একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে গৌরাঙ্গ সরকার (৫২) নামের এক প্রধান শিক্ষককে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে হাতীবান্ধা মহিষডাঙ্গা নিজ এলাকা থেকে আটক করেছে সখীপুর থানা পুলিশ।
তিনি উপজেলার হাতীবান্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
বিদ্যালয়ের সভাপতি জোসনা সরকার বুধবার (২ নভেম্বর)ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌরাঙ্গের বিচার ও বদলি চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিযোগ করেন।
এলাকাবাসী ও মেয়েটির পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার( ২৭ অক্টোবর)স্কুল ছুটির পর একটি কক্ষে ওই শিক্ষক পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীকে (১১) কৌশলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। ওই শিক্ষার্থী উচ্চস্বরে চিৎকার করলে তাকে ছেড়ে দেয় প্রধান শিক্ষক। পরে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য এ সময় ওই শিক্ষার্থীকে হুমকি দেয়। শিক্ষার্থী ভয়ে দুইদিন কিছু না বললেও পরবর্তীতে গত রবিবার(৩১ অক্টোবর) তার পরিবারের কাছে সবকিছু প্রকাশ করে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্য নিপেন মজুমদার জানান, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি প্রমাণ রয়েছে। লজ্জায় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা গোপন রেখেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার সরকার জানান, ঘটনাটি খুবই ন্যাক্কারজনক। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জোসনা সরকার জানান, ওই শিক্ষকের অসভ্যতার কারণে দিনদিন শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের মান ক্ষুন্ন হচ্ছে। তিনি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার রাফিউল ইসলাম লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পর শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওই শিক্ষার্থীর চাচা বলাই বাদ্যকরের অভিযোগ পেয়ে ওই শিক্ষককে আটক করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে আমির হামজা (২৫) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার(১ নভেম্বর) সকালে উপজেলার কালিয়া পশ্চিম ঘোনারচালা এলাকায় নিজ ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
তিনি ওই এলাকার আবদুস সাত্তারের ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হামজা মাদকসেবী ছিলেন। তিনি মাদকের জন্য নিয়মিত তাঁর মায়ের কাছে টাকা দাবি করত। মঙ্গলবার সকালেও টাকা চাইলে মা তাঁকে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
পরে হামজা অভিমান করে ঘরের দরজা বন্ধ করে শুয়ে পড়েন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁকে ডাকলে সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকেন পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তাঁকে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়।
এ বিষয়ে সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মজিবুর রহমান জানান, পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠিয়েছে। জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে ছেলেটি মাদকসেবী ছিল।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে গভীর রাতে ফিল্মি কায়দায় বিদ্যালয়ে ঢুকে প্রশ্ন চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে দশম শ্রেণির এক ছাত্রী। শনিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে ভূঞাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
পরে ভূঞাপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহীম, শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন, মহিউদ্দিন ওরফে মনির এবং ওই ছাত্রীর মা বিদ্যালয়ে গিয়ে তাকে নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূঞাপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ওই ছাত্রী তার বান্ধবী ভূঞাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীসহ আরও দুই ছেলে বন্ধুর সহায়তায় এসএসসির টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র চুরি করার জন্য শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ভূঞাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। সে আগে থেকে বানানো তালার চাবি দিয়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করে একেক করে কয়েকটি আলমারির তালা ভাঙতে থাকে। এ সময় পাশের রুমে থাকা নাইটগার্ড ফজলু তালা ভাঙার শব্দ শুনে ভেতরে গিয়ে ওই ছাত্রীর হাতে ছুরি দেখতে পান। এ সময় ওই ছাত্রী নাইটগার্ডকে ফাঁসানোর ভয় দেখায়। একপর্যায়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাসে নাইটগার্ড বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাল মাহমুদের বাসায় নিয়ে যান। পরে সেখানে মেয়েটি ঘটনার বিস্তারিত বলে। পরে মানবিক বিবেচনায় রাতেই প্রধান শিক্ষক ওই ছাত্রীর মা ও ভূঞাপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনকে বিষয়টি জানালে তারা বিদ্যালয়ে এসে মেয়েটিকে নিয়ে যান।
ভূঞাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লাল মাহমুদ জানান, প্রশ্নপত্র চুরি করে বিক্রির জন্য ছেলেদের পোশাক পড়ে গভীর রাতে বিদ্যালয়ের দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে ওই ছাত্রী। তবে পূর্বেই ফিল্মি স্টাইলে বিদ্যালয়ের তালা-চাবির ছবি তুলে তালা খোলার জন্য আলাদা চাবি বানিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে সে। পরে কক্ষের ভেতরে কয়েকটি আলমারির তালা নষ্ট করে। পরে নাইটগার্ড শব্দ পেয়ে ভেতরে গিয়ে তাকে ছুরিসহ হাতেনাতে আটক করে। সে আমাদের জানিয়েছে এসএসসির টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্ন চুরি করে বন্ধুদের কাছে বিক্রি করবে। পরে মানবিক কারণে তাকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও তার মাকে জানানো হলে তারা বিদ্যালয়ের এসে মেয়েকে নিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, এই কাজে জড়িত থাকার দায়ে আমাদের বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে বিদ্যালয় থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ভূঞাপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহীউদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে প্রশ্ন চুরির ঘটনা জানি না। জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভূঞাপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মোছা. ইশরাত জাহান বলেন, ঘটনাটি জেনেছি। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্ত এক আসামীকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবি (দক্ষিণ)। রবিবার (৩০ অক্টোবর) টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলি ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত শহিদুল ইসলাম টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলি ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামের বিদেশী মোল্লার ছেলে।
জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবি (দক্ষিন)ওসি হেলাল উদ্দিন জানান , টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা শাখা কর্তৃক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে টাঙ্গাইল সদর থানাধীন আলোকদিয়া এলাকা হতে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্ত ওয়ারেন্ট ভুক্ত জিআর মূলে ১ জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরো জানান,গ্রেফতারকৃত আসামীকে বিচারর্থে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়কে টাঙ্গাইল শহরের রাবনা বাইপাসে শনিবার(২৯ অক্টোবর) রাতে অভিযান চালিয়ে ১১৯ বোতল ফেনসিডিল সহ দুই কিশোরকে আটক করেছে র্যাব।
রবিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে র্যাব-১২ এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আটককৃত কিশোরদ্বয় হচ্ছেন- ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর থানার মারাধার গ্রামের এজাবুল ইসলামের ছেলে মো. বায়োজিদ(১৬) ও একই এলাকার মৃত শাহিন ইসলামের ছেলে মো. সবুজ ইসলাম(১৪)।
তারা ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আসলামপাড়া এলাকায় ভাড়া থাকতেন।
র্যাব-১২ জানায়, গোপনে খবর পেয়ে সিপিসি-৩ টাঙ্গাইলের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার সিনিয়র এএসপি মো. এরশাদুর রহমানের নেতৃত্বে একদল র্যাব সদস্য শনিবার রাতে টাঙ্গাইল শহরের রাবনা বাইপাসে একটি সিএনজি পাম্পের পাশে অভিযান চালায়।
অভিযানে ১১৯ বোতল বিক্রি নিষিদ্ধ ভারতীয় ফেনসিডিল সহ উল্লেখিত কিশোরদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুইটি মোবাইলও জব্দ করা হয়।
র্যাব-১২ আরও জানায়, আটককৃত কিশোরদের নামে টাঙ্গাইল সদর থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে নেশা করতে বাধা দেওয়ায় সুলতান হোসেন স্বপন(৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে মাদকাসক্তরা। এ ঘটনায় আজমির হোসেন(২৫) নামে আরও এক জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার(২৯ অক্টোবর) দিনগত রাতে নাগরপুরের গয়হাটা ইউনিয়নের ঘুনি সিংজোড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুলতান হোসেন স্বপন নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে।
পুলিশ জানায়, স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় যুবক রানা, আলি, সোলাইমান ও আনোয়ারসহ কয়েক যুবক মিলে গাজা সেবন করছিল। বিষয়টি স্বপন তাদের আভিভাবকদের জানায়। এক পর্যায়ে স্বপন সিংজোড়া বাজারের বাসু মিয়ার চায়ের দোকানে গেলে মাদকাসক্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে।
এসময় ওই দোকানে থাকা আজমির বাধা দিলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে মাদকাসক্তরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাদের দুজনকে উদ্ধার করে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক স্বপনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত আজমিরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সাজ্জাদ হোসেন জানান, হত্যার ঘটনায় সুলতান হোসেন স্বপনের আত্মীয়রা মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটে পরাজিত হয়ে বিতরণকৃত টাকা ফেরত চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার ঘটনায় জেলায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নিয়ে ভোট না দেওয়ায় জেলা পরিষদ নির্বাচনে হেরে যান বাসাইল উপজেলার সদস্য প্রার্থী রফিকুল ইসলাম। তবে ভোট সংগ্রহ করতে ভোটারদের টাকা বিতরণের ঘটনা জানেনা জেলা নির্বাচন অফিস। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার পর তারা বিষয়টি জেনেছেন।
টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচ কামরুল হাসান জানান, নির্বাচনের দুইদিন পরে একজন পরাজিত প্রার্থী টাকা ফেরত চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, বিষয়টি আমরা নির্বাচন কমিশনকে অবগত করি। রবিবার (২৩ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশন ঘটনাটি তদন্তের জন্য জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলেছেন। বর্তমানে বাসাইল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করছেন।
এ দিকে রফিকুল ইসলাম পরাজিত হয়ে ফেসবুকে লিখেছিলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচন (বাসাইল) সদস্য-১১। আমরা চারজন প্রার্থী ছিলাম। ভোটার দিল ৯৪ জন। দিন শেষে জানা গেল, প্রত্যেক প্রার্থী ৫০ থেকে ৬০ জন ভোটারকে টাকা দিয়েছে।
তার মধ্যে আমাকে ৬০ জন ভোটার কথা দিলেও এর মধ্যে কম বেশি ৫৫ জন ভোটার আমার কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করলো।
ভোট দিল মাত্র ৭ জনে। এই হলো ভোটারদের আসল চরিত্র। পৃথিবীর সব কিছুই একবার দেখলে চেনা যায়, শুরু মানুষ বাদে। আমাকে যারা ভোট দেননি মনে হয় আপনাদের নামের তালিকা হওয়ার আগে আমার টাকা ফেরত দেওয়া উচিত।
আপনারা না জনপ্রতিনিধি? ভোট আপনি যাকে খুশি তাকে দেন, এটা আপনাদের অধিকার, তাই বলে টাকা নিবেন চার জনের কাছ থেকে ভোট দিবেন একজনকে। এটা কেমন চরিত্র আপনাদের? আপনাদের কাছ থেকে আপনার এলাকার জনগণ কি সেবা পেতে পারে।
আল্লাহ তুমি আমাদের সবাইকে হেদায়েত দান করো “মানুষ হওয়ার তৌফিক দান করো”। তার এই স্ট্যাটাস মহুর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়।
যারা টাকা নিয়েছিলন সেই ভোটাররা তাদের নাম প্রকাশ না করার জন্য তাকে অনুরোধ করতে থাকেন। প্রায় বেশির ভাগ ভোটার তাদের গ্রহণহণকৃত টাকা ফেরত দিয়েছে বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম উপজেলার ফুলকি ইউপির ৮জন, হাবলা ইউপির ৫, পৌরসভার ৫, সদর ইউপির ১১, কাউলজানী ইউপির ৯, কাঞ্চনপুর ইউপির ৫ ও কাশিল ইউপির ৭ জনের প্রত্যেকজনকে ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে সর্বমোট ১০ লাখ টাকা বিতরণ করেছিলেন।
এ বিষয়ে পরাজিত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জানান, ভোটাররাই একা দেখা করার কথা বলে বিভিন্ন পরিমাণের টাকা দাবি করে আসছিলেন। তাই নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার লোভে পরে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণ করেছিলাম।
তিনি আরো জানান, ভোটে হেরে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে খুব ঝামেলার মধ্যে রয়েছি। ঘটনা জানতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সোমবার (২৪ অক্টোবর) তার অফিসে ডেকেছিলেন। যা সত্য আমি তাই বলে দিয়েছি।
এ বিষয়ে বাসাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম জানান, নির্বাচন কমিশন অন্ধ। কারণ তাদের কিছুই করার ক্ষমতা নেই।
তিনি আরো জানান, জেলা পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য একজন প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্য সভা সমাবেশ করেছেন। অভিযোগ দেওয়া হলেও নির্বাচন অফিস কোন ব্যবস্থা নেয়নি। নির্বাচনে টাকার ছড়াছড়ি বহু পুরনো ব্যাপার। সে হয়ত আবেগের বশে স্ট্যাটাস দিয়েছে।
বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মতিউর রহমান গাউস জানান, রফিকুল ইসলাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাকে বহিস্কার করা হয়েছে। সে এখন দলের কেউ না।
এ ব্যাপারে বাসাইল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মনি শংকর রায় জানান, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এ বিষয়টি তদন্ত করার জন্য আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, ভোটারদের সাথে কথা বলেছি। পরাজিত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম কেউ ডেকেছি। তদন্ত শেষের দিকে। বুধবার (২৬ অক্টোবর) তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে পৌঁছে দিবো।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি জানান, যে কোন নির্বাচনে অবৈধভাবে টাকার ছড়াছড়ি হলে নির্বাচনী আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে। ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি ভোট সংগ্রহ করতে গিয়ে এক প্রার্থী ভোটারদের টাকা দিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, ফলাফল ঘোষণার দুই দিন পর বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। তবে নির্বাচন নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলেনি বা কেউ কোন অভিযাগও করেনি। নির্বাচন কমিশন বিষয়টি জানতে পেরে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য একটি চিঠি দিয়েছেন। যেহেতু ঘটনাটি বাসাইল উপজেলার। তাই বাসাইল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলেই নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে আলী আজম (৪০) নামের এক পল্লী চিকিৎসক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার ( ২৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার লাঙ্গুলিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে । সে লাঙ্গুলিয়া গ্রামের আবুল বেপারীর ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই পল্লী চিকিৎসক আলী আজম বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিওতে ঋণগ্রস্ত ছিলেন। লোনের কিস্তি নিয়ে সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতেন। বাড়িতে সকালের খাবার খেয়ে দোকানে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরেই গলায় রশি দিয়ে দোকানের আড়ার সাথে ফাঁসি নেন।
পল্লী চিকিৎসক আলী আজমের আত্মহত্যার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে স্থানীয় ইউপি সদস্য জয়েন উদ্দিন জানান,ধারণা করা হচ্ছে ঋণের চাপেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.রেজাউল করিম জানান, লাশের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পারিবারের কাছে দাফনের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ চিকিৎসা বিদ্যায় নেই কোন পড়াশোনা। তবুও তিনি চিকিৎসক। তার ভিজিটিং কার্ডে লিখেছেন চিকিৎসা বিদ্যার নানা ডিগ্রির লম্বা লাইন। তার চিকিৎসাপত্রের প্যাডে নিজেকে মেডিসিন ও শিশু বিশেষজ্ঞ হিসাবে নাম ছাপিয়েছে। তিনি ডিগ্রি লেখেছেন এমবিবিএস ঢাকা। পিজিটি শিশু। সিসিডি বারডেম। এফসিপিএস মেডিসিন। এ ডিগ্রি ও বিদ্যার পরিচয়ে দীর্ঘদিন যাবত চিকিৎসা প্রদানের নামে রোগীদের সাথে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলেন মাসুদ আহমেদ নামের এক যুবক। তিনি টাঙ্গাইলের মধুপুরে শাহজালাল ফার্মেসী ও ডায়াগনাষ্টিক সেন্টারে রোগী দেখতেন।
মধুপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গেইটের সামনে অবস্থিত শাহজালাল ফার্মেসী ও ডায়াগনাষ্টিক সেন্টারে তিনি রোগীদের চিকিৎসাপত্রে রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা দিলে রোগীরা অন্যান্য ক্লিনিকে পরীক্ষা করাতে গেলে স্থানীয় ক্লিনিকের লোকজনের সন্দেহের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের সন্দেহ ঘনিভূত হলে স্থানীয়রা প্রশসানকে গোপনে সংবাদ দিলে বুধবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্টেট সহকারী কমিশনার (ভুমি) জাকির হোসাইন, ১০০ শয্যা বিশিষ্ট মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইদুর রহমান পুলিশসহ শাহজালাল ফার্মেসী ও ডায়গনাষ্টিক সেন্টারে গিয়ে তার ডাক্তারি পড়াশোনার কোন সনদপত্র দেখাতে না পাড়ায় তাকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১ লক্ষ টাকা ও দুই মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্লিনিকের মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
এ মাসুদ আহমেদ বরিশালের মুলাদি উপজেলার বানীমর্দান গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে।

জানা যায়, মাসুদ আহমেদ বেশ কিছুদিন ধরে মধুপুরের শাহজালাল ও ডায়াগনাষ্টিক সেন্টারে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। ডাক্তারি বিদ্যায় পড়াশোনা না করেই রোগীদের আকৃষ্ট করতে ডিগ্রি লিখেছেন এমবিবিএস ঢাকা। পিজিটি শিশু। সিসিডি বারডেম। এফসিপিএস মেডিসিন। নিজের চিকিৎসাপত্রের প্যাডে মেডিসিন ও শিশু বিশেষজ্ঞ লিখে চটকদার প্রচারনার মাধ্যমে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে। তার বিভিন্ন পরীক্ষার কাগজপত্র অন্যান্য ক্লিনিকের নিয়ে গেলে স্থানীয় ক্লিনিকে কর্মরতদের সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তারপর বিষয়টি স্থানীয় চিকিৎসকদের জানালে গোপনে তারা খোজখবর দিতে থাকে। খোজখবর নিয়ে জানতে পারেন তার কোন ডাক্তারি পড়াশোনার সনদ নেই। পরে বিষয়টি নির্বাহী ম্যাজিস্টেট সহকারী কমিশনার (ভুমি)কে অবগত করলে তিনি বুধবার দুপুরে সরজমিনে গিয়ে মাসুদ আহমদের নিকট তার ডাক্তরি বিদ্যার সনদপত্র দেখাতে বললে নানা অযুহাত খুঁজতে থাকেন। সনদপত্র তার স্ত্রী নিয়ে চলে গেছে বলে মাসুদ জানায়। এ সময় মাসুদ আহমেদ এক এক সময় এক এক মেডিকেলে পড়াশোনার কথা জানান। এ সব তথ্য স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়।
১০০ শয্যা বিশিষ্ট মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান জানান, মধুপুর উপজেলা হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা, কর্মচারী সন্দেহভাজন এফসিপিএস ডিগ্রিধারী একজন ডাক্তার শাহজালাল ডায়গানাষ্টিক সেন্টারে প্যাকটিস করেন বলে জানায়। বুধবার দুপুর ১২ টার সময় স্যানিটারি ইন্সপেক্টরসহ তিনি ঐ ক্লিনিকে অভিযানে যান। এ সময় তিনি ডাক্তার মাসুদ আহমেদ নামে একজনকে ঐ ক্লিনিকের চেম্বারে দেখতে পায়। এ সময় মাসুদ আহমেদ এক প্রশ্নের জবাবে জানায় সে ঢাকা মেডিকেল থেকে এমবিবিএস ও এফসিপিএস ডিগ্রি নিয়েছে। পরবর্তীতে জানা গেলো তিনি আদৌ কোন মেডিকেলে পড়াশোনা করেনি। বিষয়টি তিনি মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ফোন করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার কথা জানালে নির্বাহী ম্যাজিস্টেট সহকারী কমিশনার (ভুমি) সনদবিহীন ডাক্তার মাসুদ আহমেদকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করেন।
এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্টেট জাকির হোসাইন এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মাসুদ আহমেদ মেডিকেলে পড়াশোনা করেনি। ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা ও দুই মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। এ সময় শাহজালাল ডায়গানাষ্টিক মালিককেও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল শহরের এনায়েতপুর এলাকায় মা সালমা বেগমকে খুন করার অভিযোগে ছেলে মো. আবুল কালামকে(৩০) আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার(২৫ অক্টোবর) সকালে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহত গৃহবধূ সালমা বেগম(৫০) ওই এলাকার পুলিশ থেকে অবসরপ্রাপ্ত মোহাম্মদ আলী শেখের স্ত্রী।
টাঙ্গাইল পৌরসভার প্যানেল মেয়র মাহমুদা বেগম জেবু জানান, মোহাম্মদ আলী শেখ ৪০ দিন মেয়াদের তাবলিগ জামায়াতে ছিলেন। তিন ছেলে নিয়ে সালমা বেগম তার বাসায়ই থাকতেন। মঙ্গলবার সকালে তার বাসা বাইরে থেকে বন্ধ দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।
তিনি আরো জানান, পরে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখে মেঝেতে ছেলে মো. আবুল কালাম বসে আছে। এক পর্যায়ে খাটের নিচ থেকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় সালমা বেগমকে উদ্ধার করা হয়। তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান, গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। লাশের গায়ে আগুন দিয়ে ছ্যাকা দেওয়ার আলামত পাওয়া গেছে। মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ছেলে আবুল কালাম আটক আছে। কিভাবে খুন হয়েছেন তা ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার করটিয়া কলেজপাড়া এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক নারীর(৪২) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার(২৫ অক্টোবর) দুপুরে করটিয়া হাটের পুর্ব পাশে রাস্তার ড্রেন থেকে ওই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানায়, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের কলেজপাড়ায় ড্রেনে ময়লা আটকে পানি জমে থাকায় দোকানদাররা ড্রেন পরিস্কার করছিল। এ সময় জনৈক দোকানদার ড্রেনে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত ওই নারীর পরিচয় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে মেয়াদোত্তীর্ণ পাউরুটি ও কোমল পানীয় রাখার দায়ে জেলা শহরের ভিক্টোরিয়া রোডে অবস্থিত অভিজাত নুরজাহান রেস্টুরেন্ট এন্ড পার্টি ভেন্যুকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত।

রবিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক সৈয়দা তামান্না তাসনীম।

এ প্রসঙ্গে সৈয়দা তামান্না তাসনীম জানান, টাঙ্গাইল ভিক্টোরিয়া রোডে অবস্থিত নুরজাহান রেস্টুরেন্ট এন্ড পার্টি ভেন্যুকে মেয়াদ উত্তীর্ণ পাউরুটি ব্যবহার করে বার্গার তৈরি, মেয়াদ উত্তীর্ণ কোমল পানীয় বিক্রির জন্য ফ্রিজে সংরক্ষণ এবং পূর্বের দিনের বিরিয়ানি, চিকেন ফ্রাই ও সবজি সংরক্ষণ এবং প্রস্তুতকৃত খাবার এবং কাঁচা মাংস একসাথে সংরক্ষণের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪৩ এবং ৫১ ধারায় মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন চিনির পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ীদের দোকানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও সচেতনতামূলক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

এই ভ্রাম্যমান আদালতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান,বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) এর নির্দেশনা ও অর্পিত ক্ষমতাবলে, টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়।

এছাড়া, জেলা পুলিশের একটি চৌকস টিম ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় সার্বিক সহযোগীতা করেন। জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি অব্যাহত থাকবে।