একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে চাচাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ভাতিজাদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের নাহালী দক্ষিণ পাড়া থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আনোয়ার হোসেন (৭০) উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের ওই গ্রামের মৃত মুহাম্মদ মিয়ার ছেলে।
নিহতের মেয়ে আনোয়ারা জানান, চাচাতো ভাইদের সাথে জমি নিয়ে এক বছরের বেশি সময় ধরে বিরোধ চলছে। গ্রামের মাতাব্বর, মেম্বাররা বসে বিষয়টি মীমাংসা করেন। বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে আব্বাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলনা। তখন সবাই মিলে খোঁজাখুজি শুরু করি। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয় টার দিকে গ্রামের কোচিং সেন্টারের পিছনে কলা গাছে সাদা কিছু দেখতে পাই। কাছে গিয়ে আমরা বাবার লাশ শনাক্ত করি। এটি পরিকল্পিত হত্যাকা-, আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ চেষ্টা করছে।
তিনি আরো জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জমি নিয়ে শরিকদের সাথে বিরোধ চলছিল। এর জেরেই এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তানিয়া নামে এক কলেজছাত্রীর নগ্ন ভিডিও ফেসবুকে ছাড়ায় সুইসাইড নোট লিখে আত্মহত্যা করেছেন।বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে ভাতগ্রাম ইউনিয়নের সিংজুরী গ্রামে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।
তানিয়া সিংজুরী গ্রামের হারুন মিয়ার মেয়ে এবং মির্জাপুর মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্রী ছিল।
পারিবারিক সূত্র জানায়, একই ইউনিয়নের বুড়িহাটি গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে সুজন (২৪) প্রেমের ফাঁদে ফেলে তানিয়ার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে। গোপনে তা ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় তানিয়ার কাছ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়া কলেজে যাওয়া আসার পথে আরও টাকার জন্য তাকে মারধর করাসহ নানাভাবে ভয় ও হয়রানি করত তানিয়াকে। গত পনের দিন আগে ওই ভিডিওটি ‘লোকাল সাফি’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে পড়লে তানিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এক পর্যায়ে বুধবার বিকালে তিনি সুইসাইড় নোট লেখে তাদের বসত ঘরে গলায় উড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।
এদিকে তানিয়ার আত্মহত্যার খবর জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত সুজন গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তানিয়ার বাবা হারুন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, গত পনের দিন আগে তার মেয়ে কলেজ থেকে ফেরার পথে সিংজুরী ব্রিজের কাছে তানিয়াকে আটকিয়ে মারপিট করে সুজন। পরে খবর পেয়ে আমরা সুজনকে আটকে রাখি। ইউপি মেম্বার জাহাঙ্গীর আলম বাদশা এসে সুজনকে সর্তক করে তার বাবা-মার কাছে দিয়ে দেন। কিন্ত তারপরও সুজন তানিয়াকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকে।
জাহাঙ্গীর আলম বাদশা মেম্বারের সঙ্গে কথা হলে তিনি এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
তানিয়ার বড় ভাই ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আবু তালেব অভিযোগ করে বলেন, ভিডিও ছাড়ার আগে হিলারি নামে তার দশম শ্রেণি পড়ুয়া ফুফাতো বোনের কাছে সুজন হুমকি দিয়ে এসএমএস পাঠায়। তাতে সে লেখে ‘তানি এখন বেশি বুঝল, ওর মরণ আছে’। এরপর ‘লোকাল সাফি’ আইডি থেকে ওই ডিডিও ছেড়ে দিলে তানিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ গিয়ে তানিয়ার মরদেহ থানায় নিয়ে আসে।
সুইসাইড় নোট: ‘আমারে তুমরা সবাই মাফ কইরা দিও, আমার জন্য তুমাগো অনেক মান সম্মান নষ্ট হইছে, আমি চাই না তুমাগো আরো মান সম্মান নষ্ট হক। তোমরা জানো না ঐতি কি কি করছে আমার সাথে। আমের জোর কইরা ধর্ষণ করছে। তারপর আমার ছবি তুইলা সেই ছবি দিয়া আমার কাছে থাইক দেড় লাখ টাকার জিনিস নিছে।’
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানা পরিদর্শক (তদন্ত) মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, তানিয়া নামে ওই কলেজ ছাত্রী ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। একটি সুইসাইড় নোট উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আত্মহত্যার কারণ উদঘাটন করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে কথিত “জিনের বাদশা” জাহাঙ্গীর হোসেন (২২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছেন বাসাইল থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার(২০ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের দাপনাজোর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত জাহাঙ্গীর হোসেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া এলাকার আমীর হোসেনের ছেলে।
পুলিশ জানায়,কথিত জিনের বাদশা জাহাঙ্গীর বাসাইলের এক মেয়ের কাছে থেকে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেয়।মেয়েটির বিয়ের পর সংসার ভেঙ্গে যায়।পরে মেয়েটি অন্য একটি ছেলের সাথে সম্পর্কে জড়ায়।সেই সম্পর্কটাও ভেঙ্গে যাওয়ার পথে।এমন অবস্থায় মেয়েটির ফেইসবুক আইডিতে কবিরাজ বাড়ি নামে একটি আইডি আসে।সেখানে যোগাযোগ করে মেয়েটি।কথিত জিনের বাদশা ছেলের সাথে সম্পর্ক ঠিক করে দিবে বলে মেয়েটির কাছে থেকে প্রথমে পাঁচ হাজার টাকা নেয়।বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নিতে থাকে। প্রতারণা করে মেয়েটির কাছে থেকে ত্রিশ হাজার টাকা নেয়।
পুলিশ আরো জানায়, কথিত জিনের বাদশা জাহাঙ্গীর মেয়েটিকে বলে প্রেমিকের সাথে সম্পর্ক ঠিক করতে হলে নগ্ন ছবি লাগবে।মেয়েটি বিশ্বাস করে কথিত জিনের বাদশা জাহাঙ্গীরকে ছবি দেয়।পুনরায় টাকার দাবি করে, মেয়েটি টাকা দিতে না চাইলে জাহাঙ্গীর বলে তোমার প্রেমিককে জিনে বান দিয়ে মেরে ফেলবে।তোমার বিয়ে হলেও কোন সন্তান হবে না বলে জিনের বাদশা।মেয়েটিকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখাতে থাকে।মেয়েটি বুঝতে পেরে বাসাইল থানা পুলিশকে জানায়।পরে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে বাসাইল থানা পুলিশ দাপনাজোর এলাকা থেকে কথিত জিনের বাদশা জাহাঙ্গীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়ে বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মঙ্গলবার রাতে কথিত জিনের বাদশা জাহাঙ্গীরকে বাসাইলের দাপনাজোর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।জিনের বাদশা জাহাঙ্গীর বিভিন্ন ভাবে কম বয়সী মেয়েদের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিতো।জাহাঙ্গীর তিন বছর প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রতারণার কাজ শুরু করে।জিনের বাদশার মূল টার্গেট ছিল মেয়ে মানুষ।শুধু একজন মেয়ে না আরও তিন-চারজন মেয়ের কাছে থেকে বিভিন্ন কাজের নাম করে বিকাশের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয় কথিত জিনের বাদশা।
একতার কণ্ঠঃ গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করায় ব্লেড দিয়ে স্বামীর গোপনাঙ্গ কর্তনের অভিযোগ উঠেছে বড় বউ মনোয়ারার বিরুদ্ধে। আহত স্বামীর অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহত আমিনুল ইসলাম (৩৫) টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার গোহাইলবাড়ি এলাকার সালাম মিয়ার ছেলে।
শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে পার্শ্ববর্তী শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমিনুল ইসলাম পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। কিছুদিন যাবত সে বড় বউ নিয়ে শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। আমিনুল ইসলাম গোপনে কালিহাতী উপজেলার বানিয়া গ্রামে দ্বিতীয় বিয়ে করেন।
এ ঘটনা বড় বউ জানতে পারলে ক্ষিপ্ত হয় এবং রাতে তাদের উভয়ের মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ শান্ত হয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়লে কৌশলে ধারালো ব্লেড দিয়ে স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে ফেলে বড় বউ। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে আমিনুলকে উদ্ধার করে প্রথমে তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কর্তব্যরত চিকিৎসক টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। পরে অবস্থা আশঙ্কাজন হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রেজাউল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে থানায় এখনো কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল দেলদুয়ারে ৮ বছর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন মো. মাসুদ রানা। তার বাবা মৃত খোকন মিয়া ‘রাজাকার’, ফেসবুকে সম্প্রতি এই তথ্য ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্য শুরু হয়। এতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই সম্মেলনের মাধ্যমে সিলেকশনে মাসুদ রানাকে সভাপতি করে ৬১ সদস্যবিশিষ্ট দেলদুয়ার উপজেলা ছাত্রলীগ কমিটি গঠন করা হয়। এরপর দীর্ঘ ৮ বছর ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন না-হওয়ায় কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীরা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যামে দেলদুয়ার উপজেলার যুদ্ধাপরাধী রাজাকারের তালিকা ছড়িয়ে পড়ে। সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আফাজ উদ্দিনের স্বাক্ষর-সীলমোহর সংবলিত ওই তালিকায় খোকন মিয়ার নাম রয়েছে।

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সভাপতিপ্রার্থী জামিলুর রহমান বাবু বলেন, ‘আমি তখন আওয়ামী লীগসহ জেলা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দকে মাসুদের বাবার বিষয়টি অবগত করেছিলাম। নেতৃবৃন্দ বিষয়টিতে কর্ণপাত না করে অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট বলে মাসুদকে ছাত্রলীগের সভাপতি করে। আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা। দুঃখ ও কষ্টের বিষয় হচ্ছে, একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ছাত্রলীগের সভাপতি হতে না পারলেও রাজাকারের সন্তান ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছে।’
‘এ ঘটনার পর আমার বাবা ওই দিনই স্ট্রোক করে। বর্তমানে তিনি অসুস্থ।’ যোগ করেন বাবু। এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বজলুর রশিদ বিজু বলেন, সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে মঞ্চ থেকে আমাকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু তাহের বাবলু বলেন, ‘দেলদুয়ার উপজেলায় তালিকাভূক্ত ১৬ জন রাজাকার রয়েছে। এর মধ্যে খোকন মিয়া একজন। বর্তমান ছাত্রলীগ সভাপতি মাসুদ রানা রাজাকার খোকন মিয়ার ছেলে।’
‘মাসুদ ছেলে ভালো’ উল্লেখ করে এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘তবে তার বাবা রাজাকার, মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি ছিল। তালিকাটা আগে প্রকাশ হলেও একটি পক্ষ ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিল।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক নেতাকর্মীরা মাসুদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানালেও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ফজলুল হক বলেন, মাসুদ রানা কলেজ শাখার সভাপতি, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে দীর্ঘদিন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। তার বাবা রাজাকার ছিল কিনা আমার জানা নাই।
মাসুদ রানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার জনপ্রিয়তা দেখা একটি পক্ষ আমার ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীর তালিকায় আমার বাবার নাম আছে আমি জানতাম না।’
‘রাজাকার বা মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী শক্তি ছাত্রলীগের নেতৃত্বে থাকতে পারে না।’ উল্লেখ করে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন কেন্দ্রীয় নেতৃবর্গের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ওই কমিটি ভেঙে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে অধ্যক্ষ জামাল হোসেন ঠান্ডু হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক বেগম শাহানা হক সিদ্দিকা এ রায় দেন।
এছাড়া আদালতের বিচারক দণ্ডপ্রাপ্ত ২ জনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করেন।
এ ছাড়া এ হত্যা মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৩ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, সখীপুরের ফুলবাগ গোবরচাকা গ্রামের মৃত হাসান আলীর ছেলে মিনহাজুর রহমান মিন্টু, একই গ্রামের সুর্যদ আলীর ছেলে আব্দুল মালেক শুকুর।
মামলায় খালাসপ্রাপ্তরা হলেন, শমশের আলী, মোহাম্মদ মাসুদ এবং মোহাম্মদ নান্নু মিয়া।
রাষ্ট্রের পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন সিকদার জানান, ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর দুপুরে অধ্যক্ষ জামাল হোসেন ঠান্ডু সখীপুরের পলাশতলী মহাবিদ্যালয় থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। তিনি বৈল্লারপুর এলাকায় পৌঁছালে পূর্ব শত্রুতার জেরে মিনহাজুর রহমান মিন্টুর নেতৃত্বে জামাল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় ওই দিন জামাল হোসেনের স্ত্রী পারভীন বেগম বাদী হয়ে সখীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরও জানান, ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আইয়ুব আলী ৫ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। বিচারক সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বুধবার ২ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৩ জনকে বেকসুর খালাস দেন।
রায় ঘোষণার সময় মিনহাজুর রহমান মিন্টু আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং আব্দুল মালেক শুকুর পলাতক ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার হতেয়া বেত বাগানে চিতাবাঘ বিচরণ করার বিষয়টি মিথ্যা বলে জানিয়েছে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট । মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হতেয়া রেঞ্জ অফিসে বন্যপ্রাণী দমন ইউনিটের জিজ্ঞাসাবাদে ফেসবুকে আপলোড করা ওই কিশোর শাকিব মিথ্যা প্রচারের স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
জানা গেছে, স্থানীয় কিশোর শাকিব (১৮) ওই বেতবাগানের একটি ছবি তোলে, পরে অনলাইন থেকে একটি চিতাবাঘের ছবি নিয়ে এডিট করে বেতবাগানের ছবিতে বাঘের ছবি বসিয়ে ফেসবুকে ‘বেতবাগানে চিতা বাঘের আতঙ্ক’ শিরোনামে স্ট্যাটাস দেয়। ফেসবুক ভাইরাল হওয়ার জন্য এই কাজ করেছে বলে জানায় ওই কিশোর। এ বিষয়ে লিখিত মুচলেকা নিয়ে ওই কিশোরকে ক্ষমা করেছে তদন্ত কমিটি।
হতেয়া বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল আহাদ জানান, উপজেলার হতেয়া বেতবাগানে চিতাবাঘের বিচরনের খবর মিথ্যা। ওই কিশোর শাকিব খান মঙ্গলবার বন্যপ্রাণী দমন ইউনিটের কাছে একথা স্বীকার করেছে। ভবিষ্যতে এমন মিথ্যা গুজব ছড়াবে না এ স্বীকারোক্তিতে মুচলেকা দিয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারজানা আলম জানান, বেতবাগানে চিতাবাঘের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হলে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট ঘটনা স্থলে গিয়ে এ তথ্য মিথ্যা বলে প্রমান পেয়েছে। একটি কিশোর এ মিথ্যা তথ্য ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে।
উল্লেখ্য, গত ১০ সেপ্টেম্বর উপজেলার হতেয়া বেতবাগানে চিতাবাঘের আতঙ্ক এই শিরোনামে স্থানীয় এক কিশোর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়। মুহূর্তেই এই তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষন করে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে মেয়েদেরকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার এক যুবকের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত প্রায় ১ টার দিকে রাজধানীর নিউরো সাইন্স হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
নিহত যুবকের নাম মো. মাজহারুল ইসলাম(২১)। সে উপজেলার কালিয়ান দক্ষিণ পাড়া এলাকার আ. মালেক মিয়ার ছেলে এবং সরকারি সা’দত কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল।

হামলার ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে শনিবার ( ১০ সেপ্টেম্বর) ৭ জনের নাম উল্লেখ করে সখীপুর থানায় একটি মামলায় দায়ের করেছেন।
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার কালিয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে শুক্রবার(৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এলাকার বিবাহিত বনাম অবিবাহিতদের সমন্বয়ে এক ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলা দেখতে আসা মেয়েদের নানাভাবে উত্যক্ত করে কালিয়ান দোহানিয়া পাড়ার কয়েকজন বখাটে ছেলে। এ সময় মাজহারুল তাদের উত্যক্ত করতে নিষেধ করলে ঘটনাস্থলেই তাকে কিল, ঘুষি দেয় স্থানীয় বখাটে ইয়ারুল ও তার সহযোগীরা।
এর পর খেলা শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে ইয়ারুল ইসলাম (১৯), ছাব্বির আহমেদ (১৯) সহ সাত-আট জনের একটি সঙ্ঘবদ্ধ দল লোহার রড, দা, দিয়ে মাজহারুলের উপর আবার আক্রমণ করে। এ সময় চিৎকার শুনে তার বাবা ও অন্যান্যরা মাজহারুলকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার নিউরো সাইন্স হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার রাত প্রায় ১ টায় মাজহারুলের মৃত্যু হয়।
মাজহারুলের বাবা আ. মালেক কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘অনেক চেষ্টা করেও আমার ছেলেটাকে বাঁচাতে পারলাম না। বখাটেদের হামলায় ছেলেটা অবশেষে মারাই গেল।
এ প্রসঙ্গে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম জানান,হামলার ঘটনায় মাজহারুলের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ওই মামলাতেই ৩০২ ধারা যুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
একতার কণ্ঠঃ ২৬৬ ঘনফুট চোরাই মেহগনির কাঠ উদ্ধার ও একজনকে আটক করেছে টাঙ্গাইল বন বিভাগ।
রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ত্রিপলে ঢাকা অবস্থায় একটি ট্রাক থেকে কাঠগুলো উদ্ধার করা হয়। এ সময় ট্রাক চালককে আটক করা হয়েছে।
আটককৃত ট্রাক চালক টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার নলহড়া গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে মোস্তাক আহমেদ লাকী।
বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা পাচারের উদ্দেশে কাঠগুলো ট্রাকের ওপর ত্রিপল দিয়ে লুকিয়ে রেখেছিল। এ সময় স্থানীয় বিট কর্মকর্তা পিছু নিয়ে ট্রাকটিকে আটক করে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর করটিয়া পরীক্ষণ ফাঁড়ির স্টেশন কর্মকর্তা সোলাইমান মিয়া জানান,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৬৬ ঘনফুট চোরাই মেহগনি কাঠ ভর্তি ট্রাকটি আটক করা হয়। ট্রাকটি জামালপুর থেকে ঢাকার উত্তরার আজমপুর যাচ্ছিল। চক্রটি সংরক্ষিত মেহগনি কাঠ কেটে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছিল। এ সময় ট্রাক ড্রাইভারকেও আটক করা হয়।
টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সাজ্জাদুজ্জামান জানান, বৈধ কাগজপত্র না থাকায়, ট্রাকটি আটক করে চোরাই মেহগনি কাঠ জব্দ করা হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে বন আইনে মামলা করা হয়েছে। এ সময় ট্রাক চালকেও আটক করা হয়।
তিনি আরো জানান,এ ধরনেরই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আরও এক আসামির কারা হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার(৯ সেপ্টেম্বর) রাতে হৃদরোগজনিত সমস্যার কারণে তার মৃত্যু হয়।
শনিবার(১০ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের জেল সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ-আল-মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আসামির নাম মো. সমীর মিঞা (৪২)। তিনি শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার মৃত তফিজ উদ্দিনের ছেলে।
তিনি ফারুক হত্যা মামলায় ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর থেকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে আটক ছিলেন।
জেল সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ-আল-মামুন জানান, শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে সমীর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে কারা চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরো জানান,সমীর হৃদরোগজনিত সমস্যার কারণে ইতোপূর্বে একাধিকবার চিকিৎসা নিয়েছেন। শনিবার সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে যথানিয়মে লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এর আগে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর ফারুক আহমদ হত্যা মামলার আরেক আসামি আনিসুল ইসলাম রাজা (৪২) কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ তার কলেজপাড়া বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের এক স্কুলছাত্রীকে নানা প্রলোভন ও ফুসলিয়ে নিয়ে পালিয়েছে আবু সামা (৩৫) নামে এক মাদরাসা শিক্ষক।
এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ভূঞাপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পলাতক শিক্ষক আবু সামার বড় ভাই ও সহযোগী আব্দুর রাজ্জাক ওরফে মোতালেবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ থানায় নিয়ে এসেছে।
আবু সামা উপজেলার ধুবলিয়া এলাকায় খালেক নুরানী মাদরাসার শিক্ষক এবং উপজেলার ধুবলিয়া গ্রামের মৃত আরজু মিয়ার ছেলে।
জানা গেছে, উপজেলার ধুবলিয়া গ্রামের শিক্ষক আবু সামা ওই গ্রামের খালেক নুরানী মাদরাসায় শিক্ষকতার কারণে ধুবলিয়া বাজারের একটি ওষুধের দোকানের পিছনে গণিত বিষয়ে টিউশনি করতো। এতে সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের ওই ছাত্রী আবু সামারের কাছে গণিতের প্রাইভেট পড়তো।
গত দুই মাস ধরে আবু সামার কাছে প্রাইভেট পড়তো সে। এই সুযোগে আবু সামা প্রথম থেকেই ছাত্রীকে কু-নজরে দেখার পাশাপাশি প্রেম প্রস্তাব দেয়। পরে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে মেয়েটিকে নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর তাদের আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, শিক্ষক আবু সামার পরিবার ও তার ভাই রাজ্জাক জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। কি কারণে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মেয়েটিকে সে প্রলোভন দেখিয়ে তাকে নিয়ে পালিয়েছে গেছে জানা যায়নি। বিষয়টি মিমাংসার জন্য ওই সংখ্যালঘু পরিবারটিকে চাপ দিচ্ছে।
ওই মেয়েটির বাবা জানান, সন্ধ্যার পর থেকে মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছি না। শিক্ষক আবু সামার কাছে প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে সে আমার মেয়েকে ফুসলিয়ে ভাগিয়ে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় থানায় বৃহস্পতিবার রাতে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। পুলিশ তার ভাইকে ধরেছে বলে জেনেছি। এখন পর্যন্ত আমার মেয়ের কোন খোঁজ পাচ্ছি না।
এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তের বড় ভাই সহযোগী রাজ্জাককে জিজ্ঞাসাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আইগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন এবং মেয়েটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে মা ও ভাইদের সাক্ষীতে এক চিহ্নিত মাদকসেবীকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার সিলিমপুর বাজারে আদালত বসিয়ে এ সাজা দেওয়া হয়। আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আলম।
সাজা পাওয়া ওই ব্যক্তির নাম ছানোয়ার হোসেন (৩২)। সে উপজেলার ছিলিমপুর গ্রামের মৃত ওসমান গণির ছেলে। তার মা রহিমা বেগম ছেলের বিরুদ্ধে আদালতের কাছে সাক্ষ্য দেন।
সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান জানান, ছানোয়ার হোসেন এলাকার একজন চিহ্নিত মাদকসেবী। মা, ভাই ও স্ত্রী সবাই সানোয়ারের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ ছিল। বুধবার ছানোয়ার গাঁজা খেয়ে উপজেলার সিলিমপুর বাজারে মাতলামি করছিল। এ সময় ওই বাজারের লোকজন উপজেলা প্রশাসন ও থানাকে জানালে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই বাজারে গিয়ে ছানোয়ারকে মাতলামি করা অবস্থায় খুঁজে পায়।
তিনি আরো জানান, সানোয়ার হোসেনের মা রহিমা বেগম (৬০),দুই ভাই আইয়ুব আলী ও মোতালেব সানোয়ারকে একজন মাদকসেবী বলে আদালতের কাছে সাক্ষ্য দেন। আদালত তাকে মাদক সেবন ও নিয়ন্ত্রণ আইনে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। এছাড়াও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও তিন মাসের সাজা দেয়।
সানোয়ারের মা রহিমা বেগম জানান, তার ছেলেকে মাদক কেনার টাকা না দেওয়া হলে সে আমাদের মারধর করে। ঘরের বেড়ার টিন খুলে বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে সে মাদক কিনে সেবন করে। বাড়ি থেকে কখনো গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে তা বিক্রি করে মাদক সেবন করে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারজানা আলম জানান, মাদক সেবন অবস্থায় ধরে উপস্থিত সাক্ষ্যগণের মোকাবেলায় সানোয়ারকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও তিন মাসের সাজা দেওয়া হয়।