একতার কন্ঠ ডেস্কঃ বেগুনের বস্তায় ভরে ৩৫৫ বোতল নিষিদ্ধ ঘোষিত ভারতীয় ফেন্সিডিল পাচার কালে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১২। রবিবার(১১এপ্রিল)সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাস এলাকা থেকে একটি পিকআপ সহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরাহলো, রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী গ্রামের মৃত দুলা মিঞার ছেলে মোঃ নাজমুল ইসলাম (২২) এবং দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার মালদাই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে সিরাজুল ইসলাম(২৫)।
এ প্রসঙ্গে র্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ এরশাদুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের একটি টহল দল বঙ্গবন্ধুসেতু-ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর বাইপাস এলাকায় রংপুর থেকে ঢাকাগামী একটি সবজি বোঝাই পিকআপ (ঢাকা মেট্র-ছ ১২-০৩৬৮) আটক করে। পরে তল্লাশী চালিয়ে পিকআপে থাকা চারটি বেগুনের বস্তা থেকে ৩৫৫ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার এবং ট্রাকের দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
ফেন্সিডিল বহনকারী ট্রাকটিকেও জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়ায় ফাঁসি নিয়ে দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার(৯ এপ্রিল)দিবাগত রাতের কোন এক সময় করটিয়া শীলপাড়া ভবতোষ মাঝির পরিত্যক্ত ঘরে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।
পরে পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের নাম মল্লিকা বেগম (৩০)। সে সদর উপজেলার গোসাইবাড়ী কুমল্লি গ্রামের মো. মিন্টু মিয়ার মেয়ে।
জানা গেছে, আট বছর পুর্বে মির্জাপুর উপজেলার হাট ফতেপুর এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে বাদল মিয়ার সাথে পারিবারিক ভাবে মল্লিকার বিবাহ হয়। তাদের ঘরে মোস্তাকিন (৬) ও মুজাহিদ (৪) নামের দু’টি পুত্র সন্তান রয়েছে। স্বামী বাদল মিয়া অটোরিক্সা চালক। শুক্রবার রাত থেকে মল্লিকার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
নিহতের বাবা মিন্টু মিয়া জানান, শনিবার সকালে শীলপাড়া এলাকার ভোজন শীল ফোনে তাকে জানায়, শীল পাড়ায় তার মেয়ে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহিনকে ঘটনাটি জানান। পরে শাহীন পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্বার করে।
এ বিষয়ে করটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন,যেহেতু ফাঁসির ঘটনা, ময়না তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না ।
টাঙ্গাইল মডেল থানার সহকারী পরিদর্শক(এস আই) মো. ওয়াজেদ আলী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে যাই । নিহতের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, নিহতের বাম হাতে একাধিক ক্ষত চিহ্নের দাগ পাওয়া গেছে।সম্ভবত ব্লেড দিয়ে কাটার ফলে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতকে কেউ আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়ে থাকতে পারে। তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
প্রকাশ, এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে ভোজন শীলের সাথে নিহত মল্লিকার সর্ম্পক ছিল। মনমালিন্যের কারনে মল্লিকা আতœহত্যার পথ বেছে নিতে পারে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে বেপরোয়া গতির দুই মোটর সাইকেল সংঘর্ষে একজন নিহত ও দুই জন আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে টাঙ্গাইল-নাগরপুর আঞ্চলিক সড়কের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের গোমজানি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ওই মোটর সাইকেল চালক হচ্ছেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বরুহা গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে নাজিম মিয়া (২৫)।
আহতরা হচ্ছেন, বরুহা এলাকার গোলাপ মিঞার ছেলে সোহেল রানা (২২) ও টাঙ্গাইল পৌর এলাকার আশেকপুরের তারেকের ছেলে তন্ময় (২৬)।
এ প্রসঙ্গে দেলদুয়ার থানার এসআই এম এ আলমগীর জানান, দুই মোটরসাইকেলে দুই দিক থেকে তিন জন যুবক বেপরোয়া গতিতে তাদের গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছলে দুইমোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে তিনজন আহত হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাজিমকে মৃত ঘোষণা করেন।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ৬ নং ওয়ার্ডের কান্দাপাড়া কলোনীর পাশের রাস্তা থেকে বুধবার ( ৭ এপ্রিল) সকালে ১০০ লিটার চোলাই মদ সহ চার মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১২)।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে- শহরের কান্দাপাড়ার(রবিদাস পাড়া) জয়নাল রবিদাসের ছেলে কৃষ্ণ রবিদাস(৩৫), মৃত অন্তু রবিদাসের ছেলে কৈলাস রবিদাস(৩৩), মৃত শিবু রবিদাসের ছেলেতুলসী রবিদাস(৪২) ও শহরের পাড়দিঘুলিয়ার মো. আব্দুল লতিফ মন্ডলের ছেলে মো. এহসানুল হক মিলন(২৬)।
র্যাব-১২ জানায়, সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল কোম্পানীর ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার মো. এরশাদুর রহমানের নেতৃত্বে একদল র্যাব সদস্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের কান্দাপাড়া কলোনীর পাকা রাস্তার উপর অভিযান চালিয়ে ১০০লিটার চোলাই মদ সহ উল্লেখিত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে।পরে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের পূর্বক তাদেরকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ মধুুপুরে আদিবাসী কোচ সম্প্রদায়ের সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত এক কিশোরীকে অপহরণের ৭ দিন অতিবাহিত হলেও তার কোন সন্ধান মেলেনি। অপহৃতা সৃষ্টি বর্মন’র বাবা রাম চন্দ্র বর্মন বাদী হয়ে মধুপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
রহস্যজনক কারণে পুলিশ ঘটনার ৪ দিন পর রোববার (৪ এপ্রিল) রাতে মামলাটি রেকর্ড করেন। সাতদিনেও সৃষ্টি বর্মন উদ্ধার না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছে মেয়েটির পরিবার।
স্থানীয় পীরগাছা সেন্ট পৌলস উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওই কিশোরীকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে উত্যক্ত করত মান্নান। এছাড়া অপহরণের হুমকিও দিত । এ বিষয়ে মেয়েটি নিজেই মধুপুর থানায় দুই মাস আগে একটি সাধারন ডাইরী করেছিল। বুধবার রাতে মেয়েটি নিখোঁজ হওয়ার পর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা মান্নানের বাড়ি যান। তবে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি।
মধুপুর কোচ আদিবাসী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ বর্মণ অনতিবিলম্বে অপহৃতা কিশোরীকে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। টাঙ্গাইল জেলা কোচ আদিবাসী ইউনিয়নের সভাপতি রতন কুমার বর্মণ বলেন, অপহরণের এ ঘটনা দুঃখজনক। মেয়েটিকে দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান তিনি।
ফুলবাগচালা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বেনু জানান, ওই যুবক আগে থেকেই মেয়েটিকে উত্যক্ত করত। দুই মাস আগে থানায় আমার উপস্থিতিতে ভূক্তভোগি ওই কিশোরী জিডি করেছিল।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিক কামাল বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযুক্ত মান্নানকে গ্রেফতার ও অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে গভীর রাতে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে মাকে বেঁধে রেখে ছিনতাই করা শিশু জুনায়েদকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) ভোরে দেলদুয়ার উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রাম থেকে পুলিশ বুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও সখীপুর থানার পুলিশ যৌথ অভিযানে শিশুটিকে উদ্ধার করে। পিবিআই টাঙ্গাইলের এসআই মেহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শিশুটি বর্তমানে পিবিআই টাঙ্গাইলের হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এসআই মেহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন খান বলেন, সখীপুর থানা পুলিশ ও পিবিআই যৌথ উদ্যোগে সোমবার (৫ এপ্রিল) রাত ১০টা থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) ভোরে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। শিশুকে বিক্রি করার জন্য তারা জাঙ্গালিয়া গ্রামে নিয়ে রেখেছিলো। বিক্রির আগেই উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় কালিহাতীর হাবলা গ্রামের পরান ডাকাত ও তার স্ত্রীসহ তিন জনকে আটক করা হয়েছে।
প্রকাশ, গত বুধবার (৩১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার শোলাপ্রতিমা এলাকার ট্রাকচালক আছর উদ্দিনের ঘরে সিঁধ কেটে ঢুকে দুর্বৃত্তরা তার স্ত্রী কল্পনা আক্তারের মুখ বেঁধে আড়াই মাসের শিশু জোনায়েদকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) শিশুর মা কল্পনা আক্তার বাদি হয়ে সখীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে ভাসানী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি স্মরণ করলো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক মওলানা ভাসানীর সন্তোষের বসতবাড়ি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্মিত ও নির্মানাধীন গৃহাদী ও দরবার হল পুড়িয়ে দেয়া দিন। এ উপলক্ষে রবিবারস (৪ এপ্রিল) বিকাল ৫ টায় টাঙ্গাইলের সন্তোষে ঐতিহাসিক দরবার হলে একটি পাঠচক্রের আয়োজন করা হয়।
এতে সভাপতিত্ব এবং বিভিষিকাময় সেই দিনের ঘটনাপ্রবাহ বর্ণনা করেন মোহাম্মদ হোসেন। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভাসানী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব আজাদ খান ভাসানী। আরো উপস্থিত ছিলেন প্রগতিশীল বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
দিবসটি স্মরণে ভাসানী পরিষদ উপদেষ্টা মোহাম্মদ হোসেন শুরুতেই মওলানা ভাসানীর সেই সময়কার বসত-ভিটা চিহ্নিত করেন এবং উপস্থিত সকলে তা সংরক্ষণের জন্য জোর দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত্রি দ্বিপ্রহরে পাকিস্তানি হানাদাররা সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর। আক্রমণ করে আধাসামরিক বাহিনীর দপ্তর পিলখানা, পুলিশ সদর দপ্তর রাজারবাগ আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে। এর মধ্যদিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা আসে আর ২৬ মার্চ শুরু হয় প্রতিরোধ ও স্বাধীনতা যুদ্ধ। এই যুদ্ধে ইয়াহিয়া-টিক্কা বাহিনীর একটি প্রধান আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ছিল টাঙ্গাইল, বিশেষত সন্তোষ। ৩ এপ্রিল তারা টাঙ্গাইলে এবং ৪ এপ্রিল মওলানা ভাসানীর খোঁজে সন্তোষে প্রবেশ করে। সেখানে তাঁকে না পেয়ে তারা তাঁর বসতবাড়ি এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্মিত ও নির্মানাধীন গৃহাদীতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহুর্তেই ছাঁই হয়ে যায় তাঁর স্বপ্নের ক্যাম্পাস, বসতবাড়ি। পুড়ে যায় স¤্রাট আওরঙ্গজেবের হাতে লিখা কোরআন শরীফসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ দলিল-দস্তাবেজ। এরপর তারা পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় তাঁর প্রিয় সন্তোষ দরবার হলে। কিন্তু অলৌকিকভাবে কিছুক্ষণের মধ্যে তা নিভে যায়। অতপরঃ সন্তোষে ভাসানীকে না পেয়ে ৬ এপ্রিল রোজ মঙ্গলবার বর্বর হানাদাররা মাইল দু’য়েক পশ্চিমে বিন্যাফৈর গ্রামে প্রবেশ করে। হানাদাররা গ্রামটিকে চতুর্দিক থেকে ঘিরে ফেলে এলোপাথাড়ি গোলাগুলি শুরু করলে গ্রামবাসী দিক-বিদিক ছুটে পালাচ্ছিল। মওলানা ভাসানী হানাদার বাহিনীর বিন্যাফৈর উপস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে প্রথমে বাড়ির উত্তর দিকের পুকুর পাড়ে অবস্থান নেন এবং পরবর্তীতে গান-পয়েন্টে এগিয়ে আসা হানাদারদের পাশ দিয়েই চাঁদর মুড়ি দিয়ে হাটুরে জনতার সাথে মিশে পশ্চিম দিকে চলে যান। এক সময়ে স্ট্রেচার বুলেট দিয়ে দূর থেকেই আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় তাঁর এই বাড়িতে। এতটুকু ঘটাতে সাকুল্যে পাঁচ মিনিটের মতো লেগেছিল; কিন্তু কার্যত একটা একতরফা যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। মওলানা ভাসানী আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং প্রত্যুৎপন্নমতিত্বে ছদ্মবেশে তা মোকাবেলা করে যমুনার চরের দিকে চলে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে সিরাজগঞ্জ হয়ে নৌকাযোগে ধলেশ্বরী-যমুনা হয়ে রৌমারীর নামাজের চর সীমান্ত দিয়ে তিনি ১৫-১৬ এপ্রিল ভারতে প্রবেশ করেন।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত লকডাউনে স্বাস্থ্য বিধি মান হচ্ছে না কোন ধরনের খুচরা ও পাইকারী বাজার গুলোতে। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পরিদর্শন ও তৎপরতা চলাকালে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার চেষ্টা করা হয়। তারা চলে গেলেই মানা হচ্ছে না কোন স্বাস্থ্য বিধি। স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার বিষয়ে বাজার কমিটির দৃশ্যমান কোন ধরনের তৎপরতা চোখে পড়েনি। তবে ব্যতিক্রম দৃশ্য দেখা যায় টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনালে। টাঙ্গাইল বাসটার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার কোন গাড়ি ছেড়ে যায়নি ও কোন গাড়ি শহরে প্রবেশও করেনি। মহাসড়কেও দূরপাল্লার কোন যানবাহন চলতে দেখা যায়নি।
সোমবার(৫ এপ্রিল) সরেজমিনে টাঙ্গাইল শহরের পাইকারী বাজার পার্ক বাজার, বটতলা, সাবালিয়া, আমিন বাজার, ছয়আনি বাজার,সদর উপজেলার করটিয়া সহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা প্রতিদিনের ন্যায় দোকান খুলে মালামাল কেনাবেঁচা করছে। কাঁচা বাজার ছাড়াও অন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। এই বাজার গুলোতে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার জন্য কোন ধরনের তৎপরতা কিম্বা বিধি নিষেধ মানছেনা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাগণ।
ব্যবসায়ীরা জানায়, সামনে বৈশাখের পর পরই পবিত্র রমজান- এ সময়ে দোকানপাট বন্ধ রাখলে ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে তার ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। এছাড়া অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিকল্প নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে লকডাউন স্বাস্থ্য বিধি বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করায় তারা ওই সময় দোকানপাট বন্ধ রাখলেও পর মুহূর্তেই খুলছেন।সবজির বাজার খোলা জায়গায় নেওয়ার নিদের্শনা থাকলেও বাজার কমিটি তা বাস্তাবয়ন করিনি। ব্যবসায়ীদের দাবী, নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে দোকানপাট বন্ধ রাখার ঘোষণা দিতে হবে।
ক্রেতারা জানায়, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতেই তারা বাজারে এসেছেন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তারা মাস্ক ব্যবহার ও দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করার চেষ্টা করছেন। তবে অধিক সংখ্যাক ক্রেতার কারনে স্বাস্থ্য বিধি মেনে কেনা-কাটা করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি জানান, সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার লকডাউন ঘোষণা করেছে। সাধারণ মানুষের সাময়িক অসুবিধা হলেও তা জীবনের চেয়ে বড় নয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলায় লকডাউন বাস্তবায়নে নানা উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। এছাড়া সর্বসাধারণকে তিনি সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান।
এদিকে টাঙ্গাইলের পার্ক বাজারে লকডাউনের প্রথম দিনে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রেখে বেঁচাকেনা করার দায়ে চার ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ডেপুটি নেজারত কালেক্টর(এনডিসি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে সোমবার সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার হোসেন জানান, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে শহরের পার্ক বাজারে হোটেলে বসে খাবার খাওয়ার অভিযোগে তিন ব্যবসায়ীকে আড়াই হাজার টাকা ও পেঁয়াজের দাম বেশি রাখায় এক ব্যবসায়ীকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া সকলকে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতসহ সরকারি নির্দেশনা মানার জন্য তাগিদ ও মাইকিং করা হয়।
লকডাউন বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান। এ সময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ আবারো সাইবার হামলার শিকার বাংলাদেশ। এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ দুইশ’র বেশি প্রতিষ্ঠানে হানা দিয়েছে প্রযুক্তি সন্ত্রাসীরা। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর এই তথ্য দিয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান বিডি সার্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়, মাইক্রোসফট এক্সচেঞ্জ সার্ভারের মাধ্যমে স্পর্শকাতর এসব প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে হামলা করেছে হাফনাম হ্যাকারস গ্রুপ। তথ্য প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, মাইক্রোসফটের এই সেবাটি নিরাপত্তার দিক থেকে খুবই দুর্বল হওয়ায় সুযোগ নিয়েছে হ্যাকাররা।
মাত্র এক মাস আগেই, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ দেশের বেশ কয়েকটি আর্থিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলার শঙ্কায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছিলো সরকারের কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম-সিআইআরটি। সংস্থাটির নজরে এসেছিলো, ক্যাসাব্লাংকা নামের একটি হ্যাকার গ্রুপের অপতৎপরতা।
মাস না পেরেতেই এবার সত্যিই হ্যাকারদের কবলে পড়েছে বাংলাদেশ। তবে ক্যাসাব্লাংকা নয় দুইশ’ প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিকেন্দ্রিক নিরাপত্তার জাল ছিন্ন করেছে হংকং-ভিত্তিক হাফনাম হ্যাকারস গ্রুপ। এতে অনেক প্রতিষ্ঠানের গোপনীয় তথ্য ঝুঁকিতে পড়েছে উল্লেখ করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠিও দিয়েছে প্রযুক্তি-কেন্দ্রিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প বিডি সার্ট। যদিও এটিকে পুরোপুরি সাইবার হামলা বলছেন না প্রযুক্তিবিদরা।
প্রযুক্তিবিদ সালাউদ্দিন সেলিম বলেন, বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সালাউদ্দিন সেলিম বলেন, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ ২০০ প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট এক্সেল সার্ভারে সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। মাইক্রোসফটল এক্সেল সার্ভার হচ্ছে একটি উইন্ডোস বেজড ইমেইল সিস্টেম। ইমেইলের তথ্য আদান প্রদানের জন্যে এটি ব্যবহার হয়। এটাকে আসলে পরিপূর্ণ সাইবার হামলা বলা যায় না।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, বাংলাদেশ ব্যাংক, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা -বিটিআরসি, বাংলাদেশ আর্মি, এভারকেয়ার হাসপাতাল, ট্রাস্ট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকসহ তথ্য ঝুঁকিতে পড়েছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। যাদের সবাই মাইক্রোসফটের ইমেইল সেবা এক্সেল ব্যবহার করেন, যা কিনা নিরাপত্তার দিক দিয়ে খুবই দুর্বল।
প্রযুক্তিবিদ সালাউদ্দিন সেলিম বলেন, এটি আসলে ইমেইল সিস্টেমের ওপর হামলা হয়েছে। বাংলাদেশে আরো অনেক ধরনের ইমেইল সিস্টেম ব্যবহার হয়। নিরাপত্তার দিক থেকে এই মাইক্রোসফট ইএমেইল সিস্টেম একটু দুর্বল প্রকৃতির। যদিও এটা একটা বড় ধরনের হামলা তাই এটাকে অবহেলার কিছু নেই। তবে আমি মনে করি এটা দ্রুত রিকোভার করা সম্ভব।
গত বছরের আগস্টে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর সাইবার হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। উত্তর কোরিয়ার একটি হ্যাকার গ্রুপ এই হামলা চালাতে পারে এমন সতর্কতায় অনলাইন ব্যাংকিং সেবা সীমিত করার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় সব ব্যাংকই রাতে বন্ধ রেখেছিলো এটিএম সেবা
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের সখীপুরে সিঁধ কেটে জুনায়েদ নামের এক দুই মাসের শিশু চুরি হয়েছে। উপজেলার শোলাপ্রতিমা গ্রামে বুধবার (৩১মার্চ) গভীর রাতে এ মর্মান্তিক চুরির ঘটনা ঘটে।জুনায়েদ ওই গ্রামের ট্রাক চালক আছির উদ্দিনের ছেলে । এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
শিশুর মা কল্পনা আক্তার জানান, স্বামীর ট্রাক চালাতে যাওয়ায় বুধবার রাতে তিনি ওই শিশুকে নিয়ে একাই ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত আনুমানিক তিনটার দিকে দুইজন চোর সিঁধ কেটে তার ঘরে ঢুকে। সে হঠাৎ জেগে ওঠায় একজন চোর তার মুখ চেপে ধরে, মুখে গামছা বাধে। আরেকজন চোর শিশুকে কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। চোররা পালিয়ে গেলে আমার ডাকাডাকিতে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে সাইদুল হক ভূঁইয়া বলেন, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ নেওয়া হয়েছে। চুরি যাওয়া শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
একতার কণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলে নিষিদ্ধ মাদক হিরোইন সহ তাসলিমা বেগম নামে এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র্যাব-১২।
বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) দূপুরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। সে গোড়াই এর মঈন নগর এলাকার রাজু আহমেদের স্ত্রী। তার বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় আরো ৫টি মাদকের মামলা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে র্যাব-১২ সিপিসি ৩ নং ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার মো. এরশাদুর রহমান জানান, অভিযান চালিয়ে ছয় গ্রাম হিরোইন সহ ওই নারীকে আটক করা হয়। পরে মির্জাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে তাসলিমা বেগমকে মির্জাপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।