একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর-পাথরঘাটা আঞ্চলিক সড়কে ত্রিমোহন নামকস্থানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পাশের বংশাই নদীতে পড়ে আখি আক্তার নামে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার(২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পরীক্ষা দিয়ে মায়ের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। আখি আক্তার মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের গায়রাবেতিল গ্রামের আব্দুল মিয়া ও উত্তর পেকুয়া জাগরনী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ফরিদা ইয়াসমিনের মেয়ে।
স্থানীয়রা জানায়, সিএনজি চালিত একটি অটোরিকশা বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ত্রিমোহনায় বাঁক নিতে গিয়ে উল্টে প্রায় ১০০ ফুট গভীরে বংশাই নদীতে পড়ে ডুবে যায়। স্থানীয় লোকজন চালক ফরহাদ মিয়া, আখির মা ফরিদা ইয়াসমিন ও অটোরিকশাটি উদ্ধার করলেও আখি আক্তার নিখোঁজ ছিল। পরে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরীদল এসে উদ্ধার কাজ চালিয়ে দুপুর দুইটার দিকে আখির মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানান, আখি আক্তার এ বছর বাঁশতৈল খলিলুর রহমান কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে মায়ের সঙ্গে মামা ফরহাদ মিয়ার সিএনজি চালিত অটোরিকশায় মির্জাপুরে পরীক্ষা দিতে যায়। পরীক্ষা শেষে একই সিএনজি চালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফেরার পথে দুপুর ১২টার দিকে মির্জাপুর-পাথরঘাটা আঞ্চলিক সড়কের ত্রিমোহন নামকস্থানে পৌঁছলে চালক সামনে থাকা একটি রিকশা ওভারটেক করার চেষ্টা করে। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা অপর একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিয়ে উল্টে প্রায় ১০০ ফুট গভীরে বংশাই নদীতে পড়ে ডুবে যায়। আখি আক্তারের সহপাঠী হেলেনা আক্তার ও রিয়া আক্তার জানান, আখির এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হলে রায়হান নামে এক সহপাঠির সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) শেখ রিজাউল হক দিপু জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গোলাম রাব্বি (২৪) নামে এক যুবকের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ নভেম্বর) সকালে উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের ভাতগ্রাম পশ্চিমপাড়া এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
গোলাম রাব্বি উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মোকছেদ মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, রাব্বি পেশায় অটোরিকশা চালক। মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ৯টার দিকে পাকুল্যা বাসস্ট্যান্ড থেকে তিনজন যাত্রী নিয়ে মির্জাপুরের বরাটি গ্রামের উদ্দেশে হন। এরপর রাতে তিনি বাড়িতে ফেরেননি। সকালে ভাতগ্রাম পশ্চিমপাড়া গ্রামে রাস্তার পাশে ডোবায় একটি মরদেহ দেখতে পান এলাকাবাসী। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন থানায় এসে রাব্বির পরিচয় নিশ্চিত করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মির্জাপুর থানা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মজিবুর রহমান জানান, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশে যাত্রীবেশে তিনজন ছিনতাইকারী অটোরিকশাটি ভাড়া করে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা নির্জন এলাকায় তাকে হত্যার পর অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থলটি পরিদর্শন করেন মির্জাপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এসএম মনসুর মুসা, মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রিজাউল হক দিপু, টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের সদস্যরা (পিবিআই)।
মির্জাপুর থানার ওসি শেখ রিজাউল হক দিপু জানান, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ঘটনার পাঁচ দিনের মধ্যে চাঞ্চল্যকর ক্লু-লেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বুধবার(২২ ডিসেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল পিবিআই এর পুলিশ সুপার সিরাজ আল মাসুদ এক প্রেস বিফিং এর মাধ্যমে ওই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, উপজেলার আজগনা ইউনিয়নের ঘাগড়া এলাকার একটি কলাবাগানে গত ১৭ ডিসেম্বর অজ্ঞাত এক মহিলার অর্ধগলিত লাশ পাওয়া যায়। পরে পিবিআই টাঙ্গাইল জেলা এই হত্যা মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে তথ্য প্রযুক্তি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকারী নিহতের স্বামী মো: ওয়াসীমকে সনাক্ত করে এবং তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী মো: ওয়াসিম দিনাজপুর জেলার খানসামা থানার ডাঙ্গারপাড়া এলাকার ইছাহক এর ছেলে।
এসময় ওয়াসিম জানায়, ২০১৯ সালে মোহাম্মদপুর ঢাকা উদ্যানের পাশে একটি ইট ভাটায় কাজ করার সময় নাজমা বেগমের সাথে পরিচয় হয়। সে ভোলা জেলার লালমহন থানার দেবীর চর বেরীবাঁধ হাওলাদার বাড়ী এলাকার আব্দুর রহমানের মেয়ে। নাজমা ওই ইট ভাটায় বাবুর্চির কাজ করতো।
ইট ভাটায় কাজ করার সময় নাজমার সাথে ওয়াসিমের প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে। পরে ২০২০ সালে করোনা মহামারীর কারণে ইট ভাটার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তখন ওয়াসিম নিজ এলাকা দিনাজপুর চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একথা শুনে নাজমা ওয়াসিমকে ঢাকা উদ্যানে দেখা করার কথা বলে। পরে নাজমার ভাড়া করা বসায় নিয়ে যায়। সেখানে নাজমা ও তার লোকজন জোরপূর্বক ওয়াসিমের সাথে নাজমার বিয়ে পড়ায় এবং তিন লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে।
পরবর্তীতে চলতি বছরের ১১ ডিসেম্বর মির্জাপুর ইট ভাটায় নাজমা বেগম ওয়াসিমের সাথে দেখা করতে আসে। পরে সেখানে দুই জনের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকটির এক পর্যায়ে নাজমা তাকে দেনমোহরের তিন লক্ষ টাকা ও ডিভোর্স চায় তা না হলে মামলা করার ভয় দেখায়।
এ নিয়ে দুই জনের মধ্যে আরো ঝগড়া হয়। পরে ইট ভাটার পাশে কলাবাগানে ওয়াসিম নাজমার গলায় থাকা উড়না দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং লাশ গুম করার জন্য কলাবাগানের ভিতর মাটি চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীতি প্রার্থীসহ ৪ জনের মনোনয়ন পত্র বাতিল করা করেছে। সোমবার(২০ ডিসেম্বর) রিটানিং কর্মকতা তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। এরা হলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী খান আহমেদ শুভ, বাংলাদেশ বৈরাবরি পার্টির পীর সৈয়দ আলমগীর হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলাম ও আরজু মিয়া।
এর আগে এ নির্বাচনে ৭ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলো।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঋণ খেলাপির দায়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খান আহমেদ শুভ, এছাড়া ১ শতাংশ ভোটার তালিকায় গড়মিল থাকায় বাংলাদেশ বৈরাবরি পার্টির প্রার্থী পীর সৈয়দ আলমগীর হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলাম ও আরজু মিয়ার মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়।
এ ব্যাপারে নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসান বলেন, যাচাই বাছাই শেষে ওই ৪ জনের মনোনয়পত্র বাতিল করা হয়েছে। যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে তারা আপিল করার সুযোগ পাবেন।
তিনি আরো জানান, যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে তারা হলেন, জাতীয় পার্টির জহিরুল ইসলাম জহির, বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টির গোলাম নওজেব চৌধুরী, বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির রুপা রায় চৌধুরী। এই উপনির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে ময়মনসিং আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা শাহেদুন্নবী চৌধুরী।
উল্লেখ, গত ১৬ নভেম্বর এ আসনের সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ৩০ নভেম্বর এই আসনটি শূণ্য ঘোষণা করে নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৫ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ২০ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৭ ডিসেম্বর। আগামী ১৬ জানুয়ারি এই আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের ধেরুয়ায় অবস্থিত নাসির গ্লাসওয়্যার অ্যান্ড টিউব ইন্ডাস্ট্রিজ কারখানায় সংঘটিত অগ্নিকান্ড নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের ৬০ কর্মী ও ২০ স্বেচ্ছাসেবক দীর্ঘ ১৪ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বুধবার(১৫ ডিসেম্বর) দিনগত রাত ১১টার দিকে ওই কারখানায় আগুন লাগে। বৃহস্পতিবার(১৬ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া দুইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নাসির গ্লাসওয়্যার অ্যান্ড টিউব ইন্ডাস্ট্রিজ কারখানার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. জয়নাল আবেদীন জানান, কারখানার বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রচুর মালামাল ও যন্ত্রাংশ আগুনে ছাই হয়ে গেছে। হিসাব না করে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানানো যাচ্ছেনা। তবে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি।

ফায়ার সার্ভিস ও কারখানা সূত্রে জানাগেছে, বুধবার রাত ১১টার দিকে কারখানার দোতলা ভবনের নিচতলার ফিনিশড গুডস ওয়্যারহাউসের (তৈরি মালামাল প্যাকেট করে রাখার স্থান) উত্তর-পূর্ব কোণায় অজ্ঞাত কারণে হঠাৎ আগুন লাগে। এ সময় দ্বিতীয় তলায় প্রায় দেড়শ’ শ্রমিক কাজ করছিলেন। আগুন দেখে তারা দৌঁড়ে নিচে নামেন। তাড়াহুড়া করে দৌঁড়ে নামতে গিয়ে কয়েক শ্রমিক সামান্য আহত হন। এর মধ্যে কাদের মিয়া নামে এক শ্রমিককে মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওই কারখানার শ্রমিক জয়নুল আবেদীন ও কালাম জানান, বুধবার রাতে তারা ওই ভবনের পাশের মাঠে ভলিবল খেলছিলেন। রাত ১১টার দিকে শ্রমিকদের চিৎকার শুনে তারা দৌঁড়ে ভেতরে যান। তাৎক্ষণিকভাবে তারা কারখানার ভেতরে রাখা পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু দ্রুত আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম জানান, আগুন লাগার কিছুক্ষণ পর তারা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। টাঙ্গাইল, মির্জাপুর, এলেঙ্গা, ঘাটাইল, সখীপুর, বাসাইল ও গাজীপুরের কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের ৬০ কর্মী ও ২০ স্বেচ্ছাসেবক অক্লান্ত পরিশ্রম করে বৃহস্পতিবার(১৬ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া দুইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কারখানায় দাহ্যবস্তু হিসেবে ম্যাটেরিয়ালস, প্যাকিং বক্স থাকায় ও গোডাউনটি কয়েক লাখ স্কয়ার ফুটের হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। কেন- কী কারণে আগুন লেগেছে তা তাৎক্ষণিকভাবে তিনি জানাতে পারেন নি।
একতার কণ্ঠ: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নাসির গ্লাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট কাজ করছে। বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) রাত ১১টার দিকে অগ্নিকাণ্ড শুরু হলেও বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্তও তা নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম , ‘ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক সংলগ্ন মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের ধেরুয়ায় অবস্থিত গ্লাসওয়্যার কারখানাটিতে রাত ১১টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে টাঙ্গাইল, মির্জাপুর, বাসাইল, সখীপুর ও কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসসহ আটটি ইউনিট কাজ করছে। আগুন এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তবে আগুন যাতে ছড়িয়ে না পরে সে বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছি।’
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে নিচতলার একটি গোডাউনে থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। হতাহতের খবর এখনও পাওয়া যায়নি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী খান আহমেদ শুভ। তিনি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একুশে পদকপ্রাপ্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুকের একমাত্র ছেলে ও দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিবিসিআই’র পরিচালক। ফজলুর রহমান খান ফারুক আওয়ামীলীগের পক্ষে এই আসনে ১৯৭১ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হন।
বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাহিদুল নবী চৌধুরীর কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। এ সময় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এইচ এম কামরুল হাসান, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরন, জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড় মনিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি মির্জাপুর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়েও মনোনয়নপত্র জমা দেন।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের খান আহমেদ শুভ ছাড়াও জাতীয় পার্টির জহিরুল ইসলাম জহির, বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির রুপা রায় চৌধুরী, বাংলাদেশ বৈরাবরি পার্টি থেকে পীর সৈয়দ আলমগীর হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলাম ও আরজু মিয়া মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে খান আহমেদ শুভ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভোট প্রার্থনা করছেন। চায়ের দোকান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্লাব, হাটবাজারে নির্বাচন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। নির্বাচিত হতে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত ভোট প্রার্থনা করছেন। সরকার দলীয় প্রার্থী বর্তমান সরকারের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরছেন ভোটারদের মাঝে।
স্থানীয় ভোটার রাশেদ হাসান বলেন, যে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে পারবে ও যাকে বিপদে পাশে পাওয়া যাবে এমন ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। অপর ভোটার সফল বনিক বলেন, মির্জাপুরের অদূরে রাজধানী। যিনি মির্জাপুরকে রাজধানীর আদলে সাজাতে পারবেন, তাকে দলমত নির্বিশেষে ভোট দেবেন।
খান আহমেদ শুভ বলেন, ‘জনগণের সেবা ও দেশের উন্নয়নে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। দেশের চলমান উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে নৌকা প্রতীকের পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নৌকাকে বিজয়ী করতে দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। আওয়ামীলীগ থেকে তাকে মনোনীত করায় খান আহমেদ শুভ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ নভেম্বর এই আসনের সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ৩০ নভেম্বর এই আসন শূণ্য ঘোষণা করে নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৫ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ২০ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৭ ডিসেম্বর। আগামী ১৬ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ট্রাকচাপায় সজিব বিশ্বাস (১৭) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।ওই ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা আরও দুইজন আহত হয়েছেন। শনিবার (১১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের উপজেলার ধেরুয়া এলাকায় মাছরাঙ্গা ফিলিং স্টেশনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি রোববার (১২ ডিসেম্বর) সকালে গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক নিশ্চিত করেছেন।
নিহত সজিব বিশ্বাস উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের গন্ধব্যপাড়া গ্রামের সুধির বিশ্বাসের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ‘তিন কিশোর মিলে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হন। পরে তারা ধেরুয়া এলাকায় পৌঁছালে সড়কের মাছরাঙ্গা ফিলিং স্টেশনের সামনে তাদের মোটরসাইকেলটি ট্রাকের সঙ্গে চাপা লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের নিতজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সজিব বিশ্বাসকে মৃত ঘোষণা করেন।
গোড়াই হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক বলেন, ‘দুর্ঘটনায় সজিব নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। আর অনিক নামের একজন আহত হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তার পরিবারের কাছে হন্তান্তর করা হয়।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের উপ-নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন খান আহমেদ শুভ। প্রয়াত মো. একাব্বর হোসেনের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। শুভ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক।
শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।
বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, মির্জাপুর আসনের নৌকার প্রার্থী খান আহমেদ শুভ। মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
খান আহমেদ শুভর বাবা টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে এ আসনেই নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত ওই আসনের টানা চারবারের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. একাব্বর হোসেন গত ১৬ নভেম্বর রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক (সিএমএইচ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। একাব্বর হোসেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ছিলেন।
ঘোষিত তফসিলে জানা যায়, এ আসনে আগামী ১৬ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শতভাগ ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ উপজেলায় মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেন মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ঝর্ণা হোসেন,এক ছেলে ও দুই কন্যা সন্তান সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।
মৃত একাব্বর হোসেনের স্ত্রী ঝর্ণা হোসেন জানান, তার স্বামী (একাব্বর হোসেন) দীর্ঘদিন ধরে কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। গত ১৬ অক্টোবর তিনি ব্রেনস্ট্রোক করেন। পরে তাকে সিএমএইচএ ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে তিনি মারা যান। বুধবার (১৭ নভেম্বর) বাদ জোহর মির্জাপুর এসকে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।
একাব্বর হোসেন এমপির মৃত্যুতে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাবেক সাংসদ ফজলুর রহমান খান ফারুক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম এমপি, মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ, টাঙ্গাইল জেলা চেম্বার অব অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি লি: এর সভাপতি খান আহমেদ শুভ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
প্রকাশ, ১৯৫৬ সালের ১২ জুলাই মির্জাপুর উপজেলার পোষ্টাকামুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন একাব্বর হোসেন। তার বাবার নাম ওয়াজউদ্দিন এবং মায়ের রোজিনা বেগম। তিনি ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে বিএসএস সন্মান এবং ১৯৭৮ সালে এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি ছাত্র জীবন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত হন। ১৯৭৩ সালে সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ সালে ঢাবির মহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৭৮ সালে একই হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালে তিনি মির্জাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী হিসেবে টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন।
এছাড়া তিনি জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাদক সেবনকালে তিন মাদকসেবীকে আটক করে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক। এ সময় তাদের কাছ থেকে সাতটি ইয়াবা জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) সকালে মির্জাপুর রেল স্টেশন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের হোসেন ওই সাজা দেন। এ সময় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের গোড়াই গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে মো. রাজিব মিয়া (৩৮), উপজেলা সদরের পোষ্টকামুরী পূর্বপাড়ার বছির উদ্দিনের ছেলে মো. রায়হান (৩৬) ও আনাইতারা ইউনিয়নের আটিয়া মামুদপুর গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩২)।
মঙ্গলবার সকালে মির্জাপুর রেলস্টেশন এলাকায় ওই তিন যুবক মাদক সেবনকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক তাদের হাতনাতে আটক করে এই সাজা দেন। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যহত থাকবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. জুবায়ের হোসেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে চলতি ভরা মৌসুমে সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে চরম বিপাকে পরেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সোমবার (৮ নভেম্বর) মির্জাপুরের বিভিন্ন হাট-বাজার, ডিলারের দোকান এবং কৃষি অফিস ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় কৃষি বিভাগ, সারের ডিলার এবং হাট বাজারে চড়া দামেও সার পাচ্ছে না। সার সংকট থাকায় এ বছর মির্জাপুর উপজেলায় সরিষারসহ আলু ও শীতকালীন ফসলের আবাদ না হওয়ার আশংকা করছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন,পরিবহন ধর্মঘটসহ গোডাউনে সার বিতরণে বিভিন্ন অংসগতির কারনে ডিলারগণ সার উত্তোলন করতে পারছেন না। কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের ডিএপি এবং এমওপি সারসহ বীজ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে মির্জাপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে ৯ হাজার ৫০০শত হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে। যা টাঙ্গাইল জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে সর্বাধিক।নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ হতে তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সরিষার আবাদ হয়ে থাকে। এ সময় ডিএপি এবং এমওপি সারের চাহিদা থাকে বেশী।
আগামী ১৫-২০ দিনের জন্য উপজেলায় সারের প্রয়োজন হবে ১১শ মেট্রিক টন থেকে ১৪শ মেট্রিক টন। এ বছর মৌসুমের শুরু থেকেই হঠাৎ করে সারের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। টাঙ্গাইল, জামালপুর ও নারায়নগঞ্জ গোডাউন থেকে ওই সারের সরবরাহ করার কথা থাকলেও গত ১০-১২ দিন ধরে সরবরাহ কমে গেছে। তবে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে চার হাজার ২১০ জন কৃষককে ২০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি এবং আলু বীজ দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, এখন সরিষা বপনের ভরা মৌসুম। এই মৌসুমে ডিলার ও হাট বাজারে সারের দোকানে সার পাওয়া যাচ্ছে না। চড়া দাম দিয়ে সারের কোন সন্ধান না পাওয়ায় তারা চরম বিপাকে পরেছেন। সারের অভাবে সরিষা, আলুসহ শীতকালীন ফসলের আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টির নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন তারা।
উপজেলা সার ডিলার মালিক সমিতির সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেন এবং ডিলার মো. আব্দুল করিম বলেন, গত বছর এই মৌসুমে সারের বরাদ্দ ছিল ৫০ টন। চলতি মৌসুমে বরাদ্দ মাত্র ১৮ টন। বরাদ্দ কম এবং কৃষি বিভাগের গাফিলতির কারনে নির্ধারিত সময়ে সার পাওয়া যাচ্ছে না। গোডাউন থেকে সার উত্তোলন সমস্যা এবং পরিবহন সংকটসহ সুষ্ঠ তদারকির অভাবে সার সরবরাহ করতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।এলাকার কৃষকদের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানায়, পরিবহন সংকটসহ বিভিন্ন কারনে সরিষা মৌসুমের সময় সারের সাময়িক সংকট চলছে। তবে বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের মধ্যে সরকারী প্রণোদনার বিনামূল্যে ৪ হাজার ২১০ জন কৃষককে ২০ কেজি হারে ডিওপি এবং১০ কেজি হারে এমওপি সারসহ বীজ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা যাতে হয়রানীর শিকার না হন এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।