আরমান কবীরঃ নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের টাঙ্গাইল শহর শাখার সভাপতি মীর ওয়াছেদুল হক তানজিলকে (২৬) মারুফ হত্যা মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) সকালে টাঙ্গাইল সদর থানা আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম মাহবুব খান এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল আদালতের পুলিশ পরিদর্শক লুৎফর রহমান। তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত মারুফ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল শহর ছাত্রলীগের সভাপতি মীর ওয়াছেদুল হক তানজিলের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ। বিজ্ঞ আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর পূর্বে বুধবার (২১ মে) রাতে রাজধানী ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত তানজিল টাঙ্গাইল পৌরসভার থানাপাড়া এলাকার মৃত মীর নুরুল হক কামালের ছেলে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহাম্মেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে রাজধানী ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে বুধবার রাত ৯ টার দিকে টাঙ্গাইল শহর ছাত্রলীগের সভাপতি মীর ওয়াছেদুল হক তানজিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত তানজিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দায়ের করা ৬টি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এর মধ্যে দুটি হত্যা মামলাও রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার সকালে টাঙ্গাইল সদর থানায় দায়েরকৃত মারুফ হত্যা মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে টাঙ্গাইল সদর থানা আমলি আদালতে তাকে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে তানজিলকে টাঙ্গাইল কোর্টে হাজির করার পূর্বেই কোর্ট চত্বর এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এরপরেও তানজিলকে কোর্টে হাজির করার সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার হামলার শিকার হন তিনি। এছাড়া তাকে দেখতে আসা তার মামাতো ভাই শাহেদ আল শাফি ব্যাপক মারধরের শিকার হন। একপর্যায়ে শাফি নিজের জীবন বাঁচাতে কোর্ট চত্বরের গারদ খানায় আশ্রয় নেয়। এসময় কোর্ট চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনার তৈরি হয়।
এছাড়া বৈষমবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা তানজিলের ফাঁসির দাবিতে সকাল থেকে বিভিন্ন স্লোগানে স্লোগানে কোর্ট চত্বর মুখরিত করে রাখে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ডামি নির্বাচন ও ভোট চুরির অভিযোগে করা মামলাটি বাদি নিজেই প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তবে প্রত্যাহার বিষয়ে পরবর্তী তারিখে আদেশ দিবেন আদালত।
বুধবার (২১ মে) নানামুখী চাপ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে মামলা করার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে তা প্রত্যাহারের আবেদন করেন মামলার বাদী।
মামলার বাদি কামরুল হাসান (৫৫) টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ভারই গ্রামের মরহুম মমতাজ উদ্দিন আহম্মেদের ছেলে। তিনি ভূঞাপুরের অলোয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি।
বাদি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু রায়হান খান বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে মোট ১৯৩ জনের বিরুদ্ধে গত সোমবার এ মামলা করা হয়। বিজ্ঞ আদালত ভূঞাপুর থানার ওসিকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এ অবস্থায় বুধবার বাদি আদালতে এসে মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। বিজ্ঞ বিচারক রুমেলিয়া সিরাজাম বাদির জবানবন্দি নিয়ে রেখেছেন। আগামী ১৩ আগস্ট মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখে প্রত্যাহার বিষয়ে আদেশ দিবেন আদালত।
মামলায় উল্লেখিত বাদি কামরুল হাসানের ফোন নাম্বারে বারবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে বাদির বরাত দিয়ে অ্যাডভোকেট আবু রায়হান খান নয়া বলেন, ‘মামলার পর বাদি কামরুল হাসান পারিবারিক চাপসহ নানামুখী চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এছাড়া তিনি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এজন্য মামলা পরিচালনা করতে অপারগতা জানিয়ে তিনি তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।’
গত সোমবার মামলা দায়েরের পর সর্বত্র ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তবে মামলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাদি কেন তা প্রত্যাহার করে নিলেন। এ নিয়েও চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
বিএনপির একটি সূত্র জানায়, মামলার পর ঢাকার উত্তরায় বিএনপির এক নেতার বাসায় মঙ্গলবার কয়েক দফা বৈঠক হয়। সেখানেই মামলাটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪ সালে ৭ জানুয়ারি ডামি নির্বাচনের আয়োজন এবং ভোট চুরির অভিযোগে কামরুল হাসান গত সোমবার এ মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী আব্দুল আওয়ালসহ ১৯৩ জনকে আসামি করা হয়।
এছাড়া অজ্ঞাত আসামি করা হয় আরো ২০০ জনকে। মামলায় পাঁচজন সাংবাদিক ও একজন আইনজীবীর নামও রয়েছে তালিকায়। এছাড়া পুলিশ ও প্রিজাইডিং অফিসার, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়।
আরমান কবীরঃ পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪ সালে ডামি নির্বাচনের আয়োজন এবং ভোট চুরির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীকে এমপি নির্বাচিত করার অভিযোগে টাঙ্গাইলে সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ মে) টাঙ্গাইলের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভূঞাপুর থানা আমলী আদালতে কামরুল হাসান নামে এক ব্যক্তি মামলাটি দায়ের করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট রুমেলিয়া সিরাজাম মামলাটি আমলে নিয়ে ভূঞাপুর থানার ওসিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলার বাদি কামরুল হাসান (৫৫) টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ভারই গ্রামের মৃত মমতাজ উদ্দিন আহম্মেদের ছেলে।
মামলায় আসামির তালিকায় শেখ হাসিনাসহ ১৯৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরো ১৫০ থেকে ২০০ জনকে।
শেখ হাসিনা ছাড়াও উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সাবেক এমপি তানভীর হাসান ছোট মনির, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী আব্দুল আওয়াল, তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও টাঙ্গাইলের সাবেক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
এছাড়া পুলিশ ও প্রিজাইডিং অফিসারসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।
বাদি মামলায় উল্লেখ করেন, ‘আমাদের শত্রু রাষ্ট্র ভারতের নির্দেশক্রমে শেখ হাসিনা অন্য আসামিদের সাথে যোগসাজশ করে বিগত ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি একটি ডামি নির্বাচনের আয়োজন করেন। বাদি কামরুল হাসান ভূঞাপুরের অলোয়া ইউনিয়নের ভারই উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার ছিলেন। তিনি অন্য ভোটারদের সাথে ওই কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। আসামিরা তাকে মারপিট করে এবং হত্যার হুমকি দেয়। নির্বাচনে পুলিশ ও প্রিসাইডিং অফিসারের সহায়তায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ভোটকেন্দ্র দখল করে জোরপূর্বক নৌকা মার্কায় সিল মেরে বাক্স ভর্তি করে। এভাবে অন্যের ভোট চুরি করে টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তানভীর হাসান ছোট মনিরকে এমপি পদে নির্বাচিত করা হয়। এতে দেশ ও জনগণের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।’
বাদিপক্ষের আইনজীবী টাঙ্গাইল বার সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু রায়হান খান বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে মোট ১৯৩ জনের বিরুদ্ধে এই মামলা রুজু করা হয়েছে। বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে বাদির জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে ভূঞাপুর থানার ওসিকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। সেইসাথে আগামী ১৩ আগস্ট মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন আদালত। আশা করি আদালতে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।’
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থনে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মশাল মিছিলের ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ মে) রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের শ্যালক আহসানুজ্জামান খান ইমরানকে রবিবার (১৮ মে) দুপুরে ৫ দিনের রিমাণ্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এ নিয়ে এই ঘটনায় মোট ২২ জনকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ।
রবিবার বিকেলে জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জেলার ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাগর আলী, দেলদুয়ার থানা যুব লীগের সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন, টাঙ্গাইল সদর থানা যুবলীগের সদস্য আহসানুজ্জামান খান ইমরান, টাঙ্গাইল নির্মাণ শ্রমিক প্রকৌশলের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, ভূঞাপুরের অলোয়া ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম খন্দকার বাবু, মেহেদী হাসান মহসিন, সজিব সরকার, নবী নূর মিয়া, সোহেল রানা টিটু ও মজিবর রহমান।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীর আহম্মেদ বলেন, জেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ২০ জনকে আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রবিবার দুপুরে টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনিরের শ্যালক আহসানুজ্জামান খান ইমরানকে ৫ দিনের রিমাণ্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে কৃষক শামছুল হক হত্যা মামলার আসামি মা ও মেয়েকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (১৮ মে) দুপুরে টাঙ্গাইলের স্পেশাল জজ দিলারা আলো চন্দনা এ আদেশ দেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী গ্রামের মৃত রাজ্জাক ওরফে রুজুর স্ত্রী রাহিমা ওরফে রহিমা (৫৫) ও তাদের মেয়ে রোজিনা আক্তার (৩২)।
স্পেশাল জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান কবির জানান, বিগত ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে কাতুলী গ্রামের কৃষক শামছুল হক (৫৫) বাড়ির পাশে নিজের জমিতে আগাছা পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় পূর্ব বিরোধের জের ধরে একই গ্রামের রাজ্জাক ওরফে রুজু তার স্ত্রী-সন্তানদের সাথে নিয়ে শামছুল হককে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে চলে যায়। বাড়ির লোকজন টের পেয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শামছুল হককে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে দ্রুততম সময়ে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন দিন পর শামছুল হক মৃত্যুবরণ করেন।
পরে শামছুল হকের স্ত্রী জামিরন বেগম বাদি হয়ে রাজ্জাক এবং তার স্ত্রী রাহিমা, মেয়ে রোজিনা ও ছেলে রফিকুলকে আসামি করে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা করেন। মামলা চলাকালীন অবস্থায় আসামি রাজ্জাক মারা যান। এছাড়া ঘটনার সময় রফিকুলের বয়স কম থাকায় শিশু আদালতে এখনো তার মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, রবিবার দণ্ডিত আসামিদের উপস্থিতিতেই রায় পড়ে শোনান বিচারক। পরে তাদের টাঙ্গাইল কারাগারে নেওয়া হয়।
আরমান কবীর: টাঙ্গাইলে পেটে বাচ্চাসহ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির দায়ে এক ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ মে) সকালে শহরের বটতলা সিটি বাজারে ওই মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রোমেল।
জানা গেছে,টাঙ্গাইল শহরের বটতলা সিটি বাজারে ‘সোহেল মাংসের দোকান’-এ দীর্ঘদিন ধরে গরুর মাংস বিক্রি করছেন সদর উপজেলার চিলাবাড়ির পাইকপাড়া গ্রামের মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে মো. সোহেল মিয়া। শুক্রবার বটতলা সিটি বাজারে পৌরসভার কসাইখানা পরিদর্শক সিল মারতে গিয়ে গর্ভবতী গাভি শনাক্ত করেন। এর পর সদর উপজেলার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি চিকিৎসককে খবর দিলে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পান, জবাই করা গাভিটির পেটে বাচ্চা ছিল।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডাক্তার মো. শাহিন আলম জানান, বটতলা সিটি বাজারে সোহেল মাংসের দোকানে একটি গর্ভবতী গাভি জবাই করা হয়েছে, এমন সংবাদ পেয়ে সেখানে যাই। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, গাভিটির পেটে প্রায় দুই মাসের ভ্রুণ ছিল।
জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, শুক্রবার সকালে সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বটতলা সিটি বাজারে যাই। মাংস ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো তিনি অকপটে সব দোষ স্বীকার করেন। তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জব্দ করা গাভির ৭০ কেজি মাংস সবার সামনে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার সেনিটারি ইন্সপেক্টর সাহিদা আক্তার, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল ও এএসআই মিলনসহ পুলিশের একটি দল।
আরমান কবীরঃ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে গুলিতে ফিরোজ তালুকদার পলাশ গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।
পলাশের বাড়ি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা পৌর শহরের ঘাটান্দি গ্রামে। তিনি মরহুম সোহরাব হোসেন ও বেনু বেগমের ছেলে।
সম্প্রতি শহীদ পলাশের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেট্রো চীফ জুডিশিয়াল আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মেট্রো পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসানের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তার মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের আদেশ দেন।
এরই প্রেক্ষিতে বুধবার (৭ মে) সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারিকুল ইসলামসহ তদন্ত কর্মকর্তা পলাশের লাশ উত্তোলন করতে গেলে মামলার বাদী পলাশের স্ত্রী রেশমা সুলতানা লাশ না তোলার জন্য আবেদন করেন।
এ সময় পলাশের বৃদ্ধা মা বেনু বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার ছেলের লাশ কবর থেকে উত্তোলনে বাধা দেন। ফলে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে পুলিশ তার লাশ উত্তোলন না করে ফিরে যায়।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারিকুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশক্রমে শহীদ পলাশের লাশ উত্তোলন করতে চাইলে মামলার বাদী পলাশের স্ত্রী রেশমা সুলতানার আবেদন ও পলাশের মা সহ স্বজনদের আপত্তির কারণে লাশ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়টি মহামান্য আদালতকে অবগত করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্তরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে অসুস্থ মাকে দেখতে বাড়ি আসার পথে শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে গুলিতে ফিরোজ তালুকদার পলাশ গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।
এরপর তাকে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা পৌর শহরের নিজ গ্রাম ঘাটান্দি এলাকায় দাফন করা হয়। তিনি রাজধানীর ঢাকার মিরপুর ১২ নম্বরে সপরিবারে ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং রংপুর কেমিক্যাল কোম্পানিতে অফিস সহকারী পদে চাকরি করতেন। তার এক মেয়ে রয়েছে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে পলাশ ছিল বড় এবং তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
আরমান কবীর: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের রামপুর কোকরাইল গ্রামে রায়হান নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার(৫ মে) সকালে গ্রামের একটি পুকুর থেকে নিহত রায়হানের (৩০) মরদেহ উদ্ধার করেছ পুলিশ।
নিহত রায়হান উপজেলার কোকরাইল গ্রামের বাদল মিয়ার ছেলে।সে হত্যাসহ মোট পাঁচটি মামলার আসামি ছিলেন।’
নিহতের পরিবার জানায়, রায়হান সোমবার ভোররাত ২টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে সকালে গ্রামের একটি পুকুরে তার মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা।পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
নিহতের বাবা বাদল মিয়া জানান, ভোর ৪টার দিকে মুন্না নামের একজন আমাকে ডাকতে যায় এবং বলে আপনার ছেলেকে মেরে ফেললো, আমি খবর শুনে ছুটে আসি এবং আশপাশে খোঁজ করি। খোজাখুজির একপর্যায়ে কোকরাইল গ্রামের রিপনের পুকুরে রক্তাক্ত অবস্থায় তার ছেলের মরদেহ দেখতে পান তিনি।
নিহতের স্ত্রী জানান, আমার স্বামী রাত দুইটার দিকে ফোন দিয়ে মুড়ি ভর্তা করার জন্য পেঁয়াজ মরিচ কেটে রাখতে বলে। তার কিছুক্ষণ পরে বাড়ীতে এসে কেটে রাখা পেঁয়াজ মরিচ ও মুড়ি চানাচুর নিয়ে যায়, সে সময় তিনি প্রচুর মদ্যপ অবস্থায় ছিল এবং তার সাথে আরও একজন লোক ছিলো যাকে আমি চিনতে পারিনি।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, ‘নিহত রায়হান মাদক সেবন ও বিক্রয় এবং হত্যাসহ মোট পাঁচটি মামলার আসামি।
উল্লেখ্য, নিহত রায়হান নিয়মিত মাদক সেবন এবং মাদক বিক্রির সাথে জড়িত ছিলো। এছাড়াও নিহত রায়হান বহু আলোচিত রামপুরের সলিট হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন।
আরমান কবীর: টাঙ্গাইলে দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা হয়রানি ও ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকদের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩ মে ) সকাল ১১টায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক ফুটবলার শামীম আল মামুন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২৪ এপ্রিল খোকন আহমেদ নামের এক ব্যক্তি বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় আমাকে ২০নং আসামি করা হয়েছে। এছাড়া সাবেক খেলোয়াড় ও সংগঠক মো: উজ্জল মিয়া, ইসলাম খান ও এনামুল হক রৌফকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। মামলায় উল্লেখিত আমরা ৪ জন টাঙ্গাইল জেলা দলের হয়ে ক্রিকেট ও ফুটবল খেলেছি। আমরা কেউ রাজনীতির সাথে জড়িত নই। আমি ও আমার স্ত্রীসহ গত বছরের জুলাই মাসের ২০ তারিখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ের উদ্দেশ্যে হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বহির্গমন করি এবং একই মাসের ২৭ তারিখে চিকিৎসা শেষে পুনরায় দেশে ফিরে আছি। যার প্রমাণ আমার পাসপোর্টের ভিসা, ইমিগ্রেশনে বহির্গমন, অন্তগমন সিল।
আর মামলার নথিতে ঘটনার বিবরণীতে বলা হয়েছে, অপরাধ সংগঠিত হয়েছে গত বছরের জুলাই মাসের ২০ তারিখ সকাল ১০ টা ৩০ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে। যেখানে আমি দেশেই উপস্থিত ছিলাম না, আমি কিভাবে এই অপরাধ সংগঠিত করি। একই অবস্থা মামলার ১১০নং আসমি মো: উজ্জল মিয়ার। তিনিও উন্নত চিকিৎসার জন্য উল্লেখিত সময় চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। যার প্রমাণ আমরা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করেছি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, মামলার ১৮নং আসামি সাবেক ক্রিকেটার ও ক্রিক্রেট কোচ ইসলাম খান বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ও তার ক্রিকেট একাডেমির ছাত্ররা আন্দোলনের প্রতিটি মিছিল মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেছে। যার প্রমাণ স্বরূপ আন্দোলনে অংশগ্রহণের ছবি আপনাদেরকে দেখানো হয়েছে। মামলার ৮৮নং আসামি টাঙ্গাইলের সাবেক কৃতি ফুটবলার এনামুল হক রৌফ তার দু’বছর আগে ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছে। তিনি ঘটনার দিন অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে ছিলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শামীম আল মামুন জানান, টাঙ্গাইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আলী ইমাম তপন ও বিসিবি নিয়োজিত টাঙ্গাইল জেলা ক্রিকেট কোচ মো. আরাফাত রহমান এই মিথ্যা মামলার মূল কারিগর। তারা জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে বর্তমানে কুক্ষিগত করে রেখেছে। তাদের হাত থেকে জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে সকলের জন্য উন্মুক্ত করার চেষ্টা করায় আমাদের এই ৪ জন সাবেক খেলোয়াড় ও সংগঠককে মিথ্যা ও হয়রানি মূলক এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা এই মিথ্যা, হয়রানি ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবী জানানো হয়। অন্যথায় এর বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল জেলার বর্তমান ও সাবেক খেলোয়ারদের নিয়ে একটি দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, ইসলাম খান, মো. হামিদুর রহমান, মেহেদী ভূঁইয়া, নজরুল ইসলাম, এনামুল হক, রাশেদুল আলম মনি, মো. উজ্জ্বল মিয়া প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলাম।
এর পূর্বে সকাল ১০টায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে একই দাবিতে ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রায় ২ শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলে ১ হাজার পিস নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবাসহ এক ইউপি সদস্য ও এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি দক্ষিণ)।
রবিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ক্ষুদিরামপুর বাইপাস এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জেলার বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুজন রহমান (৩৫)। সে হাবলা ইউনিয়নের জয়শত গ্রামের মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে। অপরজন হলেন, কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার দুবলাবাড়ি গ্রামের মো. রজত আলীর ছেলে মো. তহর আলী (৩৭)।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি দক্ষিণ) উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাইজ উদ্দিন জানান, রবিবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ক্ষুদিরামপুর বাইপাস এলাকার আব্দুর রহমানের খাবার হোটেলের সামনে অভিযান চালিয়ে ইউপি সদস্য সুজন রহমান ও তহর আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছে থাকা ১ হাজার পিস নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ মোশাররফ হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুই মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে টাঙ্গাইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আমাদের এই মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় দুটি রাস্তার উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) চার প্রকৌশলী এবং দুই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রবিবার (২৭ এপ্রিল) টাঙ্গাইল জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. বাসেদ আলী টাঙ্গাইলের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলা দুটি দায়ের করেন। দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে।
একটি মামলার আসামিরা হলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফ্রেন্ডস কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী শহীদুর রহমান খান, এলজিইডির টাঙ্গাইলের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী (বর্তমানে এলজিইডি প্রধান কার্যালয়ের মনিটরিং ও মূল্যায়ন শাখায় কর্মরত) রফিকুল ইসলাম, নাগরপুরের সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান (বর্তমানে বিদেশে শিক্ষা ছুটিতে), একই উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম খান এবং মাইনুল হক (বর্তমানে ঘাটাইলে কর্মরত)।
অপর মামলায় আসামি করা হয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সৈয়দ মজিবর রহমানের স্বত্বাধিকারী সৈয়দ মজিবর রহমান এবং এলজিইডির টাঙ্গাইলের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, নাগরপুরের সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম খানকে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ রিজিওনাল রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এমআরআরআইডিপি) প্রকল্পের আওতায় নাগরপুরের তেবাড়িয়া জিসি-দপ্তিয়র ইউপিসি অফিস সড়কে বিসি দ্বারা উন্নয়ন কাজে ডাব্লিউবিএম ও সাববেইজের ৬ লাখ ৫১ হাজার ৫০৯ টাকার কাজ কম করা হয়। এছাড়া, ৭৫ মিটার সড়কের কোনো কাজ না করেই ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৩৬ টাকা অর্থাৎ মোট ১০ লাখ ৯ হাজার ৫৪৫ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। একই রাস্তায় প্রাইম কোট এবং ২৫ এমএম থিক কমপ্যাকটেড ডেন্স কার্পেটিংয়ের কোনো কাজ না করেই পরস্পর যোগসাজশে ৩১ লাখ ১ হাজার ৫৯১ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অপরদিকে, এমআরআরআইডিপি প্রকল্পের আওতায় নাগরপুরের সিংজোড়া-গয়হাটা (ভাররা জিসি-সলিমাবাদ আরডিএস ভায়া গয়হাটা ইউপি) ১১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়কে বিসি সার্ফেস উন্নয়ন কাজে প্রাইম কোট এবং ২৫ এমএম থিক কমপ্যাকটেড ডেন্স কার্পেটিংয়ের কোনো কাজ না করেই ২১ লাখ ৫৭ হাজার ৫১০ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ফখরুল ইসলাম জানান, রাস্তা নির্মাণে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে গত ২০ এপ্রিল একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালানো হয়। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী, নাগরপুরের উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে নিরপেক্ষ প্রকৌশলী, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী প্রকৌশলী, বর্তমানে কর্মরত উপজেলা প্রকৌশলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। প্রকল্পের বাস্তবায়ন দেখানো রাস্তাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে নিরপেক্ষ প্রকৌশলী দ্বারা পরিমাপ গ্রহণ করা হয়।
তিনি আরও জানান, তদন্তে কাজ না করেই পরস্পর যোগসাজশে বিল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে।
আরমান কবীরঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অভিনব কায়দায় পায়ুপথে লুকিয়ে হেরোইন পাচারকালে এক মাদক ব্যবসায়ী বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জেলার মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের গোড়াই এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত সইবুর রহমান (৬৬) রাজশাহীর দরগাপাড়া এলাকার মৃত নইমুদ্দিনের ছেলে। তিনি রাজশাহীর গোদাগাড়ি থেকে ঢাকায় হেরোইন পাচারের জন্য পায়ুপথে বহন করছিলেন বলে জানায় র্যাব।
বুধবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ এর মিডিয়া অফিসার নাজমুল ইসলাম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলার মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের গোড়াই এলাকা থেকে প্রথমে সইবুর রহমানকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাকে হেরোইনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সইবুর তার পায়ুপথে হেরোইন লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেন। পরে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে পায়ুপথে লুকিয়ে রাখা ৬৪ গ্রাম হেরোইন বের করা হয়। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে মির্জাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।