একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টায় ঢাকা-সখীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের তক্তারচালা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যবসায়ীর নাম সাজিবুল হাসান সুজন (৩৫)। তিনি উপজেলার বড়চওনা গ্রামের আবদুল বাছেদের ছেলে। সে স্থানীয় বড়চওনা বাজারে কাপড়ের ব্যবসা করতেন।
বড়চওনা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিজানুর রহমান সড়ক দুর্ঘটনায় সুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সুজনের পরিবার জানায়, সুজন মোটরসাইকেল চালিয়ে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছিল। পথে তক্তারচালা এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে মোটরসাইকেল ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সুজন মারা যান। পরে স্থানীয়রা অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশটি সুজনের বাড়ি পৌঁছে দেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, দাঁড়ানো ট্রাকের সঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাই পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়নি।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিসে মুদি দোকান দেওয়া হয়েছে। উপজেলার করটিয়াপাড়া বাজারে অবস্থিত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে মুদি দোকান দিয়েছেন তোফাজ্জল হোসেন নামে এক ব্যক্তি।
তোফাজ্জল ইউনিয়নের চতলবাইদ ভাতকুড়া এলাকার আফসার উদ্দিনের ছেলে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এসএম ইব্রাহিমের নির্দেশেই তিনি আওয়ামী লীগের অফিসে মুদি দোকান দিয়েছেন বলে জানান। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, ২০২২ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বহুরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিস উদ্বোধন করেন। অফিসের দক্ষিণ পাশেই ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেনের মুদির দোকান ছিল। সেখান থেকে সরিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা এসএম ইব্রাহিম রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দলীয় কার্যালয়টি দখল করে মুদি দোকান বসিয়েছেন। সম্প্রতি এ ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ব্যবসায়ী তোফাজ্জল হোসেন বলেন, এক মাস যাবত আওয়ামী লীগের এই কার্যালয়ে আমি দোকান করছি। আমার আগের দোকান ঘর মেরামতের কাজ চলছে। তাছাড়া আমাকে ইব্রাহিম নেতা এই ঘরে আসতে বলেছে বলেই এখানে এসে দোকান বসিয়েছি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এসএম ইব্রাহিম বলেন, দলীয় কার্যালয়টি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। পরে ওই ঘর সংস্কার কয়া হয়। সংস্কারের টাকা এবং ভাড়া বাকি ছিল। বাকি টাকাগুলো আমি একা পরিশোধ করেছি।
তিনি আরও বলেন, এক মাসের জন্য পার্টি অফিসের ঘরটি তোফাজ্জল হোসেনকে মুদির দোকান করতে দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে প্রতিবেশী নারীকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সরকার নূরে আলম মুক্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরীন করিম দুই পক্ষের শুনানি শেষে এ রায় দেন।
টাঙ্গাইলের কোর্ট ইন্সপেক্টর তানভীর আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, নূরে আলম মুক্তা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। পরে দুপক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মারধরের শিকার জেসমিন আক্তার জানান, ওই চেয়ারম্যান বৃহস্পতিবার আগাম জামিনের জন্য আদালতে গিয়েছিলেন। এ কথা শুনে আমি শুনানি শেষ হওয়ার এক মিনিট আগেই আদালতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে আমাকে মারধরের ভিডিওটি দেখালে আদালত অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, ২ মার্চ বিকেলে পারিবারিক কলহের জেরে তুচ্ছ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান সরকার নূরে আলম মুক্তা তাঁর প্রতিবেশী জেসমিন আক্তারকে (৩৫) মারধর করেন। অপর প্রতিবেশী রুবেলকে (৩৭) সঙ্গে নিয়ে চেয়ারম্যানের ওই মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার দিন মারধরের শিকার জেসমিন সখীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
এ নিয়ে ৩ মার্চ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। এ ঘটনায় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীও (বীর উত্তম) নারীকে মারধরে জড়িত চেয়ারম্যানের বিচার দাবিতে স্মারকলিপি দেন। একপর্যায়ে সখীপুর থানা-পুলিশ মারধরের শিকার জেসমিনের অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে দুই যুবককে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মাহবুবুর রহমান এ রায় দেন।
দন্ডিতরা হচ্ছেন, জেলার সখীপুর উপজলার মহানন্দপুর গ্রামের আসলামের ছেলে সাগর আহমেদ (২১) এবং একই উপজেলার জিতাশ্বরি মরিচপুরিচালা গ্রামের মৃত আবু সাইদের ছেলে নাইছ আহমেদ (২১)। দন্ডিত দুইজনকেই ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করেছেন আদালত।
মামলার অপর আসামী ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় খালাস দিয়েছেন আদালত।
টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের সহকারি কৌশুলী (এপিপি) মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস বলেন, দন্ডিত সাগর ১৩ বছর বয়সী এক স্কুল ছাত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ২০২২ সালের ২৯ জুন রাত নয়টার দিকে নাইছকে নিয়ে ওই ছাত্রীর সাথে দেখা করতে আসেন। পরে ওই ছাত্রীকে বাসারচালা পশ্চিমপাড়া একটি জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরদিন তারা আবার একই স্থানে ডেকে নিয়ে পুনরায় ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। পরে ওই ছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে সখীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
রায় ঘোষণার সময় দন্ডিত দুইজনকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৬ মার্চ) রাতে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মাসুদ রানা (৩৫) পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে বুধবার মামলা হলে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা।
পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মাসুদ পেশায় একজন ভ্যানগাড়ি চালক। প্রায় মাস দুয়েক আগে মাসুদ ভ্যানে করে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে নির্জন বনে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। পরে একাধিকবার শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পেটের ব্যথায় শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে বুধবার সকালে শিশুটি তার পরিবারকে সব ঘটনা খুলে বললে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটির ওপর একাধিকবার যৌন নির্যাতন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বুধবার সন্ধ্যায় শিশুটির মা বাদী হয়ে মাসুদ রানার বিরুদ্ধে সখীপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন।
শিশুটির মা বলেন, যে আমার অবুঝ মেয়েটির ক্ষতি করেছে, তার উপযুক্ত বিচার হোক।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা জানান, অভিযোগ পাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাঁকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে। আর শিশুটিকেও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিজেদের রান্নাঘর থেকে আবদুস সামাদ (৫৫) নামের এক কৃষকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার বড়চওনা ইউনিয়নের দাড়িপাকা পশ্চিমপাড়া (বিন্নরীপাড়া) এলাকা থেকে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই নিহত আবদুস সামাদের ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান (৩০) পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের ধারণা, বাবাকে হত্যা করে ওয়াহেদুজ্জামান গা-ঢাকা দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিহতের ছোট ভাই আবদুর রশিদ বাদী হয়ে ভাতিজা ওয়াহেদুজ্জামানকে একমাত্র আসামি করে সখীপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজ বাড়ির রান্নাঘরে আবদুস সামাদকে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয়রা আরও জানান, ছেলে ওয়াহেদ মাদকাসক্ত। আগেও তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের মারধর করেছেন। সন্ধ্যায় তাঁকে বাড়িতেই দেখা গেছে। কিন্তু ঘটনার পর থেকে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সম্ভবত কোনো কারণে ওই ছেলেই আবদুস সামাদকে আঘাত করে অবস্থা বেগতিক দেখে পালিয়ে গেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান জানান, নিহতের মাথায় ধারালো কিছু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার সকালে নিহতের ছোট ভাই আবদুর রশিদ বাদী হয়ে ভাতিজা ওয়াহেদুজ্জামানকে একমাত্র আসামি করে সখীপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ওয়াহেদুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টানা ছয় মাস অনুপস্থিত স্কুল শিক্ষিকা জেবুন নাহার শিলাকে অবশেষে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক ওই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন।
নোটিশে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, জেবুন নাহার শিলা গত বছরের ১০ জুলাই থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত তিন মাসের চিকিৎসা ছুটিতে ছিলেন। একই বছরের ১০ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত পুনরায় তিন মাসের চিকিৎসা ছুটির আবেদন করেন। নিয়ম অনুযায়ী, স্বাস্থ্যগত কারণে তিন মাসের অধিক ছুটির ক্ষেত্রে মেডিকেল বোর্ডের সনদ প্রয়োজন। মেডিকেল বোর্ডের সনদের জন্য ওই শিক্ষকের আবেদনপত্র টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই শিক্ষককে বিগত সময়ের চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ও কাগজপত্র মেডিকেল বোর্ডে পাঠাতে চিঠি দেয় সিভিল সার্জন কার্যালয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দিয়ে বোর্ডে অনুপস্থিত রয়েছেন শিক্ষক জেবুন নাহার শিলা।
এরআগে সখীপুর ইউএনওর নির্দেশে গত ১৬ ও ২৯ জানুয়ারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ওই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।
এ বিষয়ে শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক জানান, ওই শিক্ষকের চিকিৎসা ছুটির আবেদন জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু মেডিকেল বোর্ড প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাইলে জমা দেননি শিক্ষক শিলা। ফলে ওই শিক্ষক চিকিৎসা ছুটি পাননি। এ কারণে সিভিল সার্জন কার্যালয় কাগজপত্র ফেরত পাঠিয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
উল্লেখ্য, জেবুন নাহার শিলা ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি সখীপুর উপজেলার পশ্চিম কালিদাস পানাউল্লা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেন। তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে গোসল করতে বলায় লামিয়া আক্তার (৯) নামের এক স্কুল শিক্ষার্থী নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত লামিয়া ওই গ্রামের লুৎফর রহমানের মেয়ে। সে স্থানীয় যাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আলতাব হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের স্বজনরা জানায়, লামিয়া তীব্র শীতের কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে গোসল না করায় মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে তার মা তাকে গোসল করতে বলে। লামিয়া গোসল করবে না বললে মা তার সঙ্গে রাগারাগি করে। পরে মা পরিবারের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এই ফাঁকে লামিয়া ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে অনেক ডাকাডাকির পর কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে লামিয়াকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।
এ সময় তাকে উদ্ধার করে মুমূর্ষ অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এএসআই মো. আতিকুর রহমান বলেন, সকালের দিকে সখীপুর থেকে এক স্কুল শিক্ষার্থীর লাশ হাসপাতাল মর্গে আনা হয়। যতটুকু জানতে পেরেছি সে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে। পরে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান জানান, আত্মহত্যার বিষয়টি জেনেছি। এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করতে আসেনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে মোটরসাইকেল ও মাহিন্দ্র ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাইদুল ইসলাম (৩০) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী প্রবাস ফেরত যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের ঢাকা-সখীপুর আঞ্চলিক সড়কের নলুয়া বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক এসআই মোহাম্মদ আলী নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সাইদুল ইসলাম উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের চতলবাইদ পাড়া গ্রামের আবুল কাশেম বেপারীর ছেলে।
জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে সাইদুল ইসলাম মোটরসাইকেল যোগে তার নিজ গ্রাম চতলবাইদ থেকে নলুয়া বাজারে আসার পথে বাজারের কাছাকাছি পৌঁছালে একটি দ্রুতগামী মাহিন্দ্র ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় সাইদুলকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক এসআই মোহাম্মদ আলী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন , নিহতের পরিবার থেকে কোন বাদী না হওয়ায় নিহতের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরে তার লাশ পরিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিজের আসন থেকে ছিটকে পড়ে ইটবোঝাই ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে চালক নিহত হয়েছেন।
শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে সখীপুর-বাটাজোর আঞ্চলিক সড়কের পাথার জনতা উচ্চবিদ্যালয় মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহত ট্রাক্টরচালকের নাম মোসাইদ (২৮)। তিনি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার স্বদেশী গ্রামের মৃত নূরনবী মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, ইটবোঝাই ট্রাক্টরটি বাটাজোর থেকে সখীপুরে আসছিল। সড়কের পাথার জনতা উচ্চবিদ্যালয় মোড়ে এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের পরিত্যক্ত একটি টিনের ঘরে ঢুকে পড়ে। এ সময় ট্রাক্টরের চালক নিজের আসন থেকে ছিটকে পড়ে ওই ট্রাক্টরের চাকার নিচেই পিষ্ট হয়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় ট্রাক্টরচালকের মৃত্যুর বিষয়টি জেনেছি। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহটি ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা শেষে বের হওয়ার পর সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শওকত সিকদারকে মারধর ও তার গাড়িতে হামলার ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার শওকত সিকদার এই হামলার জন্য টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের অনুসারীদের দায়ী করেছেন।
আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবার দিনব্যাপী টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগ বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তরা, জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকরা অংশ নেন।
সভায় উপস্থিত একাধিক নেতা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশেষ বর্ধিত সভা চলাকালে সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শওকত সিকদারের বক্তৃতা চলাকালে দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় এমপি জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের তাকে ধমক দিয়ে বসতে বলেন। এ সময় দুই জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে বিকেলে বর্ধিত সভা শেষে প্রেসক্লাব থেকে বের হয়ে শওকত সিকদার তার জিপ গাড়ির কাছে আসেন। এ সময় এমপি জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের সমর্থিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার গাড়ির দিকে ধেয়ে আসেন। তখন শওকত সিকদার প্রাণের ভয়ে গাড়িতে উঠে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে জোয়াহের সমর্থিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ওই গাড়ির ওপর হামলা করে এবং সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত সিকদারকে এলোপাথারি লাথি ও কিলঘুষি দিয়ে আঘাত করেন এবং গালাগালি করেন। পরে তিনি গাড়িটি নিয়ে দ্রুত প্রেসক্লাব এলাকা ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শওকত সিকদার বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহেরের অনুসারী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হাসানের নির্দেশে তার কর্মীরা আমার গাড়িতে হামলা ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছে। হামলার বিষয়টি আমি দলের নেতাদের জানিয়েছি। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হাসান বলেন, যে ঘটনা ঘটেছে তা খুবই দুঃখজনক। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ বিষয়ে আমি বা আমার কোন লোকজন জড়িত না। অন্যরা কেউ করে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের জানান, শওকত সিকদারের গাড়িতে হামলা হয়নি। তবে বিচ্ছিন্নভাবে গাড়িতে দুই চারটা থাপ্পর দিয়েছে বলে শুনেছেন। এ ব্যাপারে তিনি আর কোন মন্তব্য করবেন না বলে জানান। তবে তিনি অনুসন্ধান করছেন, কারা এটা করেছেন।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য। এবার তিনি দলীয় মনোনয়ন পাননি। এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনুপম শাহজাহান জয়। সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শওকত সিকদার অনুপম শাহজাহান জয়ের পক্ষের নেতা হিসেবে পরিচিত।
একতার কণ্ঠঃ প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচনে যাইনি, যাচ্ছি না। নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হবে এটা স্বত:সিদ্ধ কথা। বিএনপি এখন দেশের কথা ভাবছে না। তারা আন্তর্জাতিক ক্ষমতা দ্বারা সরকারে যেতে চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম।
বুধবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। পরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভোট কেন্দ্রে ভোটার না এলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। আর প্রচুর পরিমান ভোটার এলে গ্রহনযোগ্যতা পাবে। কোন দল এলো আর কোন দল এলো না এটা আমার কাছে বড় কথা না। বড় কথা হচ্ছে সরকারি প্রভাব মুক্ত স্বত:স্ফুর্ত নির্বাচন হলো কি না। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে এসে তাদের ইচ্ছেমত প্রার্থীদের ভোট দিতে পারলো কি না এটাই হচ্ছে আমার কাছে বড় কথা। দেশের আজকে অস্থিতিশীল অবস্থা। এখান থেকে পরিত্রাণ পাওয়া দরকার।
এসময় কৃষক শ্রমীক জনতা লীগের জেলা ও উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।