একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নারী সদস্যের হাত থেকে টেন্ডার ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতা ও তার ছেলের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে তাদের দু’জনকে আসামি করে টাঙ্গাইলের সখীপুর থানায় মামলা হয়েছে।
মামলার বাদী বহেড়াতৈল ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত (৭,৮,৯) ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য রেনু আক্তার। আর আসামিরা হলেন- সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নজরুল ইসলাম নবু (৫০) ও তার ছেলে লিঙ্কন আহম্মেদ (২৫)।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, বহেড়াতৈল বাজার খেয়াঘাটের এক বছরের জন্য ইজারা দেয়ার লক্ষ্যে ২১ জুন(সোমবার) দরপত্র আহ্বান করা হয়। শিডিউল কেনার সর্বশেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২৮ জুন (সোমবার)। এরপর ৫০০ টাকা করে জমা দিয়ে ১০ জন শিডিউল কিনেন।
মঙ্গলবার(২৯ জুন) বেলা ১টা পর্যন্ত টেন্ডার জমা দেয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়। সকাল ১১টায় প্রথমে উপজেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নজরুল ইসলাম নবুর ছেলে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা লিঙ্কন আহম্মেদ শিডিউল জমা দেন।
ইউপি সদস্য রেনু আক্তার বলেন, ’বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আমি টেন্ডার জমা দেয়ার জন্য ইউএনও কার্যালয়ের সামনে এলে আসামিরা আমার হাতে থাকা দরপত্র ছিনিয়ে নেন। এ সময় আমি কান্নাকাটি করে ইউএনওকে বিষয়টি ফোনে জানাই। এরপরও ওই নেতা ও তার ছেলে আমার হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়া টেন্ডার ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ কারণে আমি ওই দুইজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছি।’
অভিযোগের বিষয়ে নজরুল ইসলাম নবু বলেন, ‘ইতোপূর্বে কোনো টেন্ডার ছাড়াই এই খেয়াঘাটটি পরিচালনা করতেন ইউপি চেয়ারম্যানসহ তার লোকজন। এ বছরই প্রথম এই খেয়াঘাটটির অস্থায়ী ভিত্তিতে মাত্র তিনমাসের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আনা হয়। তবে টেন্ডার ছিনিয়ে নেয়ার বিষয়ে কি ঘটেছে সেটি আমার জানা নেই।’ এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে এমনটাই দাবি করেন তিনি।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে সাইদুল হক ভুঁইয়া বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা ও তার ছেলের বিরুদ্ধে খেয়াঘাট টেন্ডারের শিডিউল ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা করেছেন রেনু আক্তার নামের এক ইউপি সদস্য। আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চিত্রা শিকারী জানান, এ বিষয়ে ওই নারী ইউপি সদস্য সখীপুর থানায় অভিযোগ করেছেন। ওই খেয়াঘাটের ইজারা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামি সাবেক পৌর মেয়র সহিদুর রহমান খানের (মুক্তি) জামিন আবেদন আবারও নামঞ্জুর করেছেন আদালত।বুধবার (৩০ জুন) টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাসুদ পারভেজ জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। সহিদুর ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাবেক সাংসদ আমানুর রহমান খান রানার ভাই।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মনিরুল ইসলাম খান বলেন, ফারুক হত্যা মামলায় গত বছরের ২ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণের পর আদালত সহিদুর রহমান খানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে আরও আটবার তাঁর জামিন আবেদন আদালত নামঞ্জুর করেন। গত সোমবার সহিদুরের পক্ষে তাঁর আইনজীবী আবদুল বাকী ও আরফান আলী মোল্লা জামিন আবেদন করেন। আদালত বুধবার শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পিপি মনিরুল ইসলাম খান ও বাদীপক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম জামিনের বিরোধিতা করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তাঁর কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার তিন দিন পর তাঁর স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
আদালতে দুজনের দেওয়া স্বীকারোক্তিতে এই হত্যার সঙ্গে তৎকালীন সাংসদ আমানুর রহমান খান, তাঁর তিন ভাই তৎকালীন টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র সহিদুর রহমান খান, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। এরপর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। আমানুর রহমান খান রানা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মসমর্পণ করেন। প্রায় ৩ বছর হাজতবাসের পর জামিনে মুক্তি পান। সহিদুর রহমান খান মুক্তি গত বছরের ২ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করেন। তাঁর অন্য দুই ভাই এখনো পলাতক রয়েছে ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে গ্রাহকের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উপজেলার ফুলকী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সারোয়ার হোসেন সবুজকে বহিস্কার করা হয়েছে। টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সাথে পরামর্শ ক্রমে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাসাইল উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কামরান খান বিপুল।
জানা যায়, উপজেলার ফুলকী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সবুজের বিরুদ্ধে ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) বিভিন্ন অনলাইন ও পত্রিকায় সংবাদ প্রচার হয়। সংবাদ প্রচারের পরপরই টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। শুক্রবার রাতে এক জরুরী সভায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতির পদ থেকে সবুজকে বহিস্কার করা হয়। উপজেলা আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সবুজ ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি নষ্ট করার কারণে তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।
বাসাইল উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কামরান খান বিপুল জানান, জেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দদের সাথে পরামর্শক্রমে আমরা উক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। সবুজকে স্থায়ী বহিস্কারের বিষয়ে আমরা জেলা কমিটিকে জানিয়েছি বলেও তিনি জানান।
সবুজের চাচাতো ভাই আরিফ সরকার বলেন, গত ১৫ দিন যাবৎ সবুজ পলাতক রয়েছে। তার কোন প্রকার খোঁজ আমরা পাচ্ছি না। যে সকল গ্রাহকদের টাকা নিয়ে সে পালিয়েছে, পারিবারিকভাবে তাদের টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, তিন বছর আগে ডাচ্-বাংলা কেন্দ্রীয় ব্যাংক উপজেলার আইসড়া বাজারে এজেন্ট ব্যাংকিং বুথ চালু করে। বাসাইলের ফুলকী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সবুজ ব্যাংকটির এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। ব্যাংকিং কার্যক্রমের আড়ালে তিনি গ্রাহকদের কোটি টাকা আত্মসাৎ করে গাঁ ঢাকা দেয়।
একতার কণ্ঠঃ পরীমনির দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তুহিন সিদ্দিকী অমির মুক্তির দাবিতে টাঙ্গাইলের বাসাইলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। শনিবার (২৬ জুন) সকালে বঙ্গবন্ধুসেতু-ঢাকা মহাসড়কের বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের গুল্যাহ এলাকায় ঘন্টা ব্যাপি এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
বাসাইল উপজেলা ও হাবলা ইউনিয়নবাসির ব্যানারে আয়োজনে মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন বাসাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম, হাবলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম, স্থানীয় ইউপি সদস্য আকবর আলী, এলাকাবাসী হায়েত আলী, হাজেরা বেগম প্রমুখ। মানববন্ধনে বিভিন্ন এলাকার প্রায় সহস্রাধিক নারী-পুরুষ অংশ গ্রহন করে।
বক্তারা বলেন, বাসাইলের গুল্যাহ গ্রামের অমি একজন ভাল মানুষ। সে ও তার বাবা সমাজ সেবক। অনেক মসজিদ, মাদ্রাসার উন্নয়ন করেছেন। এছাড়াও করোনাকালীন সময়ে হাজার হাজার মানুষকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। অমি মানব পাচারের সাথে জড়িত নয়। তাকে এই মামলা থেকে প্রত্যাহার করে মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় টাঙ্গাইল থেকে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
জানা যায়, গত (৯ জুন) মধ্যরাতে সাভারে অবস্থিত ঢাকা বোট ক্লাবে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টা করা হয় বলে পরীমনি থানায় অভিযোগ করেন। ঘটনার চার দিন পর রোববার (১৩ জুন) রাত ৮টার দিকে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে এবং রাত ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘটনা প্রকাশ করেন নায়িকা পরীমনি। পরদিন গত (১৪ জুন) সকালে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও অমিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা করেন তিনি। ওই দিন বিকেলে উত্তরা থেকে নাসির ও অমিসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। এরপর ডিবির গুলশান জোনাল টিমের এসআই মানিক কুমার সিকদার বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় গত (১৫ জুন) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিভানা খায়ের জেসি নাসির ও অমির সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের লাউজানা মৌজায় ৯০ শতাংশ সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার(২৫ জুন) সকালে টাঙ্গাইল সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ খায়রুল ইসলাম এর নেতৃত্বে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলা কালে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপূল সংখ্যাক সদস্য উপস্থিত ছিল।
টাঙ্গাইল সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ খায়রুল ইসলাম জানান, পৌর এলাকার সন্নিকটে অবস্থিত লাউজানা মৌজায় ১ নং খাস খতিয়ান ভুক্ত এই ৯০ শতাংশ জমি প্রভাবশালীদের অবৈধ দখল থেকে মুক্ত করা হয়।এই ৯০ শতাংশ, জমির আনুমানিক মুল্য ৪ কোটি টাকা। অবৈধ দখল থেকে মুক্ত করার পর সেখানে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণের জন্য নির্মাণ সামগ্রী নেয়া হয়েছে ।
তিনি আরো জানান, সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে পোল্ট্রি ফার্মে শিয়াল মারার বিদ্যুতের ফাঁদে পড়ে অজ্ঞাত এক যুবকের (৩২) মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার(২৪) দিনগত রাতের কোন এক সময়ে উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ভাতগড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ফার্মের বেড়ায় লাগানো শিয়াল মারার ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামে পোল্ট্রি ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম তার ফার্মে কুকুর, শেয়াল ও চুরি রুখতে রাতে চারদিকে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে রাখেন। গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাতেও তিনি একই ভাবে ফার্মের বেড়ার সঙ্গে বিদ্যুতের সংযোগ দিয়ে রাখেন। রাতে কোন এক সময় অজ্ঞাত ওই যুবক ফার্মের বেড়ার স্পর্শে এলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম বলেন, পোল্ট্রি ফার্মের মালিক বেড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে রাখে এটা তার জানা ছিল না। এছাড়া যে যুবক মারা গেছে তাকেও তিনি চেনেনা। মনে হয় মৃত যুবকটি ওই ফার্মে চুরি করতে এসেছিল।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) একে সাইদুল হক ভূঁইয়া বলেন, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অজ্ঞাত ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অজ্ঞাত এ লাশের এখনো কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি। লাশ শনাক্তের জন্য পিবিআইয়ের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বাসাইল উপজেলার ফুলকী ইউনিয়নে আইসড়া বাজারে ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং এর এজেন্ট গ্রাহকের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এজেন্টের নাম সারোয়ার হোসেন সবুজ। সে বাসাইল উপজেলার ফুলকী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি।অভিযুক্ত সবুজ ফুলকী ইউনিয়নের আইসড়া গ্রামের মারিফত মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) সকালে গ্রাহকরা তাদের টাকা ফেরতের দাবীতে আইসড়া বাজারে অবস্থিত আইসড়া ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং বুথ ঘেরাও করে মিছিল সমাবেশ করেছে।
জানা যায়, তিন বছর আগে ডাচ্-বাংলা কেন্দ্রীয় ব্যাংক আইসড়া বাজারে এজেন্ট ব্যাংকিং বুথ চালু করে। বাসাইলের ফুলকী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সবুজ এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। বাজারে একটি দালান ভাড়া নিয়ে এজেন্ট ব্যাংকিং শুরু করেন। আইসড়া গ্রাম তাঁত সমৃদ্ধ এবং অনেক মানুষ প্রবাসী হওয়ায় তাদের স্ত্রী এবং তাদের পরিবারকে টার্গেট করেন সবুজ। ব্যাংকিং নীতিমালা উপেক্ষা করে সাধারণ রেটের চেয়ে উচ্চ হারের রেটের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে প্রলুব্ধ করেন। অতি মুনাফার আশায় গ্রামের অনেক মানুষ বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা এবং আইসড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা এজেন্ট ব্যাংকে টাকা জমা রাখেন।
অতি সম্প্রতি জমাকৃত টাকা উত্তোলন করতে গিয়েস গ্রাহকরা দেখেন তাদের জমানো টাকা ব্যাংক হিসেবে নেই। এজেন্ট সবুজের কাছে টাকা বিষয়ে জানতে চাইলে সে বিভিন্ন গ্রাহকে টাকার দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে টালবাহানা শুরু করেন এবং গ্রাহকেদের ঘুরাতে থাকেন। টাকা না পেয়ে গ্রাহকরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেন। তাদের জমানো টাকা পাওয়ার আশায় বাজারে সালিশী বৈঠক বসান। সেখানে সবুজ টাকা ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রতি দেন। হঠাৎ করে গত সাতদিন ধরে সবুজ এজেন্ট ব্যাংকিং বন্ধ করে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় গ্রাহকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে মিছিল সমাবেশ করেন।
সরেজমিন তথ্য নিয়ে জানা গেছে, গ্রাহক রুম্পা বেগমের ১৪ লাখ টাকা, আফজাল হোসেনের ৯ লাখ টাকা, রাজু আহমেদের ৭ লাখ টাকা, জলি বেগমের পৌঁনে ৪ লাখ টাকা, বাজারের চা বিক্রেতা আবুল হোসেনের ১ লাখ টাকা, ইতি খানের ৪০ হাজার টাকাসহ অসংখ্য গ্রাহকের প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে এজেন্ট সবুজ।
ক্ষুব্ধ দোকানদার রাজু বলেন, তিনি পাঁচ লাখ জমা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং এর টাঙ্গাইল অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এর পেছনে জড়িত রয়েছে। তা নাহলে সবুজ জমাকৃত কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সাহস পেত না। আত্মসাতের সাথে জড়িতদের বিচার ও টাকা ফেরতের দাবি জানান তিনি।
গ্রাহক ইতি খান অভিযোগ করে বলেন, তিনি বিশ্বাস করে ব্যাংকে টাকা রেখেছেন। সবুজ এমন প্রতারণা করবে বুঝতে পারেননি তিনি। প্রথম যখন তিনি টাকা জমা রাখতেন তখন মোবাইলে এসএমএস আসতো। পরবর্তীতে ব্যাংকে টাকা জমা দিলে এসএমএস আসতো না। এ বিষয়ে ব্যাংকে জানালে তারা বলতো সার্ভার বিকল হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্থ আফজাল হোসেন বলেন, বিদেশে থেকে পাঠানো ৯ লাখ টাকা তার মা ও স্ত্রী জমা রেখেছে। উচ্চ হারের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের টাকা জমা রাখতে বাধ্য করেছে। তারাও গ্রামের ছেলে হিসেবে সবুজকে বিশ্বাস করেছে। দেশে এসে টাকা উঠাতে গেলে জানতে পারেন টাকা নিয়ে পালিয়েছে সবুজ।
এ প্রসঙ্গে ফুলকী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, গ্রাহকের টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে গত তিন দিন আগে আইসড়া বাজারের সকল গ্রাহক, ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং পলাতক সবুজের বাবাকে নিয়ে সালিশী বৈঠকে বসা হয়। সবুজের বাবা তার সম্পতি বিক্রি করে গ্রাহকের টাকা পরিশোধের রাজি হন। সকলের উপস্থিতিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের হিসাবের ভিত্তিতে সবুজের বাবা টাকা পরিশোধ করবেন বলে সালিশি বৈঠকে জানান।
বাসাইল উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কামরান খান বিপুল বলেন, সবুজ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। সে একটি ব্যাংকের এজেন্ট ছিল। বহু গ্রাহকের টাকা নিয়ে পালিয়েছে বলে শুনেছি। এ ঘটনায় তাকে পদ থেকে অব্যহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগ। উপযুক্ত প্রমাণ পেলে, তাকে সংগঠন থেকে বহিস্কার ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টাঙ্গাইল ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং অফিসের ব্যবস্থাপক আব্দুর রউফ বলেন, বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ একটি বৈঠক করেছে। স্থানীয় লোকজনকে সাথে নিয়ে গ্রাহকদের টাকা পরিশোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বৃহস্পতিবার(২৪ জুন) আরও ১৭৫ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছে একজন। বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় এই আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়। সংক্রমণ প্রতিরোধে টাঙ্গাইল ও এলেঙ্গা পৌর এলাকায় চলছে কঠোর বিধিনিষেধ।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, জেলায় ৪৯৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৭৫ জন করোনা পজেটিভ হয়েছেন। আক্রান্তের হার ৩৫ দশমিক ২৮ শতাংশ। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ৮০ জন, কালিহাতীর ২৩, ঘাটাইলের ১৫, মির্জাপুরের ১৪, ভুঞাপুরের ১২, মধুপুর ও দেলদুয়ারের ৯ জন , বাসাইল ও গোপালপুরের ৫ জন এবং সখীপুরের ৩ জন রয়েছেন।
এ নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ালো ৬ হাজার ৭১৯। এ পর্যন্ত মারা গেছেন মোট ১০৫ জন। আরোগ্য লাভ করেছেন ৪ হাজার ৪৩৮ জন। জেলায় আক্রান্তের হার গত ১২ দিন ধরে ৩২ শতাংশের ওপরে রয়েছে।
করোনা সংক্রমণ রোধে টাঙ্গাইল ও কালিহাতীর এলেঙ্গা পৌর এলাকায় চলছে সপ্তাহব্যাপী কঠোর বিধিনিষেধ। বিধিনিষেধ অমান্য করে রাস্তায় নামায় বৃহস্পতিবার(২৪ জুন) দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১১৩ টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও রিকশা টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ আটক করেছে। আটকৃত এই সব অটোরিকশা ও রিকশা টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া দোকান খোলা রাখা এবং ব্যক্তিগত গাড়ি বের করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন বলেন, টাঙ্গাইল শহরে লকডাউন বাস্তবায়নে ১৩টি চেকপোস্ট ও ৫টি মোবাইল টিম কাজ করছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন আবুল ফজল মো. সাহাব উদ্দিন খান জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলায় সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সামাজিক দূরত্ব ও সরকারি নির্দেশনা মেনে মাস্ক ব্যবহার করলেই দ্রুত সময়ে মধ্যে করোনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
একতার কন্ঠঃ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনদের সাথে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে ৫ দালালকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (২১ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খায়রুল ইসলাম অভিযুক্ত ৫ জনকে সাজা প্রদান করেন।
ভ্রাম্যমান আদালত, টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবালিয়া এলাকার মৃত সামাদ আলীর ছেলে শফিকুল ইসলামকে ১৫ দিন, একই এলাকার মৃত মোকছেদ আলীর ছেলে তারেক, কোদালিয়া এলাকার পরেশ চন্দ্রের ছেলে পল্লব চন্দ্র, দেলদুয়ার উপজেলার পরাইখালী গ্রামের মালেক সিকদারের ছেলে রাকিব সিকদার ও কালিহাতী উপজেলার ভূক্তা এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে নাহিদ হাসানকে ৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে।সোমবার (২১ জুন) দুপুরে হাসপাতালের বাইরে অবস্থানকালে তাদের আটক করা হয়।
এ প্রসঙ্গে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘদিন যাবৎ একটি দালাল চক্র দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ রোগী ও স্বজনদের নানাভাবে হয়রানী এবং প্রতারনা করে আসছিল। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় দালাল চক্রের ৫ সদস্যকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া আবেদা খানম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী শারমীন আক্তার প্রেমিকের প্রতারণার শিকার হয়ে রোববার (২০ জুন) দিনগত রাতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি করটিয়া ইউনিয়নের খাগজানা গ্রামের মনছুর আলীর মেয়ে।
পারিবারি সূত্রে জানা যায়, খাগজানা গ্রামের মনছুর আলীর কলেজ পড়ুয়া মেয়ে শারমীন আক্তারের(২০) সাথে একই এলাকার খসরু মিয়ার ছেলে সাইদুল ইসলামের(২৫) দীর্ঘদিন যাবত প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। ওই প্রেমের সম্পর্ক এক পর্যায়ে শারীরিক সম্পর্কে রূপ নেয়। শারমিন আক্তার ইতোপূর্বে প্রেমিক সাইদুলকে একাধিকবার বিয়ের জন্য চাপ দিলে নানা তালবাহানা করতে থাকে। সর্বশেষ রোববার(২০ জুন) বিকালে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সাইদুল তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে। উপান্তর না দেখে শারমিন আত্মহননের পথ বেছে নেয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শারমীনের মা পারভীন বেগম জানান, তার মেয়ের সাথে সাইদুলের দীর্ঘদিন যাবত প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা দু’জনে স্বামী-স্ত্রীর মতো চলাফেরা করতো। সাইদুল ইসলাম তার মেয়েকে আদালতে হলফ নামার মাধ্যমে বিয়ে করে। কাবিন রেজিস্ট্রি করতে বলা হলে সাইদুল তার পরিবারের চাপে অস্বীকার করে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফ জানান, ছেলে-মেয়ের সাথে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি এলাকার সবাই জানে। ছেলে বিয়ে করতে অস্বীকার করায় মেয়েটি আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের চর বিহারী গ্রামে জুয়ার টাকা পরিশোধ করতে না পেরে শরীফ(৩৫) নামে এক জুয়ারি বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) তার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
এর আগে বুধবার(১৬ জুন) রাতে তিনি বিষপান করায় স্বজনরা তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মৃত শরীফ ওই গ্রামের উখিলা শেখের ছেলে।
ভূঞাপুরের গাবসারা ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির জানান, শরীফ জুয়া খেলায় আসক্ত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে জুয়া খেলায় অংশ নিতেন। জুয়া খেলার কারণে জুয়ারিদের কাছে প্রায় ৭ লাখ টাকা ঋণ গ্রস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
ওই ঋণের টাকা বুধবার রাতেই পাওনাদার জুয়াড়িদেরকে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টাকা সংগ্রহ করতে না পেরে তিনি বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন।
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. আব্দুল ওহাব মিয়া জানান, এ ঘটনায় কেউ কোন অভিযোগ করেনি। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠঃ তরুণ ইসলামিক স্কলার আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানসহ তার তিন সফর সঙ্গীর সন্ধানের দাবিতে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার(১৭ জুন) সকালে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণের সচেতন ছাত্র ও যুব সমাজের ব্যানারে শহীদ মিনারের সামনে উপস্থিত হয়ে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা।এতে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষও অংশগ্রহণ করেন।
এসময় নিখোঁজ তরুণ ইসলামিক স্কলার আবু ত্ব-হা আদনানসহ তার সাথে নিখোঁজ হওয়া তিন সফর সঙ্গীদের অতি দ্রুত সন্ধানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সহ প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
বক্তারা বলেন, তরুণ ও মেধাবী ইসলামী বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানসহ তার সফরসঙ্গী আব্দুল মুকিত, মোহাম্মদ ফিরোজ ও গাড়িচালক আমির উদ্দিন ফয়েজ নিখোঁজ রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। পুলিশ চাইলেই সবকিছু সম্ভব হয়। কিন্তু নিখোঁজ আবু ত্ব-হা আদনানদের বেলায় তা হচ্ছে না কেন? এ দেশের নাগরিক হিসেবে নিখোঁজদের সন্ধান চেয়ে দাবি জানানোর অধিকার আমাদের রয়েছে। কিন্তু এতো দিনে পেরিয়ে গেলেও তাদের সন্ধান না পাওয়াটা উদ্দেগজনক।
উপস্থিত সাধারণ শিক্ষার্থীরা এসময় আরো বলেন,অতি দ্রুত ত্ব-হা ও অন্যদের সন্ধান দিতে হবে।অন্যথায় টাঙ্গাইলসহ সারাদেশে গণআন্দোলনের হুশিয়ারি দেন উপস্থিত শিক্ষার্থীরা।