আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বর্ধিত সভায় শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম।
উপজেলার দলীয় কার্যালয়ে একটি টিনের ঘরে প্রচণ্ড গরমে দুই ঘণ্টা বসে থেকে বক্তব্য দেওয়ার কারণে কাদের সিদ্দিকী অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন সিদ্দিকী বেলা সাড়ে তিনটার দিকে জানান, কাদের সিদ্দিকী আগের চেয়ে অনেকটা সুস্থ আছেন। তাঁর রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস মাপা হয়েছে। ইসিজি করা হয়েছে। সব ঠিকঠাক থাকলেও তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। চিকিৎসকেরা বলেছেন, প্রচণ্ড গরমের কারণেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।
তুহিন সিদ্দিকী আরও বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বর্ধিত সভা শুরু হয়। দুপুর ১২টার দিকে কাদের সিদ্দিকী বর্ধিত সভায় যোগ দেন। টিনের ঘরে প্রচণ্ড গরমে তিনি দুই ঘণ্টা স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বক্তব্য শোনেন। বেলা সোয়া দুইটার দিকে তাঁর বক্তব্য শুরু হয়। মিনিট দশেক তিনি দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন। এরপর বসে পড়েন। বসে তিনি মাত্র এক মিনিট বক্তব্য দিয়েছিলেন। এরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি দুই কর্মীর সহায়তায় তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িতে ওঠেন। এরপর তাঁকে সখীপুরের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন জানান, কাদের সিদ্দিকী এখন অনেকটা সুস্থ অনুভব করছেন। দেশবাসীর কাছে তিনি দোয়া চেয়েছেন।
আরমান কবীরঃ ঢাকার উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত টাঙ্গাইলের সখীপুরের মেহনাজ আফরিন হুমায়রা ও মির্জাপুরের নয়াপাড়া গ্রামের তানভীর আহমেদের কবরে বিমানবাহিনীর প্রধানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
সোমবার (২৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার হতেয়া কেরানিপাড়া এলাকায় হুমায়রার কবরে বিমানবাহিনীর প্রধানের পক্ষে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান বীর উত্তম সুলতান মাহমুদ বিমানঘাটির উইং কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ সময় হুমায়রার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
পরে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেন উইং কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন। পরিবারের সদস্যরা সখীপুরের বীর উত্তম সুলতান মাহমুদ বিমানবাহিনীর ঘাঁটিটি হুমায়রার নামে করার দাবি জানান।
এরপর মির্জাপুরের নয়াপাড়া গ্রামের তানভীর আহমেদের কবরে বিমানবাহিনীর প্রধানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
উইং কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বিমানবাহিনী সব সময় দেশ ও জনগণের পাশে রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করে তিনি বলেন, আহতদের সব ধরনের সহযোগিতার জন্য ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছে। নিহত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
হুমায়রার পরিবারের পক্ষে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘হুমায়রা অনেক মেধাবী ছিল। বড় হয়ে ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা ছিল তার। সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগে দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো। সখীপুরের বিমান ঘাটিটি হুমায়রার নামে করার দাবি করছি।’
আরমান কবীরঃ উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় টাঙ্গাইলের নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে রবিবার (২৭ জুলাই) সকালে জেলার মির্জাপুর উপজেলার ওয়ার্শি ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের তানভীর আহমেদ (১৪) এবং সখীপুর উপজেলায় হতেয়া কেরানিপাড়া গ্রামের হুমায়রের বাড়িতে গিয়ে তারা সমবেদনা জানান। পরে নিহতদের কবর জিয়ারত করা হয়।
এসময় কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু তানভীর এবং হুমাইয়ার বাবা-মাকে সান্ত্বনা দেন। এ সময় নিহতের বাবা-মা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
কেন্দ্রীয় বিএনপি নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিন, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ, গত ২১ তারিখ দুপুরে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় টাঙ্গাইলের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। পরদিন টাঙ্গাইলের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।
সাহান হাসানঃ রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মাইলস্টোন স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মেহেনাজ আক্তার হুমায়রা মৃত্যুবরণ করেছে।
হুমায়রা টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার হতেয়া কেরানীপাড়া এলাকার দেলোয়ার হোসেন রানার একমাত্র মেয়ে। হুমায়রার বাবা দেলোয়ার হোসেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক। তবে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দেলোয়ার হোসেন প্রাণে বেঁচে গেছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিহত হুমায়রার চাচাতো ভাই কাউসার আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত হুমায়রার পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হতেয়া গ্রামের আব্দুল বাছেদ মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন রানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন।
প্রায় ১০ বছর আগে বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে রাজধানীর উত্তরার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। কলেজে শিক্ষকতার সুবাদে তাঁদের একমাত্র মেয়ে মেহেনাজ আক্তার হুমায়রা মাইলস্টোন স্কুলেই পড়ত। এবার সে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক সুজন বলেন, ছুটি পেলে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে দেলোয়ার হোসেন গ্রামের বাড়িতে আসতেন। হুমায়রার মৃত্যুর খবর শুনে এলাকার লোকজন ওই বাড়িতে ভিড় করছেন।
নিহত হুমায়রার চাচাতো ভাই কাউসার আহমেদ বলেন, অনেকেই ঢাকা গেছেন। লাশ বুঝে পেলে পারিবারিক কবরস্থানে (গ্রামের বাড়ি) হুমায়রাকে দাফন করা হবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলা বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রুবেলের (৩৮) পুলিশ হেফাজতে রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে আটককৃত রুবেলকে পুলিশ হেফাজতে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রুবেল সখিপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
সখিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঞার দাবি অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে রুবেলের মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, নিহত রুবেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
জানা গেছে, জাতীয় জুরুরী সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে সখীপুর থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাত ৩টার দিকে স্থানীয় সোনালী ব্যাংকের সামনে থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে আটক করে প্রথমে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করে। পরে পুলিশ রুবেলকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন ।
সখীপুর থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) মোশারফ হোসেন জানান, সখীপুর থানার এসআই লিবাস নাইট ডিউটি করার সময় বেপরোয়া আচরণের কারণে রুবেলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এসময় তার প্রেসার বাড়ার কারণে তাকে সখিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থা বেগতিক হলে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর শুক্রবার (১৮ জুলাই) ভোর ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রুবেলের মা বলেন, আমার সুস্থ ছেলে বাসা থেকে বের হয়ে গেলো। হঠাৎ শুনি পুলিশ তাঁকে ধরে নিয়ে গেছে। পুলিশ তাঁকে টাঙ্গাইল নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই শুনি আমার ছেলে মারা গেছে! মা হিসেবে এই রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত চাই, বিচার চাই।
এদিকে রুবেলের চাচা উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার জানান, আমরা প্রথমে রুবেলের সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়েছিলাম। এখন পুলিশ যদিও রুবেলকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আটক করে থাকে, তবে বিষয়টি আমাদের জানানো উচিত ছিল। না জানিয়ে কেনো তারা থানায় নিয়ে গেল? পুলিশের কথা যদি মিথ্যা হয়ে থাকে তবে আমরা সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা বলেন, অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে হার্ট অ্যাটাকে রুবেলের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখানে পুলিশের কোনো গাফিলতি দেখছি না। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই মর্মে লাশ চেয়েছিল। কিন্তু আমরা লাশটি ময়নাতদন্তের জন্যে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
এদিকে বিএনপি নেতা রুবেলের মৃত্যুর খবর শুনে কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার বিকেলে রুবেলের বাসায় গিয়ে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
আরমান কবীরঃ চারদিকে স্বজনদের বিলাপ। কেউ কাঁদছেন চুপিচুপি, কারও ঠোঁট কাঁপছে, কারও চোখ ঝাপসা। মায়ের লাশ পাশের ঘরে রাখা। এমন অবস্থায় পরীক্ষার সরঞ্জাম হাতে নিয়ে খাটিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে দুই শিক্ষার্থী। অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন মায়ের দিকে। এরপর চুপচাপ রওনা হন পরীক্ষাকেন্দ্রে।
মায়ের লাশ ঘরে রেখেই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার দুই ছাত্রী—সায়মা আক্তার ও লাবণী আক্তার। একজন এইচএসসি, অন্যজন কারিগরি বোর্ডের অধীনে বিএম চূড়ান্ত পরীক্ষা দিচ্ছেন।
জানা গেছে, উপজেলার হতেয়া গ্রামের রায়হান খানের মেয়ে সায়মা আক্তার হাতিয়া ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) তাঁর ইংরেজি ২য় পত্রের পরীক্ষা ছিল সখীপুর সরকারি কলেজ কেন্দ্রে। এর আগের দিন বুধবার (২ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কিডনিজনিত রোগে মারা যান তাঁর মা শিল্পী আক্তার (৪০)।
অন্যদিকে কচুয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের লাবণী আক্তার সানস্টার ইনস্টিটিউট অব টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার তাঁর ‘বিজনেস ইংলিশ অ্যান্ড কমিউনিকেশন’ বিষয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষা ছিল সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজ কেন্দ্রে। বুধবার রাত ৯টার দিকে তাঁর মা সফিরন নেছা (৪৫) মারা যান।
মায়ের মৃত্যুতে দুই ছাত্রীই ভেঙে পড়েন। তবু স্বজনদের অনুরোধে তাঁরা পরীক্ষাকেন্দ্রে যান। লাবণীর মায়ের জানাজা হয় বেলা সাড়ে ১১টায়, আর সায়মার মায়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় জোহরের পর।
হাতিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রহিজ উদ্দিন ও সানস্টার ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মায়ের লাশ রেখে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অত্যন্ত কষ্টের। আল্লাহ যেন তাদের শক্তি দেন।
সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম জাকির হোসাইন বলেন, লাবণী আক্তার পুরো তিন ঘণ্টা পরীক্ষায় বসে ছিলেন। চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছিল। পরীক্ষা শেষে এক শিক্ষক তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দেন।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন ম্যুরাল ভেঙে এক ছাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (৯ জুন ) বিকেলে উপজেলার পাটজাগ সোনার বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত সাদিয়া আক্তার (১১) ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে পাটজাগ গ্রামের মালয়েশিয়াপ্রবাসী তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। পুলিশ মঙ্গলবার (১০ জুন ) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাটজাগ সোনার বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিদাতা জালাল উদ্দিনের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয় চত্বরে ম্যুরাল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিল। ঈদের সাত দিন আগে নির্মাণকাজ শুরু হয়। সোমবার বিকেলে সাদিয়া, আমেনা ও নেহা ওই স্কুল মাঠে খেলছিল। সন্ধ্যার আগে ওই তিনজন নির্মাণাধীন স্থাপনার ওপর ওঠে। একপর্যায়ে সেটি ধসে পড়লে সাদিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। আমেনা ও নেহা সামান্য আহত হয়।
পাটজাগ সোনার বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল কাদের মঙ্গলবার সকালে বলেন, এটা নিছক একটি দুর্ঘটনা। এই ঘটনায় আমরা মর্মহত।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভুঞা বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে সোয়াদ আল সাফওয়ান (৫) নামে এক শিশু নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২৩ মে) দুপুরে উপজেলার সখীপুর-গোড়াই আঞ্চলিক সড়কের লাইফ কেয়ার ক্লিনিক সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাফওয়ান পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জামতলা বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন মাসুম মিয়ার একমাত্র সন্তান। পুলিশ ট্রাকটি আটক করেছে।
জানাগেছে, বাবা-মা ও সাফওয়ান অটোরিকশা করে লাইফ কেয়ার ক্লিনিক সংলগ্ন এলাকায় সাফওয়ানের খালার বাসায় বেড়াতে যান। অটোরিকশা থেকে নেমে রাস্তা পার হওয়ার সময় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই ওই শিশু নিহত হয়।
এ বিষয়ে নিহত সাফওয়ানের মামা সাজু জানান, সাফওয়ান আমার খুবই আদরের ভাগিনা ছিল। এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা শোকাহত।
এ বিষয়ে সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরীফ আশিকুর রহমান বলেন, কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এবং গাড়িটি (ট্রাক) আটক করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল ও সখীপুর উপজেলায় সাপের কামড়ে এক স্কুল ছাত্রী ও এক বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ।
শুক্রবার (৯ মে) রাত ১টায় ঘাটাইলের দেওপাড়া ইউনিয়নের যুগিয়া টেঙ্গর এলাকা ও শনিবার (১০ মে ) সকালে সখীপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কালমেঘা দক্ষিণপাড়া এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, স্কুলছাত্রী মোছা. আঁখি আক্তার (১৪) ও বৃদ্ধা কাজলী বেগম (৬০)।
আঁখি ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের কালিকাপুর উত্তর পাড়া গ্রামের আয়েজ উদ্দিনের মেয়ে এবং কাজলী বেগম সখীপুর উপজেলার কালমেঘা দক্ষিণপাড়া এলাকার শহিদুল ইসলামের স্ত্রী।
দেওপাড়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মিয়া বলেন, আঁখি মেধাবী ছাত্রী ছিল। রাতে সে পড়তে বসেছিল, এর মধ্যে টেবিলের নিচে থাকা একটি সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। তীব্র ব্যথায় আঁখি চিৎকার করলে রাতেই তাকে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে অ্যান্টিভেমন না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসক। কিন্তু পথেই মেয়েটির মৃত্যু হয়।
চিকিৎসকের বরাতে ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মিয়া বলেন, আঁখির পায়ে বিষধর সাপের কামড়ের দাগ ছিল।
এদিকে, কাজলী বেগমের ছেলে হোসেন আলী জানান, তার মা সকালে পানি আনতে ঘরের পাশে নলকূপে যান। সেখানে একটি সাপ তার বাঁ হাতে ছোবল দেয়। এতে তার দুই আঙুলে সাপের দাঁতের দাগ বসে যায়। এ সময় তিনি চিৎকার করে বিষয়টি ছেলেকে জানান।
ছেলে হোসেন আলী আরও জানান, মার চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে আমি সাপ দেখতে পারি নাই। কিন্তু হাতে সাপের কামড়ের দাগ দেখে দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। তারপরও মাকে বাঁচাতে পারলাম না।
তিনি জানান, সাপে কামড়ের দেড় ঘণ্টার মধ্যে মাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসক মনিরুল ইসলাম পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার মাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসক মনিরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই ওই নারী মারা গেছেন। তার বা হাতের দুটি আঙুলে ক্ষতচিহ্ন দেখে বিষধর সাপের কামড় বলেই মনে হয়েছে। বিষয়টি থানায় জানিয়ে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান এই চিকিৎসক।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়া দুর্বৃত্তদের কোপের আঘাতে আহত চালক আবু হানিফ (৪৫) মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত হানিফ সখীপুর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের খানপাড়া এলাকার শামসুল হক খানের ছেলে। গত ৫ এপ্রিল রাতে যাত্রীবেশে অটোরিকশায় ওঠা তিন ব্যক্তি হানিফকে কুপিয়ে তাঁর রিকশাটি নিয়ে যায়।
পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে সখীপুর পৌর শহর থেকে নলুয়া বাজারে যাওয়ার কথা বলে তিন ব্যক্তি হানিফের অটোরিকশা ভাড়া করেন। পথিমধ্যে বোয়ালী বাজার পার হলে একটি পিকআপ ভ্যান রিকশাটির গতি রোধ করে। এ সময় অটোরিকশায় থাকা যাত্রীবেশী একজন হানিফের মাথায় চাপাতি দিয়ে কোপ দেন। পরে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাঁকে পিকআপে তুলে তিন কিলোমিটার দূরে দেওদীঘি বাজারের কাছে ফেলে যায়। সেই সঙ্গে রিকশাটি ছিনিয়ে নেয়।
রাত ১১টার দিকে স্থানীয় লোকজন হানিফকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অন্যদিকে পরদিন নলুয়া-কালমেঘা সড়কের কানু মার্কেট এলাকা থেকে রিকশাটি জব্দ করা হয়।
এদিকে হানিফকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পেয়ে তিনি কিছুটা সুস্থ হলে সোমবার (২১ এপ্রিল) তাঁকে বাসায় আনা হয়। মঙ্গলবার তিনি পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের চাচাতো ভাই ইমরান খান বলেন, অটোরিকশাটি পাওয়া গেলেও হানিফ ভাইকে ফেরানো গেল না। আমরা ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি করছি।
এ বিষয়ে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, ঘটনার পরদিনই পুলিশ অটোরিকশাটি জব্দ করে হানিফের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছিল। ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবি (দক্ষিণ) পুলিশ।
রবিবার (২০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সখিপুর পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ডের সিকদারপাড়া এলাকায় একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।এ সময় তাঁর কাছ থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।
সোমবার (২১ এপ্রিল) সকালে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত হারুন মিয়া (৪৫) উপজেলার কাঁকড়াজান ইউনিয়নের সাপিয়াচালা গ্রামের ফয়েজ আলীর ছেলে।
টাঙ্গাইল ডিবির (দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সখীপুর পৌর শহরের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে হারুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ১০ হাজার পিস মাদক ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, গ্রেপ্তারকৃত হারুনের বিরুদ্ধে সখীপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (২১ এপ্রিল) সকালে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের পূর্ব ঘোনারচালা গ্রামের প্রবাসী দুলাল মিয়ার স্ত্রী আমেনা বেগমকে (৪৫) হত্যার রহস্য উদঘাটন ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে আসামিকে টাঙ্গাইল আদালতে সোপর্দ করে সখীপুর থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত এনামুল হক (৪১) কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হযরত আলীর ছেলে।
এর আগে হত্যা মামলা হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে অভিযুক্তকে টাঙ্গাইল সদর থানার করটিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সখীপুর থানা পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে।
নিহত আমেনার মেয়ে লিতু আক্তার জানান, বুধবার (১৬ এপ্রিল) রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে তার মা আমেনা বেগম স্বামীর সাথে মোবাইলে কথা বলতে ঘর থেকে বের হন। এরপর দীর্ঘক্ষণ ঘরে না ফেরায় বাড়ির লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরে ভোরে বাড়ির পাশের একটি ধানখেতে মায়ের লাশ দেখতে পেয়ে তারা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ওসি জাকির হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত এনামুল হক কুড়িগ্রাম থেকে সখীপুর উপজেলার পূর্ব ঘোনারচালায় নিহত আমেনাদের বাড়িতে এসে গত ৮ বছর ধরে কাজ করছেন। আমেনার স্বামী দুলাল দীর্ঘ ২২ বছর ধরে সৌদি আরবে থাকেন। এ সময় আমেনার সাথে এনামুলের পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে এনামুল তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে সে তার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার শর্তে বিয়ের জন্য রাজি হয়। এনামুল শর্ত অনুযায়ী নিজের স্ত্রীকে তালাক দিলেও আমেনা বিয়ে করতে গড়িমসি করায় এনামুল ক্ষুব্ধ হয়। পরে সুযোগ বুঝে আমেনাকে ডেকে নিয়ে গলায় উড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে বাড়ির পেছনের ধানক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
তবে গ্রেপ্তারকৃত এনামুলের বক্তব্যকে অস্বীকার করেছেন নিহত আমেনার ছেলে পারভেজ। তিনি বলেন, আমার মা কেমন তা প্রতিবেশীরা খুব ভালো করেই জানেন। মূলত সে আমার মাকে হত্যা করে এমন মনগড়া অপবাদ দিচ্ছে। এনামুল এর আগেও এলাকার অনেক নারীর বিরুদ্ধে এমন অপবাদ দিয়েছিল। তার অপবাদের কারণে অনেকের সংসারও ভেঙে গেছে।
পারভেজ আরও বলেন, এনামুল একা আমার মাকে হত্যা করেনি। সে একা এমন কাজের সাহস করতে পারবে না। নিশ্চয়ই তার সাথে আরো কেউ জড়িত আছে। আমি এনামুলসহ জড়িতদের সর্বোচ্চ বিচার চাই।