আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ছানোয়ার হোসেন(৩৭) নামে এক যুবককে চোর সন্দেহে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। পরে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।
নিহত ছানোয়ার হোসেন জেলার মধুপুর উপজেলার গোলাবাড়ী ইউনিয়নের ভট্টবাড়ী গ্রামের হাসমত আলীর ছেলে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার বিকালে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার মেডিসিন ওয়ার্ড (মহিলা) থেকে ৪/ ৫ জন যুবক নিহত ছানোয়ার হোসেনকে জোর করে ধরে এনে চোর বলে বেধড়ক পেটাতে থাকে। এ সময় ছানোয়ার হোসেন জীবন বাঁচাতে যুবকদের হাতে পায়ে ধরে রক্ষা পায়নি। এমনকি ছানোয়ার হোসেনকে বাঁচাতে হাসপাতালের কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে ছানোয়ার হোসেন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লে যুবকরা পালিয়ে যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন জানায়, এ ভাবে দিনে-দুপুরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মতো জায়গায় চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছি না। অবিলম্বে হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান, জেনারেল হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় এক যুবককে চোর সন্দেহে কয়েকজন দুর্বৃত্ত পিটিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
তিনি আরও জানান,পুলিশ সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
আরমান কবীরঃ বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের উদ্যোগে সমন্বিত বন্যা সহনশীল কর্মসূচি (আইএফআরসি) পর্যায়-৩ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি)দুপুরে আইএফআরসি’র কারিগরি সহায়তায় মিনিস্ট্রি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্সের কোরিয়া গভারমেন্টের অর্থায়নে এনজিও ফোরাম টাঙ্গাইলের হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সঞ্জয় কুমার মহন্ত।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন জেলা শিক্ষা কমকর্তা (মাধ্যমিক) রেবেকা সুলতানা, জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আকতারুজ্জামান, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির উপ-পরিচালক ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন, আইএফআরসি’র ম্যানেজার বিপ্লব ক্রান্তি মন্ডল, ইউনিট লেভেল কর্মকর্তা মঈনুদ্দিন, আইএফআরসি বিডিআরসিএস’র পিএমইআর অফিসার মো. মোমিনুল হক, একাউন্টস এন্ড এডমিন মো. হুমায়ন কবির, আইএফআরসি পর্যায় -৩ এর প্রোগ্রাম অফিসার মো. মতলেবুর রহমান, যুব প্রধান আল আমিন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলার কৃষি, প্রানী সম্পদ ও শিক্ষাসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, উপকারভোগী ও বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিবৃন্দ, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং যুব সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে শুরু হয়েছে লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসব।বুধবার(১৫ জানুয়ারি )সকাল ১১টায় শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে কালচারাল রিফরমেশন ফোরাম, টাঙ্গাইলের আয়োজনে তিন দিন ব্যাপী লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল রানা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব হাসান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসব কমিটির আহবায়ক আবুল কালাম মোস্তফা লাবু।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন
বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব গোলাম আম্বিয়া নুরী, জেলা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হামিদুল হক মোহন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে দর্শকের উপস্থিতিতে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ লাঠিখেলা,ও মেয়েদের হাডুডু খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
এ পিঠা মেলায় ৪২ টি স্টলে স্থান পেয়েছে দুধের পিঠা, ভাপা, নকশি, চিতই, পাঠিসাপটা, জামাই বরণ পিঠা, ডাল ও তালের পিঠা সহ বিভিন্ন রকমের পিঠার সমারাহ।
মেলায় দর্শনার্থীরা জানায়, কুয়াশার সকালে কিংবা সন্ধ্যায় হিমেল বাতাসে মুখরোচক পিঠার স্বাদ নেওয়া ভোজন বিলাসী বাঙালির ঐতিহ্যের অংশ।
চলচ্চিত্র পরিচালক ও মেলায় অংশগ্রহণকারী বাইস্কোপ পিঠাঘরের স্বত্বাধিকারী রিয়াজুল রিজু জানান, নবীন ও প্রবীণের সমন্বয় এই পিঠার উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে এজন্য আমি আনন্দিত।
নতুন প্রজন্মের সঙ্গে দেশীয় পিঠার পরিচয় করিয়ে দিতে আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ জানান তিনি। প্রতি বছর যেন এ রকম লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয় এমনটা প্রত্যাশা তার।

মেলায় ঘুরতে আসা টাঙ্গাইল সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক প্রকৌশলী জাহিদ রানা জানান, দীর্ঘদিন পর টাঙ্গাইলে একটি ব্যতিক্রমধর্মী লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসবের আয়োজনে আসতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আমি প্রতিটি পিঠার স্টল ঘুরে দেখেছি। স্টলে বিভিন্ন রকমের পিঠার ডালি সাজিয়ে রেখেছে দোকানিরা। খুব ভালো লাগলো। নতুন নতুন অনেক পিঠার সাথে পরিচিত হলাম। সেগুলোর স্বাদ নিলাম। পিঠাগুলো খুব মজার ছিল।
লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসব কমিটির সদস্য সচিব অনীক রহমান বুলবুল জানান, ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসবে থাকবে, লাঠি খেলা, ছেলেদের ও মেয়েদের হাডুডু খেলা, সং যাত্রা, যাদু প্রদর্শন, যাত্রাপালা,পুথি পাঠ, লোকজ গান, গোল্লাছুট, ওপেন টু বাইস্কোপ, বাইস্কোপ, কুতকুত, খেলা সহ, হামদ, নাথে রাসুল, কীর্তন, শ্যামা সংগীত সহ দেশোজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই পিঠা উৎসবের মূল আকর্ষণ হল মেলায় ঢেঁকিতে প্রকাশ্যে চিড়াকোটা ও মুড়ি ভাজা হবে। পিঠা কিভাবে তৈরি হয় সেটা দর্শক ও শিশুদের দেখানো হবে।
লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসব কমিটির আহবায়ক আবুল কালাম মোস্তফা লাবু জানান, দীর্ঘ সময় ধরে এই বাংলাদেশে লোকজ সংস্কৃতি বিলুপ্তি প্রায়। যান্ত্রিক যুগে মোবাইলের কারণে শিশুরা লোকজ ও সাংস্কৃতিক থেকে একেবারে দূরে সরে গেছে। লোকজ সংস্কৃতি কি, শিশুরা তা জানে না। সম্প্রতি অভিভাবকের কাছে জানতে পারলাম, শিশু তার বাবাকে প্রশ্ন করেছে মুড়ি কোন গাছে হয়। মুড়ি যে গাছে ধরে হয় না,শিশুর এমন প্রশ্ন দোষের না। কারণ শিশুরা মাঠে-ঘাটে খেলাধুলার বাস্তবতা থেকে অনেকটাই দূরে। সেই অনুভব থেকে আমরা এ রকম লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসবের আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ লোকজ ও সাংস্কৃতি আগত ও বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরো জানান, মেলায় বাঙালি কৃষ্টি ও লোকজ ঐতিহ্যের স্মারক বাহারি পিঠা প্রদর্শন, ক্রয়, বিক্রয় ও ভোজনুৎসবের পাশাপাশি উন্মুক্ত মঞ্চে প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকবে লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার( ১৪ জানুয়ারি )দিনব্যাপি কলেজ ক্যাম্পাসে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের শীতকালীন পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
স্বাগত বক্তব্য ও বেলুন উড়িয়ে এই উৎসবের উদ্বোধন করেন-কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম. আসাদুজ্জামান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর খন্দকার আরিফ মাহমুদ, শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক প্রফেসর মো. শফিকুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মো. আলী আশরাফ খান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় করেন, দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ নূর-এ আলম সুমন ও হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. শফিকুল ইসলাম।
কলেজের ১৫টি অনার্স বিভাগসহ রোভার স্কাউট, বিএনসিসি ও রেড ক্রিসেন্টসহ ১৮টি স্টলে জামাই পিঠা,রস পাকন,মুলাসুন্দরী পিঠা, লবঙ্গ লতিকা, ভাপা পুলিসহ নানা নাম ও রংবেরংয়ের পিঠা প্রদর্শন করা হয়।
উদ্বোধন শেষে পিঠা উৎসবের স্টল পরিদর্শন করেন কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম. আসাদুজ্জামানসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা।
এই পিঠা উৎসবকে ঘিরে কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মিলন মেলায় পরিনত হয়।
একতার কণ্ঠঃ দুর্বৃত্তদের আঘাতে নিহত টাঙ্গাইলের কৃতি সন্তান লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জনের বাবা-মায়ের কাছে পূর্বাচলে অবস্থিত জলসিড়ি আবাসনের একটি ফ্ল্যাটের চাবি হস্তান্তর করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
সোমবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে সেনাসদরে ফ্ল্যাটের চাবি হস্তান্তর করা হয় বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের চকরিয়ায় যৌথবাহিনীর ডাকাতি প্রতিরোধ অভিযান পরিচালনাকালে দুর্বৃত্তদের আঘাতে নিহত হন লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার (২৩)। তার নিহতের ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তি দেয় আইএসপিআর।
গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার সময় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চকরিয়া উপজেলার অন্তর্গত ডুলহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামে ডাকাতির খবর পেয়ে চকরিয়া আর্মি ক্যাম্প থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল দ্রুত সেখানে যায়।
ভোর রাত ৪টার দিকে মাইজপাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করার সময় ৭/৮ সদস্যের একটি ডাকাত দল সেনা টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যত্র পালিয়ে যাওয়ার সময় লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন ডাকাত দলের কয়েকজনকে তাড়া করেন। এসময় ডাকাত দলের সদস্যরা লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জনের ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করলে গুরুতর আহত হন এবং এতে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নির্জনকে উদ্ধার করে মালুমঘাট মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে তিন ডাকাতকে আটকসহ একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক, ৬ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও, ডাকাত সন্দেহে আরও তিন জনকে আটক করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশমাতৃকার সেবায় এ তরুণ সেনা কর্মকর্তার আত্মত্যাগ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে এবং সেই সাথে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সব সদস্যের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।
লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের করের বেতকা এলাকার একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সারোয়ার জাহান ও মাতা নাযমা বেগমের দুই সন্তানের মধ্যে নির্জন একমাত্র ছেলে।
নির্জন পাবনা ক্যাডেট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন এবং ২০২২ সালের ৮ জুন বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি থেকে ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে আর্মি সার্ভিস কোর শাখায় কমিশন লাভ করেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে ৭৬ বছরের পুরনো ফাইলা পাগলার মেলা বন্ধ ঘোষণা করেছে যৌথ বাহিনী। রবিবার (১২ জানুয়ারি) বিকালে উপজেলার দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের দাড়িয়াপুরে অবস্থিত ফাইলা পাগলার মাজার প্রাঙ্গণে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও থানা পুলিশ অভিযান শেষে মেলা বন্ধের এ ঘোষণা দেন।
অভিযানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল রনী, সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন এ টি এম ফজলে রাব্বি প্রিন্স, সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, ১৯৪৯ সালে উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামে প্রথম ফাইলা পাগলার মেলা শুরু হয়। প্রতিবছরের হিজরি রজব মাসের প্রথম দিন থেকে মেলা শুরু হয়ে মাসব্যাপী চলে এর কার্যক্রম। পূর্ণিমার রাতে হয় বড়মেলা। তবে মানতকারী, ভক্ত-দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকে সারা মাস। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাজার হাজার লোক ব্যান্ডপার্টিসহ মানত করা মোরগ, খাসি, গরুসহ নানা পণ্যসামগ্রী নিয়ে হাজির হয়। মাজারের চারপাশের প্রায় এক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত লোকজন মোরগ, গরু-খাসি জবাই করে মানত পূরণ করে।
এদিকে, মাজারঘেঁষেই পাগল ভক্তদের বসার আস্তানা। সেখানে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন করা হয়। এই সুযোগে দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্ত ও যুবকরা অনেকটা প্রকাশ্যেই মাদক সেবন করে। এ ছাড়া মেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিরাতে অশ্লীল নৃত্যের আয়োজন করা হয় বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
বিষয়টি নিয়ে সচেতন নাগরিক সমাজ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দেয়। পরে রবিবার বিকালে যৌথ বাহিনী মেলা বন্ধে অভিযান চালায়। এ সময় ব্যবসায়ী ও মেলায় আগত দর্শনার্থীদের মেলাস্থল ত্যাগ করতে ১৫ মিনিট সময় বেঁধে দেওয়া হয়। পরে দোকানপাট সরিয়ে নিতে ব্যবসায়ীদের দুই ঘণ্টা সময় দেয় যৌথ বাহিনী। পরে মেলায় আসা লোকজন দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। এ সময় মেলায় বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে আসা ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। পরে তারা মালামাল সরাতে দুই দিন সময় চান।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল রনী বলেন, ‘মেলার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ ছিল। আমরা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতাও পেয়েছি। এ কারণে মেলাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’
তবে মাজার কমিটির সভাপতি কবির হাসান অভিযোগ করে বলেন, ‘একটি মহল মেলাটি বন্ধ করার জন্য পাঁয়তারা করছে। মাজারের পাশ থেকে পাগল ভক্তদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবুও মেলাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মেলাটি বন্ধ করায় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে ফাইলা পাগলার মাজারে পরপর দুটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে মাজারের খাদেমসহ আট জন নিহত হন। আহত হন কমপক্ষে ১৫ জন। এ হামলার পর কয়েক বছর মেলায় লোকজন কম হচ্ছিল। ধীরে ধীরে সেই ভয় কেটে যাওয়ার পর থেকে লোকজন মেলায় বেশি আসছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: ফাহমিদা লস্করের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
রবিবার (১২ জানুয়ারি)দুপুরে ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে স্থানীয় এলাকাবাসীর ব্যানারে ঘন্টা ব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম, যুবদল নেতা মাসুদ, মাসুদ রানা, হাবিব হোসেন, ব্যবসায়ী আয়নাল হোসেন, হাবিব হোসেন, নুরজাহান বেগম, সোমা আক্তার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন যাবত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রোগীরা পরিপূর্ণ স্বাস্থ্য সেবা ও ওষুধ পত্র পাচ্ছে না। এ ছাড়া প্যাথোলজি বিভাগ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় রোগীরা এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তারা আরও অভিযোগ করে বলেন,অন্যদিকে টাকার বিনিময়ে আউটসোর্সিং পদে তার ইচ্ছেমত লোক নিয়োগসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিচ্ছেন ডা: ফাহমিদা লস্কর।
একতার কণ্ঠঃ কেন্দ্রীয় গণঅধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক ও উচ্চতর পরিষদের সদস্য শাকিল উজ্জামান বলেছেন, গণঅধিকার পরিষদ স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে রাজপথ থেকে গড়ে উঠা একটি সংগঠন। স্বৈরাচারী হাসিনার রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে গণমানুষের নায্য অধিকার আদায়ে দাবিতে গণঅধিকার পরিষদ রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করে গেছে।
শুক্রবার(১০ জানুয়ারি )বিকেলে শহরের নিরালা মোড় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে টাঙ্গাইল জেলা গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। বর্ধিত সভায় সারা দেশে গণঅধিকার পরিষদের একমাস ব্যাপী সদস্য সংগ্রহের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী টাঙ্গাইল জেলা গণঅধিকার পরিষদের আয়োজনে সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি চলছে। সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচিতে টাঙ্গাইলে মানুষের ভালো সারা পাওয়া যাচ্ছে। মানুষের সারা দেখে বুঝা যাচ্ছে গণঅধিকার পরিষদ আজ গণমানুষের ভালোবাসার সংগঠনে পরিণত হয়েছে। গণঅধিকার পরিষদের প্রতীক ট্রাক মার্কার গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। গণঅধিকার পরিষদ সারাদেশে যে কোন অন্যায় অবিচার শোষণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে সব সময় কাজ করে যাচ্ছে। আগামীতে গণঅধিকার পরিষদ জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিবে। সেই লক্ষ্যে গণঅধিকার পরিষদ কাজ করে যাচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মনিরুজ্জামান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক শামীমুর রহমান সাগর,সহ-সভাপতি রুবেল খান, আনিসুল হক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম তরুণ, টাঙ্গাইল জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি ফাহাদুল ইসলাম ফাহাদ ও সাধারণ সম্পাদক নবাব আলী,সদর উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক তামান্না ইসলাম তরী প্রমুখ।
একতার কণ্ঠঃ সাভারে অ্যাম্বুলেন্সে আগুনে নিহত বাবা-মা ও ছেলেকে গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এর আগে স্থানীয় ভবনদত্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারজনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নিহত অপরজনকে গোপালপুরে দাফন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি )রাত সোয়া ১১টার দিকে ঘাটাইল উপজেলার ভবনদত্ত গ্রামে সামাজিক কবরস্থানে নিহত তিনজনের দাফন সম্পন্ন হয়।
এর আগে অ্যাম্বুলেন্স গাড়িতে আগুনে নিহত চারজনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল থেকে গ্রামের বাড়িতে আনা হয়।
নিহতদের জানাজায় উপস্থিত ছিলেন— ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. শারমিন ইসলাম, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী- পেশার মানুষ।
নিহেতর এক স্বজন হাবিব সিদ্দিকী বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে ঢাকা থেকে চারজনের মরদেহ রাতে ঘাটাইলে আসে। প্রথমে বাবা ও ছেলের জানাজা হয়েছে। এরপর দুইবোনের জানাজা হয়। পরে সামাজিক কবরস্থানে বাবা মা ও ছেলের দাফন করা হয়। আরেকজনের গ্রামের বাড়ি যেহেতু গোপালপুর সেহেতু সেখানে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বুধবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার পুলিশ টাউনের সামনে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অ্যাম্বুলেন্স ও দুইটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন মারা যান। নিহতরা হলেন— ঘাটাইলের ভবনদত্ত গ্রামের ফারুখ হোসেন সিদ্দিকী, তার স্ত্রী মহসিনা সিদ্দিকী, ছেলে ফুয়াদ সিদ্দিকী (১৪) ও মহসিনার বোন সীমা খন্দকার। সীমা খন্দকারের বাড়ি পার্শ্ববর্তী উপজেলা গোপালপুরে বাড়ি।
একতার কণ্ঠঃ সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দায়ের করা মামলায় নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের টাঙ্গাইল জেলা সভাপতি সোহানুর রহমান সোহানসহ ৩ জনকে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম এ আজহারুল ইসলাম আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করে কলাবাগান থানা পুলিশ।
অন্য আসামিরা হলেন- টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী রাসেল কবির (৪০) ও গোপালপুর উপজেলার ছাত্রলীগ কর্মী কবির হোসেন (২১)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কলাবাগান থানার উপ-পরিদর্শক তারেক মোহাম্মদ মাসুম তাদের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাঁদের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ ডিসেম্বর ভোরে রাজধানীর কলাবাগান থানাধীন পান্থপথের আল বারাকা রেস্টুরেন্টের সামনে পাকা রাস্তার ওপর এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতানামা ১০০ থেকে ১৫০ জন আসামি একত্রে সমবেত হয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ব্যানার ব্যবহার করে জনসম্মুখে সরকারের বিরুদ্ধে অপ-প্রচারের উদ্দেশ্যে এবং ছাত্রলীগের কার্যক্রমকে গতিশীল করার জন্য মিছিল বের করে। আসামিরা বিভিন্ন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দেয়। এছাড়া তাদের মিছিল ও স্লোগান ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রচার করতে থাকে। সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার জন্য তারা পরিকল্পনা করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকার পতনে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবির মুখে ‘সন্ত্রাসী’ কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ২৩ অক্টোবর ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
এ ছাড়া টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহানের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় স্কুল ছাত্র মারুফ হত্যা ও সন্ত্রাস দমন আইনে করা দুটি মামলা রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ ‘জুলাই এর প্রেরণা, দিতে হবে ঘোষণা’ স্লোগানে জুলাই ঘোষণাপত্রের গুরুত্বসহ ৭ দফা ঘোষণাপত্রে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে লিফলেট বিতরণ বিতরণ করেছে টাঙ্গাইলের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি।
বৃহস্পতিবার(৯ জানুয়ারি )দুপুরে টাঙ্গাইল পৌর উদ্যোন থেকে লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। পরে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে তারা লিফলেট বিতরণ করেন।
লিফলেটে তারা জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে আহতদের বিনামূল্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে সুচিকিৎসা প্রদানের প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট করাসহ ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন।
লিফলেট বিতরণে টাঙ্গাইল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আল আমিন, সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির সভাপতি রাসেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় তারা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হলেও এখন পর্যন্ত জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেনি। আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে হবে।
একতার কণ্ঠঃ ছোট্ট ফাহিমকে (৯) একা রেখে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন তার বাবা, মা ও বড়ভাই। একই পথের যাত্রী হয়েছেন তার খালাও।
বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি)দুপুরে ফাহিমদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে রাখা চারটি লাশের খাটিয়া। পাশেই সামাজিক কবরস্থানে চলছে কবর খোঁড়ার কাজ।
খবর পেয়ে ছুটে এসেছেন স্বজনরা। এসেছেন এলাকাবাসীসহ শুভাকাঙ্ক্ষীরা। কিছুক্ষণের মধ্যে রবিন মিয়া নামে একজন গোপালপুর থেকে ফাহিমকে বাড়ি নিয়ে আসলেন। উঠোনে চেয়ারে বসতে দেওয়া হল তাকে। ঘিরে ধরলেন স্বজনরা। কেউ একজন পাশে থেকে বাবা-মা আর ভাইয়ের কথা তাকে জিজ্ঞেস করলে জবাবে সে জানায়, ‘মা-বাবা আর ভাই ঢাকা গেছে। লাশ আনতে গেছে মানুষ।’
এতটুকুর বাইরে ফাহিমের মুখ থেকে আর কোনো কথা বের হচ্ছিল না। মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। চাচি শিউলী বেগম বুকে জড়িয়ে ঘরে নিয়ে গেলেন সদ্য এতিম ফাহিমকে।
বুধবার রাতে সাভারে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন তার বাবা ফারুখ হোসেন সিদ্দিকী (৪৭), মা মহসিনা সিদ্দিকী (৩৬), বড়ভাই ফুয়াদ সিদ্দিকী (১৪) ও খালা সীমা খন্দকার (৩৮)। ফারুখ তার পরিবার নিয়ে থাকতেন ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের ভবনদত্ত গ্রামে। আর সীমা খন্দকারের বাড়ি পার্শ্ববর্তী উপজেলা গোপালপুরে।
নিহত ফারুখ হোসেন সিদ্দিকী ছিলেন ভবনদত্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তার ছোটভাই মামুন সিদ্দিকী বলেন, তারা তিন ভাই একবোন। বোন সবার বড়। ইতালি প্রবাসী। বড়ভাই ফারুখ হোসেন সিদ্দিকীর বড় ছেলে ফুয়াদ সিদ্দিকী স্থানীয় ভবনদত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মেধাবী ছাত্র। শ্রেণিতে তার রোল দুই। ছোট ছেলে ফাহিম সিদ্দিকী গোপালপুর উপজেলায় এক মাদ্রাসায় হোস্টেলে থেকে হেফজ পড়ছে। ফুয়াদ হঠাৎ করেই কিছুদিন থেকে অসুস্থ। শরীরে রক্ত কমে যায়। তবে ডাক্তার বলেছেন থ্যালাসেমিয়া নয়।
মামুন আরও জানান বুধবার মায়ের সঙ্গে নানার বাড়ি গোপালপুরে যান ফুয়াদ। ওই রাতে হঠাৎ করে বাথরুমে গিয়ে পড়ে যায় ফুয়াদ। দ্রুত রাত ১১টার দিকে তাকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তার মা মহসিনা সিদ্দিকা ও খালা সীমা খন্দকার। পথে ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠেন ফারুখ সিদ্দিকী। মামুন জানান, রাতে তার কাছে ফোন করে সবাইকে দোয়া করতে বলেন। এরপর আর কোনো কথা হয়নি।
নিহত ফারুখ সিদ্দিকীর আরেক সহকর্মী তার চাচাতো বোন সোমা সিদ্দিকা বলেন, ভাইয়ের সঙ্গে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফোনে কথা হয়। এরপর রাতে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের ব্যবহৃত ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সকালে দুর্ঘটনার বিষয়টি জানান ঢাকায় পুলিশে কর্মরত নিহত সীমা খন্দকারের স্বামী।
নিহত ফারুক হোসেন সিদ্দিকীর আরেক সহকর্মী মো. রুবেল মিঞা বলেন, প্রধান শিক্ষক খুব নীতিবান ছিলেন। একজন নীতিবান মানুষের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এমন শিক্ষক আর হবে না। আমাদের সবসময় আগলে রাখতেন।
স্থানীয় দেওপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন জানান, রাতে তিনি ফারুক সিদ্দিকীকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিয়ে বাড়ি আসেন। এক সঙ্গে চা পান করেছেন। তার ভাষ্য এলাকায় ফারুক সিদ্দিকীর মতো ভালো মানুষ আর হবে না। তার মৃত্যুতে কাঁদছে পুরো গ্রামের মানুষ।
প্রসঙ্গত, বুধবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সাভারের ফুলবাড়িয়া পুলিশ টাউনের সামনে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অ্যাম্বুলেন্স ও দুইটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন মারা যান।