একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ে এস.এস.সি পরীক্ষা শেষে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার হয়েছে আলিফ লাম (১৭) নামে এক পরীক্ষার্থী।
বুধবার (১৭ মে) দুপুরে টাঙ্গাইলের সন্তোষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় গেটের সামনে হামলার শিকার হয় আলিফ।
পরে স্থানীয়রা আহত ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে রক্তাত্ব অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। সে বর্তমানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হামলার শিকার আলিফ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা শিবরাম গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। সে এ বছর দাইন্যা বিন্যাফৈর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে (মানবিক বিভাগ) এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে।
এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থী আলিফ নিজে বাদী হয়ে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ডের সাকরাইল বটতলা পাশ্ববর্তী এলাকার বেলাল হোসেনের ছেলে আমিনুর রহমান (১৬) সহ অজ্ঞাত ১২ থেকে ১৩ জনের নামে কাগমারী পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করে।
হামলা প্রসঙ্গে, বিন্যাফৈর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আক্তারুজ্জামান জানান, হামলাকারী আমিনুর রহমান ইতোপূর্বেও আমার স্কুলের সামনে এসে দলবল নিয়ে গ্যাদারিং করত। স্কুলের সামনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সামনে এসে বিড়ি-সিগারেট খেয়ে স্কুলের পরিবেশ নষ্ট করত ও ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করত। পরে আমরা স্কুলের শিক্ষকরা মিলে ঐ কিশোর গ্যাংকে পুলিশে সোপর্দ করি।
তিনি আরোও জানান, বুধবার এস.এস.সি পরীক্ষা শেষে আমার এক শিক্ষার্থীকে ঐ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মারধর করেছে। এ অবস্থায় আমার ওই শিক্ষার্থীর পরবর্তী পরীক্ষাগুলো দেয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
কাগমারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শেখ শাহীনুর রহমান জানান, আলিফ নামে এক এস.এস.সি পরীক্ষার্থী অভিযোগ দায়ের করেছে। আসামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে প্রেমিক যুগলের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৭ মে) ভোরে উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের ট্রেনলাইনের জোড়বাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের গড়াশিন মধ্যপাড়া গ্রামের আবুল মিয়ার ছেলে হাবিল মিয়া (১৭) ও একই উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের মৈশানন্দনাল গ্রামের মনজুরুল ইসলামের মেয়ে রিতা আক্তার (১৫)।
তারা দুজনেই ভাতকুড়া এলাকায় আলাউদ্দিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডে শ্রমিকের কাজ করতো।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাবিল ও রিতা আলাউদ্দিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডে একত্রে শ্রমিকের কাজ করার সুবাদে তাদের মধ্য প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হয়। পারিবারিকভাবে তাদের প্রেমের সম্পর্কটি মেনে না নেওয়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে তারা দুজনে কর্মস্থল থেকে পালিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়। তাদের প্রেমের সম্পর্কটি মেনে না নেওয়ায় অভিমান করে তারা বাসাইল জোড়বাড়ী এলাকায় গিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেয়। পরে সকালে স্থানীয়রা তাদের লাশ দেখতে পেয়ে রেলওয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে তাদের লাশ উদ্ধার করে। এসময় প্রেমিক হাবিলের পরিবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
জোড়বাড়ী লেভেলক্রসিংয়ে গেট কিপার সুলতান মাহমুদ বলেন, ভোর ৪টার দিকে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়। পরে রেলওয়ে পুলিশ এসে নিহতদের লাশ নিয়ে গেছে।
ঘারিন্দা রেলওয়ে পুলিশের এএসআই ফজলুল হক বলেন, ধারণা করা হচ্ছে প্রেমঘঠিত কারণে তারা আত্মহত্যা করেছে। নিহতদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সন্তোষে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৭তম ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৬ মে) সকালে ভাসানী পরিষদ, পীর শাহজামান বাজার কমিটি ও ন্যাপ ভাসানীর পক্ষ থেকে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে মাজারে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এ সময় ন্যাপ ভাসানী ও খোদা-ই-খেদমতগারের সভাপতি ও পীর শাহজামান বাজার কমিটির আহবায়ক হাসরত খান ভাসানী, ভাসানী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য-সচিব আজাদ খান ভাসানী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিক হোসেন বিএসসি, বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স ফেডারেশনের সভাপতি ও মাভাবিপ্রবি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম মজনু, মাভাবিপ্রবি ভাসানী পরিষদের সভাপতি মুহাম্মদ ইপিয়ার হোসেন ও কার্যকরী সভাপতি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান খানসহ অন্যান্য নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ফারাক্কা বাঁধের ফলে পদ্মা নদীর নাব্যতা হারানোর আশঙ্কায় ও পানির নায্য হিসসার দাবিতে ১৯৭৬ সালের এই দিনে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়।
রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দান থেকে ফারাক্কা বাঁধ অভিমুখে লাখো জনতার সেই লংমার্চ রওনা হয় ফারাক্কা বাঁধ অভিমুখে। লংমার্চ শেষে কানসাট হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত বিশাল সমাবেশে বক্তব্য দেন মজলুম জননেতা। সেই থেকে ১৬ মে ফারাক্কা দিবস নামে পরিচিতি লাভ করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরকে কারাগার থেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে অসুস্থতা জনিত কারণে জেলা কারাগার থেকে তাকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বর্তমানে গোলাম কিবরিয়া বড় মনির টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৩য় তলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে এক কিশোরীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক মাহমুদুল মহসীন জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গোলাম কিবরিয়া বড় মনির টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের বড় ভাই এবং জেলা বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. মকলেছুর রহমানের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। কিছুক্ষণ পর আবার যোগাযোগ করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাদিকুর রহমান জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা বড় মনিরকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তার শরীরের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। কোন সমস্যার কারণে তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে পরে বিস্তারিত জানা যাবে।
প্রসঙ্গত, গত ৫ এপ্রিল রাতে টাঙ্গাইল সদর থানায় শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনিরের বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মামলায় ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী নিগার আফতাবকেও আসামি করা হয়েছে। এদিকে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা বলে প্রমাণ পেয়েছে মেডিকেল বোর্ড। এছাড়াও ওই কিশোরী গত ৬ এপ্রিল দুপুরে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামের এলেংজানী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে মাটি খেঁকো সালাম খান গংদের বিরুদ্ধে। ফসলি জমি দিয়ে ট্রাক নিতে বাঁধা দেওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর হামলা করেছে বালু খেঁকোরা। এতে দুই বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ তিন জন আহত হয়েছে।
এ ঘটনায় মামলার পর এক আসামীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
হামলায় আহতরা হচ্ছেন, উত্তর তারটিয়া গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হায়দার আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. দুলাল হোসেন ও মো. একাব্বর আলী। এ ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. দুলাল হোসেন বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হায়দার আলী ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ঘারিন্দার রাশেদ খানের হস্তক্ষেপে তার বোন জামাই সালাম খান দীর্ঘ দিন যাবত নওগাঁ ও তারটিয়া গ্রামের এলেংজানী নদী থেকে রাতের আধারে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছে। প্রথমে বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হায়দার আলী তার জমি দিয়ে ট্রাক নেয়ার অনুমতি দিলেও পরবর্তীতে তিনি মৌখিকভাবে না করেন। সালাম খান বিষয়টি না শোনায় তিনি ফসলি জমির উপর বাঁশ দিয়ে বেড়া দেন। গত ৯ মে সেই বাঁশের বেড়া উঠিয়ে সালাম খান ট্রাক নেয়ার চেষ্টা করে। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হায়দার আলী এগিয়ে গিয়ে বাঁধা দিলে তার উপরে হামলা করে। তার আত্মচিৎকারে তার ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. দুলাল মিয়া ও একাব্বর আলী এগিয়ে গেলে তাদের উপরও হামলা করে সালাম খান গংরা। তাদের লাঠির আঘাতে বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হায়দার আলী ও একাব্বর আলীর ডান পা ভেঙে যায়। তারা বর্তমানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ১৪ মে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. দুলাল মিয়া বাদি হয়ে সালাম খানকে প্রধান আসামী করে চার জনের নাম উল্লেখ করে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হায়দার আলী বলেন, ঘারিন্দার রাশেদ খানের কথায় আমার ফসলি জমির উপর দিয়ে প্রথমে ট্রাক নেয়ার অনুমতি দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে আরেক জমি দিয়ে ট্রাক নিতে গেলে সেখানে বাঁধা দেই। তারপর মাটি খেঁকো সন্ত্রাসীরা আমার উপর হামলা করে। এতে আমরা তিন ভাই গুরুতর আহত হই। অবৈধ মাটির ট্রাক যেতে বাঁধা দেয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের উপর হামলা করা হবে, সেটা কল্পনাও করি নাই। আমি মাটি খেঁকো সন্ত্রাসীদের বিচার চাই।
এ বিষয়ে রাশেদ খান বলেন, আহতরা সবাই আমার আত্মীয়। এ বিষয়ে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টাঙ্গাইল সদর থানার এসআই মো. মনিরুজ্জামান বলেন, মামলার পর মৃদুল নামের এক আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার (১৫ মে) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়ায় বঙ্গবন্ধুসেতু-ঢাকা মহাসড়কের মাদারজানী এলাকায় বহুকাঙ্খিত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ মে) সকালে ৩ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মিত এই ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় উপ-প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন,টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমান, বাসাইল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মির্জা রাজীক সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উদ্বোধনী বক্তৃতায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী বলেন, মাদারজানী গ্রামের মধ্যেদিয়ে মহাসড়ক নির্মিত হওয়ায় গ্রামটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় মহাসড়ক পারাপার হতে এখানে অনেক মানুষ অকালে প্রাণ হারিয়েছেন।
তিনি আরোও বলেন, এছাড়াও এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের ফসল এ ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ। আশা করছি দুই-তিন মাসের মধ্যেই এ ফুটওভার ব্রিজের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। এলাকাবাসীসহ পথচারীরা এর সুফল পাবে।
উল্লেখ্য, সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় এম রহমান নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৩ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যায়ে ফুটওভার ব্রিজটি নির্মাণের কার্যাদেশ পেয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ কিশোরী ধর্ষণ মামলায় টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড়মনিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৫ মে)দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রূপম কুমার দাস তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে আওয়ামী লীগ নেতা বড় মনি কিশোরী ধর্ষণ মামলায় জামিন নিতে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে আদালতে হাজির হন। বড়মনি টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের বড় ভাই।
টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক তানবীর আহমেদ জানান, আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া বড়মনি কিশোরী ধর্ষণ মামলায় হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নেন। কিন্তু গত ৩০ এপ্রিল চেম্বার জজ আদালত চার সপ্তাহের জামিন স্থগিত করে ২ সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। গত রোববার ছিল ২ সপ্তাহের শেষ দিন। টাঙ্গাইল আদালতের একজন আইনজীবীর মৃত্যুর কারণে গত রোববার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সোমবার দুপুরে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল আদালতের সরকারি কৌঁশুলী (পিপি) এস আকবর খান জানান, সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে বড়মনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থণা করেন। এসময় অর্ধ শতাধিক আইনজীবী তার জামিন শুনানিতে অংশ নেন। বাদী পক্ষের আইনজীবীরা জামিনের বিরোধীতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
উল্লেখ্য,গত ৫ এপ্রিল রাতে এক কিশোরী বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় গোলাম কিবরিয়া বড়মনির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। মামলায় গোলাম কিবরিয়ার স্ত্রী নিগার আফতাবকেও মারধর ও ধর্ষণে সহযোগিতা করার জন্য আসামি করা হয়। মামলায় ওই কিশোরী (১৭) অভিযোগ করেন, গোলাম কিবরিয়া তার পূর্বপরিচিত। গত ১৭ ডিসেম্বর তাকে শহরের আদালত পাড়ায় নিজের বাড়ির পাশের একটি ভবনে ডেকে নেন। সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন ও আপত্তিকর ছবি তুলে রাখেন। পরে আপত্তিকর ওই ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে ওই কিশোরী মামলায় উল্লেখ করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, একপর্যায়ে ওই কিশোরী অন্তসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি গোলাম কিবরিয়া জানার পর সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। তবে কিশোরী রাজি না হওয়ায় গত ২৯ মার্চ তাকে শহরের আদালত পাড়ায় গোলাম কিবরিয়ার শ্বশুরবাড়িতে নেয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে ওই কিশোরীকে আবার ধর্ষণ করেন তিনি। এরপর ওই কিশোরী গত ৬ এপ্রিল বেলা তিনটার দিকে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন। আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেসকে জান্নাত রিপা ওই কিশোরীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে কিশোরীকে তার এক আত্মীয় শামীমা আক্তারের কাছে জিম্মায় দেন আদালত। ওই সময় ডাক্তারী পরীক্ষায় ওই কিশোরী ২৫ সপ্তাহের অন্তঃস্বত্তা বলে জানান টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ সাদেকুর রহমান।
একতার কণ্ঠঃ মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর স্মৃতি বিজরিত সন্তোষের সরকারি জলাশয় ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ রোধকল্পে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।
শনিবার (১৩ মে)দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের সন্তোষ বাজারে মাওলানা ভাসানীর প্রতিষ্ঠিত পীর শাহজামান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতি ও বৃহত্তর সন্তোষের সচেতন নাগরিকবৃন্দের ব্যানারে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
পীর শাহজামান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির আহবায়ক হাসরত খান ভাসানী সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ,টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফারুক হোসেন মানিক, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ রৌফ, সমিতির যুগ্ম আহবায়ক মাসুম আহমেদ ও মশিউর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর প্রতিষ্ঠিত এই মার্কেট। মাওলানা ভাসানী বলে গেছেন এখানে খেটে খাওয়া মেহনতী মানুষরা দোকান করে খাবে। এই মার্কেট কখনও ভেঙ্গে দেয়া হবে না। কিন্তু ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র তাদের মধ্যে ৩৫% ও ৬৫% অবৈধ চুক্তিপত্র করে জলাশয় ভরাট করে এখানে বহুতল মার্কেট নির্মানের পায়তারা করছেন।
তারা আরো বলেন,এখনও সময় আছে এই অবৈধ কাজ বন্ধ করুন। তা না হলে আমরা এর কঠিন জবাব দিতে প্রস্তুত আছি। মানববন্ধন শেষে যে স্থানে মাটি ভরাট কার্যক্রম চলছিলো সেখানে গাছের চারা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বেকুর ড্রাইভারকে বেকু সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ “আমাদের নার্স, আমাদের ভবিষ্যত” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে টাঙ্গাইলে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস পালিত হয়েছে।
শুক্রবার (১২ মে) সকালে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আয়োজনে এ আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস পালিত হয়।
আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন (এমপি)।
পরে বর্নাঢ্য একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদিক্ষিন করে। শোভাযাত্রা শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
হাসপাতালে কর্মরত নার্স ও বিভিন্ন নার্সিং স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা কর্মসূচীতে অংশ নেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের সা’দত বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নব নির্বাচিত কার্যকরী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার(১২ মে) বিকালে সা’দত বাজার মসজিদ রোডে এ অভিষেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল – ৫ (সদর) আসনের সাংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন।
উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,সোনিয়া খান পন্নী। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী।
সা’দত বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো.ইউসুফ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীমা আক্তার, করটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেকুজ্জামান চৌধুরী মজনু প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সৈয়দ মাজেদুল আলম নাঈম, সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম আনছারী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর সিকদার, ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তার হোসেন,পুজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মলয় কুমার পাল,আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি এমদাদুল হক এনামুল ,সা’দত কলেজের সাবেক এজিএস সোহেল আনছারী,উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ ফরিদ প্রমুখ।
অভিষেক অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সা’দত বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইমন তালুকদার রাজীব।
পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী প্রকৌশলী তাবাসসুম বিনতে ইসলামের আগমন উপলক্ষে কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১২ মে) দুপুরে ক্লাব রোডে অবস্থিত জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে সুলতানা কামাল অডিটোরিয়াম হল রুমে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারের সহর্ধমীনি ও জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী প্রকৌশলী তাবাসসুম বিনতে ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওলিউজ্জামানের সহর্ধমীনি ও জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি ডা. নিশাত তাসমিন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আইরিন আক্তার, সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা ইয়াসমিন, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা রাজিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খ. আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, টাঙ্গাইল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হারুন আর রশীদ, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মির্জা মঈনুল হোসেন লিন্টু ও জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক খ. ঝিলু আক্তার প্রমূখ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সিনিয়র আয়কর উপদেষ্টা ও প্রথমআলোর নিজস্ব প্রতিবেদক কামনাশীষ শেখরের বাবা কবি যুগলপদ সাহা আর নেই।
বৃহস্পতিবার (১১ মে) সকালে টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়াস্থ পাঞ্জাপাড়ার নিজ বাসায় তিনি ইহলোকত্যাগ করেন।
পরলোকগমণকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েসহ বহু সহকর্মী ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।
তার বড় ছেলে দেবাশীষ সাহা আয়কর আইনজীবী, মেঝ ছেলে শুভাশীষ সাহা প্রকৌশলী ও ছোট ছেলে কামনাশীষ শেখর প্রথমআলো পত্রিকার স্থানীয় নিজস্ব প্রতিবেদক এবং একমাত্র মেয়ে বিপাশা সাহা।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টায় তার মরদেহ শহরের বড় কালিবাড়ীতে নেওয়া হয়। সেখানে নানা শ্রেণি-পেশার লোকজন তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেন করেন। পরে কাগমারী দিনমনি মহা শ্মশানে তার অন্তেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
যুগলপদ সাহার জন্ম ১৯৩২ সালে। তিনি একজন কবি ও পেশায় আয়কর আইনজীবী ছিলেন। দশটি কাব্যগ্রন্থসহ তার মোট ১৫টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।
কবি যুগলপদ সাহার মৃত্যুতে আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ডক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি একুশে পদকপ্রাপ্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুক, সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম(ভিপি জোয়াহের) এমপি, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা, গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন সাহিত্যিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শোক ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।