একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুরে আম গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় সালাম শেখ(৪২) খুনের ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। এ হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে রোববার (২১ মার্চ) নাগরপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, আ. মান্নান মাষ্টার, ঠান্ডু মিয়া, শাহনাজ বেগম, শামীম মিয়া, শাহ আলম, নিহতের মা ছামিরন বেগম প্রমুখ। এ সময় বক্তরা সালাম শেখ হত্যা মামলায় দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।
নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের রসুলপুর বনগ্রামবাসী আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচির আগে গয়হাটা বাজার থেকে হত্যা মামলার বিচারের দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরে আসে।
নিহত সালাম শেখের আট বছরের শিশু পুত্র শামিম শেখ কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ‘আমি বাবা হত্যার বিচার চাই, জড়িতদের ফাঁসি চাই’।
উল্লেখ্য, আম গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধ মিমাংসার জন্য গত ১৫ মার্চ স্থানীয় মাতব্বররা সালিশে বসেন। সালিশে প্রতিপক্ষ মাসুদ-জুয়েলরা সশন্ত্র হামলা করে। হামলায় গুরুতর আহত সালাম শেখকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। পরদিন ১৬ মার্চ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সালাম শেখের মৃত্যু হয়।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে বৈশ্বিক মহামারী করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহার না করার দু’টি ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১৫ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। শুক্রবার (১৯ মার্চ) সকালে পৌর এলাকায় বাসস্ট্যান্ডে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মনজুর হোসেন এবং সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নাহিয়ান নূরেনের নেতৃত্বে দু’টি পৃথক ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়।
এ সময় করোনা প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহার না করায় মনজুর হোসেন পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং অর্থদন্ড হিসাবে একুশ শত টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
অপর দিকে, একই সময়ে নাহিয়ান নুরেন পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং অর্থদন্ড হিসাবে এক হাজার টাকা আদায় করা হয়।
এ সময় বাসাইল থানা পুুলিশের সহযোগিতায় করোনা প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা এবং মাস্ক ব্যবহারের গুরুত্ব সমন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে মাইকিং করা হয়। এছাড়া উক্ত ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে প্রায় দুই শত পথচারী মাঝে মাস্ক বিতরন করা হয়।
এ প্রসঙ্গে সহকারি কমিশনার (ভূমি ) নাহিয়ান নুরেন বলেন, “করোনা প্রতিরোধে মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষেই এটা আমাদের একটি চলমান প্রক্রিয়া। পরবর্তিতেও এ ধারা অব্যহত থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকলেই মাস্ক ব্যবহার করলে বাংলাদেশ থেকে করোনার বর্তমান আঘাতকে প্রতিহত করা সম্ভব হবে ।
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুর হোসেন বলেন, “বর্তমানে প্রানঘাতী করোনার প্রকোপ হঠাৎ করেই বেড়ে চলেছে। এ সময়ে সবাইকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা এবং মাস্ক ব্যবহারের প্রতি অধিক মনোযোগি হতে হবে। আর তাই আমাদের ভ্রাম্যমান আদালতের এই কার্যক্রম পরবর্তীতেও চলমান থাকবে। মাস্ক ব্যবহার না করার অপরাধে দু’টি আদালতের মাধ্যমে শুক্রবার ‘সংক্রমক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রন ও নিমূল আইন ২০১৮ এর ২৪ ধারায় ’ ১৫জনের বিরুদ্ধে মামলা ও তিন হাজার একশত টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলে নকল ইউনানি ওষুধ তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়েছে র্যাব।বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) রাতে টাঙ্গাইল পৌরসভার আদি টাঙ্গাইল এলাকার মেসার্স আলকালায়েড ইউনানি ল্যাবরেটরিজে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। নকল ওষুধ মজুত রাখার দায়ে কারখানার মালিককে ভ্রাম্যামাণ আদালতের মাধ্যমে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ভ্রাম্যামান আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. রানুয়ারা খাতুন। ভ্রাম্যমাণ আদালত কারখানা মালিক জিতেন্দ্র মোহন সাহাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করে।
অভিযান প্রসঙ্গে র্যাব-১২ এর (সিপিসি-৩) টাঙ্গাইলের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার মো. এরশাদুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের আদি টাঙ্গাইল এলাকায় মেসার্স আলকালায়েড ইউনানি ল্যাবরেটরিজ নামে একটি নকল ওষুধ কারখানায় অভিযান চালানো হয়।সেখানে অবৈধভাবে নকল ওষুধ মজুত রাখার দায়ে কারখানার মালিককে জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. রানুয়ারা খাতুন।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউপি চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদের উপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। মঙ্গলবার( ১৬ মার্চ) বিকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে এ সম্মেলন করা হয়।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তোফায়েল আহমেদ জানান, গত ১০ মার্চ রাতে তিনি তার কয়েকজন সহযোগী নিয়ে টাঙ্গাইল শহর থেকে ঘারিন্দা নির্বাচনী এলাকায় যাচ্ছিলেন। তারা ধরাট গ্রামের জনৈক কাশেমের বাড়ির পাশে পাকা রাস্তার উপর পৌছলে পূর্ব থেকে উৎ পেতে থাকা ১৮/২০ জন সন্ত্রাসী দেশিয় অস্ত্র নিয়ে তাদের পথরোধ করে এবং হামলা চালায়।
সন্ত্রাসীরা গাড়ি ভাংচুর করে এবং তাকে সহ তাদের কয়েকজনকে মারপিট ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এ সময় তাদের সাথে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়। একই সাথে পরবর্তীতে সুযোগ মত পেলে মারপিটসহ খুন করা হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়। তারপর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
হামলার ঘটনায় হুমায়ুন, মো. হোসেন, বিশাল, মিরান, মিজান, কায়সার, কামাল, আরিফ ও বিদ্যুৎসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামী করে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং সুরুজ এলাকার বিশালকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলেও জানান তোফায়েল আহমেদ।
সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদের উপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়। একই সাথে মামলার সকল আসামীকে গ্রেফতার এবং আসামীদের গডফাদারদের চিহ্নিত করে তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। এসময় হুগড়া ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন খান তোফা বক্তব্য রাখেন।
সম্মেলনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬ টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কেরোসিন ঢেলে শরীরে আগুন ধরিয়ে এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।সোমবার (১৫ মার্চ) উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের চামারী ফতেপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত চামারী ফতেপুর গ্রামের রেজন মিয়ার মেয়ে রোজিনা আক্তার (২৩)। সে লাউহাটি এম.আরফান আলী ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী বলে জানা গেছে।
নিহতের পরিবার সূত্র জানায়, নিহত রোজিনা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত (প্রতিবন্ধী) ছিলো। একমাস ভালো থাকলে অন্য মাস খারাপ থাকতো। কোনো চিকিৎসা করেও সুফল পায়নি তার পরিবার। সোমবার সকালে হঠাৎ তাদের ঘরের ভেতরের (গোসলখানা) থেকে ধোয়া বের হতে থাকলে সেটি দেখে ভিড় জমায় স্থানীয়রা।
পরে গোসলখানার দরজা ভেঙ্গে দেখতে পায় কেরোসিন ঢেলে শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে রোজিনা। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে কুমুদিনী হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে নামাজের জানাযা শেষে বাদ আসর তাকে তার গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রিজাউল হক জানান, আত্মহত্যার খবর শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে কেউ কোন অভিযোগ করেননি।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে গৃহবধূ নার্গিসকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা করেন তার সাবেক স্বামী মনিরুজ্জামান। পরে তার লাশ ধান ক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান পাষন্ড সাবেক স্বামী মনিরুজ্জামান। ঘটনার দেড় বছর পর তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে রবিবার আদালতে জবানবন্দিতে মনিরুজ্জামান এ কথা স্বীকার করেন।সোমবার(১৫ মার্চ)পিবিআই টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সিরাজ আমীন বিভিন্ন গণমাধ্যাম কর্মীদের এ তথ্য জানান।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মধুপুর উপজেলার নেকিপাড়া গ্রামের মো. নাসির উদ্দিনের মেয়ে নার্গিস ২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হন। দুই দিন পর তাদের বাড়ির উত্তর পাশে একটি ধান ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর তার বাবা অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মধুপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ প্রথমে মামলাটি তদন্ত করে। পরে এ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে।
পিবিআই তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ঘটনার সাথে নার্গিসের সাবেক স্বামী মনিরুজ্জামান জড়িত থাকার বিষয়টি চিহ্নিত করে। গত শনিবার মনিরুজ্জামানকে তার বাড়ি ধনবাড়ী উপজেলার কান্দিপুর গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মনিরুজ্জামান নার্গিসকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। আদালতে জবানবন্দি দিতেও রাজি হন। রবিবার টাঙ্গাইল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তিনি জবানবন্দি দেন।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার সিরাজ আমীন জানান, জবানবন্দিতে মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন- তার সাথে নার্গিসের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে তারা বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। ফলে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। মনিরুজ্জামান পরে আবার বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়ে করার পরে নার্গিসের সাথে আবার যোগাযোগ হয়। নার্গিস তাকে জানায় আগের স্ত্রীকে তালাক দিলে সে আবার বিয়ে করবে।
নার্গিসের কথা মতো মনিরুজ্জামান দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেন। ঘটনার দিন মনিরুজ্জামান নার্গিসদের বাড়িতে যান। সেখানে তাকে একা পেয়ে এক দফা ধর্ষণ করেন। পরে দ্বিতীয়বার ধর্ষণের চেষ্টা করলে নার্গিস বাধা দেন। তখন নার্গিসের গলা চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা শুরু করেন। এক পর্যায়ে নার্গিস মারা যান। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য নার্গিসের গলায় ওড়না শক্ত করে পেঁচিয়ে লাশ ধান ক্ষেতে ফেলে পালিয়ে যান মনিরুজ্জামান। ঘটনার পর মনিরুজ্জামান এলাকা ছেড়ে চলে যান । সে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় আবার বিয়ে করেন তিনি।
টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আকরামুল ইসলাম মনিরুজ্জামানের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার বাথুলী সাদি গ্রামে রোববার(১৪ মার্চ) সকালে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই খুনের ঘটনা ঘটেছে। নিহত আব্দুল মজিদ(৩৩) উপজেলার ওই গ্রামের সেন্টু মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ ছোট ভাই শফিকুল ইসলামকে(৩১) আহত অবস্থায় আটক করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বাসাইল উপজেলার বাথুলী সাদি গ্রামের সেন্টু মিয়ার পাঁচ ছেলে দীর্ঘদিন ধরে কাপড় তৈরির ব্যবসা করছিলেন। ব্যবসার হিসাব নিয়ে সম্প্রতি তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এক পর্যায়ে তা পারিবারিক কলহে রূপ নেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সকালে তাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ছোট ভাই শফিকুল ইসলাম ছুরি দিয়ে তার বড় ভাই আব্দুল মজিদের বুকে আঘাত করেন। গুরুতর আহতাবস্থায় স্বজনরা আব্দুল মজিদকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. হারুনুর রশিদ বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে। হত্যার ঘটনায় তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির অধীনস্থ কল্যাণ তহবিলের সভাপতির বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ২৭ লাখ টাকা নানা অনিয়ম দুর্নীতি অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ৩৭ জন শিক্ষকের নামে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানবন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।
শনিবার(১৩ মার্চ) দুপুরে সখীপুর-সাগরদিঘী সড়কের উপজেলার কচুয়া বাজার চৌরাস্তা মোড়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ছয় শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী অংশ নেন। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত তুলা মিয়াকে তহবিলের সভাপতির পদ থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত তুলা মিয়া উপজেলার কচুয়া পাবলিক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
সমাবেশে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম হোসেন, কাইয়ুম হুসাইন, মিজানুর রহমান, একে ফজলুল হক, মতিউর রহমান ভূঁইয়া, ফরমান আলী, আতিকুল হক ছমির, লাল মিয়া, বীরমুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ মিয়া এবং টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের সদস্য গোলাম কিবরিয়া বাদল প্রমুখ বক্তব্য দেন।
সমাবেশে উপস্থিত শিক্ষকরা জানান, কল্যাণ তহবিলের সভাপতি মো. তুলা মিয়া (সংগঠনের কল্যাণ তহবিলের) ২৭ লাখ ৪৬ হাজার ২০০ টাকা আত্মসাৎ করেছে। আগামী সাতদিনের মধ্যে এ টাকা পরিশোধ না করলে শিক্ষক-কর্মচারীরা কঠোর আন্দোলনে যাবেন।
তারা আরও বলেন, কচুয়া পাবলিক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুলা মিয়া সমিতির কল্যাণ তহবিলের চেয়ারম্যান ছিলেন। তার কাছে থাকা ওই তহবিলের প্রায় সাড়ে ২৭ লাখ টাকা ফেরত না দেওয়ায় ওই পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও তিনি উল্টো বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ৩৭ জন শিক্ষকের নামে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কল্যাণ তহবিলের সমুদয় কাগজপত্র, এফডিআর, রেজিস্টার, ব্যাংক চেকবই ফেরত দিচ্ছেন না। টাকা আত্মসাতের বিষয়ে সংগঠনের ৮ শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা আরও জানান, ইতোমধ্যে উপজেলার ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী অবসরে চলে গেছেন।
তুলা মিয়া ওই টাকা ও কাগজপত্র না দেওয়ায় অবসরে যাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের মাঝে কল্যাণ তহবিলের প্রাপ্ত টাকা বিতরণও করা যাচ্ছেনা।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মালবাহী একটি লরি থেকে ৭৪ কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে আটক করেছে র্যাব-৩ এর সদস্যরা। ৭৪ কেজি গাঁজার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১৯ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
শনিবার (৬ মার্চ) ভোর ৬টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়াই ইউনিয়নের জোরপুকুর এলাকা থেকে ৭৪ কেজি গাঁজা, একটি মালবাহী লরি এবং ড্রাইভার ও হেলপারকে আটক করে র্যাব-৩।
আটককৃতরা হলেন, কুমিলা থানার উলুরচর গ্রামের মৃত বশরত এর ছেলে মো. জামাল (৩৬) এবং একই থানার তারাপুর গ্রামের এসহাক মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন (৩৫) বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গ্যাসের চুলার সরঞ্জাম নিয়ে ঢাকা থেকে রাজশাহী গামী একটি লরি (চট্ট মেট্রো ঢ-৮১২২৭৫) গ্যাসের চুলার সরঞ্জামের সাথে বিপুল পরিমাণ গাঁজা নেয়া হচ্ছে। এমন গোপন তথ্য পেয়ে মহাসড়কের জোরপুকুর এলাকায় অবস্থান নেয় র্যাব-৩ এর সদস্যরা। পরবর্তীতে ওই লরি থেকে ৭৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করতে সক্ষম হয় তারা। সেই সাথে লরি, ড্রাইভার ও হেলপারকে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ( ওসি) মোহাম্মদ রিজাউল হক বলেন, এ ঘটনায় আটককতৃদের বিরুদ্ধে থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
একতার কণ্ঠ ডেক্সঃ বয়স তার ৫০, নাম সুবল রাজবংশী। অনাহার-অর্ধাহারে জীর্ণ শরীর। বয়সের ভারে নয় পুষ্টির অভাবে ন্যূয়ে পড়েছে। জীবনযুদ্ধে পরাজিত সুবল রাজবংশী বর্তমানে নিজ ভূমে পরবাসী। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের সূতানরী গ্রামে।
পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৬০ শতক ভূমি ১৫ বছর ধরে গ্রামের প্রভাবশালীরা জবর দখল করে রেখেছে। সুবলের বসতভিটা-জমি নিয়ে গ্রাম্য সালিশ-দরবার হয়েছে বিস্তর, কোন সমাধান হয়নি।
সংখ্যালঘু হওয়ায় প্রভাবশালীদের ভয়ে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে গ্রামে যেতে পারেন না তিনি- যে কোন সময় চাপে ফেলে বাড়ি-জমি লিখে নিতে পারে জবর দখল কারীরা।
কিছুদিন বাস করেছেন মামা চান মোহন রাজবংশীর বাড়িতে। এখন তিনি গাজিপুরের চন্দ্রায় ভাড়া ঝুঁপড়িতে স্ত্রী চিত্রা রাজবংশীকে নিয়ে বাস করছেন এবং কিশোর ছেলে সুকুমার রাজবংশীকে(১১) নিয়ে বিভিন্ন স্থানে দিনমজুরি করে দিন কাটাচ্ছেন। কথা বলতে গিয়ে ছেলের ভবিষ্যত ভাবনায় হামেশাই অশ্রু ঝড়ান সুবল।
সরেজমিনে জানা গেছে, ফতেহপুর ইউনিয়নের ফতেহপুর মৌজার গ্রামের স্বর্গীয় গণেশ রাজবংশীর ছেলে সুবল রাজবংশীরা বংশ পরম্পরায় সূতানরী গ্রামের বাসিন্দা। সুবল রাজবংশী দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক। মেয়ে বিনোদিনী রাজবংশী ও নূপুর রাজবংশীকে অন্য উপজেলায় বিয়ে দিয়েছেন।
১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় স্থানীয় ছালাম খান, মানিক খান, হযরত খান, ফরিদ খান ও ছানু খানের পূর্বপুরুষরা আসাম থেকে এসে সূতানরী গ্রামে বসতি স্থাপন করে।
সুবল রাজবংশীর বিএস-৩২৮ খতিয়ানে ২২৪ নং দাগের ২৪ শতক বসত ভিটা ভাগাভাগি করে বসবাস করছেন একই গ্রামের মৃত মজিদ খানের দুই ছেলে ছালাম খান ও মানিক খান এবং মৃত রুস্তম খানের ছেলে হযরত খান ও মৃত কাশেম খানের ছেলে ফরিদ খান।
একই খতিয়ানের ২২৩ দাগের ১৯ শতাংশ কান্দা ভূমি ছালাম খান ও মানিক খান জবরদখলের মাধ্যমে ভোগ করছেন। ওই খতিয়ানের ৪৫৯ দাগের ১৭ শতাংশ নামা ভূমি মৃত ধলা খানের ছেলে ছানু খানের দখলে রয়েছে। নিজ নামে পৈত্রিক ৬০ শতাংশ বাড়ি-জমির মালিক হলেও সুবল রাজবংশী সংখ্যালঘু হওয়ায় প্রভাবশালীরা তাকে পরিবারসহ সূতানরী গ্রাম থেকে কৌশলে বিতারিত করেছে।
এ বিষয়ে সুবল রাজবংশী ইতোপূর্বে মির্জাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ওই জিডির পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পক্ষকে মির্জাপুর থানায় তলব করা হয়- সেখানেও বিষয়টির কোন সমাধান হয়নি। সর্বশেষ সুবল রাজবংশী গত ২৫ জানুয়ারি প্রতিকার চেয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
সূতানরী গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ মিয়া(৬৫), আব্দুল করিম(৭০), নিরঞ্জন রাজবংশী(৫০), নরেশ রাজবংশী(৪০) সহ অনেকেই জানান, সুবল রাজবংশী অত্যন্ত সহজ-সরল প্রকৃতির মানুষ। স্থানীয় নদী ও মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার বাবা-কাকারা তিন ভাই ছিলেন- স্বর্গীয় গণেশ রাজবংশী, স্বর্গীয় জিতেন রাজবংশী ও স্বর্গীয় জিনি রাজবংশী। স্বর্গীয় জিতেন রাজবংশী ও স্বর্গীয় জিনি রাজবংশী স্বাধীনতার আগে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে ভারতে চলে যান।
কিন্তু স্বর্গীয় গণেশ রাজবংশী তার অংশের সম্পত্তি বিক্রি করেন নাই এবং সুবল রাজবংশী অপ্রাপ্ত বয়স্ক থাকাকালে দেশেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
সুবল রাজবংশী কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, পৈত্রিক ৬০ শতক বসতবাড়ি-জমি থাকা সত্বেও তিনি ভূমি ও ঠিকানাহীন। সংখ্যালঘু হওয়ায় তার সম্পত্তি ছালাম খান ও তার আত্মীয়রা গায়ের জোরে জবরদখল করে নিয়েছে।
বার বার গ্রাম্য সালিশ-বিচারে উপস্থিত হয়ে জমির কাগজপত্র দেখিয়েও তিনি বাড়ির দখল ফিরে পাননি। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করায় ডিবি এলাকায় গিয়ে তদন্ত করে এসেছে। কিন্তু কোন প্রতিবেদন দেয় নাই। এলাকায় থাকলে জবরদখলকারীরা তাকে মেরে ফেলতে পারে তাই তিনি স্ত্রী, ছেলেকে নিয়ে চন্দ্রায় দিনমজুরি করে কোন রকমে বেঁচে আছেন।
অভিযুক্ত ছালাম খানের অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী বয়োবৃদ্ধ রহিমা খানম জানান, সুবল রাজবংশী বাড়ির কিছু অংশের মালিক। সুবল চাইলে বসবাসের জন্য তারা বাড়ি ছেড়ে দেবেন। তবে সুবল যদি তার জায়গা বিক্রি করতে চায় তারা বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দামে কিনে রাখবেন।
ছালাম খানের ভাতিজা মো. রুবেল খান জানান, তারা কারো সম্পত্তি জবরদখল করেননি। বাড়ি ও জমির দলিল তাদের কাছে রয়েছে। প্রয়োজনে যথাস্থানে উপস্থাপন করা হবে। তবে সুবল যদি জায়গা বিক্রি করতে চায় তারা কিনে নেবেন।
ফতেহপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মজনু মিয়া জানান, বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে বার বার সালিশের আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম দিকে অভিযুক্ত ছালাম খানরা তাদের কাছে ওই জমির দলিল আছে বলে জানিয়েছে পরে আর কোনদিন সালিশে হাজির হয়নি।
ফতেহপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রৌফ মিয়া জানান, সুবল রাজবংশীর বাড়ি ও জমি নিয়ে একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদে সালিশের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। ছালাম খানরা বিষয়টির সমাধান চাইলেও পরে আর সালিশে উপস্থিত হয়নি। মূলত: সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন তালুকদারের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মিমাংসা করা সম্ভব হয়নি।
টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের(ডিবি-দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ আমীর হোসেন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি পুরোপুরি অবগত নন। তিনি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।