একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রেল লাইনের পাশ থেকে দুই পায়ে লোহার কয়ড়া পড়া অবস্থায় অজ্ঞাত (৩০) এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কালিহাতী থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কালিহাতী উপজেলার চরভাবলা এলাকায় রেল লাইনের পাশ থেকে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, বুধবার দুপুরে ঢাকা বঙ্গবন্ধু সেতু রেল লাইনের কালিহাতী উপজেলার চর ভাবলা এলাকায় রেল লাইনের পাশে এক অজ্ঞাত যুবকের লাশ পড়েছিল। তার হাত মুখে ছেলা জখম রয়েছে। নিহতের দুই পায়ে লোহার কয়ড়া পড়া ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
কালিহাতী থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে ওই যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে। মৃত অজ্ঞাত যুবকের পরিচয় না পাওয়া গেলে ময়নাতদন্তের পর লাশ দাফনের জন্য আঞ্জুমান-ই-মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার নথখোলায় ঝিনাই নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের নতুন করে ড্রেজার মেশিন বসানোর পাঁয়তারা বন্ধ এবং নদী পাড়ের নিরীহ মানুষের ঘর-বাড়ি,ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসুচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার টাঙ্গাইল-বাসাইল সড়কের নথখোলা সেতুর উপরে দাপনাজোর, নথখোলা ও কাশিল গ্রামের পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ এ মানববন্ধনে অংশ নেয়।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, বাসাইল উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম, কাশিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রমজান আলী সহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাসাইল উপজেলার দাপনাজোর,নথখোলা ও কাশিল গ্রামের প্রায় ৮০ভাগ মানুষ কৃষিনির্ভর। ঝিনাই নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিদ্যালয়,মসজিদ-মাদ্রাসা, হাট-বাজার ও ৭১’র মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ। কিন্তু বর্তমানে প্রভাবশালী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে প্রভাবশালী বালুখেকোরা অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করায় দাপনাজোর সেতু,কাশিল সেতুসহ নদী পাড়ের অসংখ্য বাড়ি-ঘর,ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
বক্তারা আরও বলেন, এছাড়াও অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নথখোলা সেতু এবং সেতু সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়,শহীদ মিনার, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে।
তাই এই তিনটি গ্রামের বসত-ভিটা, জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার দাবিতে এই মানববন্ধন। ভবিষ্যতে যেন এ নদী থেকে অবৈধ ভাবে কেউ যেন বালু উত্তোলন করতে না পারে। সেজন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন বক্তারা।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ময়মনসিংহ রোডে অবস্থিত গ্রীণ বাংলা ট্রেনিং সেণ্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নারী গ্রাহকদের ৫০ লক্ষ টাকা নিয়ে লাপাত্তা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, টাঙ্গাইল পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করে জনৈক রাসেল মিয়া নামে এক ব্যক্তি একক মালিকানাধীন গ্রীণ বাংলা ট্রেনিং সেণ্টারটি চলতি বছরের ২৩ আগস্ট ময়মনসিংহ রোডের সরকার হসপিটাল বিল্ডিং এর চতুর্থ তলায় অফিস ভাড়া নেয়।
তারা কর্মী নিয়োগ ও নানা প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় প্রায় দেড়শ’ নারীকে প্রশিক্ষণের নামে প্রথমে ৭০০ ও পরে ২৫০ টাকা হারে টাকা নেয়। সনদপত্র এবং সেলাই মেশিন দেওয়া সহ নানা প্রতিশ্রুতি এবং শর্ত দিয়ে নারীদের প্রশিক্ষণের জন্য ভর্তি করা হয়। জামানত ছাড়া ঋণ দেওয়ার কথা বলেও তারা জনপ্রতি ৪-৫ হাজার টাকা নেয়।
মঙ্গলবার ( ৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে প্রশিক্ষণের জন্য ভর্তি হওয়া বিভিন্ন এলাকার ভুক্তভোগী নারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গ্রীণ বাংলা ট্রেনিং সেণ্টার নামে একটি সংস্থা দর্জি, ব্লক, বুটিক ও মাশরুম চাষে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা ছিল। তিন মাসের প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তির আবেদন ফরম বাবদ প্রথমে তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৭০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। পরে তারা ভর্তি ফি বাবদ আরও ২৫০ টাকা হারে তাদের কাছ থেকে নিয়েছে। তারা প্রায় স্থানীয় দেড়শ’ নারীকে উক্ত প্রশিক্ষণের জন্য ভর্তি করেন। এছাড়া জামানত ছাড়া ঋণ দেওয়ার কথা বলে জনপ্রতি ৪-৫ হাজার করে টাকা নিয়েছেন। সপ্তাহে শুক্র ও রোববার দু’দিন প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা ছিল।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, ১ সেপ্টেম্বর থেকে সংস্থাটির কর্মকর্তারা দু’দিন প্রদশর্নীমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়ান। ওই দুইদিন প্রশিক্ষণের পর থেকে তাদের আর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। এমনকি তাদের একাধিক মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তারা কল রিসিভ করেননি।
মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে নারীরা দলবেঁধে ওই অফিসে ভিড় করেন।এসময় তাদের সাথে প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
পরে খবর পেয়ে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ ওই অফিসের ৪-৫ কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পৌর মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর জানান, নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করায় ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। নাম-ঠিকানা ও কাজের ধরণ যাচাই-বাছাই না করে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, যদি প্রতারণার কোন অভিযোগ থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম জানান, গ্রীণ বাংলা ট্রেনিং সেণ্টারের মালিক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। সংস্থাটির কয়েকজন কর্মচারীকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের বাজিতপুর থেকে সোমবার(৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে সাত জন অপহরণকারীকে আটক ও অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে র্যাব। র্যাব-১২ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আটককৃতরা হচ্ছেন- টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের রতনগঞ্জ গ্রামের আ. মান্নানের ছেলে জামিল হোসেন সাগর(২৪)(তিনি শহরের থানাপাড়ার জনৈক শাজাহানের বাসার ভাড়াটিয়া), টাঙ্গাইল শহরের আদি টাঙ্গাইলের হাবিবুর রহমানের ছেলে শাকিল আহাম্মেদ হৃদয়(২৭), আলমগীর হোসেনের ছেলে মো. লাবিব খান(১৮), ফজলুল হকের ছেলে রাকিবুল ইসলাম(২২), টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গড়াইল গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে হৃদয় আহাম্মেদ(২২), টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌরসভার এবাদত হোসেনের ছেলে বাধন(১৯) এবং একই এলাকার মোস্তফা কামালের ছেলে রাব্বি খান(১৮)।
র্যাব-১২ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ আনিসুজ্জামানের নেতৃত্বে র্যাবের একটি দল টাঙ্গাইল শহরের বাজিতপুর হাটখোলার বিকাশের দোকানের পাশে অভিযান চালায়। অভিযানে অপহরণকারী চক্রের তির সদস্যকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকার সাহাপাড়ায় একটি অটোরাইস মিলের বাউন্ডারীর ভেতর থেকে আরও চার অপহরণকারীকে আটক করে র্যাব ।
এ সময় একটি গামছা দিয়ে চোখ ও রশি দিয়ে হাত বাঁধা অবস্থায় থাকা অপহৃত রাজমিস্ত্রি শ্রমিক মো. আব্দুর রহিমকে(৪০) উদ্ধার করেন।
র্যাব আপহরণকারীদের কাছ থেকে ধারালো ছুরি, রশি, গামছা ও নগদ ১১ হাজার ৩০ টাকা জব্দ করে।
র্যাব-১২ আরও জানায়, মো. আব্দুর রহিম পেশায় রাজমিস্ত্রি। তিনি কাজের সন্ধানে টাঙ্গাইল শহরের বাসটার্মিনালে এলে তাকে অপহরণ করা হয়। পরে তার বাড়ি থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে এনে দেওয়ার জন্য অপহরণকারীরা তাকে মারপিট করে। বিকাশে টাকা আনার বিষয়টি আব্দুর রহিম তার ছোট ভাই আব্দুর রাজ্জাককে মোবাইল ফোনে জানায়। আব্দুর রাজ্জাক তার ভাইয়ের অপহরণের বিষয়টি র্যাবের টাঙ্গাইল কার্যালয়ে জানায়।
র্যাবের দলটি অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারী ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে। এদিকে অপহরণকারীরা বার বার স্থান পরিবর্তন করায় র্যাব তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে পারছিলনা। এক পর্যায়ে টাঙ্গাইল শহরের বাজিতপুর হাটখোলায় একটি বিকাশের দোকানে র্যাব সদস্যরা অবস্থান নেয় এবং অপহরণকারীদের আটক ও অপহৃতকে উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে অপহৃত আব্দুর রহিমের ভাই আব্দুর রাজ্জাক বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বলেও র্যাব-১২ জানায়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুরে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় হাসনা বেগম (৮৫) নামে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের এক পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
তিনি ওই গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমানের স্ত্রী।
জানা যায়, স্বামী মারা যাওয়ার পর বয়সের ভারে ন্যুজ হাসনা বেগমের ঠাঁই হয় ছেলের রান্না ঘরে। তিনি একা চলতে পারতেন না। তারপরেও রান্নাঘরে একাই রাত্রিযাপন করতেন। মাঝে মাঝে মেয়ের জামাই বাড়ী গিয়েও থাকতেন তিনি।
নিহতের মেয়ে শামছুন্নাহার জানান, বৃদ্ধ মায়ের কষ্টের কথা ভেবে ভাইয়ের বাড়ী থেকে মাকে নিয়ে তার স্বামীর বাড়ী রেখেছিলেন। কিছুদিন আগে ভাই জোর করে মাকে নিজের বাড়ি নিয়ে যায়। রবিবার ছেলের বাড়ির পাশের পুকুরে লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়।
গোপালপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওই বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরো জানান,তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উচ্চ রক্তচাপ জনিত কারণে তিনি পুকুরে পড়ে ডুবে মারা যেতে পারেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে অটো রিকশা চোর সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত ভোর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে কালিহাতী পৌরসভার সালেংকা পূর্ব পাড়া গ্রামের সপ্না বেগমের বাড়িতে।
আটককৃত ওই ব্যক্তি মির্জাপুর উপজেলার মৃত জয়নালের ছেলে শাকিল (২৫)।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত প্রায় ৩ টা ৩০ মিনিটের দিকে সালেংকা পূর্ব পাড়া গ্রামের টিপু নামের এক ব্যক্তি ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাস্তায় বের হলে পাশের সপ্না বেগমের বাড়ির গেইট খোলা দেখে এবং বাড়ির ভিতরে বড় শব্দ শুনতে পান। পরে এগিয়ে গিয়ে দেখে একজন ওই বাড়িতে থাকা একটি অটোরিকশার তালা ভাঙার চেষ্টা করছে, অপরজন রাস্তায় দাঁড়িয়ে এদিক সেদিক উঁকি দিচ্ছেন। পরে দুইজনের মধ্য থেকে উঁকি দেওয়া শাকিল নামের একজনকে ধরে আশেপাশের লোকজন ডাকাডাকি করলে ভিতরে থাকা অপরজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন এসে তাকে আটক করে গাছের সাথে বেঁধে রেখে সকালে স্থানীয় কাউন্সিলর সোহেল রানাকে খবর দেয়। পরে কাউন্সিলর এসে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে আটককৃত ওই ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যায়।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান জানান, অটো চোর সন্দেহে স্থানীয়রা একজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে আসে। যাচাই বাছাই সাপেক্ষে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৩ আগস্ট একই বাড়ি থেকে একই গ্রামের জহের আলীর ছেলে সাইফুলের অটো চুরি হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তুচ্ছ ঘটনায় হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করায় ডিএম সালমান (১৬) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে
নিহত সালমান উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের কুড়াতলী গ্রামের শামসুল দেওয়ানের ছেলে। সে গল্লী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
স্বজনরা জানান, সালমানের বন্ধু চুকুরিয়া গ্রামের আলামীন একই এলাকার শফিকের দোকানে তাকে সঙ্গে নিয়ে বিকাশের মাধ্যমে কিছু টাকা লেনদেন করে। আলামীন পরে টাকা দেয়ার কথা থাকলেও সে টাকা না দিয়ে গা ঢাকা দেয়। বুধবার (৩১ আগস্ট) সকালে শফিক সালমানের কাছে টাকা দাবি করে। এতে সালমান টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ওইদিন বিকেলে শফিক সালমানকে ডেকে এলাকার মাতব্বর সেকেন্দার সিকদারের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে সেকেন্দার, সাইফুল, লতিফ, শফিক সালমানকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। রাতের কোনো একসময় সালমান ওই এলাকার মামুন তালুকদার নামে এক ব্যক্তিকে মোবাইল ফোনে কল করে তাকে উদ্ধার করতে বলে। মামুন রাতেই তাকে উদ্ধার করে তার কাছে রাখে।’
বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টার দিকে সালমান বাড়ি ফিরে ইঁদুরের বিষ পান করে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে আবার মামুনের সঙ্গে দেখা হলে সে বিষ পান করেছে বলে জানায়। পরে তাকে প্রথমে উপজেলার জামুর্কী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে সালমানের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।
সালমানের মামাতো ভাই জামুর্কী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জ্বল হোসেন খান বলেন, ‘সদা হাস্যোজ্জ্বল ও বিনয়ী সালমানকে যারা মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে, তাদের উপযুক্ত বিচারের মাধ্যমে শাস্তি দাবি করছি।’
মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাইদ বলেন, কুমুদিনী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খবর পেয়ে সালমানের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরিবার অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসের ধাক্কায় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার স্ত্রীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের সদর উপজেলার রাবনা বাইপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন- ঘাটাইল উপজেলার হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা ও কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী নুসরাত জাহান হিমু (৩০) ও গোপালপুর উপজেলার চরচতিলা মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও উত্তর বিলডোবা গ্রামের মৃত নঈম আলী মন্ডলের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৫৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হিমু তার শাশুড়ি ফরিদা বেগমকে চিকিৎসক দেখানোর জন্য ঘাটাইল থেকে অটোরিকশাযোগে টাঙ্গাইল যাচ্ছিলেন। অপরদিকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সাইফুল ইসলামও চিকিৎসক দেখাতে যাচ্ছিলেন। তাদের অটোরিকশাটি ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহসড়কের রাবনা বাইপাস এলাকায় পৌঁছালে উত্তরবঙ্গগামী একটি যাত্রীবাহী বাস সেটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাইফুলের মৃত্যু হয়।
এ সময় গুরুতর আহত হন হিমু ও তার শাশুড়ি ফরিদাসহ তিনজন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। হিমুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে ঢাকার নেওয়ার পথে হিমুর মৃত্যু হয়।
নিহত হিমুর চাচা আলতাব হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার(১ সেপ্টেম্বর) হিমু পাকুন্দিয়া থেকে তার শ্বশুর বাড়িতে এসেছে। শুক্রবার শাশুড়িকে চিকিৎসক দেখাতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলো।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. নবীন জানান, ঘাটাইল থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা যাত্রী নিয়ে টাঙ্গাইল যাচ্ছিল। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা গাইবান্ধাগামী বাসের সঙ্গে অটোরিকশাটির ধাক্কা লাগে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তির জামিন বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি সহিদুল করিম ও বিচারপতি ফাতেমা নজীবের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে জামিনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ।
পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ জানান, আসামি সহিদুর ছয় বছর পলাতক ছিলেন। আর বিচারিক আদালতে মামলাটির বিচারকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তাই এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত তার জামিন প্রশ্নে জারি করা রুলটি খারিজ করে দিয়েছেন।
এর আগে ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়ার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশ আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামের দুই জনকে গ্রেফতার করে। আদালতে এ দুজনের দেওয়া স্বীকারোক্তিতে হত্যার সঙ্গে তৎকালীন সাংসদ আমানুর রহমান খান রানা, তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। এরপর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গোয়েন্দা পুলিশ আদালতে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান ও তার অপর তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। আমানুর রহমান খান রানা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মসমর্পণ করেন। প্রায় তিন বছর হাজতবাসের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।
এদিকে দীর্ঘ ছয় বছর পলাতক থাকার পর ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর সহিদুর রহমান খান মুক্তি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ মাসুদ পারভেজ গত ১০ ফেব্রুয়ারি মুক্তিকে জামিন দেন। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি তার অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বাতিল করা হয়। এরপর মুক্তি হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন।
পরে ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল ওই মামলায় মুক্তিকে জামিন দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। পরে আপিল বিভাগ রুলটি নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টকে সময় বেধে দেন। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি শেষে রুলটি খারিজ করলেন হাইকোর্ট।
প্রসঙ্গত, আসামি রানা ও মুক্তির বাবা আতাউর রহমান খান টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) বর্তমান আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গ্রাম্য সালিশের জেরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী শিফাতকে(১৩) হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে মির্জাপুর থানা পুলিশ।
বুধবার(৩১ আগস্ট) দুপুরে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
এ বিষয়ে মাসুদ করিম আরো জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত দুজন ছাড়াও আরও কয়েকজন অংশ নিয়েছিল বলে জানা গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তিনি জানান, নিহত শিফাতের বাবা ওই রাতেই পূর্ব শত্রুতার বিষয়টি উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রতিবেশী তালেবকে আটক করে পুলিশ।
পরে তার দেওয়া তথ্য অনুসারে একই উপজেলার কাটরা গ্রামের মেহতাবকে (১৮) আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মেহতাব ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছেন। অপরদিকে তালেব সিদ্দিকীকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হচ্ছে।
প্রকাশ, কয়েক সপ্তাহ আগে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে মির্জাপুরের ভাদগ্রাম ইউনিয়নের গোরাইল গ্রামের শহিদ মিয়ার ছেলে সিফাতকে মারধর করে হাত ভেঙে দেয় একই গ্রামের তালেব সিদ্দিকী (৬৫) ও তার নাতি হিরণ (২৫)। এ ঘটনায় গ্রাম্য সালিশে তালেব সিদ্দিকীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও তার নাতি হিরণকে ১০টি জুতার বাড়ি মারা হয়।
এরপর গত সোমবার (২৯ আগস্ট)দিনগত রাতে ত্রিমোহিনী মাঝিপাড়া এলাকার একটি ক্ষেতে সিফাতের মরদেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
নিহত শিফাতের বাবা ওই রাতেই পূর্ব শত্রুতার বিষয়টি উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
নিহত সিফাত উপজেলার ভাদগ্রাম ইউনিয়নের গোড়াইল দক্ষিনপাড়ার শহিদ মিয়ার ছেলে ও মির্জাপুর সদরের আফাজ উদ্দিন দারুল উলুম দাখিল মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইালের নাগরপুরে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে জুলহাস মিয়া (৩৮) নামের এক গরু ব্যবসায়ীকে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা।অজ্ঞাত দূর্বৃত্তরা হত্যার পর তার মরদেহ বাড়ীর ডোবায় ফেলে রেখে যায়।
নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন ঘটনার সত্যাতা স্বীকার করেন।
সোমবার(২৯ আগস্ট) রাতে উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের সারাংপুর উত্তর পাড়া গ্রামে নৃশংস এ হত্যাকান্ডটি ঘটে। নিহত জুলহাস ওই গ্রামের মৃত বারেক মিয়ার ছেলে ।
মঙ্গলবার(৩০ আগস্ট) সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলের ডোবা থেকে জুলহাসের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে।
জুলহাসের স্ত্রী মারুফা বেগম জানান, সোমবার রাত ১১টার দিকে রাতের খাবার খেয়ে জুলহাস ঘুমের প্রস্ততি নেয়। এ সময় মোবাইল ফোন পেয়ে বাড়ী থেকে বের হয়ে যায় সে। তারপর আর রাতে বাড়ী ফেরেনি। পরদিন সকালে মৃতের স্বজরা তার লাশ বাড়ীর পাশের ডোবায় পরে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, নিহতের লাশের প্রাথমিক সুরতহাল রিপোট শেষ করে লাশ উদ্বার করে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
তিনি আরো জানান,সঠিক তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সিফাত মিয়া (১৩) নামে এক মাদরাসা ছাত্রকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার (২৯ আগস্ট) দিনগত রাত ১২টার দিকে মির্জাপুর পৌর এলাকার ত্রিমোহন মাঝিপাড়া এলাকার একটি ধনচা খেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের এক প্রতিবেশীকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত সিফাত উপজেলার ভাদগ্রাম ইউনিয়নের গোড়াইল দক্ষিনপাড়ার শহিদ মিয়ার ছেলে ও মির্জাপুর সদরের আফাজ উদ্দিন দারুল উলুম দাখিল মাদরাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।
মঙ্গলবার(৩০ আগস্ট)সকালে পুলিশ লাশটি ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানান, সোমবার(২৯ আগস্ট) বিকেলে সিফাত একই গ্রামের বাসিন্দা তার বন্ধু নুরুল আমিনকে নিয়ে মির্জাপুর রেলক্রসিং এলাকায় চটপটি খাচ্ছিলো।
এ সময় দুটি ছেলে এসে কানে কানে সিফাতকে কিছু বলে ডেকে নিয়ে যায়।
এদিকে সন্ধা হলেও সিফাত বাড়ি না ফেরায় তার বাবা মুঠোফোনে বার বার ফোন দেন। কিন্তু রিসিভ না করায় তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েন। পরে সিফাতের বন্ধু নুরুল আমিনকে ফোন দিলে সে জানায়, সন্ধ্যায় রেলক্রসিং এলাকা থেকে সিফাতের দুই বন্ধু তাকে ডেকে নিয়ে গেছে। গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় অনেক খোঁজাখুজির পর রাত বারোটার দিকে ত্রিমোহন মাঝিপাড়ার একটি ধনচা খেতে তার মরদেহ পরে থাকতে দেখেন। পরে থানা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
সিফাতকে তার পরনের বেল্ট খুলে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া তার মুখে আঘাতের চিহ্ন ও পায়ূপথে একটি ধনচা ঢুকানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে সোমবার রাতেই সিফাতের বাবা শহিদ মিয়া মির্জাপুর থানা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শহিদ মিয়া জানান, গত এক মাস আগে তুচ্ছ ঘটনায় পাশের বাড়ির তালে সিদ্দিকী ও তার নাতি হিরন (২৭) মিলে সিফাতকে বেধরক মারপিট করে তার হাত ভেঙে দেয়। এ ঘটনায় গ্রাম্য শালিসে তালে সিদ্দিকী ও তার নাতিকে দশ হাজার টাকা জরিমানা ও দশটি জুতার বাড়ি মারা হয়। সেই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। রাতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ সিফাতের প্রতিবেশী তালে সিদ্দিকীকে আটক করেছে।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে। সিফাত হত্যাকরীদের গ্রেপ্তারে জোর চেষ্টা চলছে।