আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে পাওনা টাকা চাওয়ার জেরে এক যুবদল নেতার মিথ্যা মামলা ও ক্রমাগত হুমকিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এক প্রবাসী ও তার পরিবার। প্রতিকারে মামলা দায়ের করেও সুফল না পেয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওই যুবদল নেতার অত্যাচার থেকে রেহাই পাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন সৌদী প্রবাসী মো. আশিকুর রহমান তালুকদার।
আশিকুর রহমান কালিহাতী উপজেলার বাসজানা মালতি গ্রামের শাহজাহান তালুকদারের ছেলে।
বুধবার (১৯ মার্চ) সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মো. আশিকুর রহমান তালুকদার লিখিত বক্তব্যে বলেন, তিনি দীর্ঘদিন যাবত সৌদি আরবের একটি ভিসা ব্যবসার কোম্পানিতে কাজ করছিলেন। ২০২২ সালে তিনি কোম্পানির ভিসা ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্ব পান এবং সুনামের সঙ্গে ভিসা ব্যবসা পরিচালনা করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার গ্রামের আমিনুর ইসলাম রুবেল বাংলাদেশে ভিসা ব্যবসা করার আগ্রহ প্রকাশ করে সহযোগিতা চান। ওই সময় কালিহাতী উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও এলেঙ্গা পৌরসভার চিনামুড়া গ্রামের হাসমত আলী রেজা তার পার্টনার বলে জানান। অত:পর যুবদল নেতা হাসমত আলী রেজা তার সাথে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ করতে থাকেন। যোগাযোগের এক পর্যায়ে হাসমত আলী রেজা ১৩টি রিক্রুটিং লাইসেন্সের নাম্বর দিয়ে ভিসা পাঠানোর অনুরোধ করেন। পরে তিনি ওই ১৩টি লাইসেন্সের মাধ্যমে ৩ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ১১৯টি ভিসা পাঠান। ভিসার বিপরীতে মোট টাকার মধ্যে ৫৮ লাখ টাকা হাসমত আলী রেজা তাকে পাঠান। বাকি টাকা না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। কোম্পানির মালিক বাকি টাকার জন্য চাপ দিলে তিনিও যুবদল নেতা হাসমত আলী রেজা ও আমিনুর ইসলাম রুবেলকে চাপ দেন। কিন্তু তারা পাওনা টাকা পরিশোধ করতে গড়িমসি করতে থাকেন।
তিনি বলেন, কোম্পানির পাওনা টাকার চাপে তিনি বাংলাদেশে গ্রামের বাড়ির সম্পত্তি বিক্রি করে মালিকের টাকা পরিশোধ করে ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরে আসেন। দেশে এসে আমিনুর ইসলাম রুবেল ও হাসমত আলী রেজার কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাকে ঢাকার অফিসে যেতে বলেন। তাদের কথা মতো ঢাকার অফিসে গেলে তারা কোন টাকা দিতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এক পর্যায়ে তিনি রাগান্বিত হয়ে টাকা দাবি করলে তাদের পালিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তাকে নাজেহাল করে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, এর কিছুদিন পর যুবদল নেতা হাসমত আলী রেজা মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগে টাঙ্গাইলের কালিহাতী আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে ওই মামলায় আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন পান। পরে পাওনা টাকার দাবিতে তিনিও আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারি হলে হাসমত আলী ও রুবেল স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে আপোষ-মীমাংসার কথা বলে আদালত থেকে জামিন পান। এরপরও বাকি টাকা পরিশোধ না করে বা আপোষ-মীমাংসায় না বসে তাদের পোষা সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তাকে কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায় আটক করে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেয়। মামলা তুলে না নিলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এসবের পরেও মামলা তুলে না নেওয়ায় হাসমত আলী রেজা আবার তার নামে সাজানো অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
তিনি বলেন, ন্যায্য পাওনা টাকা দাবি করায় এহেন হয়রানি ও অত্যাচার-নির্যাতন এবং ক্রমাগত হুমকিতে পরিবার নিয়ে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে তিনি প্রশাসনের সুদৃষ্টি ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীর পরিবারসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেনকে সোমবার (১৭ মার্চ) দুপুরে চার মামলায় মোট ১৯ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
টাঙ্গাইল সদর আমলী আদালত একটি হত্যাসহ তিনটি মামলায় ১৪ দিন এবং মির্জাপুর আমলী আদালত একটি হত্যা মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছানোয়ার হোসেনকে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা মহানগরীর ভাটারা থানার পুলিশ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। ভাটারা থানায় দায়েরকৃত একটি মামলায় তাকে রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। রিমান্ড শেষে কেরানিগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন তিনি।
সোমবার দুপুরে তাকে প্রথমে টাঙ্গাইল সদর আমলী আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় টাঙ্গাইল সদর থানায় স্কুল ছাত্র মারুফ হত্যা মামলা এবং আরও দুইটি ভাঙচুর ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের উপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ সময় মামলাগুলোতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ৭ দিন করে রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক গোলাম মাহবুব খাঁন মারুফ হত্যা মামলায় ও দ্রুতবিচার আইনে দায়েরকৃত মামলায় ৫ দিন করে এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের উপর হামলা মামলায় ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পরে তাকে মির্জাপুর আমলী আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিতে নিহত কলেজ ছাত্র মারুফ হত্যা মামলায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মোছা: রুমি খাতুন ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
টাঙ্গাইলের কোর্ট ইন্সপেক্টর মো: লুৎফর রহমান ১৯ দিন রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহম্মদ জানান, সোমবার থেকেই ছানোয়ার হোসেনকে তারা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করবেন।
উল্লেখ্য, ছানোয়ার হোসেন ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলামের বাড়ি দখল করে ‘পাগলের আশ্রম’ চালু করার ঘটনায় ছাত্র প্রতিনিধি মারইয়াম মুকাদ্দাসকে (মিষ্টি) গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।
রোববার (৯ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টার দিকে আকুরটাকুর পাড়া হাউজিং এলাকায় তার নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার (৮ মার্চ) রাতে সাবেক সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলামের স্ত্রী রওশন আরা খান বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে আসামি হিসেবে মারইয়াম মুকাদ্দাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর সহযোগী অজ্ঞাতনামা আরও আট থেকে নয়জনকে আসামি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত মারিয়ামের স্বামীর নাম শাহ্ আলমাস, বাবার নাম মাজাহারুল ইসলাম। তাঁদের গ্রামের বাড়ি বাসাইল উপজেলার ফুলকি ইউনিয়নের যশিহাটী গ্রামে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, শনিবার (৮ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুরপাড়া ছোট কালীবাড়ি সড়কে জোয়াহেরুল ইসলামের পাঁচতলা ভবনের কেঁচিগেটের ছয়টি তালা ভেঙে মারইয়াম মুকাদ্দাস মিষ্টি অজ্ঞতনামা আরও আট থেকে নয়জনকে সঙ্গে নিয়ে ভবনে ঢোকেন। তাঁরা ৫ লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যান। এ ছাড়া আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁরা ১৭ জন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিন্নমূল মানুষকে ভবনের কক্ষে প্রবেশ করিয়ে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে রাখেন। এ ঘটনার খবর পেয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাদী (রওশন আরা খান) বাসায় গিয়ে মারইয়াম মুকাদ্দাসকে ঘটনার বিষয় জিজ্ঞাসা করেন। এ সময় মারিয়াম ক্ষিপ্ত হয়ে রওশন আরাকে বলেন, এ বাড়িতে বসবাস করতে হলে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দিতে হবে। অন্যথায় আগামী সাত দিনের মধ্যে বাড়িটি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহম্মদ বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামি মারিয়ামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে তাঁকে সোমবার (১০ মার্চ) সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্তসহ গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, মারইয়াম মুকাদ্দাসের নেতৃত্বে গত ৬ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য প্রয়াত সভাপতি ফজলুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম ও সাবেক পৌর মেয়র জামিলুর রহমানের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি দখল করে বৃদ্ধাশ্রম, পাগলদের আশ্রম, পশু আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।
শনিবার (৮ মার্চ) জোয়াহেরুল ইসলামের বাড়ি দখল করে ছিন্নমূল মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষদের ওঠানো হয়। পরে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুহুল আমিন শরিফের নেতৃত্বে ১৭ জন ছিন্নমূল মানুষকে উদ্ধার করে দখল হওয়া বাড়িটি খালি করা হয়। শনিবার রাত দুইটার দিকে মুচলেকা নিয়ে মারিয়ামকে ছেড়ে দেওয়া হয়। উদ্ধার করা ১৭ জন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সমাজসেবা বিভাগের মাধ্যমে ময়মনসিংহের ধলা ও গাজীপুরের কাশিমপুর আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের প্রধান সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নবনির্বাচিত সদস্য আব্দুল বাকী মিয়ার (৭৩) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৫ মার্চ) বিকালে দ্বিতীয় জানাজা শেষে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ফুলকি ইউনিয়নের যশিহাটী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে বুধবার দুপুরে তার মরদেহ টাঙ্গাইল কোর্ট চত্বরে আনা হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত জানাজায় অংশগ্রহণ করে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. নাজিম-উদ্দৌলা, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তফা শাহরিয়ার খান প্রমূখ।
জানাজায় আরও উপস্থিত ছিলেন, নারী ও শিশু দমন নির্যাতন ট্রাইবুনালের বিচারক (জেলা জজ) কাউসার আহমেদ, টাঙ্গাইল বারের সভাপতি মুহম্মদ জহুর আজহার খান, সাধারণ সম্পাদক এ.কে.এম রফিকুল ইসলাম রতন, পিপি শফিকুল ইসলাম রিপন , নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি ওমরাও খান দিপুসহ বারের সিনিয়ার ও জুনিয়র আইনজীবীগণ।
এছাড়া কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং জেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসানুজ্জামিন শাহীন, জেলা বিএনপি’র সাধারণল সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ জানাযার নামাজে অংশগ্রহণ করে।
এর আগে বুধবার সকালে টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়া এলাকার নিজ বাসভবনে অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রবীণ আইনজীবী আব্দুল বাকী মিয়া। গুরুত্বর অসুস্থ অবস্থায় তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পথে সকাল ১০টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।
উল্লেখ্য, আব্দুল বাকী মিয়া ১৯৭৮ সালে আইনজীবী হিসেবে টাঙ্গাইল বারে যোগদান করেন। তিনি প্রধান সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ ছাড়া ২০০১ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ছিলেন। টাঙ্গাইল জেলা এ্যাডভোকেট বার সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ‘ব্লাস্ট’ টাঙ্গাইল ইউনিটের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ৯৪ বোতল ফেন্সিডিলসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৩ মার্চ) রাতে উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের সাফর্তা বৈরাম খানের লেবু বাগান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার সাফর্তা গ্রামের সেলিম খানের ছেলে মো. রাকিব খান (২৪) ও লালমনিহার জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার পাখাতি গ্রামের মৃত মান্নান মিয়ার ছেলে মো. বাদশা মিয়া (৩৭)।
মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান জানান, মাদক বিক্রির গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতে বৈরাম খানের লেবু বাগানে অভিযান চালায় তারা। এসময় পুলিশকে দেখে গ্রেপ্তার বাদশা মিয়া ও রাকিব খান দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ধরে ফেলে।
তিনি আরও জানান, বাজারের ব্যাগে ভর্তি ৯৪ বোতল ফেন্সিডিলসহ তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মির্জাপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন জানান, মঙ্গলবার গ্রেপ্তারকৃতদের টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলে ভোজ্যতেলের দাম নিয়ন্ত্রণে যৌথবাহিনীর অভিযান পরিচালিত হয়েছে। শনিবার (১ মার্চ) বেলা ১১টায় টাঙ্গাইল শহরের ছয়আনী বাজারে খুচরা ও পাইকারী দোকানগুলোতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এসময় কোন ব্যবসায়ীকে জরিমানা না করলেও বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সতর্ক করা হয়েছে। বাজারের তেলের ব্যবসায়ীদের রমজানে বাড়তি দামে বিক্রি না করার নির্দেশনা দেয়া হয়।
জেলা ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল যৌথবাহিনী অভিযানে নেতৃত্ব দেন। এসময় তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা বাজারে ভোজ্যতেলের সংকট তৈরি করে বাড়তি দামে তেল বিক্রি করছে এমন অভিযোগে যৌথবাহিনীর অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে বাজারে গিয়ে বাড়তি দামে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযানে সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার জিয়াউর রহমান, পাঁচআনী ও ছয়আনী বাজার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক আহসান খান আছুসহ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আরমান কবীরঃ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে রাজশাহীগামী চলন্ত বাসে ডাকাতির সময় কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।
তিনি জানান, নারীদের কাছ থেকে কিছু স্বর্ণালঙ্কার লুণ্ঠিত হয়েছে। ওই সময় দুষ্কৃতকারী ডাকাত দল নাকফুল কানের দুল নেওয়ার সময় নারীদের টাচে গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি এটা আমরা জানতে পেরেছি। শ্লীলতাহানি বলা যেতে পারে।
শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, ডাকাতি ও নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. শহিদুল ইসলাম (২৯), মো. সবুজ (৩০) ও মো. শরীফুজ্জামান (২৮)।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, চলন্ত বাসে ডাকাতি ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় সাভারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল, একটি ছুরি ও ২৯ হাজার ৩৭০ টাকা উদ্ধার করা হয়। মামলা হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তথ্য প্রযুক্তি ও বিভিন্ন সোর্স ব্যবহার করে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদেরকে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে।
এ ঘটনায় কর্তব্যে অবহেলার দায়ে মির্জাপুর থানার ডিউটি অফিসার আতিকুজ্জামানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাতে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী বাসে মির্জাপুর এলাকায় তিন ঘণ্টা ধরে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। শ্লীলতাহানি করা হয় দুই নারীকে। পরে যাত্রীরা বাসটি আটকে নাটোরের বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের সহায়তা চায়। বাসযাত্রীদের হাতে আটক বাসচালক বাবলু, সুপারভাইজার মাহবুব ও হেলপার সুমনকে বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাতে ওই ঘটনায় বাসের যাত্রী ওমর আলী বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় অজ্ঞাত ৮-৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
সাহান হাসানঃ টাঙ্গাইলের মধুপুরে প্রেমিকাকে ডেকে এনে বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলার মধুপুর উপজেলার পৌর শহরের মালাউড়ী কাজী পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মধুপুর থানা থেকে ৩ থেকে ৪ শত মিটারের মধ্যেই ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে। তবে ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ কৌশলে অভিযুক্তদের আটক করেছে।
অভিযুক্ত দুই বন্ধু হলো- উপজেলার পঁচিশা গ্রামের সাইদুর রহমান খান রুবেলের ছেলে ফাহাদ খান ফাহিম (১৯) এবং একই জেলার গোপালপুর উপজেলার চরমােহাইল হেমনগর গ্রামের (মধুপুর মালাউড়ী কাজীপাড়ার ভাড়াটিয়া) মনিরুজ্জামানের ছেলে নাঈম মাহাদী সাফি (১৮)।
ভুক্তভোগী ওই তরুণী পরিবারসহ একই এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতো।
এ ঘটনায় বুধবার দিনগত রাত ১২ টার পর তরুণীর মা বাদী হয়ে মধুপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা ও পর্ণোগ্রাফি ধারায় মামলা দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, ওই তরুণীর সঙ্গে ফেসবুকের সুবাদে ৮ মাস আগে ফাহিমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তারা বিভিন্ন স্থানে ডেটিং করে বেড়াতো। বিয়ের নিশ্চয়তা দিয়ে আপত্তিকর ছবি তুলে, শারীরিক সম্পর্ক করে। ফাহিম তার বন্ধু সাফির কাছে ওইসব ছবি শেয়ার করে। এসব ছবি নিয়ে প্রেমিকের বন্ধু সাফি তরুণীকে ব্ল্যাক মেইল শুরু করে। ওইসব ছবি ডিলিট করার কথা বলে এক পর্যায়ে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ফাহিম বন্ধু সাফির পরিবারের ভাড়া বাসায় ওই তরুণীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক করে।
সর্বশেষ বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিয়ের কথা বলে ওই তরুণীকে দেখা করতে বন্ধু সাফির একই বাসায় আমন্ত্রণ জানায় প্রেমিক ফাহিম। আলাপের এক পর্যায়ে ফাহিম আবারও জোর করে শারীরিক সম্পর্ক করে। গোপনে আপত্তিকর ছবি তুলে বন্ধু সাফি। পরে সেই ছবি দেখিয়ে সাফি সুযোগ নিতে চাইলে ফাহিম বাধা না দিয়ে এতে সম্মতি জানায়।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমরানুল কবির ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ভিক্টিমের মা বাদী হয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা ও পর্ণোগ্রাফি ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। ভিক্টিমের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে, সহকারী পুলিশ সুপার (মধুপুর সার্কেল) আরিফুল ইসলাম জানান, ঘটনা জানার পরই অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশ কৌশলে অভিযুক্তদের আটক করতে সক্ষম হয়েছে। তারা ব্ল্যাকমেইল করে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে টাকাও দাবি করতো। আটককৃতদের বিরুদ্ধে শুধু নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা নয়, পর্ণোগ্রাফির ধারায়ও মামলা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আটকৃতরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিবে বলে আশা করছি।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান রুবেলকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত, রুবেল পৌর শহরের ১৩নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ থানাপাড়া এলাকার মৃত মনিরুজ্জামান খানের ছেলে বলে জানা গেছে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ গ্রেপ্তারের বিষয় নিশ্চিত করেছেন ।জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইল শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে টাঙ্গাইল সদর থানায় আনা হয়।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহমেদ জানান, আসাদুজ্জামান রুবেল টাঙ্গাইল সদর থানায় ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর দায়ের করা মামলার (মামলার নং-৮) এজাহার নামীয় আসামি।
তিনি আরও জানান, তার বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সং/১৯) এর ৪/৫ ও দন্ডবিধির ১৪৩/৩৪১/৩০৭/৩২৬/১০৯/১৪৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতকে মঙ্গলবার দুপুরে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ টাঙ্গাইল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রকাশ, আসাদুজ্জামান খান রুবেল টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। সে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে নৌকার প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুনের পিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের অন্তবর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে পোষ্ট দিয়ে সক্রিয় ছিল।
আরমান কবীরঃ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় এক ব্যক্তিকে হামলার ঘটনায় রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা মামলায় টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. ছানোয়ার হোসেনকে (৫৪) তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিএম ফারহান ইশতিয়াকের আদালত শুনানি শেষে রিমান্ডের আদেশ দেন।
একইসঙ্গে আরও দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রিমান্ডপ্রাপ্ত অন্য দু’জন হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আবু মুসা আনসারী (৫৬) ও ভাটারা থানার ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন সালেক ওরফে সালেক ঢালী (৫৮)।
সোমবার সকালে গ্রেপ্তার তিনজনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত শনিবার রাতে ভাটারায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের পর রবিবার কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। একই দিন আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রাজধানীর ভাটারা থানার এসআই মো. ফরহাদ কালাম সুজন।
রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। পরে তাদের কারাগারে পাঠান এবং রিমান্ড শুনানির জন্য আজ সোমবার দিন ধার্য করেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর ভাটারা থানার বারিধারা এলাকায় ছাত্র-জনতার সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেন মিঠুন ফকির। পরে আসামিদের ছোড়া ছিটা গুলিতে আহত হয়ে কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ১১ আগস্ট বাসায় ফেরেন তিনি। এ ঘটনায় গত ১৯ ডিসেম্বর ভুক্তভোগী মিঠুন ফকির ৮৮ জনের নাম উল্লেখসহ ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করে ভাটারা থানায় মামলা দায়ের করেন।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ছানোয়ার। তিনি ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীকে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন তিনি। পরে ২০২৪ সালে ঈগল প্রতীকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক এমপি ও টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছানোয়ার হোসেন ঢাকায় গ্রেপ্তার হওয়ার খবরে টাঙ্গাইলে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল করা হয়েছে।
রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড়, নিউ মার্কেটসহ আশপাশের এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করা হয়। পরে একটি আনন্দ মিছিল শহরের নিরালা মোড় থেকে বের হয়ে শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়।
এই আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণের নেতৃত্বদেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দ্যাইনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লাভলু মিয়া লাবু। এসময় দ্যাইনা ইউনিয়নের বিএনপি’র বেশ কিছু নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করে।
এ প্রসঙ্গে লাভলু মিয়া লাবু বলেন, টাঙ্গাইল সদর আসনের সাবেক এমপি ছানোয়ার হোসেন আমার বড় ভাই দ্যাইনা ইউনিয়ন পরিষদের ৩ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফারুক চেয়ারম্যানের হত্যাকান্ডের অর্থদাতা। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ফারুক চেয়ারম্যান হত্যাকাণ্ডের সমস্ত তথ্য বের হয়ে আসবে বলে মনে করি।
তিনি আরও বলেন, ছানোয়ারের বাহামভূক্ত দ্যাইনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আফজাল হোসেনের অত্যাচার ও নির্যাতনের কারণে অনেক নিরীহ গ্রামবাসী এলাকা ছাড়া হয়েছিল। অবিলম্বে আফজাল চেয়ারম্যানের গ্রেপ্তারেরও জোর দাবি জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, ছানোয়ার হোসেনের গ্রেপ্তারের সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই আমারা শহরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছি। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে দ্যাইনা ইউনিয়ন থেকে একটি বিশাল আনন্দ মিছিল বের করা হবে।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন, ছানোয়ার হোসেনের গ্রেপ্তারের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথেই টাঙ্গাইল শহরসহ সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের বৃদ্ধ থেকে শুরু করে ছাত্র-জনতা আনন্দ উল্লাস করেছে।
তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে টাঙ্গাইল শহরে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। লোকটি নিজেকে সাদা মনের মানুষ বলে দাবি করলেও এমন কোন অন্যায় কাজ নেই যেটা সে করেনি। আমি দ্রুত তাকে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, রাজধানী ঢাকার ভাটারায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছানোয়ার হোসেন (৫৪) সহ তিন আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির ভাটারা থানা পুলিশ।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৩০ মিনিটে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ব্লক- এল এর ১০নং রোডের ২৫০১ নং বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছানোয়ার পেশায় তামাক ব্যবসায়ী, যিনি গত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে সংসদ সদস্য হন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে তার বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর ও মির্জাপুর থানায় শিক্ষার্থী মারুফ ও ইমন হত্যাসহ কয়েকটি মামলা রয়েছে।
সরকার পতনের দুদিন আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনের কৌশল ঠিক করতে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজে স্থানীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে গোপন বৈঠক করেছিলেন তিনি।
একতার কণ্ঠঃ টাঙ্গাইলে বিপুল পরিমাণ নকল প্রসাধনী জব্দ করে লক্ষধিক টাকা জরিমানা করেছে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ।
রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ঘাটাইল বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে নাবিল এন্টারপ্রাইজকে ৫০ হাজার টাকা এবং মাহির এন্টারপ্রাইজকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, ঘাটাইল উপজেলায় ঘাটাইল বাজারে অভিযান পরিচালনা করে দুটি ডিলারকে এক লক্ষ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও এই দুটি ডিলারের গোডাউনে বিপুল পরিমাণ নকল প্রসাধনী জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সামনের রমজানের ঈদকে সামনে নিয়ে এ সমস্ত নকল প্রসাধনী বাজারের ছয়লাব করার চিন্তা ভাবনা করছে এই ব্যবসায়ীরা। কোন অসাধু ব্যবসায়ীরা রমজানের ঈদকে কেন্দ্র করে কোন সুবিধা নিতে যাতে না পারে এ ব্যাপারে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে ।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন, ঘাটাইল উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর জাহানারা আক্তার, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জ্বলসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।