আরমান কবীরঃ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির খুনিদের ফাঁসির দাবিতে যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ এবং বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকালে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঢাকা
-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নগরজলফৈ বাইপাসে গিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে।
পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জুমআ’র নামাজ শেষে টাঙ্গাইল পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান নেয়।
পরে বেশ কিছুক্ষণ যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে ছাত্রজনতা। এ সময় মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। অবরোধ তুলে নিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। পরে মিছিল নিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে এসে সমাবেশ করা হয়।
সমাবেশে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা অবিলম্বে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবি জানান।
আরমান কবীরঃ একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
মঙ্গলবার(১৬ ডিসেম্বর )সকাল সাড়ে ৯টায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র উদ্যোগে আয়োজিত বিজয় র্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে জেলা বিএনপি এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে সেখান থেকে একটি বিজয় র্যালি বের করা হয়, যা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌর উদ্যানে অবস্থিত শহীদ স্মৃতিসৌধে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শের জনক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এ দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। ৩০ লাখ শহীদের রক্ত এবং ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এই বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে।
টুকু অভিযোগ করেন, আজ আমরা দেখছি একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। গতকাল বিভিন্ন জায়গায় তারাই শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস নিয়ে আলোচনা করেছে। এটি বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়। যারা ঘাতক, তারাই আবার আলোচনা করে।
আগামী দিনের রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমান যে স্লোগান দিয়েছেন ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই চেতনাকে বুকে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান বীরের বেশে দেশে ফিরবেন এবং তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশের মানুষ আগামী বিজয় দিবস উদযাপন করবে।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে টুকু বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি গুলিবিদ্ধ হাদি ও এরশাদ উল্লাহর ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, যারা গুপ্ত সংগঠন, তারাই এই কাজগুলো করে যাচ্ছে। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং সকল মতভেদ ভুলে গিয়ে ধানের শীষের বিজয়ের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
এ সময় টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবালসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ রাজধানীতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা বিএনপি।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর)দুপুরে টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে একটি বিক্ষোভ বের হয়। বিক্ষোভ মিছিলে জেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়।
কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল সদর-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বিক্ষোভ মিছিলটি নেতৃত্বে দেন।
মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক কাজী শফিকুর রহমান লিটন,বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ।
এ সময় টুকু বলেন, যারা এদেশে মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেছে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব চায় না, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য করে নির্বাচনকে বানচাল করতে চায় তারাই শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলি চালিয়েছে। তাদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। আমাদের এ ধরনের ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়াতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র একমাত্র বিএনপির কাছে নিরাপদ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বিএনপির সাথে রয়েছে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্বে দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিদায় করেছেন। আজ সমগ্র বাংলাদেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে স্বৈরাচার ও দোসরদের বিরুদ্ধে। আমরা শত শহীদের বিনিময়ে অর্জিত এই গণতন্ত্র যে কোনো মূল্যে রক্ষা করবো ইনশাল্লাহ।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৮ডিসেম্বর) বিকেলে কাকুয়া ইউনিয়নের কাকুয়া হাই স্কুল মাঠে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
কাকুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহাদত হোসেন সাহা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টাঙ্গাইল সদর আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম- সম্পাদক এডভোকেট আজিমুদ্দিন বিপ্লব, জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মমতাজ করিম, কাকুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান খাদেমুল ইসলাম, কাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন প্রমূখ।
দোয়া মাহফিল স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন মিছিল করেছেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী এডভোকেট ফরহাদ ইকবালের কর্মী-সমর্থকরা
সোমবার(৮ ডিসেম্বর )দুপুরে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে মৌন মিছিলটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পূনরায় পৌর উদ্যানে এসে শেষ হয়।
এর আগে,শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে খন্ড-খন্ড মিছিল এসে পৌর উদ্যানে সমবেত হয়। পরে বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তির কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
দোয়া মাহফিল ও বিক্ষোভ সমাবেশের পূর্বে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সদর আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন, টাঙ্গাইল সদর আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি’র দখলে রয়েছে। এবার বহিরাগত প্রার্থী দেওয়ায় আসনটি হাত ছাড়া হবার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিএনপি’র হাই কমান্ডকে অনুরোধ করবো এখানে সদরের ছেলেকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য। এছাড়া তিনি আরও বলেন, বিএনপির হাই কমান্ড যে সিন্ধান্ত নেবে আমরা সেটাই মেনে নিবো।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি আতাউর রহমান জিন্নাহ, জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক রফিকুল ইসলাম স্বপন,শহর বিএনপি’র সভাপতি মেহেদী হাসান আলিম, সাধারণ সম্পাদক এজাজুল হক সবুজ, সদর থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এম এ রৌফ, সহ-সভাপতি হাদিউজ্জামান সোহেল, সহ-সভাপতি মামুন সরকার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম ঝলক, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবু প্রমূখ।
আরমান কবীরঃ বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় ও টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল হকের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে শামসুল হক স্মৃতি পরিষদের আয়োজনে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
শামসুল হক স্মৃতি পরিষদের সভাপতি বাবু শ্যামল হোড়ের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল সদর আসনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আজগর আলী, জেলা বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পহেলী প্রমুখ।
দোয়া মাহফিল শেষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা ও সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা এবং মরহুম শামছুল হকের রুহের মাগফিরাত প্রার্থনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে উৎসবমুখর পরিবেশে শহীদ রফিকুল ইসলাম ফারুক চেয়ারম্যান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের বাসাখানপুর মিনি স্টেডিয়ামে ফারুক চেয়ারম্যান স্মৃতি সংসদ ও বাসাখানপুর স্পোর্টিং ক্লাবের আয়োজনে এই ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
ফাইনালে যমুনা এক্সপ্রেস ফুটবল ক্লাব এবং আইয়ান বার্থা ফুটবল ক্লাব মুখোমুখি হয়।
খেলায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে আইয়ান বার্থা ফুটবল ক্লাব ৩–০ গোলের ব্যবধানে যমুনা এক্সপ্রেস ফুটবল ক্লাবকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়।
অনুষ্ঠানে দাইন্যা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. লাভু মিয়া লাভুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি—এই সদর উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামের নাম যেন শহীদ ফারুক স্টেডিয়াম করা হয়। আগামীদিনে জনগণের ভোটে বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে স্টেডিয়ামটির নাম শহীদ ফারুক স্টেডিয়াম করা হবে। এখানে যেকোনো খেলার আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা আমরা করব। বিশেষ করে মা–বোনেরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে খেলা উপভোগ করতে পারেন, এজন্য অতিরিক্ত আরও একটি গ্যালারি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, একসময় টাঙ্গাইলকে ক্রীড়া নগরী বলা হতো। এখানকার ৮ থেকে ৯ জন ফুটবলার নিয়মিত ঢাকার মাঠে খেলতেন। আগামীদিনে আমরা মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও কিশোর গ্যাং–মুক্ত একটি নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্য পূরণে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আজগর আলী,
জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, সদর থানা বিএনপি’র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লব, জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনিরুজ্জামান জুয়েল, জেলা মহিলাদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মমতাজ করিম প্রমুখ।
ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠে কয়েক হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় এক উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। খেলা শেষে বিজয়ী ও বিজীত দলের মধ্যে ট্রফি ও ব্যক্তিগত পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
আরমান কবীরঃ নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের লক ডাউন চলা কালে টাঙ্গাইল বাসাইলে আলোচিত দাহ্য পদার্থ দিয়ে যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বাসযাত্রী সদ্য বিবাহিত তরুণী মিম (২২) হত্যা মামলায় জড়িত সহ একাধিক মামলার পলাতক আসামী মোঃ নজরুল ইসলাম (৬০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার চরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব।
গ্রেপ্তারকৃত নজরুল উপজেলার বাঐখোলা গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।
শুক্রবার(২৮ নভেম্বর)সকালে র্যাব-১৪,সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল ক্যাম্প হতে দেয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
র্যাব-১৪, সিপিসি-৩ এর টাঙ্গাইল ক্যাম্পের অধিনায়কের পক্ষে সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া অফিসার) লুৎফা বেগম প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত ১৩ নভেম্বর রাত আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটের সময় আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন) ডাকা লক ডাউন সফল করার উদ্দেশ্যে ঢাকা-যমুনাসেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলার বাঐখোলা স্টেট ফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিস অফিসের সামনে যমুনা সেতুগামী লেনের উপর অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারী সন্ত্রাসীরা নারায়ণগঞ্জ হতে ছেড়ে আসা পাবনাগামী “বাংলা স্টার” নামক যাত্রীবাহী বাসে দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করলে আগুন লাগিয়ে দেয়। ফলে বাসে থাকা যাত্রীরা জীবন বাঁচানোর জন্য দ্রুত বাস থেকে নেমে গেলেও মহিলা যাত্রী তরুণী মিম (২২) আগুনে দগ্ধ হয় এবং ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। উক্ত ঘটনায় ১৩ নভেম্বর বাসাইল থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা হয়। উক্ত মামলা রুজু হওয়ার পর র্যাব-১৪,সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্প ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে তৎপর হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১৪ টাঙ্গাইল এর একটি চৌকস আভিযানিক দল ধৃত আসামীর বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত হয়ে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার চরপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত মামলায় জড়িতসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামী মোঃ নজরুল ইসলাম (৬০) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
ধৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাসাইল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ বিএনপি’র দলীয় মনোনয়নেকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কতিপয় মনোনয়ন বঞ্চিতদের মিথ্যা ভিত্তিহীন বানোয়াট সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সন্মেলন করেছে টাঙ্গাইল -৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রবিউল আউয়াল লাভলু।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে নাগরপুরে তার নিজ বাসভবনে এই সংবাদ সন্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এসময় লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, আমি টাঙ্গাইল -৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের বিএনপি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে একটি গোষ্ঠী আমার মনোনয়ন বাতিলের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে মিথ্যা বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করে জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি জানান, ১৯৮৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত অবস্থায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করি। ছাত্রদলের রাজনীতিতে অংশগ্রহন করে ছাত্রদলকে সু-প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে নিজের জীবন বাজী রেখে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি। তারই ফলশ্রুতিতে ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আমাকে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মহসিন হল শাখায় ক্রীড়া সম্পাদক মনোনয়ন প্রদান করলে আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হই। ৯০ এর স্বৈরাচার এরশাদ পতনের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হই। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে আমাকে আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ পর্যন্ত আমি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিএসএফ হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করি। ২০০৯ সালে নাগরপুর উপজেলা বিএনপি’র সম্মানিত সদ্য ও ২০১০ সালে ঢাকা মহানগর বিএনপি সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হই। ২০১১ সালে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও ২০২০ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে সহ-সভাপতি পদ লাভ করি। ২০২২ সালে নাগরপুর উপজেলা বিএনপি কমিটি গঠন হলে আমাকে সম্মানিত সদস্য নির্বাচিত করা হয়। ২০০৭ সাল থেকে নাগরপুরে বিএনপি’র রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহনের মাধ্যমে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রার্থনা করে মনোনয়ন বঞ্চিত হই। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রার্থী হয়ে আবারও মনোনয়ন বঞ্চিত হই। এডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী মনোনয়ন লাভ করেন। দলীয় নির্দেশনায় ও গৌতম চক্রবর্তীর আহবানে আমি দলের প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করতে গিয়ে আমাকে আমার বাড়ী হতে ফ্যাসিস্ট সরকারের পুলিশ দ্বারা গ্রেপ্তার হই এবং আমাকে পুলিশ থানা হাজতে নিয়ে যায়। অধ্যবধি পর্যন্ত নাগরপুর ও দেলদুয়ারের বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের সকল নেতৃত্বের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে প্রত্যেকটি আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে থেকে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও জানান, মনোনয়ন ঘোষনার পর আমাকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য নাগরপুর-দেলদুয়ারের দলীয় নেতাকর্মীসহ হাজার হাজার সাধারণ জনতার ঢল নেমে আসে। পরবর্তীতে নাগরপুর ও দেলদুয়ার উপজেলা বিএনপি ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলাদল, কৃষকদল, ওলামা দল, তাতীদল, মৎসজীবীদল সহ সকল অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতা কর্মীরা ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনে প্রচার প্রচারনা ত্বরান্বিত করার লক্ষে স্ব-স্ব ইউনিটের সাথে মত বিনিময় অব্যাহত আছে। আমার এহেন কর্মকান্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে মনোনয়ন বঞ্চিত কতিপয় কিছু স্বার্থোন্বেষী মহল বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে মিথ্য বানোয়াট ভুল তথ্য উপস্থাপন করে আমাকে ও আমার দলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে নাগরপুর উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি আহমেদ আলী রানা, তোফায়েল আহমেদ বাসেদ, যুগ্ম-সম্পাদক ফারুক আহমেদ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিজ উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল রানাসহ নাগরপুর উপজেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কার্যত্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান মিয়ার টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার(২৬নভেম্বর)রাতে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে তার বুকে ব্যথা অনুভব করলে রাতে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন জেলার মুহাম্মদ জাহেদুল আলম।
নিহত সুলতান মিয়া গোড়াই হরিরপাড়া গ্রামের মৃত আজমত আলীর ছেলে। সে উপজেলার গোড়াই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (পূর্ব) ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিল।
গত বছর ৪ আগস্ট ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন গোড়াই হাইওয়ে থানার সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের ছররা গুলিতে গোড়াই ইউনিয়নের লালবাড়ি গ্রামের হিমেলের দুই চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনার পর হিমেলের মা নাছিমা বেগম টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মির্জাপুর আমলি আদালতে পুলিশ, সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগ নেতাসহ ১০০ জনের নাম উল্লেখ এবং ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলার এজাহারভূক্ত আসামি হিসেবে গত ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত প্রায় এক মাস ধরে তিনি টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে আটক ছিলেন।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, টাঙ্গাইল কারাগারে হাজতির মৃত্যুর খবর পেয়েছি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে কারা কর্তৃপক্ষই লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি হত্যচেষ্টা মামলায় সাবেক (অপসারণকৃত) ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা শামীম খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মির্জাপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের পাহাড়পুর নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত শামীম খান মির্জাপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিলো বলে জানিয়েছেন মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাশেদ ফজল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৫ আগস্ট শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ছাত্রলীগের কয়েকজনসহ ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১০০ থেকে ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জোবায়েদ ইসলাম নিঝুম। ওই মামলায় এজাহারভুক্ত আসামী ছিলেন শামীম খান।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে গ্রেপ্তারকৃত শামীমকে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর অন্তবর্তীকালীন সরকার প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে দেশের সকল পৌরসভার কাউন্সিলরদের অপসারণ করলে শামীম কাউন্সিলরশীপ হারান।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতি ও বহিষ্কৃত সভাপতিসহ ছয় নেতা দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে তাদের পদত্যাগের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আহমেদ আযম খানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের অভিযোগ এনে তারা পদত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।
পদত্যাগকারীরা হলেন- উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাছেদ মাস্টার, সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান, উপজেলা বিএনপি’র বহিষ্কৃত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাজাহান সাজু, সদস্য আশরাফুল ইসলাম বাদল, উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ ও বহুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ মিয়া।
তারা ২১ নভেম্বর থেকে ২৫ নভেম্বর মধ্যে বিভিন্ন সময় পদত্যাগ করেন বলে জানা গেছে। তাদের পদত্যাপত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করলে নানা আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ছয়জনের পদত্যাগপত্রে একই ধরনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তারা পদত্যাগপত্রে লিখেছেন- ‘বিগত ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার অবৈধ সরকারের আমলে দলের সব রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে আসছি। যে কারণে আওয়ামী লীগের পেটুয়া পুলিশ বাহিনী দ্বারা মিথ্যা মামলা-হামলায় একাধিকবার জেল-জুলুমসহ নানাবিধ অত্যাচার সহ্য করে দলীয় আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করে দলের সব কর্মসূচি পালন করে আসছি। বর্তমানে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান দ্বারা আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের দোসরদের দলীয় কার্যক্রমে সামনের সারিতে এনে পুনর্বাসন করার প্রতিবাদ করলে তিনি বিএনপি’র এই নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিমাতাসুলভ অনাকাঙ্ক্ষিত অসদাচরণ করেন; যা দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি। তার মতো একজন জাতীয় নেতার এমন বিমাতাসুলভ অসাংগঠনিক আচরণের জন্য ক্ষুব্ধ হয়ে এই ছয় নেতা দলীয় সব পদ-পদবি থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন।
এই পদত্যাগপত্রের অনুলিপি বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে দেওয়া হয়।
বাসাইল-সখীপুর আসনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর আগে থেকেই তিনি নির্বাচনি গণসংযোগ, জনসভা, উঠান বৈঠক, সামাজিক অনুষ্ঠান ও ওয়াজ মাহফিলে অংশগ্রহণ করে আসছেন; কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই বাসাইল ও সখীপুর উপজেলা বিএনপি’র শীর্ষপর্যায়ের একটি পক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কোন্দল সৃষ্টি হয়ে আছে। আহমেদ আযম খান মনোনয়ন পেলেও দুই উপজেলার বিএনপি’র শীর্ষপর্যায়ের একটি পক্ষ তার নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন না।
এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর সখীপুর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাজাহান সাজুকে তার দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয় জেলা বিএনপি। তার অব্যাহতিতে আহমেদ আযম খানের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। এ কারণে সখীপুর উপজেলা বিএনপি’র মধ্যে নতুন করে ভেতরে ভেতরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই ছয় নেতার পদত্যাগের পর কোন্দল আরও প্রকাশ্যে এসেছে।
অপরদিকে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডারের আহ্বায়ক আব্দুল খালেক মণ্ডলকে আহমেদ আযম খানের হুমকি ও অশালীন ভাষায় কথা বলার একটি অডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মানববন্ধন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। এর আগে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমকে নিয়েও সমালোচনা করা হয়।
সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে আহমেদ আযম খান নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন। এসব বিষয় নিয়ে আহমেদ আযম খান বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
সদ্য পদত্যাগ করা সখীপুর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাছেদ মাস্টার বলেন, বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী আহমেদ আযম খান জিয়ার আদর্শের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন। তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমিসহ এ পর্যন্ত ২০ থেকে ৩০ জন পদত্যাগ করেছি। প্রায় ২শ নেতাকর্মী পর্যায়ক্রমে পদত্যাগ করবেন। আমরা সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাব।
সখীপুর উপজেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন মাস্টার বলেন, তাদের পদত্যাগের বিষয়টি শুনেছি। এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করব না।
জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমরা এখনো কোনো পদত্যাগপত্র হাতে পাইনি। এটা ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে। ধানের শীষের প্রার্থীর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। ইনশাআল্লাহ আবার সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন।
বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেন, আমি অতীত ও বর্তমানে কোনো দিন আওয়ামী লীগকে কখনো পুনর্বাসন করিনি, ভবিষ্যতেও করব না। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি কুচক্রী মহল অনৈতিকভাবে দুই-একজন বহিষ্কৃত নেতাদের মাধ্যমে কিছু নেতাকর্মীকে অনুরোধ করে আবার কিছু নেতাকর্মীকে জোর করে স্বাক্ষর করিয়েছে বলে আমি শুনেছি।
তিনি আরও বলেন, তবে অনেক নেতাকর্মী আমাকে জানিয়েছেন- তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হলেও তারা আমাদের নেতৃত্বে ধানের শীষের পক্ষেই থাকবেন। ধানের শীষের বিরুদ্ধে আচরণকারী, ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করে নেতাকর্মী তথা বাসাইল-সখীপুরবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।