টি নীতি নির্ধারকদের বিবেচনা করা দরকার।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির উদ্যোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার(৩০ মে) দুপুরে এ উপলক্ষে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে দুস্থদের মাঝে তবারক বিতরণ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল, সাবেক সহ-সভাপতি আতাউর রহমান জিন্নাহ, সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক কাজী শফিকুর রহমান লিটন, আবুল কাশেম, শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান আলীম, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবু, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক রফিকুল ইসলাম স্বপন উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া দিনটি উপলক্ষে জেলা বিএনপির উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন মসজিদে বাদ যোহর দোয়া মাহফিল ও পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণভোজের আয়োজন করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়ায় ইউনিয়ন যুবদলের উদ্যোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ মে) দুপুরে করটিয়া মসজিদ রোড জমিদার বাড়ি প্রাঙ্গণে দোয়া মাহফিল ও গণভোজ আয়োজনের মাধ্যমে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
করটিয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মীর তানভীর আহমেদ তুষারের সভাপতিত্বে ও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব টিপু তালুকদারের সঞ্চালনায় এই দোয়া ও গণভোজে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিভাগীয় যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার রাশেদুল হাসান রাশেদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা যুবদলের সাবেক আহবায়ক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক যুগ্ন আহ্বায়ক দেওয়ান শফিকুল ইসলাম, সাবেক দপ্তর সম্পাদক মির্জা শাহীন,সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মমিনুল হক নিক্সন, জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আশরাফ পহেলী, সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক শফিকুর রহমান রঞ্জু, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মনিরুজ্জামান জুয়েল, জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদ অ্যাডভোকেট মমতাজ করিম, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দুর্জয় হোড় শুভ প্রমুখ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, করটিয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মনির, করটিয়া সা’দত কলেজ শাখার ছাএদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম মেসবাহ উদ্দিন, সাবেক ছাত্রদল নেতা সেলিমুজ্জামান বাবুল, হাসনাত জামিল, আমিনুল ইসলাম, সাদাত বাজার ব্যবসায়িক কল্যাণ সমিতির ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ সজিব মিয়া প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন জেলা যুবদলের সাবেক আহবায়ক আশরাফ পাহেলী। পরে ৩ শতাধিক বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে তবারক বিতরণ করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা বসতঘরে উপর উঠে গেলে ঘুমন্ত মা-মেয়ে নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বাবা খোকন চন্দ্র রবি দাস।
সোমবার (২৯ মে) দিনগত রাত ৩টার দিকে টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার নল্লা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- খোকন চন্দ্র রবি দাসের স্ত্রী ফুল রানী (৪২) ও মেয়ে রাধিকা রানী দাস (১২)। আহত খোকন চন্দ্র রবি দাস ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা উপজেলার নল্লা এলাকার বাসিন্দা।
মঙ্গলবার (৩০ মে) সকালে ধনবাড়ী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম জসিম উদ্দিন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এ ব্যাপারে ধনবাড়ী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম জসিম উদ্দিন জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরগামী একটি পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নল্লা বাজার এলাকার খোকন চন্দ্র রবি দাসের বাড়ীতে উঠে পড়ে। এতে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা মা ও মেয়ে মারা যান। গুরুতর আহত হয় বাবা। পরে আহত খোকনকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পিকআপটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় চালক পালিয়ে গেছে। নিহত মা-মেয়ের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ: টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদক প্রাপ্তির ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার(২৯ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভার একক আলোচক ছিলেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রফেসর ড. খুরশীদা বেগম।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন আলোচনা সভা উদযাপন কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ খাদেমুল ইসলাম।
আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ আর এম সোলাইমান, রিজেন্ট বোর্ড সদস্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহন করেন।
আলোচনা সভায় বক্তাগণ বলেন, বঙ্গবন্ধুর মানুষের প্রতি অন্ধ বিশ্বাস ছিল। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে আমরা যদি লালন করি তাহলে আমরা একটি সুন্দর দেশ তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে পারবো। শেখ মুজিবুরের অহিংস রাজনীতির কথা গান্ধীজিও বলেছিলেন। ৭ই মার্চের ভাষণে রাজনীতি, শিক্ষা, পরস্পর দায়িত্বশীলতা, ভাষা, বর্ণ বৈষম্যের বিষয়ে শেখার অনেক কিছু আছে। পৃথিবীতে আজ যুদ্ধের দামামা বাজছে, কালো ধোয়া উঠছে, আগুনের লেলিহান শিখা জ্বলছে, এটাকি শান্তি? পৃথিবীতে আজ সর্বত্র বিরাজ করছে অশান্তি।
বঙ্গবন্ধুর সারা জীবনের রাজনৈতিক জীবনের এই পদক ছিল বিশ্ব স্বীকৃতি, বিশ্ব সম্মান ও বিশ্ব শ্রদ্ধা। তাঁর সারাজীবনের লক্ষ্য ছিল দেশের মানুষের মুক্তি। তিনি ব্যাপক গনসংযোগ করে মানুষের অধিকারের বিষয়ে সচেতন করেছিলেন। তিনি মানবতার মুক্তির জন্য লড়াই করেছেন, মৌলিক অধিকার: অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও শিক্ষার জন্য লড়াই করেছেন। তিনি ধর্ম, বর্ণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে গেছেন। মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য দরিদ্র ও দুঃখী মানুষের স্বার্থে কাজ করে গেছেন
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জুলিও কুরি শান্তি পদক প্রাপ্তির ৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৮ মে) সকালে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় ।
জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একুশে পদক প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ ছানোয়ার হোসেন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ওলিউজ্জামান,পৌর মেয়র এস এম সিরাজুল হক আলমগীর,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক্রাইম) শরফ উদ্দীন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) হাসান বীন মুহাম্মদ আলী, প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ প্রমুখ ।
সভায় বঙ্গবন্ধুর পদক প্রাপ্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে আলোচনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ওলিউজ্জামান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ছানোয়ার হোসেন এমপি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে করে বলেন, তোমাদের মত বয়স থেকেই বঙ্গবন্ধু সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করতেন। দেশের স্বার্থে বঙ্গবন্ধু ১৪ টি বছর কারাগারে কাটিয়েছেন। এমন নিঃস্বার্থ রাজনীবিদ বর্তমানে বিরল। তোমরা বঙ্গবন্ধুর জীবন থেকে শিক্ষা নিবে।
তিনি আরও বলেন, শান্তি পরিষদের তৎকালিন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুকে জুলিও কুরি পদক প্রদান করেন। বিশ্বের শান্তির জন্য সর্বোচ্চ পদক হল জুলিও কুরি পদক। এই পদক বিশ্বের বরেণ্য ব্যাক্তিরাই পেয়ে থাকেন।
উল্লেখ, ১৯৭৩ সালের ২৩ মে বিশ্ব শান্তি পরিষদের পক্ষ থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করা হয়।
বঙ্গবন্ধু এই পদকপ্রাপ্তির আগে কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো, ভিয়েতনামের সংগ্রামী নেতা হো চি মিন, চিলির গণ-আন্দোলনের নেতা সালভেদর আলেন্দে, ফিলিস্তিনের জনদরদি নেতা ইয়াসির আরাফাত প্রমুখ এই পদকপ্রাপ্ত হয়েছেন। মূলত, সাম্রাজ্যবাদ ও ফ্যাসিবাদ বিরোধিতা এবং মানবতার ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় যাঁরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন, তাঁরা এই পদকে ভূষিত হয়ে আসছিলেন ১৯৫০ সাল থেকে।
একতার কণ্ঠঃ কৃষিমন্ত্রী ডক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বিএনপি আন্দোলন করে নির্বাচনকে ব্যহত করতে পারবেনা। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দেশি-বিদেশি শক্তির কেউ আগামী সংসদ নির্বাচন প্রভাবিত করতে পারবে না। সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে তারা সহযোগিতা করবে।
শনিবার (২৭ মে) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আওয়ামী লীগ বিচলিত নয়।
গাজীপুরের নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না। সিটি করপোরেশন, পৌরসভার মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফলে অনেক ফ্যাক্ট কাজ করে। গাজীপুরে সুষ্ঠ সুন্দর ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন হয়েছে, আমরা সেটিই চেয়েছিলাম। আমরা আগের মতো আবারও জাতিকে দেখিয়েছি বর্তমান সরকারের অধীনে অবাধ-সুষ্ঠ, সুন্দর ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন সম্ভব।
আন্দোলন করে আগামী নির্বাচনকে বিএনপি ব্যাহত করতে পারবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি আন্দোলন করে কোনভাবেই বৈধ সরকারের পতন ঘটাতে পারবে না, আগামী নির্বাচনকেও ব্যাহত করতে পারবে না।’
কৃষিমন্ত্রী বলেন,আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহনযোগ্য হবে। তারপরও বিএনপি যদি ষড়যন্ত্র করে অসাংবিধানিক সরকারকে ক্ষমতায় আনতে চায়, নির্বাচন বানচাল করতে চায়, তাহলে এ দেশের প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা মোকাবিলা করবে। আর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি নিয়ে হতাশ ও উদ্বিগ্ন হওয়ারও কিছু নেই জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন,এটি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিষেধাজ্ঞা নয়। আমরা যেটি চাই দেশে একটি সুষ্ঠ নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে নির্বাচন, সেটিই যুক্তরাষ্ট্র আগামী নির্বাচনে দেখতে চায়। এক্ষেত্রে বিএনপিই মূল বাধা। আন্দোলন করে, সন্ত্রাস করে বিএনপি নির্বাচনকে ব্যাহত করতে চায়, বানচাল করতে চায়। বিএনপি ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনকে বানচালের চেষ্টা করেছিল। সেরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, সেজন্যই যুক্তরাষ্ট্র নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে।
সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, কেন্দ্রীয় যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য মামুনুর রশীদ মামুন, সাবেক টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম এমপি, টাঙ্গাইল -৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল-৪( কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভুঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরসহ যুবলীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের চাঞ্চল্যকর পার্ক বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আলী আকবর বাপ্পী(৩৩) হত্যার ঘটনায় ৩ আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ। এছাড়াও তাদের কাছে থাকা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে, টাঙ্গাইল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পাড় দিঘুলিয়া এলাকার মোঃ নূরু মিয়ার ছেলে মোঃ রাজু আহম্মেদ হাবলু (৩০), একই এলাকার ঝন্টু বেপারীর ছেলে মোঃ খোকন (৩১) ও মৃত শহীদ বেপারীর ছেলে ওলি (৩০)।
শনিবার (২৭ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া।
ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান,ব্যবসায়ী বাপ্পি হত্যাকাণ্ডটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ সোহেল রানার নির্দেশে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান ও তদন্তকারী অফিসার এসআই (নিঃ) মোরাদুজ্জামান’সহ অন্যান্য অফিসার ফোর্সের অংশগ্রহণে একাধিক টিম ঘটনার পর থেকেই সাড়াশি অভিযান চালাতে থাকে। পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গত তিন দিনে আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করা হয় ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়। পরে বিজ্ঞ আদালতে গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি (১৬৪) প্রদান করেছে।
তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের পর ব্যবসায়ী বাপ্পির মা আজিমন বেগম (৫৫) মঙ্গলবার (২৩ মে) অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তিনি জানান, টাঙ্গাইল শহরের পার্ক বাজারে মাছ বিক্রির দুইটি দোকানের মালিকানাকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। নিহত বাপ্পি দীর্ঘদিন যাবৎ পার্ক বাজারে খুচরা মাছ ক্রয়-বিক্রয় করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। পার্ক বাজারে দুইটি মাছের দোকান আসামি খোকন, ওলি ও নিহত বাপ্পি তিনজনের মধ্যে ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। উক্ত দোকান ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে আসামী মোঃ রাজু আহম্মেদ হাবলু, খোকন ও ওলি তিনজন মিলে পরিকল্পনা করে, বাপ্পিকে মারপিট করে ভয় দেখিয়ে দুইটি দোকানকে তিন ভাগ করে তারা তিনজন দোকান তিনটি নিয়ে নিবে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার (২২ মে) বিকাল অনুমানিক ৩ থেকে ৪ ঘটিকার মধ্যে শহরের পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কালিপুর এলাকায় খোকনের অটোরিক্সা গ্যারেজে আসামী মোঃ রাজু আহম্মেদ হাবলু, খোকন ও ওলি বসে বাপ্পিকে মেরে ফেলার (হত্যা করার) পরিকল্পনা করে। তাদের পরিকল্পনা মোতাবেক আসামী মোঃ রাজু আহম্মেদ হাবলু নিহত বাপ্পিকে রাত্রী অনুমানিক ১০.৩০ মিনিটে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে দিঘুলিয়া ব্রীজের পশ্চিম-দক্ষিন পার্শ্বে লৌহজং নদীর পাড়ে বটগাছের নিচে আসামী খোকন ও ওলি আসার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।
তিনি জানান, মেয়েলি বিষয়ে টাকা পয়সা নিয়ে একটি পার্টি আসবে এই লোভ দেখিয়ে নিহত বাপ্পিকে নিয়ে আসামী মোঃ রাজু আহম্মেদ হাবলু সময়ক্ষেপন করতে থাকে। সোমবার (২২ মে) দিনগত রাত আনুমানিক ১.৩০ মিনিটের দিকে আসামী খোকন ও ওলি তাদের হাতে থাকা ধারালো দা-বটি সহ অন্যান্য অস্ত্র নিয়ে নিহত বাপ্পির কাছে এসে প্রথমে আসামী খোকন বাপ্পিকে বসা অবস্থায় পিছন দিক থেকে দা দিয়ে কোপ মারলে বাপ্পি উঠে রাস্তার দিকে দৌড় দেয়। পরে রাস্তার কোনায় বাপ্পি পিছলে পরে যায়, ওই সময় আসামী মোঃ রাজু আহম্মেদ হাবলু, খোকন ও ওলি বাপ্পিকে পিছন থেকে ধাওয়া করে শহীদ মিজানুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে দা-বটি‘সহ অন্যান্য ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে মাথা, হাত ও পিঠের বিভিন্নস্থানে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে তারা বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যায়।
তিনি আরোও জানান, গ্রেপ্তারকৃত রাজু আহম্মেদ হাবলুকে বৃহস্পতিবার (২৫ মে) আদালতে প্রেরণ করা হয়। এছাড়া ওলি ও খোকনকে শুক্রবার (২৬ মে) আদালতে প্রেরণ করা হয়। এর আগে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জান্নাত রিপা ওই তিনজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি (১৬৪) রেকর্ড করেন।