একাতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মগড়ায় সেচ পাম্পের মালিকদের ধান ভাগাভাগি নিয়ে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যেকোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে দক্ষিণ মগড়ার ধানু মন্ডলের ছেলে টাঙ্গাইল জুডিসিয়াল ম্যাজিঃ সদর আলমী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা দক্ষিন মগড়া মৌজায় ৫০ বিঘা জমি নিয়ে প্রায় ১৫ বছর পূর্ব হইতে ইরি স্ক্রীম আমির হামজা ও মোজাফর আলী পরিচালনা করিয়া আসিতেছে। পরবর্তীতে একই এলাকার আবুল কাশেম, মজনু, আঃ রহিম কে অংশিদার হিসেবে নিয়ে এই ইরি স্ক্রীম পরিচালনা করেন। উক্ত স্ক্রীম পরিচালনায় সকলে সমান হারে বিদ্যুৎ বিলসহ যাবতীয় খরচাদি পরিশোধ করিবে বলে চুক্তি নামা স্বাক্ষর করে। পরবর্তীতে আবুল কাশেম, মজনু, আঃ রহিম,আমীর হামজার নামে ইরি স্ক্রীমের যাবতীয় বিদ্যুৎ বিল না দিয়া উপরন্তু উৎপাদিত ফসলাদি জোরপূর্বক ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়ার পাঁয়তারা করে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে আমীর হামজা আরও একটি অভিযোগ টাঙ্গাইল সদর থানায় দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উৎপাদিত ধান জমিতেই রাখতে বলে। কিন্তু পুলিশের কথায় কোন কর্ণপাত না করে আবুল কাশেম, মজনু, আঃ রহিম জোরবলে ধান নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে আমীর হামজা বলেন, তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ এই স্ক্রীম চালিয়ে আসছেন। উক্ত স্ক্রীমের ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিল তার নামে হওয়ায় অন্য ভাগিরা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করিলে বিদ্যুৎ বিভাগ হতে তার নামে মামলা হয়। বহু কষ্টে নিজ উপার্জিত অর্থ জরিমানা দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করি। অংশিদারগণ প্রভাবশালী হওয়ায় এ বছরও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমার ভাগের হিস্যা বুঝিয়ে না দিয়ে তিন ভাগি মিলে জোরপূর্বক স্ক্রীমে উৎপাদিত ধান নিয়ে যায়। বুধবার (২৬ মে) তার নিজ দখলীয় ৯০ শতাংশ জমির উৎপাদিত ধান কেটে বাড়ি নেয়ার পথে রাস্তা থেকে তাও ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে পুলিশের নিকট অভিযোগ করেও কোন ফল পাইনি তিনি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সালাউদ্দিন বলেন, এ ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ঘটনায় মগড়া ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আজহারুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে আমি ইতিপূর্বে কয়েকবার সালিশ করেছি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সালিশের তারিখ নির্ধারণ করেও ওই তারিখে বিবাদীগণ উপস্থিত হননি। এ কারণেএলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের কুমুরিয়া গ্রামে মঙ্গলবার(২৫ মে) ভোরে একটি চায়ের দোকানে জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে পাঁচ জুয়াড়িকে আটক ও তিন হাজার ২৯০টাকা জব্দ করা হয়েছে। গোপনে খবর পেয়ে র্যাব-১২’র সিপিসি-৩’র ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার মো. এরশাদুর রহমানের নেতৃত্বে ওই অভিযান চালানো হয়।
আটককৃতরা হচ্ছেন- দেলদুয়ার উপজেলার কুমুরিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে মো. শওকত আকবর(৪৫), মো. জামাল উদ্দিনের ছেলে মো. সুমন মিয়া(২৫), মৃত মনতাজ মন্ডলের ছেলে মো. শাহীন মন্ডল(২৮), মৃত ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে মো. হুমায়ুন কবির(৫০) ও মো. জালাল উদ্দিনের ছেলে মো. বাবুল মিয়া(২৯)।
র্যাব-১২’র সিপিসি-৩’র ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার মো. এরশাদুর রহমান জানান, গোপনে খবর পেয়ে কুমুরিয়া গ্রামের জনৈক মো. হারুন অর রশিদের চায়ের দোকানের ভেতরে জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত জুয়াড়িদের আটক করা হয়। এ সময় জুয়ার আসর থেকে এক বান্ডেল তাস ও নগদ তিন হাজার ২৯০ টাকা জব্দ করা হয়। পরে দেলদুয়ার থানায় ১৮৬৭ সালের বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয়া আইনের ৪ ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করে আটককৃতদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী এলাকায় একটি প্রাইভেটকারসহ শিশির নামে এক কিশোর ৩ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। প্রাইভেটকারের মালিক ববিন সরকার এ বিষয়ে ঘাটাইল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
প্রাইভেটকারের মালিক ববিন সরকার জানান, উপজেলার সাগরদিঘী গ্রামের মজিবর রহমান গাড়ির চালক ছিলেন। সিলভার কালারের ঢাকা-মেট্রো-গ-৪২-৯৮২৯ নম্বরধারী গাড়িটি চালকের তত্ত্বাবধানে ভাড়ায় পরিচালিত হত। ভাড়া না থাকলে তার তত্ত্বাবধানে গাড়িটি গ্যারেজেই থাকত। গত ২০ মে রাত ১০টার দিকে গাড়ির ড্রাইভার মজিবরের ছেলে শিশির (১৫) কাউকে না জানিয়ে গ্যারেজ থেকে গাড়িটি নিয়ে যায়। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ রয়েছে। গত ৩ দিনেও গাড়িসহ শিশিরকে কোথায়ও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
শিশিরের বাবা প্রাইভেটকার চালক মজিবর বলেন, স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র শিশির। সে প্রাইভেটকার চালাতে পারে। প্রায় বিভিন্ন সময় গাড়ি ড্রাইভ করে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে গিয়েছে। তবে এবার কাউকে না জানিয়ে গাড়িটি নিয়ে যায়। তার কাছে কোনো মোবাইল নেই। এই কারণে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার সাগরদিঘী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই জাকির হোসেন জানান, এই বিষয়টি শুনেছি। এখনো কোন অভিযোগ পায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একতার কণ্ঠ : অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা পরিবেশে মিষ্টি তৈরি ও বিক্রির অপরাধে টাঙ্গাইল শহরের কলেজ পাড়ায় অবস্থিত গৌর ঘোষ দধি ও মিষ্টান্ন ভান্ডারকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। টাঙ্গাইল সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ খায়রুল ইসলামের নেতৃত্বে শনিবার( ২২ মে) বিকেলে ওই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয় ।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ খায়রুল ইসলাম জানান, অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা পরিবেশে মিষ্টি ও দধি তৈরি ও বিক্রি করায় গৌর ঘোষ দধি ও মিষ্টান্ন ভান্ডারকে মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯ তফসিলভুক্ত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫৩ ধারায় গৌর চন্দ্র ঘোষকে নগদ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি আরো জানান, ভবিষ্যতে এই ধরনের অভিযান অব্যহত থাকবে।
এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়ায় সিটি ব্যাংক থেকে টাকা উঠিয়ে ফেরার পথে আওয়ামীলীগ নেতা মো. মজিবুর রহমানকে নাজেহাল করে দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। বৃহস্পতিবার(২০ মে) দুপুরে ধলাপাড়া সিটি ব্যাংকের শাখার কাছে রাস্তায় এ ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে এক টার দিকে দেওপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান ধলাপাড়া বাজারের সিটি ব্যাংকের শাখা থেকে দুই লাখ টাকা উত্তোলন করে বাড়ি ফেরার জন্য রাস্তায় বের হন। তিনি ধলাপাড়া বাজারের গাংগাইর মোড়ে পৌঁছলে আগে থেকে অপেক্ষমান দক্ষিণ ধলাপাড়া গ্রামের ১৮-২০জন বখাটে অতর্কিতভাবে ঘিরে ফেলে এবং মুখ ও হাত চেপে ধরে পকেটে থাকা টাকা নিয়ে তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
ছিনতাইয়ের শিকার আ’লীগ নেতা ও আমজানী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান বিএসসি জানান, ছিনতাইকারীরা স্থানীয় হওয়ায় তার পরিচিত। ছিনতাইকারীদের মধ্যে দক্ষিণ ধলাপাড়া গ্রামের মৃত ইয়ার মামুদ ঠান্ডুর ছেলে শহীদ মিয়া, মৃত শাজাহানের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর, মৃত মর্তুজ আলীর ছেলে মো. ইব্রাহিম, মৃত তুষার মিয়ার ছেলে মো. আকাশ মিয়া, মৃত মিনহাজ উদ্দিন সিকদারের ছেলে চন্দন সিকদার, মো. শাজাহানের ছেলে মো. শরীফ ও মো. ছেন্টু মিয়ার ছেলে মো. সিফাতকে তিনি চিনতে পেরেছেন। তারা সহ ১৮-২০জন বখাটে ছিনতাই কাজে অংশ নেয়। তিনি ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে ঘাটাইল থানা পুলিশকে অবহিত করেছেন। এ বিষয়ে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রাতের আধারে বসত বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে দুই নারীকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২০ মে) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার এলাসিন ইউনিয়নের পাছ এলাসিন গ্রামে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্র জানা যায়, পাছ এলাসিন গ্রামের মৃত ছালাম মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম ও মৃত তোতা মিয়ার ছেলে খন্দকার লালন মিয়ার সঙ্গে বসত বাড়ির জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার (২০ মে) মধ্যরাতে ১০টি মোটরসাইকেল যোগে ৩০ জন বহিরাগত সন্ত্রাসী লালন মিয়ার পক্ষে সাইফুল ইসলামের বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালায়। সাইফুল ইসলামের অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী ছালমা বেগম ও মা খোদেজা বেগমকে বেদম প্রহার করে তারা। এ সময় মসজিদের মাইকে গ্রামে ডাকাত পড়েছে বলে ঘোষনা দেওয়া হয়। এ ঘোষনায় এলাকাবাসী এগিয়ে এসে ওই বাড়িতে ১৭ জনকে ৮টি মোটরসাইকেল সহ অবরুদ্ধ করে। বিক্ষুব্ধ জনতা ৩টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয় এবং ৫টি মোটরসাইকেলে ভাংচুর চালায়।
খবর পেয়ে পুলিশ জনতার রোষানল থেকে ওই ১৭ জনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আহত ২ নারীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সরকার আবদুল্লাহ-আল-মামুন জানান, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে সৃষ্ট ঘটনায় এলাকাবাসী ১৭ জনকে ৮টি মোটরসাইকেলসহ আটক করে। জনতার রোষানল থেকে তাতক্ষনিকভাবে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগেই জনতা কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাংচুর ও পুডিয়ে দিয়েছে। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃটাঙ্গাইলের কালিহাতীতে শুকুর মাহমুদকে (৩২) হত্যা মামলার আসামী সৈয়দ মামুন (৪৫)কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১২।
সোমবার (১৭ মে) দুপুরে টাঙ্গাইলের বাসাইলের আইসড়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব-১২। পরে তাকে কালিহাতী থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আটককৃত আসামী বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের সৈয়দ আশরাফের ছেলে সৈয়দ মামুন (৪৫)।
এ বিষয়টি প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার এরশাদুর রহমান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ্য করা হয়, চলতি মাসের গত (১৪ মে) সন্ধ্যায় আসামী সৈয়দ মামুনসহ আরও ১৫ জন আসামী পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কালিহাতী উপজেলার গোলরা গ্রামের মৃত আব্দুল গনির ছেলে শুকুর মাহমুদকে কুপিয়ে জখম করে। পেটের নাড়িভুড়ি বেড় হওয়ায় এবং হাত ও পায়ের রগ কাঁটাবস্থায় শুকুর মাহমুদকে স্থানীয়রা টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় কালিহাতী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে র্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতায় সিডিআর এবং আরএল পর্যবেক্ষণ করে বাসাইলের আইসড়া বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
একতার কণ্ঠ: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার গোলড়া গ্রামে ঈদের দিন শুক্রবার (১৫ মে) রাতে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে শুকুর মিয়া(৩৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা ও তার ভাই আব্দুল্লাহকে গুরুতর আহত করেছে প্রতিপক্ষ। এসময় শুকুর মিয়ার বাম হাত কেটে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন উল্লাস প্রদর্শন করে। নিহত শুকুর মিয়া ও আহত আব্দুল্লাহ ওই গ্রামের আব্দুল গনি মিয়ার ছেলে
স্থানীয়রা জানায়, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে পাইকড়া ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শরীফের সঙ্গে শুকুর মিয়ার বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরে ঈদের দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় শুকুর মিয়া ও তার ভাই আব্দুল্লাহ একত্রে বাড়তি পাশের ধানক্ষেত দেখতে যায়। এ সময় যুবলীগ নেতা শরীফের নেতৃত্বে স্থানীয় ওবায়দুল, হারুন, রাজ্জাক, মনির, ই¯্রাফিল, খোকনসহ ১২-১৪ ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তাদের ডাক চিৎকারে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে তারা শুকুর মিয়ার বাম হাত কেটে নিয়ে উল্লাস প্রদর্শন করতে করতে চলে যায়।
নিহত শুকুর মিয়ার স্ত্রী মিতু ও তার বড় বোন সমলা বেগম জানান, চিৎকার শুনে তারা গিয়ে দেখতে পান- শুকুরের এক হাত কাটা অবস্থায় ধানক্ষেতে পড়ে রয়েছে, তার মাথা থেকে মগজ বেড়িয়ে পড়েছে। অপর ভাই আব্দুল্লাহর পায়ের রগ কেটে ফেলা হয়েছে। পরে তারা স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শুকুর মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আব্দুল্লাহকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সওগাতুল আলম জানান, ওই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাহাদুর মিয়া বাদী হয়ে ১৫ জনের নামোল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন। দোষীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা করছে।
প্রকাশ, ইতোপূর্বে শুকুর মিয়ার ছোট ভাই রুহুল মাদক ব্যবসার জেরে র্যাবের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হন।
একতার কণ্ঠ: জাতীয় জরুরি পরিসেবা ৯৯৯- এ ফোন কলের ভিত্তিতে গাজীপুরের চৌরাস্তা থেকে চুরি হওয়া মিনি ট্রাক মাত্র দুই ঘণ্টায় উদ্ধার করেছে টাঙ্গাইল সদর থানার পুলিশ।
জাতীয় জরুরি পরিসেবা সূত্রে জানা যায়, শনিবার(১৫ মে) সকাল সাড়ে দশটায় রিপন ইসলাম নামে এক ট্রাক মালিক গাজীপুরের চৌরাস্তা থেকে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে জানান, তার ঢাকা মেট্রো ন- ২০-৫২৯৮ নম্বরের মিনি ট্রাকটি সকালের দিকে চুরি হয়ে গেছে। কিছুক্ষণ আগে তিনি চুরির বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি জানান, মিনি ট্রাকে জিপিএস ট্র্যাকার(অবস্থান সনাক্তকারী যন্ত্র) লাগানো আছে- যার মাধ্যমে তিনি ট্রাকটির অবস্থান জানতে পারছিলেন। তিনি জানান, চোরেরা তার ট্রাকটি নিয়ে আশুলিয়া বেড়িবাঁধ হয়ে বাইপাইলের দিকে যাচ্ছে।
৯৯৯ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আশুলিয়া থানা ও টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুমে জানিয়ে মিনি ট্রাকটি আটকের ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়। সংবাদ পেয়ে আশুলিয়া থানা ও টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের টহল দল চোরাই মিনি ট্রাকটি আটকে তৎপর হয়ে ওঠে। এদিকে ৯৯৯ থেকে ট্রাক মালিকের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে ট্রাকটির সর্বশেষ অবস্থান সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবহিত করতে থাকে। পরে দুপুর সাড়ে বারটার দিকে টাঙ্গাইল সদর থানার এএসআই দেলোয়ার জরুরি পরিসেবা ৯৯৯- এ ফোনে জানান, তারা টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গড়াশিন থেকে চুরি হওয়া মিনি ট্রাকটি উদ্ধার এবং মিনি ট্রাক থেকে চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন- বকুল হোসেন(২৮), লেবু(২৬) ও শাকিব খান(২০)। উদ্ধারকৃত মিনি ট্রাক ও গ্রেপ্তারকৃতদের গাজীপুরের বাসন থানায় হস্তান্তরের পর পরবর্তী যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ায় ট্রাকটি মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানাগেছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রাইস মিলের জ্বলন্ত চুল্লি থেকে সুরমা আক্তার (৩২) নামে এক নারী এনজিওকর্মীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।বুধবার( (১৪ মে)সন্ধ্যায় উপজেলার পৌরসভাধীন চাটিপাড়া এলাকায় রাইস মিলের চুল্লিতে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে।
নিহত এনজিওকর্মী সুরমা আক্তার উপজেলা সদরের চাটিপাড়া গ্রামের মৃত বেলায়েত হোসেনের মেয়ে ও স্থানীয় এনজিও সেবালয়ের কর্মী।
স্থানীয়রা জানায়, সুরমা আক্তার কি কারণে তিনি আগুনে পুড়ে মারা গেছেন তা জানাতে পারছেন না প্রতিবেশীরা। এরকম চুল্লিতে আত্মহত্যা করা সম্ভব নয়। কোনো রহস্য থাকতে পারে।
নিহতের বড় বোন সুমনা বলেন, ইফতারের পর রাইস মিলের পাশ থেকে লোকজনের কোলাহল শুনতে পাই। দৌড়ে গিয়ে দেখি চুল্লির ভিতরে একটা মানুষ আগুনে জ্বলছে। ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা এসে আগুন নেভাতে নেভাতেই মারা যায়, মৃত অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে।
সাত মাস আগে সুরমা আক্তারের ডিভোর্স হয় কালিহাতী পৌর এলাকার সওদাগর পাড়ার আসাদ সওদাগরের সঙ্গে।থ্রি স্টার রাইস মিলের ভাড়ায় চালিত মালিক শ্রীদাম জানান, চুল্লিতে আগুন দেওয়া শ্রমিক ঘটনা জানায়।
কালিহাতী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, প্রায় আধা ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে একটি পুরোপুরি পুড়ে যাওয়া লাশ উদ্ধার করে কালিহাতী থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করেন।
কালিহাতী থানার ওসি সওগাতুল আলম জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে কেউ থানায় মামলা করেনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে নাতির লাঠির আঘাতে শরিফুন্নেছা (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার( ১২ মে) বিকেল তিনটার দিকে উপজেলার দেবলচালা গ্রামের নাজমুল (২১) নামের এক যুবক ঐ বৃদ্ধার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করলে তাঁর মৃত্যু হয় বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। অভিযুক্ত নাজমুল সম্পর্কে ওই বৃদ্ধার ছেলের ঘরের নাতি। ঘটনার পরপরই নাজমুল বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। নিহত শরিফুন্নেছা ওই এলাকার আবদুল বাছেদ মিয়ার স্ত্রী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নাতি নাজমুল ভ্যান চালিয়ে বাড়ি এসে ঈদের কাপড় কেনা কাটার প্রসঙ্গ তুলে কথা কাটাকাটি করে। এক পর্যায়ে দাদির মাথায় আকস্মিক ভাবে মোটা কাঠের খন্ড দিয়ে আঘাত করে। এ সময় দাদি শরিফুন্নেছা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ হয়ে হাসপাতালে নেয়ার সময় তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়েছে। এ ঘটনায় বিকেল ছয়টা পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
সখীপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একে সাইদুল হক ভূঁইয়া বলেন, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ নারায়ণগঞ্জ থেকে অপহরণের ১৬ ঘণ্টা পর টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা থেকে মো. আবিরকে (২৫) উদ্ধার করেছে র্যাব। শুক্রবার(৭ মে) ভোর রাতে উপজেলার দেউপাড়া বাজার থেকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তাকে উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাবের-১২ সিপিসি-৩ এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার এরশাদুল রহমান।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (৬ মে) সকাল ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের হিরাজিল সিরাজ টাওয়ারের দ্বিতীয় তলা থেকে মো. আবিরকে অপহরণ করা হয়। এরপর মোবাইল ফোনে বিকাশের মাধ্যমে তার পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। আবিরকে নির্যাতনও করা হয়। বিষয়টি আবিরের পরিবার র্যাব-১২ কার্যালয়ে অভিযোগ করে।
এই অভিযোগ থেকে জানা যায়, আবিরের সঙ্গে এক বছর ধরে ফেসবুকে সুজন (২৫) নামে এক যুবকের বন্ধুত্ব আছে। সেই সূত্র ধরে, কাপড়ের ব্যবসা করার কথা বলে মো. আবিরকে অপহরণ করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আবিরের অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং শুক্রবার ভোর রাতে তাকে উদ্ধার করা হয়।
এ সময় তিনি আরও বলেন, তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।