একতার কণ্ঠঃ একসঙ্গে পল্লী বিদ্যুতের হাইভোল্টেজের ১২টি খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় বিদ্যুৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছেন এলাকাবাসী। শনিবার( ৯ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
রবিবার(১০ অক্টোবর) সকালে বাইপাস এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. মাসুদ মিয়াসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাসের উত্তর পাশে বংশাই রোডের দুই পাশে ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেন মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ।
পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগকে না জানিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মহাসড়কের উত্তর পাশে ড্রেন নির্মাণের জন্য মাটিকাটার খনন যন্ত্র (ভ্যেকু) দিয়ে গত কয়েক দিন ধরে গর্ত করতে থাকেন।
খুঁটির আশপাশে থেকে মাটি সরানোর ফলে বিদ্যুতের খুঁটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। শনিবার রাত ১টার দিকে হঠাৎ করে একসঙ্গে ১২টি খুঁটি ভেঙে বিকট শব্দের সৃষ্টি হয় এবং খুঁটিতে আগুন ধরে যায়। আশপাশের লোকজন ঘুমন্ত অবস্থায় ঘটনাটি টের পেয়ে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ, হাইওয়ে ও থানা পুলিশকে খবর দেন।ঘটনার পর পরই পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্ধকার নেমে আসে।
রবিবার সকাল থেকেই টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১-এর মির্জাপুর ও গোড়াই জোনাল অফিসের শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ভেঙে পড়া রাস্তার ওপর থেকে খুঁটি সরানোর কাজ শুরু করেছে। কবে নাগাদ বিদ্যুৎ যোগাযোগ সচল হবে তা কেউ সঠিক করে বলতে পারছেন না। এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে সড়ক বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, খুঁটি ভেঙে যাওয়ার পর পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১-এর মির্জাপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মহাসড়কের পাশ দিয়ে হাইভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করা হয়েছে। ড্রেন নির্মাণের জন্য মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ তাদের না জানিয়ে খুঁটির নিচ থেকে মাটি কেটে সরিয়ে নিয়েছে। লোড না থাকার কারণে রাতে একে একে ১২টি খুঁটি ভেঙে পড়েছে। নতুন খুঁটির ব্যবস্থা করে লাইন সচল করার চেষ্টা চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাসহ তিন মেয়েকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার বিচার আইনী জটিলতায় সাত বছরেও শুরু হয়নি। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন স্ত্রী ও সন্তান হারানো মজিবর রহমান, তাঁর মা জবা বেগম ও শ্যালক মোফাজ্জল হোসেন।
আদালত সূত্র জানায়, টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে একজন আসামি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করেন। উচ্চ আদালত এই পিটিশনের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিচারকাজ স্থগিত করেছেন। ফলে থেমে আছে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার বিচার।
মামলার এজাহার জানাযায়, মির্জাপুর উপজেলার দক্ষিণ সোহাগপাড়া গ্রামের প্রবাসী মজিবর রহমানের স্ত্রী হাসনা বেগম তাঁর তিন মেয়ে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন। বড় মেয়ে মনিরা আক্তার মির্জাপুরের গোড়াই উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। একই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম মনিরা আক্তারকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু এতে তার পরিবারের সদস্যরা রাজি ছিলেন না। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জাহাঙ্গীর তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে ২০১৪ সালের ৬ অক্টোবর রাত আড়াইটার দিকে হাসনা বেগমের বসতঘরের দরজার নিচ এবং জানালা দিয়ে পেট্রল ঢেলে দেন। পরে অগ্নিসংযোগ করেন। এতে দগ্ধ হয়ে ঘরেই মারা যান হাসনা বেগম (৩৮), তাঁর তিন মেয়ে মনিরা আক্তার (১৪), বাক্প্রতিবন্ধী মীম আক্তার (১১) ও নার্সারির শিক্ষার্থী মলি আক্তার (৭)।
পরদিন হাসনা বেগমের ভাই মোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে জাহাঙ্গীর আলমসহ ১০ জনকে আসামি করে মির্জাপুর থানায় মামলা করেন। ঘটনার কিছুদিন পর জাহাঙ্গীর আলম ও নুর মোহাম্মদ নামের দুই আসামি গ্রেপ্তার হন। দুজনই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। মামলাটি প্রথমে মির্জাপুর থানা এবং পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করে। তদন্ত শেষে সিআইডির উপপরিদর্শক মো. সোহরাব উদ্দিন নয় আসামির বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আসামিরা হলেন জাহাঙ্গীর আলম, নুর মোহাম্মদ, ইসমাইল হোসেন, মোহাম্মদ আবদুস সামাদ, আবুল বাশার, আবদুল মান্নান, মীর আসাদুল, ওয়াসিম মিয়া ও হারুন অর রশিদ।
২০১৬ সালের ২ মে মামলাটি বিচারের জন্য টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসে। পরে ওই বছর ১৬ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। আসামিদের বিরুদ্ধে ঘরে ঢুকে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা এবং সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়।
এই মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মনিরুল ইসলাম খান জানান, অভিযোগ গঠনের পর মামলার আসামি হারুন অর রশিদ অভিযোগ থেকে অব্যাহতির জন্য হাইকোর্টে একটি রিভিশন মামলা করেন। উচ্চ আদালত মামলার রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম স্থগিত করার আদেশ দেন। এ জন্য মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ হচ্ছে না। তিনি জানান, অভিযোগ গঠনের পর ২০১৬ সালের ১৯ জুলাই সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য ছিল। সেদিন রাষ্ট্রপক্ষ মামলার বাদীসহ তিন সাক্ষী হাজির করেছিল। কিন্তু উচ্চ আদালতের আদেশ থাকায় সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি। মামলার প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলম এখনো টাঙ্গাইলের কারাগারে। অন্য আসামিরা জামিনে।
মামলার সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন হাসনা বেগমের পরিবারসহ মানবাধিকারকর্মীরা।
হাসনা বেগমের স্বামী মজিবর রহমান আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘কত মাইনসের বিচার অইলো। ছয় মাসেও বিচার শ্যাষ অইলো শুনলাম। কিন্তু আমার বউ-পোলাহান মরার সাত বছর পর বিচারই শুরু অইলো না। এইডা কোন দ্যাশ।’
মজিবরের মা জবা বেগম জানান, ছেলের বউ আর নাতনিদের হত্যাকারীর বিচারের আশায় চেয়ে থেকে তাঁর স্বামী চাঁন মিয়া দেড় বছর আগে মারা গেছেন। ক্ষুব্ধ জবা প্রশ্ন করেন, ‘বিচার কি সব পানি হয়ে গেল?’
মামলার বাদী মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘বোন-ভাগনি যে কত আপন তা কেউ বুঝব না। আর আমি হেই আপন জিনিস হারাইছি। ওরা তো আর ফিরা আইবো না। ওগো মারার বিচারের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতাছি। কিন্তু কেউ মুখ ফিরা তাকায় না।’
টাঙ্গাইলের মানবাধিকারকর্মী মাহমুদা শেলী জানান, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সব জটিলতা নিরসন করে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। এভাবে দিনের পর দিন বিচার প্রক্রিয়া ঝুলে থাকলে বিচার পাওয়ার পথ সংকুচিত হবে। এতে অপরাধীরা উৎসাহিত হবে।
একতার কণ্ঠঃ সংকট, চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ৭৪ বছর অতিক্রম করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তাঁর ৭৫তম জন্মদিন। স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছার জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা। চার দশক ধরে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এখন চতুর্থ দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে ২০০৯ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। দেশের ইতিহাসে এমন রেকর্ড আর কারও নেই।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতেই দিনটি উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপন করছে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ। আজ বাদ জোহর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ বিভিন্ন বৌদ্ধবিহার ও গির্জায় আজ বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এসব আয়োজনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, খাদ্যে স্বনির্ভরতা, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, বাণিজ্য, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যকর করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন তিনি। পার্বত্য চুক্তি, ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি চুক্তি, ছিটমহল সমস্যার সমাধান, একুশে ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়সহ জাতীয় জীবনের বহুক্ষেত্রে সাফল্য এসেছে তাঁর সময়ে।
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমন এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেওয়া পদক্ষেপ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত হয়েছে। মিয়ানমারে নৃশংসতার শিকার রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে যে মানবিকতার পরিচয় তিনি দিয়েছেন, তা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। এ ছাড়া দেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে নিতে তিনি রূপকল্প ২০৪১ ঘোষণা করেন। নদীমাতৃক বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ ও ভৌত উন্নয়নের জন্য তিনি ১০০ বছরের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যা ‘ডেলটা প্ল্যান’ বা ‘বদ্বীপ পরিকল্পনা’ নামে পরিচিত।
১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। এরপর সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সক্ষম হন।
শৈশব, শিক্ষা, পরিবার ও ছাত্ররাজনীতি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্ম গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর। তিনি পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে বড়। আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকার সময় তিনি ১৯৬২ সালের হামুদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে পথে নেমে আন্দোলন করেছেন। তিনি শৈশব থেকেই ছিলেন স্পষ্টভাষী, স্কুলে তিনি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনেও নেতৃত্ব দিতেন।
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের (সাবেক ইন্টারমিডিয়েট গভর্নমেন্ট গার্লস কলেজে) ছাত্রী থাকা অবস্থায় ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হন শেখ হাসিনা। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা আন্দোলনে অংশ নেন এবং কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন ১৯৬৭ সালে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থাতেই তিনি পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন।
বঙ্গবন্ধু ষাটের দশকে প্রায়ই কারান্তরীণ থাকতেন। বড় মেয়ে শেখ হাসিনার বিয়ের সময়েও তিনি কারাগারে ছিলেন। বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের তত্ত্বাবধানেই ১৯৬৭ সালের ১৭ নভেম্বর বিশিষ্ট পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর একমাত্র ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এখন প্রধানমন্ত্রীর অবৈতনিক তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা। মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল অটিজম বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন।
সংকটময় পথে
শেখ হাসিনার জীবনে গভীরতম সংকট নেমে এসেছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে। সামরিক বাহিনীর কতিপয় বিপথগামী কর্মকর্তা ও সদস্য সপরিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। তিনি তখন স্বামী-সন্তান, ছোট বোন শেখ রেহানাসহ অবস্থান করছিলেন বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে। দেশে না থাকায় সেদিন তাঁরা প্রাণে বেঁচে যান। তবে শুরু হয় দুঃসহ এক জীবন। প্রথমে জার্মানি এবং পরে ভারতে নির্বাসিত জীবন যাপন করতে বাধ্য হন।
সপরিবার বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশে এক ক্রান্তিকাল দেখা দেয়। জাতীয় চার নেতা—সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, মনসুর আলী ও কামারুজ্জামানকে কারাগারে হত্যা করায় গভীর সংকট দেখা দেয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। দলের সেই বেসামাল পরিস্থিতিতে ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় ইডেন হোটেল প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে সভানেত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করা হয়।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে আসে সেই দিন, ১৯৮১ সালের ১৭ মে। সেদিন বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দলের অগণিত নেতা-কর্মী বিমানবন্দরে সমবেত হন তাঁদের সভাপতি শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে।
স্বজন হারানোর ছয় বছর পর শোকাচ্ছন্ন শেখ হাসিনা দেশের ভেজা মাটিতে পা রাখলেন। তিনি সমবেত জনতাকে বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আজ আমি এসেছি বাংলায়। এ দেশের মানুষের মুক্তির সংগ্রামে অংশ নিতে। আমার আজ হারানোর কিছুই নেই।’ দেশে ফেরার পর শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অন্তত ২২ বার হামলা হয়। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় সৌভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান তিনি।
সংগ্রামী পথচলা
দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তাঁর দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার সঙ্গে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯৬ সালে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে।
প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রথম মেয়াদে শেখ হাসিনা সরকারের অন্যতম সাফল্য ছিল ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে ৩০ বছরের চুক্তি এবং পাহাড়ে সংঘাত নিরসনে সম্পাদিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি। এ ছাড়া কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারপ্রক্রিয়াও শুরু করেছিলেন তিনি।
বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে ২০০৬ সালে বিচারপতি কে এম হাসানের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের উদ্যোগ নিলে আন্দোলন শুরু করে আওয়ামী লীগ। নানা সংকটময় পরিস্থিতির পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২০০৮ সালের ১১ জুন তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের দলগুলো নিয়ে গঠিত হয় ১৪-দলীয় মহাজোট। এই জোট ভোটে জয়লাভ করে।
শেখ হাসিনা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দায়িত্ব নেন। এরপর ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে তৃতীয়বার এবং ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। এ ছাড়া তিনি তিন মেয়াদে সংসদে বিরোধী দলের নেতা ছিলেন।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। বিনা মূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ, গড় আয়ু বৃদ্ধি, শিশুমৃত্যুর হার কমানো, নারীশিক্ষায় অগ্রগতি, বিভিন্ন ভাতা ও বৃত্তি প্রদানের মধ্য দিয়ে প্রান্তিক জনগণের আর্থিক সুরক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের সূচকে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। পাশাপাশি নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, উড়ালসড়ক, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগসহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে উন্নয়ন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে রেকর্ড, জিডিপির ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধিসহ জাতীয় জীবনের নানা ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের সাফল্য রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে শুরু হয়েছে সরকারি অনুদান পাওয়া চলচ্চিত্রের ‘গলুই’ এর শুটিং। বৃহস্পতিবার(২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেরা জমিরদারবাড়িতে একঝাঁক থিয়েটারকর্মী নিয়ে শুটিং শুরু হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ছবিটির পরিচালক এস এ হক অলিক।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গলুই’ এর ক্যামেরা ওপেন হলো, প্রথম দিনে একঝাক থিয়েটারকর্মী ও সিনিয়র কয়েকজন অভিনেতা শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন।
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা ও বিস্তীর্ণ এক জনপদের মানুষের জীবন উপজীব্য করে নির্মিত হচ্ছে ‘গলুই’ সিনেমা। এতে প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করবেন শাকিব খান। তার বিপরীতে রয়েছেন পূজা চেরি। কিন্তু শুটিং শুরুর প্রথম দিন তারা অংশ গ্রহণ করেননি।
পূজা আগামীকাল শুক্রবার এবং শাকিব খান ২৮ তারিখে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন পরিচালক।
পরিচালক জানান, নৌকার সঙ্গে জীবন, জীবনের সঙ্গে সম্পর্ক, পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থা মিলিয়ে একটা জীবন ধারা। এরমধ্যে রয়েছে প্রেম, টানাপোড়েন, বন্ধন। পুরো সিনেমায় থাকবে এটাই। সেজন্যই ছবির নাম ‘গলুই’। শুটিং শুরু হলেও শাকিব-পূজা প্রথম কয়েক দিন থাকছেন না। থাকবেন ২৮ তারিখ থেকে।
পরিচালক আরও জানান যমুনার চরে শুটিং শুরু হলেও পরে অনেকটা দুর্গম এলাকায় শুটিং হবে। যে অঞ্চলে আগে কখনই কোনো সিনেমার শুটিং হয়নি। একেবারে ‘র’ লোকেশনে আমরা শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছি। সিনেমাটির একটা বড় অংশ জুড়ে থাকবে নৌকা বাইচ। টানা শুটিংয়ের মাধ্যমে কাজ শেষের ইচ্ছে আছে।
সরকারি অনুদান পাওয়া সিনেমাটি প্রযোজনা করছেন খোরশেদ আলম খসরু। মিউজিক করছেন কুমার বিশ্বজিৎ, হাবিব, শাহ আলম সরকার, ইমন সাহা প্রমুখ।
পরিচালক এস এ হক অলিক বলেন, অনেকটা দুর্গম এলাকায় শুটিং হবে। ওই অঞ্চলে আগে কখনই কোনো সিনেমার শুটিং হয়নি। একেবারে ‘র’ লোকেশনে আমরা শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছি। সিনেমাটির একটা বড় অংশ জুড়ে থাকবে নৌকা বাইচ।
সিনেমাতে নায়ককে এমন লুকে হাজির করা হবে যা তার ক্যারিয়ারে আগে কখনই দেখা যায়নি। সবমিলিয়ে চেষ্টা করছি অসাধারণ কিছু দর্শকদের উপহার দেয়ার বলে জানান তিনি।
সরকারি অনুদানের সিনেমা হলেও আয়োজনে কোনো কমতি রাখছেন না প্রযোজক খসরু। নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় গ্রামাঞ্চলে উৎসব বিরাজ করেন, সেসব কিছু তুলে আনা হবে গলুইতে – বলেন এস এ হক অলিক।
তিনি বলেন, ‘গলুই’ মানে নৌকার গলুই। নৌকার সঙ্গে জীবন, জীবনের সঙ্গে সম্পর্ক, পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থা মিলিয়ে একটা জীবন ধারা। এরমধ্যে প্রেম, টানাপোড়েন, বন্ধন – পুরো সিনেমার মধ্যে থাকবে। সেজন্যই এর নাম ‘গলুই’।
এস এ হক অলিক বলেন, নৌকার একপ্রান্তে থাকে মাঝির আসন, অন্যপ্রান্তের নিশানা যদি ঠিক না থাকে – তাহলে নৌকা কিন্তু এদিক সেদিক করবে। জীবনটাও কিন্তু তাই। পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে একজন যদি একটু এদিক সেদিক হয়, তাহলে সংসারটা কিন্তু ঠিকঠাক চলে না। এদিক সেদিক হয়ে যায়। গলুইয়ের দার্শনিক জায়গাটা কিন্তু এটা।
সরকারি অনুদান পাওয়া সিনেমাটি প্রযোজনা করছেন খোরশেদ আলম খসরু। তিনি জানিয়েছেন, গলুই হবে ভিন্নধারার বাণিজ্যিক সিনেমা।
একতার কণ্ঠঃ বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মসজিদ মার্কেটের সামনে বৃহস্পতিবার(১৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে ২৬ গ্রাম হেরোইনসহ মো. বদরুল নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
অভিযানে গ্রেফতারকৃত মো. বদরুল(৩০) চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলা সদরের ঘটাপাড়া এলাকার মো. এনামুল হকের ছেলে।
র্যাব-১২ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুনের(জি) বিএন নেতৃত্বে একদল র্যাব অভিযান চালায়। অভিযানে প্রায় দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ২৬ গ্রাম হোরোইন সহ মো. বদরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত বদরুলের বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে লৌহজং নদীতে গোসল করতে গিয়ে সেতু থেকে লাফ দিয়ে নবম শ্রেণির ছাত্র শান্ত খানের(১৬) মৃত্যু হয়েছে। শান্ত মির্জাপুর উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের নতুন কহেলা গ্রামের শফিনুর রহমান খানের ছেলে। সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুুরি দল নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। সে ধামরাই উপজেলার রাজাপুর কহেলা বাহারাম মল্লিক উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শান্ত খান তার চার সহপাঠি একই এলাকার আলিফ, আনাম, বিবেক ও নাদিমের সাথে পাশ্ববর্তী চর রাজাপুর এলাকায় একটি সেতুর নিকট গোসল করতে যায়। এক পর্যায়ে সকল বন্ধুরা মিলে সেতু থেকে লাফিয়ে পানিতে পড়ে গোসল করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথমে শান্ত খান সেতু থেকে লাফিয়ে পানিতে পড়ে। এ সময় সে হাত দিয়ে কিছু একটা ইশারা করে পানিতে তলিয়ে যায়।
এমন দৃশ্য দেখে অন্য বন্ধুরা সেতু থেকে লাফ না দিয়ে নদীর স্রোতের ভাটিতে তাকে খুজতে থাকে। পরে স্বজনদের জানালে তারা স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি অবগত করেন। মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুুরিদল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকেলে শান্তর মরদেহ উদ্ধার করে। এসময় নদীর দুই পারে শত শত মানুষের ভিড় জমে।
একতার কণ্ঠঃ প্রশস্ত হচ্ছে টাঙ্গাইল-কালামপুর সড়ক। এ জন্য ‘টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া-কাওয়ালীপাড়া-কালামপুর বাসস্ট্যান্ড সড়ক আঞ্চলিক মহাসড়কের যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে, এক হাজার ৪৩৫ কোটি ৮৯ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।
প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে টাঙ্গাইল, দেলদুয়ার, নাগরপুর, ধামরাই ও সাটুরিয়া উপজেলার সাথে মানিকগঞ্জ ও ঢাকার মধ্যে স্বল্পতম সময়ে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হবে। এছাড়া প্রকল্প এলাকার জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি সাধিত হবে। তাই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে টাঙ্গাইল, দেলদুয়ার, নাগপুর, ধামরাই ও সাটুরিয়া উপজেলার সাথে মানিকগঞ্জ ও ঢাকার মধ্যে স্বল্পতম সময়ে নিরবিচ্ছিন্ন ও নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় পিইসি (প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি) সভা। ওই সভায় দেওয়া সুপারিশগুলো প্রতিপালন করায় প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতর।
প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া (বালিয়াটি) সড়কটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা মহাসড়ক। যেটি টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা থেকে শুরু হয়ে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি নামক স্থানে সমাপ্ত হয়েছে। জেলা মহাসড়কটির ঢাকা-টাঙ্গাইল জাতীয় মহাসড়ক এবং ঢাকা আরিচা জাতীয় মহাসড়কের মধ্যে ন্যূনতম সময়ে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেছে। উল্লিখিত মহাসড়কটিকে আঞ্চলিক মহাসড়কের যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় নির্মাণ করা হলে নাগপুরসহ টাঙ্গাইল অঞ্চলের মানুষ প্রায় ৪০ কিলোমিটার কম দূরত্ব অতিক্রম করে সহজে ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবে।
এছাড়া টাঙ্গাইল জেলার সঙ্গে মানিকগঞ্জ জেলার মধ্যে ন্যূনতম সময়ে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা সম্ভব হবে। ২৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া জেলা মহাসড়কটির সঙ্গে মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগাধীন গোলড়া-সাটুরিয়া জেলা মহাসড়কের ২ দশমিক ২৬ কিলোমিটার কাওয়ালিপাড়া-সাটুরিয়া জেলা মহাসড়কের ৪ দশমিক ২৪ কিলোমিটার, কালামপুর বাসস্ট্যান্ড-কাওয়ালিপাড়া-বালিয়া-ওয়ার্শি-মিজৃাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ১০ দশমিক ৫০ কিলোমিটার, নতুন সড়ক নির্মাণ, বাঁকসরলীকরণ ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার ও টাঙ্গাইল সড়ক বিভাগাধীন টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার জেলা মহাসড়ক ১১ কিলোমিটারসহ মোট ৫টি মহাসড়কের ৬১ দশমিক ৫২ কিলোমিটার অংশকে একীভূত করে কালামপুর থেকে কাওয়ালীপাড়া, সাটুরিয়া, লাউহাটি, দেলদুয়ার হয়ে টাঙ্গাইল পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক মানে উন্নীতকরণ করা হলে নিরাপদ ও উন্নত সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পে টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার-লাউহাটি-সাটুরিয়া-কাওয়ালীপাড়া-কালামপুর বাসস্ট্যান্ড সড়কটিকে আঞ্চলিক মহাসড়কের যথাযথমানে উন্নীত করার মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করে ৬১ দশমিক ৫২ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তশরণ ও মজবুতিকরণ, দূর্ঘটনা প্রবণ ঝুকিপূর্ণ স্থানে সড়ক বাঁক সরলীকরণ, বাজার এলাকায় রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ, ঝুকিপূর্ণ, ক্ষতিগ্রস্ত ও সরু সেতু কালভার্টের স্থলে ৪৪৬ মিটার ৩১টি কালভার্ট এবং ৩৮১ দশমিক ১৪ মিটার ৫টি সেতু পুনঃনির্মাণ করা হবে। এছাড়া পানি নির্গমনের জন্য ড্রেন ও সড়ক বাধ রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় রক্ষাপ্রদ কাজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জের বিশাল জনপদে যোগাযোগের জন্য এটিই হবে মূল সড়ক এবং এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মূলত এই সড়কটিকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হবে। প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকার অধিকাংশ মানুষ পেশায় কৃষক এবং ব্যবসায়ী। তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য এবং অন্যান্য দ্রব্যাদিও দ্রুত ও সহজে পরিবহনের জন্য প্রস্তাবিত সড়কটি ব্যবহৃত হবে।
প্রকল্পের আওতায় মূল কার্যক্রমগুলো হচ্ছে, পেভমেন্ট প্রশস্তশরণ ও মজবুতিকরণ, ওভারলে সার্ফেসিং, সার্ফেসিং, গ্রেড সেপারেটেড ইন্টারসেকশন নির্মাণ, ইউ লুপ, আন্ডারপাস, আরসিসি রিজিড পেভমেন্ট, সসার ড্রেন এবং আরসিসি রিটেননিং ওয়াল নির্মাণ করা হবে।
এ বিষয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মামুন আল রশীদ বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে টাঙ্গাইল, দেলদুয়ার, নাগরপুর, ধামরাই ও সাটুরিয়া উপজেলার সাথে মানিকগঞ্জ ও ঢাকার মধ্যে স্বল্পতম সময়ে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হবে। এছাড়া প্রকল্প এলাকার জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি সাধিত হবে। তাই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলার মধ্যে ৭টি উপজেলায় বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ নদীগুলোতে পানি ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে নিম্নাঞ্চলের কাঁচা-পাকা রাস্তা ভেঙে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় অনেকে পাহাড়িয়া এলাকায় আত্মীয়ের বাড়ি ও উঁচু সড়কের পাশে আশ্রয় নিয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। অধিকাংশ এলাকায় পানীয় জল ও শুকনো খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যার্তদের জন্য জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় মাত্র ৪০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দিয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, জেলার ভূঞাপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন, কালিহাতী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের ৭টি, নাগরপুর উপজেলার ৯টি, বাসাইল পৌরসভা সহ সবকটি(৬টি) ইউনিয়ন, মির্জাপুর ৪টি ও দেলদুয়ার উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে খাল, বিল, নদী ও বাড়ির আঙিনা পানিতে থই থই করছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
বন্যার পানি বাড়ার সাথে সাথে ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধের উত্তর-পূর্বাংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাছ বেথইর এলাকায় বাঁধের ১০০মিটারে ভাঙনের কবলে পড়ে ঝুঁকিতে রয়েছে। ওই এলাকা দিয়ে পানি প্রবেশ করলে টাঙ্গাইল শহরে পানি ঢুকে পড়বে। এছাড়া যমুনায় ভূঞাপুর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর ও নাগরপুর অংশে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।
বন্যার পানিতে টাঙ্গাইল-পটলবাজার, টাঙ্গাইল-কাকুয়া, এলেঙ্গা-মগড়া, ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী বাজার থেকে ভালকুটিয়া পর্যন্ত পাকা সড়ক, বাসাইল পৌরসভার একটি ব্রিজ ও কাঞ্চনপুরের গ্রোথ সেণ্টার-কাজিরাপাড়া সড়কে কালভার্ট প্রবল স্রোতে ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এসব এলাকার কাঁচা-পাকা সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওইসব এলাকায় এখনও লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলায় এবার ৮৯ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ করা হয়। এরমধ্যে ৭৯০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
এদিকে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও ধলেশ্বরী, ঝিনাই সহ অভ্যন্তরীণ সব নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৭ সেণ্টিমিটার, ধলেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৭৮ সেণ্টিমিটার ও ঝিনাই নদীর পানি বিপৎসীমার ৯২ সেণ্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সাহা জানান, জেলার ভূঞাপুর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর ও নাগরপুর এ চারটি উপজেলার বন্যা দুর্গতদের জন্য ৪০ মে.টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনের জন্য প্রতিটি উপজেলায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তালিকা পেলে যথাস্থানে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আহসানুল বাশার জানান, চলতি বন্যার পানি এক সপ্তাহের মধ্যে নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত ৭৯০ হেক্টর জমির রোপাআমনের ৫০-৬০ ভাগ ধান রক্ষা পেতে পারে। তিনি জানান, পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে নাভি জাতের আমন রোপনের জন্য তারা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রণোদনার পাশাপাশি আগাম রবিশস্য চাষে সহায়তা দিয়ে তারা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, বন্যায় পানি বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জেলার ৮০ কিলোমিটার নদী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পানি কমে গেলে স্থায়ীভাবে নদী তীর সংরক্ষণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে টাঙ্গাইলের নদ-নদীর পানি বাড়ছে। বৃহস্পতিবার(২৬ আগস্ট) সকালে যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৭ সেণ্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া জেলার ধলেশ্বরীতে ৪ সেণ্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ২৩ সেণ্টিমিটার এবং ঝিনাই নদীর পানি ৯ সেণ্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে এ তথ্য জানাগেছে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো) জানায়, গত দুই দিন যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকার পর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণের করণে জেলার অভ্যন্তরীণ নদীগুলোতে পানি বাড়ছে। ফলে জেলার চরাঞ্চল, নিম্নাঞ্চল ও অভ্যন্তরীণ নদী তীরবর্তী এলাকার ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি প্লাবিত হচ্ছে। নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলা, কালিহাতী, বাসাইল, ভূঞাপুর, মির্জাপুর, বাসাইল ও নাগরপুর উপজেলার নিচু এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। কোথাও কোথাও নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে।
টাঙ্গাইল পাউবো ও কৃষি বিভাগ জানায়, জেলার অভ্যন্তরীণ নদীগুলোতে পানি বাড়লেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পানি বৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, যমুনা নদীসহ জেলার সব নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নদীর পানি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের ছিটমামুদপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার(২৬ আগস্ট) ভোরে ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের কামড়ে আশিক(২১) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত আশিক ছিটমামুদপুর গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে।
নিহতের চাচা শওকত হোসেন জানান, বুধবার রাতের খাবার শেষে আশিক প্রতিদিনের ন্যায় নিজের ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুমন্ত অবস্থায় গভীর রাতে তাকে সাপে কামড় দেয়। পরে রাতেই তাকে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
কুমুদিনী হাসপাতালের এজিএম (অপারেশন) অনিমেষ ভৌমিক জানান, সাপের কামড়ে যুবকের মৃত্যুর বিষয়ে থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
মির্জাপুর থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, আইনী প্রক্রিয়া শেষে আশিকের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ স্ত্রী ডিভোর্সের পর দুধ দিয়ে গোসল করলেন আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন অমিত রাজ নামে এক আওয়ামী যুবলীগ নেতা। দাম্পত্য কলহের জের ধরে তাদের মধ্যে ডিভোর্স হয়। ডিভোর্সের পর যুবলীগ নেতার দাদী মোনোয়ারা বেগম অমিত রাজকে দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে দেন। স্ত্রীকে ডিভোর্সের পর দুধ দিয়ে গোসল করার ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের পাশাপাশি নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার(২১ আগস্ট) টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের অভিরামপুর গ্রামে। অমিত রাজ ওই গ্রামের মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে ও ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সক্রিয় সদস্য।
অমিত রাজ মুঠোফোনে জানান, তার স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িয়ে তিন মাস আগে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি(জিডি) করেছিলেন। কিছুদিন পর তার পালিয়ে যাওয়া স্ত্রী ফিরে এসে তার পরিবারের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেন। শনিবার(২১ আগস্ট) ডিবি কার্যালয়ে বসে দেনমোহরের ৩ লাখ টাকার পরিশোধের বিনিময়ে তাদের ডিভোর্স হয়। এরপর তিনি তিন বছরের ছেলেকে বুঝে নিয়ে বাড়ি ফিরে এসে দুধ দিয়ে গোসল করেন।
তিনি আরও জানান, প্রেম করার পর প্রেমিকাকে বিয়ে করেও সুখী হতে না পারার ব্যর্থতায় তিনি ডিভোর্স করেছেন।
একতার কন্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে সামিয়া আক্তার (৪) ও সিফাত মিয়া (৫) নামে দুই চাচাতো ভাই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।বুধবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের থলপাড়া গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে।ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মৃত সামিয়া থলপাড়া গ্রামের ছানোয়ার হোসেনের মেয়ে ও সিফাত একই গ্রামের ফিরোজ মিয়ার ছেলে। সম্পর্কে তারা চাচাতো ভাই-বোন।
স্থানীয়রা জানায়, সকালে বাড়ির পাশেই খেলা করছিল শিশু সামিয়া ও সিফাত। খেলতে খেলতে বাড়ির পাশে পাকা রাস্তায় চলে গেলে পাশেই পুকুরে পড়ে যায় তারা। কিছুক্ষণ পর বাড়ির লোকজন তাদের দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও না পেয়ে পুকুরে খুঁজতে নামেন তাদের পরিবার সহ বেশ কয়েক জন গ্রামবাসী। পরে জাল ফেলে বেলা ১১টার দিকে তাদের উদ্ধার করে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নেয়া কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।